নিচে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরযোগ্য ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল/কোয়াশমেন্ট (ধারা ৫৬১এ) এবং ফৌজদারি রিভিশন (ধারা ৪৩৯)-এর জন্য ব্যবহারের উপযোগী পূর্ণাঙ্গ খসড়া টেমপ্লেট প্রদান করা হলো, যা law.gurukul.edu.bd-এ প্রকাশের জন্য তৈরি।
Table of Contents
আইনি পর্যালোচনা ও চেকলিস্ট
১. ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারা (রদকরণ বা কোয়াশমেন্টের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা):
- আদালত: এটি বিশেষভাবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা হয়।
- ভিত্তি: আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধ করা অথবা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (যেমন: দেওয়ানি বিরোধকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফৌজদারি মামলায় রূপান্তর করা, এফআইআর বা চার্জশিটে প্রথম দর্শনে কোনো অপরাধের উপাদান না থাকা, কিংবা আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা)।
- পর্যায়: এফআইআর দায়ের, অভিযোগ গঠন (Charge Framing) বা সি.আর. নালিশী আবেদন দায়েরের পরপরই এই দরখাস্ত দায়ের করা যায়।
২. ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ ধারার সহিত পঠিতব্য ৪৩৯ ধারা (ফৌজদারি রিভিশন):
- আদালত: হাইকোর্ট বিভাগ (অথবা অধস্তন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে ৪৩৯এ ধারা অনুযায়ী দায়রা জজ আদালত)।
- ভিত্তি: অধস্তন ফৌজদারি আদালতের যেকোনো আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশের বৈধতা, সঠিকতা বা যৌক্তিকতা পরীক্ষা করা।
- সময়সীমা: সাধারণত সংক্ষুব্ধ আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হয়।
টেমপ্লেট ১: ধারা ৫৬১এ-এর অধীনে কোয়াশমেন্ট/বাতিলের দরখাস্ত
মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ
হাইকোর্ট বিভাগ
(ফৌজদারি বিবিধ এখতিয়ার)
ফৌজদারি বিবিধ মামলা নং ________ / ২০____ ইং
বিষয়:
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৫৬১এ ধারার অধীনে অত্র মামলার যাবতীয় কার্যক্রম বাতিল/রদকরণের আবেদন।
এবং
মামলার পক্ষগণ:
[পিটিশনার/আসামির পূর্ণ নাম]
পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]
ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা]
…… পিটিশনার / আবেদনকারী (অধস্তন আদালতের আসামি)
—বনাম—
১. রাষ্ট্র, পক্ষে: ডেপুটি কমিশনার, [জেলার নাম]।
…… ১ নং রেসপনডেন্ট / বিপরীত পক্ষ
২. [নালিশকারী/সংবাদদাতার পূর্ণ নাম]
পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]
ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ঠিকানা]
…… ২ নং রেসপনডেন্ট / নালিশকারী
প্রাপক:
মহামান্য বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর অন্যান্য সঙ্গী মহামান্য বিচারপতিগণের প্রতি সদয় অবগতির জন্য—
আবেদনকারীর পক্ষে বিনীত নিবেদন এই যে—
যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক জানানো যাচ্ছে যে:
১. আবেদনকারী বাংলাদেশের একজন স্থায়ী বাসিন্দা ও আইনমান্যকারী নাগরিক। বিজ্ঞ [অধস্তন বিচারিক আদালতের নাম, যেমন: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা]-এ বিচারাধীন [জি.আর. মামলা নং _____ / সি.আর. মামলা নং _____]-এ আবেদনকারীকে অসৎ উদ্দেশ্যে জড়িত করা হয়েছে।
২. [মামলার বিবরণ]:
২ নং রেসপনডেন্ট গত [তারিখ] তারিখে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির [যেমন: ৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারা]-এর অধীনে একটি মিথ্যা এফআইআর/নালিশী মামলা দায়ের করেন, যেখানে মূল অভিযোগ ছিল [মিথ্যা অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ]।
৩. [কার্যধারার বিবরণ]:
পুলিশ তদন্ত শেষে গত [তারিখ] তারিখে [নম্বর] নম্বর চার্জশিট দাখিল করে (অথবা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট গত [তারিখ] তারিখে অপরাধ আমলে নেন) এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ বিচারিক আদালত গত [অভিযোগ গঠনের তারিখ] তারিখে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
৪. এফআইআর/নালিশী আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ যদি পুরোপুরি সত্য বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও আবেদনকারীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির আওতায় কোনো অপরাধ বা প্রথম দর্শনে গ্রহণযোগ্য মামলা (Prima Facie Case) গঠিত হয় না।
৫. আবেদনকারী এবং ২ নং রেসপনডেন্টের মধ্যকার বিরোধটি সম্পূর্ণভাবে দেওয়ানি ও চুক্তিভিত্তিক প্রকৃতির, যা [লেনদেন/ব্যবসার বিবরণ] থেকে উদ্ভূত। কিন্তু ২ নং রেসপনডেন্ট আবেদনকারীকে হয়রানি, অপমান ও বেআইনি সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে দেওয়ানি বিষয়টিকে অসৎ উদ্দেশ্যে ফৌজদারি রূপ দিয়েছেন।
৬. আবেদনকারীর বিরুদ্ধে এই ফৌজদারি কার্যক্রম পরিচালনা আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহারের শামিল। অতএব, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৫৬১এ ধারার অধীনে উক্ত মামলার যাবতীয় কার্যক্রম বাতিল করা আবশ্যক।
৭. বিজ্ঞ [অধস্তন আদালতের নাম]-এ বিচারাধীন [মামলা নম্বর]-এর কার্যধারা অব্যাহত থাকায় সংক্ষুব্ধ হয়ে আবেদনকারী নিম্নে বর্ণিত গ্রাউন্ডস বা যুক্তিসমূহের ওপর ভিত্তি করে মহামান্য আদালতের নিকট প্রার্থনা জানাচ্ছেন:
গ্রাউন্ডস (আইনি যুক্তি)
১. যেহেতু এফআইআর/নালিশী দরখাস্তের বক্তব্য দণ্ডবিধির [যেমন: ৪০৬/৪২০] ধারার মূল উপাদানসমূহ পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, তাই এর ওপর ভিত্তি করে অপরাধ আমলে নেওয়া আইনি দৃষ্টিতে অচল।
২. যেহেতু আক্ষেপিত এই মামলাটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও অসদ্ব্যবহারের ফল এবং একটি বিশুদ্ধ দেওয়ানি/আর্থিক বিরোধকে জোরপূর্বক ফৌজদারি মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে।
৩. যেহেতু এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে বিচারপ্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া আবেদনকারীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে এবং এটি আদালতের প্রক্রিয়ার একটি স্পষ্ট অপব্যবহার।
৪. যেহেতু নথিপত্রে বিদ্যমান সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আবেদনকারীর দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার কোনো দূরবর্তী সম্ভাবনাও নেই, তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে অত্র মামলাটি বাতিল বা কোয়াশমেন্ট করা অপরিহার্য।
৮. একই তথ্য ও মামলার কারণের ওপর ভিত্তি করে পূর্বে মহামান্য আদালতে ৫৬১এ ধারায় অন্য কোনো আবেদন দায়ের করা হয়নি।
৯. এই আবেদনটি সরল বিশ্বাসে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে পেশ করা হলো।
প্রার্থনা
অতএব, বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, মহামান্য আদালত মেহেরবানি করে:
ক) রেসপনডেন্টগণের প্রতি একটি ‘রুল নিসি’ (Rule Nisi) জারি করবেন যে, বিজ্ঞ [অধস্তন আদালতের নাম]-এ বিচারাধীন [জি.আর. মামলা নং _____ / সি.আর. মামলা নং _____]-এর কার্যক্রম কেন বাতিল করা হবে না;
খ) রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় [জি.আর. মামলা নং _____ / সি.আর. মামলা নং _____]-এর যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিতের (Stay) আদেশ প্রদান করবেন;
গ) পক্ষগণের শুনানি শেষে রুলটি চূড়ান্ত (Absolute) ঘোষণা করবেন;
ঘ) ন্যায়বিচারের স্বার্থে মহামান্য আদালত অন্য যে আদেশ বা নির্দেশ উপযুক্ত মনে করেন তা প্রদান করতে মর্জি হয়।
এবং এই দয়াপূর্ণ কাজের জন্য আবেদনকারী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।
হলফনামা (AFFIDAVIT)
আমি, [হলফকারীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], বয়স: প্রায় [বয়স] বছর, ধর্ম: [ধর্ম], পেশা: [পেশা], সাং: [ঠিকানা], জাতীয় পরিচয়পত্র নং: [এনআইডি নম্বর], সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষণা করছি যে:
১. আমি এই মামলার পিটিশনার / পিটিশনারের মনোনীত তাদবীরকারক এবং মামলার ঘটনা ও পারিপার্শ্বিকতার সাথে পূর্ণ পরিচিত।
২. ওপরে বর্ণিত ১ থেকে ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের তথ্যাদি আমার জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে সত্য ও সঠিক।
আজ [তারিখ] দিন, [মাস], ২০____ ইং তারিখে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ, ঢাকায় আমি এই সত্যপাঠে নিজ স্বাক্ষর প্রদান করলাম।
হলফকারীর স্বাক্ষর
আজকে আমার সম্মুখে সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষিত হলো।
কমিশনার অব অ্যাফিডেভিট
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ
টেমপ্লেট ২: ধারা ৪৩৯-এর অধীনে ফৌজদারি রিভিশন পিটিশন
মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ
হাইকোর্ট বিভাগ
(ফৌজিদারি রিভিশন এখতিয়ার)
ফৌজদারি রিভিশন নং ________ / ২০____ ইং
বিষয়:
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৮১-এর ৪৩৫ ধারার সহিত পঠিতব্য ৪৩৯ ধারার অধীন আবেদন।
এবং
বিষয়বস্তু:
বিজ্ঞ [দায়রা জজ / ম্যাজিস্ট্রেট আদালত] কর্তৃক [ফৌজদারি আপিল নং _____ / ফৌজদারি রিভিশন নং _____ / মামলা নং _____]-এ প্রদত্ত [আক্ষেপিত আদেশের তারিখ] তারিখের আদেশের/রায়ের বৈধতা, যৌক্তিকতা ও শুদ্ধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত আবেদন।
এবং
মামলার পক্ষগণ:
[পিটিশনারের পূর্ণ নাম]
…… পিটিশনার (আসামি/দণ্ডপ্রাপ্ত)
—বনাম—
১. রাষ্ট্র
…… ১ নং রেসপনডেন্ট
২. [নালিশকারীর নাম]
…… ২ নং রেসপনডেন্ট
প্রাপক:
মহামান্য বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর অন্যান্য সঙ্গী মহামান্য বিচারপতিগণের প্রতি সদয় অবগতির জন্য—
আবেদনকারীর পক্ষে বিনীত নিবেদন এই যে—
যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক জানানো যাচ্ছে যে:
১. বিজ্ঞ [দায়রা জজ, জেলা]-এর আদালত কর্তৃক প্রদত্ত [তারিখ] তারিখের আক্ষেপিত রায়/আদেশের বিরুদ্ধে এই আবেদনটি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অধস্তন আদালতের দণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়েছে / অব্যাহতির (Discharge) আবেদন নাকচ করা হয়েছে।
২. [মামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য]:
[বিচারপ্রক্রিয়া, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অধস্তন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের সংক্ষিপ্ত বিবরণ]।
৩. বিজ্ঞ অধস্তন আদালত রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যের গুরুতর অসংগতি ও অসঙ্গতিসমূহ বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়ে আইন ও তথ্যের মারাত্মক ভুল করেছেন, যার ফলে চরম বিচারহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।
৪. আক্ষেপিত আদেশ/রায়টি বেআইনি, অযৌক্তিক এবং পদ্ধতিগত অনিয়মে ভরা, যা মহামান্য আদালতের রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগের মাধ্যমে বাতিলযোগ্য।
গ্রাউন্ডস (আইনি যুক্তি)
১. যেহেতু বিজ্ঞ অধস্তন আদালত সংবিধিবদ্ধ আইন ব্যাখ্যায় ভুল করেছেন এবং নথিতে থাকা প্রমাণাদিতে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
২. যেহেতু নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তসমূহ স্বেচ্ছাচারী এবং বিচারিক সাক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত নয়।
৩. যেহেতু আক্ষেপিত আদেশের ফলে আবেদনকারী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং আইনের দৃষ্টিতে তা টেকসই নয়।
প্রার্থনা
অতএব, বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, মহামান্য আদালত মেহেরবানি করে:
ক) বিজ্ঞ অধস্তন আদালত হতে [মামলা নম্বর]-এর নথি (LCR) তলব করবেন;
খ) রেসপনডেন্টগণের প্রতি একটি ‘রুল নিসি’ जारी করবেন যে, [তারিখ]-এর আক্ষেপিত আদেশ/রায় কেন বাতিল করা হবে না;
গ) রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় আক্ষেপিত আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করবেন এবং আবেদনকারীকে জামিন (Ad-Interim Bail) প্রদান করবেন;
ঘ) শুনানি শেষে রুলটি চূড়ান্ত ঘোষণা করে আক্ষেপিত আদেশ/রায় বাতিল করবেন।
এবং এই দয়াপূর্ণ কাজের জন্য আবেদনকারী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত ফৌজদারি রিভিশন পিটিশনের সাথেও টেমপ্লেট ১-এ দেখানো বিন্যাস অনুযায়ী একটি শপথকৃত ‘হলফনামা’ সংযুক্ত করতে হবে।)