জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

আজকের  আলোচনার বিষয়ঃ সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

 

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র
বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

 

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র । জেল কোড

সাধারণ নিয়মাবলী

বিধি-৬৬৩। (১) প্রত্যেক নুতন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কারাগারে আগমনের পর তার আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে সাক্ষাতের যুক্তি সঙ্গত সুযোগ দিতে হবে, যাতে করে সে আপীল প্রস্তুত কিংবা জামিন লাভের উদ্দেশ্যে তাদের সাথে পরামর্শ করতে পারে। তাকে তার সম্পত্তি বা পারিবারিক বিষয়ে আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাত করার বা চিঠিপত্র লিখার জন্যে এক বা দুইবার বা জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে আরো বেশী বার অনুমতি প্রদান করতে পারেন।

(২) জরিমানা বা ফৌজদারি কার্যবিধির অষ্টম অধ্যায়ের অধীনে মুচলেকা খেলাপের জন্যে সোপর্দকৃত বন্দীকে চিঠিপত্র লিখার এবং জরিমানা পরিশোধ করার বা মুচলেকা প্রস্তুতির জন্যে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ সাক্ষাতের সময় দিতে হবে।

(৩) বর্তমানে প্রয়োগ নেই ।

(৪) মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব এবং আইনজীবির সঙ্গে সে পরিমান সাক্ষাতের এবং চিঠিপত্র আদান প্রদানের সুযোগ দেয়া হবে জেল সুপার যে পরিমাণ সঙ্গত মনে করেন।

 

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র
বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

 

বিধি-৬৬৪। পূর্ববর্তী বিধিতে বর্ণিত সুবিধাদি ছাড়াও একজন সাজাপ্রাপ্ত তৃতীয় শ্রেনীর বন্দী তার আত্মীয় স্বজনের সাথে সাক্ষাত এবং চিঠি পত্র আদান প্রদানের জন্যে দুই মাসে একবার সুযোগ পাবেন এবং কয়েদী রক্ষী বা ওভারশিয়ার মাসে একবার সুযোগ পাবে। এ সুযোগ সদাচারের সঙ্গে শর্তযুক্ত এবং অসদাচরণের জন্যে জেল সুপার তা বাতিল বা রহিত করতে পারবেন।

নোট-১। কেবল মাত্র সাক্ষাত প্রার্থনার জন্যে প্রেরিত পত্র এই বিধিতে পত্র যোগাযোগ গণনার জন্যে ধরা হবে না।

নোট-২। জেল সুপারের অনুমতিক্রমে কোন বন্দী সাক্ষাতের সুযোগকে চিঠিপত্র আদান প্রদাম কিংবা চিঠিপত্র আদান প্রদানের সুযোগকে সাক্ষাতে পরিবর্তন করতে পারবে।

বিধি-৬৬৫। বিশেষ বা জরুরী প্রয়োজনে জেল সুপার বিধি-৬৬৪ এ বর্ণিত বিধান ছাড়াও এবং বন্দীর অসদাচরণ সত্ত্বেও অপেক্ষাকৃত কম বিরতিতে সাক্ষা এবং চিঠিপত্র আদান প্রদানের সুযোগ দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। যেমন-বন্দীর মারাত্মক অসুস্থতা কিংবা নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু কিংবা কোন আত্মীয় স্বজন এমন দূর হতে আসে যে সাক্ষাতের সুযোগ না দিলে পুনরায় আসা তাদের জন্যে কষ্টকর হবে কিংবা সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তি আসন্ন এবং সে চাকরির খোঁজ করছে বা অন্যান্য যুক্তি সঙ্গত কারণ।

আত্মীয়ের মৃত্যু সংবাদের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ যে কোন সংবাদ যে কোন সময় আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু বান্ধব কর্তৃক জেল সুপারের কাছেও দেয়া যেতে পারে, জেল সুপার সমীচীন মনে করলে সংবাদের বিষয়বস্তু বন্দীকে জানাবেন ।

বিধি-৬৬৬। জেল সুপারের অনুমতি ছাড়া কোন সাজা প্রাপ্ত বন্দীকে কারো সাথে সাক্ষাত কিংবা চিঠিপত্র আদান-প্রদানের সুযোগ দেয়া হবে না। এ ধরনের অনুমতির লিখিত রেকর্ড থাকবে।

বিধি-৬৬৭। জেল সুপারের বিবেচনা মতে, বন্দীর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি লিখিত বা মৌখিক যে কোন প্রকারে চাওয়া যেতে পারে। বন্দী যদি সাক্ষাতের উপযুক্ত না হয় তা হলে সাক্ষাত প্রার্থীকে তা তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দিতে হবে।

বিধি-৬৬৮। জেল সুপার সাক্ষাতের জন্যে অনুমোদিত দিন ও সময় নির্ধারণ করবেন। ঐ সময়ের বাহিরে জেল সুপারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া সাক্ষাত করা যাবে না। সাক্ষাতের জন্যে অনুমোদিত দিন ও সময় সংক্রান্ত একটি নোটীশ কারাগারের বাহিরে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

 

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র
বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

 

বিধি-৬৬৯। প্রত্যেক সাক্ষাত যথাসম্ভব জেল গেইটের নিকটে অনুষ্ঠিত হবে। সাক্ষাত প্রার্থীর সংখ্যা বেশী না হলে একই কক্ষে একই সময়ে একটি সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হবে। মহিলা বন্দীদের সাক্ষাত সম্ভব হলে মহিলা বেষ্টনীতে অনুষ্ঠিত হবে। যদি বন্দী মারাত্মক অসুস্থ হয় তবে জেল সুপার হাসপাতালে বন্দীর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করতে পারেন। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর সঙ্গে সাধারণত তার সেলে সাক্ষাত হবে। বিশেষ কারণে, কারণ লিপিবদ্ধ করে, জেল সুপার কারাগারের যে কোন স্থানে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করতে পারেন।

বিধি-৬৭০। প্রত্যেক সাজা প্রাপ্ত বন্দীর সাক্ষাত জেলার কর্তৃক লিখিত ভাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে হবে যিনি সাক্ষাত কালে কোন অনিয়ম হলে তার জন্যে দায়ী থাকবেন। দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এমন দূরত্বে থাকবেন যাতে তিনি দেখতে এবং শুনতে পান এবং যেন কোন দ্রব্যাদি আদান প্রদানে বাধা দিতে পারেন। শর্ত থাকে যে, কোন পুলিশ অফিসারকে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত ছাড়াই একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য জেল সুপার অনুমতি প্রদান করতে পারেন ।

[ কোন আফটার কেয়ার বা প্রবেশন অফিসার কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন কোন বন্দীর সাক্ষাত কালে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হবে না।]

বিধি-৬৭১। সাক্ষাতের সময় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট যুক্তিসঙ্গত কারণ বিদ্যমান রয়েছে বলে প্রতীয়মান হলে যে কোন সাক্ষাত যে কোন সময়ে অবসান করে দেয়া যেতে পারে। এরূপ প্রত্যেক ক্ষেত্রে | অবসানের। কারণ তাৎক্ষণিক ভাবে কারাগারে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে তার আদেশের জন্যে জানাতে হবে। | সাক্ষাত পর্বে রাজনৈতিক বিষয়াদি আলোচনা কিংবা বন্দীর নিকট রাজনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কে তথ্য প্রদান কিংবা পারিবারিক বা সাংসারিক বিষয়ের বাহিরে অন্য কোন আলোচনা করার অনুমতি দেয়া হবে না। এ বিধি লংঘনকারীকে কারা আইনের ৪২ ধারায় অভিযুক্ত করা হবে।

নং-১৯৬৩ এইচ জে, তারিখ-২১-৫-১৯৩৮। সঙ্গে

বিধি-৬৭২। প্রতিটি সাক্ষাতের অনুমোদিত সময় সাধারণত ২০ মিনিটের বেশী হবে না, তবে জেল সুপারের বিবেচনা মোতাবেক এ সময় বাড়ানো যেতে পারে।

বিধি-৬৭৩। যখনই অনুষ্ঠিত হোক না কেন, প্রত্যেক সাজা প্রাপ্ত বন্দী এবং { বিচারাধীন ফৌজদারি | বন্দীকে প্রতিটি সাক্ষাতের পূর্বে এবং পরে সতর্কতার সাথে তল্লাশী করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে জেলার একজন প্রধান কারারক্ষী বা কারারক্ষীকে লিখিত নির্দেশে দায়িত্ব প্রদান করবেন।

বিধি-৬৭৪ । কোন আইনজীবি কোন ফৌজদারি সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর সাথে সাক্ষাত করতে চাইলে ২৪ ঘন্টা পূর্বে তাকে আবেদন করতে হবে এবং সাক্ষাতের কারণ সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে হবে। জেল সুপারের আদেশ অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। যদি সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করা হয়, তবে তা বিচারাধীন বন্দীদের জন্যে প্রযোজ্য নিয়মে হবে।

 

বিধি-৬৭৫। জেলার কোন বন্দীর সাথে সাক্ষাতের জন্যে আগত কোন সাক্ষাত প্রার্থীর নাম এবং ঠিকানা জানতে চাইতে পারবেন, এবং যদি সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ থাকে যে, সাক্ষাত প্রার্থী বন্দীর জন্যে কোন নিষিদ্ধ বস্তু সঙ্গে এনেছেন, তা হলে জেলার ঐ ব্যক্তিকে কারাগারে প্রবেশ বা বন্দীর সাথে দেখা করার পূর্বে তল্লাশী করতে পারবেন; তল্লাশী অন্য কোন বন্দী বা সাক্ষাত প্রার্থীর উপস্থিতিতে হবে না।

যদি সাক্ষাত প্রার্থী মহিলা হয় তা হলে একজন মহিলা দ্বারা তল্লাশী করতে হবে। যদি সাক্ষাত প্রার্থী তল্লাশী প্রদানে রাজী না হন, তা হলে জেলার তাকে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। কোন সাক্ষাত প্রার্থীকে তল্লাশী করা হলে কিংবা কোন বিচারাধীন বন্দীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদানের অস্বীকৃতি জানানো হলে জেলার পরিস্থিতি এবং গৃহীত ব্যবস্থার কারণ রিপোর্ট বইতে লিপিবদ্ধ করবেন এবং পরবর্তী ডিজিটের সময় জেল সুপারকে জানাবেন।

বিধি-৬৭৬। জেল সুপার বা জেলার বা জেল সুপারের নির্দেশিত কোন কর্মকর্তা- কর্মচারীর দ্বারা পরীক্ষা ও স্বাক্ষর করা ব্যতীত কোন সাজা প্রাপ্ত বন্দীর উদ্দেশ্যে প্রেরিত পত্র বিলি করা হবে না, কিন্তু পত্র বিলিতে কোন অনাবশ্যক বিলম্ব গ্রহণযোগ্য হবে না। জেল সুপার অপিরিচিত ভাষায় লিখিত কোন পত্র বিলির পূর্বে অনুবাদ করার ব্যবস্থা করবেন। সাংকেতিক লেখা পত্র অনুমোদিত হবে। না। জেল সুপার আপত্তিকর লেখা কিংবা ঘষা মাজা করা পত্র আটক করতে পারবেন। পত্র প্রাপক বন্দীর নিকট কোন নগদ অর্থ না থাকলে অস্ট্যাম্পকৃত বা অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্পযুক্ত পত্রের ডাকমাশুল জেল সুপার “বন্দীদের সম্পত্তি” খাত হতে প্রদান করতে পারবেন।

 

বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র
বন্দীদের সাক্ষাত ও চিঠিপত্র

 

বিধি-৬৭৭। কোন বন্দীর উদ্দেশ্যে প্রেরিত পত্র বিধিগত কারণে ঐ বন্দী কর্তৃক গ্রহণের উপযুক্ত না হলে জেল সুপার তা নিজের কাছে রেখে দিবেন। আপত্তিকর না হলে বন্দী পত্র প্রাপ্তির উপযুক্ততা অর্জন করলে বা মুক্তির সময় তার কাছে পত্রটি হস্তান্তর করা হবে।

বিধি-৬৭৮। কোন সাজা প্রাপ্ত বন্দীর নিকট বিলিকৃত কোন পত্র যথাযথ অনুমতি ক্রমে সে নিজের কাছে রাখতে পারবে, যদি জেল সুপার অন্য প্রকার কোন নির্দেশ প্রদান না করেন।

বিধি-৬৭৯। যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দী চিঠি লিখার অনুমতি প্রাপ্ত তাদেরকে পোস্ট কার্ড ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে দিতে হবে। একজন বন্দী বি.জে ফরম ৪১-এ চিঠি লিখবে এবং ফরমের এক পৃষ্ঠায় লিখতে হবে।

বিধি-৬৮০। এ বিধি সমূহের অধীনে সাক্ষাতের সাধারণ অধিকার আছে এমন কোন বন্দীর সঙ্গে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা অন্য কোন কারণে জেল সুপার কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাতের অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। সাক্ষাত প্রদান না করার কারণ তিনি লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-৬৮১। কোন বন্দী সাক্ষাত বা পত্রালাপের সুযোগের কোন প্রকার অপ- ব্যবহার করলে পরবর্তী কালে তার সাক্ষাতের সুযোগ রহিত করা হবে।

জেল কোড অনুযায়ী নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা

আজকে আমরা নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা সম্পর্কে  আলোচনা করবো।

 

নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা
নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা

 

নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা

(১) এলকোহল বা স্পিরিট জাতীয় যে কোন প্রকারের তরল পদার্থ:

(২) (নস্যি, কক্ষে প্রভৃতি )

(৩) গাঁজা,আফিম বা অন্য কোন ড্রাগ বা বিষাক্ত পদার্থ;

(৪) বিষাক্ত দ্রব্যাদি, আগুন জ্বালানোর দ্রব্যাদি, বা চেহারা বিকৃত করতে পারে এমন দ্রব্যাদি;

(৫) স্বর্ণ বা রুপার বাট, ধাতু, টাকা, মুদ্রা, মূল্যবান সিকিউরিটি, জুয়েলারী বা অলংকার কিংবা যে কোন প্রকারের মূল্যবান বস্তু;

(৬) বই, ছাপানো বস্তু, চিঠিপত্র বা যে কোন প্রকার লেখার দ্রব্য যা জেল সুপার কর্তৃক অনুমোদিত নয়;

(৭) ছোৱা, অস্ত্র, দড়ি, কলকাঠি, বাঁশ, মই লাঠি, পলায়নের কাজের সহায়ক এরূপ অন্য যে কোন প্রকার দ্রব্য: কারাগারের কাজের জন্যে ইস্যুকৃতগুলি ব্যতীত এবং সেগুলো কেবলমাত্র কাজের সময় এবং নির্ধারিত স্থানে অনুমোদিত।

(৮) বন্দীদের ব্যবহারের জন্যে কারা ষ্টোর থেকে সরবরাহ করা হয়নি এমন যে কোন দ্রব্য ।

 

নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা
নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা

 

বিধি-৬৬১। কোন দ্রব্য কারা আইনের ৪২ ধারা এবং ৪৫ ধারার (১২) উপ- ধারার মর্ম অনুযায়ী নিষিদ্ধ বলে গণ্য হবে, যদি তা-

(১) কোন বন্দী সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করে বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যায় বা গ্রহণ, দখলে রাখে বা হস্তান্তর করে, যা-

(ক) তার ব্যবহারের জন্যে কারা ষ্টোর থেকে ইস্যু করা হয়নি বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার নিকট প্রেরিত হয়নি;

(খ) যদি তাকে ব্যবহারের জন্যে দেয়া হয় কিন্তু সে অনুমোদন বহির্ভূত সময় বা স্থানে তা দখলে রাখে বা ব্যবহার করে

(গ) সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করার জন্য বা কারাগার হতে বাহিরে নেয়ার জন্য বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তার দখলে প্রদান করা হয়নি।

 

নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা
নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা

 

(২) কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করেন বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যান বা কোন বন্দীর নিকট সরবরাহ করেন, যা-

(ক) তার ব্যবহারের জন্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যু বা বরাদ করা হয়নি;

(খ) যদি তার ব্যক্তিগত পরিধানের জন্যে কোন পোশাক না হয়।

(গ) সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করার বা কারাগার হতে বাহিরে নেয়ার জন্য বা কোন বন্দীর নিকট সরবরাহের উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তার দখলে প্রদান করা হয়নি;

(৩) কোন পরিদর্শক সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করেন বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যান বা কোন বন্দীর নিকট সরবরাহ করেন, যা-

(ক) কারাগারের ভিতরে অবস্থান কালে তার ব্যবহারের জন্যে প্রয়োজন নয় এবং কারাগারে প্রবেশের সময় ঘোষণা প্রদান করেননি বা সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করার বা কারাগার হতে বাহিরে নেয়ার জন্য বা দখলে রাখার জন্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন প্রদান করা হয়নি।

(খ) অনুমতিতে বা বিনানুমতিতে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করার পর কারাগার হতে বাহির হবার সময় যদি তার সঙ্গে না থাকে;

(গ) কারাগারের ভিতরে অবস্থান কালে তার দখলে আসে এবং অতঃপর তিনি তা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যান।

(৪) যদি অন্য কোন ব্যক্তি সঙ্গে নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করে বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যায় বা কারাগারের ভিতর বা বাহিরে কোন বন্দীর নিকট সরবরাহ করে।

 

বিধি-৬৬২। ধর্ম, বর্ণ, সংস্কার, বিশ্বাস প্রভৃতি বিষয়ে বন্দীদের মধ্যে বিতর্ক নিষিদ্ধ। এ ধরনের কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে জেল সুপার তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিবেন। কাজের নিয়ম পরিবর্তনের অনুমতি দেয়া হবে না, তবে বন্দীদেরকে সুবিধাজনক সময়ে তাদের ধর্মীয় প্রার্থনা করার সুযোগ দেয়া হবে। হিন্দু ব্রাহ্মণদের মধ্যে যারা পৈতা পরিধান করেন তাদের জন্যে হিন্দু প্রধান কারারক্ষী বা কারারক্ষীর নিকট পৈতা রাখা যেতে পারে ।

জেল কোড অনুযায়ী শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

 

শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ
শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

 

শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

বিধি-৬৩৩। ব্যারাক এবং সেল বৎসর ব্যাপী প্রত্যুষে খোলা হবে। ব্যারাক এবং সেল খোলার ২০ মিনিট আগে ঘন্টা বা গং বাজানোর পর ওয়াচম্যানরা বন্দীদেরকে ডেকে উঠাবে এবং তাদের বেডিং গুছিয়ে রাখাবে। তারপর গাছ অনুসারে বন্দীরা ব্যারাকের মাঝখানে সারিবদ্ধ ভাবে বসবে। বন্দীদের কেউ অসুস্থ কিনা এবং মেডিকেল অফিসারের সাথে দেখা করতে চায় কিনা কয়েদী কর্মচারীরা তা নিশ্চিত করবে। নোট- বিধি ১২২৬ অনুসারে মেডিকেল অফিসার শীতের কারণে ওয়ার্ড খোলার সময় নির্ধারণে ক্ষমতাবান।

বিধি ৬৩৪-৬৩৬। সকালের প্রাকৃতিক কার্যাদি ।

বিধি-৬৩৭। সকালের নাস্তা খাওয়ার পর বন্দীদের হাজিরা নেয়া হবে এবং প্রত্যেক গ্যাং তাদের নির্ধারিত কাজের স্থানের উদ্দেশ্যে চলে যাবে।

বিধি-৬৩৮ । বন্দীরা দুই সারিতে চলাচল করবে।

বিধি-৬৩৯। বন্দীরা কাজে যাবার সময় কম্বল ও বেডিং ছাড়া অন্যান্য জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে যাবে।

বিধি-৬৪০। যদি কোন আবদ্ধ ওয়ার্ক শপ থাকে এবং তাতে গেইট থাকে কাজের সময় তা তালাবদ্ধ করে রাখতে হবে।

বিধি-৬৪১। প্রত্যেক ওয়ার্ক শেডে একটি প্রস্রাবখানা রাখতে হবে।

বিধি-৬৪২। মধ্যাহ্নে কর্ম বিরতির ঘন্টা বাজলে কাজ বন্ধ করে বন্দীরা গোসল সারবে, খাবার গ্রহণ করবে। যখন তারা খাবার গ্রহণ করবে তখন কারারক্ষীরা তাদের পিছনে খাবার প্লাটফর্মের চারদিকে দাঁড়ানো থাকবে যাতে কোন বন্দী তার খাবার অন্যকে না দিয়ে দেয় বা কোন খাবার না লুকিয়ে নেয়।

বিধি-৬৪৩। দুপুরের পর যখন আবার কাজ শুরু করার ঘন্টা বাজবে তখন প্রত্যেক গ্যাং তাদের নির্ধারিত কাজের স্থানে চলে যাবে এবং বিকালে কাজ শেষের ঘন্টা না বাজানো পর্যন্ত কাজ করবে। কাজ শেষের ঘন্টা বাজার পর গ্যাং কাজ বন্ধ করবে এবং নিজেদের কাপড় চোপড়সহ নিজ নিজ ওয়ার্ডে বা নির্ধারিত স্থানে ফিরে আসবে ।

সেখানে তাদের গণনা করা হবে এবং গ্যাং বইতে রেকর্ডকৃত সংখ্যার সাথে মিলিয়ে দেখা হবে। এর পর তারা টয়লেট ব্যবহার, হাত মুখ ধোয়া এবং খাবার গ্রহণ প্রভৃতি কাজ সারবে। তারপর ব্যারাক গেইটে হাজির হবে, গণনা এবং লক-আপ না করা পর্যন্ত তারা বসে থাকবে।

বিধি-৬৪৪। কারাগারের বাহিরে কাজে নিয়োজিত বন্দীর গ্যাং-কে ভিতরে নিয়ে আসতে হবে। কারাগারের বাহিরে গোসল করা এবং খাবার গ্রহণ নিষেধ।

বিধি-৬৪৫। বন্দীদের রাত্রিকালীন ব্যবহারের জন্যে প্রত্যেক ওয়ার্ডে নাইট- লেট্রিনের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ
শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

 

বিধি-৬৪৬। জেল সুপার সপ্তাহে একবার সকাল বেলায় সকল বন্দীদের প্যারেড অনুষ্ঠান করবেন। সেখানে তিনি তাদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা শুনবেন। প্যারেডে প্রত্যেক শ্রেনীর বন্দী পৃথক পৃথক ভাবে লাইনে দাঁড়াবে ।

বিধি-৬৪৭। জেল সুপার বা জেলারের কাছে কোন বক্তব্য প্রদানের উদ্দেশ্যে কোন বন্দী নিজের কাজ ছেড়ে আসবে না। জেলার দিনে কমপক্ষে একবার প্রত্যেক বন্দীকে ভিজিট করবেন এবং তাদেরকে আবেদন বা নালিশ জানানোর সুযোগ দিবেন।

বিধি-৬৪৮। বন্দীরা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ পালন করবে। তারা কয়েদী কর্মচারীদের নির্দেশও পালন করবে, যদি না তারা কারা বিধানের পরিপন্থী কোন নির্দেশ প্রদান করে।

বিধি-৬৪৯। কারাগারের ভিতর সব সময় কঠোর নীরবতা বজায় রাখতে হবে, কেবল মাত্র কাজের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কোন আলোচনার ক্ষেত্রে ছাড়া। রাতের বেলা ওয়ার্ডে যে কোন প্রকার কথা বলা, গান গাওয়া বা ঝগড়া করা একেবারে নিষিদ্ধ।

বিধি-৬৫০। কারাগারের শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করা এবং করলে তার পরিণতি সম্পর্কে বন্দীদেরকে সতর্ক করে দিতে হবে।

বিধি-৬৫১। জেল সুপারের প্যারেড পরিদর্শনের পূর্ব দিন বন্দীরা তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ পরিষ্কার ভাবে ধৌত করবে। হাসপাতালের কাপড় ও বেডিং ধৌত করার জন্যে একজন কয়েদী ধোপা নিয়োগ করা যেতে পারে। কম্বল, কোর্তা এবং বেডিং ১১৭৩ বিধি মোতাবেক ধৌত করতে হবে।

বিধি-৬৫২। (১) এক মাসের বেশী মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সকল তৃতীয় শ্রেণীর বন্দী মাথার চুল ছোট করে ছাঁটাই করে রাখবে, গোঁফ, হাত ও পায়ের নখ কেটে ছোট রাখতে হবে এবং প্রতি ১৫ দিনে একবার তা করতে হবে। প্রত্যেক কয়েদী কর্মচারী এবং বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী স্বাস্থ্যের জন্যে যেরূপ উপযুক্ত সেরূপ পরিমাণ চুল দাঁড়ি ছোট রাখবে। তবে-

(ক) জেল সুপার এ সুবিধা থেকে যে কাউকে বাদ দিতে পারেন;

(খ) শিখ, লুসাই, বুটিয়া, চাইনিজ এবং মগ-দের চুল এভাবে ছোট করতে হবে না, তারা চিরুণী ব্যবহার করবে;

(গ) হিন্দুরা শিখি বা শিখা রাখতে পারবে;

(ঘ) মুসলমানরা যে রকম খুশী সে রকম লম্বা দাড়ি রাখতে পারবে, তাদেরকে প্রয়োজনে চিরুণী ব্যবহার করতে হবে;

(ঙ) মহিলাদের চুল কাটতে হবে না।

(চ) কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির ৩০ দিন বাকী থাকা অবস্থায় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চুল কাটা যাবে না।

(ছ) জীবাণুর আক্রমণ, নোংরা বা রোগের কারণে মেডিকেল অফিসার প্রয়োজন মনে করলে যে কোন বন্দীর চুল কাটা বা কামানোর ব্যবস্থা করবেন, এ জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের লিখিত আদেশ প্রয়োজন হবে এবং বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে তা লিখতে হবে।

(২) বিচারাধীন বন্দীদেরকে তাদের চুল একবারে ছোট করে ছাঁটতে দেয়া হবে না বা তাদের বাহ্যিক চেহারার এমন কোন পরিবর্তন করতে দেয়া হবে না, যাতে তাদেরকে সনাক্ত করতে অসুবিধা হয়। এটা প্রতিরোধ করার জন্যে কাঁচি বা এ ধরনের কোন যন্ত্র তাদের ওয়ার্ডে রাখতে দেয়া হবে না।

এক মাসের বেশী সময় কারাগারে আছে এমন বিচারাধীন বন্দীদের চুল তারা কারাগারে আগমনের সময় যে রকম লম্বা ছিল সে রকম করে কাটতে হবে। জীবাণুর আক্রমণ, নোংরা বা রোগের কারণে মেডিকেল অফিসার প্রয়োজন মনে করলে যে কোন বিচারাধীন বন্দীর চুল কাটার ব্যবস্থা করতে পারবেন, তবে তা প্রয়োজনের চেয়ে ছোট হবে না।

(৩) বন্দীদের ব্যবহারের জন্যে প্রত্যেক কেন্দ্রীয় এবং জেলা কারাগারে একটি চুল কাটার দোকান স্থাপন করতে হবে।। এ দোকানের ব্যবহার কেবলমাত্র কয়েদী কর্মচারী, বিচারাধীন বন্দী এবং সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। জেল সুপারের অনুমতিক্রমে এর ব্যবহার অন্যান্য অস্ত্র আচরণকারী বন্দীদের জন্যেও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। সেলুনে ব্যবহৃত রেজর, কাঁচি প্রভৃতি প্রত্যেক রাত্রে এবং দুপুরের বিশ্রামের সময় জেলার তার হেফাজতে রাখবেন।}

নং ১২১৩.এইচ জে তারিখ ১৬-৫-১৯৩৯ মুলে সংযোজিত। বিধি-৬৫৩। পূর্ববর্তী বিধি সমূহে বর্ণিত দৈনিক রুটিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এবং কারাগারে পালিত গেজেটেড ছুটির দিনেও অনুসরণ করা হবে, তবে সে সকল দিনে মেনিয়াল ও কারাগার চত্ত্বর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ প্রয়োজনীয় কাজে নিয়োজিত বন্দীগণ ব্যতীত অন্যান্য বন্দীদের কাজ করতে হবে না।

তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদের গ্যাংকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল ১০ টা পর্যন্ত কারাগার আঙিনায় ব্যয়াম করার জন্যে অনুমতি দেয়া হবে এবং বিকালের প্যারেডের জন্যে আরও একঘন্টা অনুমতি দেয়া হবে। এর মাঝের সময় তারা তাদের ওয়ার্ডে থাকবে। কোন ইহুদি বন্দীকে শনিবারে কাজ করতে হবে না।

 

শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ
শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

 

বিধি-৬৫৪। (১) শিক্ষিত এবং ভদ্র আচরণকারী তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদেরকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বা বিশ্রামের সময়ে কারাগরের লাইব্রেরী হতে কিংবা জেল সুপার উপযুক্ত মনে করলে তার অনুমতিক্রমে বাহির হতে একটি বা দুইটি বই পড়ার জন্যে অনুমতি দেয়া যেতে পারে।

(২) জেল সুপার তার ক্ষমতা বলে বিশেষ বিবেচনায় ভদ্র আচরণকারী তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদেরকে বিভিন্ন প্রকার বই কারাগার লাইব্রেরী হতে প্রদান করতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে, কোন বন্দীকে এক সঙ্গে ৫টির বেশী বই দেয়া যাবে না। জেল সুপার তাদেরকে নিজেদের খরচে সময়ে সময়ে অনুমোদিত ম্যাগাজিন, সাময়িকী, বই এবং খবরের কাগজ কেনার অনুমতিও প্রদান করতে পারেন, সে সব জেল সুপার কর্তৃক প্রয়োজনীয় সেন্সর করে তাদের কাছে দেয়া হবে। নিরাপত্তা বন্দী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে সরকারী খরচে প্রদত্ত খবরের কাগজ তাদের প্রয়োজন শেষে তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদেরকে পড়তে দেয়া যেতে পারে।

নং- ২৫৯৬ এইচ জে, তারিখ ১৫-১২-১৯৫১ মূলে প্রতিস্থাপিত ।

(৩) একজন বন্দীকে ইস্যুকৃত বই অন্য বন্দীর নিকট হস্তান্তর করা যাবে না, যদি করা হয় বরাদ্দ প্রাপকের এ সুবিধা রহিত করা হবে এবেং সে সঙ্গে শাস্তি পেতে হবে।

(৪) আচরণকারী তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদেরকে তাদের নিজ খরচে একটি এক্সারসাইজ খাতা রাখার অনুমতি দেয়া যেতে পারে। কোন পেন্সিল অনুমতি দেয়া হবে না, তবে কলম এবং কালি কারা কর্তৃপক্ষ প্রদান করবেন। এক্সারসাইজ খাতাটি সাধারণ স্কুল এক্সারসাইজ খাতা হবে, তবে তার প্রতিটি পাতায় পৃষ্ঠা নম্বর দেয়া থাকবে এবং কোন পাতা খুলে ফেলা হয়েছে কিনা মাঝে মাঝে তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ সব কাগজে পত্র লিখার অনুমতি দেয়া হবে না।

 

(৫){কারা মহাপরিদর্শকের লিখিত পূর্ব অনুমতিক্রমে ভদ্র আচরণকারী সাজাপ্রাপ্ত বন্দী এবং বিচারাধীন বন্দীদেরকে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেই এমন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় বা সরকার অনুমোদিত অন্যান্য পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবার অনুমতি দেয়া যেতে পারে; শর্ত থাকে যে, বই কেনা বা পরীক্ষা বা অন্য কোন ফি বাবদ এ উপলক্ষ্যে সরকারের অতিরিক্ত কোন খরচ হবে না। পরীক্ষা কারাগারের অভ্যন্তরে অনুষ্ঠিত হবে ।

নং- ২৭৭ এইচ জে, তারিখ ১১-২-১৯৪৬ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-৬৫৫ । কারারক্ষীর সঙ্গে বা সঙ্গবিহীন সকল অবস্থায় বন্দীদেরকে বাজারে যেতে দেয়া নিষিদ্ধ।

বিধি-৬৫৬। যতজন বন্দী সাজা খাটার কথা রয়েছে ততজন ঐ দিন উপস্থিত আছে কিনা তা নিশ্চিত হবার জন্যে প্রত্যেক মাসের শেষ দিনে কারাগারের সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর সংখ্যা গণনা করতে হবে।

বিধি-৬৫৭। এই কোডে অনুমোদিত না হলে-

(১) কোন ব্যক্তি কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য সঙ্গে নিয়ে কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করবে না বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যাবে না, বা প্রবেশ বা বাহির করার চেষ্টা করবে না, বা কোন বন্দীর নিকট কারাগারের সীমানার বাহিরে সরবরাহ করবে না বা সরবরাহের চেষ্টা করবে না;

(২) কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য সঙ্গে নিয়ে কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করবে না বা কারাগার হতে বাহিরে নিয়ে যাবে না, বা প্রবেশ বা বাহির করার চেষ্টা করবে না, বা কোন বন্দীর নিকট কারাগারের সীমানার বাহিরে সরবরাহ করবে না বা সরবরাহের চেষ্টা করবে না;

(৩) কোন ব্যক্তি কোন বন্দীর সাথে পত্র যোগাযোগ করবে না বা যোগাযোগের চেষ্টা করবে না।
কোন ব্যক্তি এ বিধিতে বর্ণিত কোন অপরাধ করলে বা অপরাধের সহায়তা করলে, ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অনধিক দুইশত ঢাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।

 

শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ
শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন কাজ

 

 

বিধি-৬৫৮। যখন কোন ব্যক্তি কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত অবস্থায় ৬৫৭ বিধিতে বর্ণিত কোন অপরাধ করে, এবং অনুরূপ কর্মকর্তা- কর্মচারীর দাবী অনুযায়ী নাম-ঠিকানা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়, অথবা অনুরূপ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট কোন নাম-ঠিকানা প্রদান করে, যা ঐ কর্মকর্তা- কর্মচারী মিথ্যা বলে জানে বা বিশ্বাস করার কারণ থাকে, অনুরূপ কর্মকর্তা- কর্মচারী তাকে গ্রেফতার করতে পারবেন, এবং অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়াই তাকে একজন পুলিশ কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করবেন, এবং অতঃপর অনুরূপ পুলিশ কর্মকর্তা এমন ভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করবেন যেন অপরাধটি তার উপস্থিতিতে সংঘটিত হয়েছে ।

বিধি-৬৫৯। কারা আইন, ১৮৯৪ এর ৪২ ধারা মোতাবেক কারাগারে নিষিদ্ধ কাজের তালিকা এবং শাস্তি উল্লেখ করে জেল সুপার কারাগারের বাহিরে সহজ দৃষ্টি গোচর স্থানে ইংরেজী এবং বাংলা ভাষায় লিখিত একটি নোটিশ বোর্ড টানিয়ে রাখার ব্যবস্থা করবেন ।

বিধি-৬৬০। কারা আইন, ১৮৯৪ এর ৬০ (এফ) ধারা অনুসারে নিম্নোক্ত দ্রব্যাদি উক্ত আইনের ৪২ এবং ৪৫ (১২) ধারার অর্থ অনুসারে কারাগারে প্রবেশ নিষিদ্ধ দ্রব্যাদি বলে গণ্য হবে, যদি না এ ধরনের কোন দ্রব্য-

(ক) কর্তপক্ষের অনুমোদন মোতাবেক কোন কারাগারে প্রবেশ করানো হয় বা কারাগার হতে বাহির করা হয়,

(খ) জেল সুপার বা তার পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে কোন বন্দী সেগুলো গ্রহণ করে, দখলে রাখে বা হস্তান্তর করে।

জেল কোড অনুযায়ী কারাবন্দীর শ্রেণী

আজকে আমরা কারাবন্দীর শ্রেণী  প্রসঙ্গে আলোচনা করবো।

 

কারাবন্দীর শ্রেণী
কারাবন্দীর শ্রেণী

 

কারাবন্দীর শ্রেণী । জেল কোড

বিধি-৬১৬। প্রত্যেক কারাগারে নিম্নোক্ত ৬ প্রকারের বন্দী থাকবে, প্রত্যেক প্রকারের বন্দীকে অন্য প্রকার হতে আলাদা ভাবে রাখতে হবে-

(১) সিভিল বন্দী

(২) বিচারাধীন বন্দী

(৩) মহিলা বন্দী

(৪) ২১ বছরের নিম্ন বয়সের পুরুষ বন্দী

(৫) পুরুষ বন্দী যারা বয়ঃসন্ধিতে উপনীত হয়নি

(৬) অন্যান্য সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দী।

বিচারাধীন বন্দী, মহিলা বন্দী এবং কিশোর বন্দীদের বিষয়ে যথাক্রমে সপ্তবিংশ, ঊনত্রিংশ এবং ত্রিংশ অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

 

কারাবন্দীর শ্রেণী
কারাবন্দীর শ্রেণী

 

বিধি-৬১৭। সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ডিভিশন I, II ও III- এই তিনটি ডিভিশনে বিভক্ত হবো-

(১) নাগরিকত্ব নির্বিশেষে নিম্নোক্ত বন্দীগণ ডিভিশন-] প্রাপ্তির যোগ্য হবেন-

(ক) যারা ভাল চরিত্রের অধিকারী ও অনভ্যাসগত অপরাধী;

(খ) সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং অভ্যাসের কারণে যাদের জীবন যাপনের ধরন উচ্চমানের ; এবং

(গ) যারা নিম্নোক্ত অপরাধে সাজা প্রাপ্ত নয়-

(এ) নৃশংসতা,নৈতিক স্খলন এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসামূলক অপরাধ;

(বি) মারাত্মক বা পূর্বপরিকল্পিত হিংস্রতা;

(সি) সম্পত্তি সংক্রান্ত মারাত্মক অপরাধ;

(ডি) অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে বা অপরাধ সংঘটনের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যে বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে রাখা;

(ই) উপরোক্ত অপরাধ সংঘটনের জন্য প্ররোচিত বা উত্তেজিত করা।

(২) নাগরিকত্ব নির্বিশেষে সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং অভ্যাসের কারণে জীবন যাপনের ধরন উচ্চমানের বন্দীগণ ডিভিশন-II প্রাপ্তির যোগ্য হবেন। অভ্যাসগত বন্দীগণ স্বয়ংক্রিয় ভাবে এই শ্রেণীর বহির্ভূত হবে না; সরকারের অনুমোদন বা পুনর্বিবেচনার শর্তে শ্রেণী বিভাজনকারী কর্তৃপক্ষকে বন্দীর চরিত্র এবং প্রাক- পরিচিতির ভিত্তিতে এ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্তির জন্যে সুপারিশ করার ক্ষমতা দেয়া হবে।

(৩) যে সকল বন্দী ডিভিশন I এবং ডিভিশন II এর অন্তর্ভুক্ত নয় তারা ডিভিশন- III এর আওতাভুক্ত হবে।

(৪) {হাই কোর্ট বিভাগ, দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ, স্পেশাল জজ, সহকারী দায়রা জজ, জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেট কোন বন্দীকে ডিভিশন- | বা ডিভিশন- II প্রদানের জন্যে প্রাথমিক সুপারিশ সরকারের অনুমোদন কিংবা পুনর্বিবেচনার জন্যে (সহকারী দায়রা জজ জেলা জজের মাধ্যমে এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি অনুমোদন প্রদান করবে বা পুনর্বিবেচনা করবে।}

 

কারাবন্দীর শ্রেণী
কারাবন্দীর শ্রেণী

 

(৫) সরকারের নিকট প্রেরিত সুপারিশ অনিষ্পন্ন থাকা অবস্থায়, সুপারিশকৃত যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর পূর্ববর্তী জীবনমান সাধারণের চেয়ে উন্নতর বলে ঘোষিত হয়েছে অথবা বিচারাধীন বন্দীকে ডিভিশন- | বিচারাধীন বন্দীর শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে, যদি তারা ভাল চরিত্রের অনভ্যাসগত অপরাধী হয় এবং অপরাধের ধরন অনুসারে এ শ্রেণীর অযোগ্য না হয় তা হলে তারা ডিভিশন- | সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ডিভিশন- II সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে বিবেচিত হবে।

সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যাদের জীবনমান সাধারণের চেয়ে উন্নতর বলে পূর্বে ঘোষিত হয়নি বা যারা ডিভিশন- II বিচারাধীন হিসেবে শ্রেণীভুক্ত, তারা ডিভিশন III সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে বিবেচিত হবে।

(৬) ডিভিশন- I এবং ডিভিশন- II বন্দীদেরকে যথাসম্ভব বিধি ১০৬৮(৩) অনুযায়ী পৃথক রাখতে হবে।} নোট- ডিভিশন- । এবং ডিভিশন- II বন্দীদের বিষয়ে পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

বিধি-৬১৮ । – নিম্নোক্ত বন্দীদেরকে “অভ্যাসগত অপরাধী” বলে গণ্য করা হবে :-

(১) যে ব্যক্তি দণ্ড বিধির দ্বাদশ,ষোড়শ,সপ্তদশ,বা অষ্টাদশ পরিচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে সাজা ভোগ করেছে কিংবা বর্তমান মামলার অবস্থায় দৃশ্যমান হয় যে সে উক্ত পরিচ্ছেদ সমূহের যে কোনটি বা সব কয়টির অধীনে এক বা একাধিক দণ্ডনীয় অপরাধ করেছে।

(২) যে ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় (ধারা ১০৯ এবং ১১০ সহপঠিত) কারাগারে সোপর্দ বা আটক রাখা হয়েছে।

টীকা- ১। ফৌজদারি কার্যবিধি। ধারা-১২৩- মুচলেকা খেলাপ করার দরুন কারাদণ্ড, ধাতু ১০৯-ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির সদাচরণের মুচলেকা, ধারা-১১০. অভ্যাসগত অপরাধীদের সদাচরণের মুচলেকা।

(৩) উপ-বিধি (১)-এ বর্ণিত অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি, এমনকি পূর্বে দণ্ডিত না হলেও বর্তমান মামলার ঘটনা হতে যদি দেখা যায় যে, সে স্বভাবগতভাবে সংঘবদ্ধ ডাকাত বা চোর দলের সদস্য কিংবা দাস ব্যবসা বা চোরাইমালের এজেন্ট;

(৪) সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য তবে তা সরকারের বিবেচনা সাপেক্ষ

(৫) – (৬) অকার্যকর।

{(৭) এই বিধিতে অভ্যাসগত অপরাধী হিসাবে শ্রেণীভুক্ত বন্দীদেরকে বি শ্রেণীর বন্দী বলা হবে। ব্যাখ্যা- আলোচ্য সংজ্ঞার উদ্দেশ্য সাধনকল্পে “দণ্ড” বলতে ফৌজদারি কার্য বিধি ১১৮ ধারা (১১০ ধারা সহ পঠিত) অনুযায়ী প্রদত্ত আদেশেকেও বুঝাবে।

II. – একজন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অভ্যাসগত অপরাধী হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করার দায়িত্ব সাজা প্রদানকারী আদালতের, যদি আদালত তা না করেন, তবে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট করতে পারেন, বা সাজা প্রদানকারী আদালত বা জেলা ম্যাজিট্রেট কর্তৃক কোন আদেশ প্রদান না করা হলে, সাধারণত দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা বিষয়টি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন এবং তার সিদ্ধান্ত অনিষ্পন্ন থাকাকালে নিজেই শ্রেণীক্ত করবেন। শর্ত থাকে যে, কোন বন্দীকে অভ্যাসগত অপরাধীর শ্রেণীভুক্ত করা হলে সে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করতে পারে।

 

III. কোন সাজা প্রদানকারী আদালত বা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কারণ লিপিবদ্ধ পূর্বক এ মর্মে নির্দেশ দিতে পারবেন যে, কোন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় (১০৯ ও ১১০ ধারাসহ পঠিত) আটক কোন বন্দীকে অভ্যাসগত অপরাধীর শ্রেণীভুক্ত করা যাবে না এবং এরূপ আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।

IV – কোন সাজা প্রদানকারী আদালত বা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট যে ক্ষেত্রে যিনি হন, তাদের নিজেদের দ্বারা ধার্য শ্রেণী বিভাজন সংশোধন করতে পারেন, এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোন সাজা প্রদানকারী আদালত বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের প্রদর শ্রেণী বিভাগও পরিবর্তন করতে পারেন, শর্ত থাকে যে এ ধরনের পরিবর্তন সে সব কারণের উপর ভিত্তি করে করতে হবে, যে সব কারণ ইতোপূর্বে আদালত বা কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপিত হয় নি।

নোট- উপরের II, III এবং IV প্যারায় জেলা ম্যাজিট্রেট বলতে সে জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে বুঝায় যে জেলায় আসামী দণ্ডিত হয়েছে, অপরাধ সংঘটিত করেছে কিংবা আটক আছে ।

V – প্রত্যেক অভ্যাসগত অপরাধীকে সম্ভব হলে এমন বিশেষ কারাগারে আটক রাখতে হবে যেখানে অভ্যাসগত অপরাধী ব্যতীত অন্য কোন বন্দীকে রাখা হবে না। তবে শর্ত থাকে যে, কারা মহাপরিদর্শক কারণ লিপিবদ্ধ করে অভ্যাসগত অপরাধী নয় এমন বন্দীকেও এ ধরনের বিশেষ কারাগারে পাঠাতে পারেন, যদি তার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, বন্দী খুব দুর্ধর্ষ বা অনৈতিক চরিত্রের অধিকারী, সে অন্যান্য বন্দীদের খারাপ ইন্ধন জোগাচ্ছে বা জোগাতে পারে, তাই তাকে অভ্যাসগত অপরাধী নয় এমন বন্দীদের সাথে রাখা উচিত হবে না।

VI. উপবিধি II III এবং IV এ ” জেলা ম্যাজিট্রেট” বলতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটও অন্তর্ভূক্ত বলে গণ্য হবে।
নং- ৫৫৬৬ এইচ জে তারিখ ৩-১০-১৯৪২ মূলে সংযোজিত।

বিধি ৬১৯-৬৩২ । উল্লেখ যোগ্য প্রয়োগ নেই ।

জেল কোড অনুযায়ী আপীল ও পিটিশন

আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে আপীল ও পিটিশন

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

আপীল ও পিটিশন । জেল কোড

নোট- আপীল সম্পর্কে ফৌজদারি কার্য বিধির একত্রিংশ অধ্যায়ের বিধানাবলীর ধর মনোযোগ দিতে হবে।

বিধি-৫৯৯। প্রত্যেক সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ইচ্ছা করলে আপীল করতে পারবে, আদালতে আপীল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছবে বা না পৌঁছবে, তা সত্ত্বেও আপীলকারীকে আপীল করার উদ্দেশ্যে সকল যুক্তি সঙ্গত সুযোগ দেয়া হবে এবং তার অনুরোধ অনুসারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি আপন আবেদন এমন বিলম্বে পেশ করা হয় যে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে পেশ করা সম্ভব নয়, সে ক্ষেত্রে বিলম্বে আপীল পেশের কারণ সম্পর্কে আপীলকারী বন্দীর বক্তব্যসহ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার মতামত। বিবৃ করে (যদি থাকে) আপীল আবেদনটি প্রেরণ করবেন।

টীকা-। যে সব ক্ষেত্রে আপীল চলে না-

(১) আসামীর দোষ স্বীকারের উপর ভিত্তি করে দায়রা জজ, মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট ব প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত সাজার বিরুদ্ধে (ধারা ৪১২, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(২) দায়রা জজ প্রদত্ত অনুর্ধ্ব এক মাস কারাদণ্ড; দায়রা জজ, মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট ব প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক অনুর্ধ্ব পঞ্চাশ টাকা জরিমানা (ধারা-৪১৩, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(৩) সামারী ট্রায়ালে ম্যাজিট্রেট কর্তৃক অনুর্ধ্ব দুইশত টাকা জরিমানা করা হলে (ধারা-৪১৪,ফৌজদারি কার্যবিধি)।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০০। দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হতে আপীল দায়েরের সময় সীমা :-

  • মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল – ৭দিন (ধারা-১৫০,তামাদি আইন)
  • মৃত্যুদণ্ড ভিন্ন আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল – ৬০দিন (ধারা-১৫৫, তামাদি আইন)
  • অন্য কোন আদালতে আপীল -৩০দিন (ধারা-১৫৪,তামাদি আইন)

টীকা-১। তামাদি প্রশ্নে কারাগারে অন্তরীণ ব্যক্তি যে দিন জেল কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল আবেদন দাখিল করবেন সেদিন আপীল আদালতের কাছে দায়ের হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। (৯ মাস ২৫৮)।

টীকা-২। যে আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে যে আদালতে আপীল করতে হবে (ধারা ৪০৭- ৪১০, ফৌজদারি কার্যবিধি)-

আদেশ প্রদানকারী আদালত আপীল আদালত
দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট
সহকারী দায়রা জজ, মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট দায়রা জজ
সহকারী জজ কর্তৃক প্রদত্ত ৫ বৎসরের অধিক কারাদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ
ম্যাজিট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত রাষ্ট্রদ্রোহিতার সাজা হাইকোর্ট বিভাগ
দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত দায়রা জজ হাইকোর্ট বিভাগ

 

টীকা-৩। আপীল সাপেক্ষে আদালত দণ্ড স্থগিত এবং আপীলকারীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন (ধারা ৪২৬, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-৪। সি আর মামলায় ফরিয়াদি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকার খালাসের বিরুদ্ধে কিংবা অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারেন (ধারা ৪১৭,৪৭১-ক, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-৫। খালাসের বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে আদালত আসামীকে পুনরায় গ্রেফতারের আদেশ দিতে পারবেন (ধারা-৪২৭, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৬০১। প্রত্যেক সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার আপীল প্রস্তুতির জন্যে আগত আত্মীয়-স্বজন এবং আইনজীবির সঙ্গে সাক্ষাতের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে; এ ধরনের সাক্ষাত দায়িত্ব প্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর দৃষ্টিসীমার মধ্যে, কিন্তু শ্রুতির অগোচরে হতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার পক্ষে কাজ করার জন্যে কাউকে ক্ষমতা অর্পণ করে আম-মোক্তার নামায় স্বাক্ষর প্রদানের অনুমতি দেয়া যাবে; আম-মোক্তার নামা ষ্ট্যাম্প আইন অনুসারে যথাযথ ষ্ট্যাম্পে প্রদান করতে হবে এবং আম-মোক্তার নামায় বন্দীর স্বাক্ষর জেলার বা ডেপুটি জেলার কর্তৃক অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০২। জেল সুপারের লিখিত পূর্ব অনুমতি ব্যতীত কোন বন্দী বা কাৱা কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্য কোন বন্দীর পক্ষে আপীল বা আবেদন লিখতে বা প্রস্তুত করতে বা পেশ করতে পারবেন না।

বিধি-৬০৩। (১) যদি কোন বন্দী জানায় যে সে আপীল করতে আগ্রহী কিন্তু আপীল প্রস্তুতির কাজে সহায়তা করার জন্যে তার পক্ষে আগ্রহী কোন আত্মীয়,বন্ধু বা এজেন্ট নেই, সে ক্ষেত্রে জেল সুপার ২৭ নম্বর জেল ফরমে আদালতের কাছে রায়ের বা আদেশের একটি কপি চেয়ে আবেদন প্রেরণ করবেন।

(২) রায়ের বা আদেশের কপি পাবার পর, বন্দী যদি লিখতে পারে তবে তারে তার আপীল লিখার অনুমতি দেয়া হবে। যদি বন্দী নিজে লিখতে অক্ষম হয় তা হলে জেল সুপার অন্য একজন বন্দী বা একজন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দিয়ে তা লিখার ব্যবস্থা করবেন।

(৩) যদি ৭ দিনের মধ্যে রায়ের কপি না আসে তা হলে জেল সুপার একটি তাগিদ প্রদান করবেন এবং অতিরিক্ত বিলম্ব ঘটলে বিষয়টি কার মহাপরিদর্শককে জানাবেন।

(৪) যে বন্দী বা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী আপীলকারী বন্দীর পক্ষে আপীল লিখবেন, তিনি আপীল কারীর নির্দেশ মোতাবেক লিখবেন, কি লিখা উচিত এ ধরনের কোন পরামর্শ প্রদান করবেন না ।

(৫) জেল সুপার কোন প্রকার বিলম্ব না করে রায় বা আদেশের কপিসহ প্রস্তুতকৃত আপীলটি আপীল আদালতে প্রেরণ করবেন।

(৬) যদি কোন রায় বা আদেশের কপি পাবার পর তা বন্দীর কোন আত্মীয়- স্বজন,বন্ধু বা আইনজীবি তার পক্ষে আপীল প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করতে চায় তা হলে বন্দীর সম্মতিতে তা হস্তান্তর করা যাবে।

(৭) যদি একাধিক বন্দীকে একই মামলায় সাজা প্রদান করা হয়, একই সঙ্গে একই আদালতে তাদের পেশকৃত আপীলের সঙ্গে রায়ের একটি কপি সংযুক্ত করলেই চলবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, কোন একজনের জন্য আপীলে । প্রদত্ত আদেশ একই সঙ্গে আপীলকারী একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অন্যদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।

টীকা- যখন একই বিচারে একাধিক ব্যক্তি দণ্ডিত হয় এবং তাদের মধ্যে যে কোন একজনের বিরুদ্ধে আপীল যোগ্য রায় বা আদেশ দেওয়া হয়, তখন এইরূপ বিচারে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সকলের বা যে কোন একজনের আপীল করার অধিকার থাকবে (ধারা ৪১৫-ক. ফৌজদারি কার্যবিধি)।

(৮) কোন বন্দীকে রায়ের কপি পাবার আগে অন্য কারাগারে বদলি করা হলে, রায়ের কপি যখন পাওয়া যাবে তখন যে কারাগারে সে আটক আছে সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট তাড়াতাড়ি তা প্রেরণ করতে হবে।

(৯) কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত সামরিক বন্দীর আপীল আবেদন দণ্ডাদেশের কপিসহ কমাণ্ড হেড কোয়ার্টার্সে প্রেরণের উদ্দেশ্যে যে জেলায় কারাগার অবস্থিত সে জেলার জিওসি’র নিকট পাঠাতে হবে।

টীকা- আপীলকারী কারাগারে থাকলে সে রায় প্রভৃতির নকলসহ তার আপীলের আবেদনপত্র কারাগারের ভারপ্রাপ্ত অফিসারের নিকট দাখিল করতে পারবে এবং অতঃপর উক্ত অফিসার উক্ত আবেদনপত্র ও নকল যথাযথ আপীল আদালতের নিকট প্রেরণ করবে (ধারা-৪২০. ফৌজদারি কার্যবিধি)।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০৪। সকল আপীল এম ৯৭ বি বা সি নম্বর হাইকোর্ট ক্রিমিনাল ফরমে পিটিশন আকারে লিখিত ভাবে প্রস্তুত করতে হবে এবং আপীলকারী কারাগারে অন্তরীণ থাকলে কারাগার হতে তার প্রেরিত আপীল স্ট্যাম্প ফি মুক্ত হবে। সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে যে আপীলকারী কর্তৃক যথাযথভাবে আপীলটি স্বাক্ষরিত হয়েছে কিনা।

আপীলকারীর স্বাক্ষর জেলার কিংবা ডেপুটি জেলার কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে। সকল আপীল আবেদন জেল সুপার কর্তৃক প্রেরিত হবে। হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরের জন্যে আপীল এম ১০৪ নম্বর হাইকোর্ট ফরমে প্রেরণ করতে হবে। কারাগারে অন্তরীণ একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সকল বন্দী একরে কিংবা পৃথক পৃথক ভাবে আপীল বা রিভিশন দায়ের করতে পারবে।

বিধি-৬০৫ । যখন কোন বন্দী হাইকোর্টে আপীল করে, তখন জেল সুপার উক্ত আপীলের বিষয়ে দায়রা আদালতকে (এম) ১০৫ নম্বর হাইকোর্ট ফরমে অবহিত করবেন।

বিধি-৬০৬। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর আপীল করার ইচ্ছা বা অনিচ্ছা সম্পর্কে তার হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে ।

বিধি-৬০৭। ডিভিশন I এবং ডিভিশন II প্রাপ্ত বন্দীকে বিধি ১০৬৮ অনুযায়ী বদলির ক্ষেত্র ব্যতীত এবং সাক্ষ্য প্রদান ও অন্য মামলার অভিযোগের কারণে স্থানান্তরের প্রয়োজন ব্যতীত এবং বিধি ৮৪৩ অনুযায়ী এ বিধি অকার্যকর হবার ক্ষেত্র সমূহ ব্যতীত কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার আপীল দায়েরের সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা আপীল দায়ের হয়ে থাকলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সে যে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে, সেখান থেকে অন্য কারাগারে সাধারণত স্থানান্তর করা যাবে না।

কোন বন্দীকে কারাদণ্ডের অতিরিক্ত বেত্রদণ্ড প্রদান করা হলে আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেত্রদণ্ড কার্যকর করা যাবে না এবং বেত্রদণ্ড অনিষ্পন্ন অবস্থায় কোন বন্দীকে অন্য কারাগারে বদলি করা যাবে না।

কোন বন্দীকে বদলি করার পূর্বে সে আপীল করতে ইচ্ছুক কিনা জেল সুপার তা জিজ্ঞাসা করবেন। যদি বন্দী জানায় যে, কারাগারের বাহির থেকে তার জন্যে আপীল করা হবে তবে আপীল দায়েরের সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বদলি করা যাবে না।

নোট- যদি কোন কারণে কোন বন্দীকে আপীলের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বদলি করা প্রয়োজন হয়, তবে একই দণ্ডাদেশে একাধিক বন্দী থাকলে তাদের দল ছুট করা যাবে না। যদি তা করা হয়, তবে তারা যে যে কারাগারে থাকবে সেখান থেকে পৃথকভাবে আপীল করতে হবে।

বিধি-৬০৮ । কারা কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতে আপীল প্রস্তুতকারী কোন বন্দী আপীল দায়েরের সময় সীমার মধ্যে অন্য কারাগারে বদলি হয়ে গেলে, তার বদলি সম্পর্কে দণ্ডাদেশ প্রদানকারী সর্বশেষ আদালতকে জানাতে হবে। যখন কোন বদলিকৃত বন্দীর মুক্তি, বা সংশোধিত ওয়ারেন্ট বা তার আপীলের বিষয়ে আপীল আদালতের কোন পত্র জেল সুপার কর্তৃক গৃহীত হয়, তা তাড়াতাড়ি ডাক যোগে বদলিকৃত কারাগারে প্রেরণ করতে হবে।

 

আপীল ও পিটিশন
আপীল ও পিটিশন

 

বিধি-৬০৯। যদি আপীল দায়েরের পর পনর দিনের মধ্যে বা হাইকোর্ট বিভাগ হতে এক মাসের মধ্যে জেল সুপারকে কোন ফলাফল জানানো না হয়, জেল সুপার ১৫ নম্বর জেল ফরমে দায়রা আদালত বা জেলা ম্যাজিট্রেটের নিকট একটি তাগিদ পত্র প্রেরণ করে আপীলের ফলাফল জানানোর জন্যে অনুরোধ করবেন এবং পরবর্তীতে যুক্তি সংগত বিরতিতে পুনরায় পত্র দিবেন। যখন আপীলের ফলাফল জানা যাবে তা বন্দীকে জানাতে হবে এবং হিস্ট্রি টিকেটে লিখিত হবে। নোট- এই বিধিতে বর্ণিত কার্যক্রম বন্দীকে বদলি করা হলে বদলিকৃত কারাগার হতেও গ্রহণ করতে হবে।

বিধি-৬১০। (১) সাজা বাতিলের প্রত্যেক ক্ষেত্রে আপীল আদালত নির্ধারিত ফরমে ওয়ারেন্ট আপীলকারী বন্দী যে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে সে কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করবেন। আদালত একই সময়ে মূল ওয়ারেন্ট রিকল এবং বাতিল করবেন। উক্ত ওয়ারেন্ট এবং বন্দীকে মুক্তি প্রদানের নির্দেশ সম্বলিত আপীল আদালতের ওয়ারেন্ট কার্যকরী করার পর জেল সুপার দত্ত প্রদানকারী আদালতে রেকর্ডের জন্যে প্রেরণ করবেন।

(২) যখন আপীলে দণ্ডাদেশ পরিবর্তন হয়, আপীল আদালত পরিবর্তিত আদেশ সম্বলিত একটি নুতন ওয়ারেন্ট আপীলকারী বন্দী যে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট প্রেরণ করবেন এবং মূল ওয়ারেন্ট রিকল এবং বাতিল করবেন। অনুরূপ ওয়ারেন্ট দণ্ডাদেশ প্রদানকারী আদালতে রেকর্ডের জন্য প্রেরণ করতে হবে।

যখন ওয়ারেন্ট কার্যকরী করার পর আপীল আদালতে প্রেরণ করা হবে, আপীল আদালত তা দত্ত প্রদানকারী আদালতে রেকর্ডের জন্যে প্রেরণ করবেন। তবে যখন কোন আপীলকারী বন্দীকে আপীল অনিম্পন্ন অবস্থায় জামিনে মুক্তি প্রদান করা হয়, সে আদালতে আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত আপীল আদালত জেল সুপারের নিকট নুতন ওয়ারেন্ট প্রেরণ করবেন না ।

(৩) যখন আপীল আদালত সাজা বহাল রাখেন তখন কারা কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত ফরমে জানাতে হবে। উপরের বিধি মোতাবেক আপীল আদালত আপীলকারী বন্দীকে ফলাফল জানানোর জন্যে জেল সুপারকে নোটিশ প্রদান করবেন।

(৪) এই বিধি কোন আদালতের প্রদত্ত দত্ত হ্রাসকরণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। সে ক্ষেত্রে সরকারের আদেশের কপি বন্দীর ওয়ারেন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

বিধি-৬১১ । যখন কোন আপীল আদালত কোন বন্দীর দণ্ড বাতিল ঘোষণা করে পুন:বিচারের আদেশ প্রদান করেন, বন্দীকে জামিনে মুক্তি প্রদানের কোন ওয়ারেন্ট পাওয়া না গেলে ( এবং সে অন্য কোন দণ্ডাদেশ মূলে সাজারত না থাকলে), তাকে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে পুন:আটক রাখা হবে। জেল সুপার বন্দীকে আটকাদেশ প্রদানের ওয়ারেন্ট জারীর জন্য আদেশদানকারী আদালতকে অনুরোধ জানাবেন। ওয়ারেন্ট পাবার পর তা সে আদালতে প্রদর্শন করতে হবে, যে আদালতে বন্দীর পুনর্বিচার হবে।

বিধি-৬১২। ((এ) একজন বন্দী আদালতে আপীল করতে পারে। যদি বন্দী উচ্চতর আদালতে রিভিশন দায়েরের জন্য অগ্রসর হয়, তবে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম তার নিকটজন বা এজেন্ট দ্বারা করতে হবে, কারা কর্তৃপক্ষ এ ব্যপারে কিছু করবে না ।

(বি) (১) একজন বন্দী আপীলের জন্যে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়েরেরও অধিকারী। যে রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা হবে সে রায়ের তারিখ হতে ত্রিশ দিনের মধ্যে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়ের করতে হবে।

(২) একজন বন্দী আপীলের জন্যে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়েরের উদ্দেশ্যে তার আবেদন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট পেশ করতে পারেন, যিনি তা সুপ্রীম কোর্টের রেজিষ্টারের নিকট প্রেরণ করবেন।

(৩) আপীলের জন্যে স্পেশাল লিভ পিটিশনের সঙ্গে দাখিল করতে হবে-

(ক) আপীলের যৌক্তিকতা,

(খ) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সার্টিফাইড কপি,

(গ) যে ক্ষেত্রে দায়রা আদালত আবেদনকারীকে খালাস প্রদাহ করেছিল এবং পরবর্তীতে সরকারের আপীলের কারণে হাইকোর্ট বিভাগ তাকে দণ্ড প্রদান করেছে, সে ক্ষেত্রে দায়রা আদালতের রায়ের সার্টিফাইড কপি,

(ঘ) যদি আবেদন করতে বিলম্ব হয়, বিলম্বের কারণ এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা পূর্বক বিলম্ব প্রমার্জনের আবেদন।।

নং- ৬৩০ এইচ জে তারিখ ২১-৪-১৯৫৪ মূলে প্রতিস্থাপিত।

 

বিধি-৬১৩। (১) যদি কোন বন্দীর আপীল হাইকোর্ট বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক খারিজ হয়ে যায়, বা যাকে হাইকোর্ট বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার সাজা প্রদান করেছেন, তিনি হাইকোর্ট বিভাগ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার প্রদর আদেশের তিন মাসের মধ্যে সাজা মার্জনা বা হ্রাসের জন্যে | রাষ্ট্রপতির} নিকট পিটিশন দায়ের করতে পারেন।

(২) উপ-বিধি (১) মোতাবেক দায়ের করা না হলে পিটিশন আটক করা হবে, যদি না কোন বিশেষ কারণ উদ্ভব হয় ।

(৩) বন্দীর পারিবারিক দুর্দশা বা শারীরিক বা সদাচারের কারণ সম্বলিত পিটিশন সাধারণত আটক করা হবে।

(৪) উপ-বিধি(৩) এর আওতায় আটককৃত কোন পিটিশন অগ্রগামী করা যেতে পারে, যদি কোন সরকারী পরিদর্শক তা প্রেরণের জন্যে পরামর্শ প্রদান করেন।

নোট-১। এই কোডের ৯৯১ বিধিতে বর্ণিত শর্তাধীনে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীকে ক্ষমার পিটিশন দায়ের করার জন্যে অনুমতি দেয়া হবে ।

নোট-২। কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীর স্বাস্থ্যগত খারাপ অবস্থা বা ভাল আচরণের কারণে সাজা হ্রাসের সুপারিশ করতে পারবেন, কিন্তু তা রাষ্ট্রপতির নিকট বন্দীর ক্ষমা প্রার্থনার ভিত্তি হবে না।

বিধি-৬১৪। অর্ধ মার্কিন ফুলস্কেপ কাগজে এবং বন্দীর মাতৃভাষায় লিখতে হবে। বন্দীর স্বাক্ষর বা টিপসহি একজন কারা কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত পিটিশন হবে । পিটিশন জেল সুপার কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত হবে। জেল সুপার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর পিটিশন সরাসরি সরকারের {স্বরাষ্ট্র সচিবের নিকট এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। যদি বন্দী পিটিশনে তার শারীরিক খারাপ অবস্থার কথা উল্লেখ করে তবে তার সাথে মেডিকেল অফিসারের একটি বক্তব্য পেশ করতে হবে।

যদি বন্দীর পক্ষে কোন পিটিশন প্রস্তুতের পর জেল সুপারের নিকট বন্দীর স্বাক্ষর গ্রহণের জন্যে পেশ করা হয়, বন্দীর স্বাক্ষর গ্রহণ করার পর পিটিশন প্রস্তুতকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণের নিকট তা আর ফেরত দেয়া যাবে না। জেল সুপার পিটিশন যথাযথভাবে সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব বা কারা মহাপরিদর্শকের নিকট, যে ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য হয়, প্রেরণ করবেন।

বিধি-৬১৫। যদি কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, বা পূর্বতন অফিস কর্তৃপক্ষ বা নিয়োগকর্তার নিকট জরুরী পারিবারিক বিষয়াদি, দেওয়ানী মামলা, বিষয়-সম্পত্তি প্রভৃতি বিষয়ে পিটিশন করতে চায়, তা হলে জেল সুপার যথাযথ বিবেচনাপূর্বক তা প্রতিস্বাক্ষরান্তে প্রাপকের নিকট প্রেরণ করে দিবেন, শর্ত থাকে যে, এ ধরনের কোন আবেদন সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগ কিংবা সরকারের নিকট প্রেরণ করা যাবে না ।

সাজাপ্রাপ্ত {বিদেশী নাগরিকদেরকে } কোন জরুরী বিষয়ে তাদের সরকারের রাষ্টদূতের নিকট জেল সুপারের বিবেচনা মতে আবেদন করার অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে; কিন্তু অনুরূপ আবেদন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে বা { মেট্রাপলিটান শহরের কারাগারের ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে প্রেরিত হবে।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

আজকে আমরা  বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড সম্পর্কে আলোচনা করবো

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড । জেল কোড

{বিধি ৫৯৮-ক । (১)দণ্ডের যথেষ্ট পরিমাণ মেয়াদ অতিবাহিত করার পর সমাজে নিরাপদে মুক্তি প্রদান করা যায়, অন্যদিকে একই সঙ্গে কারা প্রশাসনের অর্থ সাশ্রয় করা যায়, এমন কতিপয় শ্রেণীর কিছু সংখ্যক সাজাপ্রাপ্ত সংশোধিত বন্দীকে মুক্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে অনুসন্ধান এবং সরকারের কাছে প্রতিবেদন পেশ করার জন্যে প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি উপদেষ্টা বোর্ড নিয়োগ করা হবে। এ উদ্দেশ্যে কারা মহাপরিদর্শকের ধার্য তারিখ মোতাবেক বোর্ড প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বছরে কমপক্ষে দুইবার বসবে।

(২) { বোর্ডের গঠন নিম্নরূপ হবে-

  • চেয়ারম্যান -. কারা মহাপরিদর্শক ।
  • ভাইস চেয়ারম্যান – সংশ্লিষ্ট জেলা জজ / অতিরিক্ত জেলা জজ (জেলা জজ সদর দপ্তরে উপস্থিত না থাকলে)
  • সদস্য – সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক / অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (জেলা প্রশাসক সদর দপ্তরে উপস্থিত না থাকলে)।
  • সদস্য – কারা পরিদর্শকগণ হতে চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত দু’জন বেসরকারী সদস্য।
  • সদস্য-সচিব – কেন্দ্রীয় কারাগার সংশ্লিষ্ট কারা উপ-মহা পরিদর্শক।}

নং ৪৪-এইচ.জে (১) তারিখ ২৪-১-১৯৭০ মূলে প্রতিস্থাপিত।

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড
বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

 

বিধি ৫৯৮-খ ৷ (১) তিন বৎসর বা ততোধিক সময়ের জন্যে সাজাপ্রাপ্ত অনভ্যাস গত কোন বন্দী রেয়াতসহ দুই বৎসর বা দণ্ডের অর্ধেক, যা বেশী হয়, ভোগ করার পর এবং কোন অভ্যাসগত সাজাপ্রাপ্ত বন্দী রেয়াতসহ আড়াই বৎসর কিংবা দণ্ডের দুই-তৃতীয়াংশ, যা বেশী হয়, ভোগ করার পর তার অকালীন মুক্তির বিষয় বোর্ডের নিকট পেশ করতে হবে।

(২) মুক্তির সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের জন্যে বিশেষ রেয়াতসহ অর্জিত মোট রেয়াত গণনা করতে হবে, তবে তা দণ্ডের এক তৃতীয়াংশের বেশী কিংবা অতিবাহিত সময়ের বেশী হবে না।

(৩) ধর্ষণ, জালিয়াতি, ডাকাতি এবং সন্ত্রাসমূলক অপরাধে দণ্ডিত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের বিষয় বোর্ডের নিকট উপস্থাপিত হবে না। দণ্ড বিধির ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭১, 472,473, ৪৭৪, ৩৯৬, ৩৯৭,৩৯৮, ৩৯৯, ৪০০, ৪০১ এবং ৪০২ এবং ৪৮৯-এ, ৪৮৯-বি, ৪৮৯-সি এবং ৪৮৯-ডি ধারায় দণ্ডিত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীরা বোর্ডের বিবেচনার যোগ্য হবে না।

(৪) সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র, ভবঘুরে বা গুণ্ডা শ্রেণীর সদস্য এমন অভ্যাসগত অপরাধী, তিনটির বেশী সাজা পেয়েছে এমন অভ্যাসগত অপরাধী এবং ৬১৮ বিধির আওতায় অভ্যাসগত অপরাধীদেরকে বোর্ডের বিবেচনার আওতা বহির্ভূর্ত রাখা হবে।

বিধি ৫৯৮-গ ৷ বোর্ড দণ্ডবিধির ১৪৭ ৩৬৩ ৩৬৪ ৩৬৫ ৩৬৬ ৩৬৭ ৩৬৮, 1 ৩৬৯ (অপহরণ এবং হরণ), ৩৭৭ (অস্বাভাবিক অপরাধ) এবং ৪১২ ধারা এবং মুদ্রা জাল করার দায়ে দণ্ডিত অভ্যাসগত এবং অনাভ্যাসগত উভয় প্রকার সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর বিষয়ও বিবেচনা করবে। তা ছাড়া বোর্ড নারী সংক্রান্ত অন্যান্য অপরাধে দণ্ডিত অভ্যাসগত বন্দীদের বিষয়ও বিবেচনা করবে, তবে শর্ত থাকে যে, সে সকল অপরাধ এমন যেখানে পাশবিকতা ছিল না, দণ্ডিত ও (ভিকটিম) মহিলা পরস্পর সম্মতিতে ছিল।

বিধি ৫৯৮ ঘ ৷ অকার্যকর।

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড
বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

 

বিধি ৫৯৮-ঙ। কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত দীর্ঘ মেয়াদী বন্দীদের বিষয়েও বোর্ড পর্যালোচনা করবে, এ ক্ষেত্রেও বোর্ড সাধারণ আদালতে দণ্ডিতদের প্রযোজ্য পদ্ধতি অনুসরণ করবে।

বিধি ৫৯৮-চ। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বহির্ভূত রাজনৈতিক কারণে সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের বিষয়ও বোর্ড বিবেচনা করবে, তবে এরূপ বিবেচনার পূর্বে বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের জন্যে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি ৫৯৮-ছ। বোর্ড বৈঠক চলাকালে দণ্ডের নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হয়নি কিন্তু পরবর্তী বোর্ড বৈঠকের আগে পূর্ণ হবে, এমন যোগ্য সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে মুক্তির জন্যে বোর্ড সুপারিশ করতে পারবে।

বিধি ৫৯৮-জ। (১) যে সকল বন্দী কুষ্ঠ, যক্ষা প্রভৃতি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত তাদের বিষয়েও বোর্ড বিবেচনা করবে।

নোট-(ক) যদি কুষ্ঠ রোগ অন্যদের জন্য বিপদজনক হতে পারে মর্মে মেডিকেল অফিসার প্রতিবেদন প্রদান করেন এবং যদি বন্দী এই শর্তে রাজী থাকে যে, তাকে মুক্তি প্রদান করা হলে তার আত্মীয় স্বজনরা যদি তাকে গ্রহণ না করে তা হলে সে কুষ্ঠ নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হবে তবে তাকে মুক্তি প্রদানের বিষয় বিবেচনা করা হবে। অন্যথায় তাকে এরূপ শর্তে মুক্তি দেয়া হবে, মেডিকেল অফিসার তার প্রতিবেদনে যেরূপ উল্লেখ করেন।

নোট-(খ) অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধি আক্রান্ত বন্দীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।

 

বিধি ৫৯৮-ঝ। (১) বোর্ড কেবলমাত্র অপরাধের ধরন বিবেচনা করবে না, সে সঙ্গে বন্দীর চরিত্র এবং পূর্ব ইতিহাস, কারাগারে তার আচরণ এবং ইতিমেধ্যে অতিবাহিত কারা ভোগের ফলাফল এবং তাকে মুক্তি প্রদান সমাজের জন্যে নিরাপদ হবে কিনা প্রভৃতি বিবেচনা করবে। কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত বন্দীর পূর্ব পরিচিতি যাচাই সাধারণত আবশ্যক হবে না: কারাগারে তার আচরণ বিবেচনা করাই যথেষ্ট হবে।

(২) সদস্য-সচিব বোর্ডের বৈঠকে নিম্নোক্ত তথ্যাদি পেশ করবেন-

(ক) দণ্ড প্রদানকারী আদালতের রায়;

(খ) বন্দী যে জেলার বাসিন্দা সে জেলার অফিসার হতে প্রাপ্ত বন্দীর পূর্ব ইতিহাস এবং চরিত্র; এবং

(গ) বন্দীর কারাগারের রেকর্ড।

সদস্য-সচিব জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা পুলিশ সুপারের মতামতও গ্রহণ করতে পারেন, তবে তা ঐচ্ছিক হবে। জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার বোর্ডের নিকট বন্দীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং মুক্তির যোগ্যতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি উপস্থাপন করবেন।

নোট, কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত বন্দীদের বিষয়ে বোর্ডের সদস্য-সচিব বন্দীর প্রাক-পরিচিতি, চরিত্র, অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণী এডজুট্যান্ট জেনারেল থেকে সরাসরি সংগ্রহ করতে পারবেন।

বিধি ৫৯৮-ঞ। আওতা ভূক্ত জেলা কারাগারের জেল সুপারগণ কেন্দ্রীয় কারাগারের { সিনিয়র) জেল সুপারের নিকট এ বিধি সমূহে বর্ণিত উপায়ে তাদের কারাগারে আটক মুক্তির যোগ্য সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর বিষয় প্রেরণ করবেন।

বিধি ৫৯৮-ট। বোর্ডের সদস্য-সচিব বোর্ডের বৈঠকের কার্যবিবরণী রেকর্ড করবেন এবং ১২৩ নম্বর জেল ফরমে অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে সুপারিশকৃত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের বর্ণনা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজ পত্রসহ সরকারের আদেশের জন্যে পেশ করার উদ্দেশ্যে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দী মুক্তি

আজকে আমরা  বন্দী মুক্তি সম্পর্কে আলোচনা করবো

 

বন্দী মুক্তি
বন্দী মুক্তি

 

বন্দী মুক্তি । জেল কোড

নোট- মুক্তির তারিখ গণনার জন্যে একাদশ অধ্যায়ের বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। বিধি-৫৬৬। পরবর্তী মাসে যে সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির তারিখ রয়েছে, পূর্ববর্তী মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে ওয়ারেন্ট পরীক্ষা করে তার সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।

বিধি-৫৬৭। পরবর্তী পক্ষ সমূহে মুক্তি পেতে পারে এমন পুলিশ নিবন্ধিত বন্দীদের স্লিপ (পি. আর, স্লিপ) প্রত্যেক মাসের ১ম এবং ৩য় রবিবারে দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার নিকট অর্পণ করতে হবে।

বিধি-৫৬৮। ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৬৫ ধারার বিধানমতে আদেশাধীন সাজা প্রাপ্ত বন্দী মুক্তির পর কোথায় বসবাস করবে মুক্তির পূর্বে জেলার তার রিলিজ ডাইরীতে সে ঠিকানা লিপিবদ্ধ করবেন। উক্ত ঠিকানা রিলিজ নোটিশেও লিখতে হবে এবং এর তিন কপি ঠিকানায় বর্ণিত জেলার পুলিশ সুপারের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

টীকা– কোন ব্যক্তি দণ্ডবিধির ২১৫,৪৮৯-ক, ৪৮৯-খ, ৪৮৯-গ, ৪৮৯-ঘ ধারা অথবা দ্বাদশ বা সপ্তদশ অধ্যায় অনুসারে তিন বৎসর বা ততোধিক সময়ের সশ্রম কারাদণ্ডে একবার দণ্ডিত হবার পর যদি একই ধারা সমূহ বা অধ্যায়দ্বয়ের যে কোনটি অনুসারে পুনরায় তিন বৎসর বা ততোধিক সময়ের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত হয়, তা হলে আদালত উপযুক্ত মনে করলে উক্ত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার সময় আরও আদেশ দিতে পারবেন যে, এই দণ্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার তারিখ হতে অনধিক পাঁচ বৎসর পর্যন্ত তার বাসস্থান ও বাসস্থানের পরিবর্তন বা বাসস্থান হতে অনুপস্থিতি সম্পর্কে জানাতে হবে (ধারা eve, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫৬৯। ১। কোন সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী রেয়াতসহ ১৪ বৎসর সাজা অতিবাহিত করার পর তার মুক্তির বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে প্রস্তাব প্রেরণ করতে হবে, প্রস্তাব সম্ভাব্য মুক্তির তারিখের দুই মাসের কম বা তিন মাসের বেশী পূর্বে প্রেরণ করা যাবে না।

নোট-১। সকল প্রকার বিশেষ রেয়াত গণনায় ধরতে হবে।

নোট-২। অকার্যকর।

নোট-৩। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডিত না হলে ১৪ বৎসর সাজা ভোগের পর সরকার মুক্তি প্রদান না করলে বিধি ৭৭১ অনুসরণ করা হবে এবং পূর্ণ মেয়াদ শেষে মুক্তি দেয়া হবে। সরকারের বিশেষ নির্দেশ না থাকলে সে সময় সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হবে না।

 

 

বন্দী মুক্তি
বন্দী মুক্তি

 

বিধি-৫৭০। দণ্ডের মেয়াদ শেষ হবার পর জেলার বন্দীকে ওয়ারেন্টসহ জেল সুপারের নিকট নিয়ে আসবেন এবং জেল সুপারের উপস্থিতিতে তাকে জেল গেইটে মুক্তি দেয়া হবে । বন্দীর চূড়ান্ত মুক্তির সকল কাগজ জেল সুপার কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে। কোন বন্দীকে অন্য কারাগারে বদলি করা হয়ে থাকলে তার মুক্তির আদেশ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে তাকে যে কারাগারে বদলি করা হয়েছে সে কারাগারে রেজিস্টার্ড ডাক যোগে পাঠাতে হবে।

বিধি-৫৭১। কোন বন্দীকে মুক্তি প্রদানের আগে ভর্তি রেজিষ্টারে বর্ণিত তথ্যাদি মিলিয়ে দেখতে হবে। জেল সুপার বা জেলার আরো নিশ্চিত হবেন যে, সঠিক লোককেই হাজির করানো হয়েছে এবং রেয়াতের ব্যতিক্রম ব্যতীত তার দণ্ডাদেশ যথাযথ ভাবে কার্যকর করা হয়েছে। মুক্তি প্রদানের সময় বন্দীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মেডিকেল অফিসার তার হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করবেন।

বিধি-৫৭২। মুক্তির তারিখে বন্দী যে কারাগারে আটক ছিল সাধারণত সে কারাগার হতে মুক্তি পাবে,তবে কারা মহাপরিদর্শক বিশেষ নির্দেশ প্রদান করতে পারেন যে, কোন বন্দীকে মুক্তির পূর্বে তার নিজ জেলার কারাগারে বদলি করতে হবে এবং সেখান থেকে মুক্তি প্রদান করতে হবে।

বিধি-৫৭৩৷ লক আপ সময়ের পর কোন কারণেই কোন বন্দীকে মুক্তি দেয়া যাবে না ৷ কোন আদালত থেকে মুক্তির আদেশ সূর্যাস্তের পরে জারী করা উচিত হবে না এবং যদি করা হয় তাতে উল্লেখ করতে হবে যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরদিন সকালে মুক্তি প্রদান করতে হবে। সাধারণত বন্দীদের সকালের নাস্তা খাবার শেষ হবার পর এবং সূর্যোদয়ের পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি বন্দী মুক্তি প্রদান করতে হবে । বন্দীকে মুক্তি প্রদানের আগে অফিসে হাজির করতে হবে এবং তার কাছ থেকে কারাগারের পোশাক ও জিনিসপত্র বুঝে নিতে হবে।

বিধি-৫৭৪। কোন বন্দীর মুক্তির তারিখ সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলে তাকে পূর্ব দিন মুক্তি দিতে হবে। তবে বিচারে-দেনদারকে দাবী প্রাপকের সম্মতিতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও মুক্তি দেয়া যাবে যদি সে দিন মাসের প্রথম তারিখ হয়।

বিধি-৫৭৫। টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রাপ্ত নির্দেশে কোন বন্দীকে মুক্তি দেয়া যাবে না।

বিধি-৫৭৬। ছয় মাস বা ততোধিক মেয়াদের সাজা প্রাপ্ত প্রত্যেক বন্দীর মুক্তির সময় জেল সুপার ৩১ নম্বর ফরমে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করবেন যে, বন্দী তার সাজার পূর্ণ মেয়াদ ভোগ করেছে। বন্দী কোন রেয়াত অর্জন করে থাকলে সার্টিফিকেটে তা উল্লেখ করতে হবে।

বিধি-৫৭৭। বন্দী যে সকল জিনিস পত্র সঙ্গে নিয়ে এসেছিল মুক্তি প্রদানের সময় সে গুলো এবং তার আনীত কোন জিনিস বিক্রি করা হয়ে থাকলে তার টাকা এবং নগদ জমা টাকা জেল সুপার বা জেলার বন্দীকে ফেরত প্রদান করবেন। জিনিসপত্র ফেরত প্রদানের প্রাপ্তি স্বীকার বন্দী থেকে স্বাক্ষর করে রাখতে হবে।

বিধি-৫৭৮। বন্দী যে পোশাকে কারাগারে এসেছিল সে পোশাক পরিহিত অবস্থায় সাধারণত তাকে মুক্তি দেয়া হবে। সে সব পোশাক ইতোমধ্যে নষ্ট বা নোংরা হয়ে গেলে তার নিজের কেনা পোশাক বা কারাগার থেকে দেয়া সাধারণ কাপড় পরিহিত অবস্থায় মুক্তি দেয়া হবে। মুক্তি প্রদানের আগে বন্দীকে সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশী করতে হবে।

 

বন্দী মুক্তি
বন্দী মুক্তি

 

বিধি-৫৭৯। (১) কোন বন্দীর বাড়ি কারাগার থেকে ৫ মাইলের বেশী দূরে অবস্থিত হলে এবং তার কাছে দুই টাকার বেশী না থাকলে প্রতি পনর মাইল দূরত্বের জন্যে তাকে ২৫ পয়সা হারে ভাতা দেয়া হবে ।

(২) রেল বা ষ্টিমারে যাবার জন্যে মুক্তি প্রাপ্ত বন্দীকে তার বাড়ির ষ্টেশন পর্যন্ত নিম্নতম শ্রেণীর একটি ফ্রি পাস দেয়া হবে।

(৩) নৌকা যোগে পাঠাতে হলে নৌকা ভাড়া করে দিতে হবে।

(৪) ৫ মাইলের কম দূরত্বের জন্যে কোন ভাতা দেয়া যাবে না।

(৫) শারীরিক অক্ষম ব্যক্তিদের জন্যে গাড়ি বা বাস ভাড়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

(৬) প্রয়োগ নেই।

(৭) কোন মহিলা বন্দীকে মুক্তি প্রদানের কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ আগে তার নিজ জেলায় বদলি করতে হবে। যথাসময়ে বন্দীকে জেল গেইট থেকে নেয়ার জন্যে প্রেরণ করতে হবে। তাকে নেয়ার জন্যে কেউ না এলে এবং তার বয়স ২৫ মুক্তির । একমাস আগে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে তার আত্মীয়-স্বজনকে সংবাদ বছরের কম হলে একজন মহিলা কারারক্ষীর জিম্মায় তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে।

{(৮) উপ-বিধি (১) এবং (২) কোন বিচারাধীন বন্দীর জামিনে মুক্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিংবা রেলওয়ে আইনের অধীনে এক মাসের কম মেয়াদে কারাদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।}

(৯) এ বিধি এবং পরবর্তী বিধিতে বর্ণিত ভাতা জেল সুপারের উপস্থিতিতে প্রদান করতে হবে।

বিধি-৫৮০। সকল সাজাপ্রাপ্ত কিশোর বন্দীকে মুক্তির পর পুলিশ পাহারায় তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে। জেল সুপার এ জন্যে একদিন আগে পুলিশ সুপারকে জানাবেন। এদের ভাতা পুলিশের নিকট দিতে হবে।
নোট- এ উদ্দেশ্যে সাজাপ্রাপ্ত কিশোর বন্দী বলতে ১৬ বৎসরের কম বয়সের বন্দীকে বুঝাবে।

বিধি ৫৮১-৫৮২। অকার্যকর।

 

বন্দী মুক্তি
বন্দী মুক্তি

 

বিধি-৫৮৩। কোন বন্দী মারা গেলে বা দণ্ডের মেয়াদ শেষে মুক্তি পেলে বা জামিনে মুক্তি পেলে দণ্ডাদেশের ওয়ারেন্ট দণ্ড প্রদানকারী আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে এবং সে সঙ্গে মৃত্যু বা মুক্তি বা জামিনের কারণ ও তারিখ উল্লেখ করতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী একাধিক আদেশে দত্ত প্রাপ্ত হলে মোট দণ্ড ভোগ করার পর ওয়ারেন্ট ফেরত পাঠাতে হবে। কোন বন্দী পালিয়ে গেলে এবং পুনরায় ধৃত না হলে পলায়নের দশ বছর পর কিংবা দণ্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর, যা শেষে ঘটে, তার দণ্ডাদেশের ওয়ারেন্ট আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে।

টীকা- দণ্ড সম্পূর্ণরুপে কার্যকর হওয়ার পর যে অফিসার তা কার্যকর করেন তিনি যে ভাবে তা কার্যকর করা হয়েছে, সে সম্পর্কে নিজ স্বাক্ষর যুক্ত সার্টিফিকেটসহ ওয়ারেন্টটি যে আদালত প্রদান করেছিলেন সে আদালতে প্রত্যার্পণ করবেন (ধারা-৪০০, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫৮৪। যখন কোন বন্দীকে তার নিজের মুচলেকায় মুক্তি প্রদানের জন্য কোন আদালত হতে ওয়ারেন্ট পাওয়া যায়, তখন জেল সুপার বন্দীর নিকট হতে তার উপস্থিতিতে বন্ডে স্বাক্ষর গ্রহণ পূর্বক বন্দীকে মুক্তি প্রদান করবেন। যদি ওয়ারেন্টে অন্য কোন ব্যক্তির মুচলেকা প্রদানের আদেশ থাকে তবে, ব্যক্তি ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট মুচলেকা প্রদান করেছেন এবং বন্দীকে মুক্তি প্রদান উল্লেখিত করা হউক, এই মর্মে আরেকটি আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত বন্দীকে মুক্তি প্রদান করা যাবে না।

বন্দীকে মুক্তি প্রদানের পর ওয়ারেন্ট এবং মুচলেকা বন্ড, যদি থাকে, ঐ আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে। মুক্তি প্রদানের কারণ, তারিখ এবং যে আদালতের আদেশে মুক্ত প্রদান করা হয়েছে তার নাম উল্লেখ পূর্বক কারাবাসের ওয়ারেন্ট সে আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে, যে আদালত তা জারী করেছিল।

বিধি-৫৮৫। মুক্তির উদ্দেশ্যে অন্য জেলায় প্রেরিত বন্দীর বিষয়ে যথাযথ ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেমন ৫৬৭ বিধি অনুযায়ী পুলিশ নিবন্ধিত বন্দী রেয়াত বিধির অধীনে পূর্ণ রেয়াত প্রাপ্ত হয়েছে কিনা ।

বিধি ৫৮৬-৫৯০। অকার্যকর।

বিধি-৫৯১। (১) কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী সংক্রামক ব্যাধি ব্যতীত অন্য কোন অসুস্থতার কারণে যদি এমন মরণাপন্ন অবস্থায় উপনীত হয় যে, কারাগারের ভিতরে বা বাহিরে তার আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা নেই, তাকে নিজ বাড়িতে স্বস্তিতে মৃত্যুবরণ করার সুযোগ দান করাই শ্রেয়, এবং সে যদি কোন জঘন্য অপরাধ বা সমাজের বিরুদ্ধে উপর্যুপরি অপরাধ সংঘটনের দায়ে ৭ বছরের অধিককাল দণ্ডিত না হয়, তা হলে জেল সুপার এ বিষয়ে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করবেন।

(২) জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন এবং যদি সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর অবশিষ্ট দণ্ডের পরিমাণ ৬ মাসের বেশী না হয়, তা হলে তিনি তাকে অবিলম্বে যুক্তির আদেশ দিতে পারবেন।

(৩) অন্যান্য ক্ষেত্রে তিনি সরকারের কাছে সিদ্ধান্তের জন্যে সুপারিশসহ জরুরী প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন।

(৪) কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে তার আত্মীয়-স্বজন গ্রহণ করতে আগ্রহী না হলে এ পদ্ধতিতে মুক্তি দেয়া যাবে না ।

(৫) এ ধরনের মুক্তি প্রদত্ত বন্দীকে কারা পরিসংখ্যানে মৃত বন্দীর তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করতে হবে ।

 

বন্দী মুক্তি
বন্দী মুক্তি

 

বিধি-৫৯২। (১) যদি কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর শারীরিক অবস্থা এমন মরণাপন্ন হয় যে, কারাগারে থাকলে তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী, কিন্তু যুক্তি প্রদান করা হলে বাঁচার যুক্তিসঙ্গত সম্ভাবনা আছে, তা হলে জেল সুপার যে জেলায় বন্দী অপরাধ করেছিল সে জেলার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রদান করবেন। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নিম্নোক্ত শর্তাধীনে উক্ত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে মুক্তির অনুমতি প্রদান করতে পারেন-

(ক) যখন বন্দীর অনতিবাহিত সাজার পরিমাণ ৬ মাসের বেশী নেই;

(খ) যখন তাকে মুক্তি প্রদান করলে আরোগ্য লাভের যুক্তি সঙ্গত কারণ রয়েছে;

(গ) যখন রোগটি বন্দীর নিজ ইচ্ছায় অর্জিত না হয়।

(২) {মুক্তির পূর্বে বন্দীকে ১০৬এ নম্বর ফরমে ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করতে হবে এবং তাকে জানাতে হবে। যে, তার এ ধরনের মুক্তি প্রদানের বিষয়টি সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত হবে, যদি সরকার অনুমোদন প্রদান না করেন তবে তাকে আবার কারাগারে ফিরে এসে অবশিষ্ট অনতিবাহিত সাজা ভোগ করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে বন্দীর আত্মীয়-স্বজন হতে মুচলেকা রাখতে হবে এবং তাদের পরিচয় ও ঠিকানা রেকর্ড করতে হবে। কোন অবস্থাতেই সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে মুক্তি দিয়ে ধাতব্য খানায় বা হাসপাতালে প্রেরণ করা যাবে না।

(৩) যদি জেলা ম্যাজিট্রেট জেল সুপারের সুপারিশের সঙ্গে একমত পোষণ না করেন, জেল সুপার বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারের নিকট উপস্থাপনের জন্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অনুরোধ করতে পারেন। বিভাগীয় কমিশনার এ বিধিতে উল্লেখিত শর্তাধীনে বন্দীকে মুক্তি দিতে পারেন অথবা বিষয়টি সরকারের বিবেচনার জন্যে প্রেরণ করতে পারেন।

নোট– কুষ্ঠ,যক্ষা প্রভৃতি সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে গণ্য হবে।

নং- ২১৮২ এইচ জে, তারিখ ২২-১০-১৯৪৫ মূলে সংশোধিত মার

বিধি-৫৯৩। শান্তি রক্ষা কিংবা সদাচারের মুচলেকা খেলাপের জন্য সাজা ভোগরত কোন বন্দীর অসুস্থতার জন্যে মরণাপন্ন অবস্থা দেখা দিলে তার অবশিষ্ট সাজার মেয়াদ যাহাই হোক না কেন, জেল সুপার বিষয়টি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাবেন। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৪ ধারায় প্রদত্ত স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতায় সরকারের অনুমতি ছাড়াই উক্ত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে মুক্তি প্রদান করতে পারেন।

টীকা– জেলা ম্যাজিট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিট্রেট যখন মনে করেন যে, মুচলেকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় যে ব্যক্তিকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে, তাকে মুক্তি দেয়া হলে সমাজের বা কোন লোকের কোন বিপদ ঘটবে না, তখন তিনি তাকে অব্যাহতি দেয়ার আদেশ দিতে পারবেন। ( ধারা ১২৪(১), ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫৯৪। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যদি সম্পূর্ণ ও আরোগ্যের অতীত অস্ব হয়ে যায়, যা তার স্বেচ্ছায় আরোপিত নয়, কিংবা এমন জরাজীর্ণ কিংবা বৈকল্য হয়ে যায় যে মুক্তি প্রদান করা হলে তার দ্বারা পুনরায় কোন অপরাধ সংঘটন করা সম্ভব হবে না এবং মুক্তি প্রদান করা হলে কোন ঝামেলা বা বিপদের উদ্ভব ঘটবে না, তা হলে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের নিকট উক্ত বন্দীর ব্যাপারে ১০৫ নম্বর জেল ফরমে প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। কারা মহাপরিদর্শক সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য এ বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন, তবে প্রতিবেদন প্রণয়নের পূর্বে যে জেলায় বন্দী দণ্ডিত হয়েছিল সে জেলার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মতামত গ্রহণ করতে হবে।

নোট-১। সংক্রামক বা ছোঁয়াছে রোগে আক্রান্ত বন্দীর দণ্ডের মেয়াদ শেষে মুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে বিধি ১০২ অনুসরণীয়।

নোট-২। সংক্রামক বা ছোঁয়াছে রোগে আক্রান্ত বন্দীর ব্যপারে বিধি ১২৬৫, এবং গুরুতর অসুস্থ বা মরণাপন্ন সিভিল এবং বিচারাধীন বন্দীর ক্ষেত্রে বিধি ৮৯৫ এবং ৯৩১ অনুসরনীয়। নোট-৩। যে ক্ষেত্রে এ বিধিসমূহ পর্যাপ্ত নয় সে ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি ৪০১ ধারা অনুসারে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

 

বিধি-৫৯৫। বিধি ৫৯১, ৫৯২ এবং ৫৯৪ মোতাবেক মুক্তি প্রদানের প্রতিটি বিষয় সঙ্গে সঙ্গে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ১০৫ বা ১০৬ নম্বর জেল ফরমে প্রেরণ করতে হবে, তিনি এসব মুক্তি প্রদানের বিষয়ে সরকারের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করবেন।

বিধি-৫৯৬। কোন অসুস্থ বা মরণাপন্ন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে ৫৯১, ৫৯২ এবং ৫৯৪ বিধি মোতাবেক মুক্তির নির্দেশ প্রদানের পর তার আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব যদি সাজাপ্রাপ্ত বন্দী যে কারাগারে আটক আছে সেখান থেকে তাকে নেয়ার খরচ বহনের অপরাগতা প্রকাশ করে, তা হলে ঐ সকল আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব যে জেলায় বসবাস করে জেলার কারাগারে প্রেরণ করা যাবে। স্থানান্তরের পর এবং মুক্তি প্রদানের আগেই যদি বন্দী মৃত্যুবরণ করে তবে যে কারাগার হতে তাকে প্রেরণ করা হয়েছিল ঐ কারাগারের পরিসংখ্যানে মৃত্যু রেকর্ডভুক্ত হবে।

বিধি-৫৯৭। {(i) জেল সুপার যদি মনে করেন যে, কোন বন্দীর চিকিৎসা কিংবা অপারেশন প্রয়োজন, কিন্তু যে কারাগারে সে আছে তাতে তজ্জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ সুবিধাদি নেই, তা হলে যে কারাগারে এরূপ হাসপাতাল আছে সেখানে বন্দীকে প্রেরণের ব্যবস্থা করবেন।

(ii) যদি তা সম্ভব না হয় তবে জেল সুপার বন্দীকে গ্রহরা দিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করবেন এবং বন্দী কারাগারে ফেরত না আসা পর্যন্ত কারারক্ষী দিয়ে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করতে হবে।বাহিরের হাসপাতালে পাঠানোর পূর্বে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। তবে জরুরী ক্ষেত্রে অনুমোদন নেয়া সম্ভব না হলে কারা মহাপরিদর্শককে অবহিত রেখে বন্দীকে কারাগারে প্রেরণ করার পর পরই জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে অনুমোদনের জন্যে লিখতে হবে।

(iii) জেল সুপার কারাগারের বাহিরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বন্দীদের প্রহরার জন্যে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ভয়ংকর এবং উগ্র বন্দীর ক্ষেত্রে কারারক্ষীকে পুলিশের মাধ্যমে সহায়তা দেয়ার জন্যে তিনি পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করবেন ।

(iv) হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার বন্দীর চিকিৎসার জন্যে এবং তারে হাসপাতালে রাখা বা হাসপাতাল হতে অব্যাহতি প্রদানের জন্যে দায়ী হবেন। হাসপাতালের নিয়ম কানুন বিষয়ে বন্দীর নিয়ন্ত্রণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত হবে। অন্যান্য বিষয়াদি (যেমন-পত্র যোগাযোগ, সাক্ষাত এবং অন্যান্য সুবিধাদি) কারাগার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে। এতদুদ্দেশ্যে জেল সুপার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করবেন এবং মাঝে মাঝে কারা কর্মকর্তাগণ বন্দীকে ভিজিট করবেন।

নোট-১। উপ-বিধি (১) এবং (২) বিচারাধীন বন্দীর ক্ষেত্রে তখন প্রযোজ্য হবে যখন তার জামিন না মঞ্জুর হবে।

নোট-২। হাসপাতালে স্থানান্তরিত বন্দীর হাসপাতালে অবস্থান কাল ৭৫৬ বিধি মোতাবেক রেয়াত গণনার জন্য যোগ্য হবে।।
নং ৩৪৭ এইচ জে তারিখ ১৯-২-১৯৪০ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-৫৯৮। ডিটেন্যু বা রাজনৈতিক কারণে সাজাপ্রাপ্ত অন্যান্য বন্দীদেরকে সিভিল হাসপাতালে প্রেরণের পূর্বে তাদের নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে জেল সুপার পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেলকে প্রয়োজনীয় বিশেষ পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করার জন্যে অনুরোধ জানাবেন ।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের নির্জন কারাবাস

আজকে আমরা  বন্দীদের নির্জন কারাবাস  সম্পর্কে আলোচনা করবো

 

বন্দীদের নির্জন কারাবাস

 

বন্দীদের নির্জন কারাবাস । জেল কোড

নোট-১। নির্জন কারাবাস অর্থ কোন বন্দীকে এমন ভাবে সেলে আটক রাখা যাতে সে অন্য বন্দীদের সাথে যোগাযোগ করতে না পারে বা তাদেরকে দেখতে না পায়।

নোট-২। মহিলাদের নির্জন কারাবাস সম্পর্কে ৯৫৪ বিধি অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৫৫৯ । (১) নির্জন কারাবাসের মেয়াদ –

(ক) একমাসের অধিক হবে না, যদি মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ ৬ মাসের অধিক না হয়;

(খ) দুই মাসের অধিক হবে না, যদি মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ ৬ মাসের অধিক কিন্তু এক বছরের অধিক না হয়;

(গ) তিন মাসের অধিক হবে না, যদি মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বছরের বেশী হয়।

টীকা- দণ্ড বিধির ৭৩ ধারা অনুযায়ী ।

(২) আদেশে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ যদি মাস হিসেবে বর্ণিত হয়, তবে এক মাসকে ৪ সপ্তাহ, দুই মাসকে ৮ সপ্তাহ এবং তিন মাসকে ১২ সপ্তাহ গণনা করা হবে।

নোট-এক মাসের কারাদণ্ডে সর্বাধিক ১৪ দিন, ৭ মাসের কারাদণ্ডে সর্বাধিক ৭ সপ্তাহ এবং ৮ থেকে ১২ মাসের কারাদণ্ডে সর্বাধিক ৮ সপ্তাহ নির্জন কারাবাসের মেয়াদ হবে।

 

বন্দীদের নির্জন কারাবাস
বন্দীদের নির্জন কারাবাস

 

বিধি-৫৬০। একটানা ১৪ দিনের বেশী নির্জন কারাবাসে রাখা যাবে না। নির্জন কারাবাসের পূর্বে ও পরে বিরতি থাকবে। কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন মাসের অধিক হলে নির্জন কারাবাস কোন এক মাসে ৭ দিনের বেশী হবে না এবং দুইটি মেয়াদের মধ্যে অনুরূপ সময়ের বিরতি থাকবে।

টীকা- দত্ত বিধির ৭৪ ধারা অনুযায়ী ।

বিধি-৫৬১। নির্জন কারাবাসের আদেশ দণ্ড বিধির ৭৩ ও ৭৪ ধারার সাথে অসঙ্গতি পূর্ণ হলে ৫০১ বিধি মোতাবেক কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে ।

বিধি-৫৬২। (১) বন্দী দৈহিক ও মানসিকভাবে সক্ষম আছে এ মর্মে মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে নির্জন কারাবাসে প্রবেশ করানো যাবে না।

(২) প্রয়োগ বিরল।

(৩) কোন বন্দী নির্জন কারাবাসের জন্যে সাময়িক অক্ষম হলে পরবর্তী নির্ধারিত তারিখে তাকে নির্জন কারাবাসে আটক রাখা যেতে পারে।

(৪) আপীলের কারণে নির্জন কারাবাস স্থগিত করার প্রয়োজন নেই ।

(৫) নির্জন কারাবাসে থাকা প্রত্যেক বন্দীকে মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব অর্ডিনেট দৈনিক ভিজিট করবেন।

(৬) বন্দী নির্জন কারাবাসের জন্যে অক্ষম মর্মে মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করলে তা কারা মহাপরিদর্শক এবং দণ্ড প্রদানকারী আদালতকে জানাতে হবে।

(৭) বন্দী নির্জন কারাবাসের জন্যে স্থায়ীভাবে অক্ষম মর্মে মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করলে তা দণ্ড প্রদানকারী আদালতকে জানাতে হবে এবং নির্জন কারাবাসের আদেশ কার্যকরী করা যাবে না ।

বিধি-৫৬৩। কোন বন্দীকে একাধিক পৃথক ওয়ারেন্টে নির্জন কারাবাসের আদেশ প্রদান করা হলে সাজা ভোগ কালে যে কোন একটি ওয়ারেন্টের আদেশ কার্যকরী করা হবে।

বিধি-৫৬৪ । নির্জন কারা-বাসের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর জেল সুপার ওয়ারেন্টে সাজা কার্যকরী করার সার্টিফিকেট প্রদান করবেন, নির্জন কারাবাসে রাখার মোট সপ্তাহ উল্লেখ করবেন এবং সাজার কোন অংশ যদি কার্যকরী করা না হয় তবে তার কারণ ব্যাখ্যা করবেন ।

বিধি-৫৬৫ । কোন বন্দী যে মেয়াদ নির্জন কারাভোগ করেছে, অনুরূপ মেয়াদের সম পরিমান বিরতির মধ্যে তাকে কারা অপরাধের জন্যে পৃথক কারাবাস বা সেলে আটক রাখার শাস্তি প্রয়োগ করা যাবে না।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট

আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট

 

 

বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট
বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট

 

বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট । জেল কোড

বিধি-৫৪৯। প্রত্যেক বন্দীকে কারাগারে গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তার একটি হিস্ট্রি টিকেট সংরক্ষণ করা হবে (ফরম নম্বর ২০, ২১ বা ২২), যার মধ্যে তার সমগ্র কারা জীবনের সকল ঘটনা এবং তার সম্পর্কে প্রদত্ত সকল আদেশ ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড করা হবে।

বিধি-৫৫০। জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার যে সকল আদেশ লিপিবদ্ধ করবেন সে গুলো ব্যতীত বন্দীর হিস্ট্রি টিকেট সংরক্ষণের জন্যে জেলার বা জেল সুপার কর্তৃক দায়িত্ব প্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।

বিধি-৫৫১। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিস্ট্রি টিকেটে কোন কিছু লিখতে পারবে না। তবে ব্রাইটার হিসাবে যে সকল বন্দী দায়িত্ব পালন করবে, তারা বিভিন্ন আদেশ হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করতে পারবে এবং এর সঠিকতা সম্পর্কে তারা দায়ী থাকবে। কোন ঘটনার বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে বা যথাসম্ভব দ্রুত হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

বিধি-৫৫২। জেল সুপার কোন বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিখবেন-

(ক) বন্দীর পরিচালনা সম্পর্কে কোন বিশেষ আদেশ,

(খ) কোন বন্দীকে প্রদত্ত শাস্তি (আনুষ্ঠানিক সতর্কতাসহ),

(গ) বাহির প্রাচীরের কোন কাজ পাশ করা,

(ঘ) কয়েদী ওয়াচম্যান,ওভারশিয়ার বা নৈশ প্রহরীর পদোন্নতি সংক্রান্ত, () বিশেষ রেয়াত প্রদান।

 

 

বিধি-৫৫৩। মেডিকেল অফিসার বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে ভর্তির সময় বন্দীর বয়স, উচ্চতা এবং ওজন, তার শারীরিক অবস্থা এবং সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হলে সে কি ধরনের কাজের জন্যে উপযুক্ত এবং কোন সংক্রামক রোগের টীকা দেয়া আছে কিনা প্রভৃতি লিখবেন বা লিখার ব্যবস্থা করবেন। রোগের উল্লেখসহ হাসপাতালে ভর্তি এবং হাসপাতাল হতে অব্যাহতি প্রদানের প্রতিটি ঘটনা, বন্দীর পরিচালনা, কাজের ধরন বা ডায়েট প্রভৃতি পরিবর্তন সম্পর্কে নির্দেশাবলীও তিনি লিখবেন ।

যখন হাসপাতাল থেকে বন্দীকে অব্যাহতি দেয়া হবে বা সে আরোগ্য লাভ করবে, ঐ বন্দীকে পূর্বের কাজে নিয়োগ করা যাবে কিনা বা অন্য কোন কাজ দিতে হবে কিনা বা কি কাজে নিয়োজিত করতে হবে মেডিকেল অফিসার তা লিপিবদ্ধ করবেন। তিনি আরো দেখবেন বন্দীর প্রত্যেক পাক্ষিকে ওজন গ্র করা হয় কিনা এবং হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করা হয় কিনা। বন্দী কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত কিনা তিনি তা দেখবেন এবং সে ক্ষেত্রে বন্দীকে পৃথক রাখার জন্যে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করবেন ।

কোন বিনাশ্রম বন্দী স্বেচ্ছায় কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছে সে কি ধরনের কাজের জন্য উপযুক্ত মেডিকেল অফিসার তা লিপিবদ্ধ করবেন। কোন বন্দীকে শাস্তি প্রদান করা হলে প্রদত্ত শাস্তি ভোগের জন্যে সে দৈহিকভাবে সক্ষম কিনা, নির্জন কারাবাস ভোগের জন্য বন্দী সামর্থ্য কিনা, বদলির জন্যে দৈহিক সামর্থ্য আছে কিনা সে সম্পর্কে তিনি সার্টিফিকেট প্রদান করবেন। রোগের চিকিৎসার অংশ হিসাবে কোন মহিলা বন্দী বা অন্য কারো চুল কাটার প্রয়োজন হলে তিনি এতদ সংক্রান্ত আদেশ বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করবেন।

 

বিধি-৫৫৪। মেডিকেল সাব অর্ডিনেট তার প্রতিটি ভিজিটে প্রাপ্ত ফলাফল, অসুস্থতা সংক্রান্ত তথ্য প্রভৃতি হিস্ট্রি টিকেটে লিখবেন। তিনি বন্দীর চিকিৎসার বিষয় লিখবেন, তবে মেডিকেল অফিসার হতে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। তিনি প্রতি পনর দিন অন্তর ডেপুটি জেলার বা কম্পাউন্ডারের সহযোগীতায় বন্দীদের ওজন গ্রহণ করবেন এবং তা হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-৫৫৫। জেলার বা ডেপুটি সুপার প্রত্যেক বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করবেন-

(ক) বন্দীকে যে কাজ দেয়া হয়েছে তার বিবরণ,

(খ) কাজের পরিবর্তন,

(গ) মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব অর্ডিনেটের প্রদত্ত সুপারিশ বাস্তবায়ন বা বাস্তবায়ন না হলে তার কারণ,

(ঘ) বন্দীর চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত,

(ঙ) বন্দী সম্পর্কে কোন বিশেষ সুপারিশ,

(চ) জেল সুপারের রেকর্ডকৃত কোন আদেশের উপর গৃহীত ব্যবস্থা,

(ছ) বি শ্রেণীর বন্দীদেরকে দিনে বা রাতে সেলে আটকের স্থান সম্পর্কে,

(জ)কারা বিধি লংঘনের প্রতিটি ঘটনা সম্পর্কে রেকর্ড,

(ঝ) কোন বন্দীকে জেল সুপারের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত সাময়িক অবরুদ্ধ রাখার জন্যে হ্যান্ডকাপ, বেড়ী পরানো বা সেলে আটক রাখা,

(ঞ) ৪৮৫ এবং ৮২১ বিধি মোতাবেক নিরাপদে আটক রাখার জন্যে বেড়ী আরোপ।

 

বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট

 

বিধি-৫৫৬। ডেপুটি সুপার (কেন্দ্রীয় কারাগারে বা জেলার ডেপুটি জেলার বিধি জল সুপারের আদেশ মোতাবেক বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে নিম্নোক্ত বিষয় সমূহ অন্তর্ভুক্ত করবেন-

(১)কারাগারের ভর্তির তারিখ:

(২)কারাগার হতে বন্দীকে প্রদত্ত পোশাক-পরিচ্ছদ এবং সরঞ্জামের তালিকা:

(৩)বন্দী কর্তৃক অসুস্থতা সম্পর্কে কোন অভিযোগ:

(৪)আপীল করার উদ্দেশ্যে রায়ের কপির জন্যে বন্দীর আবেদন:

(৫) রায়ের কপি প্রাপ্তির স্বীকার:

(৬) আপীল প্রেরণ;

(৭) আপীল আদালতের আদেশের বিষয়বস্তু:

(৮) আপীলের জন্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপীল না করার কারণ:

(৯)আপীল না করার জন্যে বন্দীর অনিচ্ছা:

(১০) মঞ্জুরকৃত রেয়াতের পরিমাণ;

(১১)প্রতি কোয়ার্টার শেষে মোট অর্জিত রেয়াতের পরিমাণ;

(১২) কাজ না করাসহ কোন অপরাধ করলে তার বিবরণী:

(১৩) বন্দীর সাক্ষাৎ অনুমোদন এবং ব্যক্তিগত পত্র প্রেরণ বা গ্রহণ

(১৪) কয়েদী রক্ষী বা নৈশ প্রহরী হিসাবে নিয়োগের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন;

(১৫) আদালতে প্রেরণ, বদলি বা খালাস বা মৃত্যু:

(১৬) নির্ধারিত সময়ের বাহিরে লেট্রিন ব্যবহার;

(১৭) বিধি ৬২৩ বিধি মোতাবেক বিজ্ঞাপিত কোন বন্দীর ক্ষেত্রে “অসনাক্তকৃত” শব্দ লিপিবদ্ধ করণ;

(১৮) বন্দীকে আরোপিত বেড়ীর ওজন:

(১৯) পোশাক-পরিচ্ছদ রিপেয়ার সংক্রান্ত ।

 

বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেট

 

বিধি-৫৫৭। প্রত্যেক বন্দীর হিস্ট্রি টিকেট বন্দীদের দায়িত্ব প্রাপ্ত কয়েদী কর্মচারী কোন স্থানে রেখে দিবে এবং প্রয়োজনের সময় উপস্থাপন করবে। বন্দীর গ্যাং পরিবর্তন হলে বা বন্দীকে হাসপাতাল প্রেরণ করা হলে হিস্ট্রি টিকেটও তার সঙ্গে প্রেরিত হবে। প্রত্যেক সাপ্তাহিক প্যারেডে জেল সুপারের পরিদর্শনের জন্যে প্রত্যেক বন্দী তার হিস্ট্রি টিকেট বাম হাতে রাখবে।

বিধি-৫৫৮। কোন বন্দী কারাগারে মারা গেলে তার হিস্ট্রি টিকেট মৃত্যুর পর দুই বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির পর এক বা দুই বছর পর্যন্ত তার হিস্ট্রি টিকেট সংরক্ষিত থাকবে। কোন বন্দীকে অন্য কারাগারে বদলি করা হলে হিস্ট্রি টিকেট তার সঙ্গে প্রেরণ করতে হবে।

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের সম্পত্তি

আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু বন্দীদের সম্পত্তি

 

বন্দীদের সম্পত্তি
বন্দীদের সম্পত্তি

 

বন্দীদের সম্পত্তি । জেল কোড

বিধি-৫৪৩। সকল টাকা বা অন্যান্য দ্রব্যাদি আদালতের কোন আদেশ না থাকলে বা যথাযথ অনুমোদনক্রমে কোন বন্দী কর্তৃক কারাগারে আনীত হলে কিংবা বন্দীর নিকট ব্যবহারের জন্যে প্রেরিত হলে জেলারের হেফাজতে জমা দিতে হবে। বন্দীর নিকট হতে বিধি মোতাবেক গৃহীত কিংবা পরে তার কাছে প্রেরিত সকল জিনিস পত্রের তালিকা সিভিল বন্দীর ক্ষেত্রে তার ওয়ারেন্টে এবং সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রে সম্পদ বিবরণীতে ৫১৫৮ নম্বর ফরমে লিখে জেল সুপার এবং জেলার তাতে স্বাক্ষর করবেন।

বন্দীদের সম্পত্তি বা টাকা তার কারাবাসের যে কোন সময়ে জেল সুপারের অনুমতিক্রমে বন্দীর লিখিত সম্মতিতে তার কোন নিকটজনের নিকট হস্তান্তর করা যাবে। তবে নিজের জামাকাপড়ের অভাব সৃষ্টি করে জামাকাপড় হস্তান্তর করতে দেয়া হবে না। এবং কারাবাস অবস্থায় বা মুক্তির প্রাক্কালে অন্য কোন বন্দীর নিকট সম্পত্তি হস্তান্তর করতে দেয়া হবে না।}

টীকা- নং ১৩৪৪ এইচ জে তারিখ ১৫-৬-১৯৪৯ মূলে প্রতিস্থাপিত

 

বন্দীদের সম্পত্তি
বন্দীদের সম্পত্তি

 

বিধি-৫৪৪। পূর্ববর্তী বিধি সাপেক্ষে বন্দীদের সম্পত্তির বিষয়ে জেলার নিম্নরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন-

(ক) বন্দীদের সম্পত্তির মধ্যে নিষিদ্ধ কোন বস্তু থাকলে তা ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

(খ) বিক্রয় যোগ্য কোন পচনশীল দ্রব্য থাকলে বিক্রি করে দিতে হবে।

(গ) মেডিকেল অফিসারের মতামত অনুসারে পোশাক-পরিচ্ছদ সংক্রামক রোগাক্রান্ত হলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

(ঘ)ব্যবহার অনুপযুক্ত জামাকাপড় জেল সুপারের নির্দেশ মতে ধ্বংস করে দিতে হবে।

(ঙ) দুই বছর বা ততোধিক মেয়াদের সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের জামাকাপড় বিক্রয় করে দিতে হবে। অন্যান্য বন্দীদের জামাকাপড় পরিষ্কার করে গুদামে বান্ডেল করে তার উপর বন্দীর নাম লিখে রেখে দিতে হবে।

(চ) মূল্যবান স্বর্ণালংকার থাকলে তা আলাদা প্যাকেটে জেলারের অফিসে নিরাপদ বাক্সে রেখে দিতে হবে।

(ছ) নগদ টাকা জেলারের কাছে রাখতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী তার নগদ টাকা সিকিউরিটিসে বিনিয়োগ বা ব্যাংকে জমা রাখতে চাইলে সে জন্যে তাকে অনুমতি দেয়া যাবে।

 

বন্দীদের সম্পত্তি
বন্দীদের সম্পত্তি

 

বিধি-৫৪৫ । কেবলমাত্র বন্দীর যে সকল দ্রব্য কারাগারের গুদামে রাখা যায় সে সকল সম্পত্তি রাখা হবে। জামেলা সৃষ্টিকারী দ্রব্য বা গবাদি পশু বিক্রয় করে দিতে হবে এবং প্রাপ্ত আয় বন্দীর নগদ টাকার সঙ্গে জেলারের নিকট রেখে দিতে হবে। সিভিল বন্দী ব্যতীত অন্য কোন বন্দীকে ভর্তির পর তল্লাশী করে কোন দ্রব্য বা টাকা পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং এর মূল্যের একটি অংশ সরকারের তহবিলে জমা দেয়া হবে, এবং অনধিক এক তৃতীয়াংশ মূল্য জেল সুপার কর্তৃক সন্ধানকারীকে প্রদান করা যাবে ।

বিধি-৫৪৬। কোন বন্দী অন্য কারাগারে বদলি হয়ে যাবার সময় তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি সঙ্গেই দিয়ে দিতে হবে, কোন বন্দী বদলি হয়ে যাবার পর কোন সম্পত্তি প্রেরণ করা যাবে না।

 

বিধি-৫৪৭। কোন বন্দী মুক্তি পেলে তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ৫৭৭ এবং ৫৭৮ বিধি মোতাবেক তাকে ফেরত দিয়ে দিতে হবে। কোন মুক্তি প্রাপ্ত বন্দীর অদাবীকৃত সম্পত্তি তার মুক্তির এক বছর পর্যন্ত কারাগারে রাখা হবে। এর মধ্যে দাবী না করা হলে তা বিক্রয় করে দেয়া হবে এবং প্রাপ্ত আয় বন্দীদের অদাবীকৃত সম্পত্তি হিসাবে ট্রেজারীতে জমা দেয়া হবে ।

বিধি-৫৪৮। কোন বন্দী কারাগারে মারা গেলে ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিকটস্থ থানায় জমা দিতে হবে। বন্দী মৃত্যুর আগে তার সম্পত্তি বিলি বন্টনের ব্যাপারে কোন ইচ্ছা জানিয়ে গেলে তা পত্রের মাধ্যমে থানায় জানাতে হবে। কোন বন্দী পালিয়ে গেলে এবং এক বছরের মধ্যে পুনঃধৃত না হলে তার সম্পত্তি বিক্রয় করে দিতে হবে এবং আয় বন্দীদের অদাবীকৃত সম্পত্তি হিসাবে ট্রেজারীতে জমা দেয়া হবে।

Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class