বিচারাধীন বন্দী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বিচারাধীন বন্দী।

বিচারাধীন বন্দী

 

বিচারাধীন বন্দী

 

বিধি-৯০৯।

কোন আদালত কোন অভিযুক্তকে হাজতে আটক রাখার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে, দায়রা আদালতে বিচারের জন্য সোপর্দ ব্যক্তি ব্যতীত, অন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিক্রমে ১৫ দিনের বেশী হাজতে রাখার আদেশ দেয়া যাবে না, এবং আরও শর্ত থাকে যে, হাইকোর্ট বিভাগ। যাতীত অন্য কোন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যেকটি আদেশ লিখিত এবং বিচারকারী জজ বা ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে।

(নোট- অনুরূপভাবে হাজতে আটক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এই কোডে ‘ বিচারাধীন বন্দী ‘ বলা হবে।

টীকা-১।

আসামীকে যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে, তাঁর সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার করার অধিক্ষেত্র থাকুক বা না থাকুক তিনি তাঁর বিবেচনামত আসামীকে উক্তরূপ হেফাজতে আটক রাখার জন্য কর্তৃত্ব প্রদান করবেন, তবে এরূপ আটকের মেয়াদ সর্বমোট পনর দিনের অধিক হবে না [ ধারা -১৬৭(২), ফৌজদারি কার্যবিধি ] ।

টীকা-২।

সাক্ষীর অনুপস্থিতি বা অন্য কোন যুক্তিসংগত কারণে যদি কোন ইনকোয়ারি বা বিচারের আরম্ভ কাজ স্থগিত রাখা অথবা ইনকোয়ারি বা বিচার মুলতবি রাখা প্রয়োজনীয় বা সংগত হয়ে পড়ে, তা হলে আদালত উপযুক্ত মনে করলে কারণ উল্লেখ পূর্বক লিখিত আদেশ দ্বারা যে শর্তে উপযুক্ত মনে করেন সে শর্তে, যে সময়ের জন্য যুক্তিসংগত মনে করেন সে সময়ের জন্যে তা বিভিন্ন সময়ে স্থগিত বা মুলতবি রাখতে পারবেন এবং আসামী হাজতে থাকলে ওয়ারেন্ট দ্বারা তাকে পুনরায় হাজতে প্রেরণ করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, এ ধারা অনুসারে কোন ম্যাজিষ্ট্রেট কোন আসামীকে এক সময়ে পনর দিনের অধিক মেয়াদের জন্যে হাজতে পাঠাতে পারবেন না [ধারা -৩৪৪(১), ফৌজদারি কার্যবিধি ] ।

বিধি-৯১০।

(১) বিচারাধীন বন্দীকে ২ ভাগে বিভক্ত করা হবে-

ডিভিশন-I ঃ- শিক্ষিত,সামাজিক মর্যাদা ও উচ্চতর জীবন যাপনেঅভ্যস্ত ব্যক্তি;

ডিভিশন- II:- সাধারণ মানের ব্যক্তি

বিচারাধীন বন্দীদের শ্রেণী বিভাজন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমোদন সাপেক্ষে বিচারিক আদালত নির্ধারণ করবেন। 

(২) ডিভিশন-I প্রাপ্ত বিচারাধীন বন্দীদেরকে ডিভিশন- II বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে 

(৩) বিচারাধীন বন্দী পুরুষ বা মহিলা, উভয়কে সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের। আলাদা রাখতে হবে। 

বিধি ৯১১।

দায়রা আদালতে সোপর্দকৃত বন্দী ব্যতীত, প্রত্যেক ওয়ারেন্টে বন্দীকে ম্যাজিষ্ট্রেট বা অন্য কোন ওয়ারেন্ট প্রদানকারী কর্মকর্তার নিকট তারিখে হাজির করতে হবে তার উল্লেখ থাকতে হবে। দায়রা আদালতে বন্দীকে হাজির করার তারিখ নির্দিষ্ট থাকলে ওয়ারেন্টে এবং হিস্ট্রি টিকেটে জেলার তা লিখে রাখবেন। বন্দীকে আদালতে হাজির হবার তারিখ জানাতে হবে যাতে সে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে।

প্রত্যেক বিচারাধীন বন্দীর নাম ও নম্বর প্রাথমিকভাবে রিলিজ ডাইরীতে লেখা যেতে পারে, যে তারিখে তাকে আদালতে হাজির করতে হবে, তা পৃষ্ঠার উপরের দিকে দিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু, কেন্দ্রীয় কারাগারে, বন্দীর সংখ্যা বেশী থাকায় সেখানে ওয়ারেন্টগুলি প্রত্যেক দিন এবং মাসের হিসাবে পৃথক খোপ বিশিষ্ট বিশেষ আলমারিতে রাখা যেতে পারে।

টীকা-১।

বিচারাধীন বন্দীদের কারাগার হতে পাহারায় কোর্টে নেয়ার, কোর্ট হতে কারাগারে ফেরত আনার এবং কোর্টে তাদেরকে নজর রাখার দায়িত্ব কোর্ট পুলিশের (প্রবিধান ৪৭৯, পিআরবি)।

টীকা-২।

বন্দীদের কারাগার হতে কোর্টে নেয়ার এবং কোর্ট হতে করাগারে ফেরত আনার সময় যতদূর সম্ভব সংক্ষিপ্ত রাস্তা অনুসরণ করতে হবে, তবে বাজার, অধিক জন সমাগমপূর্ণ রাস্তা পরিহার করা উচিত। সম্ভব হলে তাদেরকে গাড়ীতে করে আনা-নেয়া করতে হবে। প্রথম শ্রেণীর বিচারাধীন বন্দীদেরকে প্রিজন ভ্যান বা ভাড়া করা গাড়ীতে আনা-নেয়া করতে হবে এবং তাদের যাতায়াতে যুক্তিসঙ্গত আরাম ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে (প্রবিধান ৪৮০, পিআরবি)।

 

টীকা-৩।

যাদের মামলা নিষ্পত্তি হয় নি তাদের জন্যে অপেক্ষা না করে সকল বন্দীকে সূর্যাস্তের এক ঘন্টা পূর্বে কারাগারে ফেরত নিয়ে আসতে হবে। যাদেরকে কোর্টে আটক রাখা হয়েছে তাদের জন্যে অতিরিক্ত পাহারা দেয়ার জন্যে কোর্ট অফিসার আর্মড ইন্সপেক্টরের নিকট আবদেন করবেন (প্রবিধান ৪৮০, পিআরবি)।

টীকা-৪।

প্রথমবারের মতো কারাগারে পাঠানো বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রে কোর্ট পুলিশ লক্ষ্য রাখবে যে, কারাগারে রাতের খাবার দেয়ার সময়ের, যা সন্ধ্যার এক ঘন্টা পূর্বে দেয়া হয়, পরে বন্দীদের কারাগারের পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকলে তাদেরকে কারাগারে নেয়ার পূর্বেই খাবার দিতে হবে(প্রবিধান ৪৭৯, পিআরবি)।

বিধি-৯১২।

দোষ স্বীকারকারী বিচারাধীন বন্দীকে একই মামলার অন্য বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। যখন বিচারাধীন ওয়ার্ডে পৃথক সেল বা কম্প থাকে তখন সেগুলো এ কাজে ব্যবহার করতে হবে। যদি পৃথক কম্পার্টমেন্ট না থাকে তবে দোষ স্বীকারকারী বিচারাধীন বন্দীকে দিনের বেলায় পৃথক সেলে এবং রাতের বেলায় ভিন্ন ওয়ার্ডে রাখতে হবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, তা যেন নির্জন কারাবাস না হয়।

বিধি-৯১৩।

পারাস্থাত অনুমোদন করলে বন্দী সনাক্তকরণ কারাগারের ভিতরে হবে। উপরের বিধিসমূহ কারাগারে বিচারাধীন বন্দী এবং সন্দিগ্ধ বন্দীর জন্য প্রযোজ্য। ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ব্যতীত, জামিনে থাকা ব্যক্তিকে বিচারাধীন বন্দীদের সাথে মেশানো যাবে না।

দোষ স্বীকারকারী অভিযুক্তের ক্ষেত্রে পৃথক সনাক্তকরণ মহড়ার আয়োজন করতে হবে, যদি না ম্যাজিষ্ট্রেট নির্দেশ প্রদান করেন যে, দোষ স্বীকারকারীর সাথে দোষ অস্বীকারকারীদের মেশানোর প্রয়োজন রয়েছে এবং সনাক্তকরণ মহড়া একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।

বিধি-৯১৪।

কোন বিচারাধীন বন্দী পূর্বে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত করার জন্যে সাধ্যমত চেষ্টা করা কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হবে। এ বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য অবশ্যই পুলিশ সুপারকে ২৩ নম্বর জেল ফরমে জানাতে হবে। এ ফরম ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকটও দাখিল করতে হবে। সম্ভব হলে অভ্যাসগত বিচারাধীন বন্দীদেরকে অনভ্যাসগতদের কাছ থেকে পৃথক রাখতে হবে। কিশোর বিচারাধীন বন্দীদেরকে প্রাপ্ত বয়স্কদের কাছ থেকে পৃথক রাখতে হবে এবং সম্ভব হলে লঘু অপরাধে অভিযুক্তদেরকে দায়রায় সোপর্দকৃত বিচারাধীন বন্দীদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।

বিধি-৯১৫।

জেল সুপার জামিনযোগ্য ধারায় আটক বিচারাধীন বন্দীদের একটি তালিকা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন। জেল সুপার প্রতি পাক্ষিকে ২৭ নম্বর ফরমে ১৪ দিনের বেশী আটক বিচারাধীন বন্দীদের ব্যপারে একটি তাগিদ প্রদান করবেন। তবে দায়রা আদালতে বিচারাধীন বন্দীদের বিষয়ে তাগিদ প্রদান করা যাবে না।{তা ছাড়া জেল সুপার তিন মাসের অধিক বিচারাধীন বন্দীদের একটি তালিকা ২৭ নম্বর ফরমে প্রত্যেক মাসের প্রথম সপ্তাহে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। }

নং-৬২১ এইচ জে তারিখ ১৩-৫-১৯৪৭ মূলে সংযোজিত ।

বিধি-৯১৬।

ওয়ারেন্টে-ধার্য তারিখে বা পরবর্তী আদেশে উল্লেখিত তারিখে বিচারাধীন বন্দীদেরকে আদালতে হাজির করার জন্যে পুলিশের হেফাজতে হস্তান্তর করতে হবে। যদি কোন বিচারাধীন বন্দী ইচ্ছা প্রকাশ করে যে তাকে আদালতে প্রেরণকালে জেলারের নিকট রক্ষিত তার নগদ টাকা প্রদানের জন্যে তাকে ফেরত দেয়া প্রয়োজন, তবে জেলার প্রাপ্তি স্বীকার রেখে তাকে তা ফেরত প্রদান করবেন। অন্যান্য ক্ষে ে টাকা জেলারের নিকট গচ্ছিত থাকবে।

যদি বন্দী আদালত হতে মুক্তি পেয়ে যায়, তবে তার আবেদন মোতাবেক জেল গেইটে তাকে তার টাকা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত সম্পত্তি ে প্রদান করতে হবে।

নোট- অদাবীকৃত সম্পত্তির বিষয়ে বিধি ৫৪৭ অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৯১৭।

দৈনিক যে সকল বন্দীকে ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে। তাদের নাম কোর্ট অফিসার হাজত রেজিষ্টারে (ফরম নম্বর ৩৮৩১) লিখবেন। বন্দীদেরকে ধার্য তারিখ মোতাবেক আদালতে হাজির করার জন্যে তিনি পাঠ্য থাকবেন। উক্ত তালিকা জেলার দেখবেন এবং বন্দী হাজির করণের বিষয় অবহিত হবেন।

বিধি-৯১৮।

কোন বিচারাধীন বন্দী একাধিক মামলার আসামী হলে তার ওয়ারেন্টে সকল মামলার রেফারেন্স লিপিবদ্ধ করা হবে।

বিধি-৯১৯।

মুক্তির আদেশ দানের পর (লক আপের পরে ছাড়া) সঙ্গে সঙ্গে মুক্তি

দিতে হবে। বন্দীকে মুক্তি প্রদানের আদেশ কার্যকর হয়েছে মর্মে উল্লেখ পূর্বক

ওয়ারেন্ট আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে। বন্দীর কোন সম্পত্তি থেকে থাকলে

তা তাকে ফেরত দিতে হবে।

বিধি-৯২০।

আদালতে হাজিরকৃত বিচারাধীন বন্দীকে আদালত হতে ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ কর্তৃক সরাসরি খালাস কিংবা জামিনে মুক্তি প্রদান করা হলে, খালাস বা মুক্তিদানকারী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ একই দিনে জেলারের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৯২১।

মুক্তি প্রদানের প্রাক্কালে প্রত্যেক বিচারাধীন বন্দীর ওজন বিচারাধীন বন্দীদের রেজিষ্ট্রারে রেকর্ড করতে হবে। আদালত হতে মুক্তি প্রাপ্ত বিচারাধীন বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ডকৃত সর্বশেষ ওজন মুক্তিকালীন ওজন বলে গণ্য হবে।

বিধি-১২২।

(১) কোন অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দী কারাগারের বিধি এবং শৃঙ্খলা সাপেক্ষে কারাগারে আটক থাকবে। তাকে নিজের পোশাক পরিবর্তনের সুযোগ দেয়া হবে, তবে তার নিজের চেহারার কোন পরিবর্তন করতে দেয়া হবে না। তাকে জুতা পরিধান করতে দেয়া হবে।

(২) জেল সুপারের অনুমোদনক্রমে অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীকে তার প্রমত কোন পেশা বা বৃত্তিতে কাজ করতে উৎসাহিত করা হবে এবং তা থেকে প্রাপ্ত কোন আয় গ্রহণ করতে দেয়া হবে। যদি কারাগারের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় তবে তার ভাড়া কেটে রাখা হবে এবং সরকারের খরচে সে গুলি মেরামত করা হলে সে খরচও কেটে রাখা হবে। তাকে তার ওয়ার্ড, সেল ও মাতিনা পরিষ্কার রাখতে হবে।

(৫) যদি জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার পরামর্শ প্রদান করেন তবে তাকে সকালে এবং বিকালে অনধিক একঘন্টা হাঁটার ব্যয়াম করতে হবে। (8) কোন অসম্মান জনক কাজ কোন অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে দেয়া যাবে না এবং স্কিনার বাহিরে কোন কাজ করতে দেয়া হবে না।

বিধি-১২৩।

একজন অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীকে নিজের ভরণ পোষণের জন্য অনুমতি দেয়া হবে এবং ব্যক্তিগত উৎস হতে খাদ্য, পোশাক, বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় বা গ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে, কিন্তু পরীক্ষা করার শর্ত সাপেক্ষে এবং মহাপরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত বিধি-বিধানের আওতায়। শর্ত থাকে যে, কোন অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে বাহির হতে খাদ্য সরবরাহের জন্যে অনুমতি প্রদান করা হলে কারাগার হতে তাকে কোন খাদ্য সরবরাহ করা হবে না ।

একজন অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কারাগারের লাইব্রেরী হতে বই সরবরাহ করা যেতে পারে। জেল সুপারের অনুমোদনক্রমে তাকে বাহির হতে যুক্তিসংগত পরিমাণ বই, সংবাদপত্র, ষ্টেশনারী এবং লেখার দ্রব্যাদি সংগ্রহের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। {বন্দীর নিজ ব্যয়ে ক্ষতিকর নয় এমন ঘরোয়া খেলারও অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে। }

নং ১০৯২ এইচ জে ১০৯২ তারিখ ৩-৪-১৯৪১ মূলে সংযোজিত।

বিধি-৯২৪।

কোন অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীর খাদ্য, পোশাক, বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের কোন অংশ, অন্য কোন বন্দীর নিকট দেয়া বা ভাড়া প্রদান বা বিক্রয় করা যাবে না এবং কোন বন্দী এ বিধির লঙ্ঘন করলে, জেল সুপার যে রকম উচিত মনে করবেন সে রকম সময় পর্যন্ত খাদ্য ক্রয় বা ব্যক্তিগত উৎস হতে গ্রহণ করার সুযোগ হারাবেন।

বিধি-৯২৫।

প্রত্যেক অসাজাপ্রাপ্ত বন্দী নিজের পর্যাপ্ত পোশাক ও বেডিংয়ের সংস্থান না করতে পারলে, জেল সুপার প্রয়োজন মোতাবেক পোশাক ও বেডিং সরবরাহ করবেন, তবে খাদ্য,পোশাক,বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি জেল সুপারের অনুমোদন সাপেক্ষে জেলারের মাধ্যমে ক্রয় করা হবে এবং বিচারাধীন বন্দীর নিকট প্রেরণের পূর্বে জেলার তা পরীক্ষা করে দেখবেন। স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর এবং নেশা বা সুরা জাতীয় দ্রব্য সরবরাহ করা যাবে না।

বাহির থেকে সরবরাহ করা খাদ্য জেলার এবং মেডিকেল সাব অর্ডিনেট পরীক্ষা করে দেখবেন এবং কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য পাওয়া গেলে জেল সুপারকে জানাবেন। কোন বন্দীর নিকট পূর্ববর্তী দুই বিধি মোতাবেক প্রেরিত খাদ্য বা কোন দ্রব্যের সঙ্গে গোপনে কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য সরবরাহ করা হলে ৯২৩ বিধিতে প্রদত্ত সুবিধা রহিত করে দেয়া হবে। ৬৬০ বিধিতে বর্ণিত নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

তবে তাদেরকে নিজেদের খরচে যুক্তি সংগত পরিমাণ পান, সুপারি এবং তামাক রাখার অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে। জেল সুপার অপ্রয়োজনীয় এবং অনুপযুক্ত মনে করলে কোন বিচারাধীন বন্দীর নিকট কোন দ্রব্য সরবরাহের অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।

বিধি-৯২৬।

বিচারাধীন বন্দীদেরকে ছত্রিশ অধ্যায় অনুসারে খাবার দেয়া হবে। ডিভিশন-I বিচারাধীন বন্দীকে ডিভিশন -I এবং ডিভিশন -II সাজা প্রাপ্তদের স্কেলে, এবং ডিভিশন-II বিচারাধীন বন্দীকে ডিভিশন-III সাজা প্রাপ্তদের স্কেলে খাবার প্রদান করা হবে।

বিধি-৯২৭।

ব্যতিক্রম সাপেক্ষে, কারা অপরাধ এবং শাস্তি বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, কিন্তু বেত্রাঘাত প্রয়োগের পূর্বে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের সম্মতি গ্রহণ করতে হবে এবং বেড়ী প্রয়োগ করা হলে, তার পরিপ্রেক্ষিত কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে।

বিধি- ৯২৮।

কোন বিচারাধীন বন্দী পলায়নের চেষ্টা করলে দণ্ড বিধির ২২৪ ধারায় বিচারের জন্যে তাকে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হবে। টীকা- হাজতে আটক কোন ব্যক্তি যদি হাজত হতে পলায়ন করে বা পলায়নের উদ্যেগ গ্রহণ করে, সেই ব্যক্তি যার মেয়াদ দুই বৎসর পর্যন্ত হতে পারে কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

উক্ত দণ্ড তার কারাবাসের মূল দন্ডের অতিরিক্ত হবে (ধারা-২২৪, দণ্ডবিধি)। বিধি-৯২৯। বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ড একজন কয়েদী-কর্মচারীর তত্ত্বাবধানে থাকবে এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা নিয়মিত দেখাশুনা করবেন।

বিধি-৯৩০।

বিচারাধীন বন্দীদের সকল তথ্যাদি, সঙ্গে আনা জিনিসপত্রসহ বিচারাধীন বন্দীদের ভর্তি রেজিষ্ট্রারে (রেজিষ্ট্রার-৮) লিপিভুক্ত করতে হবে। একটি হিস্ট্রি টিকেটে প্রত্যেক বিচারাধীন বন্দীর নাম, আদালতে হাজির করার প্রথম তারিখ, কারাগারে ভর্তির তারিখ, যে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত, পূর্ববর্তী সাজা (যদি থাকে), মামলা যে আদালতে বিচারাধীন, দোষ স্বীকারকারী বন্দী কিনা, বিচারের তারিখ সমূহ, ভর্তির সময়ে ওজন, প্রতি ১৫ দিন পরে ওজন প্রভৃতি রেকর্ড করতে হবে।

কোন জখমী চিহ্ন আছে কিনা, থাকলে সেগুলো সম্পর্কে বন্দীর বক্তব্যসহ, সতর্কতার সঙ্গে হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে। এই টিকেট সব সময় পরিদর্শনকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদর্শন করতে হবে।

বিধি-৯৩১।

(১) কোন বিচারাধীন বন্দীর অবস্থা মরণাপন্ন হলে, জেল সুপার বিষয়টি ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাবেন বা দায়রা আদালতে বিচারাধীন হলে দায়রা আদালতকে জানাবেন, আদালত আইনানুগ মনে করলে বন্দী জামিনে মুক্তি পেতে পারে। যদি জামিন অগ্রাহ্য হয়,তবে জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে উন্নত চিকিৎসার জন্যে বন্দীকে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করবেন এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে ৫৯৭ বিধির {(i) এবং (ii) উপ-বিধি এবং নোট (১)} অনুসরণ করতে হবে। বিধি ৫৯১ এবং ৫৯২ বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। না ।

(২) কোন বিচারাধীন বন্দী অসুস্থতার কারণে আদালতে ধার্য তারিখে হাজির হতে পারবে না বলে প্রতীয়মান হলে জেল সুপার আদালতকে এ ব্যপারে অবহিত করবেন। এর পর বন্দী আরোগ্য লাভ করলে বা অসুস্থতা দীর্ঘায়িত হলে তিনি পুনরায় তা আদালতকে জানাবেন ।

 

বিচারাধীন বন্দী

 

বিধি-৯৩২।

বিচারাধীন বন্দীর মৃত্যু বা উম্মাদ গ্রস্ততার সংবাদ জেল সুপার কর্তৃক সে আদালতকে জানাতে হবে যে আদালতের নির্দেশে বন্দীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছিল।

বিধি-৯৩৩।

বিচারাধীন বন্দীদের জন্য “বিচারাধীন বন্দীদের রেজিষ্টার’ (রেজিষ্ট্রার-৮) ব্যবহার করতে হবে। 

জেল কোড অনুযায়ী সিভিল বন্দী

আজকে আমরা সিভিল বন্দী সম্পর্কে আলোচনা করবো

 

সিভিল বন্দী

 

জেল কোড অনুযায়ী সিভিল বন্দী

বিধি-৮৮৬৷

প্রত্যেক সিভিল বন্দীকে সিভিল ওয়ার্ড বা কারাগারে আটক রাখতে হবে এবং তাদেরকে ফৌজদারি বন্দীদের সঙ্গে যোগাযোগ বা মেলামেশার অনুমতি দেয়া হবে না।

 

বিধি-৮৮৭।

প্রয়োগ নেই।

 

বিধি-৮৮৮।

সিভিল বন্দী ৬ প্রকারের-

(১) দেওয়ানী কার্যবিধির ৩২ (ডি) ধারায় দেওয়ানী আদালত কর্তৃক দেওয়ানী কারাগারে সোপর্দকৃত ব্যক্তি,

(২) রায়ের পূর্বে সিভিল কারাগারে সোপর্দকৃত বিবাদী

(৩) দেওয়ানী আদালতের আদেশ মোতাবেক ডিক্রীজারীর জন্য আটক বিচারে-দেনদার,

(৪) সার্টিফিকেট অফিসারের আদেশ মোতাবেক সরকারী পাওন আদায় আইন, ১৯১৩ অধীনে আটক বিচারে দেনদার,

(৫) ফৌজদারি কার্য বিধির { } ৫১৪ ধারায় ফৌজদারি আদালত কর্তৃক কারাদণ্ড প্রদত্ত ব্যক্তি,

(৬) প্রযোজ্য অন্য কোন আইনে সিভিল কারাগারে আটককৃত ব্যক্তি।

 

বিধি-৮৮৯।

লক আপের শেষে সূর্যাস্তের পর কোন সিভিল বন্দীকে ভর্তি করা যাবে না।

 

বিধি-৮৯০।

দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার XXI, রুল ৩৯ মোতাবেক বিচারে- দেনদার সিভিল বন্দীর খাবার খরচ ডিক্রীদার বহন করবেন। ১৯১৩ সালের সরকারী পাওনা আদায় আইনের আওতায় প্রেরিত সিভিল বন্দীর খাবার খরচ সার্টিফিকেট অফিসার বন্দীর সঙ্গে প্রেরণ করবেন অথবা বিনাশ্রম স্কেলে তাদেরকে সরকার কর্তৃক খাওয়ানো হবে মর্মে আদেশ প্রদান করবেন।

 

সিভিল বন্দী

 

বিধি-৮৯১।

যখন ডিক্রীজারীর উদ্দেশ্যে কোন সিভিল বন্দীকে কারাগারে সোপর্দ করা হয়, তখন প্রেরণকারী আদালত হাইকোর্ট অনুমোদিত হারে বন্দীর মাসিক খোরপোষ ভাতা ধার্য করে দিবেন। প্রথম পেমেন্ট কোর্ট অফিসারের নিকট প্রদান করতে হবে। চলতি মাসের যতদিন অবশিষ্ট আছে সে হিসাব করে, কোর্ট অফিসার তা জেলারের নিকট প্রেরণ করবেন।

যথাযথ ভাতা না পাওয়া পর্যন্ত কোন বিচারে দেনদারকে সিভিল কারাগারে গ্রহণ করা হবে না। সম্পূর্ণ পরিমাণ আনুষঙ্গিক ভাতা (যদি থাকে) মাস শুরু হবার পূর্বেই জেলারের নিকট অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে। ডিক্রীদার ভাতা পরিশোধ না করলে জেল সুপার আদালতকে না জানিয়ে বিচারে দেনদারকে মুক্তি দিবেন। মুক্তি সে দিন সকালে দিতে হবে, যে দিনের জন্য কোন ভাতা পরিশোধ করা হয় নি। ডিক্রীদারকে ৭৬ নম্বর জেল ফরমে তার পরিশোধকৃত টাকার প্রাপ্তি প্রদান করতে হবে।

 

বিধি-৮৯২।

আদালত দেওয়ানী কারাগারে সোপর্দকৃত বন্দীর মাসিক ভাতা কেবল মাত্র শ্রেণী অনুযায়ী ধার্য করবেন, বন্দীর বংশ বা জাতীয়তা বিবেচনা করবেন না (হাইকোর্ট রুল ১৫ (সিভিল), ১৯৩২।

 

বিধি-৮৯৩।

(১) সিভিল বন্দীর মুক্তির তারিখ ৫২৪ বিধি অনুযায়ী গণনা করতে হবে এবং তার নাম রিলিজ ডাইরীতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

(২) একাধিক ওয়ারেন্ট মূলে কোন সিভিল বন্দীকে আটকের আদেশ হলে, প্রত্যেক ওয়ারেন্ট পূর্ণ ভাবে কার্যকর করতে হবে, যদিও এতে বন্দীর আটকের মেয়াদ ৬ মাস অতিক্রান্ত হতে পারে। বিধি-৮৯৪। ডিক্রীজারীর জন্যে আটককৃত প্রত্যেক সিভিল বন্দীকে আটক রাখতে হবে-

(ক) যখন ৫০ টাকার বেশী পরিশোধের ডিক্রী হয়, ৬ মাস; এবং

(খ) অন্য যে কোন ক্ষেত্রে, ৬ সপ্তাহ: তবে শর্ত থাকে যে, সে মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পূর্বে মুক্তি পেতে পারে যদি-

(১) দেওয়ানী কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট ওয়ারেন্টে বর্ণিত টাকা পরিশোধ করলে, বা

(২) ডিক্রী অন্য ভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেলে, বা

(৩) যে ব্যক্তির আবেদনে আটক রাখা হয়েছিল তার অনুরোধ ক্রমে, বা

(৪) যে ব্যক্তির আবেদনে আটক রাখা হয়েছিল, সে খোরপোষ ভাতা পরিশোধ হতে বিচ্যুত হলে, বা

(৫) যে ব্যক্তির আবেদনে আটক রাখা হয়েছিল সে ব্যক্তি জেল সুপার কর্তৃক বন্দীকে সরবরাহকৃত পোশাক এবং বেডিংয়ের মূল্য পরিশোধে ব্যর্থ হলে।

আরও শর্ত থাকে যে, ঐ বন্দী আদালতের আদেশ ব্যতীত উপ-বিধি (২) এবং (৩) অনুযায়ী মুক্তি পাবে না। এই বিধান সরকারী পাওনা আদায় আইনের আওতায় সার্টিফিকেট অফিসারের আদেশে দেওয়ানী কারাগারে আটক বিচারে- দেনদারদের ক্ষেত্রেও যথাসম্ভব অনুসরণ করা হবে।

 

সিভিল বন্দী
সিভিল বন্দী

 

বিধি-৮৯৫।

কোন বিচারে দেনদার দেওয়ানী কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন-

(ক) কোন সংক্রামক রোগের কারণে সরকার কর্তৃক,

(খ) গুরুতর অসুস্থতার জন্যে রায় প্রদানকারী আদালত বা তার উচ্চ আদালতের নির্দেশে।

 

বিধি-৮৯৬।

সিভিল বন্দীর মুক্তির পরে, যদি তার খাবার বাবদ কোন টাকা জেলারের হাতে অব্যয়িত থাকে, জেলার তা আদালতে ফেরত পাঠাবেন। খাবার টাকা ফেরত দেয়ার প্রত্যেক প্রাপ্তি রাখতে হবে এবং ক্যাশ বইতে হিসাবের বিপরীতে লাগিয়ে রাখতে হবে।

 

বিধি-৮৯৭।

সিভিল বন্দীদেরকে নিজের জামা-কাপড়, খাবার ও তৈজসপত্র ব্যবহারের এবং ক্রয় করা বা ব্যক্তিগত উৎস হতে গ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে। যদি কোন সিভিল বন্দী পর্যাপ্ত জামা-কাপড় বা বেডিং এর ব্যবস্থা না করতে অপারগ হয়,তা হলে জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে তা তাকে সরবরাহ করবেন।

 

বিধি-৮৯৮।

কোন ব্যক্তির পক্ষে ডিক্রীজারীর উদ্দেশ্যে সোপর্দকৃত সিভিল বন্দীকে পূর্বোক্ত ভাবে জামা-কাপড় বা বেডিং সরবরাহ করা হলে, জেল সুপার সে ব্যক্তির নিকট বন্দীকে প্রদত্ত জামা-কাপড় বা বেডিং এর মূল্য বাবদ খরচের হিসাব প্রেরণ পূর্বক তা পরিশোধের জন্যে লিখিত দাবী জানাবেন। লিখিত দাবী পাবার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তা পরিশোধ করা না হলে, জেল সুপার ঐ সিভিল বন্দীকে মুক্তি প্রদান করবেন।

ডিক্রীদারের নাম ঠিকানা আদালত হতে নিশ্চিত হয়ে রেজিষ্টার্ড ডাক যোগে ডিক্রীদারের ঠিকানায় দাবী প্রেরণ করতে হবে। পর প্রাপ্তির যুক্তি সঙ্গত সময় অপেক্ষা করার পর পাওনা পরিশোধ না হলে জেলার সিভিল বন্দীকে মুক্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে জেল সুপারের নিকট হাজির করবেন। বন্দীকে মুক্তি প্রদানের পূর্বে জেল সুপার নিশ্চিত হবেন যে, দাবী মানা হয়নি বা পরিশোধ করা হয়নি।

 

বিধি-৮৯৯।

যদি ডিক্রীদারের খরচে জামা-কাপড় বা বেডিং সরবরাহ করা হয়,বিচারে-দেনদারকে মুক্তি প্রদানের সময়, রেজিষ্টার্ড ডাকযোগে ডিক্রীদারকে জানাতে হবে যে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি জামা-কাপড় বা বেডিং দাবী না করেন তবে তা জেল সুপার নিজ দায়িত্বে বিক্রয় করে দিবেন। জামা-কাপড় বা বেডিং তদনুযায়ী বিক্রয় করে দেয়া হবে এবং বিক্রয়ের আর আদালতে জমা প্রদান করা হবে।

 

বিধি-৯০০।

সিভিল বন্দীদেরকে তাদের বন্ধুদের মাধ্যমে জেল সুপারের নির্ধারিত সময় মোতাবেক কারাগারের বাহির হতে খাবার সরবরাহ করতে দেয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডিক্রীদার কর্তৃক জমাকৃত ভাঙা বন্দীদের বন্ধুদের কাছে দেয়া যেতে পারে।

 

বিধি-৯০১।

সকল জন্মকৃত বা সরবরাহকৃত খাবার, জামা-কাপড় বা বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি জেলারের মাধ্যমে এবং জেল সুপারের অনুমতিক্রমে এবং পরীক্ষা করে কারাগারে প্রবেশ করানো হবে।

 

বিধি-৯০২।

কোন সিভিল বন্দীর খাদ্য, জামা-কাপড় বা বেডিং বা অন্যান্য সামগ্রী অন্য কোন বন্দীর নিকট বিক্রয় বা ভাড়ায় দেয়া যাবে না। এ বিধির লংঘনকারীকে খাদ্য কেনা বা ব্যক্তিগত উৎস হতে গ্রহণের সুযোগ রহিত করা হবে এবং কোন সিভিল বন্দী কারা আইন, ১৮৯৪ এর ৪২ ধারায় কোন অপরাধ করলে ম্যাজিট্রেট কর্তৃক বিচারে দণ্ডনীয় হবে।

 

সিভিল বন্দী
সিভিল বন্দী

 

বিধি-৯০৩।

বিধির পরিপন্থী না হলে, সিভিল বন্দীদের নিকট ড্রাগ বা মদ ব্যতীত টাকা বা অন্যান্য সামগ্রী দাতার ইচ্ছানুযায়ী দান বা অনুদান হিসাবে বিতরণ করা যেতে পারে। তাদেরকে কারাগারের লাইব্রেরী হতে বই দেয়া যেতে পারে এবং তাদের নিজ খরচে জেল সুপার অনুমোদিত আপত্তিহীন বই বা সংবাদ পত্র রাখার অনুমতি দেয়া যেতে পারে। তাদেরকে নিরাপদ ঘরোয়া খেলার সুযোগ দেয়া যেতে পারে। কোন সাক্ষাত প্রার্থীকে সিভিল বন্দীর জন্য জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত মিষ্টি বা অন্যান্য খাদ্য দ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

 

বিধি-৯০৪।

সিভিল বন্দীদেরকে নিজেদের ভরণ-পোষণের জন্য জেল সুপারের অনুমোদন ক্রমে কোন কাজ বা কোন ব্যবসা বা পেশায় নিয়োজিত হবার অনুমতি দেয়া যাবে। সিভিল বন্দীরা নিজস্ব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে এবং কারাগারের কোন ভরণ-পোষণ ব্যয় না হলে, সম্পূর্ণ আয় গ্রহণ করতে পারবে, কিন্তু কারাগারের যন্ত্রপাতি বা কারাগারের কোন ভরণ-পোষণ ব্যয় হলে যন্ত্রপাতি বা ভরণ-পোষণ ব্যয় তাদের আয় হতে কেটে রাখা হবে ৷ কোন সিভিল বন্দীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কাজ করতে দেয়া হবে না। কিন্তু, তাদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য চাপ দেয়া যাবে।

 

বিধি-৯০৫ ৷

সিভিল বন্দীগণ যখন দিনে কক্ষে বা ওয়ার্ডে থাকবে তাদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং যথাযথ পোশাক পরিহিত অবস্থায় থাকতে হবে। কোন পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা বা অনুমোদিত ভিজিটর সিভিল ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে তারা উঠে দাঁড়াবে, সম্মান করবে এবং কাজ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের জবাব দিবে।

তারা কারাগারের নিয়ম এবং জেল সুপারের নির্দেশ প্রতিপালন করবে। কোন সিভিল বন্দী অপর কোন বন্দী বা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আক্রমণ বা অপমান করলে বা ঝগড়া করলে বা জোরে কথা বললে এবং হৈ চৈ করলে কিংবা অশোভন বা অনৈতিক কোন অপরাধ করলে বা বিনা অনুমতিতে বাহিরের কারো সাথে যোগাযোগ করলে বা কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঘুষ প্রদান করলে বা করার চেষ্টা করলে বা জুয়া খেললে এবং ওয়ার্ডের বারান্দা নোংরা করলে এবং আদেশ অমান্য করলে বা কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি কোন ভাবে অসম্মান প্রকাশ করলে ১,৭ এবং ৮ নম্বর লঘু শাস্তি এবং ৪ নম্বর গুরু শাস্তি অথবা বলবৎ আইন মোতাবেক অন্য কোন দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।

 

বিধি-৯০৬।

কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন সিভিল বন্দীকে পলায়নের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলা করে সুযোগ প্রদান করলে দণ্ড বিধির ২২২ বা ২২৩ ধারায় দণ্ডনীয় হবেন। কোন সিভিল বন্দী পলায়ন করলে দও বিধির ২২৫বি ধারায় দণ্ডনীয় হবে। কোন সিভিল বন্দী পলায়ন করলে ডিক্রীদারকে অবহিত করতে হবে, যিনি, বন্দীর ব্যক্তিগত তথ্যাদি কারা কর্তৃপক্ষ বা পুলিশকে জানিয়ে পুনঃধৃতকরণে সাহায্য করবেন। পুনঃধৃত করা গেলে বা পলায়নের চেষ্টা করলে, বন্দীর বিরুদ্ধে দণ্ড বিধির ২২৫বি ধারায় বিচারের জন্য ফৌজদারি আদালতে মামলা করা হবে।

 

টীকা- যে ব্যক্তি সরকারী কর্মচারী হয়ে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর ক্ষমতায় কোন অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিতকে আইনানুগভাবে আটক করে রাখতে আইনত বাধ্য থেকে অবহেলাপূর্বক অনুরূপ ব্যক্তিকে আটক হতে পলায়ন করতে দেয়, সে ব্যক্তি বিনাশ্রম কারাদণ্ডে যার মেয়াদ দুই বৎসর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে। (ধারা-২২৩, দণ্ডবিধি)।

 

বিধি-৯০৭।

যে সকল বন্দী নিজেদেরকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে আগ্রহী, তাদেরকে জেল সুপার সকল তথ্য ও সহায়তা করবেন-এ মর্মে প্রত্যেক সিভিল ওয়ার্ডের সামনে নোটীশ টানিয়ে রাখতে হবে। দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন একজন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী দ্বারা লেখা যেতে পারে এবং প্রয়োজনীয় লেখার কাগজ ও জিনিসপত্র সরবরাহ করা যেতে পারে ।

বিধি-৯০৮।

সিভিল বন্দীদের জন্য সিভিল জেল রেজিষ্টার (৯ নম্বর রেজিষ্টার) ব্যবহৃত হবে।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের কারাগার বদলি

আজকে আমরা আলোচনা করবো বন্দীদের কারাগার বদলি প্রসঙ্গে

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বন্দীদের কারাগার বদলি । জেল কোড

বিধি-৮৪০। একজন সাজা ভোগরত বন্দীকে কারা মহা পরিদর্শকের আদেশক্রমে সাজার মেয়াদ শেষ হবার একমাস পূর্বে বন্দীর বাড়ীর নিকটবর্তী কারাগারে স্থানান্তর করা যাবে। কিন্তু বিশেষ কারণ ব্যতীত এরূপ স্থানান্তর করা উচিত হবে না। বন্দীরা সাধারণত আটক থাকার কারাগার হতেই মুক্তি পাবে। মুক্তির সময় তাদেরকে তাদের বাড়ীর নিকটবর্তী রেল ষ্টেশন পর্যন্ত ভ্রমনের জন্যে রেল টিকেট এবং দৈনিক ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে।

বিধি-৮৪১। অকার্যকর।

বিধি-৮৪২। নিম্নোক্ত ব্যতিক্রম ব্যতীত যে কোন বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের পূর্ব অনুমোদন প্রয়োজন হবে-

(১) অন্য জেলায় সাক্ষ্য প্রদান বা বিচারের প্রয়োজনে প্রেরণ,

(২) কিশোর অপরাধীকে সংশোধন কেন্দ্রে প্রেরণ,

(৩) পি আর টি বন্দী,

টীকা-১। বর্তমানে বলবৎ কোন আইনে ভিন্ন বিধান না থাকলে কারাদণ্ড বা হাজতবাসের নির্দেশ প্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে, সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন (ধারা- ৫৪১, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-২। ডিটেন্যুদের স্থানান্তরের জন্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে।

টীকা-৩। স্বীকারোক্তির যথার্থতা নির্ণয়ের জন্য একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের প্রয়োজন দেখা দিলে ইনস্পেক্টর জেনারেলের নিকট আবেদন করতে হবে (প্রবিধান ২৮৪, পিআরবি)।

টীকা-৪। বিচারাধীন বন্দীকে প্রথমে যে কারাগারে রাখা হয়েছিল সে কারাগার হতে অন্য কোন কারাগারে স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে কোর্ট অফিসার যে আদালতে উক্ত মামলা চলছে সে আদালতে আবেদন করবেন। অনুরূপ বন্দীকে আদালতে হাজির করার পর স্থানান্তর করার নির্দেশ দেয়া হলে স্থানান্তর করতে হবে (প্রবিধান-৪৮৫, পিআরবি)।

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বিধি-৮৪৩। কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন সাপেক্ষে নিম্নোক্ত ভাবে বন্দী স্থানান্তরিত হবে :-

বন্দীর শ্রেণী স্থানান্তরের উদ্দেশ্য কোন কারাগারে প্রেরণ করা হবে দন্ড শেষ হবার কত দিন আগে জেলকোডের বিধি
১ দীর্ঘ মেয়াদী বন্দী কারাবাস কেন্দ্রীয় কারাগার ৮৪৭,৮৫৯
২ ১ম ও ২য় শ্ৰেণী প্রাপ্ত বন্দী কারাবাস কেন্দ্রীয় কারাগার ১০৬৮
৩ শিক্ষিত বন্দী কারাবাস কেন্দ্রীয় কারাগার ৮৪৭,৮৫৭
৪ মহিলা বন্দী কারাবাস যে কারাগারে ধারণ সুবিধা আছে ৮৫৪,৯৪৭
৫ কিশোর বন্দী কারাবাস যে কারাগারে ধারণ সুবিধা আছে ৮৫৫,৯৬৬,৯
৬ কুষ্ঠ রোগী কারাবাস যে কারাগারে ধারণ সুবিধা আছে ১০৪৭
৭ সিভিল বন্দী কারাবাস যে কারাগারে ধারণ সুবিধা আছে ৮৪৭,৮৫৮
৮ প্রভাবশালী,উগ্র ও ভয়ংকর প্রকৃতির বন্দী কারাবাস আদেশ অনুযায়ী ৮৪৫
৯ প্রয়োগ নেই কারাবাস
১০ মাদক পাচারের জন্যে দণ্ডপ্রাপ্ত কারাবাস নিজ জেলা কারাগারে ২ মাস ৮৫৩
১১ মুচলেকা খেলাপের দায়ে বন্দী মুচলেকা সম্পাদন সুবিধার্থে নিজ জেলা কারাগারে  ২ মাস ৮৫২
১২ ১ম, ২য় শ্রেণী প্রাপ্তবন্দী যারা রেয়াতসহ শর্ত যুক্ত মুক্তি প্রাপ্ত শর্তযুক্ত মুক্তির জন্যে নিজ জেলা কারাগারে  ১ মাস ৮৪৮
১৩ মহিলা বন্দী মুক্তির জন্যে নিজ জেলা কারাগারে ৬ সপ্তাহ ৮৪৮
১৪ পি আর টি বন্দী মুক্তির জন্যে নিজ জেলা কারাগারে ১ মাস ৮৪৮
১৫ অসুস্থ বা মৃত্যুগামী বন্দী ৫৯১,৫৯২ ও ৫৯৪ অনুসারে মুক্তির জন্যে আত্মীয় স্বজন বা বন্ধুবান্ধব বাস করে সে জেলা কারাগারে ১ মাস ৫৯৬
১৬ মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্যে আদেশ মোতাবেক ৯৯৯

এ ছাড়া কারাগারের স্থানাভাব দূর করার জন্যে, পুলিশকে তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে, পুলিশের চাহিদা মোতাবেক ছবি তোলার জন্যে, কারাগারের কাজ করার জন্যে এবং বন্দীর স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যে আদেশ মোতাবেক প্রযোজ্য কারাগারে স্থানান্তর করা যেতে পারে। কোন বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করা যাবে না-

(ক) ভ্রমণের জন্যে উপযুক্ত মর্মে মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান না করলে;

(খ) আপীল না করলে আপীল করার সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা আপীল না মঞ্জুর হওয়া পর্যন্ত।

টীকা- স্বীকারোক্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে কোন বন্দীর কারাগার পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে কারা মহাপরির্দশকের নিকট আবেদন করতে হবে (প্রবিধান ২৮৪, পি আর বি)।

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বিধি-৮৪৪। প্রতিটি বদলির আদেশের আবেদনের সাথে বা আদেশ সাপেক্ষে বদলি করার পর ৮ নম্বর জেল ফরমে বদলিকৃত বা প্রেরিতব্য বন্দীদের নাম নম্বরসহ কারা মহাপরিদর্শকের বরাবরে দাখিল করতে হবে।

বিধি-৮৪৫। শারীরিক সক্ষমতা ও কঠোর পরিশ্রমী বিবেচনায় কোন বন্দীকে বদলির আদেশ দেয়ার পর যে কারাগারে বদলি করা হবে সে কারাগারের জেল। সুপারের সঙ্গে বন্দীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরামর্শ করার জন্যে বদলি বিলম্বিত হতে পারে। আলোচনার পর গ্রহণকারী জেল সুপার বন্দীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোন আপত্তি উত্থাপন করলে বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শকের বরাবরে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৮৪৬। বদলির জন্য তথ্য বিবরণী কারা মহাপরিদর্শক বরাবরে প্রেরণ কালে কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার প্রতিটি বন্দী সম্পর্কে মন্তব্যে কোন আপত্তি লক্ষিত হয় কিনা তা উল্লেখ করবেন; এবং কারা মহাপরিদর্শক কোন্ কোন বন্দী বদলি করা হবে তা নির্ধারণ করবেন। বদলির অনুমোদন আদেশে কারা মহাপরিদর্শক শুধুমাত্র বন্দীর নাম এবং নম্বর উল্লেখ করবেন; এবং আদেশ বন্দী যেখানে আটক আছে সে কারাগারে এবং তথ্য বিবরণী ফদটি বদলি গ্রহণকারী কারাগারে প্রেরণ করবেন। দ্বিতীয় কপি তথ্য বিবরণী ফর্দ কারাগারের অফিসে রাখা উচিত।

বিধি-৮৪৭। বদলির জন্য প্রস্তাবিত বন্দী বিশেষতঃ দীর্ঘ মেয়াদী শিক্ষিত এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বন্দীদের তথ্য বিবরণী ফর্দ যাতে যথাযথভাবে পূরণ হয় এবং যথানিয়মে কারা মহা পরিদর্শক বরাবরে আদেশের জন্য প্রেরিত হয় তা দেখা জেল সুপারের কর্তব্য।

যদি জনাধিক্য বদলির কারণ হয় তবে ১১৪৮ বিধির আদেশ অনুসারে অনতিবিলম্বে জেল সুপার ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। এ ক্ষেত্রে জেলার কঠোরভাবে দায়ী থাকবেন। কোন শিক্ষিত, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও দুর্ধর্ষ প্রকৃতির বন্দী কারাগারে আগমন করলে জেলার তা জেল সুপারের গোচরে আনয়ন করবেন এবং কোন বিধির আওতায় বদলি প্রয়োজন তাহা উল্লেখ করবেন।

৮৪৮ ৷ যে সকল প্রথম শ্রেণীর পুলিশ নিবন্ধিত বন্দী ভর্তির রেজিষ্টার ও মুক্তির ডায়েরীতে যাদের নামের বিপরীতে ইংরেজী ‘টি’ অক্ষর লিখা রয়েছে এবং রেয়াত ফর্দের ১ম এবং ২য় শ্রেণীর বন্দী যারা শতাধীন মুক্তি অর্জন করেছে তাদেরকে বদলি করা উচিত ।

বিধি ৮৪৯-৮৫০। অকার্যকর।

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বিধি-৮৫১। যদি কোন পুলিশ নিবন্ধিত বন্দী অসুস্থতার কারণে তার মুক্তির দুই মাস পূর্বে বদলির জন্য অনুপযুক্ত হয় তবে বিষয়টি বন্দীর নিজস্ব জেলার জেল সুপার ও পুলিশ সুপারকে জানানো উচিত। পরবর্তীতে মুক্তির পূর্বে তার নিজ জেলায় যাওয়ার সময় থাকলে তাকে সেখানে বদলী করা উচিত।

যদি সাজা খাটার মাত্র ১৫ দিন বাকী থাকে তখনও সে বদলির অনুপযুক্ত থাকে, তখন বন্দীর মুক্তি স্লিপে বিষয়টির একটি নোট সহ স্থানীয় পুলিশের নিকট পাঠিয়ে দেয়া উচিত এবং মুক্তির দিন অন্য কোন ঝুট ঝামেলা ছাড়া তাকে মুক্তি দেয়া উচিত। কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত বন্দী যারা পুলিশ নিবন্ধিত তাদেরকে যথেষ্ট সময় হাতে না থাকলে কিংবা মুক্তির পূর্ব দিনে বদলিকৃত জেলে পৌছাতে না পারলে বদলি করা উচিত নয়। এই সকল বন্দীর পুলিশ নিবন্ধিত স্লিপ বন্দীর নিজ জেলার পুলিশ সুপারের নিকট কুষ্ঠাক্রান্ত কারাগারের জেল সুপার দ্বারা প্রেরিত হওয়া উচিত ।

বিধি-৮৫২। যদি মূল সাজার অতিরিক্ত হিসেবে শান্তি রক্ষার মুচলেকা দেয়ার আদেশ থাকে এবং তা অমান্যে অতিরিক্ত সাজার আদেশ থাকে তা হলে মূল সাজা শেষ হবার দুই মাস পূর্বে মুচলেকা দেয়ার সুযোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে বন্দীকে নিজ জেলার কারাগারে বদলি করতে হবে।

বিধি-৮৫৩। আফিম বা কোকেনের চোরাচালানের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে সাজার মেয়াদের শেষ দুই মাসের যে কোন সময় তাদের নিজ জেলার কারাগারে বদলি করতে হবে। কোন বিলম্ব ছাড়া এ সকল বন্দীর তিন ফর্দ তথ্য বিবরণী কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে, তিনি এ সকল বন্দীর বদলি অনুমোদন করবেন।

বিধি-৮৫৪ । কোন মহিলা বন্দীর জন্যে কারাগারে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে সে সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে।

বিধি-৮৫৫। কোন কারাগারে কিশোর বন্দীদেরকে পৃথক রাখার ব্যবস্থা না থাকলে যে কারাগারে এ ব্যবস্থা আছে সেখানে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি ৮৫৬-৮৫৭। অকার্যকর।

বিধি-৮৫৮। যদি কোন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির জেল ভাঙ্গা বা ভয়ংকর চরিত্রের কোন বন্দী কোন কম নিরাপদ কারাগারে থাকে বা বন্দী যদি স্থানীয় ভাবে খুব প্রভাবশালী হয়, এ সব কারণে তার বদলি যুক্তি সঙ্গত প্রতীয়মান হলে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট এ মর্মে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

বিধি-৮৫৯। ৬ মাস বা ততোধিক সময়ের জন্যে সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত কোন বন্দীর স্বাস্থ্য ভাল ও বয়স ৪৫ বৎসরের অধিক না হলে জেলা কারাগার হতে কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করতে হবে। ৬ মাসের কম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের কেন্দ্রীয় কারাগারে বদলির জন্যে কারা মহাপরিদর্শক ক্ষমতা প্রাপ্ত। তিনি প্রয়োজন অনুসারে এ ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন ।

বিধি-৮৬০। কোন কারাগারে ঝাড়ুদার বা পেশা ভিত্তিক অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে স্বল্প মেয়াদের বন্দী আটক না থাকলে এ সকল কাজ সম্পাদনের জন্যে নিকটস্থ কেন্দ্রীয় কারাগার হতে বন্দী আনয়ন করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে সকল আবেদনপত্র কারা মহা পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৮৬১ । স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্যে উপযুক্ত আবহাওয়া সম্পন্ন কারাগারে বন্দীকে বদলির সুপারিশ করা যেতে পারে।

বিধি-৮৬২ । কোন বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে নেয়া যাবে না যদি না মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করেন যে বন্দী স্থানান্তরের অযোগ্য অসুস্থতা মুক্ত। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে বদলির আগে মেডিকেল অফিসারের সামনে হাজির করতে হবে এবং তিনি ১৩ নম্বর জেল ফরমে এ মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করবেন যে, বন্দী বদলির ভ্রমণের জন্যে উপযুক্ত।

বিধি-৮৬৩। প্রয়োগ নেই।

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বিধি-৮৬৪। সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে বদলির ভ্রমণের সময় সাধারণত রান্না করা খাবার সঙ্গে দেয়া হবে। ভ্রমণ একদিনের বেশী হলে জেল সুপার স্কট কমান্ডারের নিকট নগদ অর্থে দৈনিক ভাতা প্রদান করবেন, যাতে তিনি খাবার ক্রয় করতে পারেন।

টীকা-১। পুলিশ এস্কটে থাকাকালে একজন বন্দী দৈনিক ১০ টাকা হারে ভাতা পাবে (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র নং ১ই-৩৫/৮৪-জেল-১/৪৫৬ তারিখ-১৫-৮-৯৫)।

টীকা-২। সড়ক পথে ভ্রমনের সময় বন্দীদেরকে পথের পুকুর হতে পানি পানের অনুমতি দেয়া হবে না (প্রবিধান-৭১৯, পিআরবি)।

টীকা-৩। জেল কোডের ৮৬৪ বিধি পিআরবি’র ৭১৯ নম্বর প্রবিধান অবিকলভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে।

বিধি-৮৬৫। প্রয়োগ বিরল।

বিধি-৮৬৬। বন্দীকে আদালতে হাজির করার জন্য পুলিশ প্রহরার জন্যে পরিশিষ্ট ৪ অনুসরণ করতে হবে।

টীকা- প্রয়োজন হলে পুলিশ লাইন হতে পুলিশ নিয়ে কোর্ট পুলিশ জেল বা লক-আপ হতে বিচারাধীন বন্দীদের ম্যাজিষ্ট্রেটের কোর্টে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে এবং সেখানে তারা যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ তাদেরকে পাহারা দিবে। ম্যাজিট্রেট যাদের জেল দেয়ার বা হাজতে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তাদেরকে পাহারা দিয়ে ফেরত নিয়ে আসবে (প্রবিধান-৪৭৯,পিআরবি।

বিধি-৮৬৭। এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে বন্দী স্থানান্তর কিংবা বিচারাধীন বন্দীকে আদালতে হাজির করার জন্যে প্রেরণের উদ্দেশ্যে জেল সুপার নির্ধারিত ফরমে পুলিশ সুপারের নিকট পুলিশ স্কট চেয়ে রিকুইজিশন প্রদান করবেন। বন্দীর সংখ্যা, বন্দীদের শ্রেণী-প্রকৃতি, কোন পাগল বা বিপদজনক চরিত্রের বন্দী থাকলে তার উল্লেখ পূর্বক ৪৮ ঘন্টা পূর্বে (ছুটির দিন ব্যতীত) রিকুইজিশন প্রদান করতে হবে। রিকুইজশন দেয়ার পর স্কট প্রদানের দায়িত্ব পুলিশ সুপারের উপর বর্তাবে। প্রস্তাবিত বদলির খবর ১২ নম্বর জেল ফরমে গ্রহণকারী কারাগারে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৮৬৮। মাত্র একজন মহিলা বন্দীকে স্থানান্তর কালে এক বা দুই জন বয়স্ক ও ভাল স্বভাবের কনস্টেবল এবং একজন মহিলা কারারক্ষী সঙ্গে থাকবে ।

বিধি-৮৬৯। বদলির জন্যে নির্দিষ্ট সকল বন্দীকে পুলিশ স্কটের নিকট হস্তান্তরের পূর্বে সতর্কতার সঙ্গে তরাশী করে দেখতে হবে যেন তারা পলায়নের উদ্দেশ্যে কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য যেমন রেতী, অস্ত্র, রশি, সিল্ক বা অন্য কোন দ্রব্য সঙ্গে না নিতে পারে।

বিধি-৮৭০ । ভ্রমণ/ বিরতি কালে যথা সম্ভব মহিলা ও কিশোর বন্দীদেরকে পুরুষ বন্দীদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। মহিলা বন্দীদের সাথে একজন মহিলা কারারক্ষী দিতে হবে।

বিধি-৮৭১। পুরুষ সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে হাঁটা অবস্থায় জোড়ায় জোড়ায় হ্যান্ডকাপ পরাতে হবে। এক জনের ডান কব্জি, অপর জনের বাম কব্জির সঙ্গে। যখন বন্দীর সংখ্যা ৫,৭,৯ এরূপ বেজোড় হয় তখন বেজোড় ব্যক্তিকে অন্য দুই ব্যক্তির সঙ্গে হ্যান্ডকাপ পরাতে হবে। তার বোঝা অন্য বন্দীদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে।

পুলিশ বিভাগের বিধিতে প্রযোজ্য হলে প্রয়োজনে পুরুষ বন্দীদের বেড়ী পরাতে হবে। যদি তা করা হয় তবে চামড়া ছেঁছলানো থেকে রক্ষার জন্যে চামড়ার পট্টিও দিতে হবে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর সময় পায়ে বেড়ী পরাতে হবে। হ্যান্ডকাপ পুলিশ বিভাগ সরবরাহ করবে এবং বেড়ী, পট্টি এসব কারা বিভাগ সরবরাহ করবে। কোন মহিলা। বন্দীকে হ্যান্ডকাপ বা বেড়ী পরানো যাবে না ।

বিধি-৮৭২। বন্দীদেরকে স্কটের নিকট প্রদান কালে স্কট ইন-চার্জের নিকট জেলার বিধি মোতাবেক খরচপত্র মিটানোর জন্যে পর্যাপ্ত টাকা পয়সা প্রদান। করবেন। বিধি ৮৭৭ অনুসারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভাড়া পরিশোধের জন্য জেলার ১৮ নম্বর জেল ফরমে একটি রেলওয়ে পাশ প্রদান করবেন এবং সরকারী সম্পত্তি ও বন্দীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিসহ নিম্নোক্ত কাগজ পত্র হস্তান্তর করবেন-

(১) দণ্ড প্রদানের মূল আদেশ (হাইকোর্ট ফরম নং-৩৮), আদেশের উপর বদলির তারিখ এবং যে কারাগারে বদলি হ’ল তা লিখতে হবে:

(২)বন্দীকে কোর্টে হাজির করণের প্রয়োজন হলে কোর্টের আদেশের কপি;

(৩) সরকারী সম্পত্তির সকল তালিকা,কাপড়-চোপড়, বিছানাপত্র, হাঁড়ি পাতিল/ তৈজস পত্র ইত্যাদি, বন্দীদের ব্যক্তিগত জামা কাপড় এবং অন্যান্য সম্পত্তি যা তাদের সাথে যাবে তা স্কটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট ১৩ নম্বর জেল ফরমে বুঝিয়ে দিতে হবে। কোন বন্দী বিপজ্জনক হলে তা তালিকায় লিখে দিতে হবে;

(8) বন্দীর হিস্ট্রি টিকেট;

(৫) বন্দীর রেয়াত কার্ড (জেল ফরম ১৮);

(৬) মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট,

(৭) পি. আর, স্লিপ, যদি থাকে

(৮) ৮ নম্বর জেল ফরমে একটি বিশদ বিবরণী

 

বন্দীদের কারাগার বদলি
বন্দীদের কারাগার বদলি

 

বিধি-৮৭৩। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণ ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারী রেল, স্টিমার বা অন্যান্য যানবাহনের ব্যবস্থা যেখানে আছে সেগুলোর মাধ্যমে বন্দী প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৮৭৪। অকার্যকর

বিধি-৮৭৫। প্রয়োজন ছাড়া মেইল ট্রেনে বন্দী পাঠানো যাবে না। বন্দীদের জন্যে সংরক্ষিত কামরার দরজা অপসারণ যোগ্য লোহার জাঁজর দিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দিবেন। কারাগার কর্তৃপক্ষ বন্দীদের যাত্রার ৪৮ ঘন্টা পূর্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কামরা সংরক্ষিত করার জন্যে ১৭ নম্বর জেল ফরমে রেলওয়ের ষ্টেশন মাষ্টারকে নোটিশ প্রদান করবেন।

বিধি-৮৭৬। প্রেরণকারী কারাগারের জেল সুপার বন্দীরা যাতে লক আপের পূর্বে গ্রহণকারী কারাগারে পৌঁছতে পারে তার ব্যবস্থা করবেন।

বিধি-৮৭৭। যখন কোন পাগল বা বিপদজনক বন্দী ও রক্ষীসহ লোক সংখ্যা আট জনের অধিক হয় তখন রেলের সংরক্ষিত কামরা ছাড়া তাদেরকে পাঠানো যাবে না।

বিধি-৮৭৮। গন্তব্যে পৌঁছার পর স্কটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রহণকারী কারাগারের জেলারের কাছে তহবিলের হিসাব দিবেন এবং জেলার কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কিছু অবশিষ্ট থাকলে তা ট্রেজারীতে জমা দিতে হবে।

বিধি-৮৭৯। বন্দীরা বদলির মাধ্যমে আসার পর কারাগারের জেলার নিম্নোক্ত ব্যবস্থা নিবেন-

(১) স্কট ইনচার্জ হতে ৮৭২ বিধিতে উল্লেখিত সকল দলিলপত্র এবং হিসাবপত্র বা ৮৭৮ বিধিতে উল্লেখিত অগ্রিমকৃত টাকার কোন জের থাকলে তা বুঝে নিবেন:

(২) আগত বন্দীর সংখ্যা সঠিক কিনা দেখে নিবেন: যদি কোন বন্দী হারিয়ে যায় তা হলে স্কট ইনচার্জের কাছ থেকে তার কারণ জেনে নিবেন এবং স্কট ইনচার্জের কাছে প্রদত্ত প্রাপ্তি রশিদে বিষয়টি উল্লেখ করবেন: বিষয়টি তিনি জেল সুপারকেও জানাবেন;

(৩) প্রেরিত কারাগার হতে যে সকল সরকারী সম্পত্তি এবং বন্দীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি প্রেরণ করা হয়েছে তালিকা অনুযায়ী তা বুঝে নিবেন । যদি কিছু হারিয়ে থাকে তবে স্কট ইনচার্জের কাছে প্রদত্ত প্রাপ্তি রশিদে দ্রব্যের তালিকাসহ তা লিখে দিবেন। উক্ত তালিকার একটি কপি প্রেরিত কারাগারের জেল সুপারের কাছে প্রেরণ করবেন। যদি স্কটের গাফিলতির জন্যে সম্পদের ক্ষতি হয় তবে তা তাদের কাছ থেকে আদায় করতে হবে;

(8) জেলার বন্দীদেরকে তাদের সঙ্গে রাস্তায় কি ধরনের আচরণ করা হয়েছে, যাত্রা বিরতি হয়েছে এবং খাদ্য প্রদান করা হয়েছে সে সব ৮৬৪ বিধি অনুযায়ী জিজ্ঞাসা করবেন; কোন অভিযোগ থাকলে তা স্কট ইনচার্জের কাছে প্রদত্ত প্রাপ্তি রশিদে উল্লেখ করবেন;

(৫) স্কট ছেড়ে দেয়ার আগে যে কারাগার হতে বন্দী প্রেরণ করা হয়েছে সে কারাগারে বা স্কটের ফেরত পথে পথিমধ্যে অন্য কোন কারাগারে বন্দী প্রেরণ করার থাকলে স্কটের শক্তি অনুসারে বন্দী স্থানান্তরের জন্যে হস্তান্তর করবেন;

(৬) স্কট ছেড়ে দেয়ার আগে স্কট ইন-চার্জের কাছে ১১ নম্বর পি আর বি ফরমে কমান্ড সার্টিফিকেট (সিসি) প্রদান করবেন।

বিধি-৮৮০। গ্রহণকারী কারাগারের জেল সুপার দেখবেন যে বন্দীদের সাথে প্রেরণকারী কারাগার হতে যে সকল পোশাক ও বেডিং পাঠানো হয়েছে সে সব ব্যবহার যোগ্য কিনা। যদি ব্যবহার যোগ্য না হয় তিনি কারা মহাপরিদর্শককে বিষয়টি জানাবেন। যদি কোন বন্দী নালিশ করে যে তার সাথে পথে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা নির্দেশ মোতাবেক তাকে খেতে দেয়া হয়নি, তবে জেল সুপার বিষয়টি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট রিপোর্ট করবেন এবং তার এক কপি কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন।

 

বিধি-৮৮১। কোন বন্দী পথিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অন্য বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। যদি বন্দী মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে তবে তাকে নিকটবর্তী থানায় বা পুলিশ চৌকিতে রেখে যেতে হবে। সেখান থেকে তাকে নিকটবর্তী কারাগারে প্রেরণ করে দিতে হবে এবং কারাগারে মেডিকেল অফিসারের চিকিৎসায় রাখতে হবে। ঘটনাটি প্রেরণকারী এবং গ্রহণকারী কারাগারের জেল সুপারের নিকট রিপোর্ট করতে হবে।

বিধি-৮৮২। যে কারাগারে অসুস্থ বন্দীকে রাখা হয়েছে সে কারাগারের জেল সুপার বন্দী সুস্থ না হওয়া পর্যস্ত তাকে সেখানে রাখবেন এবং তার হিস্ট্রি টিকেটে বিষয়টি রেকর্ড করবেন। সুস্থ হবার পর তাকে তার গন্তব্য কারাগারে প্রেরণ করবেন এবং তার প্রেরণের বিষয়টি গ্রহণকারী কারাগারের জেল সুপার এবং কারা মহাপরিদর্শককে জানাবেন।

বিধি-৮৮৩। যদি স্থানান্তরের পথে কোন বন্দী মারা যায়, তবে যে জেলায় মারা যাবে সে জেলার জেলা ম্যাজিট্রেট এ ব্যপারে তদস্ত করবেন এবং দেরী না করে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। কারা মহাপরিদর্শক ভিন্নরূপ নির্দেশ প্রদান না করলে বদলি কালে বন্দীর মৃত্যু জেল পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না ।

বিধি-৮৮৪ । কোন বন্দী পথিমধ্যে পালিয়ে গেলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে, যারা পলাতক বন্দীকে পুনরায় ধৃত করার জন্যে ব্যবস্থা করবেন । যে কারাগরে বন্দীকে গ্রহণ করার কথা ছিল এবং যে কারাগার হতে প্রেরণ করা হয়েছিল, উভয় কারাগারের জেল সুপারকেই পলায়নের খবর জানাতে হবে।

যে কারাগার হতে বন্দী প্রেরণ করা হয়েছিল, সে কারাগরের জেল সুপার তার জেলা কর্তৃপক্ষের সাহায্যে বন্দীকে ধৃত করার জন্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যদি পুনরায় ধৃত করা সম্ভব না হয় তা হলে ঐ বন্দীর কাগজপত্র, সম্পত্তি তার প্রেরক কারাগারে ফেরত যাবে।

বিধি-৮৮৫। যে সকল বন্দী আটকাবস্থা থেকে পলায়নের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত তাদেরকে কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে তাদের ডিসক্রিপটিভ রোল জেলা কারাগারের জেল সুপার কর্তৃক কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

নোট-নদীপথে প্রেরণকারী বন্দীদের ক্ষেত্রেও এই অধ্যায়ের বিধি সমূহ যথাসম্ভব প্রযোজ্য হবে।

জেল কোড অনুযায়ী দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা

 

দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা
দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা

 

দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা । জেল কোড

বিধি-৮০৬। সকল আকস্মিক বা হিংসাত্মক ঘটনার কারণে মৃত্যু, বা দুর্ঘটনা বা সন্দিগ্ধ আত্মহত্যা জনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে একজন উপযুক্ত কর্মকর্তা দ্বারা মৃত দেহের সুরতহাল করতে হবে। মৃত্যুর ঘটনা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা তার নিয়োজিত অন্য কোন কর্মকর্তা যথাযথভাবে তদন্ত করবেন। তদন্ত প্রতিবেদন কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে। বিশেষ গুরুত্ব না থাকলে, বা ঘটনার সঙ্গে সরকারের দৃষ্টি আকষর্ণ যোগ্য কারা প্রশাসনের কোন ত্রুটি না থাকলে কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের নিকট প্রেরণের আবশ্যকতা নেই। সকল আকস্মিক বা হিংসাত্মক ঘটনার কারণে মৃত্যু সম্পর্কে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন।

বিধি-৮০৭। আত্মহত্যার সন্দিগ্ধ বন্দীদের ক্ষেত্রে বিধি ৭৪০ এবং ৭৪৬ অনুসরণ করতে হবে। চাকু, ভাঙ্গা কাঁচের টুকরা, দড়ি প্রভৃতি বন্দীদের নাগালে রাখা যাবে না। ওয়ার্কশপ, নাপিতের দোকান বা দর্জি খানায় ব্যবহৃত কাঁচি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কাজ শেষে একজন কারারক্ষী কর্তৃক গণনা পূর্বক নিরাপদ স্থানে তালাবদ্ধ করে রাখতে হবে। বিষাক্ত ঔষধ বন্দীদের নাগালে রাখা যাবে না। সে সব জিনিস ডিসপেনসারীর আলমারীতে তালাবদ্ধ করে রাখতে হবে এবং চাবি মেডিকেল সাব অর্ডিনেটের কাছে রাখতে হবে।

বিধি ৮০৮-৮০৯। প্রয়োগ নেই ।

বিধি-৮১০। যে সব কারাগারে উৎপাদন কাজে বাষ্প, পানি বা অন্যান্য যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহার হয় সে সব কারাগারে | কারখানা আইন, ১৯৬৫ এর চতুর্থ পরিচ্ছেদে বর্ণিত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে} ।

 

দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা
দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা

 

বিধি-৮১১। নিম্নোক্ত দুর্ঘটনার রিপোর্ট অতিদ্রুত টেলিগ্রাম বা বাহকের মাধ্যমে কারখানা যে জেলায় অবস্থিত সে জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট এবং কারখানা পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে-

(১) মৃত্যু, বা

(২) এমন জখম যার ফলে মৃত্যু হতে পারে, বা

(৩) এমন জখম যার ফলে পরবর্তী ২০ দিন কাজ করা সম্ভব হবে না, বা

(8) স্থায়ীভাবে কোন অংগহানি, বা

(৫) স্থায়ী ভাবে দৃষ্টি বা শ্রবণ ইন্দ্রীয় নষ্ট হয়ে যাওয়া।

দুর্ঘটনার ফলে মৃত্যু হলে নিকটবর্তী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। আঘাত প্রাপ্ত ব্যক্তি দুর্ঘটনার কারণে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কাজ করতে সক্ষম হবে না, এমন দুর্ঘটনার খবর ‘সামান্য দুর্ঘটনা’ হিসাবে রিপোর্টে উল্লেখ করতে হবে। টেলিগ্রাম বা টেলিফোনে প্রেরিত দুর্ঘটনার সংবাদ পত্র দ্বারা নিশ্চিত করতে হবে। কোন দুর্ঘটনার সংবাদ প্রথমে ‘সামান্য’ হিসাবে প্রেরণের পরে যদি দেখা যায় যে তা ‘গুরুতর’ তবে সংশোধিত রিপোর্ট প্রেরণ করতে হবে। অনুরূপভাবে প্রথমে ‘গুরুতর’ এবং পরে ‘সামান্য’ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

বিধি-৮১২। প্রত্যেক দুর্ঘটনার রিপোর্ট কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে। উক্ত রিপোর্টে ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যাদি এবং মেডিকেল অফিসারের কোন রিপোর্ট থাকলে তা সঙ্গে দিতে হবে।

জেল কোড অনুযায়ী শ্রম ও কারা শিল্প

আজকে আমরা আলোচনা করবো শ্রম ও কারা শিল্প সম্পর্কে

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

শ্রম ও কারা শিল্প । জেল কোড

বিধি-৭৮২। জেল সুপার কর্তৃক মিনিট বইতে বা সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে বিশেষ কোন প্রয়োজন লিপিবদ্ধ করা ব্যতীত কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী বা স্বেচ্ছায় কাজে নিয়োজিত বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে দৈনিক ৯ ঘণ্টার বেশী কাজে নিয়োজিত রাখা যাবে না। মেনিয়াল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ ব্যতীত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এবং কারাগারে ঘোষিত সরকারী ছুটির দিনে কোন কাজ করা হবে না ।

টীকা, কোন কারখানার কোন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিককে দৈনিক নয় ঘন্টার বেশী কাজ করানো যাবে না বা করতে দেয়া যাবে না। তবে ৫০.৫৪,৫৫ বা ৫৮ ধারার বিধান সাপেক্ষে কোন কারখানার একজন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক দৈনিক নয় ঘন্টার বেশী কাজ করতে পারে কিন্তু দশ ঘন্টার অতিরিক্ত কাজ করতে পারবে না (ধারা-৫৩, কারখানা আইন, ১৯৬৫)।

বিধি-৭৮৩। সকালের প্যারেড এবং বন্দীদের গ্যাং বন্টন সম্পন্ন করার পর বন্দীরা দিনের কাজ শুরু করবে। সাধারণত ওয়ার্ড খোলার এক ঘন্টার মধ্যে দিনের কাজ শুরু করা উচিত। কাজের সময় সূচী নিম্নরূপ হবে-

মৌসুম সময়
পূর্বাহ্ন অপরাহ্ন
হতে পর্যন্ত কাজ শুরু কাজ বন্ধ কাজ শুরু কাজ বন্ধ
১৬ মার্চ ৩০ এপ্রিল ভোরের আনুমানিক এক ঘন্টা পর ১১ টা ১-৩০ টা ৫-০০ টা
১ লা মে ৩১ আগস্ট ১১ টা ১-৩০ টা ৫-৩০ টা
১ লা সেপ্টেম্বর ৩১ অক্টোবর ১১ টা ১-৩০ টা ৫-০০ টা
১৬ অক্টোবর ১৫ মার্চ ১১-৪৫ টা ১-০০ টা ৪-৩০ টা

কিন্তু স্পেশাল গ্যাং ১৬ অক্টোবর হতে ১৫ ই মার্চের মধ্যে দুপুর দুইটা এবং বৎসরের বাকী সময় দুপুর ২-৩০ টা পর্যন্ত কাজ বন্ধ করবে না। বিশ্রামের সময় বন্দীরা তাদের স্লিপিং ওয়ার্ডে তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকবে ।

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

বিধি-৭৮৪। কাজের জন্যে যে শারীরিক শক্তির প্রয়োজন, তা অনুসারে সকল কাজকে ‘শক্ত’, ‘মাঝারি’, এবং ‘হাল্কা’ কাজ হিসেবে বিভক্ত করা হবে। কোন বন্দী সর্বোচ্চ কি পরিমাণ কাজ করতে সক্ষম তা নির্ধারণ করে দিতে হবে। কোন বন্দী কোন কাজের জন্যে উপযুক্ত তা মেডিকেল অফিসার নির্ধারণ করে দিবেন। মেডিকেল অফিসারের সুপারিশ ছাড়া কোন বন্দীকে তার জন্যে নির্ধারিত কাজ অপেক্ষা শক্ত কাজ দেয়া যাবে না। মহিলা ও কিশোর বন্দীকে একজন পুরুষ বন্দীকে প্রদত্ত কাজের দুই তৃতীয়াংশের বেশী শক্ত বা মাঝারী কাজ দেয়া যাবে না।

বিধি-৭৮৫। প্রত্যেক কারাগারে শক্ত কাজে নিয়োজিত বন্দীদের কাজের উপযোগী প্রয়োজনীয় সংখ্যক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করতে হবে। মাঝারী এবং হাল্কা কাজের উপযোগী কোন বন্দীকে লাভের আশায় কোন শক্ত কাজ করতে বাধ্য করা যাবে না।

বিধি-৭৮৬। কোন বন্দীকে প্রথম বারের মত কোন প্রকার কাজে নিয়োজিত করার পর একটি যুক্তি সংগত পরিমাণ সময় দিতে হবে যাতে সে ঐ কাজে পারদর্শী হতে সক্ষম হয়। এই সময়ের মধ্যে সে অধ্যবসায় এবং সন্তোষজনক কাজের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হলে তাকে শ্রমের জন্যে রেয়াত মঞ্জুর করা যেতে পারে | এবং মুক্তির সময় ১২৪ নম্বর জেল ফরমে একটি সার্টিফিকেট দেয়া যেতে পারে}। কোন কাজে পূর্ণ মাত্রায় দক্ষতা অর্জনের জন্যে কি পরিমাণ সময় প্রয়োজন তা নির্ভর করবে কাজের ধরনের উপর। ঘন ঘন কাজ পরিবর্তন পরিহার করা উচিত, তবে একই শক্ত কাজে কোন বন্দীকে অনির্দিষ্ট কাল নিয়োজিত না রেখে মাঝে মাঝে কাজের পরিবর্তন করা উচিত। বন্দীরা কাজ নির্ধারণ করার পূর্বে তার পাক্ষিক ওজন যাচাই করে দেখতে হবে।

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

বিধি- ৭৮৭। কোন বন্দীকে ওজন বা পরিমাণ দ্বারা নির্ধারিত কোন কাজ প্রদানের আগে তাকে কি পরিমাণ কাজ করতে হবে দিনের কাজ শুরুর আগে নির্দিষ্ট করে দিতে হবে, যাতে বন্দী এবং রক্ষী উভয়ে কাজের অগ্রগতি বুঝতে পারে।

বিধি-৭৮৮। যখন দিনের শেষে বন্দী কাজ শেষ করবে, জেলার বা প্রধান কারারক্ষী বা টাস্ক টেকার বন্দীর সম্পাদিত কাজ পরিমাপ করবেন এবং বন্দীর টাস্ক টিকেটে তা রেকর্ড করবেন। কোন বন্দী তার নির্ধারিত কাজ কম করলে তা তার হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে এবং তাকে জেল সুপারের সামনে হাজির করতে হবে।

বিধি-৭৮৯। বিভিন্ন কাজের তালিকা, পরিমান ও মাত্রা।

বিধি-৭৯০। কোন বন্দীকে কাজে নিয়োজিত রাখার উদ্দেশ্য হ’ল তাকে অপরাধ থেকে সংশোধন করা। অনুৎপাদনশীল কাজ পরিহার করা উচিত। স্বল্প মেয়াদী বন্দীদেরকে অদক্ষ কাজে নিয়োজিত করা উচিত হবে। তবে যদি কোন কাজে বন্দীর পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে, সম্ভব হলে তাকে সে কাজ দেয়া যেতে পারে।

দীর্ঘ মেয়াদী বন্দীদেরকে কারা প্রাচীরের ভিতরের কাজে নিয়োজিত করতে হবে। বন্দীদেরকে কাজের আধুনিক কলা কৌশল শিক্ষা নিতে হবে যাতে তারা মুক্তি পাবার পরে আধুনিক পরিস্থিতিতে যোগ্যতার সাথে কাজ করতে পারে। এ উদ্দেশ্যে প্রত্যেক বড় কারাগারে একটি বা দুইটি প্রধান শিল্প স্থাপন করতে হবে।

কারা শিল্প প্রধানত: কারা বিভাগের চাহিদা পূরণের জন্যে, দ্বিতীয়ত: বিভিন্ন সরকারী বিভাগের চাহিদা পূরণের জন্যে পণ্য উৎপাদনের উপযোগী হতে হবে। এ সব বিভাগ কারাগারে উৎপাদিত পণ্য সংগ্রহ করতে বাধ্য থাকবে, যদি সেগুলি তাদের জন্যে সুবিধাজনক হয় এবং খোলা বাজারের চেয়ে নিম্নমানের বা উচ্চমূল্যের না হয়।

বিধি-৭৯১। কারাগারের উৎপাদন বিভাগের পণ্যের পূর্ণ এবং বিস্তারিত তালিকা বৎসরের শুরুতে প্রকাশ করতে হবে এবং সরকারী বিভাগ সমূহে প্রেরণ করতে হবে। পণ্যের মূল্য যথাসম্ভব এক বৎসরের জন্যে নির্ধারণ করতে হবে এবং তা পরিবর্তন করা যাবে না।

বিধি-৭৯২ । অকার্যকর।

বিধি-৭৯৩। বাবুর্চী, নাপিত, পানিবাহক, সুইপার প্রভৃতি কাজে কারাগারের গার্হস্থ্য শ্রমিক (menial servants) হিসেবে নিয়োজিত বন্দীর সংখ্যা মোট বন্দী সংখ্যার শতকরা ১০ ভাগের বেশী হবে না। জেল সুপার লক্ষ্য রাখবেন যাতে অনুমোদিত হারের চেয়ে বেশী বন্দীকে গার্হস্থ্য শ্রমিক বা কয়েদী কর্মচারী নিয়োগ করা না হয়। যদি কোন গার্হস্থ্য শ্রমিকের দিন ব্যাপী কাজ না থাকে, তবে তাকে দিনের অবশিষ্ট সময় অন্য কোন কাজে নিয়াজিত করা যেতে পারে।

বিধি-৭৯৪। অকার্যকর।

 

বিধি-৭৯৫ । {আঠারো মাস বা তার তর কম সময়ের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্ত সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দী বাহির প্রাচীরের কাজের জন্য যোগ্য হবে। যাদের দণ্ডের মেয়াদ বেশী,এক তৃতীয়াংশ মেয়াদ শেষ করলে তারাও যোগ্যতা অর্জন করবে। কিন্তু এখনও এক বছরের বেশী মেয়াদ বাকী আছে এমন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতি ব্যতীত বাহির প্রাচীরের কাজে নিয়োজিত করা যাবে না।}

নং- ৪৬৯ এইচ জে তারিখ ২১-৩-৪৭ মূলে সংশোধিত।

বিধি-৭৯৬। সাধারণত অল্প মেয়াদ বাকী আছে এমন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে বাগানের কাজ দেয়া হবে এবং জেল সুপার হিস্ট্রি টিকেটে বিশেষ ভাবে কাজ পাশ করবেন। কোন বন্দীকে শক্ত বা মাঝারী কাজ পাশ করা হলে তাকে বাগান বা কৃষির হাল্কা কাজে নিয়োজিত করা যাবে না। যদি কোন কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার কারাগার এলাকায় সরকারী বাসায় বসবাস করেন তার বাসার বাগানের কাজে একজন কয়েদী ওভারশিয়ারের গ্রহরায় ৫ জন বন্দীর গ্যাংকে নিয়োজিত করা যেতে পারে। যদি ডেপুটি সুপার বা জেলারের বাসা সংলগ্ন অনুরূপ বাগান থাকে, তবে বাগানের কাজ নিয়মিত বাগানের গ্যাং যারা করতে হবে, গ্যাং ছুট কোন বন্দীকে কাজে লাগানো যাবে না ।

বিধি ৭৯৭-৭৯৮। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৭৯৯। কোন বন্দীকে কারাগারের করণিক কর্মে নিয়োগ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। তবে কারা মহাপরিদর্শক বিশেষ প্রয়োজনে একজন শিক্ষিত বন্দীকে কারাগারের চিঠির নকল, রোল ও রেজিষ্টার লিখার কাজে নিয়োজিত করতে পারেন। সে সব কাজ ওয়ারেন্ট, রেয়াত বা আর্থিক বিষয় সম্পর্কিত হতে পারবে না। জেলারকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে যে, ঐ বন্দী লেখার কাজে এমন জায়গায় বসবে, যা কারাগারের অফিস হতে বেশ দূরে হয়, গেইটের ভিতরে হয় এবং একজন কারারক্ষীর নজরদারীর আওতায় হয়।

বিধি-৮০০। বিনা অনুমোদিত কোন কাজ কারাগারের কারখানার ভিতরে বা বাহিরে করা যাবে না। জেলারের রিপোর্ট বইতে বা জেল সুপার বা ডেপুটি জেল সুপারের মিনিট বইতে আদেশ রেকর্ড না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বা মেরামত জাতীয় কোন কাজ শুরু করা যাবে না। কোন বন্দীর পোশাক রিপেয়ার করার পূর্বে তার হিস্ট্রি টিকেটে তা রেকর্ড করতে হবে।

 

শ্রম ও কারা শিল্প
শ্রম ও কারা শিল্প

 

বিধি ৮০১। উৎপাদন কাজের কাঁচামাল একজন কারারক্ষীর দায়িত্বে রাখতে হবে। তিনি প্রত্যেক দিন সকালে ঘুরে দেখবেন ঐ দিনের জন্যে কী পরিমাণ জিনিসপত্র প্রয়োজন হবে এবং যে সকল কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়নি বিকালে তা গুদামে রেখে দিবেন। যে পরিমাণ কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়েছে, প্রকৃত পক্ষে সে পরিমাণ কাজ হয়েছে কিনা, তিনি তা নিশ্চিত করবেন।

বিধি-৮০২। কাঁচামাল সরবরাহের জন্যে প্রযোজ্য উত্তম পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। ঠিকাদারের মাধ্যমে কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে জেল সুপার ঠিকাদারের মর্যাদার বিষয়টি দেখবেন এবং ঠিকাদার ও কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে অসাধু সম্পর্ক যাতে গড়ে না উঠে তা দেখবেন ।

বিধি-৮০৩। উৎপাদন বিভাগের সকল হিসাব জেলার বা ডেপুটি জেলারের তত্ত্বাবধানে একজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংরক্ষণ করবেন, যিনি হিসাবের নির্ভুলতার জন্যে দায়ী থাকবেন।

বিধি-৮০৪ । যখন কারাগারের কোন উৎপাদিত পণ্যের জন্যে কোন প্রদর্শনীতে নগদ টাকা পুরস্কার পাওয়া যাবে, কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতিক্রমে তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন করা যেতে পারে।

বিধি-৮০৫। সাজা প্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে কাজ বন্টনের জন্যে বন্টন রেজিষ্টার (রেজিষ্টার নম্বর-৫) সংরক্ষণ করতে হবে।
টীকা- বর্তমানে কারাগার সমূহে এলুমিনিয়াম থালা, এলুমিনিয়াম বাটি, এলুমিনিয়াম গ্লাস, উলেন জাম্পার, মোজা, মোড়া, কয়েদী কাপড়, জামা, পায়জামা/ট্রোউজার, গামছা, চাদর, টুপি, মার্কিন কাপড়, পাপোষ, ঝাড়ু, ফুড কভার, কার্পেট, কলম দানি, বুক সেল্ফ, ফিনাইল, শাড়ী, লুংগী প্রভৃতি পণ্য উৎপাদন হয় ।

জেল কোড অনুযায়ী রেয়াত ব্যবস্থা

আজকে আমরা রেয়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করবো।

 

রেয়াত ব্যবস্থা
রেয়াত ব্যবস্থা

 

রেয়াত ব্যবস্থা । জেল কোড

কারা আইন, ১৮৯৪ এর ৫৯ ধারার উপ-ধারা (৫) মোতাবেক রেয়াত মঞ্জুরীর মাধ্যমে দণ্ডের মেয়াদ হ্রাসের উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিধি-৭৫০। এই বিধিসমূহ সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে।

বিধি-৭৫১। (ক) ‘ বন্দী ‘ বলতে শান্তিরক্ষা বা সদাচারের মুচলেকা খেলাপের জন্যে কারাগারে সোপর্দ ব্যক্তিকেও বুঝাবে ।

(খ) ‘শ্রেণী- ১ বন্দী: অর্থ বিষাক্ত ড্রাগ ব্যবসায়ী বা পেশাগত, বংশগত বা বিশেষ দুর্ধর্ষ অপরাধী, বা ডাকাতির মতো জঘন্য অপরাধের জন্য দণ্ডিত বন্দী।

(গ) ‘শ্রেণী- ২ বন্দী ‘ অর্থ ডাকাতি বা অন্যান্য জঘন্য অপরাধে দণ্ডিত বন্দী, কিন্তু পেশাগত, বংশগত বা বিশেষ দুর্ধর্ষ অপরাধী নয় ।

(ঘ) ‘শ্রেণী- ৩ বন্দী ‘ অর্থ শ্ৰেণী-১ বা শ্রেণী -২ বহির্ভূত বন্দী ।

(ঙ) ‘দণ্ড ‘ বলতে আপীল, রিভিশন বা অন্যভাবে চূড়ান্তকৃত দণ্ড, এবং একাধিক দণ্ডের সমষ্টি এবং শান্তিরক্ষা বা সদাচারের মুচলেকা খেলাপের জন্যে কারাগারে সোপর্দ করার আদেশকেও বুঝাবে ।

(চ) ‘যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী অর্থ (৩০ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত বন্দী)।

টীকা- ধারা ৫৭, দণ্ড বিধি মোতাবেক।

বিধি-৭৫২। অকার্যকর।

বিধি-৭৫৩। নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে সাধারণ রেয়াত পাওয়া যাবে না –

(১) জরিমানা অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ড বাদে ৬ মাসের কম মেয়াদের যে কোন প্রকারের কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে

(২) বিনাশ্রম কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে, অবিরাম এক মাসের কম মেয়াদে স্বেচ্ছায় শ্রমে নিয়োজিত হওয়ার ক্ষেত্র ব্যতীত ।

নোট- এ বিধির উদ্দেশ্য এই যে, কোন বন্দীর দণ্ডের পরিমাণ ৬ মাসের কম হয় কিংবা আপীলের মাধ্যমে মোট দণ্ডের পরিমাণ ৬ মাসের কম নির্ধারণ করা হয়, সে সাধারণ রেয়াতের যোগ্যতা থেকে বাদ পড়বে এবং আপীলের রায় ঘোষিত হবার পূর্বে কোন রেয়াত অর্জন করে। থাকলে তা বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।

বিধি-৭৫৪। কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় দণ্ড বিধির ১৪৭ ১৪৮, ১৫২, ২২৪, ৩০২, ৩০৪, ৩০৪এ, ৩০৬, ৩০৭, ৩০৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫২, ৩৫৩ বা ৩৭৭ ধারায় অপরাধ করার কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত হলে বা কোন কারারক্ষী বা কারা কর্মচারী কর্মকর্তাকে আক্রমণ করার কারণে কার মহাপরিদর্শকের অনুমোদনক্রমে দত্ত প্রদানের তারিখ পর্যন্ত অর্জিত রেখা। বাতিল হয়ে যেতে পারে।

 

রেয়াত ব্যবস্থা
রেয়াত ব্যবস্থা

 

বিধি-৭৫৫ । কারা আইনের ৫৯(৩) ধারার অধীনে কোন বন্দীর রেয়াত সুবিধা বাতিল হয়ে গেলে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতিক্রমে উক্ত বন্দীতে রেয়াত ব্যবস্থায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। এ বিধিতে বর্ণিত বন্দীর রেয়াত ব্যবস্থায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হবার পরবর্তী মাস হতে রেয়াত গণনা শুরু হবে।

বিধি-৭৫৬। সাধারণ রেয়াত নিম্নোক্ত হারে অর্জিত হবে।

(ক) অবিরামভাবে সদাচার এবং কারাগারের বিধি বিধান যথাযথভাবে মেনে চলার জন্যে প্রতিমাসে ২ দিন;

(খ) শিল্প ও অন্যান্য দৈনিক কাজ সঠিকভাবে পালন করার জন্যে প্রতিমাসে ২ দিন ।

ব্যাখ্যা- কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী তার নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে কাজ করতে না পারলে,যেমন – আদালতে হাজিরা প্রদান, কারাগার বদলির ট্রানজিটে থাকলে, হাসপাতালে বা কর্মহীন গ্যাংয়ে থাকলে এবং তার আচরণ পূর্ব মাসের ন্যায় চলতি মাসেও রেয়াত প্রাপ্তির যোগ্য হলে পূর্ববর্তী মাসের হারে তাকেও (ব) উপ-বিধি অনুসারে রেয়াত দেয়া হবে।

সে পূর্ব মাসের হারে উপ-বিধি (খ) অনুসারে রেয়াত পাবে যদি সে সময় কারাগারে থাকে; যদি মাসে দুই দিন হারে না হয়। শর্ত থাকে যে, কর্মে অনুপস্থিতি বন্দীর অসদাচরণের জন্যে হলে (খ) উপ-বিধির অধীনে কর্মে অনুপস্থিত সময়ের জন্যে কোন রেয়াত পাবে না। আরে শর্ত থাকে যে, সে যদি হাসপাতালে থাকে বা কর্মহীন গ্যাংয়ে থাকে (খ) উপ- বিধি মোতাবেক রেয়াত পাবে না, যদি মেডিকেল অফিসার এ মর্মে প্রত্যায়ন না। করেন যে, কাজ হতে বন্দীর অনুপস্থিতির কারণ তার নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত ছিল এবং কাজ হতে বিরত থাকার বা হাসপাতলে ভর্তি হবার ব্যাপারে সে কোন চেষ্টা করেনি।

নোট-“হাসপাতাল” বলতে মানসিক হাসপাতালকেও বুঝাবে ।

বিধি- ৭৫৭। বিধি ৭৫৬ মোতাবেক রেয়াত অনুমোদন সত্ত্বেও, কয়েদী কারারক্ষী ৮ দিন, কয়েদী নৈশ প্রহরী ৭ দিন, কয়েদী ওভারশিয়ার ৬ দিন এবং কয়েদী নৈশ-ওয়াচম্যান ৫ দিন হারে প্রতি মাসে সাধারণ রেয়াত পাবে।

বিধি-৭৫৮ । বন্দীকে দণ্ড প্রদানের পরবর্তী পঞ্জিকা মাসের ১ম দিন থেকে বিধি ৭৫৫ এর শর্তে, বিধি ৭৫৬ এর আওতায় রেয়াত গণনা করা হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী জামিনে মুক্ত হবার বা সাময়িকভাবে তার সাজা স্থগিত থাকার পর পুনরায় কারাগারে (অবশিষ্ট সাজা ভোগের জন্যে) অন্তরীণ হলে রেয়াত সুবিধা পুন:অন্তরীণের পরবর্তী মাসের ১ম দিন হতে গণনা শুরু হবে।

জামিনে মুক্ত হবার পূর্বে অর্জিত রেয়াতও যোগ হবে। বিধি ৭৫৭ অনুসারে কোন বন্দীকে কয়েদী রক্ষী, কয়েদী ওভারশিয়ার বা কয়েদী নৈশ-ওয়াচম্যান নিয়োগ করার পরবর্তী পঞ্জিকা মাসের প্রথম তারিখ হতে রেয়াত গণনা শুরু হবে।

বিধি-৭৫৯। যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কারাগারে বাবুর্চী, সুইপার প্রভৃতি কাজে সাপ্তাহিক ও অন্যান্য ছুটির দিনেও কাজ করে, এ. বিধিসমূহ মোতাবেক অন্যান্য রেয়াত পাওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে প্রতি কোয়ার্টারে তিন দিন অতিরিক্ত সাধারণ রেয়াত দেয়া যেতে পারে।

ব্যাখ্যা- কারাগারের কাজে নিয়োজিত থাকা কালে প্রতি মাসের শেষে একদিন রেয়াত যোগ হবে।

বিধি-৭৬০। এই বিধিসমূহ মোতাবেক রেয়াতের যোগ্য কোন বন্দী দণ্ডাদেশ প্রাপ্তির পরবর্তী মাসের এক তারিখ হতে এক বছর সময়কাল অতিক্রম করলে এবং কোন কারা অপরাধের জন্যে শাস্তি ভোগের সর্বশেষ তারিখ হতে এক বছর সময়কাল অতিক্রম করলে বা ঐ সময়ে কোন অপরাধ না করলে অন্যান্য অর্জিত রেয়াতের অতিরিক্ত আরও ১৫ দিন সাধারণ রেয়াত পাবে । ব্যাখ্যা- এ বিধির উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র সতর্ক করাকে কারা অপরাধের শাস্তি হিসেবে ধরা হবে না।

 

রেয়াত ব্যবস্থা
রেয়াত ব্যবস্থা

 

বিধি-৭৬১। সাধারণ রেয়াত জেল সুপার কর্তৃক প্রদত্ত হবে কিংবা তার নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে বিধি ৭৬২ অনুসারে ডেপুটি সুপার, জেলার কিংবা ডেপুটি জেলার কিংবা বিশেষ ভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তা তার পক্ষে প্রদান করতে পারবেন।

বিধি-৭৬২ । কোন কর্মকর্তা সাধারণ রেয়াত প্রদানের পূর্বে বন্দীর হিস্ট্রি টিকেট পর্যালোচনা করবেন, যার মধ্যে বন্দীর প্রত্যেক প্রমাণিত অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। যদি বন্দী ঐ কোয়ার্টারে সতর্ক করণ ব্যতীত অন্য কোন শাস্তি প্রাপ্ত না হয়, তাকে পূর্ণ রেয়াত মঞ্জুর করা হবে।

যদি বন্দী ঐ কোয়ার্টারে সতর্ক করণ ব্যতীত অন্য কোন শাস্তি প্রাপ্ত হয়, তার রেয়াতের বিষয়টি জেল সুপারের নিকট পেশ করতে হবে। জেল সুপার বন্দীর শাস্তি বিবেচেনা করে রেয়াত নির্ধারণ করবেন। বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ডকৃত সকল ত্রৈমাসিক রেয়াতের বিবরণ রেয়াত কার্ডে ( রেজিষ্টার নম্বর ১৮) রেকর্ড করতে হবে।

বিধি-৭৬৩। সাধারণ রেয়াত জানুয়ারী, এপ্রিল, জুলাই এবং অক্টোবর মাসের ১২ তারিখের যথাসম্ভব কাছাকাছি সময়ে গণনা করতে হবে এবং তার পরিমাণ সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে জানাতে হবে এবং বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে। বিধি ৭৬০ এর অধীনে প্রদত্ত রেয়াত যথাসম্ভব অবিলম্বে হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে।

বিধি-৭৬৪। যে পঞ্জিকা মাসে সাজাপ্রাপ্ত বন্দী মুক্তি পাবে, সে মাসের জন্যে কোন সাধারণ রেয়াত প্রদান করা হবে না ।

বিধি-৭৬৫ । সাধারণ রেয়াতের যোগ্য হোক বা না হোক, যে কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে বিশেষ কাজের জন্যে বিশেষ রেয়াত দেয়া যেতে পারে । যেমন-

(১) কারাগারের শৃঙ্খলা বা নিয়ম ভঙ্গের কাজ খুঁজে বের করা বা প্রতিরোধে সহায়তা করা;

(২) হস্তশিল্প শিক্ষা প্রদানে কৃতিত্বের জন্যে;

(৩) বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ, বা বিরাট আয় সম্পন্ন ভাল মানের কাজের জন্যে .

(৪) কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে;

(৫) কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিদ্রোহ, অগ্নিকান্ড বা অনুরূপ জরুরী কাজে সহায়তা করার জন্যে;

(৬) পোশাক ব্যবহারে মিতব্যয়িতার জন্যে;

(৭) { কারাগারের বিধি বিধানের প্রতি মনোযোগ প্রদান এবং পূর্ববর্তী তিন বছরে সতর্ক করণ ব্যতীত অন্য কোন সাজা হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ না থাকা । }

নং- ১৬৩৯ এইচ জে তারিখ- ২৯৬-১৯৩৯ মূলে সংযোজিত।

বিধি-৭৬৬। বিশেষ রেয়াত প্রদান করা যেতে পারে-

(১) জেল সুপার কর্তৃক এক বছরে অনধিক ৩০ দিন;

(২) কারা মহাপরিদর্শক বা সরকার কর্তৃক এক বছরে অনধিক ৬০ দিন।
ব্যাখ্যা- এ বিধির উদ্দেশ্যে দত্ত প্রদানের তারিখ হতে বছর গণনা করা হবে এবং বছরের কোন অংশকে পূর্ণ বছর গণ্য করা হবে।

বিধি-৭৬৭। বিশেষ রেয়াত প্রদান করার পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি তা বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করতে হবে, এবং জেল সুপার কর্তৃক বিশেষ রেয়াত প্রদানের কারণ সংক্ষেপে হিস্ট্রি টিকেটে লিখতে হবে।

 

বিধি-৭৬৮। এই বিধিসমূহে কোন বন্দীকে প্রদত্ত মোট রেয়াতের পরিমাণ সরকারের বিশেষ অনুমোদন ব্যতীত দণ্ডের মেয়াদের এক চতুর্থাংশের বেশী হবে না।

বিধি-৭৬৯। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির জন্যে তারিখ গণনার ক্ষেত্রে অর্জিত রেয়াতের দিবস সংখ্যাকে ত্রিশ দিনে একমাস হারে মাস এবং দিনে রূপান্তর করতে হবে।

বিধি-৭৭০। যখন কোন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী-

(ক) একজন শ্রেণী- বন্দী, বা

(খ) একজন একাধিক সাজাপ্রাপ্ত শ্ৰেণী || বা শ্ৰেণী III বন্দী, বা

(গ) একজন এমন বন্দী যাকে সরকারের অনুমতি ব্যতীত মুক্তি দেয়া যাবে না মর্মে নির্দেশ থাকে,

এমন রেয়াত অর্জন করেছে যে, সে মুক্তি লাভের যোগ্য হয়েছে, তখন এ বিধির নিয়মের কারণে জেল সুপার সরকারের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করবেন যে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আলোকে তার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

বিধি-৭৭১। যখন কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী রেয়াত অর্জনের ফলে মুক্তি লাভের যোগ্য হয়, তখন ৭৭০ বিধি ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে জেল সুপার তাকে মুক্তি প্রদান করবেন।

বিধি-৭৭২ । যখন বিধি ৭৭১ মোতাবেক কোন বন্দী মুক্তি লাভ করে, তখন তার ওয়ারেন্টে অর্জিত রেয়াতের মোট পরিমাণ উল্লেখ করে জেল সুপার তাতে স্বাক্ষর করবেন।

বিধি-৭৭৩। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী অন্য কারাগারে বদলি হলে পূর্ব মাসের শেষ পর্যন্ত তার অর্জিত রেয়াতের বিবরণী তার ওয়ারেন্টে এবং হিস্ট্রি টিকেটে উল্লেখ করতে হবে এবং জেল সুপার কর্তৃক স্বাক্ষর করতে হবে।

যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিনা সে ব্যপারে গ্রহণকারী কারাগার দায়ী থাকবেন। যে সকল কারাগারে বন্দী তার দণ্ডের অংশ ভোগ করেছে সে সব কারাগার তার অর্জিত রেয়াত সঠিক ভাবে গণনার জন্যে দায়ী থাকবে।

বিধি-৭৭৪। যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দী মুক্তি পেয়ে যাবে তাদের রেয়াত কার্ড (জেল ফরম-১৮) এক বছর কারাগারে সংরক্ষণ করতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী অন্য কারাগারে বদলি হলে বদলির তারিখ পর্যন্ত তার অর্জিত রেয়াতের বিবরণ সহ রেয়াত কার্ড সঙ্গে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৭৭৫। পূর্বে বর্ণিত রেয়াত ব্যবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত সার ৩৬ নম্বর জেল ফরমে প্রত্যেক ব্যারাকে লাগিয়ে দিতে হবে।

বিধি-৭৭৬। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে কয়েদী ওয়াচম্যান, কয়েদী ওভারশিয়ার এবং কয়েদী কারারক্ষী পদে নিয়োগের উপর তাদের অর্জিত রেয়াতের পরিমাণ নির্ভর করে। এসব পদ এবং সুযোগ কারা আইনের ৪৬(৪) ধারায় বর্ণিত “রেয়াত ব্যবস্থার অধীনে সুযোগ” এর আওতায় পাওয়া যায়।

বিধি ৭৭৭-৭৭৮। অকার্যকর

বিধি ৭৭৯-৭৮১। রেয়াত কার্ড লিখার পদ্ধতি।

জেল কোড অনুযায়ী সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ কারা অপরাধ এবং শাস্তি

 

সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা
সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা

 

সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা । জেল কোড

নোট-এই অধ্যায়ের বিধি সমূহ ২৬৩, ৯৪৭, ৯৫০, ৯৮২ এবং ১৮৫ বিধি মোতাে মহিলাদেরকে সেলে আটক রাখার ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

বিধি-৭৩৫ । সম্ভব হলে সকল কারাগারে নির্জন কারাবাস ও সেলে আটকের জন্যে একাধিক সেলের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি সেগুলো প্রমিত মানের না কারা মহাপরিদর্শক সেগুলো পরীক্ষা করে সেল হিসেবে ব্যবহারের জন্যে উপযুক্ত মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করবেন।

প্রত্যেক সেলের সাথে একটি আঙিনা থাকে যাতে সেলে আটক বন্দী অন্য কোন বন্দীর মাধ্যম ছাড়াই মুক্ত বাতাস পেতে পারে। সেলে আটক বন্দীদের গোসল, খাবার গ্রহণ এবং ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে সেল এলাকায় একটি সাধারণ আঙিনা থাকবে। আঙিনা সংলগ্ন সেলের বাহিরে দরজায় একটি অক্ষি-ছিদ্র থাকবে যাতে বন্দী বাহিরে দেখতে পায়।

 

সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা
সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা

 

বিধি-৭৩৬। সেল নিম্নোক্ত বন্দীদের জন্যে ব্যবহার করা যেতে পারে-

(১) দণ্ড বিধি ৭৩ ও ৭৪ মোতাবেক নির্জন কারাবাসের সাজা কার্যকরী করার জন্যে;

(২) কারা আইনের ৪৬ (৮), (১০) ধারায় পৃথক এবং সেলে আটক রাখার জন্যে;

(৩) ৬২৭ বিধি অনুযায়ী অভ্যাসগতদের পৃথক রাখার জন্যে;

(৪) ৯৬৫ বিধি মোতাবেক কিশোর বন্দীদের রাত্রিতে পৃথক রাখার জন্যে;

(৫) দোষ স্বীকারকারী বিচারাধীন বন্দীকে ৯১২ বিধি মোতাবেক পৃথক রাখার জন্যে ;

(৬) কারা অপরাধীকে ২৫৩ বিধি মোতাবেক সাময়িক আটক রাখার জন্যে;

(৭) পর্যবেক্ষণাধীন পাগল বন্দীকে ১০৩৮ বিধি মোতাবেক পৃথক রাখার জন্যে;

(৮) চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণাধীন সংক্রামক ব্যাধি আক্রান্ত বন্দীকে পৃথক রাখার জন্যে;

(৯) মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে ৯৮০ বিধি মোতাবেক আটক রাখার জন্যেঃ

(১০) ৫০৫ এবং ১২৪৬ মোতাবেক সঙ্গ নিরোধের জন্যে;

(১১) বিচারাধীন বন্দীদেরকে ৯১২ বিধি মোতাবেক পৃথক রাখার জন্যে।

নোট-কোন কিছুর সাথে বেঁধে হ্যান্ড কাপ আরোপের শাস্তি সেলে কার্যকরী করা যাবে না।

বিধি-৭৩৭। অকার্যকর।

 

সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা
সেলে আটক বন্দীদের পরিচালনা

 

বিধি-৭৩৮ । কেবল মাত্র স্থায়ী রক্ষীদেরকে সেলের প্রহরার দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। সেলের চাবি সাধারণত দিনের বেলায় রক্ষীর নিকট এবং রাতের বেলায় উহলরত প্রধান কারারক্ষীর নিকট থাকবে। তবে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা বন্দীর ক্ষেত্রে সেলের চাবি রক্ষীর নিকট থাকবে। সেলের চাবি কখনই কয়েদী কর্মচারীদের নিকট দেয়া যাবে না। সেলের তালা প্রধান কারারক্ষী দৈনিক এবং জেলার মাঝে মাঝে পরীক্ষা করে দেখবেন।

বিধি-৭৩৯। সেলে আটক বন্দীদের প্রহরা এমনভাবে নিয়োজিত থাকবে যে, বন্দী সেখান থেকে যে কোন সময় কারাগারের একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়। সেলে আটক প্রত্যেক বন্দীকে প্রধান কারারক্ষী প্রতি দুই ঘন্টা অন্তর একবার ভিজিট করবেন ।

বিধি-৭৪০। আত্মহত্যা বা নিজেদের জখমকরণ প্রতিহত করার জন্য সেলে আটক বন্দীদের উপর কড়া নজর রাখতে হবে। পাগল, সন্দিগ্ধ পাগল এবং মেডিকেল পর্যবেক্ষণে রাখা আত্মহত্যার সন্দিগ্ধ বন্দীকে দিবা-রাত্র নজরে রাখতে হবে।

বিধি-৭৪১। সেলে আটক কোন বন্দী অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল অফিসারের নিকট সংবাদ প্রেরণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে বন্দীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।

বিধি-৭৪২। ২৪ ঘন্টার বেশী সময়ের জন্যে সেলে আটক বন্দীকে জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার প্রত্যেক দিন ভিজিট করবেন। জেলারও দৈনিক সেল ভিজিট করবেন।

বিধি-৭৪৩। জেল সুপারের লিখিত আদেশ ব্যতীত সেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত কোন কারারক্ষী কোন বন্দীকে সেলে গ্রহণ করবেন না। চিকিৎসক কর্তৃক উপযুক্ত ঘোষণা না করলে কাউকে নির্জন কারাবাসে রাখা যাবে না।

 

বিধি-৭৪৪। প্রত্যেক সেলের সামনে বন্দীর কারাবাসের মেয়াদ এবং উ কারাবাস শুরুর তারিখ একটি টিকেটে লিখে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

বিধি-৭৪৫। প্রত্যেক সেলের বন্দীর কারাবাস সংক্রান্ত একটি রেজিষ্টার সেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত কারারক্ষী সংরক্ষণ করবেন।

বিধি-৭৪৬। সেলে নেয়ার আগে বন্দীকে সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশী করে দেখতে হবে যাতে তার কাছে যেন পলায়ন বা আত্মহত্যার সহায়ক কোন বস্তু না থাকে। প্রত্যেক সেল দৈনিক পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

বিধি-৭৪৭। মেডিকেল পর্যবেক্ষণ এবং অসুস্থ বন্দীর ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যদের সেলে ব্যবহৃত বেডিং আবহাওয়া অনুকূল থাকলে দিনের বেলায় বের করে রোদে রাখতে হবে।

বিধি-৭৪৮। নির্জন কারাবাসে রাখা শ্রম বন্দীদেরকে তাদের উপযোগী কাজ দেয়া যেতে পারে।

বিধি-৭৪৯। সেলে আটক বন্দীরা কঠোর নীরবতা পালন করবে।

নোট-মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীদের পরিচালনার বিষয়ে একত্রিংশ অধ্যায় অনুসরণ করতে হবে।

জেল কোড অনুযায়ী কারা অপরাধ এবং শাস্তি

আজকে আমরা কারা অপরাধ এবং শাস্তি সম্পর্কে আলোচনা করবো।

 

কারা অপরাধ এবং শাস্তি
কারা অপরাধ এবং শাস্তি

 

কারা অপরাধ এবং শাস্তি । জেল কোড

বিধি-৭০৪। কোন বন্দীর নিম্নোক্ত কাজকে কারা অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে :-

১। কারা আইনের ৫৯ (১) ধারার অধীনে প্রণীত বিধানে কারা অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে এমন বিধানের ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞা করা;

২। কোন আক্রমণ বা অপরাধ মূলক বল প্রয়োগ করা;

৩। অপমানজনক বা ভয় দেখানোর ভাষা ব্যবহার করা;

৪। অনৈতিক বা অশোভন বা বিশৃঙ্খল আচরণ করা ;

৫।সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কর্তৃক ইচ্ছাকৃত ভাবে নিজেকে কাজের অযোগ্য করা;

৬। কাজ করতে অবজ্ঞা সহকারে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা:

৭। অনুমতি ব্যতীত হ্যান্ডকাপ, বেড়ী বা ডান্ডা ঘষা, কাটা, পরিবর্তন বা অপসারণ করা ;

৮। কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর কাজের প্রতি ইচ্ছাকৃত অলসতা বা অবহেলা করা;

৯। কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কর্তৃক কাজের ইচ্ছাকৃত অব্যবস্থাপনা করা;

১০। কারাগারের সম্পত্তির ইচ্ছাকৃত ক্ষতি করা;

১১। হিস্ট্রি টিকেট, রেকর্ড বা দলিলপত্র বিনষ্ট করা বা পরিবর্তন করা;

১২। কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য গ্রহণ, দখলে রাখা বা হস্তান্তর করা;

১৩। অসুস্থতার ভান করা;

১৪। কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা বন্দীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা;

১৫। অগ্নিকান্ড, গোপন চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র, পলায়ন বা পলায়নের প্রস্তুতি এবং কোন বন্দী বা কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপর কোন আক্রমণ বা আক্রমণের প্রস্তুতির সংবাদ জ্ঞাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে না জানানো বা জানাতে অসম্মতি জ্ঞাপন করা;

১৬। পলায়নের ষড়যন্ত্র করা, কিংবা পলায়ন বা পূর্ব বর্ণিত অন্য কোন অপরাধ করতে সাহায্য করা ।

 

কারা অপরাধ এবং শাস্তি
কারা অপরাধ এবং শাস্তি

 

বিধি-৭০৫। নিম্নোক্ত কাজ গুলো নিষিদ্ধ এবং কোন নদী এর কোনটি করলে ইচ্ছাকৃতভাবে কারাগারের নিয়ম ভঙ্গ করেছে এবং কারা আইনের ৪৫ ধারার অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে-

(১) লাইনে বা প্যারেডে দাঁড়ানো অবস্থায় কথা বলা বা হাসাহাসি বা জোরে কথা বলা

(২) অন্য বন্দীর সাথে ঝগড়া করা;

(৩) কোন বিষয় গোপন করা;

(৪) কোন কারা কর্মকর্তা বা পরিদর্শককে অসম্মান করা;

(৫) ভিত্তিহীন অভিযোগ করা;

(৬) মিথ্যা জবাব দেয়া;

(৭) বাহিরে কারো কাছে তথ্য পাচার করা;

(৮) কারা অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করা;

(৯) শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা না করা;

(১০) কোন বন্দীর অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন ভাষা ব্যবহার করা;

(১১) কোন কাজ যা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট এলার্ম হিসেবে মনে হতে পারে;

(১২) অনুমতি ব্যতীত কারাগারের নির্ধারিত এলাকা বা নিজ গ্যাং ত্যাগ করা;

(১৩) অনুমতি ব্যতীত নিজ ওয়ার্ড, আঙিনা বা লাইন ত্যাগ করা;

(১৪) আঙিনায় ধীরে হাঁটা বা ওয়ার্ড খোলার পর বাহির হতে দেরী করা:

(১৫) লাইনে বা প্যারেডে মার্চ করতে অস্বীকার করা;

(১৬) ( প্রয়োগ নেই)

(১৭) খাবার বা ডায়েট গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ;

(১৮) নিজের জন্যে বরাদ্দকৃত খাবারের অতিরিক্ত কোন খাবার গ্রহণ;

(১৯) অনুমতি ছাড়া খাবার ঘর বা ষ্টোর হতে খাদ্য সরিয়ে নেয়া

(২০) ইচ্ছাকৃত ভাবে খাদ্য নষ্ট করা বা ছুঁড়ে ফেলা;

(২১) খাদ্যের মধ্যে বিস্বাদ কোন দ্রব্য মিশানো

(২২) পোশাক গ্রহণে অস্বীকার করা বা অন্য বন্দীর সঙ্গে বিনিময় করা বা ক্ষতি বা পরিবর্তন করা,

(২৩) ব্যাজ নাম্বার পরিবর্তন বা নষ্ট করা;

(২৪) নিজেকে পরিষ্কার না রাখা বা নখ চুল কাটতে অস্বীকার করা:

(২৫) পরিধেয়, বিছানা কম্বল পরিষ্কার না রাখা:

(২৬) তালা, বাতি প্রভৃতি নষ্ট করা;

(২৭) কারাগারের পোশাক বা জিনিসপত্র চুরি করা;

(২৮) কারাগারের ভিতরে উপদ্রব সৃষ্টি করা;

(২৯) মেঝে, দেয়াল প্রভৃতি গর্ত করা:

(৩০) ইচ্ছাকৃত ভাবে কৃয়া, লেট্রিন, গোসলখানা প্রভৃতি নোংরা করা;

(৩১) শাক-সব্জি, গাছপালা নষ্ট করা বা গবাদি পশুর ক্ষতি করা;

(৩২) দায়িত্বে অর্পিত কারা সম্পত্তির যত্ন না নেয়া

(৩৩) কাজে ব্যবহারের জন্যে দেয়া জিনিস পত্রের ক্ষতি করা:

(৩৪) কোন জিনিসের ক্ষতি সম্পর্কে সঙ্গে সঙ্গে না জানানো;

(৩৫) অনুমতি ব্যতীত কোন জিনিস বানানো;

(৩৬) অন্য বন্দীকে প্রদত্ত কাজ করা বা নিজের কাজে অন্য বন্দীর সাহায্য নেয়া:

(৩৭) অন্য বন্দীর সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করা;

(৩৮) কাজ করা জিনিসের সঙ্গে বাহিরের অন্য জিনিস মিশানো;

(৩৯) ইচ্ছাকৃত ভাবে নিজের অসুস্থতা বা আঘাত তৈরীর জন্যে কাজ করা;

(৪০) গোপন করা, সন্ত্রাস সৃষ্টি করা বা অবাধ্য হওয়া বা হতে সাহায্য করা;

(৪১) কোন বন্দী বা কারা কর্মীকে আক্রমণ করা;

(৪২) পলায়ন বা আক্রমণের ঘটনা প্রতিরোধে কারা কর্মীকে সহায়তা না করা;

(৪৩) কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর বৈধ আদেশ না মানা বা যে কাজ দেয়া হয়েছে তা না করা।

 

কারা অপরাধ এবং শাস্তি
কারা অপরাধ এবং শাস্তি

 

বিধি-৭০৬। যখন কোন বন্দী নিম্নোক্ত কোন অপরাধ করেছে মর্মে জেল সুপারের নিকট প্রতীয়মান হয়, তখন তিনি ফৌজদারি কার্যবিধি মতে এ বিষয়ে বিচারিক তদন্তের জন্যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অনুরোধ জানাবেন-

(১) দণ্ড বিধির ১৪৭,১৪৮ এবং ১৫২ ধারার অপরাধ সমূহ, অর্থাৎ- দাঙ্গা অস্ত্রসহ দাঙ্গা, কিংবা অনুরূপ দাঙ্গা দমনে নিয়োজিত কোন সরকারী কর্মচারীকে আক্রমণ বা বাধা প্রদান বা অবৈধ বল প্রয়োগ:

(২) দণ্ড বিধির ২২২,২২৩ এবং ২২৪ ধারার অপরাধ সমূহ, অর্থাৎ আইন সম্মতভাবে সোপর্দকৃত ব্যক্তিকে সরকারী কর্মচারী কর্তৃক গ্রেফতার করতে বাধ্য থাকা সত্বেও তাতে অবহেলা করা, সরকারী কর্মচারী কর্তৃক অবহেলার দরুন আটক হতে বন্দী পলায়ন, এবং গ্রেফতারের চেষ্টাকালে কোন সরকারী কর্মচারীকে আক্রমণ, বা বাধা প্রদান বা অবৈধ বল প্রয়োগ করা।

(৩) দণ্ড বিধির ৩০৪এ, ৩০৯ এবং ৩২৬ ধারার অপরাধ সমূহ, অর্থাৎ বেপরোয়া বা তাচ্ছিল্যপূর্ণ কাজের ফলে কারো মৃত্যু ঘটানো, আত্মহত্যার চেষ্টা করা, ইচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক অস্ত্র বা অন্য কিছুর সাহায্যে কাউকে গুরুতর আঘাত করা;

(৪) এমন কোন অপরাধ যাহা কেবলমাত্র দায়রা আদালতে বিচার্য।

কোন বন্দী কর্তৃক সংঘটিত কোন অপরাধ যদি একই সঙ্গে কারা অপরাধ এবং দণ্ড বিধি উভয়টির আওতায় পড়ে তবে জেল সুপার নির্ধারণ করবেন যে বন্দীকে তিনি কারা অপরাধে শাস্তি প্রদান করবেন না কি ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট ফৌজদারি কার্যবিধি মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণের জন্যে প্রেরণ করবেন।

বিধি-৭০৭। কারা আইনের ৫২ ধারার বিধান মতে, যদি কোন বন্দী কারা- শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য শান্তি প্রাপ্ত হয়, তার দ্বারা উপর্যুপরি অপরাধ সংঘটনের জন্য বা অন্য কারণে বন্দীকে কারা অপরাধের জন্যে শাস্তি প্রদানের তার যে ক্ষমতা আছে তা যথেষ্ট নয় মর্মে জেল সুপারের নিকট প্রতীয়মান হলে তিনি পরিস্থিতির একটি বর্ণনাসহ এ ধরনের বন্দীকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বা এখতিয়ার সম্পন্ন অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে প্রেরণ করতে পারবেন।

ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি তদন্ত করবেন এবং বন্দীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনীত হয়েছে, তার বিচার করবেন, এবং, অপরাধ প্রমাণিত হলে এক বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করতে পারবেন। উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ বন্দীর ভোগরত কারাদণ্ডের মেয়াদের অতিরিক্ত হবে। কিংবা অনুরূপ অপরাধের জন্যে পূর্ববর্তী বিধিসমূহে বর্ণিত সাজা প্রদান করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে কোন ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য দুইবার সাজা প্রদান করা যাবে না।

টিকা-। যে ক্ষেত্রে কোন কিছু করা বা না করা দুই বা ততোধিক আইনের অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ হয়, সে ক্ষেত্রে আইনগুলির যে কোন একটির অধীনে অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে এবং তাকে শাস্তি দেয়া যাবে, কিন্তু একই অপরাধের জন্য তাকে দুইবার শাস্তি দেয়া যাবে না (ধারা-২৬, জেনারেল ক্লজেজ এ্যাক্ট, ১৮৯৭)।

বিধি-৭০৮ । কোন বন্দী শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং কারাগারের বিধি-বিধান লংঘন করলে জেল সুপার কারা আইনের ৪৬ ধারা, এবং সে সঙ্গে উক্ত ধারার (৪), (৬) এবং (9) উপ-ধারায় বর্ণিত মতে প্রণীত বিধানের আওতায় শাস্তি প্রদান করতে পারেন ।

 

কারা অপরাধ এবং শাস্তি
কারা অপরাধ এবং শাস্তি

নিম্নোক্ত শাস্তি সমূহকে লঘু শাস্তি বলে গণ্য করা হবে-

১। সতর্ক করা

২। শ্রম পরিবর্তন করে কঠিন শ্রম প্রদান

৩। অনূর্ধ্ব ৪ দিনের রেয়াত বাতিল

৪। অনূর্ধ্ব ৩ মাস পর্যন্ত শ্রেণী, গ্রেড ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা বাতিল

৫। উচ্চ শ্রেণী থেকে নিম্ন শ্রেণীতে সাময়িকভাবে নামিয়ে দেয়া

৬। শাস্তিমূলক খাবার (বর্তমানে প্রয়োগ নেই)

৭। অনূর্ধ্ব ৭ দিন সেলে আটক করে রাখা

৮। অনূর্ধ্ব ১৪ দিন পৃথক সেলে আটক রাখা

৯। হ্যান্ড কাপ পরানো

১০। অনূর্ধ্ব ৩০ দিন পায়ে বেড়ী লাগানো

১১। প্রয়োগ নেই ।

নিম্নোক্ত শাস্তি সমূহকে গুরু শাস্তি বলে গণ্য করা হবে-

১। কঠোর পরিশ্রম, বিনাশ্রম বন্দী হলে;

২। (ক) ৪ দিনের চেয়ে বেশী কিন্তু ১২ দিন পর্যন্ত রেয়াত বাতিল করণ

(খ) ১২ দিনের বেশী রেয়াত বাতিল করণ

(গ) ৩ মাস অধিক সময়ের জন্যে শ্রেণী, গ্রেড ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা বাতিল

(ঘ) অনুর্ধ্ব ৩ মাস রেয়াত ব্যবস্থা থেকে বাদ রাখা

(ঙ) উচ্চ শ্রেণী থেকে নিম্ন শ্রেণীতে স্থায়ীভাবে নামিয়ে দেয়া

৩। ৭ দিনের অধিক সেলে আটক করে রাখা

৪ । ১৪ দিনের বেশী পৃথক সেলে আটক রাখা

৫। ৩০ দিনের বেশী পায়ে বেড়ী লাগানো

৬। ডান্ডা বেড়ী

৭। আড়াআড়ি বেড়ী

৮। পেছনে হ্যান্ডক্যাপ লাগানো

৯। প্রয়োগ নেই

১০। প্রয়োগ নেই

১১। এক সঙ্গে একাধিক লঘু সাজা ।

নোট-১। জেল সুপারের নিম্নের কোন কর্মকর্তা কোন শাস্তি প্রদান করতে পারবেন না।

 

কারা অপরাধ এবং শাস্তি
কারা অপরাধ এবং শাস্তি

 

নোট-২ । যে সব শাস্তির জন্যে কারা মহা পরিদর্শকের অনুমতি প্রয়োজন হবে- (১) ১২ দিলে বেশী রেয়াত বাতিল করণ (২) অনুর্ধ্ব ৩ মাস রেয়াত ব্যবস্থা থেকে বাদ রাখা (৩) ১২ দিনের বেশী রেয়াত বাতিল করণ, ৩ মাসের অধিক সময়ের জন্যে শ্রেণী,গ্রেড ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধ বাতিল এবং অনুর্ধ্ব ৩ মাস রেয়াত ব্যবস্থা থেকে বাদ রাখা- এ তিনটি একত্রে প্রয়োগ।

নোট-৩। বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শাস্তি সমূহ প্রযোজ্য হবে না- (১) শ্র পরিবর্তন করে কঠিন শ্রম প্রদান (২) অনুর্ধ্ব ৪ দিনের রেয়াত বাতিল (৩) অনুর্ধ্ব ৩ মাস পর্যন্ত শ্রেণী,গ্রেড ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা বাতিল (৪) ৪ দিনের চেয়ে বেশী কিন্তু ১২ দিন পর্যন্ত রেয়াত বাতিল করণ (৫) ১২ দিনের বেশী রেয়াত বাতিল করণ।

নোট-৪। সিভিল বন্দীদের যে সকল শাস্তি দেয়া যাবে- (১) শ্রম পরিবর্তন করে কঠিন শ্রম প্রদান (২) অনুর্ধ্ব ৭ দিন সেলে আটক করে রাখা (৩) অনুর্ধ্ব ৩ মাস রেয়াত ব্যবস্থা থেকে বাদ রাখা।

বিধি-৭০৯। জেল কোডের যে কোন প্রকারের লংঘন হলে জেল সুপারকে জানাতে হবে। জেল সুপার বিবেচনা করে দেখবেন বিষয়টি ইচ্ছাকৃত ভাবে করা হয়েছে কিনা বা তা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না। যদি তিনি মনে করেন যে, কোন বন্দী অজ্ঞতার কারণে কিংবা অসাবধানতা বশত: বিধি লংঘন করেছ, তবে তিনি তাকে সতর্ক করে দিবেন এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ শান্তি রেজিষ্টারে রেকর্ড না করে বাতিল করে দিবেন। কিন্তু যদি তার নিকট মনে হয়। যে, অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তবে তিনি শাস্তি প্রদান করবেন এবং বিধি ৭৬ মোতাবেক শাস্তি রেজিষ্টারে এবং বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করবেন।

বিধি-৭১০। ‘ আনুষ্ঠানিক সতর্ক’ শাস্তি হিসাবে গণ্য হবে এবং তজ্জন্য জেলা সুপার কর্তৃক সরাসরি ব্যক্তিগত ভাবে অপরাধীকে মৌখিক ভাবে সাবধান করতে হবে। সাধারণত কোন অপরাধ প্রথম বার করার জন্যে প্রথমে ‘আনুষ্ঠানিক সতর্ক করা হয়ে থাকে। আনুষ্ঠানিক সতর্ক অন্য কোন শাস্তির সঙ্গে একত্রে দেয়া যাবে না ।

বিধি-৭১১। শ্রমের পরিবর্তন’ কেবল মাত্র সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে প্রদান করা যাবে। সাধারণত কম কাজ করার জন্যে বা অলসতার জন্যে এই শাস্তি উপযোগী, তবে অন্যান্য অপরাধের জন্যেও আরোপ করা যেতে পারে। এটা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে কিংবা স্বভাব পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্যে আরোপ করা যেতে পারে।

বিধি-৭১২। কাজ কম করার মত ছোট ধরনের অপরাধ বার বার করার জন্যে বন্দী রেয়াত ব্যবস্থার আওতায় থাকলে রেয়াত হ্রাস করার শাস্তি আরোপ করা যেতে পারে। যে কোন ধরনের লঘু অপরাধের জন্যে অন্যান্য শাস্তির তুলনায় রেয়াত হ্রাস করার শাস্তিকে অগ্রাধিকার দেয়া যেতে পারে।

বিধি-৭১৩। যখন কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ১২ দিনের বেশী রেয়াত বাতিলের জন্যে বা কোন বন্দীকে তিন মাসের বেশী রেয়াত ব্যবস্থার বহির্ভূত রাখার জন্যে অনুমোদন চাওয়া হবে, অপরাধের পূর্ণ বিবরণী এবং বন্দী যে পরিমাণ রেয়াত অর্জন করেছে তার উল্লেখ করতে হবে এবং বন্দীর পূর্ব ইতিহাস সংক্রান্ত একটি বিবরণী এবং ডিসক্রিপটিভ রোল প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৭১৪। রেয়াত সুবিধা বাজেয়াপ্ত কয়েদী কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। যখন রেয়াত সুবিধা বাতিল বা গ্রেড নামিয়ে দেয়া হবে তখন তা স্থায়ী কিনা এবং স্থায়ী না হলে কতদিন পর্যন্ত বহাল থাকবে জেল সুপার তা রেকর্ড করবেন।

বিধি-৭১৫ । প্রয়োগ নেই।

বিধি-৭১৬। ৮ নম্বর লঘু অপরাধ এবং ৯ নম্বর গুরু অপরাধের জন্যে হ্যান্ডকাপ আরোপ করা যেতে পারে। তালা সহ প্রতিটি লৌহদণ্ডের হ্যান্ডকাপের ওজন ২ পাউন্ডের বেশী হবে না। ঘুরানো রিং হলে প্রতিটি সোয়া এক পাউন্ডের বেশী হবে না কিংবা চেইন হ্যান্ডকাপ হলে এক পাউন্ডের বেশী হবে না।

বিধি-৭১৭ । হ্যান্ডকাপ পরানো হবে-

(ক) হাতের কব্জির সামনে দিনে বা রাতে লাগাতে হবে। প্রতি বারে ১২ ঘন্টা বিরতসিহ একটানা ১২ ঘন্টার বেশী পরানো যাবে না এবং পর পর ৪ রাত বা দিনের বেশী পরানো যাবে না।

(খ) হাতের কব্জির পিছনে শুধুমাত্র দিনে লাগাতে হবে। দৈনিক ২৪ ঘণ্টায় ৬ ঘন্টার বেশী পরানো যাবে না এবং পর পর ৪ দিনের বেশী পরানো যাবে না। সাধারণ আটকানোর শিকল ছাড়া অন্য কোন শিবল হ্যান্ডকাপের সাথে আরোপ করা যাবে না।

(গ) বন্দীর কব্জিতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে তাকে কোন কিছুর সাথে পর পর দিনের বেশী এবং একদিনে ৬ ঘন্টার বেশী বেঁধে রাখা যাবে না এবং প্রত্যেক মেয়াদের ৩ ঘন্টা পর এক ঘন্টার বিরতি প্রদান করতে হবে। শর্ত থাকে যে বাঁধার স্থান বন্দীর বাহুর চেয়ে উঁচু হবে না এবং কোমরের চেয়ে নীচু হবে না; অন্য বন্দীদের উপস্থিতি ছাড়া কোন বন্দীকে অনুরূপভাবে বাঁধা যাবে না। আরও শর্ত থাকে যে, মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট ছাড়া অনুরূপ শাস্তি আরোপ করা যাবে না। আরও শর্ত থাকে যে, কোন বন্দীকে উগ্র আচরণ এবং তাচ্ছিলা সহকারে উপুর্যপরি কারা বিধি লংঘনের কারণ ব্যতীত অনুরূপ শাস্তি আরোপ করা যাবে না।

উপরের (ক) এবং (খ) উপ-বিধিতে বর্ণিত শাস্তি অন্য কোন ভাবে হ্যান্ডকাপ আরোপের সাথে প্রয়োগ করা যাবে না। হ্যান্ডকাপ পরানো অবস্থায় বন্দীকে সূর্যের নীচে রাখা যাবে না । বিধি-৭১৮ । বিভিন্ন প্রকারের বেড়ী।

বিধি-৭১৯। বিভিন্ন প্রকার বেড়ী অবিরামভাবে প্রয়োগের সর্বোচ্চ মেয়াদ-(ক) লিংক বেড়ী- তিনমাস; (খ) ডান্ডা বেড়ী- তিন মাস; (গ) ক্রস বেড়ী- ২২৪ ঘন্টা।

বিধি-৭২০। কোন কারা অপরাধের জন্যে যে কোন ধরনের বেড়ী আরোপের শাস্তি প্রদানের পর পুনরায় আরোপ করতে হলে ১০ দিনের বিরতি প্রদান করতে হবে।

বিধি-৭২১। সকল প্রকারের বেড়ী উজ্জল এবং ঝকঝকে থাকবে এবং বন্দীর ত্বকের ক্ষতি রোধের জন্যে নরম চামড়া বা কম্বল বা মোটা কাপড় ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করতে হবে। কারা অপরাধের জন্যে বেড়ী প্রয়োগকারী বন্দীকে আদালতে হাজির করার পূর্বে বেড়ী খুলে ফেলতে হবে।

 

বিধি-৭২২। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৭২৩। ‘সেলে আটক’ বলতে এমন সশ্রম বা বিনাশ্রম আটককে বুঝাবে, যেখানে কোন বন্দীকে অন্যান্য বন্দীদের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নভাবে রাখা হবে, কিন্তু তাদের দৃষ্টির অগোচরে রাখা হবে না। বন্দীকে খাবার দেয়ার জন্যে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্যে কয়েদী কর্মচারী সেলে প্রবেশের সুযোগ পাবে। তবে বন্দী নিজের খাবার নিজে খাবে এবং তাকে সেলের মধ্যে গোসলাদি সারতে হবে। ১৪ দিনের বেশী সেলে আটকের শাস্তি দেয়া যাবে না এবং দুইটি মেয়াদের মাঝে অনুরূপ সময়ের বিরতি থাকবে।

বিধি-৭২৪। ‘পৃথক কারাবাস’ অর্থ এমন সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাবাস যেখানে কোন বন্দীকে অন্যান্য বন্দীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হবে, কিন্তু তাদের দৃষ্টির অগোচরে রাখা হবে না এবং বন্দীকে দৈনিক কমপক্ষে এক ঘন্টা ব্যায়াম করতে দেয়া হবে এবং এক বা একাধিক বন্দীর সঙ্গে খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবে। জেল সুপার অনধিক ৩০ দিন পৃথক কারাবাসের শাস্তি প্রদান করতে পারবেন। তার চেয়ে বেশী এবং অনধিক ৩ মাস পর্যন্ত মেয়াদের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। অনুরূপ অনুমোদনের আবেদনের সঙ্গে মেডিকেল অফিসারের একটি সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে ।

বিধি৭২৫-৭৩২। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৭৩৩। আদালতের নির্দেশ ব্যতীত পূর্ব বর্ণিত বিধি সমূহের বাহিরে কোন বন্দীকে কোন শাস্তি প্রদান করা যাবে না।

বিধি-৭৩৪। শান্তি প্রয়োগ সংক্রান্ত নিম্নোক্ত রেজিষ্টার সমূহ সংরক্ষণ করা হবে-

১। শাস্তি রেজিষ্টার (রেজিষ্টার নম্বর-১৯)

২। কারা শাস্তি অবসানের রেজিষ্টার (রেজিষ্টার নম্বর-২০)।

নোট-

বিচারাধীন বন্দী, বিনাশ্রম বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের ক্ষেত্রে এই বিধি সমূহ প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিধি ৯২৭, ৯৪৪ এবং ৯০৫ অনুসরণ করতে হবে। অবরোধে আটক রাখার উদ্দেশ্যে হ্যান্ডকাপ এবং বেড়ী প্রয়োগের জন্যে বিধি ৫১৫ অনুসরণ করতে হবে।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের ধর্মীয় আচার

আজকে আমরা আলোচনা করবো বন্দীদের ধর্মীয় আচার সম্পর্কে।

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার । জেল কোড

বিধি-৬৮৯। সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াও সকল শ্রেণীর বন্দীকে নিম্নোক্ত গেজেটেড ছুটি প্রদান করা হবে-

  • দুর্গা পূজা- ১ দিন
  • ঈদুল আজহা – ২ দিন
  • শহীদ দিবস – ১ দিন
  • স্বাধীনতা দিবস – ১ দিন
  • ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী – ১ দিন
  • ঈদুল ফিতর – ২ দিন
  • বিজয় দিবস- ১ দিন
  • বড় দিন – ১ দিন
  • বুদ্ধ পূর্ণিমা – ১ দিন
  • মে দিবস – ১ দিন

টীকা- নং ২৩৫-স্ব ম:-জে (১) তারিখ ৩০-১০-১৯৭২ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-৬৯০ । উৎসবের দিবসে বন্দীদেরকে তাদের নিজের খরচে কিংবা আত্মীয়- স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কর্তৃক প্রেরিত ফল এবং দুধসহ অরান্নাকৃত খাবার গ্রহণের জন্যে জেল সুপার অনুমতি প্রদান করতে পারেন। ঈদুল ফিতর এবং দুর্গা পূজার দ্বিতীয় দিনে দৈনিক খোরাকী ভাতা বৃদ্ধি করে জেল সুপার কর্তৃক উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করা উচিত।

টীকা- বর্তমানে সরকার কর্তৃক বিশেষ অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে দুই ঈদে, স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবসে উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করা উচিত।

 

বিধি-৬৯১। একজন হিন্দু ধর্মীয় বন্দী ইচ্ছা করলে বিভিন্ন ধর্মীয় তিথিতে উপবাস করতে পারে। তবে এ কারণে সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর শ্রম লাঘব করা হবে না, তবে উপবাস শেষে তার জন্যে বিশেষ উন্নত মানের খাবার দেয়া যেতে পারে। এ উদ্দেশ্যে অতিরিক্তি খাবারের ব্যয়ের পরিমাণ উপবাসকালীন সময়ে তার প্রাপ্য খোরাকী মূল্য অপেক্ষা বেশী হবে না।

বিধি-৬৯২। যে সকল মুসলমান বন্দী রমজানে রোজা রাখতে ইচ্ছুক তারা তা রাখতে পারবে। এ সকল বন্দীদেরকে দেয়া হবে-

(১) সকালের নাস্তার পরিবর্তে ইফতারের সময় শরবত এবং কিছু হাল্কা খাবার (ছোলা ভুনা বা এক টুকরো পাউরুটি),

(২) রাতের বেলায় দুই বার খাবার, একটি (সেহরী) রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে খেতে হবে এবং সাধারণ খাবারের চেয়ে হাল্কা হবে।
খাবারের মোট ব্যয় অন্যান্য বন্দীদের খাবারের বায়ের চেয়ে বেশী হবে না। কোন শ্রম লাঘব অনুমোদিত হবে না, তবে সকালে আধ ঘন্টা কাজ বাড়িয়ে দেয়া হবে এবং বিকালে আধ ঘন্টা কাজ কমিয়ে দেয়া হবে।

কাজের এই পরিবর্তীত সময়সূচী সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর জন্যে প্রযোজ্য হবে। যে সব ওয়ার্ডে মুসলমান বন্দীরা আছে সেখানে এ সময় পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। রাতের বেলা কোন ওয়ার্ড বা সেল খোলা হবে না। তবে বন্দীরা ওয়ার্ডের ভিতর তারাবির নামাজ আদায় করতে পারবে।

টীকা- বর্তমানে বন্দী প্রতি ৭ টাকা হারে ইফতারী বরাদ্দ করা হয়।

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার
বন্দীদের ধর্মীয় আচার

 

বিধি-৬৯৩। মেডিকেল অফিসার যদি মনে করেন যে কোন বন্দীর রোজা অব্যাহত রাখা তার শরীরের জন্যে ক্ষতিকর বা বিপদজ্জনক, তা হলে তিনি ঐ বন্দীকে রোজা অব্যাহত না করার জন্যে পরামর্শ দিতে পারেন।

বিধি-৬৯৪। সকল শ্রেণীর বন্দীকে নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা পালনের জন্যে যুক্তি সঙ্গত সুযোগ দেয়া হবে, তবে প্রার্থনা পালনের বিষয়টি ঐচ্ছিক হবে। মুসলমানদের একত্রে (নামাজ) আদায় করতে দেয়া হবে তবে জেল সুপার ঠিক করে নিবেন কত জন বন্দীকে এক সঙ্গে নামাজ আদায়ের অনুমতি প্রদান করবেন। প্রার্থনার স্থান জেল সুপার নির্ধারণ করে দিবেন। কোন ধর্মীয় মাতম অনুমোদন করা হবে না ।

নোট– নামাজের) আগে আযান দেয়া ধর্মীয় মাতম হিসেবে গণ্য হবে না এবং গুরুত্ব পূর্ণ ধর্মীয় উৎসবে তার অনুমতি দেয়া যেতে পারে।

নং- ১৭২০ এইচ জে তারিখ ১৩-১০-১৯৫৯ মূলে সংশোধিত।

বিধি-৬৯৫। ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে বন্দীদের মধ্যে ভেদাভেদ বা কলহ পরিহার করতে হবে। ধর্মীয় বিষয়ে কলহ সৃষ্টি করে বন্দী পলায়নের সুযোগ তৈরী করা হয় কিনা, তা সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে।

বিধি ৬৯৬-৬৯৭। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৬৯৮ । প্রত্যেক কেন্দ্রীয় বা জেলা কারাগারে লভ্যতা সাপেক্ষে একজন মুসলিম এবং একজন হিন্দু, দুইজন অবৈতনিক শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। বিভাগীয় কমিশনারগণ কর্তৃক তারা নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন এবং নিয়োগ আদেশ গেজেটে প্রকাশিত হবে । এ সকল শিক্ষক বন্দীদেরকে নৈতিক উপদেশ দেয়ার জন্যে নিয়োজিত হবেন। যখন কোন কারাগারে (শিক্ষকের) পদ শূন্য হয় তখন জেল সুপার জেলা ম্যাজিট্রেটকে জানাবেন। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট একজন উপযুক্ত অবৈতনিক শিক্ষককে উক্ত শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ বিভাগীয় কমিশনারের নিকট প্রেরণ করবেন।

অনুরূপ শিক্ষকগণ দুই বৎসরের জন্যে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন এবং ৬৯৯ বিধি মোতাবেক তাদের নিয়োগ বাতিল না হলে, অনুরূপ মেয়াদ শেষে তারা নিয়োগ লাভে সামর্থ্য থাকলে এবং আগ্রহী হলে পুন:নিয়োগের যোগা হবেন। জেল সুপার যেরূপ নির্দেশ প্রদান করবেন সেরূপ ভাবে (শুক্রবার। বা অন্যান্য গেজেটেড ছুটির দিনে তারা উপদেশ প্রদানের অনুমতি পাবেন। অনুমোদিত ধর্মীয় গ্রন্থ কারাগারের লাইব্রেরীতে সরবরাহ করতে হবে।

{ অন্য কোন ধর্মের বন্দীদের জন্যেও অনুরূপ অবৈতনিক শিক্ষক ও অবৈতনিক মহিলা শিক্ষক নিয়োগ করা যেতে পারে, যদি ঐ ধর্মের ৪ জন বা ততোধিক সংখ্যক যথাক্রমে পুরুষ বা মহিলা বন্দী থাকে । নং ১৭২০ এইচ জে তারিখ ১৩-১০-১৯৫৯ মূলে বিলুপ্ত ।
নং ১৫৬ এইচ জে তারিখ ৩০-১-১৯৩৯ মূলে প্রতিস্থাপিত।

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার
বন্দীদের ধর্মীয় আচার

 

টীকা- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জি.ও নম্বর ১ম-৩-৯২-জেল-১/৩২৭ তারিখ ৬-৬-৯৩ মোতাবেক একজন অবৈতনিক শিক্ষক প্রতিবার পরিদর্শনের জন্যে ২০ (বিশ) টাকা হারে সম্মানী ভাতা প্রাপ্য হবেন।

বিধি-৬৯৯। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পূর্ববর্তী বিধি মোতাবেক নিয়োজিত অবৈতনিক শিক্ষকের নিয়োগ সাধারণত: বাতিল করা হবে যদি তার মেয়াদ কালে তিনি অবিরাম তিন মাস যাবত দায়িত্ব পালনে বিরত থাকেন ।

বিধি-৭০০। কোন যাজক বা পাদ্রী বা ধর্মীয় উপদেষ্টা নিজ ধর্ম ব্যতীত অন্য ধর্মের বন্দীদের নিকট গমন করবেন না। কোন বন্দী অন্য ধর্মীয় উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাতে আগ্রহী হলে এ বিষয়ে কারা মহা পরিদর্শকের নিকট আদেশের জন্যে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৭০১। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৭০২। অকার্যকর।

বিধি-৭০৩। কোন বন্দী কারাগারে মারা গেলে মৃতের ধর্মীয় রীতিতে মৃতদেহের সৎকার করার জন্যে জেল সুপার নির্দেশ প্রদান করবেন। মৃতের আত্মীয় স্বজ মৃতদেহ গ্রহণ না করলে আগ্রহী স্থানীয় ধর্মীয় বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সৎকারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রতিটি মৃতদেহ সৎকারের জন্যে সর্বোচ্চ ১০ টাকা প্রদান করা যেতে পারে। উক্ত টাকা ” বিবিধ সেবা এং সরবরাহ খাত হতে ব্যয় করা হবে। কোন বন্দী কারাগারে মারা গেলে এ বিষয়ে বিধি ৯৮ অনুসরণ করতে হবে।

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী । জেল কোড

আজকে আমরা আলোচনা করবো বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী সম্পর্কে।

 

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী

 

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী । জেল কোড

বিধি-৬৮২। বিচারাধীন ফৌজাদারি বন্দী এবং সিভিল বন্দীদেরকে যথোপযুক্ত সময় এবং বাধা-নিষেধের আওতায় আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব এবং আইনজীবির সাথে সাক্ষাত বা মৌখিক বা লিখিত যোগাযোগের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে।

বিধি-৬৮৩। বিচারাধীন বন্দীর সঙ্গে তার আইনজীবির সাক্ষাতের আলাপ- আলোচনা দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর শ্রবণ সীমানার বাহিরে কিন্তু দৃষ্টি সীমানার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। বন্দীর নিকট আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাতের সময়েও অনুরূপ সুবিধা দেয়া যেতে পারে ।

বিধি-৬৮৪ । কোন বিচারাধীন বন্দীর আইনজীবি হিসেবে কোন ব্যক্তি তার সাথে সাক্ষাত করতে ইচ্ছুক হলে তিনি নাম, ঠিকানা এবং পেশার বিবরণ দিয়ে লিখিত আবেদন করবেন। তিনি যে ঐ বন্দীর প্রকৃত আইনজীবি সে ব্যাপারে জেল সুপারকে নিশ্চিত হতে হবে। সাক্ষাত অনুমোদন করা হলে ঐ আইনজীবির নাম বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিখতে হবে এবং অনুষ্ঠিত সকল সাক্ষাত হিস্ট্রি টিকেটে লিখতে হবে।

বিধি- ৬৮৫। জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে ৬৮৪ বিধিতে বর্ণিত সাক্ষাতের কোন আবেদন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট বা গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ সুপারের নিকট আদেশের জন্যে প্রেরণ করতে পারবেন।

বিধি- ৬৮৬। কোন বিচারাধীন বন্দীর সঙ্গে তার আইনজীবির সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হলে, সাক্ষাত যত শীঘ্র সম্ভব অনুষ্ঠিত হবে এবং একজন কারা কর্মকর্তা- কর্মচারী তা তত্ত্বাবধান করার জন্য উপস্থিত থাকবেন।

বিধি- ৬৮৭। বিচারাধীন বন্দী কর্তৃক তার আইনজীবির উদ্দেশ্যে লিখিত মামলা পরিচালনার নির্দেশ সম্বলিত একান্ত গোপনীয় পত্র জেল সুপার কর্তৃক পূর্ব পরীক্ষা ছাড়াই আইনজীবির নিকট ব্যক্তিগত ভাবে প্রেরণ করা যেতে পারে।

বিধি- ৬৮৮। সিভিল বন্দীদের সাথে তাদের আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধব জেল সুপার নির্ধারিত সময়ে এবং তার প্রদত্ত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সাক্ষাত করতে পারেন এবং এ ক্ষেত্রে একজন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই ।

 

বিচারাধীন বন্দী এবং সিভিল বন্দীদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলী

 

টীকা-১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে অন্তরীণ (ডিটেন্যু) ব্যক্তিদের সাক্ষাত করার মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র নং ৬২৮৬- স্ব:ম: (নিরা-৩) (১২৯) তারিখ ৮-১০-৯১ এবং স্মারক নং ৭৫৬১- স্ব:ম:(নিরা-৩) (১২৯) তারিখ ২৬-১১-৯১ অনুযায়ী নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে হবেঃ-

(ক) প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা প্রাপ্ত অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে তার নিকট আত্মীয়- স্বজন পারিবারিক বিষয় সমূহ আলাপ-আলোচনার নিমিত্ত প্রতি ১৫ (পনর) দিনে একবার সাক্ষাত করতে পারবেন:

(খ) প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা প্রাপ্ত ব্যতীত অন্যান্য সকল অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে তার নিকট আত্মীয়-স্বজন পারিবারিক বিষয় সমূহ আলাপ-আলোচনার নিমিত্ত প্রতি পঞ্জিকা মাসে একবার সাক্ষাত করতে পারবেন;

(গ) প্রত্যেক সাক্ষাতের সময় পৃথক পৃথক লিখিত অনুমতি গ্রহণ করতে হবে:

(ঘ)প্রত্যেক সাক্ষাতের সময় সাক্ষাত প্রার্থীর সংখ্যা ৫ (পাঁচ) জনের বেশী হবে না;

(ঙ) প্রত্যেক সাক্ষাতের সময় জেল কর্তৃপক্ষের একজন প্রতিনিধি এবং পুলিশের বিশেষ শাখার একজন প্রতিনিধি আলাপ-আলোচনা শ্রবণ সীমানার বাহিরে, কিন্তু দৃষ্টি সীমানার মধ্যে অবস্থান করবেন;

(চ) সাক্ষাতের সময় পারিবারিক বিষয় সমূহ ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ে আলাপ আলোচনা করা হলে অথবা কোন কিছু আদান-প্রদান করা হলে সাক্ষাতের অনুমোদন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ সাক্ষাতের প্রদত্ত সুবিধা রহিত করতে পারবেন; এবং

(ছ) সাক্ষাতের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

২। ঢাকা মহানগর এলাকা ব্যতীত সারা দেশে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার সম্মতিক্রমে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করবেন।

৩। ঢাকা মহানগর এলাকায় প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা প্রাপ্তসহ অন্যান্য সকল অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শক, বিশেষ শাখা প্রদান করবেন।

৪। অন্তরীণ ব্যক্তির সঙ্গে অন্যান্য সকল সাক্ষাতের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুমতির প্রয়োজন হবে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেল কোডের বিধান অনুযায়ী সে সকল সাক্ষাতের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করবে।

Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class