ফিচার ডেস্ক, আইন গুরুকুল, GOLN এর সকল পোস্ট

ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য

ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য নিয়ে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই। সেই ধারণা স্পষ্ট করতে আজকের আয়োজন। খুব সাধারণ ভাবে বললে – যে মামলায় ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিচার চাওয়া হয়, সেটা দেওয়ানী মামলা। আর যেসব অপরাধ কে সাধারণত রাষ্ট্রবিরোধী ধরে নেয়া হয় যার, বা যার সংজ্ঞা দণ্ডবিধিতে অপরাধ হিসেবে দেওয়া আছে, সেসবের বিচার চাইতে হলে ফৌজদারি মামলা করতে হবে।

 

ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য

ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য

 

দেওয়ানী মামলা:

দেওয়ানী মামলার উদাহরণ হল পারিবারিক বিষয়, অফিসিয়াল পদ সংক্রান্ত, চুক্তি সংক্রান্ত ইত্যাদি। অন্যদিকে ফৌজদারি মামলার উদাহরণ হল অপহরণ, চুরি, খুন। দেওয়ানী মামলা ব্যক্তি নিজে করে, ফৌজদারি মামলা দায়ের করে রাষ্ট্র পক্ষ। দেওয়ানী মামলার পক্ষদের নাম হল বাদী-বিবাদী, ফৌজদারি মামলায় বলা হয় রাষ্ট্র পক্ষ বনাম আসামী।

Suits of Civil Nature —মোটামুটিভাবে কোন অধিকার বা দায়বদ্ধতা নিয়ে। চুক্তি বা দলিল দ্বারা, পদ বা অধিকার। বৈধ ঘোষণা। নিষেধাজ্ঞা। নিরোধক প্রতিকার। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার। সরকারি দলিল। রেকর্ড অফ রাইটস। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব।

দেওয়ানী মামলার সচরাচর কারাদণ্ড ৬ মাসের বেশি হয়না। দেওয়ানী মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ করতে হতে পারে ৬০%।

তবে দেওয়ানি মামলায় বাদী বা বিবাদী যদি কোন তথ্য উপাত্ত মিথ্যা/ভুল/ জালিয়াতির মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করেন এবং সেটা যদি আদালত কর্তৃক মিথ্যা/ভুল/জালিয়াতি প্রমাণিত হয়, তখন ঐ মিথ্যা/ভুল/জালিয়াতি একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। যিনি এ অপরাধ করেছেন তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে মামলা করা যাবে। এধরনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবার জন্য আদালতের রায় রয়েছে।

 

দেওয়ানি মামলার ধরন:

দেওয়ানি মামলার অনেক ধরন রয়েছে। আর্থিক ক্ষতিপূরণের মামলা, সব ধরনের স্বত্ব, মানবিক সম্পর্ক (পিতা-পুত্র, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক) নিয়ে বিরোধ, মসজিদ, মন্দির, গীর্জায় প্রার্থনা করার অধিকার, ভোটাধিকার ইত্যাদি।

আর্থিক ক্ষতিপূরনের মামলা:

কোনো ব্যক্তি অন্য কারো দ্বারা শারীরিকভাবে বা অন্য কোনো ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। এ ছাড়া মানহানিকর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেও মামলা দায়ের করা যায়।

সম্পত্তির অধিকারের মামলা:

নিজের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হলে তিনি সম্পত্তির অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ার অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হবে।

স্বত্ব মামলা:

কোনো ব্যক্তি ব্যবসা-বাণিজ্য বা ট্রেড লাইসেন্স এবং বইয়ের স্বত্ব কাউকে দেওয়ার পর যদি ওই ব্যক্তি এসব স্বত্বাধিকার থেকে বঞ্চিত হোন তাহলে তিনি এ অধিকার ফিরে পেতে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।

ভরণপোষণের অধিকার বিষয়ক মামলা:

মা-বাবা বৃদ্ধ হলে ছেলে যদি তাঁদের জন্য কোনো ভরণপোষণ না দেয় তাহলে আদালতে ভরণপোষণ চেয়ে মামলা দায়ের করা যায়। এ ছাড়া স্ত্রীর ভরণপোষণ না দিলে স্ত্রী ভরণপোষণ চেয়ে মামলা দায়ের করতে পারেন।

প্রার্থনার অধিকার মামলা:

কোনো ব্যক্তি মসজিদে নামাজ পড়তে না পারলে এবং মন্দিরে পূজা করতে না পারলে এবং গীর্জায় প্রার্থনা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে সে অধিকার চেয়ে তিনি মামলা দায়ের করতে পারেন।

ভোটাধিকারের মামলা:

দেশের নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়ার অধিকার সবারই রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে তিনি সে অধিকার ফিরে পেতে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। যা দেওয়ানি আদালতের মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।

 

যেসব আদালতে দেওয়ানি মামলায় করা যায়:

দেওয়ানী প্রকৃতির মামলাসমূহ (জায়গা জমি, অর্থসংক্রান্ত, পদের অধিকার সংক্রান্ত) যে আদালতে উপস্থাপন করা হয় তাকে দেওয়ানী আদালত বলা হয়। এই আদালতের বিচারককে জেলা জজ বলা হয়। দেওয়ানী প্রকৃতির মামলা করার জন্য প্রথমেই বিচারকের নিকট পিটিশন দাখিল করতে হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে ও দেওয়ানি মামলা পরিচালিত হয়। তবে নিম্ন আদালতে মামলার রায়ের পর কেবল উচ্চ আদালতে আপিল অথবা রিভিশনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা পরিচালিত হয়।

 

ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য

 

 

ফৌজদারী মামলা:

ফৌজদারী অপরাধের ক্ষেত্রে ‘রাষ্ট্র’ সংঘটিত অপরাধটির প্রতিকার/বিচার চায়। এখানে মুল পক্ষ হলো ‘রাষ্ট্র’ বনাম ‘অভিযুক্ত’। যেমন, আপনি হয়তো এমন অনেক ঘটনার কথা শুনে থাকবেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ বলে, “আমরা মামলা করতে চাই না”। এমন অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ এফআইআর দাখিল করে মামলাটির তদন্ত শুরু করে থাকে। সুতরাং, বাদী বা এফআইআর দাখিলকারী পরিবর্তন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। এমন অনেক মামলার নজীর আছে যে, তথাকথিত ‘বাদী’র বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

এমন ক্ষেত্রে প্রসিডিউরটা হলো, তদন্তকারী ‘বাদী যেখানে অভিযুক্ত হিসেবে’ তদন্তকালে স্বাক্ষ্য প্রমান পান, তবে মামলাটি চুড়ান্ত রিপোর্ট (Final Report) দাখিল করেন। একইসাথে, নতুন ‘সংবাদদাতা’ বা ‘বাদী’ নির্বাচন করে নতুন করে FIR দাখিল করে তদন্তকার্য শুরু করেন। আর বাদী যদি অভিযুক্ত না হয়, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ তাকে পরিবর্তন করতে চান; সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কগনিজেন্ট কোর্টে আবেদন দাখিল করবেন। বিজ্ঞ আদালত এক্ষেত্রে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত (Competent Authority).

ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে সেই কারাদণ্ড ৩০ বছর ও হতে পারে। ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হতে হবে সন্দেহাতীতভাবে, অর্থাৎ সাজা দেবার জন্য ১০০% সাক্ষ্য আসামীর বিপক্ষে প্রমাণিত হতে হবে।

ফৌজদারী মামলাতে বাদী হাজিরা না দিলে ওই মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য আইনগত বিধান রয়েছে। ৩ মাস অর্থাৎ ৯০ দিন – যদি বাদী এক তিন মাস ধরে হাজিরা না দেয় তবে মামলা নিষ্পত্তি করা যাবে। ১ বছর – যদি বাদী এক বছর ধরে হাজিরা না দেয় তবেও মামলা নিষ্পত্তি করা যাবে। ৩ বছর – সর্বোচ্চ মামলা তিন বছর ধরে বহাল থাকতে পারে যদি বাদী একটি কারণ দেখায় যে তিনি কোনো কারণে হাজিরা দিতে পারেননি। সুতরাং, ফৌজদারী মামলায় বাদী হাজিরা না দিলে ৯০ দিন থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করা যায়। তবে যতক্ষণ না নিষ্পত্তি হয়, সে মামলা বহাল থাকে।

ফৌজদারি মামলার ধরণ:

ফৌজদারি অপরাধ বলতে সেসব অপরাধ বোঝায় যেগুলো দেশে প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী বিচারযোগ্য এবং শাস্তিযোগ্য। এই অপরাধের বিচার হয় ফৌজদারি আদালত।

অপরাধের আমলযোগ্যতা:

যে অপরাধ সমূহ সংগঠিত হলে পরে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারে, ১৫৪ ধারায় এজাহার রুজুর মাধ্যমে মামলা করতে পারে, ১৫৬ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই তদন্ত পরিচালনা করতে পারে সেই সকল অপরাধ সমূহকে আমলযোগ্য অপরাধ বলে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের ৩য় কলামে আমলযোগ্য অপরাধের তালিকা প্রদত্ত হয়েছে। আমলযোগ্য অপরাধকে সাধারণত জামিন-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জামিন-যোগ্য অপরাধ:

ফৌজদারি কার্যবিধি ৪(খ) ধারায় জামিন-যোগ্য অপরাধের বা “Bailable Offence’ কথা বলা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, ‘জামিন-যোগ্য অপরাধ’ হচ্ছে সে সকল অপরাধ যা ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে জামিন-যোগ্য বলে দেখানো হয়েছে, অথবা যা বর্তমানে বলবত কোন আইন দ্বারা জামিন যোগ্য করা হয়েছে।

 

মামলা গ্রহণে আদালত ও থানার এখতিয়ার:

আদালতের দুই ধরনের মামলা ও মোকদ্দমা গ্রহণের এখতিয়ার আছে। আরজি ও পিটিশন অফ কম্পলেইন্ট। থানা দেওয়ানী মোকদ্দমা দূরের কথা, সালিসি কার্যক্রমও করতে পারে না। এজাহার আর এফআইআর ছাড়া। আর তদন্ত কার্যক্রমে মুচলেকা দিয়ে অভিযুক্তদের মুক্তি দিতে পারে অপর্যাপ্ত সাক্ষের উপস্থিতিতে।

অপরাধ সম্পর্কিত মামলাসমূহ যে আদালতে উপস্থাপন করা হয় তাকে আমরা ফৌজদারি আদালত ক্রিমিনাল কোর্ট বলে থাকি। আর এই আদালতের বিচারকে দায়রা জজ নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করার পরে প্রথমে তাদের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

জেলা জজ আদালতের এখতিয়ার:

জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলা পরিচালিত হয়। এ আদালতে দেওয়ানি মামলা পরিচালিত হলে তাকে দেওয়ানি আদালত এবং ফৌজদারি মামলা পরিচালিত হলে তাকে ফৌজদারি আদালত বলে। সাধারণত এক লাখ টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যমানের মামলার আপিল জেলা জজ আদালতে দায়ের করতে হয়। জেলা জজ আদালত তাঁর নিম্ন আদালতের মোকদ্দমা স্থানান্তর সম্পর্কিত দরখাস্ত, রিভিশন শুনানি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করতে পারেন। পারিবারিক আদালতের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আপিল গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করে থাকেন।

অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত:

অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের বিচারিক ক্ষমতা জেলা জজের সমান। তবে কোনো মোকদ্দমা বা আপিল এ আদালতে সরাসরি দায়ের করা যায় না। জেলা জজ আদালতে দাখিল করলে জেলা জজ আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য এ আদালতে প্রেরণ করেন। অতিরিক্ত জেলা জজের কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই।

যুগ্ম জেলা জজ আদালত:

প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক যুগ্ম জেলা জজ থাকেন। তিনি দেওয়ানি মোকদ্দমার সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিচারক। এ আদালত চার লাখ এক টাকা থেকে অসীম মূল্যমানের বিষয় বস্তুর মূল মোকদ্দমা গ্রহণ ও বিচার নিষ্পত্তি করতে পারেন।

সিনিয়র সহকারী জজ আদালত:

দেশের প্রতিটি জেলায় এক বা একাধিক সিনিয়র সহকারী জজ আদালত রয়েছে। সম্পত্তি, অফিস, ব্যক্তিগত অপকার, ক্ষতিপূরণ ও ধর্মীয় অধিকারসংক্রান্ত যাবতীয় মোকদ্দমা সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ আদালতে দায়ের করা হয়। এ আদালত দুই লাখ এক টাকা থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের মূল মোকদ্দমা গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করতে পারেন।

সহকারী জজ আদালত:

এ আদালতে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা মূল্যমানের বিষয় বস্তুর ওপর মামলা দায়ের করা যায়। এ আদালতের নিজস্ব কোনো আপিল এখতিয়ার নেই। সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব ঘোষণা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চুক্তি কার্যকর, দলিল, চুক্তিপত্র, লিখিত অঙ্গীকারপত্র ইত্যাদি রদ ও রহিত, যেকোনো কর্তৃপক্ষের অবৈধ আদেশ রদ ও রহিত, দখল পাওয়া, সম্পত্তি বা অফিস সংক্রান্ত কোনো অধিকার সম্পর্কে ঘোষণা পাওয়া, টাকা আদায়, সম্পত্তি অগ্রক্রয়, নির্বাচন সংক্রান্ত মোকদ্দমা দায়ের করা যায়।

 

ফৌজদারি মামলা দায়ের:

বর্তমান বলবৎযোগ্য ফৌজদারি কার্যবিধি তে বলা আছে কোন ধারার মামলা আমলযোগ্য কোন ধারার মামলা আমলযোগ্য নয়। আমলযোগ্য মামলার ক্ষেত্রে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে অফিসার ইনচার্জ সেই অভিযোগ টি এজাহার হিসেবে গণ্য করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে প্রেরণ করবে আর আমল যোগ্য মামলায় পুলিশ আপনাকে মামলা দায়ের এর সাথে সাথে গ্রেফতার করতে পারবে আর আমল অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে থানা আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মামলা দায়ের করতে পারবে। আপনার নামে মামলা হতে পারে ২ ভাবে প্রথমত থানায় সরাসরি এজাহার দায়ের এর মাধ্যমে দ্বিতীয়ত আদালতে আর্জি দাখিলের মাধ্যমে।

থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আপনাকে গ্রেফতার করতে পারে বা গ্রেফতার না করেও আপনার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করতে পারে এর পর আদালত আপনার নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু করবে। এছাড়াও আদালতে মামলা দায়ের হলে আদালত আপনাকে সমনের মাধ্যমে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারে বা ওয়ারেন্ট বলে আটক করার জন্য নির্দেশ দিতে পারে। এখন এমন কোনও সম্ভাবনা তৈরি হয় যে আপনার নামে মামলা হতে পারে তাহলে আপনি সংশ্লিষ্ট থানায় এবং সংশ্লিষ্ট আমলী আদালতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারবেন মামলা হয়েছে কি না।

থানায় অভিযোগ দায়ের করলেই মামলা হয়ে যায় না। যদি তা এজাহার হিসেবে গণ্য করে মামলা দায়ের করা না হয়। আর অভিযোগ প্রত্যাহার করার কোনও সুযোগ নেই। যদি থানার ওসি বিষয় টি নিয়ে সন্দেহ আছে মনে করেন তাহলে একজন এস আই কে উক্ত বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। যদি অপরাধ টি আমলযোগ্য হয় তাহলে এজাহার দায়ের হবে , আমল অযোগ্য হলে আদালতে অনুমতি নিয়ে মামলা দায়ের হবে যদি মিথ্যা হয় তাহলে আর কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। আর মামলা দায়ের হয়ে গেলে ফৌজদারি কার্যবিধি র দ্বিতীয় তফসিলে উল্লেখ আছে কোন টি আপোষ যোগ্য কোনটি আপোষ যোগ্য নয় কোনটি আদালতে অনুমতি সাপেক্ষে আপোষ যোগ্য সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

 

ফৌজদারি মামলার ধাপ:

১. থানায় এজাহার এর মাধ্যমে অথবা ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট নালিশ দায়ের মাধ্যমে।

২. জি আর মামলা / সি আর মামলা।

৩. ওয়ারেন্ট, আসামী জামিন প্রাপ্ত অথবা জেলে হাজতে প্রেরণ।

৪. পুলিশ কর্তৃক চার্জশীট দাখিল অথবা ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল

৫. আদালত কর্তৃক আসামীদের বিরুদ্ধে মামলার চার্জ ঘটন অথবা আসামীদের অব্যাহতি।

৬. বাদী পক্ষে সাক্ষীর জবান বন্দি। আসামী কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা।

৭. যুক্তিতর্ক

৮. রায়

৯. রায়ের বিরুদ্ধে আপীল অথবা রিভিশন।

১০. উচ্চ আদালতে আপীল অথবা রিভিশন মুঞ্জর অথবা না মুঞ্জর।

 

 

অন্যান্য মামলা:

সাধারণত যেকোনো বিষয়ে হোক সেটা দেওয়ানী অথবা ফৌজদারি মামলা হাইকোর্টের অধীনস্থ দেওয়ানী/ফৌজদারি আদালতে করা হয় শুধু মাত্র কিছু মামলা আছে যেগুলোতে সরাসরি হাইকোর্টে যেতে হয়। যেমন, কোম্পানি সংক্রান্ত মামলা, খ্রিস্টান বিবাহ সংক্রান্ত মামলা, কপি রাইট মামলা, এডমিরালটি বা সমুদ্রগামী জাহাজ সংক্রান্ত মামলা।

 

রিট মামলা:

রিট সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে যেকোনো নাগরিক রিট আবেদন করতে পারেন। রিটের বিষয়টি মামলার মত হলেও মৌলিক একটি পার্থক্য আছে। আমরা মামলা করি প্রচলিত আইনের অধীনে হাইকোর্টের অধীনস্থ কোর্টে কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোন আইনের অধীনে উক্ত সমস্যার কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর অন্যায় করা হচ্ছে। তখন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ জনস্বার্থে এর প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করতে পারে যাকে রিট বলা হয়। বিষয়টি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।

আবার কেউ যদি মনে করেন সরকারের প্রণীত কোন আইন প্রচলিত অন্য আইনের পরিপন্থী বা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক, সে ক্ষেত্রেও আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করা যায়।যিনি মামলা করার যোগ্যতা রাখেন তিনি রিট ও করতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে বিষয়ে রিট করতে চান সে বিষয়ের প্রতিকার সরাসরি অন্য আইনে উল্লেখ নেই।

উল্লেখ্য, কিছু কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে রিট এবং সাধারণ মামলা দু’টিই করা চলে। রিটে খরচ কিছুটা বেশি হলেও সাধারণত দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।

উকিল নোটিশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

উকিল নোটিশ (Legal Notice) এক ধরনের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি। কোনো ব্যক্তি দ্বারা মৌখিক, লেখালেখি বা আর্থিক অথবা অন্য যেযকোন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেবার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সংক্ষুব্ধ ব্যাক্তি উকিল নোটিশ (Legal Notice) দিতে পারেন। কারো বিরুদ্ধে মামলা করার আগে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে এ নোটিশ দিতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব না এলে, বা জবাব সন্তুষ্টিজনক না হলে মামলা দায়ের করতে হয়।

 

উকিল নোটিশ

উকিল নোটিশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

 

Notice শব্দের অর্থ সতর্কীকরণ এবং সংবাদজ্ঞাপন। তাহলে, সাধারণত উকিল নোটিশ (Legal Notice) বলতে বোঝায়, যখন নোটিশ-দাতা একজন বিজ্ঞ উকিল বা আইনজীবীর মাধ্যমে কোন নোটিশ গ্রহীতাকে অর্থাৎ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোন অভিযোগ জানায়, বা, দায়িত্ব পালনের জন্য আহবান জানায়, বা, কোন অধিকার খর্ব হয়েছে কিংবা হবার উপক্রম হয়েছে সেটা জানায়, এবং সেটা করতে ব্যর্থ হলে তর্কিত বিষয় নিয়ে মোকদ্দমা দাখিল করার আগাম বার্তাও জানায়। উকিল নোটিশকে Legal Notice, এডভোকেট নোটিশ, আইনী নোটিশ ও আইনী বিজ্ঞপ্তি-ও বলা হয়।

মনে রাখবেন উকিল নোটিশ বা Legal Notice কোন মামলা নয়। উকিল নোটিশ (Legal Notice)-কে মামলা বা কোন আইনী প্রক্রিয়ার পূর্ব পদক্ষেপ বলা যেতে পারে।

উকিল নোটিশ কি ?

কতিপয় মামলার কার্যক্রম শুরুর আগে প্রতিপক্ষকে উকিল নোটিশ দিতে হয়। সাধারণত মামলার বাদীপক্ষ নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে এই নোটিশ প্রেরণ করে। আপনি যার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেছেন সে ব্যক্তি যদি লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখিত বিষয়বস্তুর সমাধান উল্লেখিত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে না করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোন আইনে এবং কোন ধারায় মামলা করা হবে, সবকিছু সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে৷

লিগ্যাল নোটিশ বা উকিল নোটিশ হলো কোন সংস্থা বা ব্যাক্তিকে এমন কোন বিষয়ে আইনগত ভাবে আইনজীবীর মাধ্যমে অবহিত করা যা পালন না করলে নোটিশদাতা নোটিশ গ্রহিতার বিরূদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মর্মে ঘোষনা দেন। এই রূপ লিগ্যাল নোটিশ মূলত কারো বিরূদ্ধে কোন আইনী পদক্ষেপ গ্রহনের চুড়ান্ত সংকেত। এবং এর উদ্দেশ্য হলো নোটিশ গ্রহিতাকে নোটিশে উল্লিখিত বিষয় সর্ম্পকে অবহিত করা। এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে উৎসাহিত করা

উকিল নোটিশের সময়:

উকিল নোটিশে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে বলা হয়, নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোটিশে কত দিন সময় দিতে হবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে সরকার প্রতিপক্ষ হলে এক মাস সময় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অন্যদের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা থেকে এক মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এর পর সরকারি ডাকযোগে প্রতিপক্ষকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা বরাবর পাঠাতে হয়।

সবসময় মনে রাখবেন আপনি যে বিষয়ে বিরোধ উত্থাপন করছেন এবং ওই বিরোধের প্রতিকার যে আইনের অধীনে দাবি করছেন বা যে আইনে মামলা করবেন বলে ভাবছেন, সে আইনে যদি নির্দিষ্টভাবে বলা থাকে লিগ্যাল নোটিশে কতদিন সময়সীমা প্রদান করতে হবে? তাহলে আইনে উল্লেখিত ওই নির্দিষ্ট সময় অবশ্যই দিতে হবে প্রতিপক্ষকে৷

ধরুন – আপনি যদি চেক ডিজঅনারের মামলা করতে চান, তাহলে নেগোসিয়েটেবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট অনুযায়ী আপনাকে অবশ্যই মামলা করার আগে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাতে হবে এবং লিগ্যাল নোটিশে প্রতিপক্ষকে বা যার বিরুদ্ধে মামলা করতে চান তাকে ৩০ দিন সময় প্রদান করতে হবে৷ লিগ্যাল নোটিশে এই সময় প্রদানের মাধ্যমে যার বিরুদ্ধে মামলা করতে চান তাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে, যাতে সে লিগ্যাল নোটিশের উল্লেখিত বিরোধের নিষ্পত্তি করতে পারে৷ আর যদি সে এই ৩০ দিনের মধ্যে টাকা প্রদান না করে বা বিরোধটি নিষ্পত্তি না করে, তাহলে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আপনি মামলা করতে পারবেন৷

 

 

উকিল নোটিশ (Legal Notice) কাকে দেওয়া যায়:

Legal Notice যে কোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া যায়। এখানে কোন সীমাবদ্ধতা রাখা হয় নি। এর একটি উদাহরণ দিচ্ছি। বিগত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে গ্রামীণফোনের অধিকাংশ শেয়ারের মালিক টেলিনর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বরাবর লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করে।

 

উকিল নোটিশ (Legal Notice) দিতে কত টাকা লাগে:

Legal Notice লিখতে কত লাগবে সেটা নির্ভর করবে বিজ্ঞ আইনজীবীর ওপর। সাধারণত ঘটনার জটিলতা, গুরুত্ব ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে একজন বিজ্ঞ আইনজীবী তার ফি নির্ধারণ করেন।

 

উকিল নোটিশ (Legal Notice) দেবার জন্য কি লাগে:

উকিল নোটিশ দিতে হলে নিম্নোক্ত তথ্য সংগ্রহ করুন –

  • আপনার পূর্ণ নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা
  • যার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাবেন তার পূর্ণ নাম, বাবার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর
  • ঘটনার পূর্ণ বিবরণ
  • ঘটনার সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

এই তথ্যগুলো নিয়ে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন। তার সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

উকিল নোটিশ পেলে করণীয়:

আপনার নামে কেউ উকিল নোটিশ পাঠালে আপনার তাৎক্ষণাত করণীয় হচ্ছে সে নোটিশের জবাব দেয়া। কেননা, নোটিশের জবাব না দিলে পরবর্তীতে মামলার বিচারকালে অনুমান সৃষ্টি হয় যে আপনি নোটিশের বিষয় স্বীকার করে নিয়েছে। আমাদের কাছে ওয়েব সাইট এবং ফেইসবুকে মাধ্যমে আসা বিভিন্ন কাজের মধ্যে উকিল নোটিশ এর কাজ সবচেয়ে বেশী পরিমানে আসে।

 

উকিল নোটিশের পরে মামলা দায়ের:

উকিল নোটিশ পাঠানোর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উকিল নোটিশের সঠিক জবাব বা প্রতিকার না পেলে নোটিশ প্রেরণকারী আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে মামলা করতে পারবেন। নোটিশে উল্লেখ করা সুনির্দিষ্ট মেয়াদের আগে মামলা করা যায় না।

উকিল নোটিশ ও মামলার জন্য আইনজীবী:

দক্ষ আইনজীবীকে দিয়ে উকিল নোটিশ দেয়া উচিৎ। উকিল নোটিশ প্রেরণের ক্ষেত্রে আইনজীবীকে ফি দিতে হয়। অধিকাংশ আইনজীবী দায়মুক্তির জন্য উকিল নোটিশ দেওয়ার আগে ওকালতনামায় স্বাক্ষর নেন। তবে উকিল নোটিশের সঙ্গে আদালতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলা পরিচালনার জন্য যেকোনো আইনজীবীর কাছেই যাওয়া যেতে পারে।আইনজীবীরা বিভিন্ন ধরনের মামলা পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করেন। কাজেই কোন আইনজীবী কোন বিষয়ে দক্ষ, সেটি জেনে আইনজীবী বাছাই করা ভালো।

মামলার খরচ

মামলায় খরচ হয় সাধারণত দুই ভাবে। একটি আইনজীবীর ফি বাবদ, অন্যটি দাপ্তরিক খরচ বাবদ। আইনজীবীর ফির অঙ্ক নির্দিষ্ট নয়। বিভিন্ন আইনজীবী নানা ধরনের মামলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অঙ্কের ফি নেন। স্বাভাবিকভাবেই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের ফির অঙ্কটা বেশি হয়। মামলার ধরণ বুঝে দাপ্তরিক খরচ নির্ধারিত হয়।

মামলা শুরু করা

এ কাজটি আইনজীবী বা তার সহকারী করে থাকেন। কোর্ট অফিসে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করলে সেখানে একটি নম্বর দেওয়া হয়। এর পর কোর্টের একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করাতে হয়। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর কার্যতালিকা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে শুনানি সম্পন্ন করা হয়। মামলার একাধিক দিন শুনানি হতে পারে। প্রতিপক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সময় দেওয়া হতে পারে। তবে এর মাঝে বেঞ্চ ভেঙে দেওয়া হলে পুনরায় অন্য একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এ কার্যতালিকাকে কজলিস্ট বলা হয়।

 

উকিল নোটিশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

 

উকিল নেটিশ বা লিগ্যাল নোটিশ লেখার নমুনা ১-

“আইনগত বিজ্ঞপ্তি”
প্রাপকঃ মোঃ নুরুল আলম
পিতা-মোঃ মাহফুজ আলম
গ্রামঃ দরবারপুর, দিনাজপুর

প্রেরকঃ মোঃ মোখলেসুর রহমান
পিতাঃ সামসুর রহমান
গ্রামঃ মিঠাপুকুর, দিনাজপুর

এর পক্ষেঃ
মোঃ গোলাম মোস্তফা ফারুকী
এডভোকেট
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, দিনাজপুর

জনাব,
আমার মক্কেল যিনি নোটিশ দিচ্ছেন তার অনুরোধে আমি দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে আপনার অবগতির জন্যে জানাচ্ছি যে,আপনি আমার মক্কেলের নিকট দিনাজপুরের বাড়ববাজার সংলগ্ন এলাকায় ৫০,০০,০০০ টাকার বিনিময়ে ৩০ শতক জমি বিক্রয় করিতে ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছেন। এরই ধারাবাহিকতায়, আপনি চুক্তিবদ্ধ টাকার ২০% অগ্রীম হিসেবে দাবী করেছিলেন এবং আমার মক্কেল জমির রেজিস্ট্রেশনের সময় আপনাকে সেই টাকা দিয়ে দেয় এবং বাকি টাকা দেয়ার জন্য কয়েকসপ্তাহ সময় চেয়ে নেয়। কিন্তু এর তিনদিন পরেই কাগজপত্রের জালিয়াতিসহ জমির বিষয়ে নানান ধরনের জটিলতা শুরু হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় আপনার আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার করার নিমিত্তে আমি আমার মক্কেলের তরফ হইতে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করছি। উক্ত বিষয়ে আপনি যদি ১০ কর্মদিবসের মধ্যে টাকা ফেরত দেয়া সংক্রান্ত কোন পদক্ষেপ এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন, তবে আপনার বিরুদ্ধে এন. আই এক্টের ১৩৮ ধারা মোতাবেগ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে আমার মক্কেল বাধ্য হবেন।

বিঃদ্রঃ ভবিষ্যৎ কার্যার্থে লিগ্যাল নোটিশটির এক কপি আমার নিকট সংরক্ষিত থাকবে।

ধন্যবাদান্তে-
মোঃ…………
এডভোকেট
মোঃ গোলাম মোস্তফা ফারুকী
জেলা ও দায়রা জজ,দিনাজপুর

 

উকিল নেটিশ বা লিগ্যাল নোটিশ লেখার নমুনা ২-

হইতে,
মোঃ ক
এডভোকেট
গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন
হল রুম নং -৬
জর্জ কোট,গাজীপুর।

প্রেরক
মোঃ আতর আলী , পিতা- রুস্তম আলী, মাতা মোসাঃ হোসনা আক্তার,স্থায়ী ঠিকানা-গ্রাম- রহমতগঞ্জ, ডাকঘর-উস্থি, থানা-গফরগাঁও,জেলা- গাজীপুর, বর্তমান ঠিাকানা-উত্তর ছায়াবিথী, জয়দেবপুর, গাজীপুর। ———— লিগ্যাল নোটিশ দাতা।

প্রাপক,
মোসাঃ কল্পনা বেগম, পিতা- হোসেন, মাতা- নূরআক্তার, সাং- লাখোঘাট, ডাকঘর- ভাঙ্গাটিয়া, থানা- হোসেনপুর, জেলা- কিশোরগঞ্জ। ———— লিগ্যাল নোটিশ গ্রহিত্রী।

বিষয়ঃ স্ত্রীকে স্বামী গৃহে ফিরে আশার জন্য লিগ্যাল নোটিশ্।

জনাব,
আমি আমার উপরোক্ত মোয়াক্কেল মোঃ মোশারফ হোসেন কর্তৃক আদৃষ্ট ও ক্ষমতা প্রাপ্ত হইয়া মোসাঃ কল্পনা বেগম আপনাকে এই মর্মে অভিহিত করিতেছি যে,
১। যেহেতু আমার মোয়াক্কেলের সাথে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আপনার সহিত বিবাহ হয় বটে। বিবাহের পর হইতে আপনি নোটিশ গ্রহিত্রী নোটিশ দাতার সংসারে সুখে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করিয়া আসিতেছেন এবং আমার মোয়াক্কেল ও আপনার সংসারে দুইজন পুত্র সন্তান রয়েছে। বিগত ১৫/০২/২০১৫ তারিখে আমার মোয়াক্কেল কাজের প্রয়োজনে ঘরের বাহিরে গেলে এবং তার পুত্র স্কুলে চলিয়া গেলে আপনার বাপের বাড়ীর লোকজনের কু পরামর্শ মতে আপনি এই সুযোগে আমার মোয়াক্কেলের ঘরে রাখা নগদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণে চেইন,একটি আঙটি ও প্রয়োজনীয় মালামাল সহ মোয়াক্কেলের কোলের সন্তানকে রাখিয়া আপনার বাপের বাড়ী আসিয়া পড়েন।

আপনার সহিত আমার মোয়াক্কেলের কোন ঝগড়া বিবাদ, মারা মারি ও কথা কাটা কাটি পর্যন্ত হয় নাই। পরবর্তীতে আমার মোয়াক্কেল আপনার পরিবারের লোকজনকে ও আপনি নোটিশ গ্রহীতাকে আমার মোয়াক্কেলের সাথে জঘন্য খারাপ ব্যহার করেন এবং উপরোল্লেখিত টাকা ও সোনা গহনা দাবী করলে আমার ও আমার সন্তানের জানের ক্ষতি করবেন বলে হুমকি দেন।

২। যেহেত আপনি আমার মোয়াক্কেলেল বিবাহিতা স্ত্রী বটে। মুসলিম শরিয়াতের বিধান মোতাবেক প্রত্যেক স্ত্রী তাহার স্বামীর নির্দেশে পরিচালিত হইবেন এবং তাহার আদেশ নির্দেশ পরিচালিত হইবেন এবং তাহার আদেশ নির্দেশ মানিয়া মুসলিম শরিয়াতের বিধান মোতাবেক জীবন যাপন করিবেন ইহাই কাম্য। কিন্তÍ আপনি আমার মোয়াক্কেলের কোন কথারই কর্ণপাত করিতেছেনা। তাহার কথাকে অমান্য করিয়া তাহাকে স্বামীর অধিকার হইতে বঞ্চিত করিয়া নিজের ইচ্ছায় চলাফেরা করিতেছেন।

৩। অত্র নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে স্বামী গৃহে ফিরিয়া আসিবেন অন্যথায় নোটিশ দাতা আপনার বিরদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হইবেন। এরূপ ক্ষেত্রে সকল পরিনতি জন্য আপনি নিজেই দায়ী থাকিবেন।

(বিঃদ্রঃ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহনের জন্য অত্র নোটিশের ১ কপি আমার সেরেস্তায় জমা রহিল)।

ধন্যবাদান্তে

মোঃ ক
এডভোকেট
গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন
হল রোম নং -১২,জর্জ কোট,গাজীপুর।

খসড়া টেমপ্লেট: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৮ আদেশের অধীনে লিখিত জবাব (Jawab)

নিচে বাংলাদেশের অধস্তন দেওয়ানি আদালতসমূহে ব্যবহারের উপযোগী লিখিত জবাব (Written Statement)-এর পূর্ণাঙ্গ বাংলা খসড়া টেমপ্লেট প্রদান করা হলো।

আইনগত চেকলিস্ট

১. দাখিলের সময়সীমা: দেওয়ানি কার্যবিধির ৮ আদেশের ১ নিয়ম অনুযায়ী, সমন জারির তারিখ হতে ২ মাসের (৬০ দিন) মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে হয়। আদালতের অনুমতিক্রমে উপযুক্ত কারণ দর্শানো সাপেক্ষে তা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে।

২. সুনির্দিষ্ট অস্বীকার (Specific Denial): ৮ আদেশের ৩ ও ৫ নিয়ম অনুযায়ী, আরজির প্রতিটি তথ্যাগত দাবি সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করতে হয়। অস্পষ্ট বা সাধারণ অস্বীকারকে স্বীকারোক্তি হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।

৩. নতুন আইনি আপত্তি উত্থাপন: ৮ আদেশের ২ নিয়ম অনুসারে, মামলাটির আইনি বাধা (যেমন: তামাদি, রেস জুডিকাটা, মোকদ্দমার কারণের অভাব, পক্ষদোষ) লিখিত জবাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

লিখিত জবাবের খসড়া টেমপ্লেট

বিজ্ঞ [আদালতের নাম, যেমন: ১ম যুগ্ম জেলা জজ / সহকারী জজ] আদালত, [জেলা]

অন্য / স্বত্ব / বন্টন দেওয়ানি মোকদ্দমা নং: ________ / ২০____ ইং

মামলার পক্ষগণ:

[বাদীর নাম]

…… বাদী

—বনাম—

[বিবাদীর নাম]

…… বিবাদী

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৮ আদেশের ১ নিয়মের বিধানমতে [১/২/৩ নং] বিবাদী কর্তৃক দাখিলকৃত লিখিত জবাব।

সম্মানপূর্বক বিনীত আরজি এই যে:

১. প্রাথমিক আপত্তি (PRELIMINARY OBJECTIONS):

ক) বাদীর মোকদ্দমাটি বর্তমান আকার ও প্রার্থনায় বিদ্যমান আইনি বিধান অনুসারে আইনত রক্ষণীয় নয় (Not Maintainable)।

খ) বাদীর আরজিতে [১ নং] বিবাদীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমার কোনো বৈধ কারণ (No Cause of Action) প্রকাশ পায়নি; সুতরাং আরজিটি দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ আদেশের ১১ নিয়ম অনুযায়ী খারিজযোগ্য।

গ) মোকদ্দমাটি তামাদি আইন, ১৯০৮ (Limitation Act, 1908)-এর বিধান দ্বারা বারিত/বর্জিত।

ঘ) মোকদ্দমাটি প্রয়োজনীয় পক্ষ অন্তর্ভুক্ত না করা এবং অপ্রয়োজনীয় পক্ষ যুক্ত করার কারণে পক্ষদোষে (Misjoinder & Non-Joinder of Necessary Parties) দুষ্ট।

ঙ) মোকদ্দমাটি দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারার (Res Judicata) নীতি অনুযায়ী পূর্ব-সংক্রান্ত আদেশের দ্বারা বারিত।

চ) বাদীর মোকদ্দমার সঠিক মূল্যমান নির্ধারিত হয়নি এবং কোর্ট ফি অপর্যাপ্ত।

২. আরজির অনুচ্ছেদওয়ারী জবাব (PARAGRAPH-BY-PARAGRAPH DENIAL):

১. আরজির ১ নম্বর অনুচ্ছেদের বক্তব্য যে পর্যন্ত আদালতের এখতিয়ার ও পক্ষগণের নাম-ঠিকানার সাথে সম্পর্কিত, তা আনুষ্ঠানিক। তা ব্যতীত অপরাপর সকল দাবি বা বক্তব্য অসত্য ও ভিত্তিহীন বিধায় অত্র বিবাদী তা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করছে।

২. আরজির ২ নম্বর অনুচ্ছেদের বক্তব্য বিবাদী কর্তৃক কঠোরভাবে অস্বীকার করা হলো। বাদী কর্তৃক উত্থাপিত দাবি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। [নির্দিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে তা অস্বীকারের ভিত্তি সংক্ষেপে উল্লেখ করুন]।

৩. আরজির ৩ নম্বর অনুচ্ছেদের সত্যতা বিবাদী সর্বাংশে অস্বীকার করছে। বাদী প্রকৃত ঘটনা বিকৃত করে উপস্থাপন করেছেন।

৪. আরজির ৪ ও ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের দাবিকৃত ঘটনা বা লেনদেনের বক্তব্য সর্বাংশ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বেআইনি। বাদী যে দলিলের ওপর ভিত্তি করে দাবি উত্থাপন করেছেন তা ভুয়া, জাল এবং আইনের দৃষ্টিতে কার্যকর নয়।

৩. বিবাদীপক্ষের নিজস্ব ঘটনা ও বক্তব্য (STATEMENT OF DEFENSE):

ক) নালিশী সম্পত্তি/বিষয়বস্তু সংক্রান্ত প্রকৃত ঘটনা হলো এই যে, [বিবাদীপক্ষের নিজস্ব স্বত্ব, বৈধ মালিকানা ও নিরবচ্ছিন্ন দখলের বিবরণ ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করুন]।

খ) [১ নং] বিবাদী [তারিখ/বছর] হতে নালিশী সম্পত্তিতে বৈধ মালিক ও স্বত্বাধিকারী হিসেবে নিজস্ব স্বত্বে ও নিরবচ্ছিন্ন দখলে অবস্থান করছেন।

গ) বাদী সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে এবং বিবাদীকে হয়রানি করার জন্য নালিশী সম্পত্তির মালিকানার ওপর মিথ্যা দাবি তুলে অত্র ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক মামলাটি দায়ের করেছেন।

প্রার্থনা

অতএব, বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, মহামান্য আদালত মেহেরবানি করে:

ক) দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৩৫এ ধারা অনুযায়ী [১ নং] বিবাদীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণমূলক খরচ (Compensatory Costs) প্রদানপূর্বক বাদীর আনীত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মোকদ্দমাটি খারিজ (Dismiss) করার আদেশ দান করবেন;

খ) বিবাদীপক্ষের অনুকূলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে অন্য যে আদেশ বা আদেশসমূহ উপযুক্ত মনে করেন তা প্রদান করতে মর্জি হয়।

এবং এই দয়াপূর্ণ কাজের জন্য [১ নং] বিবাদী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

সত্যপাঠ (VERIFICATION)

আমি, [বিবাদীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], বয়স: প্রায় [বয়স] বছর, ধর্ম: [ধর্ম], পেশা: [পেশা], সাং: [ঠিকানা], সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষণা করছি যে:

অত্র লিখিত জবাবের ১ থেকে ৩ অনুচ্ছেদের যাবতীয় বক্তব্য আমার জ্ঞান, বিশ্বাস ও নথিপত্র অনুযায়ী সত্য ও সঠিক। আজ [তারিখ] দিন, [মাস], ২০____ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত প্রাঙ্গণে, [জেলা]-এ আমি এই সত্যপাঠে নিজ স্বাক্ষর প্রদান করলাম।

[১ নং] বিবাদীর স্বাক্ষর

হলফনামা (AFFIDAVIT)

বিজ্ঞ [আদালতের নাম] আদালত, [জেলা]

দেওয়ানি মোকদ্দমা নং: ________ / ২০____ ইং

আমি, [হলফকারীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], বয়স: প্রায় [বয়স] বছর, ধর্ম: [ধর্ম], পেশা: [পেশা], সাং: [ঠিকানা], জাতীয় পরিচয়পত্র নং: [এনআইডি নম্বর], সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষণা করছি যে:

১. আমি অত্র মামলার [১ নং] বিবাদী এবং মামলার ঘটনা ও পারিপার্শ্বিকতার সাথে পূর্ণ পরিচিত।

২. অত্র লিখিত জবাবের বক্তব্যসমূহ আমার জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে সত্য ও সঠিক।

আজ [তারিখ] দিন, [মাস], ২০____ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত প্রাঙ্গণে আমি এই সত্যপাঠে নিজ স্বাক্ষর প্রদান করলাম।

হলফকারীর স্বাক্ষর

বিবাদী আমার দ্বারা শনাক্তকৃত।

অ্যাডভোকেট

খসড়া টেমপ্লেট: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৫৬১এ ধারার অধীনে কোয়াশমেন্ট (বাতিলকরণ) আবেদন এবং ৪৩৯ ধারার অধীনে ফৌজদারি রিভিশন পিটিশন

নিচে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরযোগ্য ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল/কোয়াশমেন্ট (ধারা ৫৬১এ) এবং ফৌজদারি রিভিশন (ধারা ৪৩৯)-এর জন্য ব্যবহারের উপযোগী পূর্ণাঙ্গ খসড়া টেমপ্লেট প্রদান করা হলো, যা law.gurukul.edu.bd-এ প্রকাশের জন্য তৈরি।

আইনি পর্যালোচনা ও চেকলিস্ট

১. ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারা (রদকরণ বা কোয়াশমেন্টের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা):

  • আদালত: এটি বিশেষভাবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা হয়।
  • ভিত্তি: আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধ করা অথবা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (যেমন: দেওয়ানি বিরোধকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফৌজদারি মামলায় রূপান্তর করা, এফআইআর বা চার্জশিটে প্রথম দর্শনে কোনো অপরাধের উপাদান না থাকা, কিংবা আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা)।
  • পর্যায়: এফআইআর দায়ের, অভিযোগ গঠন (Charge Framing) বা সি.আর. নালিশী আবেদন দায়েরের পরপরই এই দরখাস্ত দায়ের করা যায়।

২. ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ ধারার সহিত পঠিতব্য ৪৩৯ ধারা (ফৌজদারি রিভিশন):

  • আদালত: হাইকোর্ট বিভাগ (অথবা অধস্তন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে ৪৩৯এ ধারা অনুযায়ী দায়রা জজ আদালত)।
  • ভিত্তি: অধস্তন ফৌজদারি আদালতের যেকোনো আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশের বৈধতা, সঠিকতা বা যৌক্তিকতা পরীক্ষা করা।
  • সময়সীমা: সাধারণত সংক্ষুব্ধ আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হয়।

টেমপ্লেট ১: ধারা ৫৬১এ-এর অধীনে কোয়াশমেন্ট/বাতিলের দরখাস্ত

মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ

হাইকোর্ট বিভাগ

(ফৌজদারি বিবিধ এখতিয়ার)

ফৌজদারি বিবিধ মামলা নং ________ / ২০____ ইং

বিষয়:

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৫৬১এ ধারার অধীনে অত্র মামলার যাবতীয় কার্যক্রম বাতিল/রদকরণের আবেদন।

এবং

মামলার পক্ষগণ:

[পিটিশনার/আসামির পূর্ণ নাম]

পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]

ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা]

…… পিটিশনার / আবেদনকারী (অধস্তন আদালতের আসামি)

—বনাম—

১. রাষ্ট্র, পক্ষে: ডেপুটি কমিশনার, [জেলার নাম]।

…… ১ নং রেসপনডেন্ট / বিপরীত পক্ষ

২. [নালিশকারী/সংবাদদাতার পূর্ণ নাম]

পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]

ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ঠিকানা]

…… ২ নং রেসপনডেন্ট / নালিশকারী

প্রাপক:

মহামান্য বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর অন্যান্য সঙ্গী মহামান্য বিচারপতিগণের প্রতি সদয় অবগতির জন্য—

আবেদনকারীর পক্ষে বিনীত নিবেদন এই যে—

যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক জানানো যাচ্ছে যে:

১. আবেদনকারী বাংলাদেশের একজন স্থায়ী বাসিন্দা ও আইনমান্যকারী নাগরিক। বিজ্ঞ [অধস্তন বিচারিক আদালতের নাম, যেমন: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা]-এ বিচারাধীন [জি.আর. মামলা নং _____ / সি.আর. মামলা নং _____]-এ আবেদনকারীকে অসৎ উদ্দেশ্যে জড়িত করা হয়েছে।

২. [মামলার বিবরণ]:

২ নং রেসপনডেন্ট গত [তারিখ] তারিখে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির [যেমন: ৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারা]-এর অধীনে একটি মিথ্যা এফআইআর/নালিশী মামলা দায়ের করেন, যেখানে মূল অভিযোগ ছিল [মিথ্যা অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ]।

৩. [কার্যধারার বিবরণ]:

পুলিশ তদন্ত শেষে গত [তারিখ] তারিখে [নম্বর] নম্বর চার্জশিট দাখিল করে (অথবা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট গত [তারিখ] তারিখে অপরাধ আমলে নেন) এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ বিচারিক আদালত গত [অভিযোগ গঠনের তারিখ] তারিখে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

৪. এফআইআর/নালিশী আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ যদি পুরোপুরি সত্য বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও আবেদনকারীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির আওতায় কোনো অপরাধ বা প্রথম দর্শনে গ্রহণযোগ্য মামলা (Prima Facie Case) গঠিত হয় না।

৫. আবেদনকারী এবং ২ নং রেসপনডেন্টের মধ্যকার বিরোধটি সম্পূর্ণভাবে দেওয়ানি ও চুক্তিভিত্তিক প্রকৃতির, যা [লেনদেন/ব্যবসার বিবরণ] থেকে উদ্ভূত। কিন্তু ২ নং রেসপনডেন্ট আবেদনকারীকে হয়রানি, অপমান ও বেআইনি সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে দেওয়ানি বিষয়টিকে অসৎ উদ্দেশ্যে ফৌজদারি রূপ দিয়েছেন।

৬. আবেদনকারীর বিরুদ্ধে এই ফৌজদারি কার্যক্রম পরিচালনা আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহারের শামিল। অতএব, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৫৬১এ ধারার অধীনে উক্ত মামলার যাবতীয় কার্যক্রম বাতিল করা আবশ্যক।

৭. বিজ্ঞ [অধস্তন আদালতের নাম]-এ বিচারাধীন [মামলা নম্বর]-এর কার্যধারা অব্যাহত থাকায় সংক্ষুব্ধ হয়ে আবেদনকারী নিম্নে বর্ণিত গ্রাউন্ডস বা যুক্তিসমূহের ওপর ভিত্তি করে মহামান্য আদালতের নিকট প্রার্থনা জানাচ্ছেন:

গ্রাউন্ডস (আইনি যুক্তি)

১. যেহেতু এফআইআর/নালিশী দরখাস্তের বক্তব্য দণ্ডবিধির [যেমন: ৪০৬/৪২০] ধারার মূল উপাদানসমূহ পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, তাই এর ওপর ভিত্তি করে অপরাধ আমলে নেওয়া আইনি দৃষ্টিতে অচল।

২. যেহেতু আক্ষেপিত এই মামলাটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও অসদ্ব্যবহারের ফল এবং একটি বিশুদ্ধ দেওয়ানি/আর্থিক বিরোধকে জোরপূর্বক ফৌজদারি মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে।

৩. যেহেতু এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে বিচারপ্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া আবেদনকারীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে এবং এটি আদালতের প্রক্রিয়ার একটি স্পষ্ট অপব্যবহার।

৪. যেহেতু নথিপত্রে বিদ্যমান সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আবেদনকারীর দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার কোনো দূরবর্তী সম্ভাবনাও নেই, তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে অত্র মামলাটি বাতিল বা কোয়াশমেন্ট করা অপরিহার্য।

৮. একই তথ্য ও মামলার কারণের ওপর ভিত্তি করে পূর্বে মহামান্য আদালতে ৫৬১এ ধারায় অন্য কোনো আবেদন দায়ের করা হয়নি।

৯. এই আবেদনটি সরল বিশ্বাসে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে পেশ করা হলো।

প্রার্থনা

অতএব, বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, মহামান্য আদালত মেহেরবানি করে:

ক) রেসপনডেন্টগণের প্রতি একটি ‘রুল নিসি’ (Rule Nisi) জারি করবেন যে, বিজ্ঞ [অধস্তন আদালতের নাম]-এ বিচারাধীন [জি.আর. মামলা নং _____ / সি.আর. মামলা নং _____]-এর কার্যক্রম কেন বাতিল করা হবে না;

খ) রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় [জি.আর. মামলা নং _____ / সি.আর. মামলা নং _____]-এর যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিতের (Stay) আদেশ প্রদান করবেন;

গ) পক্ষগণের শুনানি শেষে রুলটি চূড়ান্ত (Absolute) ঘোষণা করবেন;

ঘ) ন্যায়বিচারের স্বার্থে মহামান্য আদালত অন্য যে আদেশ বা নির্দেশ উপযুক্ত মনে করেন তা প্রদান করতে মর্জি হয়।

এবং এই দয়াপূর্ণ কাজের জন্য আবেদনকারী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

হলফনামা (AFFIDAVIT)

আমি, [হলফকারীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], বয়স: প্রায় [বয়স] বছর, ধর্ম: [ধর্ম], পেশা: [পেশা], সাং: [ঠিকানা], জাতীয় পরিচয়পত্র নং: [এনআইডি নম্বর], সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষণা করছি যে:

১. আমি এই মামলার পিটিশনার / পিটিশনারের মনোনীত তাদবীরকারক এবং মামলার ঘটনা ও পারিপার্শ্বিকতার সাথে পূর্ণ পরিচিত।

২. ওপরে বর্ণিত ১ থেকে ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের তথ্যাদি আমার জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে সত্য ও সঠিক।

আজ [তারিখ] দিন, [মাস], ২০____ ইং তারিখে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ, ঢাকায় আমি এই সত্যপাঠে নিজ স্বাক্ষর প্রদান করলাম।

হলফকারীর স্বাক্ষর

আজকে আমার সম্মুখে সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষিত হলো।

কমিশনার অব অ্যাফিডেভিট

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ

টেমপ্লেট ২: ধারা ৪৩৯-এর অধীনে ফৌজদারি রিভিশন পিটিশন

মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ

হাইকোর্ট বিভাগ

(ফৌজিদারি রিভিশন এখতিয়ার)

ফৌজদারি রিভিশন নং ________ / ২০____ ইং

বিষয়:

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৮১-এর ৪৩৫ ধারার সহিত পঠিতব্য ৪৩৯ ধারার অধীন আবেদন।

এবং

বিষয়বস্তু:

বিজ্ঞ [দায়রা জজ / ম্যাজিস্ট্রেট আদালত] কর্তৃক [ফৌজদারি আপিল নং _____ / ফৌজদারি রিভিশন নং _____ / মামলা নং _____]-এ প্রদত্ত [আক্ষেপিত আদেশের তারিখ] তারিখের আদেশের/রায়ের বৈধতা, যৌক্তিকতা ও শুদ্ধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত আবেদন।

এবং

মামলার পক্ষগণ:

[পিটিশনারের পূর্ণ নাম]

…… পিটিশনার (আসামি/দণ্ডপ্রাপ্ত)

—বনাম—

১. রাষ্ট্র

…… ১ নং রেসপনডেন্ট

২. [নালিশকারীর নাম]

…… ২ নং রেসপনডেন্ট

প্রাপক:

মহামান্য বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর অন্যান্য সঙ্গী মহামান্য বিচারপতিগণের প্রতি সদয় অবগতির জন্য—

আবেদনকারীর পক্ষে বিনীত নিবেদন এই যে—

যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক জানানো যাচ্ছে যে:

১. বিজ্ঞ [দায়রা জজ, জেলা]-এর আদালত কর্তৃক প্রদত্ত [তারিখ] তারিখের আক্ষেপিত রায়/আদেশের বিরুদ্ধে এই আবেদনটি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অধস্তন আদালতের দণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়েছে / অব্যাহতির (Discharge) আবেদন নাকচ করা হয়েছে।

২. [মামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য]:

[বিচারপ্রক্রিয়া, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অধস্তন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের সংক্ষিপ্ত বিবরণ]।

৩. বিজ্ঞ অধস্তন আদালত রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যের গুরুতর অসংগতি ও অসঙ্গতিসমূহ বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়ে আইন ও তথ্যের মারাত্মক ভুল করেছেন, যার ফলে চরম বিচারহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।

৪. আক্ষেপিত আদেশ/রায়টি বেআইনি, অযৌক্তিক এবং পদ্ধতিগত অনিয়মে ভরা, যা মহামান্য আদালতের রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগের মাধ্যমে বাতিলযোগ্য।

গ্রাউন্ডস (আইনি যুক্তি)

১. যেহেতু বিজ্ঞ অধস্তন আদালত সংবিধিবদ্ধ আইন ব্যাখ্যায় ভুল করেছেন এবং নথিতে থাকা প্রমাণাদিতে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

২. যেহেতু নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তসমূহ স্বেচ্ছাচারী এবং বিচারিক সাক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত নয়।

৩. যেহেতু আক্ষেপিত আদেশের ফলে আবেদনকারী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং আইনের দৃষ্টিতে তা টেকসই নয়।

প্রার্থনা

অতএব, বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, মহামান্য আদালত মেহেরবানি করে:

ক) বিজ্ঞ অধস্তন আদালত হতে [মামলা নম্বর]-এর নথি (LCR) তলব করবেন;

খ) রেসপনডেন্টগণের প্রতি একটি ‘রুল নিসি’ जारी করবেন যে, [তারিখ]-এর আক্ষেপিত আদেশ/রায় কেন বাতিল করা হবে না;

গ) রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় আক্ষেপিত আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করবেন এবং আবেদনকারীকে জামিন (Ad-Interim Bail) প্রদান করবেন;

ঘ) শুনানি শেষে রুলটি চূড়ান্ত ঘোষণা করে আক্ষেপিত আদেশ/রায় বাতিল করবেন।

এবং এই দয়াপূর্ণ কাজের জন্য আবেদনকারী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত ফৌজদারি রিভিশন পিটিশনের সাথেও টেমপ্লেট ১-এ দেখানো বিন্যাস অনুযায়ী একটি শপথকৃত ‘হলফনামা’ সংযুক্ত করতে হবে।)

খসড়া টেমপ্লেট: দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ এবং নালিশী দরখাস্ত (চেক ডিজঅনার মামলা)

নিচে দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার জন্য পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারযোগ্য খসড়া টেমপ্লেটসমূহ দেওয়া হলো, যা বাংলাদেশের আইনি অনুশীলনের উপযোগী এবং law.gurukul.edu.bd-এ প্রকাশের উপযুক্ত।

আইনি প্রক্রিয়া ও সময়সীমার চেকলিস্ট

  1. চেক উপস্থাপন: চেকটি ইস্যুর মেয়াদ বা কার্যকর থাকার সময়সীমার মধ্যে (সাধারণত ইস্যুর তারিখ হতে ৩–৬ মাস) ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
  2. সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ: ব্যাংক থেকে চেক ডিজঅনার মেমো (Bank Dishonour Memo) প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে অবশ্যই আইনি নোটিশ পাঠাতে হবে [ধারা ১৩৮(১)(খ)]।
  3. নোটিশের সময়সীমা: অভিযুক্ত ড্রয়ারকে (চেক প্রদানকারী) নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে অর্থ পরিশোধের জন্য ৩০ দিন সময় দিতে হবে [ধারা ১৩৮(১)(গ)]।
  4. নালিশী মামলা (সি.আর. মামলা) দায়ের: ৩০ দিনের নোটিশের সময়সীমা পার হওয়ার পর পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সিএমএম/সিজেএম আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে [ধারা ১৪১]।

টেমপ্লেট ১: সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ

(অ্যাডভোকেটের অফিশিয়াল লেটারহেডে প্রিন্ট করতে হবে)

রেফ নং: [চেম্বার/রেফ/২০২৬/০০১]

তারিখ: [ইস্যুর তারিখ, যেমন: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬]

এ/ডি সহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে / হাতে হাতে প্রেরিত

প্রাপক:

[অভিযুক্ত/ড্রয়ারের পূর্ণ নাম]

পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]

স্থায়ী ঠিকানা: [গ্রাম/বাসা, সড়ক, থানা/উপজেলা, জেলা]

বর্তমান ঠিকানা: [গ্রাম/বাসা, সড়ক, থানা/উপজেলা, জেলা]

বিষয়: [চেক নম্বর] নম্বর চেকে উল্লিখিত [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ]) টাকা ডিজঅনার হওয়ায় দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ।

জনাব/জনাবে,

আমার মক্কেল, [নালিশকারী/প্রাপকের পূর্ণ নাম], পিতা: [পিতার নাম], ঠিকানা: [নালিশকারীর ঠিকানা]-এর প্রাপ্ত নির্দেশনা ও পক্ষে আমি এতদ্বারা আপনাকে নিম্নবর্ণিত সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ প্রদান করছি:

১. আমার মক্কেলের সঙ্গে আপনার দীর্ঘদিনের [ব্যবসায়িক/ব্যক্তিগত/চুক্তিভিত্তিক] সম্পর্ক রয়েছে। [লেনদেনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, যেমন: পণ্য সরবরাহ / ব্যক্তিগত ঋণ / [তারিখ] তারিখের চুক্তি]-এর মাধ্যমে সৃষ্ট একটি আইনানুগ বিদ্যমান ঋণ/দায় পরিশোধের লক্ষ্যে আপনি আমার মক্কেলের অনুকূলে [ব্যাংকের নাম], [শাখার নাম]-এর [চেক নম্বর] নম্বরযুক্ত, [চেকের তারিখ] তারিখের [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ]) টাকার একটি চেক প্রদান করেন।

২. চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন করলে ক্যাশ হবে—আপনার এমন সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমার মক্কেল উক্ত চেকটি ক্যাশ করার জন্য তাঁর ব্যাংক, [নালিশকারীর ব্যাংকের নাম], [শাখার নাম]-এ [উপস্থাপনের তারিখ] তারিখে জমা দেন।

৩. কিন্তু উক্ত চেকটি আপনার ব্যাংক কর্তৃক [মেমোর তারিখ] তারিখের রিটার্ন মেমোসহ অনাদায়ী/ডিজঅনার হয়ে ফেরত আসে, যাতে কারণ উল্লেখ করা ছিল: “[যেমন: অপর্যাপ্ত তহবিল / হিসাব বন্ধ / স্বাক্ষরের অমিল]”। আমার মক্কেল উক্ত ডিজঅনার মেমোটি [মেমো প্রাপ্তির তারিখ] তারিখে গ্রহণ করেন।

৪. আপনার ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত তহবিল না রেখে চেক প্রদান করে আপনি দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ (অধাবধি সংশোধিত)-এর ১৩৮ ধারার অধীনে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেছেন।

অতএব, এই আইনি নোটিশের মাধ্যমে আপনাকে আহ্বান জানানো যাচ্ছে যে, এই নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চেকে উল্লিখিত [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ]) টাকা আমার মক্কেলকে পূর্ণ পরিশোধ করবেন।

বিশেষভাবে অবহিত থাকুন যে, যদি আপনি উল্লিখিত ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে উক্ত দায় পরিশোধে ব্যর্থ হন, তবে আমার মক্কেল আইনানুগ এখতিয়ারসম্পন্ন জুডিশিয়াল/মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপনার বিরুদ্ধে দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে বাধ্য হবেন, যেখানে আপনার ১ (এক) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা চেকে উল্লিখিত টাকার তিনগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়ার যাবতীয় খরচের দায়ও আপনাকে বহন করতে হবে।

ভবিষ্যৎ আইনি রেফারেন্সের জন্য এই নোটিশের একটি অনুলিপি আমার চেম্বারে সংরক্ষণ করা হলো।

ইতি,

[অ্যাডভোকেটের পূর্ণ নাম]

অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট / জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন

[চেম্বার ঠিকানা]

মোবাইল: [ফোন নম্বর] | ইমেইল: [ইমেইল ঠিকানা]

টেমপ্লেট ২: নালিশী দরখাস্ত (সি.আর. মামলা)

বিজ্ঞ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট / চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, [জেলার নাম]

সি.আর. (কমপ্লেট রেজিস্টার) মামলা নং: ________ / ২০____ ইং

বিষয়:

দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ (১৮৮১ সালের ২৬ নং আইন)-এর ১৪০/১৪১ ধারার সহিত পঠিতব্য ১৩৮ ধারার অধীন দরখাস্ত।

এবং

মামলার পক্ষগণ:

[নালিশকারীর পূর্ণ নাম]

পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]

ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ঠিকানা]

জাতীয় পরিচয়পত্র নং: [এনআইডি নম্বর]

…… নালিশকারী / ফরিয়াদী

—বনাম—

[অভিযুক্ত/ড্রয়ারের পূর্ণ নাম]

পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]

ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা]

…… অভিযুক্ত / আসামি

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: ড্রয়ার যদি কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান হয়, তবে ১৪০ ধারা অনুযায়ী কোম্পানিকে ১ নং আসামি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক/পরিচালককে ২ নং আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে হবে)

সম্মানপূর্বক বিনীত আরজি এই যে:

১. নালিশকারী বাংলাদেশের একজন আইনমান্যকারী নাগরিক এবং [পেশা/ব্যবসার বিবরণ]। আসামি নালিশকারীর পরিচিত/ব্যবসায়িক অংশীদার এবং [পেশা/ব্যবসার বিবরণ]।

২. [চুক্তি/ঋণ/লেনদেনের বিবরণ]-এর মাধ্যমে সৃষ্ট একটি আইনানুগ বিদ্যমান ঋণ বা দায় পরিশোধের উদ্দেশ্যে আসামি নালিশকারীর অনুকূলে একটি চেক ইস্যু করেন, যার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

  • চেক নম্বর: [চেক নং]
  • তারিখ: [চেকের তারিখ]
  • টাকার পরিমাণ: [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ])
  • ব্যাংকের নাম: [আসামির ব্যাংকের নাম ও শাখার নাম]

৩. নালিশকারী উক্ত চেকটি ভাঙানোর জন্য [উপস্থাপনের তারিখ] তারিখে তাঁর ব্যাংক, [নালিশকারীর ব্যাংক ও শাখা]-এ জমা দেন। কিন্তু আসামির ব্যাংক কর্তৃক [মেমোর তারিখ] তারিখের রিটার্ন মেমোর মাধ্যমে “[ডিজঅনারের কারণ, যেমন: অপর্যাপ্ত তহবিল]” মন্তব্যে চেকটি অনাদায়ী/ডিজঅনার অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়। নালিশকারী [মেমো প্রাপ্তির তারিখ] তারিখে উক্ত মেমো গ্রহণ করেন।

৪. চেক ডিজঅনার হওয়ার পর, নালিশকারী তাঁর নিয়োজিত অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে [আইনি নোটিশের তারিখ] তারিখে এ/ডি সহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে আসামির ওপর সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ জারি করেন, যাতে নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চেকের সমপরিমাণ টাকা পরিশোধের দাবি জানানো হয়।

৫. উক্ত আইনি নোটিশটি আসামির ওপর [নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ] তারিখে যথাযথভাবে জারি/গৃহীত হয় (অথবা [তারিখ] তারিখে “প্রত্যাখ্যান/দাবিহীন” মন্তব্যে অনাদায়ী অবস্থায় ফেরত আসে)।

৬. সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ যথাযথভাবে জারি হওয়া সত্ত্বেও আসামি বাধ্যতামূলক ৩০ (ত্রিশ) দিন সময়সীমার মধ্যে চেকের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন ও অবহেলা প্রদর্শন করেন, যা [৩০ দিনের মেয়াদ শেষের তারিখ] তারিখে অতিক্রান্ত হয়েছে।

৭. নালিশকারীর পাওনা টাকা পরিশোধে আসামির ব্যর্থতার কারণে ৩০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর [মামলার কারণ উদ্ভব হওয়ার তারিখ, অর্থাৎ নোটিশ প্রাপ্তির ৩১ তম দিন]-এ মামলার কারণ (Cause of Action) উদ্ভূত হয়। দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৪১ ধারায় নির্ধারিত ১ (এক) মাসের আইনি তামাদি মেয়াদের মধ্যেই এই নালিশী দরখাস্তটি দায়ের করা হলো।

৮. যেহেতু এই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, চেক জমা দেওয়া হয়েছে এবং অত্র বিজ্ঞ আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ারের মধ্যে চেকটি ডিজঅনার হয়েছে, সেহেতু বিজ্ঞ আদালত অত্র মামলার বিচার ও নিষ্পত্তির পূর্ণ এখতিয়ার রাখেন।

৯. অত্র নালিশী দরখাস্তের সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি ‘ক’ থেকে ‘ঙ’ অনুচ্ছেদ হিসেবে সংলগ্ন করা হলো।

প্রার্থনা

অতএব, বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, হুজুর মেহেরবানি করে:

ক) দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে গ্রহণ করবেন;

খ) আদালতে আসামির উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আসামির বিরুদ্ধে সমন / গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন;

গ) উক্ত আইনের ১৩৮ ধারায় আসামির বিচার করে উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করবেন এবং ১৩৮(১) ধারা অনুযায়ী চেকে বর্ণিত টাকার তিনগুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ/অর্থদণ্ড নালিশকারীকে প্রদানের আদেশ দান করবেন;

ঘ) ন্যায়বিচারের স্বার্থে অন্য যে আদেশ বা আদেশসমূহ উপযুক্ত মনে করেন তা প্রদান করতে মর্জি হয়।

এবং হুজুরের এই সুবিচারের জন্য নালিশকারী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

কাগজপত্রের তালিকা (সংযুক্তি)

১. সংযুক্তি – ক: [তারিখ] তারিখের [চেক নম্বর] নম্বর মূল চেক।

২. সংযুক্তি – খ: [তারিখ] তারিখের মূল ব্যাংক রিটার্ন মেমো।

৩. সংযুক্তি – গ: [তারিখ] তারিখের সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশের অনুলিপি।

৪. সংযুক্তি – ঘ: মূল ডাক রসিদ ও এ/ডি কার্ড (বা ডাক বিতরণের রিপোর্ট)।

৫. সংযুক্তি – ঙ: নালিশকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্টের অনুলিপি।

সাক্ষীদের তালিকা

১. নালিশকারী (স্বয়ং)

২. ব্যবস্থাপক / অনুমোদিত প্রতিনিধি, [নালিশকারীর ব্যাংক ও শাখার নাম]।

৩. ব্যবস্থাপক / অনুমোদিত প্রতিনিধি, [আসামির ব্যাংক ও শাখার নাম]।

৪. [লেনদেনের কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী থাকলে তাঁর নাম ও ঠিকানা]।

সত্যপাঠ / যাচাইকরণ

আমি, [নালিশকারীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], বয়স: প্রায় [বয়স] বছর, ধর্ম: [ধর্ম], পেশা: [পেশা], সাং: [ঠিকানা], সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষণা করছি যে:

অত্র নালিশী দরখাস্তের ১ থেকে ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত তথ্যাদি আমার জ্ঞান, বিশ্বাস ও আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী সত্য ও সঠিক। আজ [তারিখ] দিন, [মাস], ২০____ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত প্রাঙ্গণে, [জেলার নাম]-এ আমি এই সত্যপাঠে নিজ স্বাক্ষর প্রদান করলাম।

নালিশকারীর স্বাক্ষর

ভূমির সিকস্তি ও পয়স্তি

সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের ফেসবুক পাতায় অনেকেই সিকস্তি ও পয়স্তি বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন। এই দুটি বিষয় মূলত নদীভাঙন ও চর জেগে ওঠার সাথে সম্পর্কিত।

শব্দার্থ

  • সিকস্তি (Diluvion)
    ফার্সি শব্দ। অর্থ— নদীর ভাঙনে জমি বিলীন হওয়া।

  • পয়স্তি (Alluvion)
    এটিও ফার্সি শব্দ। অর্থ— ভেঙে যাওয়া জমি আবার চর হিসেবে নতুন করে উত্থিত হওয়া।

ভূমির সিকস্তি ও পয়স্তি
নদী ভাঙ্গন

ভূমির সিকস্তি ও পয়স্তি

নদী ভাঙন ও ভূমির সিকস্তি–পয়স্তি বিষয়ে আইনসমূহ

বাংলাদেশে সিকস্তি ও পয়স্তি সংক্রান্ত আইনগুলো সময়ের সঙ্গে একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। নিচে ধারাবাহিকভাবে তা তুলে ধরা হলো—

১. ১৮২৫ সাল

Alluvion & Diluvion Regulation
এই আইনের মাধ্যমেই প্রথমবার নদীভাঙন ও চরজমির বিষয়ে আইন করা হয়। বর্তমানে এটি কার্যকর নেই।

২. ১৯২৩ সাল

The Bengal Alluvion Lands Act
এই আইনটিও বর্তমানে বলবৎ নেই।

৩. ১৯৫০ সাল

প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ – ধারা ৮৬
এখানে বলা হয়—

সিকস্তি জমি যদি ২০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়স্তি হয়, তবে পূর্ব মালিক ৪ বছরের বকেয়া খাজনা পরিশোধ করে জমির মালিকানা ফিরে পাবেন।

৪. ১৯৭২ সাল

পি. ও. ১৩৫/১৯৭২
এই আদেশে বলা হয়—

সিকস্তি জমিতে পূর্ব মালিকের স্বত্ব চিরদিনের জন্য বিলোপ হবে।

৫. ১৯৯১ সাল

অধ্যাদেশ নং ৩/১৯৯১
এতে বলা হয়—

যদি সিকস্তি জমি ২০ বছরের মধ্যে পয়স্তি হয়, তবে পূর্ব মালিকের মালিকানা বহাল থাকবে।

কিন্তু একই বছর—

অধ্যাদেশ নং ২৫/১৯৯১
দ্বারা ৩/১৯৯১ বাতিল করে আবার পি. ও. ১৩৫/১৯৭২ পুনর্বহাল করা হয়।

৬. ১৯৯৪ সাল

আইন নং ১৫/১৯৯৪
এটি প্রজাস্বত্ব আইনের ৮৬ ধারার সর্বশেষ সংশোধনী।

১৯৯৪ সালের ১৫ নং আইনের মূল রূপরেখা

সিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে পয়স্তি হয়, তবে পূর্ব মালিক বা তাঁর ওয়ারিশরা নিম্নোক্ত শর্তে মালিকানা ফিরে পাবেন—

  • পয়স্তি অবশ্যই স্বস্থানে হতে হবে (Reformation in situ)
  • পূর্ব মালিক বা তাঁর ওয়ারিশদের মোট জমি ৬০ বিঘার বেশি হলে তারা সুবিধা পাবেন না।
  • জেলা প্রশাসক বাস্তব অবস্থা যাচাই করে জমি বরাদ্দ দেবেন।
  • বরাদ্দের পরেও মোট জমি ৬০ বিঘার বেশি হতে পারবে না।
  • এই আইন ১৩ জুলাই ১৯৯৪-এর পর সিকস্তি/পয়স্তিকৃত জমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
    এর আগের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আইন কার্যকর থাকবে।

স্বস্থানে পয়স্তি (Reformation in situ) কী?

নদীভাঙনের ফলে যদি এক পাড়ের জমি ভেঙে—

  • নদীর অপর পাড়ে, বা
  • ডানে বা বামে
  • সর্বোচ্চ ১ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে
  • চর হিসেবে আবার জেগে ওঠে, তবে সেটিকে স্বস্থানে পয়স্তি বলা হয়।

নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য সিকস্তি ও পয়স্তি বিষয়ক আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আইনগুলো জানা থাকলে ভূমি হারানোর ভয় অনেকটাই কমে আসে এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।

আপনার ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো জটিলতা বা প্রশ্ন থাকলে জানালে যথাসাধ্য দিকনির্দেশনা দিতে পারলে আমি আনন্দিত হব।

 

নতুন চর
নতুন চর

 

পয়স্তি ও শিকস্তির ইতিহাস:

বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম নদীগঠিত বদ্বীপ অঞ্চলগুলোর একটি। দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বের কিছু পার্বত্য এলাকা বাদ দিলে দেশের প্রায় পুরো ভূখণ্ডই নদী দ্বারা গঠিত। তিনটি প্রধান নদী—গঙ্গা/পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র/যমুনা ও মেঘনা—হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বিপুল পরিমাণ বালি ও পলি বহন করে আনে।

প্রতিবছর এই নদীগুলো কোটি কোটি টন পলি জমা করে নদীর তলদেশ উঁচু করে তোলে। কোথাও নদীর পাড় ভেঙে যায়, আবার কোথাও নতুন চর জেগে ওঠে। এভাবেই একদিকে ভূমিক্ষয় (শিকস্তি বা Diluvion) ঘটে, অন্যদিকে নতুন ভূমিগঠন (পয়স্তি বা Alluvion) হয়। এই প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলেই সৃষ্টি হয়েছে চরজমি ও নদীভাঙন কবলিত অঞ্চল।

নদীভাঙন ও চরজাগার এই চক্র প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবন, সম্পত্তি ও অধিকার। ফলে এই পরিবর্তিত জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আইনি ও সামাজিক প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এই বাস্তবতা থেকেই ধীরে ধীরে পয়স্তি ও শিকস্তি সংক্রান্ত আইন ও প্রথা গড়ে ওঠে।

১৮২৫ সালের প্রবিধান: প্রথম আইনগত স্বীকৃতি

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে, বিশেষ করে বিচার-আদালত প্রতিষ্ঠার পর চরজমির মালিকানা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা বাড়তে থাকে। তখন সুস্পষ্ট আইন না থাকায় আদালতগুলো বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে ১৮২৫ সালে “Bengal Alluvion and Diluvion Regulation” জারি করা হয়।

এই প্রবিধানের উদ্দেশ্য নতুন আইন তৈরি করা নয়, বরং তখনকার প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতিকে আইনের স্বীকৃতি দেওয়া। যেখানে স্পষ্ট প্রথা ছিল, সেগুলোকেই বৈধতা দেওয়া হয়। আর যেখানে প্রথা স্পষ্ট ছিল না, সেখানে এই প্রবিধানের মূলনীতিকে আদালতের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে রাখা হয়।

এই আইনে দুই ধরনের জমির কথা বলা হয়—

  • স্বস্থানে পুনর্গঠিত জমি (Reformation in situ)
    অর্থাৎ, যেই জমি নদীতে ভেঙে গেছে, সেটি আবার সেই একই স্থানে জেগে উঠলে পূর্ব মালিক তার অধিকার ফিরে পাবেন।
  • নতুন ভূমিগঠন বা চরজমি
    অর্থাৎ, যেই জমি নতুনভাবে গঠিত হয়েছে এবং আগে কোনো মালিকানার আওতায় ছিল না।

এই দুই ধরনের জমির মালিকানা আলাদা নীতির অধীনে নির্ধারিত হবে।

শিকস্তি জমির মালিকানার ধারণা

১৮২৫ সালের প্রবিধানের একটি মৌলিক ধারণা হলো—
জমি পানির নিচে গেলেও মালিকের অধিকার নষ্ট হয় না।

অর্থাৎ, শিকস্তি হওয়ার পর যতদিন জমি পানির নিচে থাকে, আইনগতভাবে ধরা হয় যে মালিক এখনও তার জমির দখলেই আছেন। যখন সেই জমি আবার দৃশ্যমান হয়, তখন তিনি তার মালিকানা দাবি করতে পারেন।

এই নীতিটি প্রিভি কাউন্সিলের বিচারব্যবস্থায়ও স্বীকৃত হয়েছে এবং পরে বিভিন্ন আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

১৮৫৯ ও ১৮৮৫ সালের আইন

১৮৫৯ সালের বঙ্গীয় খাজনা আইন এবং
১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন—
এই দুই আইনে শিকস্তি ও পয়স্তি বিষয়ক নীতিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এখানে বলা হয়—

  • যদি কোনো প্রজার জমি পয়স্তির কারণে বৃদ্ধি পায়, তবে তাকে অতিরিক্ত খাজনা দিতে হবে।

  • আর যদি শিকস্তির কারণে জমি কমে যায়, তবে তার খাজনাও অনুপাতে কমবে।

১৮৮৫ সালের আইনে পরবর্তীতে ৮৬-ক ধারা যুক্ত হয়, যেখানে বলা হয়—
যদি কোনো প্রজা শিকস্তির কারণে খাজনা কমানোর সুবিধা গ্রহণ করে, তবে তা এই অর্থে ধরা হবে যে তিনি ঐ শিকস্তি জমির অধিকার পরিত্যাগ করেছেন। তবে ১৯৩৮ সালের সংশোধনীতে বলা হয়—
২০ বছরের মধ্যে জমি পুনরায় জেগে উঠলে প্রজা তার অধিকার ফিরে পাবেন।

 

নদীভাঙনের কবলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পদ্মা নদীসংলগ্ন মনপুরা চর
নদীভাঙনের কবলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পদ্মা নদীসংলগ্ন মনপুরা চর

 

১৯৫০ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত আইনগত পরিবর্তন

১. ১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইন

১৯৫০ সালে প্রণীত হয় “জমিদারি তালুক হুকুমদখল ও প্রজাস্বত্ব আইন”। এই আইনে প্রথমবারের মতো পয়স্তি ও শিকস্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ও পৃথক বিধান যুক্ত করা হয়।

ধারা ৮৬ – শিকস্তি জমি

এখানে বলা হয়—

  • শিকস্তির কারণে যদি জমি নষ্ট হয়, তবে প্রজা খাজনা হ্রাসের সুবিধা পাবে।
  • জমি পুনরায় জেগে উঠলে (স্বস্থানে) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রজা তার অধিকার ফিরে পেতে পারে।

ধারা ৮৭ – পয়স্তি জমি

এখানে বলা হয়—

  • নদী বা সমুদ্র থেকে ধীরে ধীরে যে জমি গঠিত হয়, সেটি পয়স্তি জমি।
  • এই জমি তখনকার আইনে মূলত নদীতীরবর্তী মালিকের জমির সম্প্রসারণ বলে ধরা হতো।

এই দুটি ধারা ১৮২৫ সালের প্রবিধানের মূল নীতিকে আধুনিক আইনি কাঠামোতে যুক্ত করে।

২. ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ (পি. ও. ১৩৫/১৯৭২)

১৯৭২ সালের ৪ আগস্ট জারি হয় রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১৩৫/১৯৭২।
এটি ছিল একটি বড় মোড়।

এতে বলা হয়—

শিকস্তি জমিতে প্রজার মালিকানা বিলুপ্ত হবে।
জমি যদি পরে পুনরায় গঠিত হয়, তবে তা সরকারি খাসজমি হিসেবে গণ্য হবে।

অর্থাৎ, আগে যেখানে প্রজার অধিকার বজায় থাকতো, সেখানে এখন সরকার মালিক হবে—এই নীতিই কার্যকর হয়।

তবে একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়—
যদি ১৮২৫ সালের প্রবিধানের আলোকে পূর্বে আদালত বা কর্তৃপক্ষ কোনো প্রজাকে মালিক বলে চূড়ান্তভাবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে, তাহলে সে অধিকার বাতিল হবে না।

৩. ১৯৯৪ সালের সংশোধনী (আইন নং ১৫/১৯৯৪)

দীর্ঘ সামাজিক আন্দোলন ও বাস্তব সংকটের প্রেক্ষিতে সরকার আবার আইন সংশোধন করে।

১৯৯৪ সালের ১৫ নং আইন দ্বারা বলা হয়—

  • শিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পুনর্গঠিত হয়,
  • এবং প্রজার মোট জমি ৬০ বিঘার কম হয়,
  • তবে প্রজা বা তার ওয়ারিশ মালিকানা ফিরে পাবেন।

তবে—

  • ৩০ বছর পার হলে জমি পুনর্গঠিত হলে তা সরকারের সম্পত্তি হবে।
  • প্রজাকে খাজনা হ্রাসের প্রত্যয়নপত্র দেখাতে হবে।

এই আইনই বর্তমানে মূল অবস্থানে পুনর্গঠিত জমির মালিকানা নির্ধারণে প্রযোজ্য।

৪. ১৯৫৬ সালের পর নদীতলের মালিকানা

জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পর (১৯৫৬)—

  • ছোট ও অগভীর নদী যেগুলোর জলকর (মাছ ধরার) অধিকার ছিল,
  • সেগুলোও সরকার অধিগ্রহণ করে।

ফলে এরপর থেকে এসব নদীতে জেগে ওঠা চরও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়।

 

নদী ভাঙ্গন
নদী ভাঙ্গন

 

চর দখল, সহিংসতা ও বর্তমান বাস্তবতা:

১. বড় নাব্য নদীর চর ও মালিকানা

বড় নাব্য নদী (যেমন পদ্মা, যমুনা, মেঘনা) এবং সমুদ্রে গঠিত চরগুলোর ক্ষেত্রে নদীতল বা সমুদ্রতল রাষ্ট্রীয় ও জনসাধারণের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত। তাই এসব নদীতে গঠিত চরকে কোনো ব্যক্তির মূল জমির সম্প্রসারণ বলা যায় না।

তবে ১৮২৫ সালের প্রবিধানে তিনটি ভিন্ন পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে—

ক) ধীরে ধীরে গঠিত চর

যদি অলক্ষ্যে ও ধীরগতিতে চর গঠিত হয়, তবে সেটিকে নদীতীরবর্তী জমির সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

খ) প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন চর

যদি চরটি মূল ভূখণ্ড থেকে একটি নাব্য প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন থাকে এবং সেটি সারা বছর নৌচলাচলযোগ্য হয়, তবে চরটি রাষ্ট্রের সম্পত্তি হবে।
কিন্তু যদি প্রণালীটি পায়ে হেঁটে পার হওয়া যায়, তবে চরটি মূল ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

গ) এভালশান (Avulsion)

যদি নদীর আকস্মিক প্রবাহে একটি জমিখণ্ড হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য জমির সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে চিহ্নিত করা গেলে সেই জমি মূল মালিকেরই থাকবে।

২. চর দখল ও সহিংসতা

নতুন চর অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় এগুলো দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়। বলপ্রয়োগে চর দখলকে সাধারণভাবে “চর দখল” বলা হয়।

এতে দেখা যায়—

  • ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষকে প্রভাবশালী মহল ব্যবহার করে
  • বিনিময়ে তাদের জমি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দেয়
  • ফলে সহিংসতা, দাঙ্গা ও হত্যাকাণ্ড ঘটে

 

৩. ১৯২০ সালের বঙ্গীয় পলিগঠিত ভূমি আইন

এই সমস্যা সমাধানে সরকার ১৯২০ সালে একটি আইন প্রণয়ন করে।

এই আইনে বলা হয়—

  • যদি কোনো চর নিয়ে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকে,
  • তবে কালেক্টর লিখিত আদেশে সেই জমি ক্রোক করতে পারবেন
  • রিসিভার নিয়োগ করে জমি ব্যবস্থাপনা করবেন
  • দাবিদারদের আবেদন নিয়ে জেলা জজ স্বত্ব নির্ধারণ করবেন

কিন্তু বাস্তবে এই আইন খুব কম প্রয়োগ হয়েছে।

৪. বর্তমান বাস্তবতা

আজকের আইন অনুযায়ী—

শিকস্তির ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পুনর্গঠিত জমি ছাড়া সকল চরভূমি রাষ্ট্রের সম্পত্তি।

এই জমিগুলো সরকার বিধি অনুযায়ী বন্দোবস্ত দিতে পারে।

পয়স্তি ও শিকস্তির ইতিহাস শুধু আইনের গল্প নয়, এটি লাখো মানুষের জীবনের গল্প। নদী যেমন ভূমি গড়ে, তেমনি ভূমি ভেঙে জীবনও ভেঙে দেয়। সঠিক আইন প্রয়োগ ও স্বচ্ছ জরিপই পারে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে।

বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থা

একটি রাষ্ট্রের সকল আইন, শাসনব্যবস্থা ও নাগরিক অধিকারের মূল ভিত্তি হলো সংবিধান। সংবিধানকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন বলা হয়। রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, ক্ষমতার উৎস কোথায়, নাগরিকদের অধিকার কী—এসব প্রশ্নের উত্তরই সংবিধানে নির্ধারিত থাকে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে উঠেছে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ভিত্তিতে।

বাংলাদেশের সংবিধান

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয় ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে এবং কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২। এটি প্রণয়ন করেন গণপরিষদের সদস্যরা, যার নেতৃত্ব দেন ড. কামাল হোসেন। সংবিধানটি চারটি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত—

  1. জাতীয়তাবাদ

  2. সমাজতন্ত্র

  3. গণতন্ত্র

  4. ধর্মনিরপেক্ষতা

এই চার মূলনীতি রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা ও আদর্শ নির্ধারণ করে।

সংবিধানের বৈশিষ্ট্য

বাংলাদেশের সংবিধানের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—

  • এটি একটি লিখিত সংবিধান
  • এটি কঠোর ও সুপ্রিম সংবিধান, অর্থাৎ সব আইনের ঊর্ধ্বে
  • গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করে
  • সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করেছে
  • ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি (বিধান, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ)
  • মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা
  • রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালার সংযোজন
  • স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা

 

মৌলিক অধিকার

সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬–৪৭) নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এগুলো লঙ্ঘিত হলে নাগরিক আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। উল্লেখযোগ্য অধিকারসমূহ—

  • আইনের দৃষ্টিতে সমতা
  • জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার
  • মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
  • ধর্ম পালনের স্বাধীনতা
  • চলাচলের স্বাধীনতা
  • সংগঠন গঠনের অধিকার
  • সম্পত্তির অধিকার
  • ন্যায়বিচার লাভের অধিকার

এই অধিকারগুলো রাষ্ট্রের স্বেচ্ছাচার রোধ করে এবং নাগরিককে নিরাপত্তা দেয়।

রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা

সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিসমূহ উল্লেখ আছে। এগুলো সরাসরি আদালতে প্রয়োগযোগ্য নয়, তবে রাষ্ট্রের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে। যেমন—

  • সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
  • শ্রমিকের অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা
  • নারীর অধিকার ও সমতা নিশ্চিতকরণ
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রসার
  • গ্রামীণ উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন

 

সংবিধান সংশোধনীসমূহ

এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধানে ১৭টি সংশোধনী হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ—

  • চতুর্থ সংশোধনী (১৯৭৫): একদলীয় শাসন ব্যবস্থা
  • পঞ্চম সংশোধনী: সামরিক শাসন বৈধকরণ (পরে বাতিল)
  • অষ্টম সংশোধনী: ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা
  • ত্রয়োদশ সংশোধনী: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
  • পঞ্চদশ সংশোধনী: তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল

এসব সংশোধনী রাষ্ট্রব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে।

গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলা

বাংলাদেশের সংবিধান রক্ষায় বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মামলা—

  • পঞ্চম সংশোধনী মামলা: সামরিক শাসন অবৈধ ঘোষণা
  • ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলা: তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল
  • মাসদার হোসেন মামলা: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত
  • ইলিয়াস আলী বনাম রাষ্ট্র: মৌলিক অধিকার রক্ষা

এই মামলাগুলো সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে।

সংবিধান শুধু একটি আইনি দলিল নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয় ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংবিধানের আলোকে পরিচালিত হয়। তাই সংবিধান সম্পর্কে সচেতনতা নাগরিক দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

দলিল ও খতিয়ান ছক

আজকে আমরা আলোচনা করবো দলিল ও খতিয়ান ছক।

 

 

দলিল ও খতিয়ান ছক
দলিল ও খতিয়ান ছক

 

ব্রিটিশ আমলের অনেক দলিলে আগেকার কাঠার নিয়মে জমির কাত দেখিয়েছেন। যেমন ২১ কাঠা বলতে কত কাঠা বুঝায় ১ কাঠা বলতে কত কাঠা বুঝায় । হয়ত এমনও লেখা থাকতে পারে ॥ ৪ কাঠার কাত ।।২ কাঠা। আগের দিনে সের যেভাবে লেখার নিয়ম ছিল কাঠাও একই প্রণালীতে লেখার নিয়ম ছিল । শুধু দশ সেরে ১ চৌক হতে ৪ চৌকে ১ মণ হত কিন্তু কাঠার বেলায় ৫ কাঠায় ১ চৌক হত এভাবে ৪ চৌকে বা ২০ কাঠায় ১ বিঘা হত ।

 

দলিল ও খতিয়ান ছক

ছকের খতিয়ানে ক = ২ আনা, খ = ৩ আনা, গ = ৪ আনা, ১ আনা = ৫ আনা, চ= ১ আনা ।

মালিকের অংশের কলামটি যোগ করে দেখা যাক— ২ আনা + ৩ আনা +8 আনা + ১ আনা + ৫ আনা + ১ আনা মোট ১৬ আনা বা ১ টাকা’।

এই খতিয়ানে মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ এর মধ্যে কে কতটুকু পায় তা কিভাবে হিসাব করতে হবে তা বুঝানো হল। 

মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ ১ টাকা অর্থাৎ ১৬ আনার উপর ভাগ করে

ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের জমির পরিমাণ পাওয়া যাবে।

জমির উপর খাজনার হিসাব পূর্বে খাজনার হিসাব ছিল এভাবে—

৫ গন্ডা বা ৩ পাই এ ১ পয়সা = ৫২ পয়সা (১০

৪ পয়সা বা ১২ পাই এ ১ আনা =) ৩ পয়সা ১৫

পাই এর অংকের পর ‘পাই’ কথাটি লিখতে হয়। নতুবা গণ্ডা বলে ধরা হয়। কে কত টাকা রাজস্ব বা খাজনা দিবে তার হিসাব করছি মোট খাজনাকে ১৬ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে অংশ দ্বারা গুণ করলে উহা বের হবে। (বর্তমান হিসাবে)।

 

খতিয়ান  নং ৩০

এই খতিয়ানে মোট জমি ৩ একর ৫২ শতাংশ এর মধ্যে কে কতটুকু পায় তা কিভাবে হিসাব করতে হবে তা দেখান হল।

৩ একর ৫২ শতাংশ = ৩00 + 2 = ৩৫২ শতাংশ। এখন মোট জমি অর্থাৎ ৩৫২ শতাংশকে ১০০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলেই মালিকের সম্পত্তির পরিমাণ জানা যাবে।

সুতরাং (ক) ০.১২ ভাগে পায় (৩৫২x.১২) = ৪২.২৪ শতাংশ বা সোয়া ৪২ শতাংশ (খ) ০.১৭ ভাগে পায় (৩৫২.১৭) = ৫৯.৮৪ শতাংশ বা ৬০ শতাংশ

(গ) ০.১৯ ভাগে পায় (৩৫২.১৯) = ৬৬.৮৮ শতাংশ বা ৬৭ শতাংশ

(ঘ) ০.২৫ ভাগে পায় (৩৫২.২৫) = ৮৮ শতাংশ

(ঙ) ০.০৭ ভাগে পায় (৩৫২.০৭) = 24.64 শতাংশ বা ২৫ শতাংশ

(চ) ০.০৬ ভাগে পায় (৩৫২.০৬) = ২১.১২ শতাংশ বা ২১ শতাংশ

(ছ) ০.০৪ ভাগে পায় (৩৫২×.০৪) = ১৪.০৮ শতাংশ বা ১৪ শতাংশ

(জ) ০.০২ ভাগে পায় (৩৫২.০২) = ০৭.০৪ শতাংশ বা ৭ শতাংশ (ঝ) ০.০৮ ভাগে পায় (৩৫২.০৮) = ২৮.১৬ শতাংশ বা ২৮ শতাংশ

খতিয়ানে ক, খ, গ, ঘ, ঙ ইত্যাদি দেয়া আছে। ধরে নিতে হবে যে, অক্ষরগুলোই কোন ব্যক্তি বা মালিকের নাম বুঝানোর জন্য দেয়া হয়েছে ।

খতিয়ান  নং ৪০

মালিকের অংশের ঘরটা যোগ করি :

১০ গণ্ডা + ১৭ গণ্ডা + ১৩ গণ্ডা + ৮ গণ্ডা +১২ গণ্ডা + ২ গন্ডা + ১৩ গণ্ডা + ৬ পা + ১২ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা মোট ১০০ গণ্ডা ১০০ গণ্ডায় ৫ আনা (যেহেতু ২০ গণ্ডায় এক আনা) হওয়ার দরুন কিছুই বসে নাই। (হাতে ৫ আনা এখন আনা যোগ করি = ১ আনা + ১ আনা + ২ আনা + ৩ আনা + ১ আনা + ২ আনা + ১ আনা = হাতের ৫ আনা মোট = ১৬ আনা বা ১.০০ টাকা।

এখন মোট জমিকে ১ টাকার উপর ভাগ করে ভাগফলকে অংশীদারের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের অংশ বের হবে। হিসাবের সুবিধার জন্য মোট জমিকে শতাংশ করি এবং মালিকের অংশের ঘরকেও গন্ডায় পরিণত করি। মোট জমি ২ একর ৪০ শতাংশকে সব শতাংশ করলে হয় (১০০ শতাংশে ১ একর)। সুতরাং, ১০০ x ২ +৪০ = ২০০+৪০ = ২৪০ শতাংশ।

মালিকের অংশগুলো গণ্ডায় পরিণত করলে মোট গন্ডার পরিমাণ হয় ১ টাকা =১৬ আনা ।

আবার ২০ গন্ডায় ১ আনা। সুতরাং ১ টাকা = মোট গণ্ডা হয় ১৬×২০ = ৩২০ গণ্ডা। মোট জমিকে ৩২০ দ্বারা ভাগ করে দেখি প্রতি গণ্ডায় কি পরিমাণ জমি হয়। হিসাবের সুবিধার্থে মালিকের অংশগুলো সর্বনিম্ন এককে পরিণত করি (এখানেগণ্ডা হচ্ছে সর্বনিম্ন একক)।

খুব ভাল করে মনে রাখবেন, আনার ডানে বসে গন্ডা, গন্ডার ডানে বসে কড়া, কড়ার ডানে বসে কাপ অথবা ক্রান্তি। এক এক খতিয়ানে এক এক রকম থাকে অর্থ কাগে থাকলে সে খতিয়ান কাগের সূত্রে হিসাব হয়। ক্রান্তি থাকলে সে খতিয়ান ক্রান্তি সূত্রে হিসাব হয়। কাগ ক্রান্তির ডানে যথাক্রমে তিল/দন্তি সেই অনুসারে হিসাব। তিলের ডানে রেনু, রেনুর ডানে ঘুন বসে। এদের মধ্যে গণ্ডা, দণ্ডি, তিল এই সংকেতগুলো বাংলায় পাওয়া যায়।

খতিয়ান  নং ৫০

৫০নং খতিয়ানের মোট জমি ৯ একর ৭৫ শতাংশ। মালিকের অংকের ঘরটা যোগ করি

(.১২+.১০+.১৩+.১৩+.১৪+.১৬+.১২+.০৫ +.০৩ +.০২) =১.০০

মোট জমি ১০০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে কে কতটুকু পায় তা বের হবে।

ক, ১২ অংশ পায় ১৭৫× ১২ = ১১৭ শতাংশ বা ১ একর ১৭ শতাংশ

খ, ১০ অংশ পায় ৯৭৫x১০ = ৯৭.৫ শতাংশ বা ৯৭ শতাংশ

গ, ১৩ অংশ পায় ৯৭৫X ১৩ = ১২৬.৭৫ শতাংশ বা ১ একর ২৭ শতাংশ

ঘ, ১৩ অংশ পায় ১৭৫X ১৩ = ১৬.৫ বা ১ একর ২৭ শতাংশ

ঙ, ১৪ অংশ পায় ৯৭৫x১৪ = ১৩৬.৫ বা ১ একর ৩৬ শতাংশ

চ, ১৬ অংশ পায় ৯৭৫x১৬ = ১৫৬ শতাংশ বা ১ একর ৫৬ শতাংশ

ছ, ১২ অংশ পায় ৯৭৫× ১২ = ১১৭ শতাংশ বা ১ একর ১৭ শতাংশ

জ, ০৫ অংশ পায় ৯৭৫.০৫ = ৪৮.৭৫ শতাংশ ঝ, ০৩ অংশ পায় ৯৭৫.০৩ = ২৯.২৫ শতাংশ

ঞ. .০২ অংশ পায় ৯৭৫×.০২ = ১৯.৫ শতাংশ

[বিঃ দ্রঃ দশমিকের ডানে ৩ অংকের পর যদি ৫ হতে উপরে সংখ্যা থাকে তা হলে ঐ সংখ্যা উঠিয়ে ০.০১ যোগের নিয়ম রয়েছে।]

খতিয়ান  নং ৬০

 

৬০নং খতিয়ানে মালিকের অংশ

ক = ) ৮। (১ আনা সোয়া ৮ গন্ডা)

খ)১০।। (২ আনা সাড়ে ১০ গন্ডা)

গ =) ১২।। (১ আনা সাড়ে ১২ গন্ডা) ঘ = ) ১৭(১ আনা পৌনে ১৮ গন্ডা)

ঙ = / ১১। (১ আনা সোয়া ১১ গন্ডা) fe

চ = /১৩।। (১ আনা সাড়ে ১৩ গন্ডা)

ছ =) ১২।। (১ আনা সাড়ে ১২ গন্ডা)

জ = ) ১৩। (১ আনা সোয়া ১৩ গন্ডা)

ঝ =)। (২ আনা ১ কড়া

ঞ = (! (১ কড়া)

 

এই খতিয়ানে মোট জমির পরিমাণ ১২ একর ৮০ শতাংশ; তার মধ্যে এই খতিয়ানে পায় (আট আনা) ১২.৮০ / ১৬ = ০.৮X৮=৬.৪

আর সব অন্যান্য খতিয়ানে আছে।

আট আনায় জমির পরিমাণ হয় ৬ একর ৪০ শতাংশ।

এখন এই ৬ একর ৪০ শতাংশ জমিকে ১ টাকার উপর ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে, কোন মালিক কটটুকু পায় তা জানা যাবে। হিসাবের সুবিধার জন্য মালিকের অংশ নিম্নদিকে কড়ায় পরিণত করি (যেহেতু সর্বনিম্ন একক কড়া)।

মনে করা যাক, আমি ৬নং এই খতিয়ান বর্তমান দশমিকের হিসাবে দেখতে চাই এবং সবাইকে বুঝাতে চাই।

কারণ দশমিক সব শিক্ষিত লোকের জানা আছে ।

বইয়ের ৬নং খতিয়ানে সর্বনিম্ন একক রয়েছে কড়া। এখন এই খতিয়ানে ক হতে আরম্ভ করে ঞ পর্যন্ত মোট ১ টাকা হিসাবে বণ্টন করা আছে।

সেই অনুসারে ১ টাকাতে মোট ১২৮০ কড়া (কড়া, ক্রান্তি বিশ্লেষণ এর সূত্র দেওয়া আছে।)

সুতরাং ৭ নং কলামে দাগের মধ্যে অত্র খতিয়ানের অংশ লিখতে হবে ০.৫০। এখন মালিকের অংশ অর্থাৎ ক হতে আরম্ভ করে ঞ পর্যন্ত এর হিসাব করি । আমাদের জানা আছে যে, ১২৮০ কড়াকে ১.০০ টাকা বা ১ এর উপর বন্টিত

আছে।

বিঃ দ্রঃ ০.০০০৭৮ সংখ্যাটি ভাগ হওয়ার দরুন ০.০০০৭৮ কে উঠাইয়া .00 ধরা হয়েছে সূক্ষভাবে।

 

ধরতে গেলে এতে ০.০০০২২ যোগ করা হয়েছে।

 

সুতরাং ৬নং খতিয়ানে সকলের বুঝার জন্য এখন বর্তমান দশমিক অংশ হবে

ক = ০.০৮৮

খ = ০.১৫৮

গ=০.১০২

ঘ = ০.১১৮

৫ = ০.০৯৮

চ = 0.১০৪

ছ = ০.১০১

জ = .১০৪

ঝ = 0.১২৫

ঞ = ০.00১

[পূর্বকার এবং বর্তমান উভয়টি ঠিক আছে কিনা বা কারও কম বেশি হয়েছে কিনা

তা জানার জন্য এই হিসাব জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ ।]

বিঃ দ্রঃ- দশমিক উঠানোর সহজ পদ্ধতি হচ্ছে দশমিকের জন্য ১ ধরা এবং দশমিকের ডানে যত সংখ্যা থাকে ততটি শূন্য ১ এর ডানে বসাতে হবে। অংকের নিয়মমত কাজ করতে হবে।

 

খতিয়ান  নং ৭০

৭০নং খতিয়ানে মোট জমি ২ একর, (২ একর = ২X১০০=২০০ শতাংশ) মধ্যে ৮৯০ অংশ এই খতিয়ানে প্রায় (২০০/১০০০=২০০x.৮৯০) = ১৭৮ শতাংশ বা ১ একর ৭৮ শতাংশ। এখন এই ১ একর ৭৮ শতাংশকে ১.০০০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে প্রত্যেক মালিকের অংশ পাওয়া যাবে।

খতিয়ান  নং ৮০

এই খতিয়ানে মোট জমির পরিমাণ ৩৯ একর, ১ শতাংশ তার মধ্যে ( ।।৯১০) সাড়ে ১০ আনা এই খতিয়ানের দাবী। { ১টাকা= ৩২০ গন্ডা) ৩৯০১/ ৩২০= ১২.১৯ প্রতি গন্ডায় পায় (সাড়ে দশ আনা = ২১০ গন্ডা)। সুতরাং সাড়ে দশ আনায় পায় = ১২.১৯×210 = ২৫.৬০ শতাংশ}

এতে এ খতিয়ান পেয়েছে ২৫ একর ৬০ শতাংশ। হিসাবের সুবিধার্থে এ খতিয়ানের মোট জমিকে শতাংশে পরিণত করি। ২৫ একর ৬০ শতাংশ = (২৫×১০০+৬০) = (২৫০০+৬০) = ২৫৬০ শতাংশ হিসাবের সুবিধার জন্য মালিকের অংশ সব একই জাতীয় রাশি বা কাগে পরিণত করি, যেহেতু সর্বনিম্ন একক কাগ।

২০ গণ্ডায় ১ আনা, ৪ কড়ায় ১ গণ্ডা, ৪ কাগে ১ কড়া

ক এর মোট কাগ= ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ১ গণ্ডা = ২১ গণ্ডা। ২১ গণ্ডা × ৪ = ৮৪ কড়া + ২ কড়া = ৮৬কড়া। ৮৬ কড়া x 8 = ৩৪৪ কাগ + ২ কাগ = ৩৪৬ কাগ ।

খ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ১২ গণ্ডা = ৩২ গণ্ডা। ৩২ গণ্ডা ×৪ = ১২৮ কড়া। ১২৮ কড়া + ১ কড়া = ১২৯ কড়া। ১২৯ কড়া × ৪ = ৫১৬ কাগ। ৫১৬ কাগ + ১ কাগ = ৫১৭ কাগ ।

গ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৩ গণ্ডা = ২৩ গণ্ডা। ২৩ গণ্ডা × ৪ = ৯২ কড়া + ২ কড়া = ৯৪ কড়া। ৯৪ কড়া ×৪ = ৩৭৬ কাগ। ৩৭৬ কাগ + ৩ কাগ = ৩৭৯ কাগ।

ঘ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা = ৪ গণ্ডা = ২৪ গণ্ডা। ২৪ গণ্ডা × ৪ =৯৬ কড়া। ৯৬ কড়া + ২ কড়া = ৯৮ কড়া। ৯৮ কড়া x ৪ = ৩৯২ কাগ। ৩৯২ কাগ + ১ কাগ = ৩৯৩ কাগ ।

ঞ এর মোট কাগ = ২০×১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৫ গণ্ডা = ২৫ গণ্ডা। ২৫ গণ্ডা x 8 = ১০০ কড়া। ১০০ কড়া + ১ কড়া = ১০১ কড়া। ১০১ কড়া x ৪ = ৪০৪ দাগ। ৪০৪ কাগ + ২=৪০৬ কাদ।

চ এর মোট কাগ = ২০ x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৫ গণ্ডা = ২৫ গণ্ডা । ২৫ গণ্ডা X ৪ = ১০০ কড়া। ১০০ কড়া + ২ কড়া = ১০২ কড়া। ১০২ কড়া x 4 = ৪০৮ কাগ। ৪০৮ কাগ + ৩ কাগ = ৪১১ কাগ।

ছ = এর মোট কাগ = ২০ x ৩ = ৬০ গণ্ডা। ৬০ গণ্ডা + ৬ গণ্ডা = ৬৬ গণ্ডা ।

৬৬ গণ্ডা × ৪ কড়া = ২৬৪ কড়া। ২৬৪ কড়া + ২ কড়া। ২৬৬ কড়া ×৪ = ১০৬৪ কাগ। ১০৬৪ কাগ + ১ কাগ = ১০৬৫ কাগ ।

জ এর মোট কাগ= ২০x২ = ৪০ গণ্ডা ৪০ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা = ৪৭ গণ্ডা। ৪৭ গণ্ডা × ৪ = ১৮৮ কড়া। ১৮৮ কড়া + ১ কড়া = ১৮৯ কড়া। ১৮৯ কড়া x ৪ = ৭৫৬ কাগ। ৭৫৬ কাগ + ২ কাগ = ৭৫৮ কাগ।

ঝ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৮ গণ্ডা + = ২৮ গণ্ডা। ২৮ গণ্ডা X ৪ = ১১২ কড়া। ১১২ কড়া + ১ কড়া = ১১৩ কড়া। ১১৩ কড়া x 4 = ৪৫২ কাগ ৪৫২ কাগ + ৩ কাগ = ৪৫৫ কাগ।

ঞ এর মোট কাগ = ২০ x ১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা = ৪ গণ্ডা = ২৪ গণ্ডা। ২৪ গণ্ডা × ৪ = ৯৬ কড়া। ৯৬ কড়া + ১ কড়া = ৯৭ কড়া। ৯৭ ×৪ = ৩৮৮ কাগ। ৩৮৮ কাগ + ২ কাগ = ৩৯০ কাগ ।

১ টাকা = ১৬ আনা x ২০ = ৩২০ গন্ডা। ৩২০ গণ্ডা X ৪ = ১২৮০ কড়া।

১২৮০x৪ = ৫১২০ কাগ । এই খতিয়ানে আসা মোট জমিকে ৫১২০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের অংশ জানা যাবে।

মনে করা যাক এই বইয়ের ৮০নং খতিয়ানকে সকালে বুঝার জন্য দশমিক জানতে চাইল।

৮নং খতিয়ানে সর্বনিম্ন একক রয়েছে কাগ। সুতরাং ক হতে আরম্ভ করে ঞ পর্যন্ত (১নং কলামের) কে, কত কাগ করে পেয়েছে তা প্রথমে বের কারতে হবে।

আর খতিয়ানের ৭নং কলামে কাগের খতিয়ানের অংশটাকে সর্বনিম্ন একক গভা

থাকার দরুন গন্ডার উপর হিসাব করতে হবে। নিম্নে তা দেখানো হল ।

এই বইয়ের ৮০নং খতিয়ানের মালিকদের মোট যে কাগের হিসাব করা আছে তা হতে আমাদের এটা জানা আছে যে,

কড়া ক্রান্তি বিশ্লেষণ হতে আমাদের জানা আছে যে, ৫১২০ কাগ = ১.০০ টাকা বা ১ অংশ হয়েছে। এবং এর মধ্যেই এই খতিয়ানে বন্টিত আছে।

সুতরাং ৭নং কলামে বসবে ০.৬৫৬

৮নং খতিয়ানে দেখতে পাচ্ছি এই খতিয়ানের দাগে জমির পরিমাণ ৩৯ একর ১ শতাংশ তার মধ্যে এই খতিয়ানে এসেছে ০.৬৫৬ অংশ আর সব অন্যান্য খতিয়ানে আছে। এখন এই মোট জমি ৩৯ একর ১ শতাংশকে ১,০০০ দ্বারা ভাগ করলে বুঝা যাবে এই খতিয়ানে কত জমি এসেছে তা দেখান হল হিসাব সুবিধার জন্য একরকে শতাংশ করে ।

 

সুতরাং খতিয়ানের ৭নং কলামের অংশে পায় জমির পরিমাণ (৩৯০১ x ০.৬৫৬) = ২৫৫৯ শতাংশ অর্থাৎ ২৫ একর ৫৯ শতাংশ যেহেতু ১০০ শতাংশে ১ একর) এখন এই ২৫৫৯ শতাংশকে আবার মালিকের মোট অংশ অর্থাৎ ১০০০ দ্বারা ভাগ ঘরে মালিকের স্ব স্ব অংশ দ্বারা গুণ করলে তা জানা যাবে। যেহেতু এখানে হাজারের রে বন্টন রয়েছে ।

মালিকের অংশের ভাগ

২৫৫৯ = ১০০০ = ২৫৫৯ শতাংশ

সুতরাং

ক পায় ২৫৫৯ × ০.০৬৮ = ১৭৪.০১ শতাংশ

খ পায় ২৫৫৯ × 0. 101 = 258.4৫ শতাংশ

গ পায় ২৫৫৯ × ০.০৭৪ = ১৮৯.৩৬ শতাংশ

ঘ পায় ২৫৫৯ × 0.079 = ১৯৭.০৪ শতাংশ 

ঙ পায় ২৫৫৯ × 0.079 = 202.১৬ শতাংশ

চ পায় ২৫৫৯ × ০.০৮০ = ২০৪.৭২ শতাংশ

ছু পায় ২৫৫৯ × ০.২০৮ = ৫৩২.২৭ শতাংশ 

জ পায় ২৫৫৯ × ০.১৪৮ = ৩৭৮.৭৩ শতাংশ

ঝ পায় ২৫৫৯ × 0.089 = 22৭.৭৫ শতাংশ 

ঞ পায় ২৫৫৯ × 0.0१৬ = ১৯৪.৪৮ শতাংশ

 

এভাবে পূর্বকার এবং বর্তমান তুলনা করলে কোন ভুল আছে কিনা রেকর্ডে তা বুঝা সম্ভব । তবে তুলনার ক্ষেত্রে দশমিকের সংখ্যাতে সামান্য গড়মিল থাকতে পারে।”

সাধারণত দশমিকের ৩ ঘর পরে ৫ এর উপরে সংখ্যা থাকলে ঐ সংখ্যাটি উঠিয়ে ১ যোগের নিয়ম রয়েছে যেমন কোন হিসাবে দেখা গেছে যে .২৫৬৭ শতাংশ বা ২৫৬৭ কাঠা বা যাই হোক না কেন শতাংশটার অর্থ হচ্ছে ১ শতাংশ জমিকে ১০,০০০ ভাগে ভাগ করে তার .২৫৬৭ ভাগ। এ ক্ষেত্রে এই সংখ্যার ৭ কে উঠিয়ে যদি ১ যোগ করে ৬কে ৭ করি তবে যোগ করা হয়।

০.০০১ – .০০০৭ = .০০০৩ অর্থাৎ ১ শতাংশ বা কাঠা এর দশ হাজার ভাগের ৩ ভাগ মাত্র। ইহা এ জন্যই নগন্য হিসাবে ধরে হিসাবের সুবিধার জন্য যোগ বা বিয়োগ করা হয় ।

আবার এমনও হতে পারে যে এই ৮০নং নতুন খতিয়ানেরই ছ নামক ব্যক্তি ৭২ শতাংশ জমি প নামক ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করেছে। সে এই খতিয়ানের কত অংশের অংশীদার হবে জানতে চাওয়া হলে। তার হিসাব নিম্নরূপ হবে ।

আমরা ৮০নং নতুন খতিয়ানে দশমিকের হিসাবে দেখতে পাই ছ ব্যক্তি মোট জমি পায় ৫৩২.২৭ শতাংশ। তা হতে ৭২ শতাংশ বিক্রয় করলে থাকে (৫৩২.২৭ – ৭২) = ৪৬০.২৭ শতাংশ ।

ছ এই খতিয়ানের অংশ পেয়েছে ০.২০৮ এবং তাতে মোট জমি পেয়েছে ৫৩২.২৭ শতাংশ। সুতরাং দেখা যায়। (প এর খতিয়ানের অংশ বের করবার জন্য)

নতুন ক্রেতা ব্যক্তি প এই ৮০নং নতুন খতিয়ানের বর্তমান অংশীদার হবে ০.০২৮ আর ছ ব্যক্তির থাকবে (০.২০৮ – ০.০২৮) = ০.১৮ অংশ ।

খতিয়ান  নং ৯০

                  ৯০নং খতিয়ান

এই খতিয়ানে মালিকের অংশের ঘরটা যোগ করি।

 ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি+ ১ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি মোট ১৫ ক্রান্তি। ১৫ ক্রান্তিতে (৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া বিধায়) = ৫ কড়া হয় (হাতে থাকে) এখন কড়া যোগ করি । ২ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ১ কড়া + ৫ কড়া (হাতের) মোট ২০ কড়া (৪ কড়া = ১ গন্ডা বিধায়) ৫ গন্ডা হল (হাতে)।

এখন গন্ডা যোগ করি ১০ গন্ডা + ১২ গন্ডা + ৩ গন্ডা + ১৪ গন্ডা + ৬ গন্ডা + ৮ গন্ডা + ২ গন্ডা + ৪ গন্ডা + ৭ গন্ডা + ৯ গন্ডা এবং হাতের ৫ গন্ডা মোট ৮০ গন্ডা (২০ গন্ডায় ১ আনা বিধায়) ৪ আনা হাতে রইল। এখন আনা যোগ করি ১ আনা + ১ আনা + ১ আনা +১ আনা + ২ আনা + ২ আনা + ১ আনা +১ আনা +১ আনা + ১ আনা এবং হাতের ৪ আনা মোট ১৬ আনা ১৬ আনা= ১ টাকা।

হিসাবের সুবিধার জন্য মালিকের অংশকে ক্রান্তিতে পরিণত করি। (যেহেতু সর্বনিম্ন

একক ক্রান্তি)।

১ আনা = ২০ গন্ডা

৪ কড়া = ১ গন্ডা

৩ ক্রান্তি = ১ কড়া

এভাবে ১ গণ্ডা = ০.০০৩১২৫ টাকা

           ১ কড়া = ০.০০০৭৮১২ টাকা

           ১ কাগ = ০.০০০১৯৫৩ টাকা

           ১ তিল = ০.০০০০০৯৭ টাকা

           ১ রেনু = ০.০০০০০২৪ টাকা

           ১ ঘুন = ০.০০০০০০৬ টাকা

           ১ ক্রান্তি – = ০.০০০২৬০৪ টাকা 

           ১ দন্তি = ০.০০০০৮৬৮ টাকা

           ১ যব = ০.০০০০২৮৯ টাকা

এ খতিয়ানে মোট জমি ৪৬ একর ০৮ শতাংশ। হিসাবের সুবিধার জন্য একরকে

শতাংশে পরিণত করি :

খতিয়ান  নং ১০০

১০০ নং খতিয়ানের মালিকের অংশের ঘর যোগ করি । ২তিল + ১০তিল + ৮তিল + ১৬তিল + ৪তিল মোট ৪০ তিল ।

(২০ তিলে ১ কাগ বিধায়) কিছু বসে নাই (হাতে ২ কাগ)। এখন কাগ যোগ করি। ১ কাগ+ ১ কাগ+ ১ কাগ+ ১ কাগ + ১ কাগ + ১ কাগ এবং হাতের ২ কাগ মোট ৮ কাগ (৪ কাগে ১ কড়া বিধায়) কিছু বসে নাই। (হাতে ২ কড়া) এখন কড়া যোগ করি ১ কড়া + ২ কড়া +১ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া+ ২ কড়া+ ২ কড়া এবং হাতের ২ কড়া মোট ১৬ কড়া (৪ কড়ায় ১ গন্ডা হওয়ার দরুন) কিছু বসে নাই (হাতে ৪ গণ্ডা) এখন গণ্ডা যোগ করি।

৪ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা + ৬ গণ্ডা + ১০ গণ্ডা + ৮গণ্ডা + ২ গণ্ডা + ৪ গণ্ডা + ৬ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা + ২ গণ্ডা+ হাতের ৪ গণ্ডা মোট = ৬০ গণ্ডা (২০ গণ্ডায় ১ আনা বিধায়) কিছু বসে নাই। (হাতে ৩ আনা) এখন আনা যোগ করি। ১ আনা + ২ আনা + ১ আনা + ১ আনা + ১আনা + ১ আনা + ২ আনা + ১ আনা + ১ আনা + ২ আনা এবং হাতে ৩ আনা মোট ১৬ আনা বা ১ টাকা।

মনে করা যাক, এই খতিয়ান থেকে চ-এর অংশ বের করব। এক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভাল হয়।

মোট জমিকে ১৬ আনার উপর ভাগ করে দেখি প্রতি আনায় কি পরিমাণ হয় ।

 

খতিয়ান  নং ১১০

এই খতিয়ানে দুটি দাগ রয়েছে। ১ম দাগ নং ৭৬। এতে মোট জমি ১৫ একর ৩৬ শতাংশ। তার মধ্যে ।)(ছয় আনা) (১৫৩৬ =১৬ = ৯৬ শতাংশ ×৬ = = ৫৭৬) অংশে ৫ একর ৭৬ শতাংশ এসেছে। আর অবশিষ্ট জমি অন্যান্য খতিয়ানে রয়েছে।

দ্বিতীয় দাগ নং ১৮ এতে মোট জমি ৭২ শতাংশ এর মধ্যে ০(১২ আনা) অংশে ৫৪ শতাংশ এই খতিয়ানে পেয়েছে। অবশিষ্ট অন্যান্য খতিয়ানে রয়েছে।