নিচে দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার জন্য পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারযোগ্য খসড়া টেমপ্লেটসমূহ দেওয়া হলো, যা বাংলাদেশের আইনি অনুশীলনের উপযোগী এবং law.gurukul.edu.bd-এ প্রকাশের উপযুক্ত।
আইনি প্রক্রিয়া ও সময়সীমার চেকলিস্ট
- চেক উপস্থাপন: চেকটি ইস্যুর মেয়াদ বা কার্যকর থাকার সময়সীমার মধ্যে (সাধারণত ইস্যুর তারিখ হতে ৩–৬ মাস) ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
- সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ: ব্যাংক থেকে চেক ডিজঅনার মেমো (Bank Dishonour Memo) প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে অবশ্যই আইনি নোটিশ পাঠাতে হবে [ধারা ১৩৮(১)(খ)]।
- নোটিশের সময়সীমা: অভিযুক্ত ড্রয়ারকে (চেক প্রদানকারী) নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে অর্থ পরিশোধের জন্য ৩০ দিন সময় দিতে হবে [ধারা ১৩৮(১)(গ)]।
- নালিশী মামলা (সি.আর. মামলা) দায়ের: ৩০ দিনের নোটিশের সময়সীমা পার হওয়ার পর পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সিএমএম/সিজেএম আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে [ধারা ১৪১]।
টেমপ্লেট ১: সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ
(অ্যাডভোকেটের অফিশিয়াল লেটারহেডে প্রিন্ট করতে হবে)
রেফ নং: [চেম্বার/রেফ/২০২৬/০০১]
তারিখ: [ইস্যুর তারিখ, যেমন: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬]
এ/ডি সহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে / হাতে হাতে প্রেরিত
প্রাপক:
[অভিযুক্ত/ড্রয়ারের পূর্ণ নাম]
পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]
স্থায়ী ঠিকানা: [গ্রাম/বাসা, সড়ক, থানা/উপজেলা, জেলা]
বর্তমান ঠিকানা: [গ্রাম/বাসা, সড়ক, থানা/উপজেলা, জেলা]
বিষয়: [চেক নম্বর] নম্বর চেকে উল্লিখিত [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ]) টাকা ডিজঅনার হওয়ায় দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ।
জনাব/জনাবে,
আমার মক্কেল, [নালিশকারী/প্রাপকের পূর্ণ নাম], পিতা: [পিতার নাম], ঠিকানা: [নালিশকারীর ঠিকানা]-এর প্রাপ্ত নির্দেশনা ও পক্ষে আমি এতদ্বারা আপনাকে নিম্নবর্ণিত সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ প্রদান করছি:
১. আমার মক্কেলের সঙ্গে আপনার দীর্ঘদিনের [ব্যবসায়িক/ব্যক্তিগত/চুক্তিভিত্তিক] সম্পর্ক রয়েছে। [লেনদেনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, যেমন: পণ্য সরবরাহ / ব্যক্তিগত ঋণ / [তারিখ] তারিখের চুক্তি]-এর মাধ্যমে সৃষ্ট একটি আইনানুগ বিদ্যমান ঋণ/দায় পরিশোধের লক্ষ্যে আপনি আমার মক্কেলের অনুকূলে [ব্যাংকের নাম], [শাখার নাম]-এর [চেক নম্বর] নম্বরযুক্ত, [চেকের তারিখ] তারিখের [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ]) টাকার একটি চেক প্রদান করেন।
২. চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন করলে ক্যাশ হবে—আপনার এমন সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমার মক্কেল উক্ত চেকটি ক্যাশ করার জন্য তাঁর ব্যাংক, [নালিশকারীর ব্যাংকের নাম], [শাখার নাম]-এ [উপস্থাপনের তারিখ] তারিখে জমা দেন।
৩. কিন্তু উক্ত চেকটি আপনার ব্যাংক কর্তৃক [মেমোর তারিখ] তারিখের রিটার্ন মেমোসহ অনাদায়ী/ডিজঅনার হয়ে ফেরত আসে, যাতে কারণ উল্লেখ করা ছিল: “[যেমন: অপর্যাপ্ত তহবিল / হিসাব বন্ধ / স্বাক্ষরের অমিল]”। আমার মক্কেল উক্ত ডিজঅনার মেমোটি [মেমো প্রাপ্তির তারিখ] তারিখে গ্রহণ করেন।
৪. আপনার ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত তহবিল না রেখে চেক প্রদান করে আপনি দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ (অধাবধি সংশোধিত)-এর ১৩৮ ধারার অধীনে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেছেন।
অতএব, এই আইনি নোটিশের মাধ্যমে আপনাকে আহ্বান জানানো যাচ্ছে যে, এই নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চেকে উল্লিখিত [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ]) টাকা আমার মক্কেলকে পূর্ণ পরিশোধ করবেন।
বিশেষভাবে অবহিত থাকুন যে, যদি আপনি উল্লিখিত ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে উক্ত দায় পরিশোধে ব্যর্থ হন, তবে আমার মক্কেল আইনানুগ এখতিয়ারসম্পন্ন জুডিশিয়াল/মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপনার বিরুদ্ধে দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে বাধ্য হবেন, যেখানে আপনার ১ (এক) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা চেকে উল্লিখিত টাকার তিনগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়ার যাবতীয় খরচের দায়ও আপনাকে বহন করতে হবে।
ভবিষ্যৎ আইনি রেফারেন্সের জন্য এই নোটিশের একটি অনুলিপি আমার চেম্বারে সংরক্ষণ করা হলো।
ইতি,
[অ্যাডভোকেটের পূর্ণ নাম]
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট / জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন
[চেম্বার ঠিকানা]
মোবাইল: [ফোন নম্বর] | ইমেইল: [ইমেইল ঠিকানা]
টেমপ্লেট ২: নালিশী দরখাস্ত (সি.আর. মামলা)
বিজ্ঞ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট / চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, [জেলার নাম]
সি.আর. (কমপ্লেট রেজিস্টার) মামলা নং: ________ / ২০____ ইং
বিষয়:
দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ (১৮৮১ সালের ২৬ নং আইন)-এর ১৪০/১৪১ ধারার সহিত পঠিতব্য ১৩৮ ধারার অধীন দরখাস্ত।
এবং
মামলার পক্ষগণ:
[নালিশকারীর পূর্ণ নাম]
পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]
ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ঠিকানা]
জাতীয় পরিচয়পত্র নং: [এনআইডি নম্বর]
…… নালিশকারী / ফরিয়াদী
—বনাম—
[অভিযুক্ত/ড্রয়ারের পূর্ণ নাম]
পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]
ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা]
…… অভিযুক্ত / আসামি
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: ড্রয়ার যদি কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান হয়, তবে ১৪০ ধারা অনুযায়ী কোম্পানিকে ১ নং আসামি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক/পরিচালককে ২ নং আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে হবে)
সম্মানপূর্বক বিনীত আরজি এই যে:
১. নালিশকারী বাংলাদেশের একজন আইনমান্যকারী নাগরিক এবং [পেশা/ব্যবসার বিবরণ]। আসামি নালিশকারীর পরিচিত/ব্যবসায়িক অংশীদার এবং [পেশা/ব্যবসার বিবরণ]।
২. [চুক্তি/ঋণ/লেনদেনের বিবরণ]-এর মাধ্যমে সৃষ্ট একটি আইনানুগ বিদ্যমান ঋণ বা দায় পরিশোধের উদ্দেশ্যে আসামি নালিশকারীর অনুকূলে একটি চেক ইস্যু করেন, যার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
- চেক নম্বর: [চেক নং]
- তারিখ: [চেকের তারিখ]
- টাকার পরিমাণ: [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ])
- ব্যাংকের নাম: [আসামির ব্যাংকের নাম ও শাখার নাম]
৩. নালিশকারী উক্ত চেকটি ভাঙানোর জন্য [উপস্থাপনের তারিখ] তারিখে তাঁর ব্যাংক, [নালিশকারীর ব্যাংক ও শাখা]-এ জমা দেন। কিন্তু আসামির ব্যাংক কর্তৃক [মেমোর তারিখ] তারিখের রিটার্ন মেমোর মাধ্যমে “[ডিজঅনারের কারণ, যেমন: অপর্যাপ্ত তহবিল]” মন্তব্যে চেকটি অনাদায়ী/ডিজঅনার অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়। নালিশকারী [মেমো প্রাপ্তির তারিখ] তারিখে উক্ত মেমো গ্রহণ করেন।
৪. চেক ডিজঅনার হওয়ার পর, নালিশকারী তাঁর নিয়োজিত অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে [আইনি নোটিশের তারিখ] তারিখে এ/ডি সহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে আসামির ওপর সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ জারি করেন, যাতে নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চেকের সমপরিমাণ টাকা পরিশোধের দাবি জানানো হয়।
৫. উক্ত আইনি নোটিশটি আসামির ওপর [নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ] তারিখে যথাযথভাবে জারি/গৃহীত হয় (অথবা [তারিখ] তারিখে “প্রত্যাখ্যান/দাবিহীন” মন্তব্যে অনাদায়ী অবস্থায় ফেরত আসে)।
৬. সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ যথাযথভাবে জারি হওয়া সত্ত্বেও আসামি বাধ্যতামূলক ৩০ (ত্রিশ) দিন সময়সীমার মধ্যে চেকের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন ও অবহেলা প্রদর্শন করেন, যা [৩০ দিনের মেয়াদ শেষের তারিখ] তারিখে অতিক্রান্ত হয়েছে।
৭. নালিশকারীর পাওনা টাকা পরিশোধে আসামির ব্যর্থতার কারণে ৩০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর [মামলার কারণ উদ্ভব হওয়ার তারিখ, অর্থাৎ নোটিশ প্রাপ্তির ৩১ তম দিন]-এ মামলার কারণ (Cause of Action) উদ্ভূত হয়। দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৪১ ধারায় নির্ধারিত ১ (এক) মাসের আইনি তামাদি মেয়াদের মধ্যেই এই নালিশী দরখাস্তটি দায়ের করা হলো।
৮. যেহেতু এই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, চেক জমা দেওয়া হয়েছে এবং অত্র বিজ্ঞ আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ারের মধ্যে চেকটি ডিজঅনার হয়েছে, সেহেতু বিজ্ঞ আদালত অত্র মামলার বিচার ও নিষ্পত্তির পূর্ণ এখতিয়ার রাখেন।
৯. অত্র নালিশী দরখাস্তের সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি ‘ক’ থেকে ‘ঙ’ অনুচ্ছেদ হিসেবে সংলগ্ন করা হলো।
প্রার্থনা
অতএব, বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, হুজুর মেহেরবানি করে:
ক) দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে গ্রহণ করবেন;
খ) আদালতে আসামির উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আসামির বিরুদ্ধে সমন / গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন;
গ) উক্ত আইনের ১৩৮ ধারায় আসামির বিচার করে উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করবেন এবং ১৩৮(১) ধারা অনুযায়ী চেকে বর্ণিত টাকার তিনগুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ/অর্থদণ্ড নালিশকারীকে প্রদানের আদেশ দান করবেন;
ঘ) ন্যায়বিচারের স্বার্থে অন্য যে আদেশ বা আদেশসমূহ উপযুক্ত মনে করেন তা প্রদান করতে মর্জি হয়।
এবং হুজুরের এই সুবিচারের জন্য নালিশকারী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।
কাগজপত্রের তালিকা (সংযুক্তি)
১. সংযুক্তি – ক: [তারিখ] তারিখের [চেক নম্বর] নম্বর মূল চেক।
২. সংযুক্তি – খ: [তারিখ] তারিখের মূল ব্যাংক রিটার্ন মেমো।
৩. সংযুক্তি – গ: [তারিখ] তারিখের সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশের অনুলিপি।
৪. সংযুক্তি – ঘ: মূল ডাক রসিদ ও এ/ডি কার্ড (বা ডাক বিতরণের রিপোর্ট)।
৫. সংযুক্তি – ঙ: নালিশকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্টের অনুলিপি।
সাক্ষীদের তালিকা
১. নালিশকারী (স্বয়ং)
২. ব্যবস্থাপক / অনুমোদিত প্রতিনিধি, [নালিশকারীর ব্যাংক ও শাখার নাম]।
৩. ব্যবস্থাপক / অনুমোদিত প্রতিনিধি, [আসামির ব্যাংক ও শাখার নাম]।
৪. [লেনদেনের কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী থাকলে তাঁর নাম ও ঠিকানা]।
সত্যপাঠ / যাচাইকরণ
আমি, [নালিশকারীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], বয়স: প্রায় [বয়স] বছর, ধর্ম: [ধর্ম], পেশা: [পেশা], সাং: [ঠিকানা], সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষণা করছি যে:
অত্র নালিশী দরখাস্তের ১ থেকে ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত তথ্যাদি আমার জ্ঞান, বিশ্বাস ও আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী সত্য ও সঠিক। আজ [তারিখ] দিন, [মাস], ২০____ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত প্রাঙ্গণে, [জেলার নাম]-এ আমি এই সত্যপাঠে নিজ স্বাক্ষর প্রদান করলাম।
নালিশকারীর স্বাক্ষর