ভূমি উন্নয়ন কর কেন, কী হারে দেবেন

আজকে আমরা আলোচনা করবো ভূমি উন্নয়ন কর কেন, কী হারে দেবেন

 

ভূমি উন্নয়ন কর কেন, কী হারে দেবেন
ভূমি উন্নয়ন কর কেন, কী হারে দেবেন

 

ভূমি উন্নয়ন কর কেন, কী হারে দেবেন

ভূমি উন্নয়ন কর সাধারণত খাজনা নামে পরিচিত হলেও এর রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস । প্রাচীনকাল থেকেই ভূ-স্বামী, রাজাগণ তাদের অধীনস্ত প্রজাদের নিকট হতে উৎপাদিত ফসলের অংশ বিশেষ খাজনা হিসাবে আদায় করতেন। পরবর্তীতে হিন্দু আমল, মুসলিম আমল, ইংরেজ আমল হয়ে আধুনিক সরকার ব্যবস্থায় ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা সরকারের আয়ের একটি অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।

ভূমি উন্নয়ন কর যে জন্য দেবেন

(1) ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা মালিকানা প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে

(11) ভূমি উন্নয়ন কর নিয়মিত প্রদান করলে রেকর্ড হালনাগাদ থাকে;

(111) নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করলে দুষ্ট লোকেরা রেকর্ড টেম্পারিং এর সুযোগ নিতে পারে। অনেক সময় একজন আরেকজনের জমি গোপনে নামজারী / রেকর্ড করিয়ে নেয়, জমির মালিক নিজের জমির খোঁজ-খবর না রাখার কারণে ঐরূপ নামজারীর বিরুদ্ধে আপিলও করতে পারে না;

(iv) ভূমি উন্নয়ন কর দীর্ঘদিন বকেয়া রাখলে জমি নিলাম হতে পারে।
তাই ভূমি উন্নয়ন কর নিজের স্বার্থেই নিয়মিত পরিশোধ করা উচিত।

কৃষি জমির ভূমি উন্নয়ন করের হার

সরকার ১৩৭৮ বাংলা সনসহ পূর্ববর্তী সকল খাজনা ও সেস মওকুফ করে দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ের খাজনা আদায়ের হার বাংলা সন ভিত্তিক নিম্নরূপ

১। ১৩৭৯-১৩৮২ সন পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের হার :

(ক) কোন পরিবারের ২৫ বিঘার ঊর্ধ্বে জমি থাকলে তার খতিয়ানে উল্লিখিত খাজনাসহ সেস আদায় করতে হবে।

(খ) কোন পরিবারের ২৫ বিঘার নিম্নে জমি থাকলে শুধু সেসাদি আদায় করতে হবে।

২। ১৩৮৩-১৩৮৮ সন পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের হার

(ক) ২৫ বিঘা পর্যন্ত প্রতি বিঘা ৯০ পয়সা।

(খ) ২৫ বিঘার ঊষা হলে প্রতি বিঘা ৫/- টাকা হারে আদায় করতে হবে।

৩। ১৩৮৯–১৩৯৩ সন পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের হার

(ক) পরিবার প্রতি ২ একর পর্যন্ত জমি থাকলে প্রতি শতাংশ ও পয়সা সর্বনিম্ন ১/- টাকা।

(খ) কোন পরিবারের ২ একরের ঊর্ধ্ব হতে ৫ একর পর্যন্ত জমি থাকলে প্রথম দুই একরের জন্য ৬/- টাকা এবং অতিরিক্ত প্রতি শতাংশের জন্য ১৫ পয়সা।

(গ) কোন পরিবারের ৫ একরের ঊর্ধ্ব হতে ১০ একর পর্যন্ত জমি থাকলে প্রথম ৫ একরের জন্য ৫১/- টাকা এবং অতিরিক্ত প্রতি শতাংশের জন্য ৩৬ পয়সা।

(ঘ) কোন পরিবারের ১০ একরের ঊর্ধ্ব হতে ১৫ একর পর্যন্ত জমি থাকলে প্রথম ১০ একরের জন্য ২৩১/- টাকা এবং অতিরিক্ত প্রতি শতাংশের জন্য ৬০ পয়সা।

(ঙ) কোন পরিবারের ১৫ একরের ঊর্ধ্ব হতে ২৫ একর পর্যন্ত জমি থাকলে প্রথম ১৫ একরের জন্য ৫৩১/- টাকা এবং অতিরিক্ত প্রতি শতাংশের জন্য ৯৫ পয়সা।

(চ) কোন পরিবারের ২৫ একরের ঊর্ধ্ব জমি থাকলে প্রথম ২৫ একরের জন্য ১৪৮১/- টাকা এবং অতিরিক্ত প্রতি শতাংশের জন্য ১/- টাকা ৪৫ পয়সা।

 

ভূমি উন্নয়ন কর কেন, কী হারে দেবেন
ভূমি উন্নয়ন কর কেন, কী হারে দেবেন

 

৪। ১৩৯৪-১৪০১ সন পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন করের হার

(ক) কোন পরিবারের সর্বোচ্চ ২ একর জমি থাকলে প্রতি শতাংশ ৩ পয়সা হারে, তবে সর্বনিম্ন ১/- টাকা ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করতে হবে।

(খ) কোন পরিবারের ২ একরের ঊর্ধ্ব হতে ৫ একর পর্যন্ত জমি থাকলে প্রতি শতাংশ ৩০ পয়সা।

(গ) কোন পরিবারের ৫ একরের ঊর্ধ্ব হতে ১০ একর পর্যন্ত জমি থাকলে প্রতি শতাংশ ৫০ পয়সা।

(ঘ) কোন পরিবারের ১০ একরের ঊর্ধ্বে জমি থাকলে প্রতি শতাংশ ২/- টাকা । (যোগসূত্র স্মারক নং-ভূঃ মঃ/শ-৩/৬৯/৮৭/১২/ তাং ১০/৫/১৪ বাং, ২৭/৮/৭ইং)

২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষকের কৃষি জমির কর মওকুফ : ভূমি মন্ত্রণালয় স্মারক নং-ভূঃ মঃ/শা-৩/কর/৮/৯১-১৩২ (৬০০), তাং ২০-১-৯৮ বাং, ৪-৫-৯১ ইং মূলে ১৩৯৮ বাংলা সনের ১লা বৈশাখ হতে ২৫ বিঘা (৮ ২৫ একর) পর্যন্ত কৃষকদের কৃষি জমির ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফ ঘোষণা করেছে।

তবে অকৃষিজীবীর কৃষিজমি/সমিতি/সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন কৃষিজমির ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফ করা হয়নি। এরূপ কৃষিজমির কর আদায় করতে হবে।

৫। ১৪০২ সন হতে ভূমি উন্নয়ন করের হার

(ক) ২৫ বিঘা পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফ।

(খ) ২৫ বিঘা ঊর্ধ্ব হতে ১০ একর পর্যন্ত প্রতি শতাংশ ৫০ পয়সা।

(গ) ১০ একরের ঊর্ধ্ব জমির জন্য প্রতি শতাংশ ১/- টাকা। (যোগসূত্র স্মারক নং- ভূঃমঃ/শা-৩/কর/১০০/১২-১০৬ (১০০০) তারিখ ১৬/২/১৪০২ বাং, ৩০/৫/৯৫ ইং)।

৬। ১৪০২ সন হতেঃ চা বাগান, রাবার বাগান, আমবাগান বা ১ একরের ঊর্ধ্বে ফল বা ফুলের বাগানের জমির প্রতি শতাংশের ভূমি উন্নয়ন কর ১/- টাকা ১০ পয়সা হারে আদায় করতে হবে।

৭। পল্লী এলাকার আবাসিক জমির ভূমি উন্নয়ন করের হার

পল্লী এলাকায় বসবাসকারী কৃষি পরিবারের চাষের জমি এবং বসত বাড়ি ‘কৃষি’ জমি গণ্য করে ‘কৃষি হারে’ ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করতে হবে (অনুঃ ২৭-ভূঃ বাঃ ম্যানুঃ) তবে পল্লী এলাকার পাকা ভিটি বাড়ির ভূমি উন্নয়ন কর ১৪০২ সন হতে প্রতি শতাংশ ৫/- টাকা হারে আদায় করতে হবে (ভূঃমঃ/শা-৩/কর/১০০/১২-১০৬ (১০০০)
তাং ৩০/৫/৯৫ ইং)।

৮। গুরুত্বপূর্ণ এলাকার আবাসিক জমির ভূমি উন্নয়ন করের হার

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা মহানগরীর মত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার আবাসিক ভূমির কর প্রতি শতাংশ ২২/- টাকা। জেলা সদরের (ঘনবসতিপূর্ণ জেলা ব্যতীত) পৌর এলাকার করের হার প্রতি শতাংশ ৭/- টাকা এবং অন্যান্য সকল পৌর এলাকার আবাসিক ভূমি কর প্রতি শতাংশ ৬/- টাকা ।

৯। অকৃষি জমির এলাকা ও ব্যবহার ভিত্তিক ভূমি উন্নয়ন করের হার

বৎসর (বাংলা) জমির অবস্থান শিল্প/বাণিজ্য আবাসিক
১৩৮৩ – ১৩৮৮ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার কতিপয় উপজেলা প্রতি বিঘা ৫০০/- টাকা প্রতি বিঘা ১০০/- টাকা
  উপরে বর্ণিত এলাকা ব্যতীত জেলা সদর এলাকা  প্রতি বিঘা ১০০/- টাকা প্রতি বিঘা ৫০/- টাকা
১৩৮৯ ১৩৯১ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার কতিপয় উপজেলা ৬০/- টাকা  ১২/- টাকা 
  অন্যান্যজেলা সদরের পৌর এলাকা ১০/- টাকা  ৪/- টাকা 
  উপরে বর্ণিত এলাকা ব্যতীতঅন্যান্য এলাকা ৮/- টাকা  ৩/- টাকা 
১৩৯২- ১৪০০ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার কতিপয় এলাকা ১০০/- টাকা ২০/- টাকা
  অন্যান্যজেলা সদরের পৌর এলাকা ২০/- টাকা ৬/- টাকা
  উল্লিখিত এলাকা ব্যতীত অন্য এলাকা ১৫/- টাকা ৫/- টাকা
১৪০২ সন হতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার কতিপয় এলাকা ১২৫/- টাকা ২২/- টাকা
  অন্যান্য জেলা সদরের পৌর এলাকা ২২/- টাকা ৬/৫০- টাকা
  উল্লিখিত এলাকা ব্যতীতঅন্যান্য এলাকা ১৭/- টাকা ৫/২৫- টাকা
  ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ জেলার কতিপয় এলাকা  ১২৫/- টাকা ২২/- টাকা
  অন্যান্য জেলা সদরের পৌর এলাকা ২২/- টাকা ৭/- টাকা
  জেলা সদরের বাইরের অন্যন্য পৌর এলাকা ১৭/- টাকা ৬/- টাকা
  পৌর এলাকা ঘোষিত হয়নি এরূপ এলাকা ১৫/- টাকা ৫/- টাকা

(পাকা ভিটি)

১। ঢাকা-ঢাকা মহানগরীর সকল থানা ও কেরানীগঞ্জ।

২। চট্টগ্রাম- কোতয়ালী, পাঁচলাইশ, ডবলমুরিং, সীতাকুণ্ড, বন্দর, হাটহাজারী।

৩। খুলনা- কোতয়ালী, দৌলতপুর, দীর্ঘলিয়া ও ফুলতলা।

৪ । নারায়ণগঞ্জ-বন্দর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ ।

৫। গাজীপুর-টঙ্গী ও জয়দেবপুর এলাকা ।

 

ভূমি উন্নয়ন কর কেন, কী হারে দেবেন
ভূমি উন্নয়ন কর কেন, কী হারে দেবেন

 

অকৃষি জমির সংজ্ঞা

(ক) কৃষি জমি বাদে অন্যান্য সকল জমি অকৃষি জমি।

(খ) শহর/পৌর এলাকার কোন জমি অকৃষি কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত রাখলে তা অকৃষি জমি ।

(গ) শহর/পৌর এলাকার বাইরের কোন জমি শিল্প/বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হলে তা অকৃষি জমি ।

(ঘ) শিল্প/বাণিজ্য/আবাসিক বা অন্য কোন অকৃষি কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণকৃত জমি অকৃষি জমি।

(ঙ) শহর/পৌর এলাকাভুক্ত কোন জমি কৃষিপণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হলে (তবে শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য নয়) সে জমিকে কৃষিজমি গণ্য করা যাবে ।

ভূমি মন্ত্রণালয় স্মারক নং-ভূঃ মঃ/শা-৩/কর। /১০০/৯২/৩৬৬ তাং ২৩-২-১৪০১ বাং, ৬-৬-৯৪ইং এর পরিপত্র মূলে একই মন্ত্রণালয়ের ৭-১-১৪০০ বাং, ২৪-৪-১৯৯৩ ইং তারিখের ভূঃমঃ/শা-৩/কর/১০০/৯২/২০৮ (৬১) নং পরিপত্রটি বাতিল করেছে। ফলে ১৩৯৮-১৪০১ সন পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের ইতোপূর্বেকার ধাপটি বাতিল হয়ে যায়। তবে বাতিলকৃত পরিপত্র মূলে অতিরিক্ত আদায়কৃত কৃষি জমির ভূমি উন্নয়ন কর ১৬/২/১৪০২ বাং, ৩০/৫/১৫ ইং তারিখের স্মারক নং ভূঃমঃ/শা-৩/কর/১০০/৯২- ১০৬(১০০০) নং পরিপত্রের ৫নং অনুচ্ছেদ অনুসারে সমন্বয় করার বিধান রয়েছে।

১০। শিল্প/বাণিজ্যিক এলাকার ভূমি উন্নয়ন করের হার :

শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত ভূমির ভূমি উন্নয়ন করের হার পূর্বে প্রদত্ত ছকে দেখানো হয়েছে। তবে শিল্প/বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত জমি চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বাস্তবে কিছু জটিলতা দেখা দেওয়ায় তা নিরসনের জন্য নিম্নবর্ণিত পন্থা অনুসরণ করতে হবে

(ক) শিল্প/বাণিজ্যিক এলাকার ভূমির মধ্যে যে পরিমাণ ভূমি শিল্প/বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হবে তার কর বাণিজ্যিক হারে আদায় করতে হবে।

(খ) যে পরিমাণ জমি আবাসিক কাজে ব্যবহৃত হবে তার ভূমি উন্নয়ন কর আবাসিক হারে আদায় করতে হবে।

(গ) অব্যবহৃত/পতিত জমির কর কৃষি হারে (১/- টাকা শতাংশ) আদায় করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত ১৪০২ বাংলা সন হতে কার্যকর হবে। ১৪০২ বাংলা সনের পূর্বের সকল শ্রেণীর শিল্প এলাকার জমির কর বাণিজ্যিক হারে আদায় করতে হবে। (যোগসূত্র স্মারক নং-ভূঃ মঃ/শা-৩/কর/১০০/৯২-১০৬ (১০০০) তাং ১৬/২/১৪০২ বাং, ৩০/৫/৯৫ ইং)।

১১। ডেইরী ফার্ম/পোলট্রি ফার্মের ভূমির ভূমি উন্নয়ন করের হার

সরকারী/বেসরকারী পর্যায়ে স্থাপিত বিভিন্ন আকারের ডেইরী/পোলট্রি ফার্মের ভূমি উন্নয়ন করের হার নিম্নরূপ

(১) ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষী পর্যায়ে কায়িক শ্রম নির্ভর ছোট আকারের হাঁস-মুরগীর খামার/ডেইরী ফার্মের জন্য ব্যবহৃত ভূমির ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফ ।

(ক) ৫০ হতে ১৪৯ একর পর্যন্ত জমির মালিক প্রান্তিক চাষী বলে গণ্য হবে।

(খ) ১.৫০ হতে ২.৪৯ একর পর্যন্ত জমির মালিক ক্ষুদ্র চাষী বলে গণ্য হবে।

(২) কৃষি জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গবাদিপশু পালন ও হাঁস-মুরগীর খামার স্থাপন করা হলে সে জমির (পরিমাণ যাই হোক) ভূমি উন্নয়ন কর বাণিজ্যিক হারে আদায় করতে হবে।

(৩) শহর, উপশহর, পৌরসভা ও উপজেলা সদরে অবস্থিত বসতবাড়ী সংলগ্ন অকৃষি জমিতে দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যে স্থাপিত খামারে দুগ্ধবতী গাভীর সংখ্যা যদি অনধিক পনেরটি হয় এবং হাঁস-মুরগীর সংখ্যা যদি অনধিক পাঁচশোটি হয় তবে উক্ত খামারের জমির ভূমি উন্নয়ন কর আবাসিক হারে আদায় করতে হবে।

(৪) সরকারী/আধাসরকারী ও স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থা কর্তৃক গবেষণামূলক কাজের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত খামারের ভূমির ভূমি উন্নয়ন কর আবাসিক হারে আদায় করতে হবে।

(৫) উপরে যে সকল খামারের কর মওকুফ এবং যে সকল খামারের কর আবাসিক হারে আদায়ের কথা বলা হয়েছে সে সকল খামার যদি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে দুধ ও মাংস প্রসেস করে বিপণনের ব্যবস্থা করে তবে উল্লিখিত খামারের ভূমির ভূমি উন্নয়ন কর বাণিজ্যিক হারে আদায় করতে হবে। এসব খামারের গোচারণ ভূমি এবং হাঁস-মুরগীর খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত জমির খাজনা আবাসিক হারে আদায় করতে হবে।

(৬) ভূমি মন্ত্রণালয় ৪/৯/১৪০৩ বাংলা (১৮/১২/১৯৯৬ ইং) তারিখের স্মারক নং ভূঃমঃ/শা-৩/কর-৫৮/৯৬-২৫৩ (৬৪) পরিপত্রমূলে হাঁস-মুরগীর খামার, গবাদিপশুর খামার প্রতিষ্ঠাকে উৎসাহিতকরণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিত হয়ে এ সকল খামারের ভূমির ভূমি উন্নয়ন কর কৃষি হারে ধার্যের কথা ঘোষণা করেছে। এ সিদ্ধান্ত ১৪০৩ বাংলা সন হতে কার্যকর হয়েছে।

৭। খেলার মাঠ, স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল, শরীর চর্চাকেন্দ্র এবং সরকারীভাবে বিহিত সকল ক্রীড়াচত্বরের ভূমি উন্নয়ন কর আবাসিক হারে আদায় করতে হবে। (নং-ভূঃ মঃ/শা-৮ গাজর। ৫১৫/৮৬/১১৭ (৬৪) তাং ১৫/৩/৯০ ইং ।।
১২। হস্তচালিত তাঁতঘরের জমির করের হার :

হস্তচালিত তাঁত শিল্পের ব্যবহারাধীন জমির ভূমি উন্নয়ন কর আবাসিক হারে আদায় করতে হবে, যদি

(ক) তাঁতঘর তাঁতীর নিজস্ব বসতবাড়ীর অভ্যন্তরে বা গৃহ সংলগ্ন হয় ।

(খ) তাঁত সম্পূর্ণ হস্তচালিত ও তাঁতীর নিজস্ব বা পরিবারভুক্ত সদস্যদের শ্রম নির্ভর হয়;

(গ) তাঁতের সংখ্যা সর্বাধিক ৫টি হয়।

ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফের আওতাভূক্ত কৃষি পরিবার কৃষিকাজের অতিরিক্ত পেশা হিসেবে বসত ভিটার অভ্যন্তরে ৫ (পাঁচ) এর কম সংখ্যক হস্তচালিত তাঁত ব্যবহার করে কাপড় তৈরী করলে তাকে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে হবে না।

উপরোক্ত ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য সকল ক্ষেত্রে অর্থাৎ তাঁতের সংখ্যা ৫ এর অধিক হলে, পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে বাইরের লোক নিয়োগ করলে, শক্তিচালিত তাঁত ব্যবহার করলে বা তাতীর বসত বাড়ীর অংশ বিশেষে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থাকলে ঐ জমির ভূমি উন্নয়ন কর বাণিজ্যক হারে আদায় করতে হবে। (স্মারক নং-ভূঃমঃ/ শা-৩/কর/৮/৯৩/১৭৭ (৬৪) তাং ১৯-০৩-৯৪ ইং)।

 

ভূমি উন্নয়ন কর কেন, কী হারে দেবেন
ভূমি উন্নয়ন কর কেন, কী হারে দেবেন

 

ভূমি উন্নয়ন কর বিষয়ক কিছু তথ্য

(১) মসজিদ, ঈদগাহ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা, কবরস্থান, শ্মশানঘাট ইত্যাদির ভূমি উন্নয়ন কর কালেক্টর মওকুফ করতে পারেন। (১৫১ ধারা-এস. এ. এণ্ড টি এ্যাক্ট ও ধারা ৩ ক- ভূমি উন্নয়ন কর অধ্যাঃ১৯৭৬)

(২) প্রতি বছর রিটার্ন-৩ করার সময় তহসিলদারের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জমির শ্রেণী নির্ধারণ/পরিবর্তন করতে পারেন (ভূমি উন্নয়ন কর বিধি ১৯৭৬)। খাস জমির শ্রেণী পরিবর্তনের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর অনুমোদন লাগবে ।

(৩) ভূমি উন্নয়ন কর তিন বছর পর্যন্ত অগ্রিম আদায় করা যায় ।

(৪) কৃষি জমির ভূমি উন্নয়ন কর দুই কিস্তিতে আদায় করা যায় ।

(৫) এক বছরের বকেয়ার জন্য সার্টিফিকেট কেস করা যায়, তিন বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে সার্টিফিকেট কেস দায়ের না করলে তা তামাদি দোষে বারিত হবে। (১৪২ ধারা এস. এ. এণ্ড টি এ্যাক্ট)

(৬) ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের পূর্বের কর সরকার পি ও ৯৬/৭২ দ্বারা মওকুফ করেছেন। ১৯৭১-১৯৭৬ সন পর্যন্ত খতিয়ানে উল্লিখিত খাজনা সরকার মওকুফ করেছেন। তবে সেস কর, শিক্ষা কর, উন্নয়ন কর ইত্যাদি বহাল আছে।

(৭) দাখিলাঃ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে সমমূল্যের একটি দাখিলা বা খাজনার রসিদ পাওয়া খাজনা প্রদানকারীর অধিকার এ রসিদ জমির স্বত্ব ও দখল প্রমাণের প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে আদালতে গণ্য হয়। ব্যাংক ঋণ গ্রহণ বা বাড়ীর প্লান পাস করতেও এটির প্রয়োজন হয়। দাখিলা হচ্ছে মালিকানা বা স্বত্ব হালনাগাদকরণের প্রমাণ পত্র।

(৮) মওকুফ দাখিলাঃ ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফাধীন কৃষি জমির মালিকগণ প্রতি খতিয়ানের জন্য ২/- টাকা হারে রসিদ খরচ দিয়ে মওকুফ দাখিলা সংগ্রহ করতে পারবেন। মওকুফ দাখিলা যে বছরের জন্য দেয়া হবে সে বছর উল্লেখ করে এবং জমির শ্রেণী নিশ্চিত হয়ে দিতে হবে। (স্মারক নং-ভূঃ মঃ/শা-৩/কর/৯৫/৯৩-৯৯৭ (৬১), তাং ১১-৪-৯৩ ইং)।

(৯) এজমালী জোতের আংশিক কর আদায় ও সার্টিফিকেট সংশোধন এজমালী জোতের সহ-অংশীদারদের মধ্যে যে কোন অংশীদারের ভূমি উন্নয়ন কর (আংশিক) আদায় করা যাবে। এমনকি এজমালী জোতের উপর সার্টিফিকেট মোকদ্দমা দায়ের থাকলেও কোন সহ-শরীক তার অংশের খাজনা পরিশোধ করতে চাইলে তার খাজনা গ্রহণ করে তার নাম সার্টিফিকেট এর দায় থেকে বাদ দিয়ে সার্টিফিকেট সংশোধন করতে হবে (স্মারক নং-ভূঃ মঃ/শা-৩/১৫-৯১/৮৮/৪৩১, তাং ২৯/১/৯৫ বাং, ১২/৪/৮৮ ইং)।

 

ভূমি উন্নয়ন কর কেন, কী হারে দেবেন
ভূমি উন্নয়ন কর কেন, কী হারে দেবেন

 

 

ভূমি উন্নয়ন করের উপর আপিল

ভূমি উন্নয়ন কর বিধিমালা, ১৯৭৬ এর বিধি ৬ অনুসারে প্রকাশিত ‘প্রাথমিক দাবী” সম্পর্কে কোন ভূমি মালিকের আপত্তি থাকলে তালিকা প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে বিধি- ৭ অনুসারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বা জেলা প্রশাসকের নিকট আপিল করা যাবে। জেলা প্রশাসক আপত্তিকারীকে শুনানী নিয়ে যে আদেশ দিবেন তা-ই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

ভূমি উন্নয়ন করের হার ন্যায়ানুগ ও ব্যবহার ভিত্তিক করার বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর আদেশে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশ দানের ১৫ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের [অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সহ) নিকট আপিল করতে পারবেন যা ৪৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

জেলা প্রশাসকের আদেশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনারের নিকট আপিল করা যাবে যা ৪৫ দিনে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং বিভাগীয় কমিশনারের আদেশের বিরুদ্ধে ভূমি আপিল বোর্ডের নিকট আদেশের পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে আপিল করা যাবে। জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার নির্ধারিত সময়ে সিদ্ধান্ত দিতে না পারলে তাদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভূমি আপিল বোর্ডের নিকট আপিল করা যাবে। আপিল বোর্ড যুক্তসঙ্গত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিবেন। আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করা যাবে।

২৫ বিঘার উর্দ্ধে বিবরণী দাখিলের বিধান

রাষ্ট্রপতির আদেশ (পি. ও.) নং ৯৬/৭২ এর বিধান বলে জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর তৃতীয় সংশোধনী করা হয়। আইনটি সংশোধন করে একটি নতুন অধ্যায় (VIII B) সংযোজন করা হয়।

উক্ত আইনে সংযোজিত ধারা ১৫১ডি অনুসারে আইনটি জারীর ৯০ দিনের মধ্যে ২৫ বিঘার ঊর্ধ্ব কৃষিজমির মালিককে নির্ধারিত ফরমে রাজস্ব কর্মকর্তার (সহকারী কমিশনার, ভূমি) নিকট জমির বিবরণী বাধ্যতামূলকভাবে দাখিলের বিধান করা হয়।

১৫১-জি ধারাঃ এ ধারামতে আইনটি জারীর পর যে কোন সময় যে কোন ব্যকি ২৫ বিঘা ঊর্ধ্ব কৃষিজমির মালিক হলে, মালিক হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে বিবরণী দাখিল করতে হবে।

১৫১-ই ধারাঃ বিবরণী দাখিল না করলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে জমির তথ্য গোপন করলে শাস্তি ১০০০/- টাকা জরিমানা।

১৫১-এইচ ধারাঃ বিবরণী বহির্ভূত জমি সরকার বরাবরে বাজেয়াপ্ত হবে।

২৫ বিঘার ঊষা বিবরণী (জোত) যেভাবে ভাঙা যায়

২৫ বিঘা (৮ ২৫ একর) পর্যন্ত কৃষি জমির মালিক যেমন যে কোন সময় হওয়া সম্ভব তেমনি বিবরণ দাখিলকারীর মৃত্যু, জমি বিক্রয়, দান ওয়াকফ ইত্যাদির মাধ্যমে যে কোন সময় জমির পরিমাণ ২৫ বিঘার নিচে নেমে যেতে পারে। অন্যদিকে ১৩৯৮ বাংলা সনের ১ লা বৈশাখ তারিখ হতে সরকার ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষকের কৃষি জমির ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফ ঘোষণা করেছে।

উক্ত মওকুফের সুবিধা অর্জনের জন্য উপরে উল্লিখিত কারণে যদি কোন বিবরণ দালিকারীর কৃষিজমির পরিমাণ ২৫ বিঘার নিচে নেমে যায় তবে তিনি বা তার উত্তরাধিকারীগণ একই আইনের ১৫১আই ধারা অনুসারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট বিবরণী ভাঙার আবেদন করতে পারবেন। এরূপ আবেদন পাবার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রয়োজনীয় তদন্ত ও শুনানী নিয়ে আবেদন যথাযথ মনে হলে বিবরণী, সংশোধন বা ভাঙার আদেশ দিবেন।

এরূপ আদেশের ফলে আবেদনকারীর কৃষি জমির পরিমাণ ২৫ বিঘার কম হলে তিনি ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফের সুবিধা পাবেন। তবে জমির পরিমাণ ২৫ বিঘার নিচে নেমে গেলেও তা রাজস্ব কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করা পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর বিবরণীর হারেই দিতে হবে।

তবে মওকুফের সুবিধা লাভের আশায় প্রতারণামূলকভাবে বিবরণ দাতা বেঁচে থাকাকালেই নিজ সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে জমি বন্টন করে জোতের পরিমাণ কমালেও আইনগতভাবে কর মওকুফের সুবিধা পাওয়া যাবে না। বিবরণভুক্ত মালিকের জমি যদি এমন কেউ ক্রয় করে যার মোট জমি ২৫ বিঘার কম তাকে বিবরণীভুক্ত জমি নিজ নামে নামজারী করে আলাদা না করা পয়ন্ত বিবরণীর হারে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে হবে।

তাই বিবরণীভুক্ত জমি কেনার পূর্বে ঐ জমির কোন ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া আছে কিনা তা যাচাই করে কেনা উচিত। এরূপ যাচাই না করার জন্য ক্রেতাকে অনেক সময় বড় অংকের বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর দিতে হয়। বিবরণীভুক্ত জমি কেনার পর তা নিজ নামে নামজারী করলে এবং এ জমি নিয়ে ক্রেতার মোট জমি ২৫ বিঘার নিচে থাকলে তার ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফ হয়ে যাবে।

 

কার্তিকের পূর্বে আবেদন দাখিল

১৫১-আই (I) উপ-ধারা মতে বিবরণী ভাঙার আবেদন যদি বাংলা বছরের ১লা কার্তিক এর আগে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ (উপজেলা ভূমি অফিস) বরাবরে দাখিল করা হয় এবং আবেদনটি মঞ্জুর হয়, তবে আদেশটি ১লা কার্তিক হতে কার্যকর হবে। অর্থাৎ আবেদন দাখিলের বছরের প্রথম ৬ মাসের করসহ বকেয়া (যদি থাকে) দিতে হবে।
কার্তিকে আবেদন দাখিল

১৫১ আই (11) উপ-ধারা মতে বিবরণী ভাড়ার আবেদন যদি ১লা কার্তিকের পরে দাখিল করা হয় তবে তা পরবর্তী বছরের ১লা বৈশাখ থেকে কার্যকর হবে। অর্থাৎ আবেদন যে বছর করা হলো ঐ বছরের পূর্ণ কর দিতে হবে। তাই বিবরণী ভাঙার উপযোগী হওয়ার সাথে সাথে উপজেলা ভূমি অফিসে যথাযথভাবে বিবরণী ভাঙার আবেদন করা উচিত।

আবেদনে তা দাখিলের তারিখ দিয়ে আবেদনটি জমা দিয়ে তার রিসিভড কপি সংগ্রহে রাখতে হবে। এতে পরবর্তীতে আবেদন মঞ্জুর হতে দেরী হলে বা আবেদনটি অফিস হতে খোয়া গেলেও রিসিভ কপি দেখিয়ে প্রমাণ করতে পারলে তা দাখিলের তারিখ হতেই কার্যকরী হবে (এরূপ দেরী যদি আবেদনকারীর ত্রুটির কারণে না হয়ে থাকে)।

ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া রাখার বিপদ

ভূমি উন্নয়ন কর অন্য যে কোন ধরনের করের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম। এর উপর ধার্যকৃত সুদের হারও কম— মাত্র ৬.২৫% টাকা। ভূমি উন্নয়ন কর বার্ষিক ভিত্তিতে দিতে হয় । প্রতি বছরের কর যথাসময়ে পরিশোধ করলে কোন সুদ দিতে হয়। না। তবে কর বকেয়া পড়তে থাকলে সুদের হার বৃদ্ধি পেতে থাকে জ্যামিতিক পদ্ধতিতে।

তা হলো ভূমি উন্নয়ন কর যদি ১ বছরের বকেয়া হয় তবে (মূলত সংশ্লিষ্ট বাংলা বছরের ৩০ চৈত্রের পরই কর বকেয়া বলে গণ্য হয়) মূল পাওনার সাথে ৬.২৫% হারে সুদ যোগ হয়। কর যদি ২ বছরের বকেয়া হয় তবে সুদ দ্বিগুণ হয়ে ১২.৫০% হারে যোগ হয় । অনুরূপভাবে করের বকেয়া যত বছরের হবে, সুদের হার তত ৬.২৫% গুণ বেশি হবে ।

ধরা যাক, কোন ব্যক্তির নিকট বার্ষিক ১২০ টাকা হিসেবে ১৪০২-১৪০৯ সন পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর পাওনা আছে। এ ক্ষেত্রে ১৪০৯ সনকে যদি হাল সন ধরা হয়। তবে তাকে ৮ বছরের করের সঙ্গে ১৪০৮ সন হতে ১৪০২ সন পর্যন্ত ৭ বছরের সুদও দিতে হবে।

তাহলে ঐ ব্যক্তিকে ৮ বছরের ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ (১২০ x ৮) ৯৬০ টাকা এবং এর সঙ্গে ১২০ টাকা খাজনার উপর ১৪০৮ সনের জন্য (120 x 6.25% 1 ) = ৭.৫০ টাকা, ১৪০৭ সনের জন্য (১২০ X ৬.25% x 2 ) = ১৫ টাকা, অনুরূপভাবে ১৪০৬ সনের জন্য ২২.৫০ টাকা, ১৪০৫ সনের জন্য ৩০ টাকা, ১৪০৪ সনের জন্য ৩৭.৫০ টাকা, ১৪০৩ সনের জন্য ৪৫ টাকা এবং ১৪০২ সনের জন্য ৫২.৫০ টাকা মোট ২১০ টাকা সুদ দিতে হবে। অর্থাৎ ৬৯০ টাকা খাজনার সঙ্গে অতিরিক্ত ২১০ টাকা সুদ দিতে হবে। উল্লিখিত সুদ সহজ পদ্ধতিতে নিম্নের সূত্র অনুসারে বের করা যায়ঃ

সুদ নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতি

বকেয়া সন বকেয়া সনের ক্রম (নিচ থেকে) সুদ বছরের ইউনিট (ক্রমসমূহের যোগ) বার্ষিক খাজনা সুদের হার
১ ২  ৩ ৪ ৫
১৪০২ ৭ (৭+৬+৫+৪+৩+২+১+০)=২৮ ১২০ ৬.২৫%
১৪০৩ ৬      
১৪০৪ ৫      
১৪০৫ ৪      
১৪০৬ ৩      
১৪০৭ ২      
১৪০৮ ১      
১৪০৯ ০      

সূত্র = সুদ বছরের মোট ইউনিট *বার্ষিক খাজনা* সুদের হা

= ২৮*১২০* ৬.২৫%

অতএব সুদ = ২১০ টাকা

[বি.দ্র. খাজনার ধাপ যদি একাধিক হয় তবে “সুদ বছরের ইউনিট” একইভাবে বের করে খাজনার যত ধাপ সুদ নির্ণয়ের সূত্রটি তত বার ব্যবহার করে সুদ নির্ণয় করে তা যোগ করলেই মোট সুদ পাওয়া যাবে।

একটি আধুনিক দলিলের নমুনা

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ একটি আধুনিক দলিলের নমুনা

 

একটি আধুনিক দলিলের নমুনা
একটি আধুনিক দলিলের নমুনা

 

একটি আধুনিক দলিলের নমুনা

ক্রমিক নং ১০৩৫

বহি নং ১

দলিল নং ১০১৭

১। রেজিস্ট্রি অফিসের নাম সাব রেজিস্ট্রি অফিস, সূত্রাপুর, ঢাকা।

২। দলিলের সার-সংক্ষেপ

দলিলের প্রকৃতি মৌজার নাম  ইউনিয়ন/ওয়ার্ড থানা/উপজেলা জেলা
সাফ কবলা মাতুয়াইল মাতুয়াইল যাত্রাবাড়ী ঢাকা

 

হস্তান্তরিত সম্পত্তির পরিমাণ জমির শ্রেণী মূল্য (অংক ও কথায় )
০৩৭৫ (তিনশত পঁচাত্তর)

অযুতাংশ

নাল জমি তফসিল বর্ণিত ভূমির মূল্য মং- ৫,০০,০০০/-

(পাঁচ লক্ষ) টাকা মাত্র ।

 

৩। দলিল গ্রহিতা/গ্রহিতাগণের নাম ও ঠিকানা (আদালত, সরকারী বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ছবি প্রযোজ্য নয়)

নামঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন

পিতার নামঃ মোঃ আবুল কাশেম বেপারী

মাতার নামঃ ছালমা বেগম

বয়সঃ ৩৮ বৎসর

ধর্মঃ ইসলাম

পেশাঃ ব্যবসা

জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী

স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রাম- টাংগরী

ডাকঘরঃ বেতকা

থানা/উপজেলাঃ টঙ্গীবাড়ী

জেলা/শহরঃ মুন্সীগঞ্জ

বর্তমান ঠিকানাঃ টাংগরী, ডাকঘর-বেতকা, থানা-টঙ্গীবাড়ী জেলা-মুন্সীগঞ্জ।

৪। দলিল দাতা/ দাতাগণের নাম ও ঠিকানা (আদালত, সরকারী বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ছবি প্রযোজ্য নয়)

১। নামঃ মোঃ মনিরুজ্জামান

পিতার নামঃ মরহুম মোঃ কামরুজ্জামান

মাতার নামঃ রাফিয়া খাতুন

বয়সঃ ৩৫ বৎসর

ধর্মঃ ইসলাম

পেশাঃ ব্যবসা

জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী

স্থায়ী ঠিকানাঃ কাজলারপাড়

থানা/উপজেলাঃ সাবেক ডেমরা হালে যাত্রাবাড়ী

জেলাঃ ঢাকা

বর্তমান ঠিকানাঃ কাজলারপাড়, থানা- যাত্রাবাড়ী, জেলা-ঢাকা

২। নামঃ মোঃ আসাদুজ্জামান

পিতার নামঃ মরহুম মোঃ কামরুজ্জামান

মাতার নামঃ রাফিয়া খাতুন

বয়সঃ ৩৭ বৎসর

ধর্মঃ ইসলাম

পেশাঃ ব্যবসা

জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী

স্থায়ী ঠিকানাঃ কাজলারপাড়

থানা/উপজেলাঃ সাবেক ডেমরা হালে যাত্রাবাড়ী

জেলা/শহরঃ ঢাকা

বর্তমান ঠিকানাঃ কাজলারপাড়, থানা-যাত্রাবাড়ী, জেলা- ঢাকা।

 

একটি আধুনিক দলিলের নমুনা
একটি আধুনিক দলিলের নমুনা

 

৫। আম-মোক্তার/ প্রতিনিধি/অভিভাবকের মাধ্যমে দলিল সম্পাদিত হইয়া থাকিলে তাহাদের নাম, ঠিকানা ও বিবরণ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এদের পক্ষে

নামঃ মোঃ জাকির হোসেন (আনু)

পিতার নামঃ মরহুম মহব্বত আলী

মাতার নামঃ রমিজা খাতুন

বয়সঃ ৪০ বৎসর

ধর্মঃ ইসলাম

পেশাঃ ব্যবসা

জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী

স্থায়ী ঠিকানাঃ কাজলারপাড়

থানা/উপজেলাঃ সাবেক ডেমরা হালে যাত্রাবাড়ী

জেলা/শহরঃ ঢাকা

বতর্মান ঠিকানা ঃ কাজলারপাড়, থানা-যাত্রাবাড়ী, জেলা- ঢাকা।

৬। আম-মোক্তারনামার বিবরণ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এদের পক্ষে বিগত ইংরেজী ০১/০৯/১৯৯৮ সন তারিখে ডেমরা সাব- রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ৬৫৬৫ নং আম-মোক্তারনামা দলিল দ্বারা নিযুক্তীয় আম-মোক্তার মোঃ জাকির হোসেন (আনু. পিতা-মরহুম মহব্বত আলী, সাং-কাজলারপাড়, থানা- সাবেক ডেমরা হালে যাত্রবাড়ী, জেলা-ঢাকা এর দ্বারা।

৭। হস্তান্তরাধীন জমির নূন্যতম পক্ষে ২৫ বছরের মালিকানার ধারাবাহিক বিবরণ (যথাযথ ক্ষেত্রে ওয়ারিশ ও বায়া দলিল সমূহের বিস্তারিত বিবরণ) এবং হস্তান্তরের উদ্দেশ্য, সম্পত্তির দখল, ইজমেন্ট স্বত্ব এবং হস্তান্তর সম্পর্কিত উল্লেখযোগ্য মন্তব্য (যদি থাকে) সম্পর্কিত বিবরণঃ

পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার পবিত্র নাম স্মরণ করিয়া আরম্ভ করিতেছি । যেহেতু নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি সি. এস রেকর্ডীয় মালিক ঢাকা জেলার সাবেক কেরানীগঞ্জ তৎপর তেজগাও অতঃপর ডেমরা হালে যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলারপাড় গ্রাম নিবাসী মৃত উদয় চাঁদ তিয়র এর পুত্র নিতাই তিয়র মালিক স্বত্ববান ও ভোগ 1 দখলকার নিয়ত থাকাবস্থায় তাহার একমাত্র কন্যা মুক্তা দাস্যাকে ওয়ারিশ বিদ্যমান। রাখিয়া মৃত্যুবরণ করেন ।

অতঃপর উক্ত মুক্তা দাস্যা, স্বামী শ্রী সাধু চরণ রাজবংশী, পিতা-মৃত নিতাই ভিয়র, সাং-যাত্রাবাড়ী, থানা-তেজগাঁও, জেলা-ঢাকা, তাহার মৃত পিতা নিতাই ভিয়র এর ওয়ারিশ সূত্রে নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি প্রাপ্ত হইয়া মালিক ও ভোগ দখলকারীণি নিয়ত থাকাবস্থায় তাহার নগদ টাকার প্রয়োজনে বিগত ইংরেজী ২১/০৩/১৯২৭ সন তারিখে ঢাকার ২য় জয়েন্ট সাব- রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ১ নং বহির ২০ নং ভলিয়মের ৩৪ নং হইতে ৩৬ নং পাতায় লিখিত ১৯০৭ নং সাফ কবলা দলিল মূলে ঢাকা জেলার তেজগাঁও থানাধীন যাত্রাবাড়ী গ্রাম নিবাসী মৃত রাই মোহন রাজবংশী স্ত্রী শ্রীমতি সখি বেওয়ার নিকট সাফ বিক্রয় করিয়া বিক্রীত সম্পত্তি হইতে চিরতরে নিঃস্বত্ত্ববর্তী হন।

 

একটি আধুনিক দলিলের নমুনা
একটি আধুনিক দলিলের নমুনা

 

তৎপর উক্ত শ্রীমতি সখি বেওয়া উপরোক্তরূপে উক্ত মুক্তা দাস্যা হইতে খরিদ করিয়া খরিদ সূত্রে স্বত্ববর্তী মালিক ও ভোগ দখলকারীণি নিয়ত রহেন এবং বিগত ইংরেজী ০৫/০৪/১৯০০ সন তারিখে ঢাকার ২য় জয়েন্ট সাব- রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ১৩৩৬ নং সাফ কবলা দলিল মূলে উক্ত মুক্তা দাস্যার নিকট হইতে খরিদ করত খরিদ সূত্রে মালিক দখলকার নিয়ত হন উক্ত শ্রীমতি সখি বেওয়া।

অতঃপর উক্ত শ্রীমতি সখি বেওয়া নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি উল্লিখিত পৃথক পৃথক দুইখানা সাফ কবলা দলিল মূলে খরিদ করিয়া খরিদ সূত্রে স্বত্ববর্তী মালিক ও ভোগ দখলকারীণি নিয়ত থাকিয়া ভোগ দখল করিতে থাকাবস্থায় তাহার নগদ টাকার প্রয়োজনে বিগত ইংরেজী ১২/১১/১৯৬৩ সন তারিখে ঢাকা সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ১ নং বহির ১৫৯ নং ভলিয়মের ২৯১ নং হইতে ২৯৪ নং পাতায় লিখিত ১৫৩৩৫ নং সাফ কবলা দলিল দ্বারা ঢাকা জেলার তেজগাঁও থানাধীন কাজলারপাড় গ্রাম নিবাসী হাজী মোঃ আয়েত আলীর পুত্র রওশন আলী মাদবর ও কামরুজ্জামানের নিকট সাফ বিক্রয় করিয়া উক্ত শ্রীমতি সখি বেওয়া চিরতরে নিঃস্বত্ববর্তী হন ।

এবং উক্ত মুক্তা দাস্যা তাহার পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির কিছু অংশ বিগত ইংরেজী ২১/০৩/১৯২৭ সন তারিখে ঢাকার ২য় জয়েন্ট সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ১ নং বহির ২০ নং ভলিয়মের ৩৭ নং হইতে ৩৯ নং পৃষ্ঠায় লিখিত ১৯০৮ নং সাফ কবলা দলিল দ্বারা যাত্রাবাড়ী নিবাসী মৃত অর্জুন রাজবংশীর পুত্র শ্রী সাধু চরণ রাজবংশী (তাহার স্বামী) এর নিকট সাফ বিক্রয় করিয়া উহা হইতে চিরতরে নিঃস্বত্ববান হন।

অতঃপর উক্ত সাধু চরণ রাজবংশী উল্লিখিত সাফ কবলা দলিল মূলে খরিদ করতঃ খরিদ সূত্রে মালিক নিয়ত হইয়া ভোগ দখলকার নিয়ত থাকাবস্থায় পুত্র শ্রী মনোরঞ্জন রাজবংশী তাহার মৃত পিতার ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত হইয়া মালিক ও ভোগ দখলকার নিয়ত থাকাবস্থায় তাহার নগদ টাকার প্রয়োজনে বিগত ইংরেজী ২১/০৪/১৯৬১ সন তারিখে ঢাকা সদর সাব- রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ১ নং বহির ৫৬ নং ভলিয়মের ৭৪ নং হইতে ৭৭ নং পাতায় লিখিত ৩৯৫৮ নং সাফ কবলা দলিল দ্বারা উক্ত কাজলারপাড় গ্রাম নিবাসী মৃত হাজী আয়েত আলীর পুত্র রওশন আলী মাদবর ও কামরুজ্জামানের নিকট সাফ বিক্রয় করিয়া নিঃস্বত্ববান হন।

এবং উক্ত শ্রী মনোরঞ্জন রাজবংশী আরও কতক সম্পত্তি বিগত ইংরেজী ৩১/০১/১৯৯১ সন তারিখে ঢাকা সদর সাব- রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ১০৬৭ নং সাফ কবলা দলিল মূলে উক্ত রওশন আলী মাদবর ও কামরুজ্জামানের নিকট সাফ বিক্রয় করিয়া উহা হইতে নিঃস্বত্ববান হন।

অতঃপর উক্ত রওশন আলী মাদবর ও কামরুজ্জামান নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি উল্লিখিত পৃথক পৃথক তিনখানা সাফ কবলা দলিল মূলে খরিদ করিয়া খরিদা সূত্রে মালিক নিয়ত হইয়া ভোগ দখল করিতে থাকাবস্থায় তাহাদের নিজ নিজ নামে বিগত সেঃ মেঃ জরীপে আর, এস রেকর্ডে শুদ্ধ ও চূড়ান্তভাবে রেকর্ড লিপিবদ্ধ করতঃ এবং নিজেদের নামে নামজারী ও জমাভাগ করাইয়া সরকারী খাজনাদি পরিশোধক্রমে চেক দাখিলা গ্রহণে ভোগ দখল করিয়া আসিতে থাকাবস্থায় উক্ত কামরুজ্জামান। আমরা অর্থাৎ অত্র দলিল দাতাদ্বয়কে ওয়ারিশ বিদ্যমান রাখিয়া মৃত্যুবরণ করেন।

সে মতে আমরা অত্র দলিল দাতাদ্বয় নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি পিতার ওয়ারিশ সূত্রে মালিক প্রাপ্ত ভোগ দখল করিতে থাকাবস্থায় আমাদের নিজ নিজ নামে ঢাকা সিটি জরীপে রেকর্ড লিপিবদ্ধ করাইয়া এবং আর, এস রেকর্ড মোতাবেক বিগত ইংরেজী ২১/০৮/২০০৬ সন তারিখে ৯৩৫৩/০৬ নং নামজারী ও জমাভাগ মোকদ্দমা বলে ৭৬৭৪ নং খতিয়ানের নং জোতে নামজারী ও জমাভাগ করাইয়া এ যাবৎকাল পর্যন্ত 80 নিরাপদে ও নির্বিবাদে পরম সুখে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ ব্যবহার ও কার্যাদি পরিচালনা করিয়া আসিতেছি।

 

একটি আধুনিক দলিলের নমুনা
একটি আধুনিক দলিলের নমুনা

 

৮। একাধিক ক্রেতা/গ্রহিতার ক্ষেত্রে ক্রয়কৃত/অর্জিত জমির হারাহারি মালিকানার বিবরণ (যদি থাকে) প্রযোজ্য নহে।

৯। একাধিক বিক্রেতা/ হস্তান্তরকারীর ক্ষেত্রে হস্তান্তরিত জমির হারাহারি মালিকানার বিবরণঃ

  বিক্রেতা/ দাতাদ্বয়ের নাম মালিকানার পরিমাণ
মোঃ মনিরুজ্জামান ০১৮৭.৫০ অযুতাংশ
মোঃ আসাদুজ্জামান ০১৮৭.৫০ অযুতাংশ

১০। সম্পাদনের তারিখ (বাংলা ও ইংরেজী)ঃ

বাংলা ১৪১৪ সনের ১৫ ফাল্গুন

ইংরেজী ২০০৮ সনের ফেব্রুয়ারি

১১। সম্পত্তির তফসিল

জেলা- ঢাকা,

থানা-যাত্রাবাড়ী,

মৌজা-মাতুয়াইল স্থিত,

জে, এল, নম্বর সি, এস ৩৩২ নং, এস, এ ১৫৪ নং, আর, এস ২৫ নং ।

খতিয়ান নম্বর সি. এস ১৬৮৩ নং, এস. এ ২০০৬ নং, আর, এস ২১৭০ নং, ঢাকা সিটি জরীপে ডি, পি, ১৮৯০ নং নামজারী ৭৬৭৪ নং খতিয়ানে লিখিত। খারিজা জোত ৩/৪০ নং বটে।

দাগ নম্বর সি. এস ও এস. এ ১০৯৭ (এক হাজার সাতানব্বই) নং দাগ, আর, এস ১৫৭৯ (এক হাজার পাঁচশত ঊনাশি) নং দাগ, ঢাকা সিটি জরীপে ২১১৬১ নং দাগের মোট জমি ২৮৫০ অযুতাংশের কাতে ০৩৭৫ (তিনশত পঁচাত্তর) অযুতাংশ নাল জমি যাহা দলিল দ্বারা সাফ বিক্রীত সম্পত্তি বটে।

ভূমি অফিসের নাম/বিবরণ – সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডেমরা, ঢাকা।

১২। সম্পত্তির চৌহন্দির বিবরণ

উত্তরে- আমির হোসেন

দক্ষিণে- দাতাদ্বয় নিজ

পূর্বে- মৃধা গং

পশ্চিম- মুসলিম উদ্দিন

১৩। হস্তান্তরিত সম্পত্তির পরিমাণ (অংকে ও কথায়) ০৩৭৫ (তিনশত পঁচাত্তর) অযুতাংশ।

১৪ । হস্তান্তরিত সম্পত্তির মূল্য পরিশোধের বিবরণ (যদি থাকে) (অংকে ও কথায়)ঃ

অংকেঃ ৫,০০,০০০/- টাকা
কথায়ঃ (পাঁচ লক্ষ) টাকা বুঝিয়া পাইলাম ।

১৫। হস্তান্তরিত সম্পত্তির হাত নকশা ও পরিমাণ RS রেকর্ড মোতাবেক

০৩৭৫ অযুতাংশ বিক্রীত

পূর্বে ২৫৮১
উত্তরে ২০৮০
দক্ষিণে ২৫৮১
পশ্চিম ৮২

১৬। দলিল পাঠ করিয়া/করাইয়া আমরা উহার মর্ম অবগত ও সম্মত হইয়া স্বাক্ষর করিলাম।

দাতা/দাতাগণের স্বাক্ষর-

১৭। গ্রহিতা/গ্রহিতাগণের স্বাক্ষর-

১৮। সাক্ষী/সাক্ষীগণের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর

স্বাক্ষর ও তারিখ

 

একটি আধুনিক দলিলের নমুনা
একটি আধুনিক দলিলের নমুনা

 

 

ক) নামঃ আব্দুল জব্বার শেখ

পিতা/স্বামীর নামঃ তমিজ উদ্দিন শেখ

মাতার নামঃ ভানু বিবি

গ্রাম/ রোড নাংঃ কতুবখালি

ডাকঘরঃ দনিয়া

উপজেলা/থানাঃ যাত্রাবাড়ী

জেলাঃ ঢাকা

খ) নামঃ মোঃ মামুন

পিতা/স্বামীর নামঃ মোতালেব সরকার

মাতার নামঃ মাসুদা বেগম

গ্রাম / রোড নংঃ কাজলারপাড়

ডাকঘরঃ দনিয়া

উপজেলা/থানাঃ যাত্রাবাড়ী

জেলাঃ ঢাকা

১৯। কৈফিয়ৎ যদি থাকে

২০। সনাক্তকারীর নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর

স্বাক্ষর ও তারিখ

নামঃ মোঃ মহিন উদ্দিন

পিতা/স্বামীর নামঃ মৃত জামাল খান

মাতার নামঃ মৃত জহিরন নেছা

গ্রাম/ রোড নংঃ ফতুলখাল

ডাকঘরঃ দনিয়া

উপজেলা/থানাঃ যাত্রাবাড়ী

জেলাঃ ঢাকা

স্বাক্ষর ও তারিখ

২১। হস্তান্তরিত সম্পত্তির সঠিক পরিচয় এবং বাজার মূল্য সম্পর্কে সম্যক অবহিত হইয়া আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী অত্র দলিল মুসাবিদা করিয়াছি/লিখিয়া দিয়াছি এবং পক্ষগণকে পাঠ করাইয়া শুনাইয়াছি।

দলিলটি (১০) ফর্মে কম্পোজকৃত।

মুসাবিধাকারক বা দলিল লেখকের নাম, পূর্ণ ঠিকানা ও স্বাক্ষর, দলিল লেখকের সনদ নং- (অফিসের নাম সহ)

নামঃ মোঃ ইছহাক মিয়া,

পূর্ণ ঠিকানাঃ ঠুলঠুলিয়া, ডেমরা, ঢাকা,

সনদ নং-৫৯.

অফিসের নাম- এস, আর, অফিস, ডেমরা, ঢাকা।

 

২২। দলিলদাতার হলফনামা

বরাবর,
সাব রেজিস্ট্রার অফিস, সূত্রাপুর, জেলা-ঢাকা।

১। মোঃ মনিরুজ্জামান, বয়স ৩৫ বৎসর ২। মোঃ আসাদুজ্জামান, বয়স-৩৭ বৎসর।

এই মর্মে হলফনামা প্রদান করিতেছি যে, আমরা হস্তান্তরিত জমির নিরঙ্কুশ মালিক, অন্য কেহ মালিকানার অংশীদার নাই, অন্য কোন পক্ষের সহিত বায়না চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় নাই বা অন্য কোথাও বিক্রয় হয় নাই বা অন্য কোন পক্ষের নিকট বন্ধক রাখা হয়। নাই বা এ সম্পত্তি সরকারী খাস/অর্পিত বা পরিত্যক্ত সম্পত্তি নয় বা অন্য কোনভাবে সরকারে বর্তায় নাই।

আরও হলফনামা প্রদান করা হইতেছে যে, উপরের কোন ভুল তথ্য লিপিবদ্ধ হইয়া থাকিলে তজ্জন্য দায়ী হইব, আমার বিরুদ্ধে দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা করা যাইবে, ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকিব, জমি সম্পর্কে যে কোন ভুল, অসত্য, বিভ্রান্তকর তথ্য প্রদান করিয়া থাকিলে প্রয়োজনে নিজ খরচায় ভুল শুদ্ধ করিয়া ক্ষতিপূরণসহ নতুন দলিল প্রস্তুত ও রেজিস্ট্রি করিয়া দিতে বাধ্য থাকিব। উল্লেখ্য যে, দলিলে হস্তান্তরিত সম্পত্তির মূল্য কম দেখানো হয় নাই ।

হলফকারীর স্বাক্ষর ও তারিখ

সনাক্তকারীর স্বাক্ষর

২৩। সাব- রেজিস্ট্রারের নাম ও পদবী সহ স্বাক্ষর ও তারিখ

নকলকারক পাঠক তুলনাকারক
৫/৩/০৮ ৫/৩/০৮ ৫/৩/০৮

জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে

আজকে আমরা আলোচনা করবো জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে

 

জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে
জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে

 

জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে

নিষ্কণ্টক জমি ক্রয় ক্রেতার কী করণীয়ঃ

এক খণ্ড জমির মালিক হওয়া প্রতিটি মানুষেরই মনের একটি অদম্য বাসনা। কিন্তু জমি-জমা ক্রয় করা বিশেষত শহর, উপ-শহর বা এর আশেপাশের এলাকায় হলে তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। জমি ক্রয়-বিক্রয়ে দালাল-টাউট-বাটপারদের প্রতারণা, পদে পদে এদের রসালো কথা, বেশীদামী জমি অল্পদামে ক্রয়ের সুযোগ হাতছাড়া না – বার ভুল তাড়না ইত্যাদি বিভ্রান্তিতে পড়ে জমি ক্রয় করতে গিয়ে ক্রেতা প্রায়ই প্রবঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক সময় জমি কিনে দখল নিতে গিয়ে নাজেহালও হচ্ছেন। অতএব—

জমি ক্রয়কালে ক্রেতাকে যা যা জানতে হবে

(১) জরিপের মাধ্যমে প্রণীত রেকর্ড অর্থাৎ খতিয়ান ও নক্‌শা যাচাই করে দেখতে হবে।

(২) জমির তফসিল অর্থাৎ জমির মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং উক্ত দাগে জমির মোট পরিমাণ জানতে হবে।

(৩) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সি এস. এস. এ. আর. এস সার্টিফাইড পর্চা দেখতে হবে।

(৪) বিক্রেতা ক্রয়সূত্রে ভূমির মালিক হয়ে থাকলে তার ক্রয়ের দলিল/ৰায়া দলিল রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে বিক্রেতার মালিকানা নিশ্চিত হতে হবে।

(৫) বিক্রেতা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হলে সর্বশেষ জরিপের খতিয়ান বিক্রেতা বা তিনি যার মাধ্যমে প্রাপ্ত তার নামের অস্তিত্ব (যোগসূত্র) মিলিয়ে দেখতে হবে ।

(৬) জরিপ চলমান এলাকায় বিক্রেতার নিকট রক্ষিত মাঠ পর্চা যাচাই করে দেখতে হবে।
যদি মাঠ পর্চার মন্তব্য কলামে কিছু লেখা থাকে, যেমন— মন্তব্য কলামে (AD) এভাবে লেখা থাকলে বুঝতে হবে অত্র খতিয়ানের বিরুদ্ধে তসদিক পর্যায়ে আপত্তি আছে। এরূপ জমি ক্রয়ের আগে জরিপ অফিস/ক্যাম্পে গিয়ে উক্ত জমিটির সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিতে হবে।

(৭) উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমি বিক্রেতার শরীকদের সঙ্গে বিক্রেতার সম্পত্তি ভাগাভাগির বণ্টন নামা (ফারায়েজ) দেখে নিতে হবে।

(৮) বিক্রেতার নিকট থেকে সংগৃহীত দলিল, বায়া দলিল, খতিয়ান/পর্চা ইত্যাদি কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে তলবকারী/স্বত্বলিপি রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

(৯) সর্বশেষ নামজারী পর্চা, ডি. সি আর, খাজনার দাখিলা (রসিদ) যাচাই করে দেখতে হবে। জমির খাজনা বকেয়া থাকলে এবং বকেয়া খাজনাসহ জমি ক্রয় করলে বকেয়া খাজনা পরিশোধের দায় ক্রেতার।

(১০) বিবেচ্য জমিটি সার্টিফিকেট মোকদ্দমাভুক্ত কিনা, কখনো নিলাম হয়েছে। কিনা তা তহসিল অফিস/উপজেলা ভূমি অফিস হতে জেনে নিতে হবে। সার্টিফিকেট মামলাভুক্ত সম্পত্তি বিক্রয়যোগ্য নয় (সরকারী দাবী আদায় আইন, ১৯১৩ এর ৭ ধারা)

(১১) বিবেচ্য তুমি খাস, পরিত্যক্ত/অর্পিত (ভি. পি.), অধিগ্রহণকৃত বা অধিগ্রহণের জন্য নোটিসকৃত কিনা তা তহসিল, উপজেলা ভূমি অফিস বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল. এ. শাখা থেকে জেনে নিতে হবে।

(১২) বিবেচ্য জমি কোন আদালতে মামলা-মোকদ্দমাভুক্ত কিনা তা জেনে নিতে হবে। মামলাভুক্ত জমি কেনা উচিত নয়।

(১৩) বিবেচ্য জমিটি সরেজমিনে যাচাই করে এর অবস্থান নক্শার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে এবং দখল সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে বিক্রেতার মালিকানা ও দখল নিশ্চিত হতে হবে।

(১৪) সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও জেলা রেজিস্ট্রারের অফিসে তল্লাশি দিয়ে জমির সর্বশেষ বেচাকেনার তথ্য জেনে নেয়া যায়

(১৫) প্রস্তাবিত জমিটি ঋণের দায়ে কোন ব্যাংক/সংস্থার নিকট দায়বদ্ধ কিনা।

(১৬) প্রস্তাবিত জমিতে যাতায়াতের রাস্তা আছে কিনা তাও দেখা প্রয়োজন।

(১৭) কোন কোন এলাকার জমিতে নানা ধরনের বিধি-নিষেধ থাকতে পারে, যেমন ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের জীব বৈচিত্র সংরক্ষণের স্বার্থে গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার নিম্নোক্ত মৌজাসমূহের ব্যক্তি মালিকানাধীন বা সরকারী জমিতে শিল্প/কারখানা/পাকা ইমারতসহ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প, কৃষি, দুগ্ধ ও মৎস্য খামার ইত্যাদি স্থাপন না করার জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ২২/১১/৯৯ ইং তারিখে পরম (শা-৩) ১৪/৯৪/৯৮৮নং স্মারকে একটি পরিপত্র জারী করে। তাই এ সব বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে জমি কেনা উচিত।

 

জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে
জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে

 

মৌজাসমূহ হলঃ

(ক) আড়াইশো প্রসাদ (খ) বন খরিয়া (গ) বিশিয়া কুড়ি বাড়ি (ঘ) বারই পাড়া (ঙ) উত্তর সালনা (চ) বাউপাড়া (ছ) বাহাদুরপুর ও (জ) মোহনা ভবানীপুর।

১৮। অতিরিক্ত সতর্কতা ও পরবর্তীতে কোন ঝামেলা হলে আইনী সহায়তা অর্জনের লক্ষ্যে জমি ক্রয়ের পূর্বে সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য কমপক্ষে ৩টি জাতীয় দৈনিকে ‘লিগ্যাল নোটিস’ প্রকাশ করা যেতে পারে।
উল্লিখিত প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে জমি ক্রয় করা ঝামেলা মনে হতে পারে। কিন্তু এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জমি ক্রয় করলে ভবিষ্যতের বহুবিধ ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।

দলিল সম্পাদন এবং রেজিস্ট্রি করার জন্য দাখিলের সময় সীমাঃ

রেজিস্ট্রেশন এ্যাক্ট, ১৯০৮ এর ২৩ ধারায় বলা হয়েছে যে, উক্ত আইনের ২৪. ২৫ ও ২৬ ধারার শর্ত সাপেক্ষে উইল ব্যতীত অন্যান্য সকল দলিল সম্পাদনের তারিখ হতে চার মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রির জন্য রেজিস্ট্রারিং অফিসারের নিকট পেশ করতে হবে। চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে তা রেজিস্ট্রির জন্য গ্রহণ করা হবে না। তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আদালতের কোন রায়/ডিক্রি /আদেশ থাকলে এবং উক্ত রায় ডিক্রির বিরুদ্ধে কোন আপিল হলে তা নিষ্পত্তির চার মাসের মধ্যে দলিলটি রেজিস্ট্রির জন্য দাখিল করতে হবে।

দলিল সম্পাদন

দলিল সম্পাদন বলতে বুঝায় দলিলে দলিল দাতার স্বাক্ষর বা টিপসহি প্রদান। দাতা যে তারিখে ও যে সময়ে দলিলে স্বাক্ষর করবেন সে তারিখ ও সে সময় হতেই দলিলটি সম্পাদিত হলো বলে গণ্য হবে। দলিল সম্পাদনের চার মাসের মধ্যে তা রেজিস্ট্রির জন্য রেজিস্ট্রি অফিসে দাখিল করতে হবে। রেজিস্ট্রির পর দলিলটি দাতার স্বাক্ষরের তারিখ হতেই কার্যকর হবে।

যে সব দলিল রেজিস্ট্রি বাধ্যতামূলক নয়ঃ

(১) কোন রাজস্ব আদালতের বাটোয়ারা কার্যক্রমে পক্ষগণ কর্তৃক কোন সোলেনামা সম্পাদিত ও আদালত কর্তৃক তা গৃহীত হলে ।

(২) সম্পত্তি ভোগ করার লক্ষ্যে কারো কোন অধিকার সংকোচন বা ধ্বংস না করে পারস্পরিক ও পারিবারিকভাবে নামান্তরকরণের কার্যক্রমে যে সোলেনামা করা হয়।

(৩) আদালতের ডিক্রি/রায় বা আদেশ (রেজিস্ট্রেশন আইনের ১৭ ধারা আদালতের ডিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়)।

(৪) অতীতের স্বত্ত্বের স্বীকৃতি দিয়ে প্রস্তুত পারিবারিক বন্দোবস্ত।

(৫) দেওয়ানী আদালতের বা সার্টিফিকেট অফিসারের নিলামে হস্তান্তরকৃত সম্পত্তির বয়নামা ।

(৬) ১০০ টাকার কম মূল্যের স্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তর দলিল।

(৭) পোষ্যপুত্র / পালকপুত্র গ্রহণ করার দলিল।

(৮) সর্বোপরি কোন দলিল রেজিস্ট্রি করার প্রয়োজন আছে কি-না তা দলিলে বর্ণিত শর্ত দ্বারাই নির্ধারিত হয়ে থাকে।

দলিল লিখার সময় ক্রেতাকে যে সব বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে হবেঃ

(১) দলিল সম্পাদনকারীকে (দাতা হিসেবে সহিকারী সাবালক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হতে হবে।

(২) দলিলের অঙ্গসমূহ যেমন

(ক) শিরোনাম- ‘সাফ করালা’, ‘বায়নাপ’ ইত্যাদি।

(খ) প্রস্তাবিত জমির পরিমাণ ও বিক্রয় মূল্য (বায়না দলিল হলে বায়নায় পরিশোধিত টাকা বা টাকা)

(গ) পক্ষ পরিচয় (I) দলিল গ্রহীতা (II) দলিল দাতা বা প্রথম পক্ষ, দ্বিতীয় পক্ষ।

(ঘ) পূর্ণ নাম ও ঠিকানা, পেশা, ধর্ম ইত্যাদি। মালিকানার ভিত্তি, দলিল মূলে হলে পূর্ব দলিলের নম্বর

(৩) স্বত্ত্বের বর্ণনা দাতার ৩ তারিখ পর্য/খতিয়ান ইত্যাদি।

(৪) দলিলে প্রস্তাবিত জমির তফসিল (জেলা, উপজেলা, রেজিস্ট্রি অফিসের নাম, মৌজা, খতিয়ান, দাগ নং, জমির শ্রেণীর বর্ণনা থাকতে হবে।

(৫) প্রস্তাবিত জমির চৌহদ্দি (উত্তর, পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম পার্শ্বস্থ জমির মালিকগণের নাম) বর্ণনা ।

(৬) দলিলদাতা দলিলের উপরে ডানপাশে (নিচ থেকে উপরের দিকে) এবং শেষ পৃষ্ঠার নিচে সই/টিপ সই করবেন। প্রতি পৃষ্ঠায় সই করলে আরো ভালো হয়।

(৭) দলিল দাতার নিচে (শেষ পৃষ্ঠায়) দলিল লেখক স্বাক্ষর করবেন, এরপর কমপক্ষে দু’জন সাক্ষী এবং একজন সনাক্তকারী (বিক্রেতাকে) স্বাক্ষর করবেন।

(৮) দলিলে যতদূর সম্ভব কাটা, ঘষামাজা, অস্পষ্টতা এড়াতে হবে। তবুও কোনোরূপ ভুল-ত্রুটি, ঘষামাজা হয়ে গেলে তার লাইন ও শব্দের ক্রম উল্লেখ করে দলিলের শেষাংশে “কৈফিয়ত” লিখে দলিল লেখক তার নিচে সই করবেন।

(৯) তফসিল লেখার সময় প্রত্যেক দাগে মোট জমির পরিমাণ কত এবং অদ্যকার বিক্রেয় দলিলে উক্ত দাগের “কাতে” কত একর/শতাংশ জমি দেয়া হচ্ছে তা প্রতি ক্ষেত্রে লেখানো। কোন ক্রমেই কয়েকটি দাগের জমি একত্রে যোগ করে তার কাতে বিক্রিত একর/শতাংশ লেখা উচিত নয়।

(১০) বিভিন্ন জরিপের দাগ ও খতিয়ান নম্বর সঠিকভাবে লেখানো, এজন্য তহসিল অফিস হতে জমির সঠিক দাগ ও খতিয়ান নম্বর জেনে নেয়া যেতে পারে।

 

জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে
জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে

 

জমির হিস্যা লিখার পদ্ধতি

বিভিন্ন প্রকার জরিপ কাজের সময় রেকর্ড বা খতিয়ানে এবং হস্তান্তর দলিলে মালিকের জমির অংশ বা হিস্যা বিভিন্নভাবে (এককে) লিখার প্রচলন দেখা যায়, যেমন— আনা, কড়া, গণ্ডা, ইত্যাদি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী লক্ষ করা যায় আনার প্রচলন। তবে বর্তমানে একক আধুনিক পদ্ধতিতে অর্থাৎ সহস্রাংশে (দশমিক দিয়ে) লেখা হয় । আনা এককগুলো এখনও পুরনো দলিল, রেকর্ডে দেখা যায় ।

পরিচিতির জন্য তা নিম্নে দেয়া হল :

সনাতন একক আধুনিক একক (মোট সম্পত্তিকে ১০০০ ধরে)
= এক আনা ৬২.৫০ অংশ = এক আনা
= দুই আনা ১২৫.০০ অংশ = দুই আনা
=  তিন আনা ১৮৭.৫০ অংশ = তিন আনা
= চার আনা ২৫০.০০ অংশ = চার আনা
= পাঁচ আনা ৩ ১২.৫০ অংশ = পাঁচ আনা
= ছয় আনা ৩৭৫.০০ অংশ = ছয় আনা
= সাত আনা ৪৩৭.৫০ অংশ = সাত আনা
= আট আনা ৫০০.০০ অংশ = আট আনা
= নয় আনা ৫৬২.৫০ অংশ = নয় আনা
= দশ আনা ৬২৫.০০ অংশ = দশ আনা
= এগার আনা ৬৮৭.৫০ অংশ = এগার আনা
= বার আনা ৭৫০.০০ অংশ = বার আনা
= তের আনা ৮১২.৫০ অংশ = তের আনা
= চৌদ্দ আনা ৮৭৫.০০ অংশ = চৌদ্দ আনা
= পনের আনা ৯৩৭.৫০ অংশ = পনের আনা
= ষোল আনা ১০০০ ০০ অংশ = ষোল আনা

ক্রান্তি, কড়া, গণ্ডা ও আনার হিসেব

= ১ তিল
= ২ তিল
= ৩ তিল
= ২০ তিল = ১ ক্রান্তি।

= ১ ক্রান্তি
= ২ ক্রান্তি
= ৩ ক্রান্তি = ১ কড়া ।

= ১ কড়া
= ২ কড়া
= ৩ কড়া
= ৪ কড়া = ১ গণ্ডা

= ১ গণ্ডা
= ২ গণ্ডা
= ২০ গণ্ডা = ১ আনা।

আর. ও. আর. এ অংশ লিখার পদ্ধতি

আর ও আর খতিয়ানে কোন হোল্ডিংয়ের সমুদয় সম্পত্তিকে ১৬ আনা ধরে যেভাবে অংশ লিখা হয় তার একটি নমুনা নিম্নে তুলে ধরা হলো— ধরা যাক, হোল্ডিংয়ে শরীক সমান হিস্যায় তিন জন। তাহলে প্রত্যেকের প্রাপ্য অংশ দাঁড়ায়ঃ

পাঁচ আনা + ৬ গণ্ডা + (দুই) কড়া + (দুই ক্রান্তি)
তিন অংশে মোট হয় = (৫ × ৩) ১৫ আনা + (৬ x ৩) ১৮ গণ্ডা + (২ × ৩) ৬ কড়া + (২ × ৩) ৬ ক্রান্তি,

= ১৫ আনা + ১৮ গণ্ডা + ৬ কড়া + ২ কড়া (৩ ক্রান্তি = ১ কড়া হিসেবে),
= ১৫ আনা + ১৮ গণ্ডা + ৮ কড়া,
= ১৫ আনা + ১৮ গণ্ডা+ ২ গণ্ডা (৪ কড়া = ১ গণ্ডা হিসেবে).
= ১৫ আনা + ২০ গণ্ডা
= ১৫ আনা + ১ আনা (২০ গণ্ডা = ১ আনা হিসেবে),
= ১৬ আনা

বর্তমান সময়ে ব্যবহৃত আধুনিক এককের নমুনা

.০০২৫ একর = কোয়াটার শতাংশ
.০০৫ একর = আধা শতাংশ
.০০৭৫ একর = পোনে এক শতাংশ
.০১ একর = এক শতাংশ
০.১২৫ একর = সোয়া শতাংশ
.০১৫ একর = দেড় শতাংশ
.০১৭ একর = পোনে দুই শতাংশ
.০২ একর = দুই শতাংশ
.১ একর = দশ শতাংশ
১ একর = ১ একর

 

জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে
জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে

 

দলিল সম্পাদন প্রক্রিয়া

১। পূর্বোল্লিখিত বিষয়গুলো যাচাই করে কোন জমি ক্রয়যোগ্য মনে হলে ক্রেতা বিক্রেতার সঙ্গে বায়না দলিল বা সরাসরি দলিল সম্পাদন করতে পারেন। দলিল সম্পাদন করলে তা ৪ (চার) মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রি করতে হবে।

২। দলিল সম্পাদনকালে জমির তফসিল সতর্কতার সঙ্গে দলিলে লিখতে হবে। যে সব দাগে জমি ক্রয় করা হচ্ছে তাতে মোট কত টুকু জমি আছে এবং বিক্রেতার তাতে কতটুকু হিস্যা আছে তা দেখে প্রতি দাগে আলাদা আলাদা (কাতে) পরিমাণ উল্লেখ পূর্বক দলিল সম্পাদন করতে হবে।

৩। একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ দলিল লেখককে দিয়ে লিখার কাজটি করা উচিত। কারণ তাদের অজ্ঞতা ও অদক্ষতার জন্য ক্রেতাকে অনেক ক্ষেত্রে বিপদে পড়তে হয়।

৪। দলিল রেজিস্ট্রির সময় দলিলের রিসিট সাব-রেজিস্ট্রার অফিস হতে সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করতে হবে । যা দিয়ে পরবর্তীতে মূল দলিল উঠাতে হবে।

৫। জমি ক্রয়কালে সংগৃহীত সংশ্লিষ্ট সব দলিল, বায়া দলিল, পর্চা, নকশা, ফারায়েজ নিজের সংগ্রহে রাখতে হবে। যা সারা জীবনই কাজে লাগবে।

৬। দলিল সম্পাদনের সাথে সাথে জমির দখল বুঝে নিতে হবে। দখল ছাড়া স্বত্বসৃষ্টি পূর্ণাঙ্গ হয় না।

৭। ভূমি ক্রয় করে রেজিস্টার্ড দলিল বা দলিলের নকল হাতে পাবার পর সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন করে বা সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস হতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ে পাঠানো “হস্তান্তর নোটিস” (এল. টি.) মূলে সরকারী ফিসাদি প্রদান করে নিজ নামে ভূমি নামজারী করিয়ে নিতে হবে। নামজারীর মাধ্যমে ক্রেতার নামে রেকর্ড সংশোধিত হবে। নামজারীর পর তহসিল অফিসে গিয়ে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে খাজনা দিয়ে খাজনা মওকুফ হলে “মওকুফ দাখিলা” সংগ্রহ করে রাখতে হবে ।

বহু বিক্রি বা একাধিক দলিল সম্পাদনের ফলাফল

বর্তমান সময়ে জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের জমির নিষ্কণ্টকতা সম্পর্কে যত রকম দুর্ভাবনার সৃষ্টি হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো জমিটি বিক্রেতা ইতোপূর্বে অন্য কারো নিকট বিক্রি করেছে কিনা। অর্থাৎ বিক্রেতা কর্তৃক একাধিক গোপন বিক্রি/দলিল সম্পাদন করা হয়েছে কি-না। প্রশ্ন হচ্ছে, যদি এমনটি হয় তবে ক্রেতা হিসাবে কার দাবী অগ্রগণ্য হবে?

এ ক্ষেত্রে “সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২” (১৮৮২ সনের IV নং আইন) এর ৪৮ ধারার সুস্পষ্ট বিধান হলো, একাধিক দলিল সম্পাদিত হয়ে থাকলে যে দলিলটি আগে সম্পাদিত হয়েছে সেই দলিলটিই কার্যকরী হবে। এমনকি একই তারিখে সম্পাদিত একাধিক দলিলের মধ্যে প্রমাণ সাপেক্ষে অগ্রাধিকার নীতির ভিত্তিতে প্রথম সম্পাদিত দলিলটি কার্যকর হবে।

আরো জেনে রাখা ভাল যে, অগ্রাধিকার নীতির ক্ষেত্রে সম্পত্তির বিক্রয় দলিল কার্যকর হয় দলিলটি সম্পাদনের তারিখ হতে, রেজিস্ট্রেশনের তারিখ হতে নয়। তবে দলিলটি সম্পাদনের ৪ মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রি না হলে উক্ত নীতি প্রযোজ্য হবে না। তাই বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রেশনের পর তা সম্পাদনের তারিখ হতেই কার্যকরী হয়। কাজেই প্রথম সম্পাদিত দলিলটিই রেজিস্ট্রিকৃত সকল হস্তান্তর দলিলের মধ্যে অগ্রাধিকার পাবে।

দলিল রেজিস্ট্রি ফিস সম্পর্কে কিছু তথ্য

দলিল রেজিস্ট্রি করা হয় “রেজিস্ট্রেশন আইন” “স্ট্যাম্প আইন” “আয়কর আইন”. “অর্থ আইন” এবং রাজস্ব সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধি ও পরিপত্রের আলোকে। এ সব আইনের বিধান মতে দলিল রেজিস্ট্রির জন্য স্ট্যাম্প শুল্ক, রেজিস্ট্রি ফিস, অতিরিক্ত কর, উৎস কর, জেলা/পৌরকর ইত্যাদি ফিস দিতে হয়।

সকল দলিলের ফিসের হার সমান নয়, দলিলের প্রকৃতি অনুসারে তার ফিসের হার নির্ধারিত হয়ে থাকে। তাই একটি দলিল রেজিস্ট্রির ফিসের নির্দিষ্ট অংক বের করা কঠিন । তবুও সাধারণ ধারণা লাভের জন্য দলিল রেজিস্ট্রি ফিসের একটি মোটামুটি চিত্র নিম্নে দেয়া হল

(ক) কবলা দলিল রেজিস্ট্রির জন্য স্ট্যাম্প শুল্ক মোট ক্রয়মূল্যের ১০%

(খ) রেজিস্ট্র ফিস ১-২৫০০/- টাকা পর্যন্ত বিক্রয় মূল্যের জন্য ৫০/-টাকা

(গ) রেজিস্ট্রি ফিস ২৫০১- ৪০০০/- টাকা পর্যন্ত বিক্রয় মূল্যের জন্য ২%

(ঘ) রেজিস্ট্রি ফিস ৪০০১/- হতে তদূর্ধ্ব বিক্রয় মূল্যের জন্য ২%

(ঙ) হলফনামা ফিস ১০/- টাকা

(চ) অতি কর-সিটি কর্পো/পৌর/টাউন/ক্যান্টঃ বোর্ড এলাকার জমি বিক্রির ক্ষেত্রে ১%

(ছ) পৌর কর ১%

(জ) উৎস কর- ১০%

(ঝ) ভ্যাট- ২১/৪%

(ঞ) সিটি কর্পো/পৌর/টাউন/ক্যান্টঃবোর্ড এলাকা বহির্ভূত জমি বিক্রির ক্ষেত্রে জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ কর (১% + ১%) ২%

এবং এক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর %

(চ) সিটি কর্পো/পৌর/টাউন/ক্যান্টঃ বোর্ড এলাকার বাইরের ১ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যের ‘অকৃষি জমি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রেতাকে মোট বিক্রয় মূল্যের ১০% উৎস কর দিতে হবে ।

(ছ) মওকুফ সিটি কর্পোরেশন, পৌর এলাকা, টাউন কমিটি বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকার বাইরের ১ লক্ষ টাকার নিচের অকৃষি জমি ও অন্যান্য (কৃষি / ভিটি / নামা ইত্যাদি) জমি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে “পৌরকর”, “উৎস কর”ও “ভ্যাট” দিতে হয় না।

(জ) কোন্ কর কে দিবে ভ্যাট ও উৎস কর সর্বদাই জমি বিক্রেতার দেয়। আয়কর আইনের বিধান মতে এ দু’ধরনের কর হচ্ছে বিক্রেতার আয়ের উপর ধার্য কর এ কর বিক্রেতার নামেই সরকারী কোষাগারে জমা দিতে হয়; তাই ভ্যাট ও উৎস কর বিক্রেতাকেই পরিশোধ করতে হবে। জমি বিক্রির সময় যদি এ দু’প্রকার কর নিয়ে কোন আলোচনা না হয়ে থাকে তবে তা অবশ্যই বিক্রেতা কর্তৃক পরিশোধ করতে হবে। ভ্যাট ও উৎস কর ব্যতীত অন্যান্য কর জমির ক্রেতাকে পরিশোধ করতে হবে।

 

জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে
জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে

 

কমিশনের মাধ্যমে দলিল রেজিস্ট্রি :

দলিল দাতাগণের মধ্যে কেউ রেজিস্ট্রি অফিসে যেতে অক্ষম / অপারগ হলে তিনি রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩৮ ধারামতে “দলিল সম্পাদন স্বীকারোক্তি” গ্রহণের জন্য কমিশনের প্রার্থনা করে ‘সাব-রেজিস্ট্রার’ এর নিকট আবেদন করতে পারবেন। এরূপ আবেদনের ভিত্তিতে সাব-রেজিস্ট্রার বা তার প্রতিনিধি দলিলদাতার বাসস্থানে গিয়ে সম্পাদন স্বীকারোক্তি গ্রহণের মাধ্যমে দলিল রেজিস্ট্রি করাকে বলে ‘কমিশনের রেজিস্ট্রি’। এ জন্য আলাদা কমিশন ফিস দিতে হয়।

ভিজিটে দলিল রেজিস্ট্রির পদ্ধতি :

দলিল দাতা এবং গ্রহীতা উভয়ের কেউই যদি রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিল দাখিল করতে না পারেন সেক্ষেত্রে এ আইনের ৩১ ধারামতে দলিল দাতার বাড়িতে গিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রি অফিসে আবেদন করা যাবে।

কমিশন বা ভিজিটের জন্য আবেদন করা হলে রেজিস্ট্রারিং অফিসার’ আবেদনকারীকে উক্তরূপ রেজিস্ট্রির তারিখ ও সময় নির্ধারিত করে জানিয়ে দেবেন এবং নির্ধারিত তারিখে দাতার ‘সম্পাদন স্বীকারোক্তি’ দলিলে লিখে নিবেন এবং দলিলটি রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

রেজিস্ট্রারিং অফিসার নিজে যেতে না পারলে তার অফিসের যে কোন অফিসার/বেতনভোগী কর্মচারীকে দিয়ে তার কমিশন জারী করতে পারেন। কমিশন বা ডিজিট এর জন্য আবেদন করলে কমিশন ফিস বা ভিজিট ফিসও সঙ্গে জমা দিতে হয়।

রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ৭৯ ধারার বিধানবলে সরকার সময়ে সময়ে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ফিসের হার পরিবর্তন/সংশোধন/বৃদ্ধি করতে পারেন। এরূপ করা হলে, তা জনসাধারণের অবগতির জন্য সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করে। থাকেন। তাছাড়া পরিবর্তিত ফিসের তালিকা উক্ত ধারার বিধান বলে প্রত্যেক সাব- রেজিস্ট্রি অফিস’ ও ‘জেলা রেজিস্ট্রি অফিস’-এর প্রকাশ্য কোন স্থানে লটকিয়ে রাখা হয়।

নাবালকের দলিল দাখিলের বিধান

রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ৩৫ ধারা অনুসারে কোন নাবালক দলিল সম্পাদন করতে পারে না। তাই নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনত অবৈধ। নাবালকের স্বাভাবিক অভিভাবক হলো তার পিতা, পিতা কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি, পিতামহ ও পিতামহ কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি। মা স্বাভাবিক অভিভাবক নয়। তাই নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর বা অন্য কোন প্রয়োজনে স্বাভাবিক অভিভাবক না থাকলে নাবালকের আইনানুগ অভিভাবক নিয়োগের জন্য মেজরিটি এ্যাক্ট, ১৮৭৫ এ জেলা জজকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

এ আইন বলে জেলা জজ নাবালকের অভিভাবক নিয়োগ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে উক্ত নাবালকের বয়স ২১ বছর পূর্ণ হলে তবেই সে সাবালক বলে গণ্য হবে। আদালত কর্তৃক কাউকে নাবালকের অভিভাবক নিয়োগ না করা হলে সে নাবালকের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলেই সে সাবালক বলে গণ্য হবে এবং তার দ্বারা সম্পত্তি হস্তান্তর বৈধ হবে।

দান / হেবা

দানকে মুসলিম আইনে হেবা বলে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের (টি.পি. এ্যাক্ট) ১২২ ধারায় বলা হয়েছে, কোন সম্পত্তি দাতা কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে হস্তান্তর করলে এবং গ্রহীতা বা তার পক্ষে কোন ব্যক্তি সেটি গ্রহণ করলে তাকে দান বা হেবা বলে।

দান বৈধ হওয়ার শর্ত তিনটি

(১) দাতা কর্তৃক দানের (ইজাব) ঘোষণা প্রদান,

(২) গ্রহীতা বা তার পক্ষ হতে দান গ্রহণ (কবুল) করা,

(৩) দাতা কর্তৃক গ্রহীতাকে দানকৃত সম্পত্তির দখল দেয়া।

দানের উপাদানসমূহ

(ক) দাতার জীবনকালের মধ্যে দান কার্যসম্পন্ন হতে হবে। দান গ্রহণের পূর্বে দাতার মৃত্যু হলে দান বাতিল বলে গণ্য হবে ।

(খ) দানের সময় সম্পত্তিতে দাতার মালিকানা ও দখল থাকতে হবে।

(গ) দান স্বেচ্ছায় এবং পণবিহীন হতে হবে।

(ঘ) দাতাকে সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন ও সাবালক হতে হবে।

(ঙ) দান গ্রহীতা মানসিক ভারসাম্যহীন ও নাবালক হলে তার পক্ষে অভিভাবককে দান গ্রহণ করতে হবে।

(চ) মুসলিম আইন অনুযায়ী দাতা তার সমুদয় সম্পত্তি যে কাউকে দান করতে পারেন। তবে দায়ভাগ মতে একজন হিন্দু যাদের ভরণ-পোষণে আইনত বাধা তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখার পর বাকী সম্পত্তি দান করতে পারেন।

(ছ) দখল হস্তান্তরের পূর্বে দান প্রত্যাহার করা যায়। দখল হস্তান্তরের পরে দান প্রত্যাহারের জন্য আদালতের ডিক্রি লাগবে।

(জ) দানকারী ঋণের দায় এড়ানোর বা অন্য কোন অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে দান করলে, পাওনাদারের আবেদনে ঐ দান বাতিল হতে পারে।

(ঝ) মৃত্যুশয্যাকালীন দান উইলের ন্যায় কার্যকরী হবে। অর্থাৎ ঐ দান অনাত্মীয়ের অনুকূলে করা যাবে এবং মোট সম্পত্তির ভাগের বেশী দান করা যাবে না। এ অবস্থায় কোন উত্তরাধিকারীকে দান করলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে, তবে অন্য উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি থাকলে আত্মীয়কে ভাগের অধিক সম্পত্তি বা উত্তরাধিকারীর অনুকূলে দান বৈধ হবে।

(ঞ) মুসলিম আইনের বিধান অনুযায়ী দান লিখিত না হলেও চলে। মৌখিক দানের বিষয়ে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ এর রায় হলো কৃষি জমির দান রেজিস্ট্রি বাধ্যতামূলক নয় । তবে, টি.পি. এ্যাক্টের ১২৩ ধারার বিধান হলো দান বা হেবা লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে।

 

জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে
জমি জমা ক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রি করবেন যেভাবে

 

হেবা বিল এওয়াজ

মুসলিম আইন অনুসারে কোন বিনিময় নিয়ে দান করাকে বলে “হেবা বিল এওয়াজ”। এতে বিক্রয় চুক্তির উপাদান বিদ্যমান থাকায় এটি মূলত এক ধরনের বিক্রয়।

হেবা বিল এওয়াজ এর উপাদানসমূহ

(১) গ্রহীতাকে হেবা গ্রহণের বিনিময়ে দাতাকে অবশ্যই কিছু দিতে হবে।
(২) দাতাকে দানের মাধ্যমে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিঃস্বত্বে পরিণত করতে হবে।
(৩) হেবা বিল এওয়াজ প্রত্যাহারযোগ্য নয়।
(৪) দাতার উত্তরাধিকারীগণের কোন অধিকার এতে থাকে না, তবে শর্ত থাকলে গ্রহীতার মৃত্যুর পর সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের নিকট আসতে পারে।

উইল বা অছিয়ত

উইল মূলত ভবিষ্যৎ দান। কোন সুস্থ সাবালক মুসলমান কর্তৃক তার মৃত্যু পরবর্তীকালীন সম্পত্তি বা উক্ত সম্পত্তির মুনাফা অনন্তকালের জন্য বা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোন কিছুর বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার ইচ্ছাই হলো উইল বা অছিয়ত ।

উইলের শর্ত

(ক) সম্পত্তি হস্তান্তরের বিষয়টি দাতার বোঝার ক্ষমতা থাকতে হবে।
(খ) উইল, উইল মাতার মৃত্যুর পর কার্যকর হবে।

উইলের উপাদান (১) উইল সাধারণত উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নামে করতে হয়। তবে কোন উত্তরাধিকারীর অনুকূলে উইল করা হলে পাতার মৃত্যুর পর অন্যান্য উত্তরাধিকারী তা মেনে নিলে ঐ উইল বৈধ হবে।

ˇ (২) আইনানুসারে দাতার মোট সম্পত্তির ১/৩ ভাগ সম্পত্তি উইল করা যাবে। ১/৩ এর বেশী সম্পত্তি উইল করা হলে তাতে দাতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের সম্মতি না থাকলে ভাগ সম্পত্তির উপর কার্যকর হবে (দাতার মৃত্যুর পরই কেবল তার উত্তরাধিকারীদের সম্মতি/আপত্তি গ্রহণযোগ্য)।

(৩) উইল মৌখিক এবং লিখিত দু’ভাবেই করা চলে। এমনকি অসামর্থ্যের কারণে ইঙ্গিতেও উইল করা যায়। তবে মৌখিক উইলের ক্ষেত্রে দু’জন পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দু’জন মহিলা সাক্ষীর উপস্থিতিতে হতে হবে। বর্তমান বাস্তবতায় উইল লিখিত হওয়াই উচিত।

(৪) উইল দাতা মৃত্যুর পূর্বে যে কোন সময় উইল রদ (বাতিল) করতে পারেন। একবার দানের বস্তুটি উইল করার পর পুনরায় ঐ একই বস্তু অন্য কারো অনুকূলে উইল করলে পূর্বের উইলটি বাতিল হয়ে যাবে ।

(৫) একজন হিন্দু তার সকল সম্পত্তি উইল করতে পারেন, তবে যাদের ভরণ-পোষণের জন্য তিনি আইনত বাধ্য তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রেখে বাকী সম্পত্তি উইল করতে হবে ।

উইল বিলুপ্তি

(১) উইল দানের পর উইলদাতা বিকৃত মস্তিষ্ক বিশিষ্ট হয়ে গেলে। এমন কি দাতার মৃত্যুর পূর্বে সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন হয়ে গেলেও।

(২) উইল গ্রহীতা দাতার আগে মারা গেলে ।

(৩) দাতা বা গ্রহীতা ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে।

(৪) উইল গ্রহীতা দাতাকে হত্যা করলে ।

(৫) উইলকৃত সম্পত্তির উপর অন্য কারো অধিকার সাব্যস্ত হলে । অস্থি অগ্নিয়তের বর্ণনানুযায়ী সম্পত্তি পরিচালনার জন্য নিযুক্ত ব্যক্তিকে অছি বলে।

উইল প্রবেটঃ অছিয়ত সরকারীভাবে কায়েম করতে হলে আদালত হতে যে স্বীকৃতি নিতে হয় তাকে বলে প্রবেট। এটি না নেয়া হলে অছিয়ত আদালতে গ্রাহ্য নাও হতে পারে। প্রবেট মুসলিম উইলে আবশ্যকীয় নয়।

বিষয়ঃ The Registration (Amendment) Act, 2004-এর শীর্ষক আইনের উল্লেখযোগ্য বিধানের সার-সংক্ষেপ

(ক) মূল্য নির্বিশেষে সকল প্রকার স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা Registration Act, 1908-এর অধীন ১০০ টাকা কম মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সম্পাদিত দলিলের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে ১০০ টাকা মূল্যের কোন স্থাবর সম্পত্তি বাস্তবে না থাকলেও এ বিধানের সুযোগে অনেক স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করা হচ্ছে যার কোথাও কোন রেকর্ড থাকছে না।

সুতরাং একটি আধুনিক ও দক্ষ ভূমি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে মূল্য নির্বিশেষে যে কোন স্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তর রেজিস্ট্রি হওয়া বাঞ্ছনীয় বিধায় এতদুদ্দেশ্যে উল্লিখিত আইনের সর্বত্র সংশোধন করা হয়েছে [ধারা ২ দ্রষ্টব্য]।

(খ) হেবা দলিলের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা Registration Act-এর section 17(1) (a) অনুযায়ী দানপত্র দলিলের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক, কিন্তু মুসলিম ব্যক্তিগত ধর্মীয় আইনের অধীন মৌখিক দানের মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তি দান (হেবা) করার ক্ষেত্রে দলিল সম্পাদনের, বা দলিল সম্পাদিত হলে উক্ত দলিলের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক নয়। ফলে এরূপ হস্তান্তর সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য কোন রেকর্ড না থাকায় এসব সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি জটিল আকার ধারণ করে।

এ সমস্যা নিরসনের জন্য উল্লিখিত আইনের section 17 (1) সংশোধন এবং নতুন section 78A সন্নিবেশ করে ১০০ (একশত) টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণের বিধানসহ হেবার মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রেশনের বিধান সংযোজন করা হয়েছে; সেটা ছাড়াও বন্ধকী দলিলের (১৮৮২ সনের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৯ ধারার অধীনকৃত) এবং ১৯৫০ সনের প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ১৯৬ এর অধীন। আদালতের মাধ্যমে বিক্রয় দলিলের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

(গ) উত্তরাধিকার সূত্রে অর্জিত সম্পত্তির বাটোয়ারা দলিল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার সম্পত্তিতে ওয়ারিশগণ মালিক হন। ওয়ারিশগণের মালিকানা এবং তাদের নিজ নিজ অংশ আপোস-বণ্টনের মাধ্যমে বণ্টনপূর্বক সুজিত বণ্টননামা দলিলটি বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রেশনের বিধান না থাকায় এসব সম্পত্তির হস্তান্তর সঠিক ও নির্ভরযোগ্য হয় না।

এ সুযোগে অনেক ক্ষেত্রে একই জমি প্রতারণামূলকভাবে একাধিকবার বিক্রয়, দান কিংবা অন্যভাবে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে, যার ফলশ্রুতিতে মামলা-মোকদ্দমার উদ্ভব হয়। এ অবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে Registration Act-এর section 17 ( 1 ) সংশোধনক্রমে ওয়ারিশগণের মধ্যে সম্পাদিত আপোস-বণ্টননামা দলিল বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রেশন করার বিধান করা হয়েছে।

(ঘ) বায়না চুক্তির রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা- স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য প্রায়শ ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে বায়নাপত্র সম্পাদিত হয়ে থাকে যা বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রেশন করার কোন বিধান প্রচিলত আইনে নেই। বায়নাপত্রের রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির নির্ভরযোগ্য রেকর্ডও থাকে না।

ফলে অনেক ক্ষেত্রেই একই সম্পত্তি সংক্রান্ত একাধিক বায়নাপত্র তৈরি থেকে শুরু করে পেছনের তরিখ (back date) দিয়ে বায়নাপত্র সৃজন করা ইত্যাদি প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এ অবস্থার সমাধানকল্পে Registration Act-এ দু’টি নতুন sections 17A এবং 78A অন্তর্ভুক্ত করে বায়নাপত্র বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশনের ও নির্দিষ্ট ফি প্রদানের বিধান করা হয়েছে।

সুতরাং ধারা 17A অনুযায়ী অন্য কোন আইনে যা কিছু থাকুক না কেন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয়ের বায়নাপত্র লিখিত ও রেজিস্ট্রি হতে হবে এবং উক্ত বায়না সম্পাদনের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে তা রেজিস্ট্রেশনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে এবং দলিলাদি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিধানাবলী উক্ত বায়না রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। নতুন ধারা 17B অনুযায়ী সংশোধিত বিধান কার্যকর (তথা ২০০৫ সনের ১ জুলাইয়ের পূর্বে) হওয়ার পূর্বে যেক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের বায়নাপত্র হয়েছিল কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হয়নি, সেক্ষেত্রে-

(ক) বায়নাভুক্ত জমির বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য এই আইন কার্যকর হওয়ার ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে উপস্থাপন করতে হবে; বা

(খ) উক্ত বায়নাপত্রটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য এই আইন কার্যকর হওয়ার ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে উপস্থাপন করতে হবে। উপরোক্ত বিধান মান্য না করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, অন্য আইনে তামাদি সংক্রান্ত যা কিছুই থাকুক না কেন, দফা (ক) ও (খ) তে উল্লিখিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে চুক্তি প্রবলের বা চুক্তি বাতিলের মামলা করতে পারবে। তর অন্যথা হলে চুক্তিটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত যে সকল বায়নার ভিত্তিতে ধারা ১৭ক বলবৎ হওয়ার পূর্বে দেওয়ানী আদালতে মামলা ইতোমধ্যে দায়ের হয়েছে সে সকল বায়না চুক্তির ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর বিধান প্রযোজ্য হবে না।

(ঙ) হস্তান্তর দলিল সংক্ষিপ্তকরণ- বিদ্যমান আইনে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে মালিকানার বিষয়টি নির্ভরযোগ্য, সুস্পষ্ট ও আস্থাভাজন করার লক্ষ্যে Registration Act-এর অধীন হস্তান্তর দলিলাদি নির্ধারিত ফরমেট (Format) এ সম্পাদন ও রেজিস্ট্রেশন করার বিধান সন্নিবেশের প্রয়োজন রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে Registration Act-এ নতুন section 220 সন্নিবেশ করা হয়েছে ।

(চ) রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা- বর্তমানে কোন স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হস্তান্তর দলিল সম্পাদনের পরবর্তী চার মাসের মধ্যে দলিল রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। বিগত শতাব্দীতে অর্জিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আর্থ- সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই সময়সীমা সংকুচিত করতঃ দলিল সম্পাদনের পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে উক্ত দলিলের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করে Registration Act -এ বিদ্যমান section 23 সংশোধন করা হয়েছে।

(ছ) রেজিস্ট্রেশনের পূর্বে সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক কতিপয় বিষয় নিশ্চিতকরণ- বিদ্যমান ব্যবস্থায় স্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তর রেজিস্ট্রেশন করা হলেও অনেক বিক্রেতা মালিকানা ও দখলহীন জমি বিক্রয় করে সহজ সরল ক্রেতা সাধারণকে প্রতারণা করে থাকেন। এরূপ প্রতারণা নিরসনের জন্য স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরে ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ স্বত্ব ও নির্ভেজাল দখলের বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রেজিস্ট্রেশনের পূর্বে সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক উক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত কতিপয় বিষয় নিশ্চিতকরণের বিধান প্রবর্তন করে Registration Act- এ নতুন section 52A সন্নিবেশ করা হয়েছে।

বিষয় The Transfer of Property (Amendment)

Act, 2004-এর বিধানের সার-সংক্ষেপ।

 

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন-এর সংশোধনী

১। অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকগণ প্রথমে জমি বিক্রয়ের বায়না করে পরবর্তীতে প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণের মাধ্যমে বেশী দামে অন্য তৃতীয় পক্ষের নিকট বায়নাকৃত জমি বিক্রয় করে লাভবান হয়। এ প্রতারণা রোধকল্পে নতুন বিধান 53B সন্নিবেশ করা হয়েছে। উক্ত বিধান অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই হতে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কোন বায়না করা হলে বায়না বলবৎ থাকাকালে উক্ত জমি অন্য কোন তৃতীয় পক্ষের নিকট বিক্রয় করা যাবে না। যদি বিক্রয় করা হয়, তাহলে উক্ত বিক্রয় বাতিল বলে গণ্য হবে।

২। বিদ্যমান আইনে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দাতার নামে খতিয়ান থাকার কোন আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। এক্ষেত্রে প্রতারণার সুযোগ হয়। এ সমস্যার নিরসনকল্পে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তির খতিয়ান দলিলদাতার নামে
থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ জন্য নতুন বিধান section 53C সংযোজন করে Transfer of Property Act-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে।

৩। অনেক ক্ষেত্রে জমি বন্ধক রেখে পরবর্তীতে প্রতারণামূলকভাবে উক্ত জমি তৃতীয় পক্ষের নিকট পুনঃবন্ধক বা বিক্রয় করা হয়। এতে বন্ধকদাতা লাভবান হয় এবং বন্ধকগ্রহীতা প্রতারণার স্বীকার হয়। এ সমস্যা নিরসনে নতুন বিধান 53D সন্নিবেশ করা হয়েছে। এ বিধানানুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক দেয়া হলে উক্ত সম্পত্তি বন্ধবগ্রহীতার সম্মতি ব্যতীত অন্য কোন তৃতীয় পক্ষের নিকট বিক্রয় করা বা বন্ধক দেয়া যাবে না। যদি বন্ধক দেয়া বা বিক্রয় করা হয় তবে উক্ত বিক্রয় বা বন্ধক বাতিল বলে গণ্য হবে।

৪। স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়, বন্ধক ও দানপত্র দলিলের সাথে স্বত্ত্ব সংক্রান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য কোন এফিডেভিট সংযুক্ত করার বাধ্যবাধকতা না থাকার কারণে স্বত্ব নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ সমস্যার নিরসনকল্পে নতুন বিধান 53E সন্নিবেশ করা হয়েছে। উক্ত বিধানানুযায়ী প্রত্যেক বিক্রয়, বন্ধক ও হেবা দলিলের সাথে দলিলদাতা কর্তৃক স্বত্ব সংক্রান্ত এফিডেভিট সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

৫। স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর সম্পর্কিত বায়নাপত্র (Contract for sale ) আইনগতভাবে কার্যকর করার বিধান Transfer of Property Act, 1882-তে বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু এরূপ বায়নাপত্র বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশনের কোন বিধান নেই। বায়নাপত্র রেজিস্ট্রিকৃত না হওয়ায় বিভিন্নরকম প্রতারণা ও জটিলতার সৃষ্টি হয়। একই কারণে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির নির্ভরযোগ্য রেকর্ডও থাকে না। এমতাবস্থায় এরূপ বায়নাপত্র বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রেশনের উদ্দেশ্যে Transfer of Property Act-এর section 54A সংযোজন করা হয়েছে।

৬। বিদ্যমান আইনে বন্ধকী দলিল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক না হওয়ার কারণে স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রেখে কোন ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ নিলে, উক্ত ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বন্ধকী দলিল মূলে কোন ঋণ প্রদান করার পর তা আদায় করার কোন আইনগত ও ফলপ্রসূ উপায় থাকে না। এমতাবস্থায়, বন্ধকী দলিল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করার জন্য Transfer of Property Act-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে।

৭। বিদ্যমান আইনে দান সংক্রান্ত বিধানাবলী (Chapter-VI OF GIFTS) মুসলিম আইনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সম্পাদিত হেবা দলিলের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে Registration Act-এর section 17 সংশোধন করা হয়েছে। উক্ত বিধানের সাথে সঙ্গতি সাধনের লক্ষ্যে Transfer of property Act-এর section 123 এবং 129-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে।

বিষয় The Specific Relief (Amendment) Act, 2004-এর বিধানের সার-সংক্ষেপ।

রেজিস্ট্রিবিহীন বায়না চুক্তি বলবৎ করার সুযোগ রহিতঃ প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৌখিক চুক্তি বা রেজিস্ট্রিবিহীন বায়নাপত্রের ভিত্তিতে দেওয়ানী আদালতে চুক্তি বলবৎকরণের মামলা করতে পারে। এরূপ মৌখিক বা অরেজিস্ট্রিকৃত বায়নার ভিত্তিতে চুক্তি প্রবলের মামলায় প্রতারণার আশায় গ্রহণ ও সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ সমস্যার সমাধানকল্পে Specific Relief Act 1877 সংশোধন করে একটি নতুন section 21A সন্নিবেশ করা হয়েছে। প্রবর্তিত নতুন বিধান অনুযায়ী চুক্তি প্রবলের মামলা আদালতে দায়েরের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত দুটি শর্ত প্রযোজ্য হবে, যথা

(ক) লিখিত এবং রেজিস্ট্রিকৃত বায়না ব্যতীত চুক্তি প্রবলের মামলা দায়ের করা যাবে না; এবং

(খ) বায়নার অবশিষ্ট টাকা আদালতে জমা না করলে মামলা দায়ের করা যাবে না।

তামাদি আইন-এর সংশোধনী

বিষয়: The Limitation (Amendment) Act, 2004-এর বিধানের সার-সংক্ষেপ।

তামাদি আইনে মামলা দায়ের সম্পর্কিত দীর্ঘ মেয়াদ হ্রাস বর্তমানে চুক্তি বলবৎকরণের জন্য তামাদি আইনের First Schedule এর Article 113-এর নির্ধারিত মেয়াদ হচ্ছে তিন বছর। প্রায় একশত বছর পূর্বে প্রণীত উক্ত আইনে যে প্রেক্ষাপটে তিন বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, আজকের প্রেক্ষাপট তা হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইতোমধ্যে যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোর প্রভূত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ হয়েছে।

বর্তমানে এ মেয়াদের অপব্যবহারের কারণে তৃতীয় ব্যক্তি বায়নাদাতার নিকট থেকে সংশ্লিষ্ট ভূমির ত্রুটিপূর্ণ স্বত্ব খরিদ করে প্রতারিত ও বিপন্ন হন। এ অবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে Limitation Act-এর First Schedule-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন করে চুক্তি প্রবলের ও চুক্তি রদের মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ তিন বছরের স্থলে এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

গোরস্থান, শ্মশানসহ ধর্মীয় স্থানের খাজনা ও ভূঃ উঃ কর মওকুফের আইন

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ গোরস্থান, শ্মশানসহ ধর্মীয় স্থানের খাজনা ও ভূঃ উঃ কর মওকুফের আইন

 

গোরস্থান, শ্মশানসহ ধর্মীয় স্থানের খাজনা ও ভূঃ উঃ কর মওকুফের আইন
গোরস্থান, শ্মশানসহ ধর্মীয় স্থানের খাজনা ও ভূঃ উঃ কর মওকুফের আইন

 

গোরস্থান, শ্মশানসহ ধর্মীয় স্থানের খাজনা ও ভূঃ উঃ কর মওকুফের আইন

স্টেট একুইজিশন এর টেন্যান্সী এ্যাক্টের ১৮বি অধ্যায়ের ১৫২এ ধারাটি গোরস্থান সহ ধর্মীয় স্থানের খাজনাদি মওকুফের আইন সংশ্লিষ্ট। উক্ত ধারার বিধানগুলো সংক্ষেপে নিম্নে প্রদান করা হলঃ

কোন মালিক বা অকৃষি প্রজার কোন ভূমিকা প্রধানত (Primerity) প্রার্থনার স্থান অথবা ধর্মীয় উপাসনালয়, সর্বসাধারণের গোরস্থান (Public graveyard) অথবা সর্বসাধারণের শ্মশান (Public Cremation ground) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তিনি উক্ত ভূমির জন্য নির্ধারিত ফরমে ডেপুটি কমিশনারের (জেলা প্রশাসকের) নিকট খাজনা মওকুফের জন্য আবেদন করতে পারেন। (১৫১এ ধারা)

(জেলা প্রশাসক) ডেপুটি কমিশনার দরখাস্তে বর্ণিত স্থান উল্লিখিত উপায়ে ব্যবহৃত হয় কিনা তা দরখাস্ত গ্রহণের তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় এনকোয়ারী করে নির্ণয় করবেন। (১৫১ এ (২) ধারা]

যদি দরখাস্তে বর্ণিত স্থান উল্লিখিত উপায়ে ব্যবহৃত হয় বলে ডেপুটি কমিশনারের (জেলা প্রশাসক) প্রত্যয় হয় তাহলে তিনি নির্ধারিত উপায়ে এরূপ ব্যবহৃত ভূমির পরিমাণ নির্ণয় করবেন এবং সেই পরিমাণ ভূমির খাজনা মওকুফের আদেশ পাশ করবেন এবং তিনি যদি সন্দিহান হন তাহলে দরখাস্তটি নাকচ করবেন। [১৫১ এ (৩)।

 

গোরস্থান, শ্মশানসহ ধর্মীয় স্থানের খাজনা ও ভূঃ উঃ কর মওকুফের আইন
গোরস্থান, শ্মশানসহ ধর্মীয় স্থানের খাজনা ও ভূঃ উঃ কর মওকুফের আইন

 

(৩) উপ-ধারা অনুযায়ী এরূপে নির্ণিত পরিমাণ ভূমি যদি কোন হোল্ডিং বা টেন্যান্সীর অংশ হয় তাহলে জেলা প্রশাসক এই অংশটুকু সংশ্লিষ্ট হোল্ডিং বা টেন্যান্সী হতে পৃথক করে স্বতন্ত্র খাজনা মুক্ত (Rent free) টেন্যান্সী (খতিয়ান) গঠন করবেন। [১৫১ এ (৪) ধারা]

যেখানে (৪) উপ-ধারা অনুযায়ী হোল্ডিং এর যে অংশ দ্বারা পৃথক খাজনা মুক্ত (Rent free) টেন্যান্সী বা প্রজাস্বত্ব (খতিয়ান) গঠন করা হয়েছে, জেলা প্রশাসক যে অংশ বাদ দিয়া হোল্ডিংটির অবশিষ্ট ভূমির খাজনা আনুপাতিক হারে হ্রাস করবেন। [১৫১ এ (৫)]

কোন ব্যক্তি (৩) উপ-ধারা মতে ডেপুটি কমিশনারের (জেলা প্রশাসক) আদেশে সংক্ষুব্ধ (Aggrieved) হলে তিনি উক্ত আদেশের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে বিভাগীয় কমিশনারের নিকট আপীল করতে পারে।৩১৫ এ (৬) ধারা)।

কোন ব্যক্তি (৬) উপ-ধারা অনুযায়ী কমিশনারের আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে উক্ত আদেশের তারিখ হতে ৬০ দিনের মধ্যে ভূমি প্রশাসক বোর্ডের নিকট উক্ত আদেশ রিভিশনের জন্য দরখাস্ত করতে পারেন (১৫১ এ (৬ এ) ধারা)।

(৭) উপ-ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে।

ভূমি প্রশাসক বোর্ড স্বউদ্যোগে যে কোন সময় বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসক কর্তৃক এই ধারায় পাশকৃত যে কোন আদেশকে রিডাইজ (Revise) করতে পারেন। (১৫১ এ (৮)]

খাজনা মওকুফের আদেশটি, আদেশ দানের তারিখের পরবর্তী কৃষি বৎসরের (বাংলা সন) প্রথম হইতে কার্যকরী বা শুরু হবে। [ ১৫১৩ (৯)।

 

গোরস্থান, শ্মশানসহ ধর্মীয় স্থানের খাজনা ও ভূঃ উঃ কর মওকুফের আইন
গোরস্থান, শ্মশানসহ ধর্মীয় স্থানের খাজনা ও ভূঃ উঃ কর মওকুফের আইন

 

সর্বসাধারণের (Public) প্রার্থনা বা উপাসনার স্থানের ব্যাখ্যাঃ

(ঐ) সর্বসাধারণের প্রার্থনা বা উপাসনার স্থান বলতে বুঝবে, যে স্থান বিশেষভাবে চিহ্নিত (Earmarked) স্থানীয়ভাবে সংরক্ষিত এবং নিয়মিতভাবে কোন বিশেষ ধর্মের বা বিশ্বাসের (Faith) অনুসারীগণের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত হয়, যথা— মসজিদ, জামাতখানা, ঈদগাহ, মন্দির, গীর্জা, মঠ, প্যাগোডা এবং এতদউদ্দেশ্যে ব্যবহৃত এদের প্রয়োজনীয় সংলগ্ন স্থান, কিন্তু সে সকল স্থান এর অন্তর্ভুক্ত নয় যে সকল স্থানে আর্থিক বেনিফিট আহরণের জন্য ব্যবহৃত হয়; এবং

(বি) ডেপুটি কমিশনার বলতে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (রাজস্ব) কেও বুঝাবে ।

ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফের আইন

দি ল্যাণ্ড ডেভেলপমেন্ট ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬, (অর্ডিন্যান্স/অধ্যাদেশ নং ৪২/১৯৭৬) যা পরবর্তীকালে ১৫/১৯৮২ নং অধ্যাদেশ মূলে সংশোধিত হয় এর ৩এ ধারা অনুযায়ী সরকার বা সরকার কর্তৃক এই উপলক্ষে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা লিখিত আদেশবলে এবং এরূপ শর্তাধীনে কিংবা তিনি এটি যেরূপভাবে বিশেষ করে উল্লেখ করবেন সে মতে সর্বসাধারণের (Public) গোরস্থান, শ্মশান অথবা জনসাধারণের প্রার্থনা কিংবা ধর্মীয় উপাসনার স্থানের, ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফ করে দিতে পারবেন ।

ব্যাখ্যাঃ সর্বসাধারণের প্রার্থনা অথবা ধর্মীয় উপাসনার স্থান স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্টের ১৫১ ধারায় বর্ণিত ব্যাখ্যার ন্যায়।

 

খাজনা (Rent) পুনঃধার্যকরণ

স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যাসী এ্যাক্ট-এর ১৫১বি ধারার (১) উপ-ধারার বিধান

মতে যে ভূমি ১৫১এ ধারা অনুযায়ী যে উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য খাজনা মওকুফ করা হয়েছিল পরবর্তীকালে সে উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হলে এর খাজনা (Rent) পুনঃধার্য করা হবে এবং ডেপুটি কমিশনার একই গ্রামে বা পার্শ্ববর্তী সমশ্রেণী এবং সম-সুবিধার ভূমির জন্য দেয় খাজনার হারের দিকে লক্ষ রেখে যা ন্যায় ও ন্যায্য (Fair and equitable) মনে করবেন সেভাবে খাজনা পুনঃধার্য করবেন।

শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণকে উক্ত বিষয়ে হাজির হয়ে শুনানীর জন্য কমপক্ষে ১৫ দিনের নোটিশ প্রদান ব্যতিত এরূপ খাজনা পুনঃধার্য করতে পারবেন না। (১৫১ বি (১) ধারা]

কোন ব্যক্তি ডেপুটি কমিশনারের উপরোক্ত আদেশে সংক্ষুব্ধ যে হলে তিনি আদেশের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে কমিশনারের নিকট আপীল করতে পারবেন।[১৫১ বি (২) উপ-ধারা]

কোন ব্যক্তি বিভাগীয় কমিশনারের আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে তিনি উক্ত আদেশের তারিখ হতে ৬০ দিনের মধ্যে ভূমি প্রশাসন বোর্ডের বরাবরে আদেশটি রিভিশনের জন্য দরখাস্ত করতে পারে এবং বোর্ডের আদেশই হবে চূড়ান্ত। | ১৫১৫ বি (২এ) উপ-ধারা]

(৩) উপ-ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে ।

এই ধারামতে পুনঃধার্য খাজনা, পুনঃধার্যের তারিখের পরে পরবর্তী কৃষি বৎসরের (বাংলা সন) প্রথম হতে পরিশোধযোগ্য। [১৫১ বি (৪) উপ-ধারা]

অর্পিত সম্পত্তি ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা

আজকে আমরা অর্পিত সম্পত্তি ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আলোচনা করবো

 

অর্পিত সম্পত্তি ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা

 

অর্পিত সম্পত্তি ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা

অর্পিত সম্পত্তির সংজ্ঞা :

পাকিস্তান প্রতিরক্ষা আইনের অধীনে প্রণীত পাকিস্তান প্রতিরক্ষা বিধি, ১৯৬৫ এর ১৮২ বিধি মোতাবেক তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান এলাকার যে সব নাগরিক ৬ই সেপ্টেম্বর, ১৯৬৫ তারিখে ভারতে অবস্থানরত ছিলেন বা ঐ তারিখ হতে ১৬ই ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৯ (জরুরী অবস্থা প্রত্যাহারের তারিখ) পর্যন্ত ভারতে গমন করেছেন তাদের যাবতীয় সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি বলে গণ্য হয় এবং তার ব্যবস্থাপনা উপ- তত্ত্ববধায়কের উপর ন্যস্ত করা হয়।

জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করার পর শত্রু সম্পত্তি সম্পর্কিত বিধানসমূহ বলবৎ রাখা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রেক্ষিতে এই অধ্যাদেশ বাতিল করে শত্রু সম্পত্তি, ১৯৭৪ জারী করা হয়। এই আইনের ৩ ধারা মোতাবেক যে সব শত্রু সম্পত্তি তত্ত্বাবধায়ক, উপ-তত্ত্বাবধায়কের উপর ন্যস্ত হয়েছিল, সে সম্পত্তি, সম্পূর্ণভাবে সরকারে বর্তায়। অতএব সাবেক শত্রু সম্পত্তি এখন সরকারে ‘অর্পিত সম্পত্তি’ বলে গণ্য হয়।

বাংলাদেশের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০১ অনুসারে ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ পর্যন্ত যেসব পাকিস্তানি নাগরিক পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে গিয়েছিলেন এবং তাঁদের স্থাবর সম্পত্তি যা পাকিস্তান আমলে ‘শত্রু সম্পত্তি’ ও বাংলাদেশ আমলে ‘অর্পিত সম্পত্তি’ নামে অভিহিত হয়েছিল, তা ফেরৎ পেতে পারেন। এই আইনের ২০০১ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবার এবং ২০১২ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধিত হয়।

 

সংশোধিত আইনের ৯ক ধারা অনুযায়ী সরকারী গেজেটে মৌজাভিত্তিক জেলাওয়ারি তালিকা প্রকাশের পর কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেকে অর্পিত সম্পত্তির দাবিদার মনে করলে, তার দাবির সমর্থনে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদিসহ সরকারি গেজেট প্রকাশের ৩০০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটির সভাপতি অথবা ট্রাইব্যুনালে উক্ত সম্পত্তি অবমুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের তফসিলে এমন বহু সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল যা কখনোই অ-র্পিত সম্পত্তি ছিল না। ফলে হাজার হাজার মানুষকে হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। সাধারণ মানুষের দাবির মুখে সরকার আইনের “খ” তফসিলটি বাতিল করে।

 

অর্পিত সম্পত্তি ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা

 

 

পরিত্যক্ত সম্পত্তি স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলাদেশে অনেক সম্পত্তি পরিত্যক্ত বলে চিহ্নিত হয়। এগুলির মালিকরা মুক্তিযুদ্ধের সময় নিহত হয় কিংবা বাংলাদেশ ত্যাগ করে এবং অনেকের কোন ঠিকানা জানা যায় না। এসব সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, নিষ্পত্তির ব্যবস্থার জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিত্যক্ত সম্পত্তি (নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও নিষ্পত্তি) আদেশ জারি করেন। এই আদেশের ২৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ৮ মে বাংলাদেশ পরিত্যক্ত সম্পত্তি (জমি, ভবন ও অন্যান্য সম্পত্তি) বিধিও জারি করেন।

এই আদেশের ২নং ধারার দফা (১) ক. ২৫ মার্চ, ১৯৭১ সালের পর যেকোন সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কিংবা সামরিক অভিযানে নিয়োজিত ছিল এমন কোন রাষ্ট্রের নাগরিকের সম্পত্তি; এবং খ. বাংলাদেশ শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা গ্রহণ আদেশের আওতায় ও নিয়ন্ত্রণে গৃহীত যেকোন সম্পত্তিসহ যে ব্যক্তি বাংলাদেশে উপস্থিত নেই কিংবা যার নিবাস-ঠিকানা ইত্যাদি অজ্ঞাত কিংবা যে ব্যক্তি আর তার সম্পত্তির দখলে নেই কিংবা তত্ত্বাবধানে নেই বা ব্যবস্থাপনাও করছে না এমন সকল সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

অকৃষিভূমির প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ অকৃষিভূমির প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

অকৃষিভূমির প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
অকৃষিভূমির প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

অকৃষিভূমির প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

দি নন-এগ্রিকালচারাল এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৪৯ (ইস্ট বেঙ্গল এ্যাক্ট-২৩/১৯৪৯) এর ২৪ ধারায় স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৫০-এর ৯৬ ধারার ন্যায় কোন কোন অকৃষি ভূমির জন্য অনুরূপ প্রি এমশনের অধিকার প্রদান করা হয়েছে।

(১৯৬৭ সনের অধ্যাদেশ ১০ এর বলে ২৪ ধারাকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে সংশোধন করা হয়েছে।)

২৪ ধারার (১) উপ-ধারাঃ যদি কোন অকৃষি ভূমির টেন্যান্টের বা প্রজার স্বত্ত্বাধীন অকৃষি ভূমির কোন খণ্ড বা অংশ হস্তান্তরিত হয় তবে এরূপ ভূমির এক বা একাধিক অংশীদার উক্ত এ্যাক্টের ২৩ ধারা মোতাবেক নোটিশ জারীর ৪ মাসের মধ্যে এবং যে ক্ষেত্রে কোন নোটিশ জারী হয় নেই সেই ক্ষেত্রে উক্ত হস্তান্তরের বিষয় অবগত হওয়ার তারিখ হতে ৪ মাসের মধ্যে এরূপ খণ্ড বা অংশ তার বা তাদের, অবস্থাভেদে, নিকট হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারেন।

(২) উপ-ধারাঃ (১) উপ-ধারাধীন পেশকৃত আবেদনটি বাতিল বা ডিস্মিস্ হয়ে যাবে যদি আবেদনকারীগণ এটি আদালতে পেশকালে এর সঙ্গে আবেদনকারীদের উপর ২৩ ধারা অনুযায়ী জারীকৃত নোটিশে হস্তান্তরিত সম্পত্তির খণ্ডের বা অংশের বর্ণিত পণের টাকা (Consideration money) অথবা মূল্য তৎসহ উক্ত টাকার উপর শতকরা পাঁচ ভাগ হারে ক্ষতিপূরণ জমা না দেন।”

(৩) উপ-ধারাঃ যদি এরূপ টাকা জমা প্রদান করা হয়, তবে আদালত, হস্তান্তরের তারিখের পরবর্তী সময়ের জন্য খাজনা পরিশোধ বা সম্পত্তির দায়-মুক্তি’ বাবদ কত ব্যয় করা হয়েছে এবং হস্তান্তরের তারিখ হতে নোটিশ জারীর তারিখ পর্যন্ত হস্তান্তরিত সম্পত্তির খণ্ডের বা অংশের বিল্ডিং বা কাঠামো নির্মাণ বাবদ অথবা অন্য কোন উন্নয়ন বাবদ আরও যদি কিছু ব্যয় করা হয়ে থাকে, এর বর্ণনা প্রদানের জন্য আদালত যেরূপ নির্ধারণ করবেন সেরূপ সময়ের মধ্যে হাজির হওয়ার জন্য হস্তান্তরগ্রহীতাকে নোটিশ প্রদান করবেন।

আদালত তখন (৪) উপ-ধারা অনুসারে কোন ব্যক্তি যার আবেদন মঞ্জুর হয়েছে তাকে-সহ আবেদনকারীকে এ সকল বাবদ হস্তাস্তরগ্রহীতা যা পরিশোধ অথবা ব্যয় করেছেন তা এবং তৎসহ যে তারিখে ইহা পরিশোধ বা ব্যয় করেছেন সেই তারিখ হতে এর উপর বার্ষিক শতকরা ৬১/২ ভাগ হারে সুদ, আদালত যা সঙ্গত মনে করেন, এরূপ সময়ের মধ্যে জমা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করবেন।

 

অকৃষিভূমির প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
অকৃষিভূমির প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

শর্ত থাকে যে, যদি কোন আবেদনকারী হস্তান্তরগ্রহীতার উক্ত বাবদ পরিশোধকৃত ও ব্যয়ের কোন হিসাবের সঠিকতা সম্পর্কে আপত্তি করেন তবে আদালত এরূপ আপত্তি অনুসন্ধান করবেন এবং হস্তান্তরগ্রহীতাকে তার বক্তব্য শুনানীর সুযোগ প্রদানান্তে এ সকল বাবদ হস্তান্তরগ্রহীতা কর্তৃক পরিশোধকৃত বা ব্যয়ের প্রকৃত টাকার হিসাব নির্ণয়

করবেন এবং পূর্বোক্ত মতে বার্ষিক শতকরা ৬ ভাগ হারে সুদসহ এরূপ নির্ধারিত 8 টাকা, আদালত যেরূপ সঙ্গত মনে করেন সেরূপ সময়ের মধ্যে জমা প্রদানের জন্য আবেদনকারীকে নির্দেশ প্রদান করবেন ।

(৪) উপ-ধারার (এ) অনুচ্ছেদ : যদি এক বা একাধিক সহ-অংশীদার টেন্যান্টগণ (১) উপ-ধারা মোতাবেক আবেদন করেন তবে হস্তান্তরগ্রহীতাদের মধ্যে যদি কেউ থাকেন তাকে-সহ অবশিষ্ট অংশীদারগণের যে কেউ পূর্বোক্ত উপ-ধারায় বর্ণিত ৪ মাসের সময়ের মধ্যে অথবা আবেদনের নোটিশ জারীর এক মাসের মধ্যে, যেটা পরে হবে উক্ত আবেদনে সামিল হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন এবং কোন সহ- অংশীদার (১) উপ-ধারা মতে আবেদন না করেন বা এই উপ-ধারা অনুযায়ী সামিল হওয়ার জন্য আবেদন না করেন তার এই ধারা অনুসারে আর ক্রয় করার অধিকার থাকবে না।

(বি) অনুচ্ছেদ : যুগ্ম আবেদনকারী হিসেবে যোগদানের এরূপ আবেদনটি ডিমিস্ হয়ে যাবে যদি আবেদনকারী (১) উপ-ধারাধীন দরখাস্তকারীকে পরিশোধের জন্য (২) উপ-ধারার নিমিত্তে তার কর্তৃক তার অংশ হিসাবে পরিশোধের জন্য আদালত যে অংকের টাকা নিরূপণ করবেন, তা, আদালত যে সময় নির্ধারণ করবেন সে সময়ের মধ্যে আদালতে জমা প্রদান না করেন।

(সি) অনুচ্ছেদঃ যদি এরূপ টাকা জমা প্রদান করা হয়, আদালত সামিল হওয়ার দরখাস্তখাটি মঞ্জুর করবেন এবং তৎপর হতে উক্ত আবেদনকারীকে (১) উপ-ধারা মোতাবেক আবেদনকারী হিসেবে গণ্য করা হবে।

(৫) উপ-ধারাঃ যদি (২) অথবা (৪) উপ-ধারার (বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ক্ষেত্র অনুযায়ী এবং (৩) উপ-ধারা মোতাবেক (টাকা) জমা প্রদান করা হয় তবে আদালত দরখাস্তখাটি অনুমোদনের আদেশ দিবেন এবং (২) ও (৩) উপ-ধারা অনুসারে জমাকৃত টাকা হস্তান্তরগ্রহীতাকে বা আদালত যাকে যোগ্য মনে করেন তাকে পরিশোধের জন্য নির্দেশ দিবেন।

(৬) উপ-ধারাঃ আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে অন্য কোনরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও যদি (১) উপ-ধারা অনুসারে আবেদনকারী অথবা যে কোন ব্যক্তি যার আবেদন (৪) উপ-ধারা অনুসারে মঞ্জুর করা হয়েছে, এরূপ আবেদনকারী ২৩ ধারা অনুসারে জারীকৃত নোটিশে বর্ণিত পণের টাকার (Consideration money) সঠিকতা সম্পর্কে আপত্তি তোলেন তবে আদালত (৫) উপ-ধারা অনুযায়ী আদেশ প্রদানের পূর্বে উক্ত আপত্তি সম্পর্কে অনুসন্ধান করবেন এবং হস্তান্তরহীতাকে শুনানীর সুযোগ প্রদানান্তে |

সম্পত্তির খণ্ড বা অংশ] হস্তান্তরের জন্য পণের টাকা বা হস্তান্তরগ্রহীতা প্রকৃত পক্ষে পরিশোধ করেছেন এই ধারার উদ্দেশ্যে নির্ণয় করবেন এবং এরূপ নির্ণিত অঙ্ক (২) উপ-ধারায় বর্ণিত পণের টাকা হিসাবে গণ্য হবে এবং যেখানে পণের মূল্যের টাকার অঙ্ক এরূপে নির্ণিত হয়েছে, সেই উপ-ধারা মোতাবেক জমা হয়েছে, সেটাই হবে (৫) উপ-ধারার নিমিত্তে এরূপ নির্ণিত টাকা তৎসহ এর উপর শতকরা ৫ ভাগ হারে ক্ষতিপূরণ।

 

অকৃষিভূমির প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
অকৃষিভূমির প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

(৭) উপ-ধারাঃ (৫) উপ-ধারা অনুসারে একাধিক সহ-অংশীদারদের পক্ষে আদেশ প্রদান কালে আদালত বিদ্যমান দখল বিবেচনায় খণ্ডে বা অংশে অন্তর্ভুক্ত হস্তান্তরিত সম্পত্তিটিকে আবেদনকারীগণের মধ্যে এরূপভাবে বিভক্ত করবেন যেন ন্যায়ভিত্তিক বলে বিবেচিত হয়; যে কোন আবেদনকারীর অনুরোধে আদালত সম্পত্তিটিকে বা এর খণ্ডটিকে এরূপভাবে বিভক্ত করবেন এবং অবশিষ্ট আবেদনকারীর মধ্যে সমবণ্টনের জন্য যদি আদালত প্রয়োজন মনে করেন এরূপ ক্ষেত্রে আদালত যে সময় নির্ধারণ করবেন সে সময়ের মধ্যে এরূপ অনুরোধকারী আবেদনকারীদেরকে আরও টাকা জমা প্রদানের জন্য আদেশ প্রদান করবে ।

শর্ত থাকে যে এই উপ-ধারা অনুসারে কোন বিভক্তির আদেশ টেন্যান্সীর (জোতের) বিভাগ বলে গণ্য হবে না ।

(৮) উপ-ধারাঃ (৫) উপ-ধারা অনুসারে আদেশ হওয়ার তারিখ হতে

(i) হস্তান্তরের ফলে হস্তান্তগ্রহীতার অকৃষি ভূমির অংশে বা খণ্ডে যে অধিকার, স্বত্ত্ব এবং স্বার্থ উদ্ভব হয়েছিল, (৭) উপ-ধারাধীন পাশকৃত কোন আদেশের সাপেক্ষে সকল দায় যাহা হস্তান্তরের তারিখ হতে উদ্ভূত হয়েছিল তা মুক্ত হয়ে সহ-অংশীদার টেন্যান্টের যার ক্রয় করার আবেদন (৫) উপ-ধারা মোতাবেক মঞ্জুর করা হয়েছে তার হাতে অর্পিত হবে

(ii) হস্তান্তরের ফলে খাজনা বাবদ হস্তান্তরগ্রহীতার দায় রহিত হবে, এবং

(iii) এরূপ আবেদনকারীর আরও আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাকে তার হস্তে অর্পিত সম্পত্তির দখলে বহাল করে দিতে পারেন।

(৯) উপ-ধারাঃ কোন আদালতের এই ধারা অনুসারে যে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপীল গ্রহণের এখতিয়ার আছে এরূপ দেওয়ানী আপীল আদালতে আপীল করা যাবে।

(১০) উপ-ধারা ঃ এই উপ-ধারায় এমন কিছুই নাই যা মুসলিম আইনে প্রদত্ত কোন ব্যক্তির প্রি এমশনের অধিকার হতে বঞ্চিত করতে পারে।

(১১) উপ-ধারাঃ এই ধারার কোন কিছুই প্রয়োগ করা যাবে না (নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে)-

(এ) অনুচ্ছেদ ঃ প্রজাস্বত্বের (Tenancy) কোন অংশীদার যার বর্তমানে স্বত্ব ক্রয়সূত্র ব্যতীত অন্যবিধ উপায়ে উদ্ভব হয়েছে এরূপ অংশীদারের নিকট ভূমি হস্তান্তর করা হলে, বা

(বি) অনুচ্ছেদঃ বিনিময় বা বাটোয়ারাসূত্রে হস্তান্তর হলে, কিংবা

(সি) অনুচ্ছেদঃ উইলদাতা (Testator) বা দাতা (Donor) কর্তৃক তার স্বামী বা স্ত্রীকে অথবা কোন উইলদাতা বা দাতা কর্তৃক তার তিন ডিগ্রীর (তিন পুরুষ) মধ্যে কোন নিকটতম আত্মীয়কে দান (হেবাসহ কিন্তু আর্থিক বিনিময় হেবা বিল এওয়াজ ব্যতীত) হস্তান্তরিত হলে, অথবা

(ডি) অনুচ্ছেদঃ মুসলিম আইন অনুযায়ী গঠিত ওয়াফ, বা

(ই) অনুচ্ছেদঃ কোন ব্যক্তির জন্য আর্থিক সুবিধা সংরক্ষণ (Reservation) ব্যতীত কোন দেবোত্তর বা কোন ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত বা দান করা হলে।

ব্যাখ্যাঃ এই ধারার উদ্দেশ্য নিকট আত্মীয় (By Consanguinity) হিন্দু আইনে দত্তক পুত্রকেও বুঝাবে। ২৪ ধারার (১) উপ-ধারা হতে (১২) উপ-ধারা পর্যন্ত বিধি-বিধানগুলোর সংক্ষেপে নিম্নে প্রদান করা হল

 

অকৃষিভূমির প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
অকৃষিভূমির প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

প্রি এমশনের জন্য আবেদনের সময় সীমা

২৪ ধারার (১) উপ-ধারা বলা হয়েছে, যে কোন অকৃষি ভূমির খণ্ড বা অংশ হস্তান্তরিত হলে ইহার সহ-অংশীদারগণ ২৩ ধারা মোতাবেক নোটিশ জারীর ৪ মাসের মধ্যে অথবা নোটিশ জারী না হলে হস্তান্তরের বিষয় অবগত হওয়ার তারিখ হতে ৪ মাসের মধ্যে তাদের নিকট হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারবেন।

অকৃষি ভূমির প্রি এমশনের অধিকারী ব্যক্তি

উপরোক্ত (১) উপ-ধারা অনুযায়ী, হস্তান্তরিত অকৃষি ভূমির সহ-অংশীদারগণ প্রি- এমশনের অধিকার পাওয়ার যোগ্য। কৃষি ভূমির ন্যায় লাগ ভূমির মালিকগণ প্রি- এমশনের অধিকার পাওয়ার যোগ্য নন।

দরখাস্ত ও পণ মূল্য জমা প্রদানের বিধান

(২) উপ-ধারায় বলা হয়েছে যে, ২৩ ধারার নোটিসে উল্লেখিত পণের টাকা (Consideration money) অথবা মূল্য এবং ইহার উপর অকৃষি ভূমির জন্য ১৫% কৃষি জমির জন্য ২৫% এবং শতকরা ৮ ভাগ হারে ক্ষতিপূরণ দরখাস্তের সঙ্গে আদালতে জমা প্রদান না করলে (১) উপ-ধারা মোতাবেক প্রি এমশনের আবেদনটি পরিশেষে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং মামলাটি ডিসমিস হয়ে যাবে।

 

ভূমি বাবদ ব্যয়ের টাকা জমা প্রদান এবং তার সঠিকতা প্রসঙ্গে

(৩) উপ-ধারায় বলা হয়েছে যে, টাকা জমা প্রদানের পর আদালত ভূমি হস্তান্তরের তারিখ হতে হস্তান্তরগ্রহীতা, খাজনা পরিশোধ অথবা এর দায়মুক্তি বাবদ কত টাকা ব্যয় করেছেন এবং হস্তান্তরের তারিখ হতে আবেদনের নোটিশ জারীর তারিখ পর্যন্ত এতে বিল্ডিং, কাঠামো ও অন্যান্য উন্নয়নের জন্য আরও কত ব্যয় করেছেন তার বিবরণ প্রদানের জন্য নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য হস্তান্তরগ্রহীতাকে নির্দেশ দিবেন। আদালত তখন হস্তান্তরগ্রহীতা কর্তৃক এ সকল বাবদ যা ব্যয় করা হয়েছে এবং উক্ত ব্যয়ের তারিখ হতে এর উপর বার্ষিক শতকরা সোয়া ছয় ভাগ হারে সুদসহ সাকুল্য টাকা নির্ধারিত তারিখে জমা প্রদানের জন্য সকল আবেদনকারীগণকে নির্দেশ দিবেন ।

(৪) উপ-ধারা (এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এক বা একাধিক সহ-অংশীদার (১) উপ- ধারা মোতাবেক আবেদন করলে হস্তান্তরগ্রহীতাদের মধ্যে যদি কেউ থাকে তাকেসহ অবশিষ্ট সহ-অংশীদার টেন্যান্টগণকে (১) উপ-ধারা মোতাবেক ৪ মাসের মধ্যে অথবা দরখাস্তের নোটিশ জারীর ১ মাসের মধ্যে যে সময়টি পরে হবে, উক্ত দরখাস্তে শরীক হওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। যে সহ-অংশীদার (১) উপ-ধারা বা (৪) উপ-ধারা মোতাবেক সামিল হওয়ার জন্য দরখাস্ত করেননি তাদের এই ধারা অনুসারে ক্রয় করার আর অধিকার থাকবে না অর্থাৎ তাদের আর প্রি এমশনের অধিকার থাকবে না।

(বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী (১) উপ-ধারাধীন আবেদনকারীগণকে প্রদানের জন্য আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত টাকা জমা প্রদান না করলে সামিল হওয়ার জন্য দরখাস্তখানা বাতিল হয়ে যাবে।

(সি) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, এই টাকা জমা প্রদানের পর আদালত উক্ত আবেদনকারীগণের আবেদন মঞ্জুর করবেন এবং তাদেরকে (১) উপ-ধারা অনুসারে আবেদনকারী হিসাবে গণ্য করা হবে।

(৫) উপ-ধারা বলা হয়েছে, (২) উপ-ধারা অথবা (৪) উপ-ধারার (বি) অনুচ্ছেদ এবং (৩) উপ-ধারা মোতাবেক টাকা জমা হলে আদালত (২) ও (৩) উপ-ধারা মোতাবেক জমাকৃত টাকা হস্তান্তরগ্রহীতা বা অন্য কোন উপযুক্ত ব্যক্তিকে প্রদানের জন্য নির্দেশ দিবেন ।

(৬) উপ-ধারা বলা হয়েছে, যদি কোন আবেদনকারী ২৩ ধারার নোটিশে উল্লিখিত পণের টাকার সঠিকতা সম্পর্কে কোন আপত্তি তোলেন তাহলে আদালত অনুসন্ধান করবেন এবং (৫) উপ-ধারা মোতাবেক আদেশ প্রদানের পূর্বে হস্তান্তরগ্রহীতা কর্তৃক পণের টাকা প্রকৃতপক্ষে কত পরিশোধ করা হয়েছে তা নির্ণয় করবেন এবং এটাই হবে (২) উপ ধারা মোতাবেক পণের টাকা। এরূপে নির্ণিত ও জমাকৃত টাকা এবং এর উপর শতকরা ৫ ভাগ হারে ক্ষতিপূরণসহ হবে (৫) উপ-ধারা মোতাবেক ।

(৭) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, একাধিক সহ-অংশীদারদের পক্ষে আদেশ প্রদানকালে আদালত বিদ্যমান দখল বিবেচনা করে সম্পত্তিটিকে এমনভাবে আবেদনকারীদের মধ্যে ভাগ করবেন যা ন্যায়ভিত্তিক বলে বিবেচিত হবে, এক্ষেত্রে অবশিষ্ট আবেদনকারীদের মধ্যে সমবণ্টনের জন্য আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে আরও টাকা কম প্রদানের জন্য আদেশ দিতে পারেন।

শর্ত হলো যে, এই ধারা মোতাবেক কোন বিভক্তির আদেশ টেন্যান্সীর বিভাগ হিসেবে কার্যকরী হবে না।

(৮) উপ-ধারায় বলা হয়েছে যে, (৫) উপ-ধারা মোতাবেক আদেশ হওয়ার পর (i) অকৃষি ভূমিতে হস্তান্তরগ্রহীতার যে অধিকার, স্বত্ত্ব ও স্বার্থ উদ্ভব হয়েছিল (৭) উপ- ধারাধীন পাশকৃত কোন আদেশের সাপেক্ষে তা সকল দায়মুক্ত হয়ে আবেদনকারীদের হাতে ন্যস্ত হবে, (ii) হস্তান্তরগ্রহীতার খাজনা বাবদ দায়-দায়িত্ব রহিত হয়ে যাবে, এবং (ii) আরও আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এরূপ আবেদনকারীকে সম্পত্তির দখলে বহাল করে দিতে পারেন।

(৯) উপ-ধারায় বলা হয়েছে যে, এই ধারায় আদালতের যে কোন আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানী আপীল আদালতে আপীল করা যাবে।

(১০) উপ-ধারায় বলা হয়েছে যে, এই ধারা কোন বিধি মুসলিম আইনে কারও প্রাপ্য প্রি এমশনের অধিকার হইতে বঞ্চিত করতে পারবে না।

(১১) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, নিম্নলিখিত এই ধারার কোন বিধি-বিধান প্রয়োগ করা যাবে না। ((১১) উপ-ধারার (এ) হতে (ই) পর্যন্ত দেখুন)

অকৃষি ভূমি বিক্রির বিধান

আজকে আমরা আলোচনা করবো অকৃষি ভূমি বিক্রির বিধান সম্পর্কে

 

অকৃষি ভূমি বিক্রির বিধান
অকৃষি ভূমি বিক্রির বিধান

 

অকৃষি ভূমি বিক্রির বিধান

দি নন-এগ্রিকালচারাল টেনান্সি এ্যাক্ট, ১৯৪৯ (ইস্ট বেঙ্গল এ্যাক্ট ২৩/১৯৪৯) এর ২৩ ধারার (১) উপ-ধারা অনুযায়ী, (ক) উইল (Bequest) (খ) আদালতের ডিক্রী এবং (গ) “পাবলিক ডিমাণ্ড রিকভারী এ্যাক্ট অনুসারে সার্টিফিকেট কার্যকরী করার জন্য বিক্রী” ব্যতিত অন্য যে কোন প্রকারের হস্তান্তর রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে হতে হবে ।

২৩ ধারার (১) উপ-ধারা উইল (Bequest) আদালতের ডিক্রী বা বেঙ্গল পাবলিক ডিমাণ্ড রিকভারী এ্যাক্ট অনুসারে সার্টিফিকেট কার্যকরী (বলবৎ) করার জন্য বিক্রি ব্যতীত অকৃষি টেন্যান্টের অকৃষি ভূমির যে কোনরূপ হস্তান্তর রেজিস্ট্রিকৃত দলিল মূলে করতে হবে এবং দলিলে বিক্রি মূল্য অথবা যেখানে বিক্রি মূল্য নেই সেখানে ভূমি খণ্ড বা এর অংশের মূল্য উল্লেখ না থাকলে রেজিস্ট্রি অফিসার রেজিস্ট্রির জন্য এটি গ্রহণ করবেন না এবং যদি এর সাথে প্রদান করা না হয় –

(এ) অনুচ্ছেদঃ ভূমির মালিক (খাজনা গ্রহীতা) যিনি হস্তান্তরের কোন পক্ষ নন তার উপর জারীর জন্য নির্ধারিত প্রসেস ফিসহ নির্ধারিত ফরমে হস্তান্তরের বিবরণাদি সম্বলিত একটি নোটিস, এবং

(বি) অনুচ্ছেদঃ উপ-ধারার প্রয়োজনে এরূপ নোটিশ এবং প্রসেস ফি।

 

অকৃষি ভূমি বিক্রির বিধান
অকৃষি ভূমি বিক্রির বিধান

 

 

(২) উপ-ধারাঃ এরূপ ভূমি, খণ্ড বা এর অংশ উইলের (Bequest) ক্ষেত্রে দরখাস্তকারী অনুরূপ নোটিশ পেশ এবং (১) উপ-ধারার (এ) অনুচ্ছেদ বর্ণিত অনুরূপ টাকার প্রসেস ফি জমা না দিলে আদালত প্রবেট বা লেটার অব এডমিনিষ্ট্রেশন মঞ্জুর বা গ্রান্ট করবেন না।

(৩) উপ-ধরা: ক্রেতা অথবা মর্গেজী, অবস্থাভেদে, অনুরূপ নোটিশ পেশ এবং (১) উপ-ধারায় বর্ণিত সমপরিমাণের টাকার প্রসেস ফি জমা প্রদান না করা পর্যন্ত আদালত অথবা রেভেনিউ অফিসার কোন ডিক্রী বা ১৯১৩ সনের বেঙ্গল পাবলিক ডিমাণ্ড রিকভারী এ্যাক্ট-এর সার্টিফিকেট কার্যকরী করার জন্য কোন ভূমি, খণ্ড বা এর অংশের বিক্রি বহাল (Confirm) করবেন না এবং কোন আদালত এরূপ ভূমি, খণ্ড বা এর অংশ “বন্ধক সম্পত্তি উদ্ধারের অধিকার রহিতকরণের” (Decree or order absolute for foreclosure) জন্য কোন ডিক্রী বা আদেশ করবেন না।

(৪) উপ-ধারাঃ এরূপ ভূমির কোন খণ্ড বা অংশের হস্তান্তর যদি এমন হয় যাতে ২৪ ধারার বিধানগুলো প্রয়োগ হবে, তাহলে এই ভূমির সকল অংশীদারগণ যারা হস্তান্তরের কোন পক্ষ বা পার্টি নন তাদের উপর নোটিশ জারীর জন্য প্রসেস ফি সহ নির্ধারিত ফরমে ভূমির বিবরণ প্রদান করে নোটিশ পেশ করতে হবে।

(৫) উপ-ধারাঃ আদালত, রেভেনিউ অফিসার অথবা রেজিস্টারিং অফিসার, ক্ষেত্র অনুযায়ী, পূর্বোক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত নোটিশগুলো নির্ধারিত পদ্ধতিতে জারী করবেন।

 

শর্ত হলো যে, এরূপ নোটিশ জারী ভূমির মালিক (Land Lord) অথবা কোন সহ-অংশীদার টেন্যান্ট, যাদের উপর এরূপ নোটিশ জারী হয়েছে তাদের কর্তৃক খাজনার পরিমাণ অথবা ভূমির পরিমাণের স্বীকৃতি হিসেবে কার্যকর হবে না কিংবা ল্যাণ্ডলর্ড বা সহ-অংশীদারের টেন্যান্সী বিভাগের ব্যক্ত সম্মতি হিসেবে গণ্য হবে না বা এর প্রেক্ষিতে পরিশোধযোগ্য খাজনার বণ্টন হিসাবে গণ্য হবে না ।

আরও শর্ত হলো যে, ল্যান্ডলর্ড হিসেবে কোন পক্ষ নন এরূপ যে কোন মোকদ্দমা, আপীল অথবা অন্যান্য কার্যক্রমের মাধ্যমে কোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরবর্তীকালে হস্তান্তর বাতিল বা পরিবর্তিত হলে, যে কর্তৃপক্ষের নিকট সর্বপ্রথমে এই মোকদ্দমা অথবা কার্যক্রম দায়ের করা হয়েছিল সে কর্তৃপক্ষ ল্যাণ্ডলর্ডের নিকট এরূপ আদেশের অনুলিপি প্রেরণ করবেন।

হস্তান্তরিত অকৃষি ভূমির ব্যাখ্যা

অকৃষি ভূমি বলতে— ভূমি ও তদস্থিত বাড়ীঘর, দালান-কোঠাসহ যা ভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে হস্তান্তর করা হয়েছে, উভয়ের মূল্য এক বা একত্রে ধরা হয়েছে এবং অভিন্ন এরূপ প্রি-এমশনের অধিকার ভূমিসহ বাড়ীঘর অন্তর্ভুক্ত।

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 আজকের আলোচনার বিষয়ঃ কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

‘প্রি এমশন’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো, অন্যদের চেয়ে একজনের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্রয় করার অধিকার। ‘প্রি’ (Pre) অর্থ আগে এবং এমশন’ (emption) অর্থ ক্রয়।

মুসলিম আইনে প্রি এমশনকে’ ‘সাফা’ বলে।

‘প্রি এমশন’ শব্দের শাব্দিক অর্থ হল অগ্রক্রয়াধিকার”।

প্রি এমশনের সংজ্ঞাঃ

কোন ক্রেতা যে মূল্যে বিক্রীত ভূমি ক্রয় করেছেন সেই একই মূল্যে অন্য কোন ব্যক্তির উক্ত ভূমি ক্রয় করার অগ্রাধিকারকে প্রি এমশন (Pre- emption) বলে।

বেলীর (Baillie) মতে “কোন ক্রেতার কাছ হতে তার ক্রীত ভূমিখণ্ড সমমূল্য প্রদান করে দখল করার অধিকারকে প্রি এমশন বলে।

(ইস্ট বেঙ্গল এ্যাক্ট নং ২৮/১৯৫১) স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৫০- এর ৯৬ ধারায় কৃষি ভূমির প্রি এমশনের আইন রয়েছে।

 

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্টের ৯৬ ধারার (১) উপ-ধারা কোন রায়তের হোল্ডিং (খতিয়ান) এর কোন খণ্ড বা অংশ হস্তান্তরিত হলে উক্ত হোল্ডিং এর এক বা একাধিক সহ-অংশীদার টেন্যান্টগণ ৮৯ ধারা মোতাবেক নোটিস জারীর চার মাসের মধ্যে কিংবা যদি কোন নোটিস জারী না হয়ে থাকলে, হস্তান্তরের বিষয় অবগত হওয়ার তারিখ হতে চার মাসের মধ্যে তার বা তাদের কাছে উক্ত ভূমিখণ্ড বা অংশ হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারবেন এবং যদি কোন হোল্ডিং বা খণ্ড কিংবা কোন অংশ হস্তান্তরিত হয়ে থাকলে হস্তান্তরিত ভূমির চিহ্নিত (লাগ) ভূমির দখলকার মালিক বা মালিকগণ (টেন্যান্ট বা টেন্যান্টগণ) এরূপ হস্তান্তরের বিষয় আত হওয়ার তারিখ হতে চার মাসের মধ্যে তার বা তাদের কাছে উক্ত হোল্ডিং বা খণ্ড কিংবা অংশ হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারবেন।

শর্ত হলো যে, কোন সহ-অংশীদার টেন্যান্টের (মালিক) অথবা হস্তান্তরিত ভূমির লাগ ভূমির দখলকার টেন্যান্টের (মালিক) এই ধারাবলে ক্রয় করার অধিকার থাকবে না। যদি না তিনি এমন ব্যক্তি হন যার নিকট হোল্ডিং বা এর খণ্ড কিংবা অংশ, অবস্থাভেদে যেরূপ হবে ৯০ ধারা মোতাবেক হস্তান্তর করা যেতে পারে।

(এখানে উল্লেখ্য, স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেনান্সি এ্যাক্টের ১০ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি তার পরিবারের সদস্যসহ সর্বমোট ৩৭৫ ট্যাণ্ডার্ড বিঘার অতিরিক্ত ভূমি ক্রয় অথবা অন্যবিধ উপায়ে অর্জন করতে পারতেন না। কিন্তু ১৯৭২ সনের প্রেসিডেন্টের আদেশ নং ৯৮-৭২ বলে উক্ত ৩৭৫ বিঘার সর্বোচ্চ সীমাকে ১০০ বিঘায়, পরে অধ্যাদেশ ১০/১৯৮৪ বলে কৃষি ভূমির সর্বোচ্চ সীমা ৬০ বিঘায় হ্রাস করা হয়। সুতরাং ১৪-৪-৮৪ তারিখ হতে কোন মালিক, পরিবার অথবা সংস্থা উল্লিখিত সর্বোচ্চ সীমা ৬০ বিঘার অতিরিক্ত কৃষি ভূমি ক্রয়সহ অন্যবিধ উপায়ে অর্জন বা দখল করতে পারবে না। মালিক, পরিবার ও সংস্থার সংজ্ঞা ৩৫-৩৭ পৃষ্ঠার সংজ্ঞা অনুযায়ী এবং ভূমির সিলিং ৪৯-৫৫ পৃষ্ঠা।

 

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

৯৬ ধারা (২) উপ-ধারাঃ একজন সহ-অংশীদার টেন্যান্ট বা সহ-অংশীদার টেন্যান্টগণ কর্তৃক (১) উপ-ধারা মোতাবেক দায়েরকৃত দরখাস্তে হোল্ডিং এর অন্য সব সহ-অংশীদার টেন্যান্টগণকে এবং হস্তান্তরগ্রহীতাকে পক্ষ করতে হবে এবং হস্তান্তরিত ভূমির সহ্নিহিত (লাগ) ভূমির দখলকার টেন্যান্ট কর্তৃক এরূপ আবেদনে হস্তান্তরিত হোল্ডিং-এর সকল সহ-অংশীদার এবং হস্তান্তরিত ভূমির লাগ ভূমির দখলকার সব টেন্যান্টগণকে এবং গ্রহীতাকে পক্ষ করতে হবে।

(৩) উপ-ধারা (এ) অনুচ্ছেদ :(১) উপ-ধারা অনুসারে পেশকৃত দরখাস্তটি বাতিল (Dismiss) হয়ে যাবে যদি দরখাস্তকারী বা দরখাস্তকারীগণ এটি পেশ করার সময় হস্তান্তরিত হোল্ডিং অথবা হোল্ডিং-এর খণ্ড বা অংশের হস্তান্তরের দলিলে অথবা ৮১ ধারা অনুযায়ী নোটিসে অবস্থাভেদে যেরূপ হবে উল্লিখিত পণের টাকা (Consideration money) কিংবা মূল্য তৎসহ এরূপ টাকার শতকরা ১০ ভাগ হারে ক্ষতিপূরণ আদালতে জমা প্রদান না করেন ।

(বি) অনুচ্ছেদ : এরূপ জমাসহ দরখাস্ত গ্রহণের পর আদালত হস্তান্তরগ্রহীতা এবং (২) উপ-ধারা অনুসারে এতে পক্ষভুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিগণকে, আদালত যে সময় নির্ধারণ করবেন সে সময়ের মধ্যে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দেবেন এবং হস্তান্তর বাবদ যে পণের টাকা (Consideration money) কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করা হয়েছে তা বলার জন্য এরূপ ব্যক্তিকে তলব করবেন এবং হস্তান্তরের তারিখ হতে খাজনা বাবদ তিনি আরও কত টাকা পরিশোধ করেছেন এবং হস্তান্তরিত হোল্ডিং বা খণ্ডের বা অংশের “দায় মুক্ত” করতে কিংবা কোন উন্নয়ন বাবদ কি খরচাদি করেছেন তার বিবরণ প্রদানের জন্য হস্তান্তরগ্রহীতাকে তলব করবেন এবং আদালত তখন, সকল পক্ষসমূহকে শুনানীর জন্য সুযোগ প্রদানান্তে প্রকৃত পণের টাকা (Consideration money)।

খাজনা পরিশোধ এবং হস্তান্তরিত ভূমির “দায় মুক্ত”, অথবা উন্নয়নের জন্য হস্তান্তরগ্রহীতার ব্যয় সম্পর্কে অনুসন্ধান (Enquiry) করবেন, আদালত যেমন সঙ্গত মনে করবেন সে সময়ের মধ্যে আরও টাকা যদি প্রয়োজনীয় হয় জমা প্রদানের জন্য আবেদনকারীকে অথবা আবেদনকারীগণকে নির্দেশ দেবেন।

শর্ত থাকে যে, হস্তান্তাহা দলিলে উল্লিখিত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত পণের টাকা কোন অবস্থাতেই দাবি করতে পারবেন না।

 

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

 

৪ উপ-ধারা (১) উপ-ধারা অনুসারে কোন দরখাস্ত পেশ করা হলে, হস্তান্তগ্রহীতা, তাদের মধ্যে যদি কেউ থাকেন, তাকে সহ যে কোন অবশিষ্ট সহ- অংশীদার টেন্যান্ট এবং হস্তান্তরিত ভূমির লাগ ভূমির দখলকার টেন্যান্টগণের (১) উপ- ধারায় উল্লিখিত সময়ের মধ্যে অথবা (৩) উপ-ধারা (বি) অনুচ্ছেদ অনুসারে দরখাস্তের নোটিস জারীর তারিখ হতে দুই মাসের মধ্যে যা আগে হবে, উক্ত দরখাস্তে শরীক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন, কোন সহ-অংশীদার অথবা হস্তান্তরিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির দখলকার টেন্যান্ট যিনি (১) উপ-ধারা অথবা এই উপ-ধারা মতে আবেদন করেন নাই, এই ধারা অনুসারে তাদের ক্রয় করার আর কোন অধিকার থাকবে না।

উপ-ধারা ৫ অনুচ্ছেদ (এ)ঃ (1) যদি কোন সহ-অংশীদার টেন্যান্ট যার স্বত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে উদ্ভব হয়েছে এবং (11) কোন সহ-অংশীদার টেন্যান্ট যার স্বত্ত্ব ক্রয়সূত্রে উদ্ভব হয়েছে এবং (III) হস্তান্তরিত ভূমির লাগ ভূমির দখলকার টেন্যান্ট, এই ধারা অনুসারে দরখাস্ত করেন এবং এর শর্তাবলী পালন করেন, তাহলে দরখাস্তকারী বা দরখাস্তকারীগণ এই ধারায় উপরোল্লিখিত ক্রমানুসারে ক্রয় করার অগ্রাধিকার পাবেন।

(বি) অনুচ্ছেদঃ যদি হস্তান্তরিত ভূমির লাগ ভূমির একাধিক দখলকার টেন্যান্ট এই ধারা অনুসারে দরখাস্ত করেন, আদালত এরূপ টেন্যান্টগণের মধ্যে ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবেন এই বিবেচনায়

(i) আবেদনকারী টেন্যান্টগণের প্রত্যেকের দখলে মোট ভূমির পরিমাণ,
(ii) টেন্যান্টের লাগ ভূমি বসতবাটির ভূমি বা অন্য শ্রেণীর ভূমি কিনা,
(ii) (Contiguity) সংলগ্নতার বিস্তৃতি,
(iv) দরখাস্তকারীর লাগ ভূমির দখল পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু, এবং
(v) দরখাস্তকারীর ব্যবহার্য অধিকার (Easement right) যদি কিছু থাকে।

(৬) উপ-ধারা (এ) অনুচ্ছেদঃ (৩) উপ-ধারা অনুসারে যে ‘সময়ের মধ্যে দরখাস্ত পেশ করা যেতে পারে সে ‘সময়’ অতিক্রান্ত হওয়ার পর আদালত এই ধারার শর্তাবলী অনুযায়ী স্থির করবেন (১) উপ-ধারা অথবা (৪) উপ-ধারা অনুসারে পেশকৃত দরখাস্তগুলোর মধ্যে কোনটা মঞ্জুর করবেন।

(বি) অনুচ্ছেদ : যদি আদালত দেখতে পান যে, এই ধারা অনুসারে পেশকৃত আবেদনগুলোর অনুমতির আদেশ একাধিক আবেদনকারীর অনুকূলে প্রদান করতে হবে, তাহলে আদালত এরূপ প্রত্যেক আবেদনকারী কর্তৃক যে পরিমাণ টাকা পরিশোধ করতে হবে তা নির্ধারণ করবেন এবং টাকা ন্যায্যভাবে ভাগ করার পর আদেশ দেবেন যে আবেদনকারী বা আবেদনকারীগণ যারা

(৪) উপ-ধারা অনুসারে মূল দরখাস্তে যোগদান করেছেন, আদালত যেরূপ সঙ্গত মনে করবেন সেরূপ সময়ের মধ্যে তার বা তাদের কর্তৃক পরিশোধযোগা টাকা জমা প্রদানের জন্য এবং এরূপ কোন আবেদনকারী কর্তৃক সে সময়ের মধ্যে যদি (টাকা) জমা প্রদান না করা হয় তাহলে তার আবেদন ডিসমিস হয়ে যাবে।

(৭) উপ-ধারার (এ) অনুচ্ছেদঃ (৬) উপ-ধারার (বি) অনুচ্ছেদ অনুসারে যে সময়ের মধ্যে জমা, যদি কিছু থাকে, প্রদান করতে হবে, সে সময় অতিক্রান্ত হলে, আদালত এই ধারা অনুসারে ক্রয় করার অধিকারী এবং এর শর্তাবলী পালন করেছেন এমন দরখাস্তকারী বা দরখাস্তকারীগণ কর্তৃক দরখাস্ত বা দরখাস্তগুলো অনুমোদনের আদেশ পাশ করবেন এবং যখন এরূপ আদেশ একাধিক দরখাস্তকারীর অনুকূলে পাশ করতে হয় তখন হোল্ডিংখানা বা হোল্ডিং এর খণ্ড বা অংশকে তাদের মধ্যে এরূপভাবে ভাগ করবেন যা আদালতের নিকট ন্যায় বলে গণ্য হয় এবং (১) নং উপ-ধারা অনুসারে দরখাস্তকারী বা দরখাস্তকারীগণ যদি কোন টাকা ফেরৎ পাওয়ার অধিকারী বলে দৃষ্ট হয়। তাহলে (৬) উপ-ধারা (বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দরখাস্তকারী বা দরখাস্তকারীগণ কর্তৃক প্রদত্ত জমার টাকা হতে ফেরৎ পাবেন।

 

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

(বি) অনুচ্ছেদঃ আদালত একই সময়, (৩) উপ-ধারা অনুসারে প্রদত্ত জমা হতে, হস্তান্তরের জন্য হস্তান্তরগ্রহীতা কর্তৃক পরিশোধিত পণের টাকা (Consideration money}, এরূপ টাকার উপর শতকরা ১০ ভাগ হারে ক্ষতিপূরণসহ হস্তান্তরের তারিখ হতে হস্তান্তরিত হোল্ডিং এর বা খণ্ডের কিংবা অংশের খাজনা বাবদ টাকা, যদি কিছু তার কর্তৃক পরিশোধ করা হয়ে থাকে এবং এরূপ হোল্ডিং বা খণ্ডের কিংবা অংশের দায়মুক্তি অথবা উন্নয়নের জন্য ব্যয়ের টাকা যদি কিছু তার কর্তৃক ব্যয় করা হয়ে থাকে তা হস্তান্তরগ্রহিতাকে পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ করে একটি আদেশ পাশ করবেন।

(৮) উপ-ধারা (৭) উপ-ধারা অনুসারে কোন বিভাগের আদেশ হোল্ডিং এর বিভাগ হিসাবে কার্যকরী হবে না।

(৯) উপ-ধারা (৭) উপ-ধারা অনুসারে আদেশ পাশ হওয়ার তারিখ হতে- (এ) অনুচ্ছেদ হস্তান্তরের ফলে হোল্ডিং বা খণ্ডের কিংবা অংশে হস্তান্তগ্রহীতার উদ্ধৃত অধিকার স্বত্ব, স্বার্থ উক্ত উপ-ধারা অনুসারে পাশকৃত যে কোন আদেশের সাপেক্ষে সকল দায় যা হস্তান্তরের তারিখের পরে সৃষ্ট হয়েছে তা মুক্ত হয়ে, অবস্থাভেদে সহ-অংশীদার টেন্যান্ট অথবা হস্তান্তরিত ভূমির লাগ ভূমির দখলকার টেন্যান্টগণের, যাদের ক্রয় করার দরখাস্ত (৭) উপ-ধারা অনুসারে অনুমোদিত হয়েছে তাদের হাতে অর্পিত হয়েছে বলে গণ্য হবে।

(বি) অনুচ্ছেদ হস্তান্তরাহীতার হোল্ডিং বা খণ্ডের কিংবা অংশের খাজনা বাবন “দায়” হস্তান্তরের তারিখ হতে রহিত হয়ে যাবে এবং সহ-অংশীদার টেন্যান্টগণ বা হস্তান্তরিত ভূমির দখলকার টেন্যান্টগণের মানের জয় করার দরখাস্ত এরূপে অনুমোদিত হয়েছে, তারা হস্তান্তরগ্রহীতার নিকট প্রাপ্য এরূপ যে কোন খাজনার জন্য দায়ী থাকবেন, এবং

(সি) অনুচ্ছেদঃ আদালত এরূপ দরখাস্তকারী বা দরখাস্তকারীগণের আরও আবেদনের ভিত্তিতে তার বা তাদের হস্তে নাস্ত সম্পত্তির দখলে তাকে বা তাদেরকে, অবস্থাভেদে বহাল করে দিতে পারেন।

(১০) উপ-ধারাঃ এই ধারার কোন কিছুই প্রয়োগ করা যাবে না-

(এ) অনুচ্ছেদেঃ খতিয়ান বা জোতের (Tenancy) কোন অংশীদার যার স্বত্ব ক্রয় সূত্র ব্যতিত অন্যবিধ উপায়ে উদ্ভব হয়েছে, এরূপ অংশীদারের নিকট ভূমি হস্তান্তর করা হলে, কিংবা

(বি) অনুচ্ছেদঃ বিনিময় বা বাটোয়ারা সূত্রে হস্তান্তরিত হলে; বা

(সি) অনুচ্ছেদঃ উইল দাতা (Testator) বা দাতা (Donar) কর্তৃক তার স্বামী বা স্ত্রীকে অথবা কোন উইল দাতা বা দাতা কর্তৃক তার তিন ডিগ্রীর (বা তিন পুরুষের) মধ্যে কোন পুরুষানুক্রমিক নিকটতম আত্মীয়কে দান বা হেবা মূলে (আর্থিক বিনিময় হেবা বিল এওয়াজ ব্যতীত) হস্তান্তরিত করলে; অথবা

(ডি) অনুচ্ছেদঃ সরল (Simple) অথবা সম্পূর্ণ খাইখালাসী মর্গেজ (Complete Usufructuary Mortgage) অথবা যতক্ষণ পর্যন্ত মর্গেজ মুক্ত করার অধিকার রহিতকরণের জন্য (Foreclosure) চূড়ান্ত আদেশ বা ডিক্রী করা না হয় অথবা কোন মর্গেজ দ্বারা শতাধীন বিক্রী করা হলে; কিংবা

(ই) অনুচ্ছেদঃ মুসলিম আইন (Mohammadan Law) অনুযায়ী গঠিত ওয়াকফ; বা

(এফ) অনুচ্ছেদঃ কোন ব্যক্তির জন্য আর্থিক সুবিধা সংরক্ষণ (Reservation) ব্যতিত কোন ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত বা দান করা হলে ।

 

কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)
কৃষিভূমি প্রি এমশনের আইন (অগ্রক্রয়াধিকার)

 

ব্যাখ্যাঃ এই ধারার উদ্দেশ্যে, নিকট আত্মীয় (By Consanguinity বা পুরুষানুক্রমিক নিকট আত্মীয়), হিন্দু আইনে দত্তক পুত্রকেও বুঝাবে ।

(১১) উপ-ধারাঃ এই ধারার কোন কিছুই মুসলিম আইনে প্রদত্ত কোন ব্যক্তির প্রি এমশনের অধিকার হতে তাকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

(১২) উপ-ধারাঃ এই ধারার অধীন যে কোন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল আদালতে আপীল করা যাবে এবং প্রচলিত কোন আইনে অন্য কিছু থাকা সত্ত্বেও প্রথম আপীলের আদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় আপীল করা যাবে না।
কৃষি ভূমির প্রি এমশনের ৯৬ ধারার (১) উপ-ধারা হতে (১২) উপ-ধারা পর্যন্ত বিধি ব্যবস্থার সার-সংক্ষেপ নিম্নে প্রদান করা হলো।

প্রি এমশনের অধিকার পাবার যোগ্যতা

৯৬ ধারা (১) উপ-ধারা অনুযায়ী, হস্তান্তরিত ভূমির খতিয়ান বা জোতের (হোল্ডিং) অপরাপর সহ-অংশীদারগণ এবং সহ-অংশীদারগণের মধ্যে কেউ দরখাস্তকারী না। থাকলে উক্ত হোল্ডিং এর লাগ ভূমির মালিকগণ প্রি এমশনের অধিকার পাবার যোগ্য ।

আদালতে আবেদনের সময় সীমা

হোল্ডিং এর সহ-অংশীদারের বেলায়— (ক) হস্তান্তরিত ভূমির হোল্ডিং এর বা খতিয়ানের সহ-অংশীদার বা সহ-অংশীদারগণের উপর রেজিস্ট্রি অফিস হতে স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেনান্সি এ্যাক্টের ৮৯ ধারা মোতাবেক নোটিশ জারী হওয়ার চার মাসের মধ্যে, অথবা

(খ) উপরোক্ত নোটিশ জারী না হয়ে থাকলে, ভূমি হস্তান্তর হওয়ার বিষয় অবগত হওয়ার বিষয় অবগত হওয়ার তারিখ হতে চার মাসের মধ্যে আদালতে প্রি এমশনের আবেদন করতে হবে।

হোল্ডিং এর লাগ ভূমির মালিকদের বেলায় — (গ) হস্তান্তরিত ভূমির লাগ ভূমির মালিকগণকে হস্তান্তরের বিষয় অবগত হওয়ার ৪ মাসের মধ্যে আদালতে প্রি এমশনের আবেদন করতে হবে।

পক্ষকরণ

৯৬ ধারায় (২) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, যদি হোল্ডিং এর সহ-অংশীদার বা সহ- অংশীদারগণ প্রি এমশনের জন্য ৯৬ ধারার (১) উপ-ধারা মোতাবেক দরখাস্ত করেন তাহলে হস্তান্তরগ্রহীতাসহ অবশিষ্ট সকল সহ-অংশীদার মালিকগণকে পার্টি করতে হবে এবং যদি লাগ ভূমির মালিকগণ দরখাস্ত করেন তাহলে হস্তান্তরগ্রহীতাসহ হোল্ডিং এর অবশিষ্ট সকল সহ-অংশীদার মালিকগণকে এবং লাগ ভূমির সকল মালিকগণকে পার্টি করতে হবে।

আদালতে ভূমির মূল্য জমা প্রদান প্রসঙ্গে

(৩) উপ-ধারা (এ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, দলিলে বা ৮৯ ধারা অনুযায়ী। জারীকৃত নোটিশে হস্তান্তরিত হোল্ডিং-এর কিংবা খণ্ডের বা অংশের উল্লিখিত মূল্য তৎসহ উক্ত টাকার উপর শতকরা ১০ ভাগ হারে ক্ষতিপূরণ আবেদনকারীগণ যদি দরখাস্তের সঙ্গে আদালতে জমা প্রদান না করেন তাহলে দরখাস্ত খারিজ হয়ে যাবে এবং (বি) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যে, আদালত ভূমির প্রকৃত পণের টাকা কত প্রদান করা হয়েছে এবং ভূমি হস্তান্তরের পর হতে খাজনা বাবদ আরও কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে ও ভূমিকে দায়মুক্ত এবং উন্নয়ন বাবদ কত টাকা ব্যয় করা হয়েছে তার বিবরণ প্রদানের জন্য আদালত হস্তান্তরগ্রহীতাসহ অন্যান্য ব্যক্তিগণকে নির্দেশ দিবেন।

আদালত হস্তান্তরগ্রহীতার বক্তব্য শ্রবণ সাপেক্ষে তার কর্তৃক এ সকল বাবদ প্রকৃত ব্যয় কত হয়েছে তা তদন্তের পর যদি প্রয়োজন হয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আরও টাকা জমা প্রদানের জন্য আবেদনকারীকে বা আবেদনকারীগণকে নির্দেশ দিবেন।

কিন্তু শর্ত হলো যে হস্তান্তরগ্রহীতা কোনমতেই দলিলে উল্লিখিত ভূমির মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্য দাবী করতে পারবেন না ।

 

অন্যান্য যোগ্য প্রার্থীদের প্রি এমশনের আবেদন সামিল হওয়ার সময় সীমা

৯৬ ধারার (৪) উপ-ধারায় বলা হয়েছে যে, (১) উপ-ধারা মতে দরখাস্ত করা হলে হস্তান্তরগ্রহীতার মধ্যে যদি কেউ থাকেন তাকে সহ হস্তান্তরিত হোল্ডিং এর অবশিষ্ট সহ- অংশীদার এবং লাগ ভূমির মালিকগণ (১) উপ-ধারার উল্লিখিত সময় (৪ মাস) অথবা (৩) উপ-ধারার (বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নোটিশ জারীর তারিখ হতে ২ মাসের মধ্যে, যা আগে হবে, উপরোক্ত (১) উপ-ধারা অনুসারে দরখাস্তে যোগদানের জন্য আবেদন করতে পারেন। তারা যদি (১) উপ-ধারা বা এই উপ-ধারা মতে আবেদন না করেন তাহলে তাদের এই ধারায় অর্থাৎ প্রি এমশনের অধিকার প্রয়োগ করে উক্ত ভূমি ক্রয় করার আর কোন অধিকার তাদের থাকবে না।

ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্যতা

(৫) উপ-ধারা (এ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, প্রি এমশনের অগ্রাধিকার পাওয়ার অধিকারীদের ক্রমিক অনুসারে উল্লেখ করা হয়েছে | পৃষ্ঠায় (1) হতে (11) দেখুন) এবং (বি) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, লাগ ভূমির একাধিক দরখাস্তকারী মালিকদের মধ্যে প্রি- এমশনের অধিকার বলে ভূমি ক্রয় করার দাবী, কে অগ্রগণ্য তা আদালত (বি) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত ৫টি অবস্থার দিকে লক্ষ রেখে স্থির করবেন।

পরে যোগদানকারীদের টাকা জমা প্রদান প্রসঙ্গে

(৬) উপ-ধারার (এ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যে সময়ের মধ্যে (৪) উপ-ধারা অনুসারে আবেদন করতে হবে সে সময় অতিক্রান্ত হলে আদালত (১) উপ-ধারা অথবা (৪) উপ-ধারার আবেদনসমূহের মধ্যে কোনটা অনুমোদন করবেন তা স্থির করবেন এবং (বি) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, যদি আদালত দেখতে পান, অনুমোদনের আদেশ একাধিক আবেদনকারীর অনুকূলে করতে হবে তবে প্রত্যেক আবেদনকারীকে কত টাকা দিতে হবে তা আদালত স্থির করবেন এবং যে সকল আবেদনকারী (৪) উপ-ধারা মোতাবেক দরখাস্ত করে মূল দরখাস্তে শরীক হয়েছেন তাদেরকে আদালতের নির্ধারিত তারিখে টাকা জমা দিতে নির্দেশ দিবেন। যদি উক্ত সময়ের মধ্যে টাকা জমা না দেওয়া হয় তাহলে তাদের দরখাস্ত বাতিল হয়ে যাবে

প্রি এমশনের বলে ক্রীত ভূমি ক্রেতাদের মধ্যে বণ্টন ও টাকা ফেরৎ প্রসঙ্গে

(৭) উপ-ধারা (এ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, (৬) উপ-ধারার (বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী টাকা জমা দেওয়ার সময় অতিক্রান্ত হলে দরখাস্তকারীদের মধ্যে যারা উক্ত ৯৬ ধারার বিধি-ব্যবস্থাসমূহ পালন করেছেন, আদালত তার বা তাদের দরখাস্ত বা দরখাস্তসমূহ মঞ্জুর করার আদেশ দিবেন। যদি আদেশ একাধিক দরখাস্তকারীর অনুকূলে প্রদান করতে হয় তাহলে আদালত (হোল্ডিংটি) তাদের মধ্যে এমনভাবে ভাগ করবেন যেন ন্যায়ভিত্তিক হয় এবং (১) উপ-ধারার আবেদনকারীগণ যদি আরও টাকা ফেরৎ পাওয়ার যোগ্য হন তাহলে তারা (৬) উপ-ধারার (বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জমাকৃত টাকা হতে উক্ত টাকা ফেরৎ পাবেন।

হস্তান্তরগ্রহীতাকে টাকা ফেরৎ প্রদান প্রসঙ্গে

(৭) উপ-ধারার (বি) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, হস্তান্তরগ্রহীতাকে (৩) উপ-ধারা অনুযায়ী জমাকৃত টাকা হতে শতকরা ১০ ভাগ হারে ক্ষতিপূরণসহ পণের টাকা এবং খাজনা, ভূমি উন্নয়ন ও দায় মুক্তি বাবদ বায়ের টাকা, যদি কিছু থাকে, তা পরিশোধ করতে হবে।

(৮) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, (৭) উপ-ধারা মোতাবেক কোন বিভক্তির আদেশ হোল্ডিং বিভাগের আদেশ হিসেবে কার্যকরী হবে না।

হস্তান্তরগ্রহীতার স্বত্বলোপ এবং প্রি এমশন বলে ক্রেতাদের স্বত্ব প্রসঙ্গে

(৯) উপ-ধারায় বলা হয়েছে যে, (৭) উপ-ধারা মোতাবেক আদেশ হওয়ার তারিখ হতে—

(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হোল্ডিং-এ হস্তান্তগ্রহীতার সকল অধিকার, স্বত্ব ও স্বার্থ লোপ হয়ে যাবে এবং (৭) উপ-ধারার কোন আদেশের সাপেক্ষে হস্তান্তরিত হোল্ডিং, খণ্ড বা অংশ দায়মুক্ত হয়ে সহ-অংশীদারগণের অথবা লাগ ভূমির মালিকগণের যাদের দরখাস্ত (৭) উপ-ধারা অনুযায়ী মঞ্জুর হয়েছে তাদের হস্তে ন্যস্ত হবে ।

(বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উক্ত তারিখ হতে হস্তান্তরগ্রহীতার জোতের দায় লোপ হয়ে যাবে এবং হস্তান্তরগ্রহীতার নিকট প্রাপ্য এরূপ যে কোন খাজনার জন্য সহ- অংশীদারগণ বা লাগ ভূমির মালিকগণ দায়ী থাকবেন।

(সি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আদালত আরও আবেদনের ভিত্তিতে তাদেরকে উক্ত অর্পিত সম্পত্তির দখলে বহাল করে দিতে পারবেন।

জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন

আজকে আমরা আলোচনা করবো জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে

 

জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন
জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন

 

জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন

কোন কোন ক্ষেত্রে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্ত হয়, তা স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্টের ৯২ ধারায় উল্লেখ আছে। রায়তের সংজ্ঞা স্টেট একুইজিশন এণ্ড টেন্যান্সী এ্যাক্ট, ১৯৫০ এর ৮২ (২) উপ-ধারা অনুযায়ী ‘রায়ত’ এর অর্থ হল কোন ব্যক্তি যিনি ৪৪ ধারাবলে বা অন্য উপায়ে প্রত্যক্ষভাবে সরকারের অধীনে ভূমি দখলের অধিকার অর্জন করেছেন প্রধানত তা নিজে অথবা পরিবারের সদস্যদের দ্বারা অথবা শরীক বা বর্গাদারদের দ্বারা বা চাষাবাদ করার উদ্দেশ্যে এবং উক্ত অধিকার অর্জনকারী ব্যক্তির উত্তরাধিকারীগণও তাতে অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।

সংক্ষেপে, কৃষিকার্যের জন্য যিনি ভূমি অর্জন বা দখল করেন তাকে রায়ত বলা হয়। অকৃষি ভূমির মালিককে রায়ত বলা হয় না, তাকে অকৃষি প্ৰজা বা নন- এগ্রিকালচারাল টেন্যান্ট বলা হয়।

সুতরাং শুধু রায়তের ভূমির ক্ষেত্রে উক্ত ৯২ ধারা প্রযোজ্য। অকৃষি প্ৰজা বা টেন্যান্টের ক্ষেত্রে উক্ত ৯২ ধারা প্রযোজ্য নয়। উল্লেখ্য একই ব্যক্তি তার কৃষি ভূমির জন্য রায়ত এবং তার অকৃষি ভূমির (যদি থাকে) জন্য অকৃষি প্রজা বা টেন্যান্ট বলে গণ্য হবেন। উক্ত ৯২ ধারা তার কৃষি ভূমির জন্য প্রযোজ্য হবে কিন্তু অকৃষি ভূমির জন্য প্রযোজ্য হবে না ।

৯২ (১) ধারা, কোন হোল্ডিং এর রায়তের স্বত্ব বিলুপ্ত হবে—

(এ) যখন তিনি যে উত্তরাধিকারী আইনের অধীন, সে উত্তরাধিকারী আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারযোগ্য কোন উত্তরাধিকারী না রেখে ইনটেস্টেট অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন,

(বি) যখন তিনি যে কোন কৃষিবর্ষের শেষে নির্ধারিত ফরমে এবং নির্ধারিত উপায়ে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেভেনিউ অফিসারের নিকট নোটিশ প্রদান পূর্বক তার হোল্ডিং/জোত সমৰ্পণ (Surrender) করেন,

(সি) যখন তিনি খাজনা (rent) প্রাপ্য হওয়ার পর তা পরিশোধের জন্য ব্যবস্থা না করে স্বেচ্ছায় বাসস্থান ত্যাগ করেন এবং তার হোল্ডিং নিজে বা পরিবারের সদস্যগণ দ্বারা অথবা ভৃত্য কিংবা শ্রমিকের দ্বারা বা সাহায্যে অথবা অংশগ্রহণকারীদের কিংবা বর্গাদারদের সাহায্যে পর পর তিন বৎসর যাবৎ চাষাবাদ করা হতে বিরত থাকেন,

(ডি) যখন কোন রায়তের স্বত্ত্ব, তিনি যে উত্তরাধিকারী আইনের অধীন সে উত্তরাধিকারী আইন অনুসারে এরূপ কোন ব্যক্তির উপর বর্তায় (devolved) য প্রকৃত চাষী নন এবং এরূপ ব্যক্তি নিজে বা পরিবারের সদস্যগণ দ্বারা অথবা ভৃত্য বা শ্রমিক দ্বারা বা সাহায্যে অথবা অংশীদারদের বা বর্গাদারদের সাহায্যে উক্ত স্বত্ত্ব, তার উপর বর্তানোর সময় হতে ৫ বৎসর সময়ের মধ্যে হোল্ডিংভুক্ত ভূমি চাষাবাদ না করেন এবং তিনি কেন উক্ত ভূমি চাষাবাদ করেননি তার কোন যথেষ্ট কারণ বিদ্যমান না থাকে।

 

জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন
জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন

 

(২) উপ-ধারাঃ যখন কোন রায়তের কোন হোল্ডিং এর স্বত্ব (১) উপ-ধারাধীন বিলুপ্ত হবে তখন রেভেনিউ অফিসার হোল্ডিংটিতে প্রবেশের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন এবং হোল্ডিং এ রেভেনিউ অফিসারের এরূপ প্রবেশ করার তারিখ হতে উক্ত উপ-ধারার (এ) ক্লজ মোতাবেক স্বত্ব বিলুপ্ত হোল্ডিং এর দায়-দায়িত্ব ব্যতিত অন্যান্য হোল্ডিং এর সকল দায়-দায়িত্বমুক্ত হয়ে চূড়ান্তভাবে সরকারের বরাবরে ন্যস্ত (vest) হবে কিন্তু উক্ত উপ-ধারাধীন (বি), সি এবং (ডি) ক্লজসমূহ মোতাবেক যাদের হোল্ডিং এর স্বত্ত্ব বিলুপ্ত হয়েছে এরূপ হোল্ডিং দায়বদ্ধ করে গৃহীত টাকার জন্য তারা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

(৩) উপ-ধারাঃ (২) উপ-ধারা মোতাবেক হোল্ডিং-এ প্রবেশের পূর্বে রেভিনিউ অফিসার হোল্ডিংটিতে এরূপ প্রবেশ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে নির্ধারিত পদ্ধতিতে একটি নোটিশ প্রচার করবেন এবং তাতে কারণগুলো বর্ণনা করে উক্ত হোল্ডিং-এর স্বত্বাধিকারী সকল ব্যক্তিদের নিকট হতে আপত্তি আহ্বান করে এবং নোটিশে উল্লিখিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার বরাবরে পেশকৃত আপত্তিসমূহ বিবেচনা করবেন এবং তার সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করবেন।

(৪) উপ-ধারাঃ (১) উপ-ধারার (ঘ) ক্লজ মোতাবেক কোন রায়তের হোল্ডিং এ তার স্বত্ব বিলুপ্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তিতে (৩) উপ-ধারা মোতাবেক রেভেনিউ অফিসার কর্তৃক পাশকৃত কোন আদেশে কোন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হলে আদেশের বিরুদ্ধে ১৪৭ ধারা মোতাবেক আপীল দায়েরের পরিবর্তে দেওয়ানী আদালতে মামলা রুজু করতে পারেন। এ সময় প্রচলিত অন্য কোন আইনে যাই থাকুক না কেন (৩) উপ- ধারাধীন রেভিনিউ অফিসারের আদেশের তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে এরূপ মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

 

জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন
জোতে রায়তের স্বত্ব বিলুপ্তি সংক্রান্ত আইন

 

(৫) উপ-ধারাঃ (১) উপ-ধারাধীনে যে রায়তের হোল্ডিং-এর স্বত্ব বিলুপ্ত হয়েছে তার নিকট হোল্ডিং বাবদ প্রাপ্য যাবতীয় বকেয়া খাজনা অনাদায়যোগ্য বলে গণ্য করা হবে।

সংক্ষেপেঃ ৯২ ধারা অনুযায়ী কোন রায়তের হোল্ডিং এর স্বত্ত্ব থাকবে না (এ) যখন তিনি উত্তরাধিকারী বিহীন অবস্থায় উইল না করে (Intestate) পরলোকগমন করেন।

(বি) যখন তিনি কোন কৃষিবর্ষের শেষে নির্ধারিত রেভেনিউ অফিসারের নিকট নোটিস প্রদানপূর্বক তার হোল্ডিং সমর্পণ করেন,

(সি) যখন তিনি হোল্ডিং এর খাজনাদি প্রাপ্য হওয়ার পর তা পরিশোধ করার কোন ব্যবস্থা না করে স্বেচ্ছায় বাসস্থান ত্যাগ করেন এবং নিজস্ব পরিবারের সদস্যগণ দ্বারা, বা ভৃত্য কিংবা শ্রমিক কিংবা শরীকগণ বা বর্গাদারদের দ্বারা বা সাহায্যে পর পর তিন বৎসর যাবৎ হোল্ডিংটির চাষাবাদ করা হতে বিরত থাকেন, কিংবা

(ডি) যখন কোন স্বত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে এমন ব্যক্তির উপর বর্তায় যিনি প্রকৃত কৃষক নন এবং উক্ত বক্তি নিজে বা পরিবারের সদস্যগণ দ্বারা বা ভৃত্য কিংবা শ্রমিক দ্বারা বা শরিক কিংবা বর্গাদারগণ দ্বারা, যে তারিখে উক্ত স্বত্ত্ব তার উপর বর্তিয়েছে সে তারিখ হতে কোন যথেষ্ট কারণ ব্যতিত উক্ত হোল্ডিংটির ৫ বৎসর যাবৎ চাষাবাদ না করেন তাহলে উক্ত হোল্ডিং-এ রায়তের স্বত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

 

(২) যখন কোন রায়তের কোন হোল্ডিং-এ তার স্বত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে তখন রেভেনিউ অফিসার এতে প্রবেশ করতে পারবেন এবং প্রবেশের তারিখ হতে (এ) দফা মোতাবেক স্বত্ব বিলুপ্ত হোল্ডিংটি ব্যতিত দায়মুক্ত হয়ে সরকারের উপর ন্যস্ত হবে কিন্তু যে সকল ব্যক্তির (বি) (সি) ও (ডি) দফায় বর্ণিত অবস্থায় হোল্ডিং-এ তাদের স্বত্ত্ব বিলুপ্ত হয়েছে তাদের কর্তৃক হোল্ডিং সিকিউরিটি প্রদান করে গৃহীত টাকার জন্য তাদের দায়-দায়িত্ব বহাল থাকবে।

(৩) হোল্ডিং এ প্রবেশের পূর্বে রেভেনিউ অফিসার হোল্ডিং-এ প্রবেশের জন্য তার ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং তাতে কারণ উল্লেখপূর্বক এবং হোল্ডিং-এ স্বত্ত্ব রয়েছে এমন সকল ব্যক্তির নিকট হতে আপত্তি আহ্বান করে একটি নোটিস প্রচার করবেন এবং নোটিসে উল্লিখিত নির্ধারিত সময়ে তার নিকট পেশকৃত দরখাস্ত বিবেচনা করে তার সিদ্ধান্ত নথিতে লিপিবদ্ধ করবেন।

(৪) উপ-ধারা (১) এর (ডি) দফায় বর্ণিত অবস্থায় রায়তের হোল্ডিং-এ তার স্বত্ত্ব বিলুপ্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তির উপর রেভেনিউ অফিসারের যে কোন আদেশের বিরুদ্ধে ১৪৭ ধারা মোতাবেক আপীলের পরিবর্তে উক্ত আদেশের তারিখ হতে ১০ দিনের মধ্যে দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন।

(৫) রায়তের স্বত্ত্ব বিলুপ্তির পর তার নিকট খাজনা বাবদ সকল বকেয়ার দাবি অনাদায়যোগ্য বলে গণ্য হবে।

ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ

 

ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ
ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ

 

ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ

কথা আছে “পয়সা দিয়ে ঝগড়া-ফ্যাসাদ কিনতে চায় কে?’ তাই ভূমি ক্রয়ের সময় সম্ভাব্য সকল যুক্তিসঙ্গত সতর্কতা অবলম্বন ও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে।

ভূমি ক্রয়ের পূর্বে যে যে প্রধান বিষয়গুলো জানার ও দেখার তা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

কেবল ভূমির মালিকই তার ভূমি যে কোনভাবে হস্তান্তর করতে পারেন। তাই হস্তান্তরকারীর মালিকানা ও দলীয় স্বত্ত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বৈধ কাগজপত্র সাপেক্ষে ভাল করে দেখার প্রয়োজন।

(১) বিক্রিত ভূমির সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে বিক্রেতার নাম আছে কিনা?

(২) যদি বিক্রেতার নাম খতিয়ানে না থাকে তবে ভূমিতে বিক্রেতার স্বত্ব বৈধ কাগজপত্র দ্বারা প্রমাণ করতে হবে।

(৩) বিক্রিত ভূমি (১) কোন মৌজায় অবস্থিত, (২) কোন খতিয়ান ও (৩) কোন দাগভুক্ত, (৪) ইহার পরিমাণ এবং (৫) উক্ত খতিয়ানের ভূমিতে বিক্রেতার অংশ বা হিস্যা অনুযায়ী পরিমাণ ইত্যাদি ক্রয়ের পূর্বে কাগজপত্র ভালভাবে যাচাই করে দেখতে হবে।

 

ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ
ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ

 

ক্রয় দলিল দৃষ্টে ভূমি ক্রয় করতে চাইলে দেখতে হবে

(ক) দলিলে উল্লিখিত (১) দলিলদাতা বা দাতাদের নাম ও (২) ভূমির বিবরণ ও পরিমাণ সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে লেখনভুক্ত রয়েছে কিনা, যদি তার বা তাদের নাম সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে লেখনভুক্ত না হয়ে থাকে তবে খতিয়ানে লেখনভুক্ত মালিকের কাছ হতে কিভাবে তারা পেয়েছেন তা অবশ্যই কাগজপত্রের মাধ্যমে দেখাতে হবে।

এরূপ খতিয়ানে লেখনভুক্ত মালিক কর্তৃক বিক্রি হবার পর উক্ত ভূমি যতবার বিক্রি হয়েছে এবং এর দরুন যতটি দলিল সম্পাদিত হয়েছে ততটি দলিল (পিট দলিল বা ধারাবাহিক দলিল) পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

অন্য কোন ব্যতিক্রম না থাকলে কেবল সংশ্লিষ্ট খতিয়ানভুক্ত মালিক বা তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীগণ ভূমি হস্তান্তর করতে পারেন। সুতরাং বিক্রি বা মালিকানা স্বত্ব অর্জনের ধারাবাহিকতা অবশ্যই দেখতে হবে।

(খ) হাল খতিয়ান ও হাল দাগ চালু হওয়ার পূর্বেকার সম্পাদিত দলিলে উল্লিখিত খতিয়ান ও দাগ নম্বর সাবেক দাগ ও খতিয়ান নম্বরে পরিণত হয়েছে।

সুতরাং দলিলে উল্লিখিত খতিয়ান, দাগ যাহা সাবেক খতিয়ান ও দাগ নম্বরে পরিণত হয়েছে এর সাথে বর্তমান চালু (হাল) খতিয়ান, দাগ ও জমির পরিমাণের মিল আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে।

(গ) বিক্রেতার নামজারী খতিয়ান হালনাগাদ সঠিক আছে কি-না পরখ করতে হবে, অপরদিকে বিক্রির পর ক্রেতার নামজারী না হওয়ায় কিংবা ক্রেতা নাম নাম জারী না করার দরুন এই সুযোগে বিক্রেতা প্রতারণামূলকভাবে অন্যের বা ২/৩ জনের কাছে গোপনে বিক্রি করে থাকতে পারে। সুতরাং ক্রয়ের পূর্বে এই বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে এবং অনুসন্ধান করতে হবে। এরূপ ঘটনা কখনো কখনো ঘটে থাকে।

 

ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ
ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ

 

(ঘ) বিক্রিত ভূমি বিক্রেতার দখলে আছে কিনা তাও দেখতে হবে।

(ঙ) বকেয়া ভূমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন করের জন্য ভূমি নিলামের বিক্রি হয়েছে। কিনা অথবা নিলামে সরকার ক্রয় করে খাস করেছেন কিনা তাও দেখতে হবে।

(চ) যে সকল হিন্দু নাগরিক তাদের জমি-জমা পরিত্যাগ করে বাস্তু ত্যাগ করে ভারতে চলে গেছেন এবং সেখানে নাগরিকত্ব লাভ করে বসবাস করছেন তাদের অনেকের ভূমি অর্পিত ও অনাবাসী সম্পত্তি ( Vested and Non Resident Property) হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে – এগুলো সরকারের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

সুতরাং এরূপ হিন্দু মালিকদের ভূমি পরিত্যক্ত হওয়ার দরুন খাস বা অর্পিত ও নাবাসী সম্পত্তি হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে কিনা তাও দেখতে হবে।

(জ) যে সকল মালিক ১৯৭১ সানের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতা করেছিল এবং তাদের ভূমি ও বাড়ী-ঘর ত্যাগ করে বাংলাদেশ হতে চলে গিয়েছিল তাদের ভূমি পিও ১৬/৭২ বলে পরিত্যক্ত (Abandoned) ভূমি হিসাবে ঘোষণা করা হয় এবং সেগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন হয় ।

এই শ্রেণীর মালিকদের ভূমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করে দেখতে হবে ।

(ঝ) যে সকল ভূমি খাজনা বা ভূমি খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর দীর্ঘদিন যাবৎ অনাদায় রয়েছে অথবা মারফতদার কর্তৃক খাজনা বা কর পরিশোধ হয় তহশীল অফিসে এর কারণ অনুসন্ধান করলে ভূমির প্রকৃত স্বত্বাধিকারীকে এবং এর অবস্থা কি তা সহজেই জানা যাবে।

(ঞ) তাছাড়া ভূমির খাজনা বা উন্নয়ন কর অপরিশোধিত থাকলে নিলামে বাস হওয়ার সন্দেহের অবকাশ থাকে। সুতরাং তহশীলে খোঁজ নিয়ে দেখা যেতে পারে।

(ট) স্টেট একুইজিশন এ০ টেনান্সি এ্যাক্টের ১৭ ধারা অনুযায়ী কোন আদিবাসীর ভূমি অনুরূপ আদিবাসী ব্যতিত অন্য কেউ ক্রয় করতে চাইলে বা অন্যের নিকট হস্তান্তর করতে চাইলে দলিল রেজিস্ট্রি করার পূর্বে রেভেনিউ অফিসারের লিখিত সম্মতি নিতে হবে যা দলিলে উল্লেখ করতে হবে। এই বিধান লংঘন করে ভূমি ক্রয় করা হলে সে ক্রয় বা হস্তাস্তর বাতিল হয়ে যাবে।

 

(ঠ) প্রেসিডেন্ট আদেশ নং ৯৮/৭২ অনুযায়ী, ১৩-৪-৮৪ তারিখ পর্যন্ত কোন পরিবার ১০০ বিঘার অতিরিক্ত ভূমি এবং (অধ্যাদেশ ১০/৯৪) ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৪ ধারা অনুযায়ী যে সকল মালিক বা পরিবারের ৬০ বিঘার নিম্নে অথবা ৬০ বিঘা পর্যন্ত ভূমি ছিল তারা উক্ত অধ্যাদেশ জারীর তারিখ হতে (অধ্যাদেশ ১০/৮৪ জারীর তারিখ ১৪-৪-৮৪ ইং, বাং ১ বৈশাখ ১৩৯১) ৬০ বিঘার অতিরিক্ত ভূমি ক্রয় বা অন্যবিধ উপায়ে অর্জন করতে পারবেন না ।

উক্ত আদেশ ও অধ্যাদেশ লংঘন করে যদি কোন মালিক বা পরিবার উপরোক্ত সীমার অতিরিক্ত ভূমি ক্রয় করেন তাহলে এরূপ অতিরিক্ত ভূমি সরকারের বরাবরে বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে। en five

(ড) দলিলে খতিয়ানের মালিকের নাম ভায়া দলিল থাকলে তার নম্বর দাতা, গ্রহীতা ইত্যাদির বৃত্তান্ত দলিলে উল্লেখ থাকা একান্ত আবশ্যক।

(ঢ) দলিলের তফসিলে জেলা, থানা, মৌজা, খতিয়ান, দাগ, ভূমির মোট পরিমাণ। এবং কাত যদি থাকে এবং চৌহদ্দি শহরের ভূমি হলে রাস্তা পৌর নম্বর থাকলে তা সহ তদস্থিত দালান-কোঠা যদি থাকে তবে সঠিকভাবে উল্লেখ করা একান্ত প্রয়োজন।

Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class