বিভাগের আর্কাইভঃ টেমপ্লেট

টেমপ্লেট

খসড়া টেমপ্লেট: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৮ আদেশের অধীনে লিখিত জবাব (Jawab)

নিচে বাংলাদেশের অধস্তন দেওয়ানি আদালতসমূহে ব্যবহারের উপযোগী লিখিত জবাব (Written Statement)-এর পূর্ণাঙ্গ বাংলা খসড়া টেমপ্লেট প্রদান করা হলো।

আইনগত চেকলিস্ট

১. দাখিলের সময়সীমা: দেওয়ানি কার্যবিধির ৮ আদেশের ১ নিয়ম অনুযায়ী, সমন জারির তারিখ হতে ২ মাসের (৬০ দিন) মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে হয়। আদালতের অনুমতিক্রমে উপযুক্ত কারণ দর্শানো সাপেক্ষে তা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে।

২. সুনির্দিষ্ট অস্বীকার (Specific Denial): ৮ আদেশের ৩ ও ৫ নিয়ম অনুযায়ী, আরজির প্রতিটি তথ্যাগত দাবি সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করতে হয়। অস্পষ্ট বা সাধারণ অস্বীকারকে স্বীকারোক্তি হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।

৩. নতুন আইনি আপত্তি উত্থাপন: ৮ আদেশের ২ নিয়ম অনুসারে, মামলাটির আইনি বাধা (যেমন: তামাদি, রেস জুডিকাটা, মোকদ্দমার কারণের অভাব, পক্ষদোষ) লিখিত জবাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

লিখিত জবাবের খসড়া টেমপ্লেট

বিজ্ঞ [আদালতের নাম, যেমন: ১ম যুগ্ম জেলা জজ / সহকারী জজ] আদালত, [জেলা]

অন্য / স্বত্ব / বন্টন দেওয়ানি মোকদ্দমা নং: ________ / ২০____ ইং

মামলার পক্ষগণ:

[বাদীর নাম]

…… বাদী

—বনাম—

[বিবাদীর নাম]

…… বিবাদী

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৮ আদেশের ১ নিয়মের বিধানমতে [১/২/৩ নং] বিবাদী কর্তৃক দাখিলকৃত লিখিত জবাব।

সম্মানপূর্বক বিনীত আরজি এই যে:

১. প্রাথমিক আপত্তি (PRELIMINARY OBJECTIONS):

ক) বাদীর মোকদ্দমাটি বর্তমান আকার ও প্রার্থনায় বিদ্যমান আইনি বিধান অনুসারে আইনত রক্ষণীয় নয় (Not Maintainable)।

খ) বাদীর আরজিতে [১ নং] বিবাদীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমার কোনো বৈধ কারণ (No Cause of Action) প্রকাশ পায়নি; সুতরাং আরজিটি দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ আদেশের ১১ নিয়ম অনুযায়ী খারিজযোগ্য।

গ) মোকদ্দমাটি তামাদি আইন, ১৯০৮ (Limitation Act, 1908)-এর বিধান দ্বারা বারিত/বর্জিত।

ঘ) মোকদ্দমাটি প্রয়োজনীয় পক্ষ অন্তর্ভুক্ত না করা এবং অপ্রয়োজনীয় পক্ষ যুক্ত করার কারণে পক্ষদোষে (Misjoinder & Non-Joinder of Necessary Parties) দুষ্ট।

ঙ) মোকদ্দমাটি দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারার (Res Judicata) নীতি অনুযায়ী পূর্ব-সংক্রান্ত আদেশের দ্বারা বারিত।

চ) বাদীর মোকদ্দমার সঠিক মূল্যমান নির্ধারিত হয়নি এবং কোর্ট ফি অপর্যাপ্ত।

২. আরজির অনুচ্ছেদওয়ারী জবাব (PARAGRAPH-BY-PARAGRAPH DENIAL):

১. আরজির ১ নম্বর অনুচ্ছেদের বক্তব্য যে পর্যন্ত আদালতের এখতিয়ার ও পক্ষগণের নাম-ঠিকানার সাথে সম্পর্কিত, তা আনুষ্ঠানিক। তা ব্যতীত অপরাপর সকল দাবি বা বক্তব্য অসত্য ও ভিত্তিহীন বিধায় অত্র বিবাদী তা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করছে।

২. আরজির ২ নম্বর অনুচ্ছেদের বক্তব্য বিবাদী কর্তৃক কঠোরভাবে অস্বীকার করা হলো। বাদী কর্তৃক উত্থাপিত দাবি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। [নির্দিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে তা অস্বীকারের ভিত্তি সংক্ষেপে উল্লেখ করুন]।

৩. আরজির ৩ নম্বর অনুচ্ছেদের সত্যতা বিবাদী সর্বাংশে অস্বীকার করছে। বাদী প্রকৃত ঘটনা বিকৃত করে উপস্থাপন করেছেন।

৪. আরজির ৪ ও ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের দাবিকৃত ঘটনা বা লেনদেনের বক্তব্য সর্বাংশ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বেআইনি। বাদী যে দলিলের ওপর ভিত্তি করে দাবি উত্থাপন করেছেন তা ভুয়া, জাল এবং আইনের দৃষ্টিতে কার্যকর নয়।

৩. বিবাদীপক্ষের নিজস্ব ঘটনা ও বক্তব্য (STATEMENT OF DEFENSE):

ক) নালিশী সম্পত্তি/বিষয়বস্তু সংক্রান্ত প্রকৃত ঘটনা হলো এই যে, [বিবাদীপক্ষের নিজস্ব স্বত্ব, বৈধ মালিকানা ও নিরবচ্ছিন্ন দখলের বিবরণ ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করুন]।

খ) [১ নং] বিবাদী [তারিখ/বছর] হতে নালিশী সম্পত্তিতে বৈধ মালিক ও স্বত্বাধিকারী হিসেবে নিজস্ব স্বত্বে ও নিরবচ্ছিন্ন দখলে অবস্থান করছেন।

গ) বাদী সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে এবং বিবাদীকে হয়রানি করার জন্য নালিশী সম্পত্তির মালিকানার ওপর মিথ্যা দাবি তুলে অত্র ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক মামলাটি দায়ের করেছেন।

প্রার্থনা

অতএব, বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, মহামান্য আদালত মেহেরবানি করে:

ক) দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৩৫এ ধারা অনুযায়ী [১ নং] বিবাদীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণমূলক খরচ (Compensatory Costs) প্রদানপূর্বক বাদীর আনীত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মোকদ্দমাটি খারিজ (Dismiss) করার আদেশ দান করবেন;

খ) বিবাদীপক্ষের অনুকূলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে অন্য যে আদেশ বা আদেশসমূহ উপযুক্ত মনে করেন তা প্রদান করতে মর্জি হয়।

এবং এই দয়াপূর্ণ কাজের জন্য [১ নং] বিবাদী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

সত্যপাঠ (VERIFICATION)

আমি, [বিবাদীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], বয়স: প্রায় [বয়স] বছর, ধর্ম: [ধর্ম], পেশা: [পেশা], সাং: [ঠিকানা], সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষণা করছি যে:

অত্র লিখিত জবাবের ১ থেকে ৩ অনুচ্ছেদের যাবতীয় বক্তব্য আমার জ্ঞান, বিশ্বাস ও নথিপত্র অনুযায়ী সত্য ও সঠিক। আজ [তারিখ] দিন, [মাস], ২০____ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত প্রাঙ্গণে, [জেলা]-এ আমি এই সত্যপাঠে নিজ স্বাক্ষর প্রদান করলাম।

[১ নং] বিবাদীর স্বাক্ষর

হলফনামা (AFFIDAVIT)

বিজ্ঞ [আদালতের নাম] আদালত, [জেলা]

দেওয়ানি মোকদ্দমা নং: ________ / ২০____ ইং

আমি, [হলফকারীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], বয়স: প্রায় [বয়স] বছর, ধর্ম: [ধর্ম], পেশা: [পেশা], সাং: [ঠিকানা], জাতীয় পরিচয়পত্র নং: [এনআইডি নম্বর], সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষণা করছি যে:

১. আমি অত্র মামলার [১ নং] বিবাদী এবং মামলার ঘটনা ও পারিপার্শ্বিকতার সাথে পূর্ণ পরিচিত।

২. অত্র লিখিত জবাবের বক্তব্যসমূহ আমার জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে সত্য ও সঠিক।

আজ [তারিখ] দিন, [মাস], ২০____ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত প্রাঙ্গণে আমি এই সত্যপাঠে নিজ স্বাক্ষর প্রদান করলাম।

হলফকারীর স্বাক্ষর

বিবাদী আমার দ্বারা শনাক্তকৃত।

অ্যাডভোকেট

খসড়া টেমপ্লেট: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৫৬১এ ধারার অধীনে কোয়াশমেন্ট (বাতিলকরণ) আবেদন এবং ৪৩৯ ধারার অধীনে ফৌজদারি রিভিশন পিটিশন

নিচে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরযোগ্য ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল/কোয়াশমেন্ট (ধারা ৫৬১এ) এবং ফৌজদারি রিভিশন (ধারা ৪৩৯)-এর জন্য ব্যবহারের উপযোগী পূর্ণাঙ্গ খসড়া টেমপ্লেট প্রদান করা হলো, যা law.gurukul.edu.bd-এ প্রকাশের জন্য তৈরি।

আইনি পর্যালোচনা ও চেকলিস্ট

১. ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারা (রদকরণ বা কোয়াশমেন্টের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা):

  • আদালত: এটি বিশেষভাবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা হয়।
  • ভিত্তি: আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধ করা অথবা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (যেমন: দেওয়ানি বিরোধকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফৌজদারি মামলায় রূপান্তর করা, এফআইআর বা চার্জশিটে প্রথম দর্শনে কোনো অপরাধের উপাদান না থাকা, কিংবা আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা)।
  • পর্যায়: এফআইআর দায়ের, অভিযোগ গঠন (Charge Framing) বা সি.আর. নালিশী আবেদন দায়েরের পরপরই এই দরখাস্ত দায়ের করা যায়।

২. ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ ধারার সহিত পঠিতব্য ৪৩৯ ধারা (ফৌজদারি রিভিশন):

  • আদালত: হাইকোর্ট বিভাগ (অথবা অধস্তন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে ৪৩৯এ ধারা অনুযায়ী দায়রা জজ আদালত)।
  • ভিত্তি: অধস্তন ফৌজদারি আদালতের যেকোনো আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশের বৈধতা, সঠিকতা বা যৌক্তিকতা পরীক্ষা করা।
  • সময়সীমা: সাধারণত সংক্ষুব্ধ আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হয়।

টেমপ্লেট ১: ধারা ৫৬১এ-এর অধীনে কোয়াশমেন্ট/বাতিলের দরখাস্ত

মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ

হাইকোর্ট বিভাগ

(ফৌজদারি বিবিধ এখতিয়ার)

ফৌজদারি বিবিধ মামলা নং ________ / ২০____ ইং

বিষয়:

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৫৬১এ ধারার অধীনে অত্র মামলার যাবতীয় কার্যক্রম বাতিল/রদকরণের আবেদন।

এবং

মামলার পক্ষগণ:

[পিটিশনার/আসামির পূর্ণ নাম]

পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]

ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা]

…… পিটিশনার / আবেদনকারী (অধস্তন আদালতের আসামি)

—বনাম—

১. রাষ্ট্র, পক্ষে: ডেপুটি কমিশনার, [জেলার নাম]।

…… ১ নং রেসপনডেন্ট / বিপরীত পক্ষ

২. [নালিশকারী/সংবাদদাতার পূর্ণ নাম]

পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]

ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ঠিকানা]

…… ২ নং রেসপনডেন্ট / নালিশকারী

প্রাপক:

মহামান্য বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর অন্যান্য সঙ্গী মহামান্য বিচারপতিগণের প্রতি সদয় অবগতির জন্য—

আবেদনকারীর পক্ষে বিনীত নিবেদন এই যে—

যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক জানানো যাচ্ছে যে:

১. আবেদনকারী বাংলাদেশের একজন স্থায়ী বাসিন্দা ও আইনমান্যকারী নাগরিক। বিজ্ঞ [অধস্তন বিচারিক আদালতের নাম, যেমন: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা]-এ বিচারাধীন [জি.আর. মামলা নং _____ / সি.আর. মামলা নং _____]-এ আবেদনকারীকে অসৎ উদ্দেশ্যে জড়িত করা হয়েছে।

২. [মামলার বিবরণ]:

২ নং রেসপনডেন্ট গত [তারিখ] তারিখে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির [যেমন: ৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারা]-এর অধীনে একটি মিথ্যা এফআইআর/নালিশী মামলা দায়ের করেন, যেখানে মূল অভিযোগ ছিল [মিথ্যা অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ]।

৩. [কার্যধারার বিবরণ]:

পুলিশ তদন্ত শেষে গত [তারিখ] তারিখে [নম্বর] নম্বর চার্জশিট দাখিল করে (অথবা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট গত [তারিখ] তারিখে অপরাধ আমলে নেন) এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ বিচারিক আদালত গত [অভিযোগ গঠনের তারিখ] তারিখে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

৪. এফআইআর/নালিশী আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ যদি পুরোপুরি সত্য বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও আবেদনকারীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির আওতায় কোনো অপরাধ বা প্রথম দর্শনে গ্রহণযোগ্য মামলা (Prima Facie Case) গঠিত হয় না।

৫. আবেদনকারী এবং ২ নং রেসপনডেন্টের মধ্যকার বিরোধটি সম্পূর্ণভাবে দেওয়ানি ও চুক্তিভিত্তিক প্রকৃতির, যা [লেনদেন/ব্যবসার বিবরণ] থেকে উদ্ভূত। কিন্তু ২ নং রেসপনডেন্ট আবেদনকারীকে হয়রানি, অপমান ও বেআইনি সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে দেওয়ানি বিষয়টিকে অসৎ উদ্দেশ্যে ফৌজদারি রূপ দিয়েছেন।

৬. আবেদনকারীর বিরুদ্ধে এই ফৌজদারি কার্যক্রম পরিচালনা আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহারের শামিল। অতএব, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৫৬১এ ধারার অধীনে উক্ত মামলার যাবতীয় কার্যক্রম বাতিল করা আবশ্যক।

৭. বিজ্ঞ [অধস্তন আদালতের নাম]-এ বিচারাধীন [মামলা নম্বর]-এর কার্যধারা অব্যাহত থাকায় সংক্ষুব্ধ হয়ে আবেদনকারী নিম্নে বর্ণিত গ্রাউন্ডস বা যুক্তিসমূহের ওপর ভিত্তি করে মহামান্য আদালতের নিকট প্রার্থনা জানাচ্ছেন:

গ্রাউন্ডস (আইনি যুক্তি)

১. যেহেতু এফআইআর/নালিশী দরখাস্তের বক্তব্য দণ্ডবিধির [যেমন: ৪০৬/৪২০] ধারার মূল উপাদানসমূহ পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, তাই এর ওপর ভিত্তি করে অপরাধ আমলে নেওয়া আইনি দৃষ্টিতে অচল।

২. যেহেতু আক্ষেপিত এই মামলাটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও অসদ্ব্যবহারের ফল এবং একটি বিশুদ্ধ দেওয়ানি/আর্থিক বিরোধকে জোরপূর্বক ফৌজদারি মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে।

৩. যেহেতু এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে বিচারপ্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া আবেদনকারীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে এবং এটি আদালতের প্রক্রিয়ার একটি স্পষ্ট অপব্যবহার।

৪. যেহেতু নথিপত্রে বিদ্যমান সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আবেদনকারীর দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার কোনো দূরবর্তী সম্ভাবনাও নেই, তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে অত্র মামলাটি বাতিল বা কোয়াশমেন্ট করা অপরিহার্য।

৮. একই তথ্য ও মামলার কারণের ওপর ভিত্তি করে পূর্বে মহামান্য আদালতে ৫৬১এ ধারায় অন্য কোনো আবেদন দায়ের করা হয়নি।

৯. এই আবেদনটি সরল বিশ্বাসে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে পেশ করা হলো।

প্রার্থনা

অতএব, বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, মহামান্য আদালত মেহেরবানি করে:

ক) রেসপনডেন্টগণের প্রতি একটি ‘রুল নিসি’ (Rule Nisi) জারি করবেন যে, বিজ্ঞ [অধস্তন আদালতের নাম]-এ বিচারাধীন [জি.আর. মামলা নং _____ / সি.আর. মামলা নং _____]-এর কার্যক্রম কেন বাতিল করা হবে না;

খ) রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় [জি.আর. মামলা নং _____ / সি.আর. মামলা নং _____]-এর যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিতের (Stay) আদেশ প্রদান করবেন;

গ) পক্ষগণের শুনানি শেষে রুলটি চূড়ান্ত (Absolute) ঘোষণা করবেন;

ঘ) ন্যায়বিচারের স্বার্থে মহামান্য আদালত অন্য যে আদেশ বা নির্দেশ উপযুক্ত মনে করেন তা প্রদান করতে মর্জি হয়।

এবং এই দয়াপূর্ণ কাজের জন্য আবেদনকারী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

হলফনামা (AFFIDAVIT)

আমি, [হলফকারীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], বয়স: প্রায় [বয়স] বছর, ধর্ম: [ধর্ম], পেশা: [পেশা], সাং: [ঠিকানা], জাতীয় পরিচয়পত্র নং: [এনআইডি নম্বর], সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষণা করছি যে:

১. আমি এই মামলার পিটিশনার / পিটিশনারের মনোনীত তাদবীরকারক এবং মামলার ঘটনা ও পারিপার্শ্বিকতার সাথে পূর্ণ পরিচিত।

২. ওপরে বর্ণিত ১ থেকে ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের তথ্যাদি আমার জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে সত্য ও সঠিক।

আজ [তারিখ] দিন, [মাস], ২০____ ইং তারিখে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ, ঢাকায় আমি এই সত্যপাঠে নিজ স্বাক্ষর প্রদান করলাম।

হলফকারীর স্বাক্ষর

আজকে আমার সম্মুখে সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষিত হলো।

কমিশনার অব অ্যাফিডেভিট

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ

টেমপ্লেট ২: ধারা ৪৩৯-এর অধীনে ফৌজদারি রিভিশন পিটিশন

মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ

হাইকোর্ট বিভাগ

(ফৌজিদারি রিভিশন এখতিয়ার)

ফৌজদারি রিভিশন নং ________ / ২০____ ইং

বিষয়:

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৮১-এর ৪৩৫ ধারার সহিত পঠিতব্য ৪৩৯ ধারার অধীন আবেদন।

এবং

বিষয়বস্তু:

বিজ্ঞ [দায়রা জজ / ম্যাজিস্ট্রেট আদালত] কর্তৃক [ফৌজদারি আপিল নং _____ / ফৌজদারি রিভিশন নং _____ / মামলা নং _____]-এ প্রদত্ত [আক্ষেপিত আদেশের তারিখ] তারিখের আদেশের/রায়ের বৈধতা, যৌক্তিকতা ও শুদ্ধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত আবেদন।

এবং

মামলার পক্ষগণ:

[পিটিশনারের পূর্ণ নাম]

…… পিটিশনার (আসামি/দণ্ডপ্রাপ্ত)

—বনাম—

১. রাষ্ট্র

…… ১ নং রেসপনডেন্ট

২. [নালিশকারীর নাম]

…… ২ নং রেসপনডেন্ট

প্রাপক:

মহামান্য বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর অন্যান্য সঙ্গী মহামান্য বিচারপতিগণের প্রতি সদয় অবগতির জন্য—

আবেদনকারীর পক্ষে বিনীত নিবেদন এই যে—

যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক জানানো যাচ্ছে যে:

১. বিজ্ঞ [দায়রা জজ, জেলা]-এর আদালত কর্তৃক প্রদত্ত [তারিখ] তারিখের আক্ষেপিত রায়/আদেশের বিরুদ্ধে এই আবেদনটি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অধস্তন আদালতের দণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়েছে / অব্যাহতির (Discharge) আবেদন নাকচ করা হয়েছে।

২. [মামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য]:

[বিচারপ্রক্রিয়া, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অধস্তন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের সংক্ষিপ্ত বিবরণ]।

৩. বিজ্ঞ অধস্তন আদালত রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যের গুরুতর অসংগতি ও অসঙ্গতিসমূহ বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়ে আইন ও তথ্যের মারাত্মক ভুল করেছেন, যার ফলে চরম বিচারহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।

৪. আক্ষেপিত আদেশ/রায়টি বেআইনি, অযৌক্তিক এবং পদ্ধতিগত অনিয়মে ভরা, যা মহামান্য আদালতের রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগের মাধ্যমে বাতিলযোগ্য।

গ্রাউন্ডস (আইনি যুক্তি)

১. যেহেতু বিজ্ঞ অধস্তন আদালত সংবিধিবদ্ধ আইন ব্যাখ্যায় ভুল করেছেন এবং নথিতে থাকা প্রমাণাদিতে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

২. যেহেতু নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তসমূহ স্বেচ্ছাচারী এবং বিচারিক সাক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত নয়।

৩. যেহেতু আক্ষেপিত আদেশের ফলে আবেদনকারী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং আইনের দৃষ্টিতে তা টেকসই নয়।

প্রার্থনা

অতএব, বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, মহামান্য আদালত মেহেরবানি করে:

ক) বিজ্ঞ অধস্তন আদালত হতে [মামলা নম্বর]-এর নথি (LCR) তলব করবেন;

খ) রেসপনডেন্টগণের প্রতি একটি ‘রুল নিসি’ जारी করবেন যে, [তারিখ]-এর আক্ষেপিত আদেশ/রায় কেন বাতিল করা হবে না;

গ) রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় আক্ষেপিত আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করবেন এবং আবেদনকারীকে জামিন (Ad-Interim Bail) প্রদান করবেন;

ঘ) শুনানি শেষে রুলটি চূড়ান্ত ঘোষণা করে আক্ষেপিত আদেশ/রায় বাতিল করবেন।

এবং এই দয়াপূর্ণ কাজের জন্য আবেদনকারী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত ফৌজদারি রিভিশন পিটিশনের সাথেও টেমপ্লেট ১-এ দেখানো বিন্যাস অনুযায়ী একটি শপথকৃত ‘হলফনামা’ সংযুক্ত করতে হবে।)

খসড়া টেমপ্লেট: দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ এবং নালিশী দরখাস্ত (চেক ডিজঅনার মামলা)

নিচে দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার জন্য পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারযোগ্য খসড়া টেমপ্লেটসমূহ দেওয়া হলো, যা বাংলাদেশের আইনি অনুশীলনের উপযোগী এবং law.gurukul.edu.bd-এ প্রকাশের উপযুক্ত।

আইনি প্রক্রিয়া ও সময়সীমার চেকলিস্ট

  1. চেক উপস্থাপন: চেকটি ইস্যুর মেয়াদ বা কার্যকর থাকার সময়সীমার মধ্যে (সাধারণত ইস্যুর তারিখ হতে ৩–৬ মাস) ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
  2. সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ: ব্যাংক থেকে চেক ডিজঅনার মেমো (Bank Dishonour Memo) প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে অবশ্যই আইনি নোটিশ পাঠাতে হবে [ধারা ১৩৮(১)(খ)]।
  3. নোটিশের সময়সীমা: অভিযুক্ত ড্রয়ারকে (চেক প্রদানকারী) নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে অর্থ পরিশোধের জন্য ৩০ দিন সময় দিতে হবে [ধারা ১৩৮(১)(গ)]।
  4. নালিশী মামলা (সি.আর. মামলা) দায়ের: ৩০ দিনের নোটিশের সময়সীমা পার হওয়ার পর পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সিএমএম/সিজেএম আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে [ধারা ১৪১]।

টেমপ্লেট ১: সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ

(অ্যাডভোকেটের অফিশিয়াল লেটারহেডে প্রিন্ট করতে হবে)

রেফ নং: [চেম্বার/রেফ/২০২৬/০০১]

তারিখ: [ইস্যুর তারিখ, যেমন: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬]

এ/ডি সহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে / হাতে হাতে প্রেরিত

প্রাপক:

[অভিযুক্ত/ড্রয়ারের পূর্ণ নাম]

পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]

স্থায়ী ঠিকানা: [গ্রাম/বাসা, সড়ক, থানা/উপজেলা, জেলা]

বর্তমান ঠিকানা: [গ্রাম/বাসা, সড়ক, থানা/উপজেলা, জেলা]

বিষয়: [চেক নম্বর] নম্বর চেকে উল্লিখিত [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ]) টাকা ডিজঅনার হওয়ায় দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ।

জনাব/জনাবে,

আমার মক্কেল, [নালিশকারী/প্রাপকের পূর্ণ নাম], পিতা: [পিতার নাম], ঠিকানা: [নালিশকারীর ঠিকানা]-এর প্রাপ্ত নির্দেশনা ও পক্ষে আমি এতদ্বারা আপনাকে নিম্নবর্ণিত সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ প্রদান করছি:

১. আমার মক্কেলের সঙ্গে আপনার দীর্ঘদিনের [ব্যবসায়িক/ব্যক্তিগত/চুক্তিভিত্তিক] সম্পর্ক রয়েছে। [লেনদেনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, যেমন: পণ্য সরবরাহ / ব্যক্তিগত ঋণ / [তারিখ] তারিখের চুক্তি]-এর মাধ্যমে সৃষ্ট একটি আইনানুগ বিদ্যমান ঋণ/দায় পরিশোধের লক্ষ্যে আপনি আমার মক্কেলের অনুকূলে [ব্যাংকের নাম], [শাখার নাম]-এর [চেক নম্বর] নম্বরযুক্ত, [চেকের তারিখ] তারিখের [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ]) টাকার একটি চেক প্রদান করেন।

২. চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন করলে ক্যাশ হবে—আপনার এমন সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমার মক্কেল উক্ত চেকটি ক্যাশ করার জন্য তাঁর ব্যাংক, [নালিশকারীর ব্যাংকের নাম], [শাখার নাম]-এ [উপস্থাপনের তারিখ] তারিখে জমা দেন।

৩. কিন্তু উক্ত চেকটি আপনার ব্যাংক কর্তৃক [মেমোর তারিখ] তারিখের রিটার্ন মেমোসহ অনাদায়ী/ডিজঅনার হয়ে ফেরত আসে, যাতে কারণ উল্লেখ করা ছিল: “[যেমন: অপর্যাপ্ত তহবিল / হিসাব বন্ধ / স্বাক্ষরের অমিল]”। আমার মক্কেল উক্ত ডিজঅনার মেমোটি [মেমো প্রাপ্তির তারিখ] তারিখে গ্রহণ করেন।

৪. আপনার ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত তহবিল না রেখে চেক প্রদান করে আপনি দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ (অধাবধি সংশোধিত)-এর ১৩৮ ধারার অধীনে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেছেন।

অতএব, এই আইনি নোটিশের মাধ্যমে আপনাকে আহ্বান জানানো যাচ্ছে যে, এই নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চেকে উল্লিখিত [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ]) টাকা আমার মক্কেলকে পূর্ণ পরিশোধ করবেন।

বিশেষভাবে অবহিত থাকুন যে, যদি আপনি উল্লিখিত ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে উক্ত দায় পরিশোধে ব্যর্থ হন, তবে আমার মক্কেল আইনানুগ এখতিয়ারসম্পন্ন জুডিশিয়াল/মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপনার বিরুদ্ধে দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে বাধ্য হবেন, যেখানে আপনার ১ (এক) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা চেকে উল্লিখিত টাকার তিনগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়ার যাবতীয় খরচের দায়ও আপনাকে বহন করতে হবে।

ভবিষ্যৎ আইনি রেফারেন্সের জন্য এই নোটিশের একটি অনুলিপি আমার চেম্বারে সংরক্ষণ করা হলো।

ইতি,

[অ্যাডভোকেটের পূর্ণ নাম]

অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট / জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন

[চেম্বার ঠিকানা]

মোবাইল: [ফোন নম্বর] | ইমেইল: [ইমেইল ঠিকানা]

টেমপ্লেট ২: নালিশী দরখাস্ত (সি.আর. মামলা)

বিজ্ঞ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট / চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, [জেলার নাম]

সি.আর. (কমপ্লেট রেজিস্টার) মামলা নং: ________ / ২০____ ইং

বিষয়:

দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ (১৮৮১ সালের ২৬ নং আইন)-এর ১৪০/১৪১ ধারার সহিত পঠিতব্য ১৩৮ ধারার অধীন দরখাস্ত।

এবং

মামলার পক্ষগণ:

[নালিশকারীর পূর্ণ নাম]

পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]

ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ঠিকানা]

জাতীয় পরিচয়পত্র নং: [এনআইডি নম্বর]

…… নালিশকারী / ফরিয়াদী

—বনাম—

[অভিযুক্ত/ড্রয়ারের পূর্ণ নাম]

পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]

ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা]

…… অভিযুক্ত / আসামি

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: ড্রয়ার যদি কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান হয়, তবে ১৪০ ধারা অনুযায়ী কোম্পানিকে ১ নং আসামি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক/পরিচালককে ২ নং আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে হবে)

সম্মানপূর্বক বিনীত আরজি এই যে:

১. নালিশকারী বাংলাদেশের একজন আইনমান্যকারী নাগরিক এবং [পেশা/ব্যবসার বিবরণ]। আসামি নালিশকারীর পরিচিত/ব্যবসায়িক অংশীদার এবং [পেশা/ব্যবসার বিবরণ]।

২. [চুক্তি/ঋণ/লেনদেনের বিবরণ]-এর মাধ্যমে সৃষ্ট একটি আইনানুগ বিদ্যমান ঋণ বা দায় পরিশোধের উদ্দেশ্যে আসামি নালিশকারীর অনুকূলে একটি চেক ইস্যু করেন, যার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

  • চেক নম্বর: [চেক নং]
  • তারিখ: [চেকের তারিখ]
  • টাকার পরিমাণ: [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ])
  • ব্যাংকের নাম: [আসামির ব্যাংকের নাম ও শাখার নাম]

৩. নালিশকারী উক্ত চেকটি ভাঙানোর জন্য [উপস্থাপনের তারিখ] তারিখে তাঁর ব্যাংক, [নালিশকারীর ব্যাংক ও শাখা]-এ জমা দেন। কিন্তু আসামির ব্যাংক কর্তৃক [মেমোর তারিখ] তারিখের রিটার্ন মেমোর মাধ্যমে “[ডিজঅনারের কারণ, যেমন: অপর্যাপ্ত তহবিল]” মন্তব্যে চেকটি অনাদায়ী/ডিজঅনার অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়। নালিশকারী [মেমো প্রাপ্তির তারিখ] তারিখে উক্ত মেমো গ্রহণ করেন।

৪. চেক ডিজঅনার হওয়ার পর, নালিশকারী তাঁর নিয়োজিত অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে [আইনি নোটিশের তারিখ] তারিখে এ/ডি সহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে আসামির ওপর সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ জারি করেন, যাতে নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চেকের সমপরিমাণ টাকা পরিশোধের দাবি জানানো হয়।

৫. উক্ত আইনি নোটিশটি আসামির ওপর [নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ] তারিখে যথাযথভাবে জারি/গৃহীত হয় (অথবা [তারিখ] তারিখে “প্রত্যাখ্যান/দাবিহীন” মন্তব্যে অনাদায়ী অবস্থায় ফেরত আসে)।

৬. সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ যথাযথভাবে জারি হওয়া সত্ত্বেও আসামি বাধ্যতামূলক ৩০ (ত্রিশ) দিন সময়সীমার মধ্যে চেকের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন ও অবহেলা প্রদর্শন করেন, যা [৩০ দিনের মেয়াদ শেষের তারিখ] তারিখে অতিক্রান্ত হয়েছে।

৭. নালিশকারীর পাওনা টাকা পরিশোধে আসামির ব্যর্থতার কারণে ৩০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর [মামলার কারণ উদ্ভব হওয়ার তারিখ, অর্থাৎ নোটিশ প্রাপ্তির ৩১ তম দিন]-এ মামলার কারণ (Cause of Action) উদ্ভূত হয়। দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৪১ ধারায় নির্ধারিত ১ (এক) মাসের আইনি তামাদি মেয়াদের মধ্যেই এই নালিশী দরখাস্তটি দায়ের করা হলো।

৮. যেহেতু এই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, চেক জমা দেওয়া হয়েছে এবং অত্র বিজ্ঞ আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ারের মধ্যে চেকটি ডিজঅনার হয়েছে, সেহেতু বিজ্ঞ আদালত অত্র মামলার বিচার ও নিষ্পত্তির পূর্ণ এখতিয়ার রাখেন।

৯. অত্র নালিশী দরখাস্তের সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি ‘ক’ থেকে ‘ঙ’ অনুচ্ছেদ হিসেবে সংলগ্ন করা হলো।

প্রার্থনা

অতএব, বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, হুজুর মেহেরবানি করে:

ক) দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে গ্রহণ করবেন;

খ) আদালতে আসামির উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আসামির বিরুদ্ধে সমন / গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন;

গ) উক্ত আইনের ১৩৮ ধারায় আসামির বিচার করে উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করবেন এবং ১৩৮(১) ধারা অনুযায়ী চেকে বর্ণিত টাকার তিনগুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ/অর্থদণ্ড নালিশকারীকে প্রদানের আদেশ দান করবেন;

ঘ) ন্যায়বিচারের স্বার্থে অন্য যে আদেশ বা আদেশসমূহ উপযুক্ত মনে করেন তা প্রদান করতে মর্জি হয়।

এবং হুজুরের এই সুবিচারের জন্য নালিশকারী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

কাগজপত্রের তালিকা (সংযুক্তি)

১. সংযুক্তি – ক: [তারিখ] তারিখের [চেক নম্বর] নম্বর মূল চেক।

২. সংযুক্তি – খ: [তারিখ] তারিখের মূল ব্যাংক রিটার্ন মেমো।

৩. সংযুক্তি – গ: [তারিখ] তারিখের সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশের অনুলিপি।

৪. সংযুক্তি – ঘ: মূল ডাক রসিদ ও এ/ডি কার্ড (বা ডাক বিতরণের রিপোর্ট)।

৫. সংযুক্তি – ঙ: নালিশকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্টের অনুলিপি।

সাক্ষীদের তালিকা

১. নালিশকারী (স্বয়ং)

২. ব্যবস্থাপক / অনুমোদিত প্রতিনিধি, [নালিশকারীর ব্যাংক ও শাখার নাম]।

৩. ব্যবস্থাপক / অনুমোদিত প্রতিনিধি, [আসামির ব্যাংক ও শাখার নাম]।

৪. [লেনদেনের কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী থাকলে তাঁর নাম ও ঠিকানা]।

সত্যপাঠ / যাচাইকরণ

আমি, [নালিশকারীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], বয়স: প্রায় [বয়স] বছর, ধর্ম: [ধর্ম], পেশা: [পেশা], সাং: [ঠিকানা], সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষণা করছি যে:

অত্র নালিশী দরখাস্তের ১ থেকে ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত তথ্যাদি আমার জ্ঞান, বিশ্বাস ও আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী সত্য ও সঠিক। আজ [তারিখ] দিন, [মাস], ২০____ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত প্রাঙ্গণে, [জেলার নাম]-এ আমি এই সত্যপাঠে নিজ স্বাক্ষর প্রদান করলাম।

নালিশকারীর স্বাক্ষর

মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়

ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা সম্পত্তি–সংক্রান্ত নানা আইনি কাজে অনেক সময় নিজে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বিশেষ করে জমিজমা কেনাবেচা, রেজিস্ট্রেশন, মামলা পরিচালনা বা প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত কাউকে ক্ষমতা প্রদান করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এই প্রয়োজন থেকেই মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির গুরুত্ব অপরিসীম। তবে মোক্তারনামা একটি সংবেদনশীল ও পূর্ণাঙ্গ আইনি দলিল হওয়ায় এটি যথাযথ নিয়ম, শর্ত ও আইন মেনে সম্পাদন করা অত্যন্ত জরুরি। ভুল বা অসতর্কতার কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই মোক্তারনামা কী, এর প্রকারভেদ, শর্তাবলী, রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি, বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের জন্য করণীয়, রি-স্ট্যাম্পিং এবং বাতিলের নিয়ম—এসব বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। এই আলোচনায় মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে আইনসম্মতভাবে করতে হয়, তা ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে।

 

মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়
মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়

 

মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়

মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি একটি পরিপূর্ণ আইনী দলিল। স্ট্যাম্প এ্যাক্ট, ১৮৯৯ এর ২(২১) উপ-ধারা অনুসারে যে ‘দলিল’ দিয়ে কোন ব্যক্তিকে অন্য কোন ব্যক্তির পক্ষে হাজির হয়ে কার্য সম্পাদন বা কোন ডিক্রি/রেজিস্ট্রি সম্পাদন, তত্ত্বাবধান ইত্যাদি বিষয়ক যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদন করার ক্ষমতা দেয়া হয় তাকে মোক্তারনামা বলে।

সাধারণত স্থাবর সম্পত্তি তথা জমিজমা দান, বিক্রয়, হস্তান্তর, রক্ষণাবেক্ষণ, বন্ধক রাখা, ক্ষণ গ্রহণ, খাজনা প্রদান ইত্যাদি কাজে মোক্তার বা অ্যাটর্নি বা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়। তবে অস্থাবর সম্পত্তির বিষয়েও মোক্তার নিয়োগ করা যায়।

পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি

পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দু’প্রকার, যথা

(ক) জেনারেল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি,

(খ) স্পেশাল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি।

যে মোক্তারনামায় মোক্তারদাতার পক্ষে জমি-জমা ক্রয়, বিক্রয়, রক্ষণাবেক্ষণ, চুক্তিপত্র করা, মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনা করা সহ যাবতীয় কাজের ক্ষমতা মোক্তারকে দেয়া হয় তাকে জেনারেল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি বলা হয়।

অন্যদিকে একটি নির্দিষ্ট বা কোন বিশেষ কাজের ক্ষমতা মোক্তারকে দিয়ে তৈরী মোক্তারনামাকে বলে স্পেশাল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি ।

 

মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়
মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়

 

পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির শর্তাবলী

(১) মোক্তারনামা নোটারী পাবলিক, ম্যাজিস্ট্রেট বা বিদেশে সম্পাদিত হলে তা দূতাবাসের প্রতিনিধির সম্মুখে সম্পাদন (সহি) করতে হবে এবং তদিক/সত্যায়ন করতে হবে;

(২) মোক্তারনামা লিখিত দলিল হতে হবে;

(৩) মোক্তারনামা যথাযথ স্ট্যাম্পযুক্ত হতে হবে;

(৪) মোক্তারনামা দাতা (Principal) কর্তৃক মোক্তার (Attorney) কে ক্ষমতা প্রদান করতে হবে।

 

মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়
মোক্তারনামা বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যেভাবে করতে হয়

 

পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি রেজিস্ট্রিকরণ

(ক) মোক্তার দাতা তার পক্ষে কাউকে রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩২ ধারা মতে দলিল সম্পাদন ও দাখিল করার জন্য মোক্তার নিযুক্ত করে যে মোক্তারনামা তৈরি করেন তা অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে (রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩৩ ধারা)।

(খ) মোক্তারনামা দাতার (Principal) সম্পত্তি যেখানেই থাকুক দাতা যেখানে বসবাস করেন সে জেলার রেজিস্ট্রার বা সাব-রেজিস্ট্রার এর সম্মুখে মোক্তারনামা সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করতে হবে।

(গ) মোক্তারনামা সম্পাদনকালে দাতা বিদেশে বসবাসরত থেকে থাকলে তাকে নোটারী পাবলিক, আদালতের বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা বাংলাদেশ দূতাবাসের বাণিজ্যদূত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির সম্মুখে মোক্তারনামা সম্পাদন করতে হবে এবং তার দ্বারা মোক্তারনামাটি প্রত্যয়ন করাতে হবে।

(ঘ) দলিল দাতা দলিল নিজে সম্পাদন করে তা রেজিস্ট্রি অফিসে দাখিল করার জন্য ক্ষমতা দিয়ে মোক্তারনামা তৈরি করলে এরূপ মোক্তারনামা শুধু তসদিক বা সত্যায়ন করলেই চলবে। এরূপ মোক্তারনামা রেজিস্ট্রি করতে হবে না।

(ঙ) যে সব মোক্তারনামা রেজিস্ট্রি করতে হবে তা অবশ্যই সম্পাদনের ৪ মাসের মন্ত্রে দাখিল করতে হবে।

(চ) রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩৩ (১) ধারায় যে সব ব্যক্তিকে রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়া হতে রেহাই দেয়া হয়েছে তারা বাড়িতে বা জেলে বসে মোক্তারনামা সম্পাদন করতে পারবেন ।

মোক্তারনামা নিয়মিতকরণ বা রি-স্ট্যাম্পিং

বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানরত কোন ব্যক্তি মোক্তারনামা করতে চাইলে তাকে মোক্তারনামাটি রেজিস্ট্রেশন এ্যাক্টের ৩৩(গ) ধারা মতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দ্বারা প্রত্যয়ন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে সত্যায়ন করে নিতে হবে। এরপর দলিলটি দিন মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের নিকট রি-স্ট্যাম্পিং এর জন্য দাখিল করতে হবে।

জেলা প্রশাসক সবকিছু যথাযথ পেলে স্ট্যাম্প এ্যাক্টের ১৮ ধারা মতে বিশেষ আঠাযুক্ত (Adhesive) স্ট্যাম্প লাগিয়ে তা বাতিল করে নিয়মিত বা রি-স্ট্যাম্পিং করে দিবেন। পাওয়ার দলিল সম্পাদনের দিন মাসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিল করতে না পারলে স্ট্যাম্প এ্যাক্টের ৩৩ ধারা মতে সাধারণ ফিসের দশ গুণ বেশী ফিস দিয়ে তা নিয়মিতকরণ করা যাবে।

মোক্তারনামা বাতিলের পদ্ধতি

(ক) মোক্তারনামা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য করা হলে মেয়াদ শেষে তা বাতিল বলে গণ্য হবে;

(খ) মোক্তারনামা নির্দিষ্ট কোন কাজের জন্য করা হলে ঐ কাজ সমাপ্তিতে তা বাতিল বলে গণ্য হবে

(গ) যৌথ ক্ষমতার মোক্তারনামার পক্ষদের একজনের মৃত্যুতে তা বাতিল বলে গণ্য হবে:

(ঘ) মোক্তারনামা দাতা কোন মোক্তারনামা বাতিল করতে ইচ্ছুক হলে যে রেজিস্ট্রি অফিসে তা তসদিক করা হয়েছিল সে স্থানের জেলা রেজিস্ট্রারের (ডি. আর.) বরাবরে মোক্তারনামা রদের আবেদন করতে হবে। পূর্বকৃত মোক্তারনামাটি বিনষ্ট না হয়ে থাকলে আবেদনের সঙ্গে সেটিও দাখিল করতে হবে।

এতে তিনি “রদ করা হলো” কথাটি লিখে দিবেন এবং সে মোতাবেক রেজিস্ট্রার সংশোধন করবেন। রেজিস্ট্রারিং অফিসার মোক্তারনামা বাতিলের আবেদন পাবার পর তাঁর জেলার সকল রেজিস্ট্রি অফিসে বা অন্য কোন জেলা সদর অফিসকে বিষয়টি নোটিসের মাধ্যমে জানিয়ে দেবেন। নোটিস জারীর ডাকটিকেটের খরচ আবেদনকারী বহন করবেন,

(ঙ) তবে স্বার্থের সাথে যুক্ত মোক্তারনামা স্বার্থপূর্ণ বা পরিত্যক্ত না হওয়া পর্যন্ত বাতিল করা যায় না। (মোক্তারনামা আইনের ৩ ধারা)