জেল কোড অনুযায়ী কারাগারের গেইট সেন্ট্রি । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা কারাগারের গেইট সেন্ট্রি সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারীর অন্তর্গত।

 

কারাগারের গেইট সেন্ট্রি । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

কারাগারের গেইট সেন্ট্রি । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী । জেল কোড

বিধি-৩৪০। রিজার্ভ গার্ড থেকে কারাগারের মূল ফটকে দিনে এবং রাত্রে একজন করে সেন্ট্রি দায়িত্ব পালন করবেন। লোকের প্রাপ্যতা অনুসারে তারা ২-৩ ঘন্টা করে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। দিনে সেন্ট্রি বেয়নেট যুক্ত রাইফেল সঙ্গে নিয়ে মূল লৌহ ফটকের সন্নিহিত বাহিরে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিধি-৩৪১। নাইট সেন্ট্রি দুই গেইটের মাঝখানে অবস্থান করবেন যাতে ভিতর বা বাহিরের আকস্মিক কোন ঘটনা মোকাবেলা করতে পারেন এবং তিনি ভিতরের গেইটের উইকেটের এবং বাহির গেইটের চাবি তার কাছে রাখবেন।

 

কারাগারের গেইট সেন্ট্রি । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

রাতের বেলায় কারাগার ভিজিটের প্রাধিকার প্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ হলেন- জেল সুপার, ম্যাজিষ্ট্রেট সরকারী এবং বেসরকারী পরিদর্শকগণ, ডেপুটি সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলার, কর্তব্যরত প্রধান কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষীর দায়িত্ব প্রাপ্ত টহল কর্মচারী, মেডিকেল অফিসার এবং মেডিকেল সাব অর্ডিনেট।

বিধি-৩৪২। রাতে কোন কর্মকর্তা ভিজিট করলে নাইট সেন্ট্রি কর্তব্যরত প্রধান কারারক্ষীকে তা জানাবেন। তার দায়িত্বের সময়ে কোন গুরুত্বপূর্ণ অস্বাভাবিক কিছু ঘটে থাকলে তা রিজার্ভ গার্ডের কর্তব্যরত প্রধান কারারক্ষীকে জানাবেন, যাতে তিনি পরদিন সকালে জেল সুপারের ভিজিটের সময় তাকে অবহিত করতে পারেন।

 

বিধি-৩৪৩। রাতের বেলা গেইটের ভিতরে সার্বক্ষণিক একটি বাতি জ্বলবে।

বিধি-৩৪৪। নাইট সেন্ট্রি একটি রাইফেল এবং ২০ রাউন্ড গুলিসহ ডিউটি করবেন। কোন বিদ্রোহ বা গোলযোগ দেখা দিলে তিনি এলার্ম বাজাবেন এবং ৪৬৬ বিধি মোতাবেক গেইট রক্ষা করবেন। তার কাছে অস্ত্রাগারের একটি ডুপ্লিকেট চাবি থাকবে।

জেল কোড অনুযায়ী কারাগারের গেইট কিপার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে কারাগারের গেইট কিপার । যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারীর অন্তর্গত।

 

কারাগারের গেইট কিপার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

কারাগারের গেইট কিপার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

বিধি-৩২৬। গেইট কিপার হিসেবে দু’জন জ্যেষ্ঠ কারারক্ষী দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপারগণ উত্তম লোককে গেইট কিপার হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের ব্যাপারে সর্বোচ্চ যত্নবান হবেন।

বিধি-৩২৭। গেইট কিপার কারাগার খোলার সময়ে ডিউটিতে আসবেন এবং দায়িত্ব হতে অব্যহতি না পাওয়া পর্যন্ত গেইটে থাকবেন। গেইট কিপারের দায়িত্ব পালনের জন্যে একটি দিনকে সুবিধামত দুই বা চার অংশে বিভক্ত করা যেতে পারে। প্রত্যেক গেইট কি-পার তার আগমন এবং প্রস্থান রেজিষ্টারে লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-৩২৮। গেইট কি-পার দুটি গেইট রেজিষ্টার রাখবেন (রেজিষ্টার-২৪ এবং ২৫)। একটিতে কারাগারের ভিতরে আসা যাওয়া করেছে এমন সকল কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী, বন্দী এবং অন্যান্যদের নাম লিখবেন। অন্যটিতে কারাগারে মালামাল প্রবেশ ও বাহির হবার তালিকা রাখবেন। তিনি লোকজন এবং মালামাল যাতায়াতের সময় রেকর্ড করবেন। তিনি নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ রোধের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।

বিধি-৩২৯। তিনি নুতন বন্দীদেরকে ভর্তির জন্য জেলার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাহায্য করবেন। তিনি গেইটের ভিতরের পরিষ্কার পচ্ছিন্নতা বজায় রাখবেন।

বিধি-৩৩০। প্রত্যেক কেন্দ্রীয় এবং জেলা কারাগারে প্রধান প্রবেশ পথে দুটি গেইট থাকবে, দুটি গেইটের মাঝে পর্যাপ্ত দূরত্ব থাকবে। প্রত্যেক গেইটের মধ্যে একটি উইকেট (ক্ষুদ্র দরজা) থাকবে।

 

কারাগারের গেইট কিপার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-৩৩১। গেইট কি-পার একই সময়ে মাত্র একটি গেইট খুলবেন এবং কোন অবস্থাতেই দুটি গেইট একই সময়ে খোলা যাবে না। কোন লোক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কিংবা বন্দী যেই হোক, প্রথম গেইট অতিক্রম করার পর গেইটটি সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করে তালাবদ্ধ করতে হবে এবং তার পর দ্বিতীয় গেইট খুলতে হবে। এ কাজে অবহেলার জন্যে দায়ী গেইট কি-পারকে শাস্তি স্বরূপ প্রথমবার মাসিক বেতনের অর্ধেক কাটা হবে এবং দ্বিতীয়বার চাকরি হতে বরখাস্ত করা হবে।

বিধি-৩৩২ । প্রধান গেইটের চাবি অনুরূপ ৮ টি নকল চাবিসহ একটি তোড়ার মধ্যে রাখতে হবে এবং চেইন দিয়ে গেইট কি-পারের কোমরের মধ্যে আটকিয়ে রাখতে হবে।

বিধি-৩৩৩। গেইট কিপার চাবি ডিউটি শেষে তার নিজের কাছে রাখবেন না। জেলারের উপস্থিতিতে তিনি প্রধান কারারক্ষীর নিকট অর্পন করবেন।

বিধি-৩৩৪। কারাগারের প্রধান গেইটের ভিতরের বারান্দায় নিম্নোক্ত জিনিসপত্র থাকবে-

  1. একটি দেয়াল ঘড়ি
  2. চাবি রাখার বক্স
  3. ব্যবহারের জন্যে প্রস্তুত রাখার উদ্দেশ্যে বেড়ী এবং হ্যান্ডকাপ
  4. গেইট রেজিষ্টারের জন্যে একটি উঁচু পাটাতন এবং লেখার দ্রব্য
  5. পরিদর্শকদের ব্যবহারের জন্যে জেল কোডের চতুর্থ অধ্যায়ের পুনঃমুদ্রিত কপি ।

 

বিধি-৩৩৫। কোন বন্দী কারাগারের গেইট দিয়ে বাহির হবার সময় গেইট কিপার তাকে প্রথমে ভিতরের গেইটে নিয়ে যাবেন এবং তা লক করবেন। তারপর বন্দীর নাম, যে গ্যাং ভুক্ত সে গ্যাংয়ের নাম, যে কয়েদী রক্ষী এবং ওভারশিয়ারের অধীনে ছিল তার নাম লিখতে হবে।

বিধি-৩৩৬। যে সব বন্দী কারাগারের বাহিরে যাবে জেল সুপারের অনুমোদন ক্রমে তারা জেলার কর্তৃক বিশেষভাবে নির্বাচিত হবে। যদি গেইট কিপারের গোচরে আসে যে কোন বন্দীকে নিয়মের পরিপন্থীভাবে কারাগারের বাহিরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা হলে তিনি বিষয়টি বইতে নোট করবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে জেলারকে জানাবেন, পাশাপাশিভাবে সুযোগ পাওয়া মাত্র জেল সুপারকেও জানাবেন।

বিধি-৩৩৭। কারাগারে প্রবেশের প্রাধিকারপ্রাপ্ত সকল সরকারী এবং বেসরকারী পরিদর্শকের একটি তালিকা গেইট কিপারের কাছে রাখতে হবে। তারা কারাগারের গেইটে নিজেদের পরিচয় দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে গেইট কিপার তাদেরকে প্রবেশ করতে দিবেন।

 

কারাগারের গেইট কিপার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-৩৩৮। যাদের নাম সরকারী এবং নিয়োগকৃত পরিদর্শকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে এবং জেল সুপারের বিশেষ আদেশে যাদেরকে তল্লাশী হতে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তাদেরকে ছাড়া অন্য সকল ব্যক্তিকে কারাগারে প্রবেশ করার সময় ও কারাগার হতে বাহির হবার সময় দেহ তল্লাশী করার জন্য গেইট কিপার ক্ষমতা প্রাপ্ত।

সকল সরকারী এবং বেসরকারী পরিদর্শক এবং প্রধান কারারক্ষীসহ কারাগারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সাধারণত তল্লাশী হতে অব্যাহতি প্রাপ্ত বলে গণ্য হবেন। যদি গেইট কিপারের কাছে সন্দেহ হয় যে, তল্লাশী হতে অব্যাহতি প্রাপ্ত কোন ব্যক্তি আপত্তিকর কিছু বহন করছেন, তবে তিনি তাকে উভয় গেইটের মধ্যবর্তী স্থানে আটকাবেন এবং তাৎক্ষণিক ভাবে জেলারকে সংবাদ জানাবেন। জেলার উক্ত ব্যক্তিকে তল্লাশী করবেন।

এরূপ তল্লাশী কোন বন্দী বা অন্য পরিদর্শকের সামনে করা যাবে না। তল্লাশী সংক্রান্ত এ সব বিধান মূল গেইটের সামনে সাধারণের অবগতির জন্যে টাঙিয়ে রাখতে হবে। গেইট কিপার গেইট দিয়ে যাতায়াতকারী সকল বন্দীকে তল্লাশী করবেন।

যদি গেইট দিয়ে যাতায়াতকারী বন্দীর সংখ্যা বা বাহির কাজে যাবার এবং ফিরে আসার সময় বন্দী সংখ্যা বেশী হয় তবে জেলার গেইট কিপারকে তল্লাশী কাজে সাহায্য করার জন্যে সে সময় অতিরিক্ত কারারক্ষী নিয়োগ করতে পারবেন। তল্লাশী কালে আপত্তিকর কিছু পাওয়া গেলে তা জেলারকে জানাতে হবে।

বিধি-৩৩৯। কারাগারের গেইটের অভ্যন্তরে কোন কুকুর প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। এই বিধি বাধ্যতামূলক, সরকারী বা বেসরকারী পরিদর্শকদের কিংবা কারাগারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কোন কুকুর থাকলে সে ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

জেল কোড অনুযায়ী প্রধান কারারক্ষী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা প্রধান কারারক্ষী সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারীর অন্তর্গত।

 

প্রধান কারারক্ষী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

প্রধান কারারক্ষী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

বিধি-৩১৭। জেলারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে জ্যেষ্ঠ প্রধান কারারক্ষীর উপর কারাগারের প্রশাসনের তদারকির দায়িত্ব ন্যস্ত হবে। তিনি তার অধস্তন এবং বন্দীদের এই কোড প্রতিপালন বিষয়ে তদারকী করবেন এবং তা কোন ভাবে লংঘিত হলে জেলার বা জেল সুপারকে জানাবেন।

বিধি-৩১৮। প্রত্যেক প্রধান কারারক্ষীর দায়িত্ব হবে-

(১) তার অধীনস্থ রক্ষীদের দায়িত্ব দেখাশুনা করা;

(২) তার অধীনস্থ রক্ষীদের উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা সম্পর্কে তিনি দায়ী থাকবেন:

(৩)কোন কারারক্ষী যথাযথ ভাবে ইউনিফর্ম পরিধান না করলে প্রধান কারারক্ষী সে ব্যাপারে রিপোর্ট করবেন।

(8) রক্ষী ও বন্দী উভয় তরফ থেকে বিধি পালন কঠোর ভাবে কার্যকর করবেন এবং এর কোন প্রকার ব্যতিক্রম হলে তত্ত্বাবধায়ক ও জেলারকে অবহিত করবেন।

(৫)বিধি ১৯১ ১৯২ ও ৪৬৩ প্রতিপালন;

(৬) জেলারকে দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করবেন;

(৭) জেলারের উপস্থিতিতে প্রত্যেকদিন সকালে ওয়ার্ড, সেল খুলবেন এবং বন্দী গণনা করবেন।

(৮) সম্ভ্রম বন্দীদের প্রত্যহ কাজ বন্টন

(৯) শ্রম বহিতে বন্দীর কাজ বন্টনের কারণ উল্লেখ করবেন

(১০) কাজের প্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহ করবেন

(১১) সে সব মালামাল সংগ্রহ করণ

(১২) বন্দীকে প্রদত্ত কাজ ঠিক ভাবে করেছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখবেন

(১৩) ড্রেন, টয়লেট বাথরুম ওয়ার্ড ও খাবার ঘরের পরিচ্ছন্নতা তদারকী করন

(১৪) গার্ড পরিবর্তন কালে বন্দী পরীক্ষা করে দেখা

(১৫) দরজা, ফ্রেম প্রভৃতি নিরাপদ কিনা পরীক্ষা করা

(১৬) পলায়নে সহায়ক দ্রব্যাদি বন্দীর নাগালের বাহিরে নিশ্চিত করা

(১৭) জেলারের উপস্থিতিতে বন্দী গণনা করে লক করা।

 

প্রধান কারারক্ষী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-৩১৯। (১) প্রহরা বদলের সময় দায়িত্ব গ্রহণকারী প্রধান কারারক্ষী তার রক্ষীদেরকে ডিউটি শুরু হবার কমপক্ষে ১০ মিনিট পূর্বে একত্রিত করবেন এবং ডিউটি পোষ্টে প্রেরণ করবেন; অতঃপর দায়িত্ব সমাপ্তকারী প্রহরী তার স্থান ত্যাগ করবেন।

(২) কারাগারের বাহিরে বন্দীদের গ্যাংয়ের দায়িত্ব পালনকালে প্রহরা বদলের সময় প্রধান কারারক্ষী বন্দীদেরকে সমবেত করবেন এবং গুণে দেখবেন তারা সকলে উপস্থিত রয়েছে কিনা এবং তা গ্যাং বইতে লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-৩২০ । রক্ষীরা দুই সারিতে মার্চ করে দায়িত্বে যাবে বা দায়িত্ব শেষে ফিরে আসবে।

বিধি-৩২১ ৷ সেন্ট্রি এবং গেইট কিপার নির্দেশ মোতাবেক পরিবর্তন হয়েছে কিনা প্রধান কারা-রক্ষী তা দেখবেন। কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্তব্যরত প্রধান কারা-রক্ষী গেইট সেন্ট্রি পরিবর্তন করবেন ।

বিধি-৩২২ । (১) প্রত্যেক প্রধান কারা-রক্ষী সাধারণত দিনের অর্ধেক এবং এক রাতের ওয়াচের দায়িত্ব পালন করবেন; এবং ওয়ার্ড, সেল এবং অন্যান্য কম্পার্টমেন্ট খোলা বা বন্ধের সময় উপস্থিত থাকবেন।

(২) দায়িত্ব এমন ভাবে বন্টন করতে হবে যাতে প্রধান কারা-রক্ষী রক্ষীদের দায়িত্ব বদলের সময় উপস্থিত থাকতে পারেন।

বিধি-৩২৩ ৷ প্রত্যেক দায়িত্ব বদলের সময় প্রধান কারারক্ষী বা গেইটম্যান মহিলা ওয়ার্ডে প্রবেশ না করে বাহির থেকে কয়েদী ওয়াচম্যানকে জিজ্ঞাসা করে নিশ্চিত হবেন যে সকল মহিলা বন্দী উপস্থিত রয়েছে কিনা ।

বিধি-৩২৪ ৷ (১) কোন চাবি অব্যবহৃত অবস্থায় কারো নিকট অর্পিত না থাকলে চাবি রাখার স্থানে থাকবে। উক্ত স্থান বা আলমারী দিনের বেলায় কর্তব্যরত জ্যেষ্ঠ প্রধান কারারক্ষীর দায়িত্বে থাকবে এবং রাতের বেলায় কর্তব্যরত টহল অফিসারের দায়িত্বে থাকবে।

(২) যখন কোন ব্যক্তির নিকট দায়িত্ব পালনের সময় কোন চাবি থাকবে, তখন তা একটি শক্ত চেইন দিয়ে তার শরীরের সঙ্গে আটকিয়ে রাখতে হবে।

(৩) ডুপ্লিকেট চাবি সঠিক লেবেল লাগিয়ে পৃথক আলমারীতে জেলারের দায়িত্বে থাকবে।

 

 

প্রধান কারারক্ষী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-৩২৫। কোন পলায়ন ঘটনার জন্যে প্রধান কারারক্ষীগণ প্রাথমিকভাবে নারী থাকবেন, যতক্ষণ না তারা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন।

জেল কোড অনুযায়ী কারারক্ষীর সার্কেল ব্যবস্থা । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা কারারক্ষীর সার্কেল ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।

 

কারারক্ষীর সার্কেল ব্যবস্থা । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

কারারক্ষীর সার্কেল ব্যবস্থা । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

বিধি ২৯৪- ২৯৮। প্রয়োগ নেই ।

বিধি ২৯৯-৩০৭। কারারক্ষী ও প্রধান কারারক্ষী নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত – বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী (কারা অধিদপ্তর) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৪ প্রযোজ্য।

বিধি-৩০৮ । কোন প্রধান কারারক্ষী বা কারারক্ষীকে তিন বছরের বেশী একই কারাগারে কর্মরত রাখা যাবে না।

 

কারারক্ষীর সার্কেল ব্যবস্থা । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি ৩০৯-৩১৩। কারারক্ষী ও প্রধান কারারক্ষী বদলি সংক্রান্ত ।

বিধি-৩১৪। কারাগার এলাকার মধ্যে প্রত্যেক প্রধান কারারক্ষীকে নিজের ও পরিবারের জন্যে স্বতন্ত্র বাসা প্রদান করতে হবে এবং সকল কারারক্ষীর জন্যে রাত্রিবাস এবং রান্না করার জায়গার সংস্থান করতে হবে। সম্ভব হলে কিছু সংখ্যক কারারক্ষীর পারিবারিক স্বতন্ত্র বাসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে, তবে তা গার্ড রুম থেকে বেশ দূরে হতে হবে।

বিধি-৩১৫ ৷ প্রয়োগ নেই।

বিধি-৩১৬। পৃথক কোন হাসপাতাল না থাকলে অসুস্থ কারারক্ষীগণ কারা হাসপাতালে রোগী হিসেবে ভর্তি পূর্বক চিকিৎসা পাবে এবং সরকারী খরচে ডায়েট পাবেন।

জেল কোড অনুযায়ী মেট্রন এবং মহিলা কারারক্ষী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা মেট্রন এবং মহিলা কারারক্ষী সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।

 

মেট্রন এবং মহিলা কারারক্ষী

 

মেট্রন এবং মহিলা কারারক্ষী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-২৮২। প্রত্যেক কেন্দ্রীয় এবং জেলা কারাগারে, একজন মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষী থাকবে। কেন্দ্রীয় কারাগারে অতিরিক্ত এক বা দুইজন মহিলা কারারক্ষী থাকতে পারে।

বিধি-২৮৩ । যদি কোন মহিলাকে এ কাজে না পাওয়া যায়, তবে অর্ধেক সাজা ভোগ হয়েছে এমন ভাল চরিত্রের একজন সাজাপ্রাপ্ত মহিলা বন্দীকে দায়িত্ব দেয়া যতে পারে। তবে মহিলা বন্দীকে নিয়োগের বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে।

 

বিধি-২৮৪। জেল সুপার এবং জেলারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে মেট্রন মহিলা বন্দীদের যাবতীয় দেখাশুনা এবং তত্ত্বাবধান করবেন। 

বিধি-২৮৫। মহিলা কারারক্ষী একজন হলে তিনি মেট্রনের সহকারী হিসেবে কাজ করবেন এবং মেট্রনের অনুপস্থিতিতে মেট্রন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মহিলা কারারক্ষীগণ মহিলা বন্দীদের প্রহরার কাজ করবেন।

 

মেট্রন এবং মহিলা কারারক্ষী

 

বিধি-২৮৬। মহিলা বন্দী কারাগারে ভর্তির সময় মেট্রন তাদেরকে তল্লাশী করবেন এবং কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য পেলে অপসারণ করবেন। তিনি মেডিকেল অফিসারের নির্দেশে মহিলা বন্দীদের শরীরে কোন জখম বা চিহ্ন রেকর্ড করার জন্যে পরীক্ষা করবেন। তাদের কাছে কোন টাকা পাওয়া গেলে তা জেলারের কাছে জমা দিবেন। তিনি কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে মহিলা বন্দীদের তল্লাশী করবেন। মহিলাদের তল্লাশী কেবল মাত্র মহিলাদের উপস্থিতিতে করতে হবে ।

বিধি-২৮৭। মহিলা বন্দীদের ওয়ার্ড লক-ইন এবং লক-আপের সময় মেট্রন উপস্থিত থাকবেন। দিনের বেলায় চাবি তার দায়িত্বে থাকবে এবং রাতের বেলায় তা জেলারের নিকট হস্তান্তর করবেন ।

বিধি-২৮৮ । মেট্রন ওয়ার্ডের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি লক্ষ্য রাখবেন।

বিধি-২৮৯। জেল সুপার এবং জেলারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে মেট্রন সশ্রম সাজা প্রাপ্ত মহিলা বন্দীদের কাজ পরিচালনা করবেন।

বিধি-২৯০ । মহিলা বন্দীদের পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং প্রভৃতি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে কিনা মেট্রন তা নিশ্চিত করবেন। । এই উদ্দেশ্যে মেট্রন মহিলা বন্দীদের পোশাক-পরিচ্ছদ, বেডিং প্রভৃতি নিয়মিত তল্লাশী করবেন} ।

নং- ৬৪৭৪ এইচ জে তারিখ ২৬-১০-১৯৪২ মূলে সংযোজিত। বিধি-২৯১ । মেট্রন মহিলা বন্দীদের খাদ্য বিতরণ তত্ত্বাবধান করবেন। নিম্নমানের খাদ্যের ব্যপারে তিনি জেল সুপারের নিকট রিপোর্ট করবেন।

বিধি-২৯২। কোন পুরুষ বন্দী মহিলা বন্দীদের এলাকায় অনুমোদিত কর্মকর্তা- কর্মচারী ছাড়া যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে দিকে মেট্রন লক্ষ্য রাখবেন। কোন কারা কর্মকর্তা বা কর্মচারী বিনা অনুমতিতে ও বিনা প্রয়োজনে মহিলা বন্দীদের এলাকায় প্রবেশ করলে বা প্রবেশের চেষ্টা করলে মেট্রন তা জেল সুপারকে জানাবেন।

বিধি-২৯৩। যদি কোন মহিলা বন্দী সেলে আটক তাকে তখন মেট্রন বা মহিলা রক্ষী সেলের চাবি নিজের সঙ্গে রাখবেন এবং বন্দীর কাছাকাছি অবস্থান করবেন, যাতে তার প্রয়োজনে সাড়া দিতে পারেন এবং আত্মহত্যা প্রতিহত করতে পারেন।

জেল কোড অনুযায়ী করণিক কর্মচারী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা করণিক কর্মচারী সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।

 

করণিক কর্মচারী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

করণিক কর্মচারী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

(সহকারী জেলার, প্রধান করণিক, সহকারী করণিক)

বিধি-২৭৭। করণিক কর্মচারী নিয়োগ বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী (কারা অধিদপ্তর) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৪ প্রযোজ্য।

বিধি-২৭৮। প্রত্যেক কারাগারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক করণিক নিয়োগ করা হবে। কেবলমাত্র বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারের অনুমোদনক্রমে কারাগারের করণিকদেরকে নির্বাহী দায়িত্বে বদলি করতে হবে ।

বিধি-২৭৯। জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদনক্রমে উৎপাদন বিভাগ সহ কেন্দ্রীয় কারাগারে করণিকদেরকে দায়িত্ব বন্টন করবেন। সাধারণত জ্যেষ্ঠ করণিক উৎপাদন বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত হবেন এবং ষ্টোর কিপার হিসাবে পরিচিত হবেন। প্রধান করণিক হিসাব, রিটার্ণ এবং সাধারণ পত্র যোগাযোগ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যান্য করণিকগণ ডেপুটি জেলার, ষ্টোর কিপার এবং প্রধান করণিকের সহকারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ভর্তি করণিক, রিলিজ করণিক, সহকারী ষ্টোর কিপার প্রভৃতি নামে অভিহিত হবেন ।

বিধি-২৮০। জেলা কারাগারে যদি একাধিক করণিক থাকে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদনক্রমে তাদেরকে ষ্টোর কিপার এবং প্রধান করণিকের দায়িত্ব প্রদান করবেন ।

 

করণিক কর্মচারী । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-২৮১। কারাগারের কর-ণিকগণ জেলার এবং ডেপুটি জেলারের অধস্তন হবেন এবং তাদের আদেশ প্রতিপালন করবেন। তারা কারাগারের সকল বই কাগজপত্র, রেকর্ড ঠিকভাবে সঠিক জায়গায় এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে রাখার প্রতি লক্ষ্য রাখবেন।

জেল কোড অনুযায়ী ডেপুটি জেলার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা ডেপুটি জেলার সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।

 

ডেপুটি জেলার
ডেপুটি জেলার

 

ডেপুটি জেলার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

বিধি-২৭২ । প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগারে কমপক্ষে দুইজন এবং জেলা কারাগারে একজন করে ডেপুটি জেলার থাকবেন। এ সব পদে সাধারণত সরাসরি নিয়োগ করা হবে।

[বিধি-২৭২এ ৷} অকার্যকর।

নং ৭১ এইচ জে (১) ৬ পি-৮/৫৮ তারিখ-১৮-৪-১৯৬০ । মূলে সংযোজিত ।

 

ডেপুটি জেলার

 

বিধি-২৭৩। ডেপুটি জে-লার কারাগারে জেলারের পরবর্তী অধস্তন ও জেলারের সহকারী হিসেবে কাজ করবেন। তিনি জেলারের অনুপস্থিতিতে জেলারের দায়িত্ব পালন করবেন এবং উপস্থিতিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত জেলারের দায়িত্বের অংশ বিশেষ পালন করবেন।

বিধি-২৭৪। ডেপুটি জে-লারকে জেলারের দায়িত্ব এমনভাবে ভাগ করে দিতে হবে যা তিনি জেলারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রতিপালন করতে পারেন। ডেপুটি জে-লারকে যে দায়িত্ব প্রদান করা হবে তা জেল সুপার মিনিট বইতে লিপিবন্ধ করবেন। 

বিধি-২৭৫। জেলারের অনুপস্থিতিতে যখন ডেপুটি জে-লার অস্থায়ী ভাবে জেলারের দায়িত্বে থাকবেন, তখন তিনি জেলারের সকল ক্ষমতা ও দায়িত্বের অধিকারী হবেন।

বিধি-২৭৬। জেল সুপার ২৭৪ বিধিতে বর্ণিত মিনিট বইতে রেকর্ডকৃত দায়িত্বের অতিরিক্ত ২৪২,247,288,2৫১ এবং ২৬২ বিধি ব্যতীত জেলারের অন্যান্য কাজের অংশ বিশেষ ডেপুটি জে-লারকে প্রদান করতে পারবেন। ডেপুটি জে-লার শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলারের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি জেলারের অনুমতি ব্যতীত রাতে বাসা হতে অনুপস্থিত থাকতে পারবেন না ।

জেল কোড অনুযায়ী জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা জেলারের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।

 

জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

বিধি-২৪১। এ কোডের যে কোন বিধিতে জেলার বলতে ডেপুটি জেলার এবং জেলারের দায়িত্ব পালনকারী অন্য ব্যক্তিকেও বুঝাবে। ডেপুটি জেলার হতে জেলার পদে নিয়োগ প্রদান করতে হবে।

বিধি-২৪২। জেলার কারাগারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন এবং জেল সুপারের নির্দেশ মোতাবেক কারাগারের সকল সংস্থাপনাদি নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং জেল সুপারকে তার কাজে সাহায্য করবেন এবং তার নির্দেশ বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা দেখবেন। জেলার কারাগার পরিচালনার জন্যে জেল কোডে বর্ণিত সকল বিধি বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্যে দায়ী থাকবেন। এ উদ্দেশ্যে সকল বিধি বিধান এবং কারা মহাপরিদর্শকের সকল সার্কুলার সম্পর্কে তিনি নিজেকে সম্যক জ্ঞানের অধিকারী করবেন।

{বিধি-২৪২এ। জেলার পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে একটি বিভাগীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সিলেবাস নিম্নরূপ হবে-

(১) জেল কোড বিধি সমূহ ১ম ও ২য় খন্ড এবং কারাগার সমূহের সংস্থাপন এবং ব্যবস্থাপনা, কারাগারে বন্দী আটক এবং তাদের পরিচালনা এবং শৃঙ্খলার বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণকারী আইন ও বিধি সমূহ, 

(২) বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস ১ম ও ২য় খন্ড এবং ফিন্যান্সিয়াল রুলস 

(৩) কারা মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ের সার্কুলার সমূহের বিষয়বস্তু,

(8) ড্রিল;

(৫)সাধারণ জ্ঞান ।

উপরের প্রতিটি বিষয় ১০০ নম্বরের হবে এবং ৫০ নম্বর পাস নম্বর বলে গণ্য হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী সর্বোচ্চ তিনবার পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাবেন। বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে কাউকে স্থায়ী করা হবে না।

নং ৭১ এইচ জে (১) ও পি-৮/৮৫ তারিখ ১৮-৪-১৯৬০ মূলে সংযোজিত

বিধি-২৪৩। জেলারের অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সরাসরি তার নিয়ন্ত্রণে থাকবেন এবং তার নির্দেশ প্রতি পালনে বাধ্য থাকবেন ।

বিধি-২৪৪। জেলার জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত তার অধস্তন কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারাগারে অনুপস্থিত থাকার জন্যে ছুটি প্রদান করতে পারেন, তবে এই ছুটির মেয়াদ চার ঘন্টার বেশী হবে না। অধস্তনের অনুপস্থিত কালে জেলার তার দায়িত্বের জন্যে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

 

জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-২৪৫। যদি জেল সুপার অন্যত্র বসবাসের জন্যে লিখিত অনুমতি প্রদান না করেন তবে জেলারকে কারাগারের অভ্যন্তরে বসবাস করতে হবে। আদালতে হাজির হওয়ার জন্যে অথবা জেল সুপারের অনুমতিক্রমে বাহিরে যাওয়া ব্যতীত জেলার সার্বক্ষণিকভাবে কারাগার এলাকায় উপস্থিত থাকবেন। এরূপ বাহিরে যাবার প্রাক্কালে উপস্থিত অধস্তন সিনিয়র কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন এবং তা রিপোর্ট বইতে রেকর্ড করবেন। দায়িত্ব গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী তাতে প্রতিস্বাক্ষর করবেন।

প্রত্যুষের আন-লক সময় হতে অপরাহ্নের লক-আপ সময় পর্যন্ত জেলার এবং ডেপুটি জেলার একই সময়ে কারাগারে অনুপস্থিত থাকবেন না। এ উদ্দেশ্যে তাদের আহার এবং বিশ্রামের সময় সমন্বয় করতে হবে।

বিধি-২৪৬। যদি প্রয়োজন হয়, তিনি কারাগার পরিদর্শনে আগত ম্যাজিষ্ট্রেট, মেডিকেল অফিসার, পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা, সরকারী ও বেসরকারী পরিদর্শকগণের কারাগার পরিদর্শনের সময় তাদের সংগে থাকবেন। জেল সুপারের কারাগার পরিদর্শনকালীন সময়ে তিনি তার সংগে থাকবেন।

বিধি-২৪৭। জেলার কারাগারের প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী তার জন্য নির্ধারিত রিপোর্ট বহিতে (রেজিষ্ট্রার নং-১) লিপিবদ্ধ করে জেল সুপারের নিকট উপস্থাপন করবেন। এ ধরনের বহিতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করতে হবে :-

ক) কারাগারের আন-লকের সময়,

খ) এ সময় উপস্থিত কারা কর্মচারীদের সংখ্যা:

গ) বন্দীদের প্রাত্যহিক কাজ শুরুর সময়;

ঘ) দিনের মধ্যবর্তীকালীন সময়ে কাজ বন্ধের এবং আবার কাজ শুরুর সময়:

ঙ) কারাগারের কাজ বন্ধের সময় এবং লক আপের সময়।

তিনি কারাগারের যে কোন ধরনের বিদ্রোহ, মারাত্নক ধরনের অপরাধ, দুর্ঘটনা, মৃত্যু অথবা মহামারির প্রাদুর্ভাবের বিষয় রিপোর্ট বহিতে লিপিবদ্ধ করবেন । তিনি যদি কখনো তার উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে থাকেন, ব্যর্থতার কারণ উল্লেখ পূর্বক রিপোর্ট বহিটি জেল সুপারের নিকট সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করবেন। জেল সুপার জেলারের সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট বহিটি মনোযোগ সহকারে পর্যালোচনা করে প্রতিটি বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন ।

বিধি-২৪৮ ৷ জেলারের মূখ্য দায়িত্ব হ’ল কারাগারে আটক বন্দীদের নিরাপদ আটক নিশ্চিত করা এবং বন্দী ও তার অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সুশৃঙ্খল অবস্থা বজায় রাখা, সশ্রম সাজা প্রাপ্ত বন্দীদের নিকট হতে বিধিবদ্ধ নিয়মে কাজ আদায় করা এবং কারাগারে আটক বন্দীদের স্বাস্থ্য এবং কারাগারের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও সরবরাহকৃত খাদ্যের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। তিনি কারাগারের সেল এবং হাসপাতালসহ প্রতিটি অংশ প্রতিদিন পরিদর্শন করবেন যাতে করে প্রতি ২৪ ঘন্টায় প্রতিটি বন্দীকে তিনি দেখতে পান।

 

জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-২৪৯। জেলারকে বন্দীদের আন-লক এবং লক-আপ সময়ে উপস্থিত থাকতে হবে। একমাত্র অসুস্থতা এবং দায়িত্ব পালনে অসমর্থ না হলে তিনি এ ধরনের দায়িত্ব জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত অন্য কারো নিকট হস্তান্তর করতে পারবেন না। সাময়িক অনুমতিক্রমে এ ধরনের দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিষয়টি রিপোর্ট বহিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

বৃহৎ কারাগারগুলোতে আন-লক এবং লক-আপ সময়ে ডেপুটি জেলার বা প্রধান কারারক্ষীদেরকে কারাগারের বিভিন্ন অংশে এমনভাবে দায়িত্বে নিয়োজিত রাখতে হবে যাতে করে জেলার নিশ্চিত হতে পারেন যে, প্রতিটি বন্দীকে সঠিকভাবে আন-লক এবং লক-আপ করা হয়েছে। লক-আপের পরে জেলার পরীক্ষা করে দেখবেন কারাগারের প্রতিটি চাবি সঠিকভাবে তার নিকট জমা হয়েছে কিনা ।

বিধি-২৫০। কোন বন্দী কারগারে আগমনের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট বন্দীর রীট, ওয়ারেন্ট অথবা আদেশ পরীক্ষা করে এর বৈধতা সম্পর্কে জেলারকে নিশ্চিত হতে হবে। বন্দীর সাথে আনীত নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং অন্য যে কোন ধরনের মূল্যবান সামগ্রী অথবা যে সমস্ত পোশাক বন্দীর প্রয়োজন নেই তা সংশ্লিষ্ট বন্দীর { সম্পত্তির বিবরণী ( ফরম নং ৫১৫৮) ফরমে এবং অন্যান্য রেজিষ্টারে} লিপিবদ্ধ করে জমা রাখবেন।

তিনি বন্দীর সম্পত্তি নিরাপদে রাখার জন্যে দায়ী থাকবেন। তিনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বন্দীকে জেল সুপার ও মেডিকেল অফিসারের নিকট হাজির করবেন।

নং-১৫৮৭ এইচ জে তারিখ ১৯-৪-১৯৩৮ এবং নং ১৩৪৪ এচ জে তারিখ ১৫-৬-১৯৪৯ মূলে। সংযোজিত।

বিধি-২৫১। বন্দীদের আটক রাখার ওয়ারেন্ট সংরক্ষণের জন্যে জেলার দায়ী থাকবেন। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর খালাসের তারিখ সঠিকভাবে রিলিজ ডাইরীতে লিপিবদ্ধ করা হয় কিনা, তিনি তা পরীক্ষা করে দেখবেন। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির বিষয়টি তিনি নিখুঁতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন যাতে করে কোন বন্দী অতিরিক্ত সময়ের জন্য আটক না থাকে বা সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই খালাস না পায়।

রেয়াত ব্যবস্থায় একজন বন্দীর মুক্তির তারিখ সঠিকভাবে জেলারকে নির্ধারণ করতে হবে। কারাদণ্ডের অতিরিক্ত বেত্রদণ্ড দেয়া হলে তিনি তা সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করবেন। নির্জন কারাবাসের দণ্ড প্রদান করা হলে তা নিয়ম মোতাবেক বিরতিসহ কার্যকর হচ্ছে কিনা তা দেখবেন।

বিধি-২৫২। জেল সুপারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে জেলার সশ্রম সাজা প্রাপ্ত বন্দীদের কারাগারে বিভিন্ন কাজে নিয়োগ দান করবেন। কার্য বন্টনের ক্ষেত্রে তাকে প্রতি পাক্ষিকে একবার করে বন্দীদের ওজন পরিমাপ করে দেখতে হবে। কোন বন্দীর ওজন হ্রাস পেয়েছে দেখা গেলে তার কাজ পরিবর্তন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

বিধি-২৫৩। কারাগারের নিয়ম ভঙ্গের প্রতিটি ঘটনা জেলার বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিখে রাখবেন এবং জেল সুপারের সামনে অপরাধীকে হাজির করবেন, কিন্তু নিজে শাস্তি প্রদান করবেন না। তবে একান্ত প্রয়োজন হলে বন্দীকে হ্যান্ড ক্যাপ বা ডান্ডা বেড়ী লাগাবেন কিংবা সেলে তালাবদ্ধ করে রাখবেন এবং অতি সত্বর তা জেল সুপারকে জানাবেন।

 

জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
জেলারের দায়িত্ব । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

 

বিধি-২৫৪। কারাগারে যাতে কোন নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ তথা কোন বন্দীর নিকট এ ধরনের অবৈধ মালামাল না থাকতে পারে সে জন্য জেলার ন্যূনপক্ষে সপ্তাহে

একবার অনির্ধারিতভাবে বন্দীদের ওয়ার্ড, সেল, ওয়ার্কশপ, কাপড় চোপড়, বিছানাপত্র, ইত্যাদি তল্লাশী করবেন।

বিধি-২৫৫। বন্দীদের আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ অথবা চিঠি পত্র প্রেরণের মাধ্যমে যোগাযোগ সম্পর্কে জেলার জেল কোডের সপ্তদশ অধ্যায়ের নির্দেশাবলী কঠোর ভাবে মেনে চলবেন। তবে জেল কোডের চতুর্থ অধ্যায়ে মোতাবেক অনুমোদিত ব্যতীত কোন আগন্তুক অথবা বহিরাগতকে জেল সুপারের লিখিত নির্দেশ ব্যতীত কারাভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দিবেন না ।

বিধি-২৫৬। জেলার বন্দীদের রেশন সামগ্রী যথাযথভাবে সরবরাহ এবং যথাযথভাবে রান্না ও পরিবেশনের জন্যে দায়ী থাকবেন। তবে জেল সুপারের অনুমতিক্রমে তিনি এ দায়িত্ব অন্য কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রদান করতে পারবেন।

বিধি-২৫৭। জেলার কোন অসুস্থ বন্দী অথবা চিকিৎসার্থে মেডিকেল অফিসারের নিকট যেতে ইচ্ছুক বন্দীদের কারা হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করবেন। কোন বন্দীর মানসিক অসুস্থতা পরিলক্ষিত হলে তাকেও অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের নিকট প্রেরণ করতে হবে। তবে জেল সুপারের অনুমতিক্রমে তিনি এ ধরনের দায়িত্ব একজন ডেপুটি জেলারের নিকট হস্তান্তর করতে পারেন। কারা হাসপাতালে বন্দী প্রেরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বন্দীর হিষ্টী টিকেটে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

বিধি-২৫৮। কোন বন্দীর চিকিৎসা বিষয়ে মেডিকেল অফিসার অথবা মেডিকেল সাব অর্ডিনেট যে সমস্ত নির্দেশাবলী প্রদান করবেন জেলার তা যথা নিয়মে তামিল করার ব্যবস্থা করবেন। এ সমস্ত নির্দেশাবলীর মধ্যে যেগুলো তিনি তামিল করবেন সে গুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বন্দীর হিন্ত্রী টিকেটে লিখে রাখবেন। আইন গত কারণে যে সমস্ত নির্দেশ প্রতিপালন করতে তিনি অপরাগ হবেন, তার কারণ হিস্ট্রী টিকেটে লিপিবদ্ধ করে অনতিবিলম্বে জেল সুপারের নিকট সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করবেন। তবে কোন বন্দীর অসুস্থতা সম্পর্কে মেডিকেল অফিসারের জরুরী লিখিত নির্দেশগুলো তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিপালনে বাধ্য থাকবেন।

বিধি-২৫৯। কারাগারে কোন বন্দী মারা গেলে জেলার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসারকে অবহিত করবেন। কারাগার এলাকায়  কোন বন্দী মারা গেলে জেলারকে এ মৃত্যুর বিষয়ে পৌরসভার চেয়ারম্যান কিংবা পৌরসভা না থাকলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে অবহিত করতে হবে। মৃত্যুর সংবাদ সংশ্লিষ্ট বন্দীর আত্মীয়-স্বজনকেও জানাতে হবে । 

বিধি-২৬০। প্রতি সপ্তাহে একটি সুবিধাজনক দিবসে জেলার মেডিকেল অফিসারকে নিয়ে কারাগারে আটক সমস্ত বন্দীদেরকে সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। এ সময় তিনি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য করবেন ঃ-

ক) সর্তকতার সাথে প্রতিটি বন্দীকে পরিদর্শন করবেন; 

খ) প্রতিটি বন্দীর কাপড়-চোপড়, বিছানা-পত্র পরীক্ষা করে দেখবেন: 

গ) সকল বন্দী উপস্থিত রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখবেন; বন্দীদের কাপড়-চোপড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরীক্ষা করে উহার ফলাফল সম্পর্কে রিপোর্ট বহিতে প্রতিবেদন লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-২৬১। কারারক্ষীদের ড্রীল, কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা এবং তাদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি জেলার দেখবেন। রিজার্ভ গার্ডের কর্তব্যরত কারারক্ষীগণ যথাযথ ভাবে সশস্ত্র অবস্থায় দায়িত্ব পালন করে কিনা তাও তিনি পরীক্ষা করে দেখবেন। কারারক্ষীগণ যাতে রাতে তাদের নির্ধারিত কোয়ার্টার পরিত্যাগ করতে না পারে, তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য প্রতি মাসের কোন একদিন জেলার উক্ত কোয়ার্টারগুলো পরিদর্শন করবেন এবং কোন রক্ষী কোয়ার্টারে অনুপস্থিত নেই মর্মে নিশ্চিত হবেন।

নোট- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর স্ব:ম: ২৭১ (জেল-১) তারিখ ২৮-৫-১৯৮২ মোতাবেক কারারক্ষীদের জন্যে ৬ সপ্তাহের একটি অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কোর্স রয়েছে।

বিধি-২৬২। কারাগারের যাবতীয় রেজিষ্টার, রেকর্ড ইত্যাদি যথাযথ ভাবে সংরক্ষণের জন্যে জেলার দায়ী থাকবেন। জেলারকে অধস্তন কর্মচারীদের কার্যাবলী তদারকী তথা যাবতীয় কাজ সঠিক সময়ে আদায় করে নিতে হবে। তিনি কারাগারের যাবতীয় ক্যাশ বহি সংরক্ষণ করবেন এবং ক্যাশ বহি অনুসারে নদগ অর্থ সঠিকভাবে জমা রাখবেন।

বিধি-২৬৩। ব্যক্তিগত ক্যাশ হতে কারাগারের অগ্রিম খরচ মেটানো জেলারের জন্যে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ । এ কোন্ডের একচল্লিশতম অধ্যায় এবং সিভিল একাউন্ট কোড কঠোর ভাবে অনুসরণ করে তিনি সকল আর্থিক লেনদেন করবেন।

বিধি-২৬৪। জেলার কারাগারের যাবতীয় ষ্টোর সংরক্ষণ করবেন। ষ্টোরে সংরক্ষিত যাবতীয় মালামাল যত্ন সহকারে মওজুদ রাখার জন্যে জেলার দায়ী থাকবেন। তিনি ষ্টোরগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যসম্মত মান বজায় রাখার ব্যবস্থা করবেন। তবে কাজের সুবিধার্থে ষ্টোরের দায়িত্ব তিনি একজন ডেপুটি জেলারের নিকট হস্তান্তর করতে পারেন। কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তরের পরেও জেলার ষ্টোরের সামগ্রিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবেন না।

বিধি-২৬৫। বদলি, সাময়িক বরখাস্ত, পদত্যাগ এবং ছুটিতে যাবার প্রাক্কালে জেলার কারাগারের যাবতীয় অস্থাবর সম্পত্তি, ষ্টোরের যাবতীয় মালামাল এবং অন্যান্য সামগ্রী ইনভেন্টরী সীট (বিজি ফর্ম নং ৮৭) এর মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণকারী জেলারকে বুঝিয়ে দিবেন। অনুরূপভাবে দায়িত্ব গ্রহণকারী জেলারও সরেজমিনে পরীক্ষা করে যাবতীয় বিষয়ের সঠিকতা যাচাই করে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

টীকা- বদলির ক্ষেত্রে ভান্ডারের দায়িত্বে নিয়োজিত অফিসার তাঁর হেফাজতে রক্ষিত ভান্ডার তাঁর উত্তরসূরীর নিকট সঠিকভাবে হস্তান্তর করে তাঁর নিকট থেকে একটি যথাযথ রসিদ গ্রহণ করবেন (প্যারা-১৫০, জেনারেল ফাইন্যান্সিয়াল রুলস)।

বিধি-২৬৬। নুতন কোন জেল সুপার কারাগারে দায়িত্ব গ্রহণ করলে, জেলার তাকে কারাগারের ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রকার বিধি ও আদেশ সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে অবহিত করবেন।

জেল কোড অনুযায়ী অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।

 

 

অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি

 

অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

নোট- “ অধস্তন কর্মচারী ” বলতে কোন কারাগারের সকল নন-গেজেটেড কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বুঝাবে (কয়েদী কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত হবে না)।

বিধি ১৬০-১৬৫। নিয়োগ সংক্রান্ত। বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী (কারা অধিদপ্তর) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৪ প্রযোজ্য। 

টীকা-১। সরকারী কর্মচারীদের শৃঙ্খলা এবং আচরণ সম্পর্কে ১৮ মে ১৯৭৯ হতে সরকারী কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং ২০ আগস্ট ১৯৮৫ হতে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ১৯৮৫ কার্যকর রয়েছে।

টীকা-২। সরকারী কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ কারাগারের ডেপুটি জেলার এবং সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টরের নিম্ন পদের জন্যে প্রযোজ্য নয় এবং সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ১৯৮৫ জেলারের নিম্ন পদের জন্যে প্রযোজ্য নয়। উল্লেখিত বিধি দুটি যে সকল অধস্তন কারা কর্মচারীর জন্যে প্রযোজ্য নয়, তাদের শৃঙ্খলা এবং আচরণ জেল কোড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে ।

টীকা-৩। জেল কোডে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল মাত্র “অফিসার” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং সামান্য কিছু ক্ষেত্রে “সার্ভেন্ট” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। “অফিসার” বলতে কর্মকর্তা ও কর্মচারী শব্দটি ব্যবহার করা সমীচীন হবে।

বিধি-১৬৬। প্রয়োগ নেই ।

বিধি-১৬৭। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তার দায়িত্ব সংক্রান্ত বিধি-বিধান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করবেন। কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী তার স্থলাভিষিক্ত কর্মচারীকে দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করবেন। জেলার এবং ডেপুটি জেলার তাদের হাতে একটি নোট বই রাখবেন এবং এতে জেল সুপারের মৌখিক নির্দেশ সমূহ লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-১৬৮। জেলার বা তার অধস্তন কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অন্য কোন চাকরি করতে পারবেন না।

বিধি-১৬৯ । কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিকট হতে ঋণ গ্রহণ করা যাবে না বা তার সাথে কোন আর্থিক লেনদেনে আবদ্ধ হওয়া যাবে না। 

বিধি-১৭০। কারাগারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে কোন প্রকার বিরোধ নিষিদ্ধ। অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন কাজ সংক্রান্ত বিরোধ জেলারকে কিংবা প্রয়োজনে জেল সুপারকে জানাতে হবে। সকল অভিযোগ জেল সুপার বা জেলারের নিকট পেশ করতে হবে। তুচ্ছ এবং মিথ্যা অভিযোগ দায়েরকারীকে শাস্তি পেতে হবে।

বিধি-১৭১।কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে একত্রীকরণ করা যাবে না এবং এরূপ চেষ্টা শাস্তি যোগ্য হবে।

বিধি-১৭২। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সরকারী বাসা দেয়া হলে তাতে বসবাস করতে হবে। যারা সরকারী বাসা পাবেন না তাদেরকে অফিসের কাছাকাছি থাকতে হবে। সরকারী বাসা সাব-লেট দেয়া যাবে না।

বিধি-১৭৩। প্রধান কারারক্ষীর ঊর্ধ্বতন সকল কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারাগারে প্রবেশ ও বাহিরের সময় গেইট রেজিষ্টারে (রেজিষ্টার নম্বর ৪৬ ) স্বাক্ষর করতে হবে।

বিধি-১৭৪। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কারাগারের অভ্যন্তরে কোন ভিজিটর নেয়ার অনুমতি দেয়া হবে না। কোন মহিলাকে কোন অবস্থাতেই রক্ষীদের ব্যারাক, গার্ডরুম, রান্নাঘরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না।

বিধি-১৭৬। জেল সুপারের অনুমতি কিংবা আদালতের সমন ব্যতীত কোন অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিনে বা রাত্রে কারাগার এলাকা ত্যাগ করতে পারবেন না কিংবা তার নির্ধারিত দায়িত্বকালীন সময়ে অনুপস্থিত থাকতে পারবেন না ।

বিধি-১৭৭। অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন এবং যাদের জন্যে প্রযোজ্য তারা ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করবেন। ইউনিফর্মের সাথে সিভিল পোশাকের সমন্বয় করে পরিধান করা নিষিদ্ধ।

বিধি-১৭৮। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্তৃক কারাগারে কর্তব্যরত অবস্থায় ধুমপান করা বা মদপান করা বা গান করা বা উচ্চস্বরে কথা বলা নিষেধ এবং কারাগারে কোন মাদক দ্রব্য প্রবেশ করানো নিষেধ।

 

অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি

 

বিধি-১৭৯। কারাগারের কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কিংবা তার বিশ্বস্ত বা নিযুক্তির কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারাগারের সরবরাহ কাজের ঠিকাদারীতে আগ্রহ প্রকাশ করবেন না, কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারাগারের বা কোন বন্দীর কোন দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় হতে কোন সুবিধা গ্রহণ করবেন না।

বিধি-১৮০। কারাগারের কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কিংবা তার বিশ্বস্ত বা নিযুক্তিয় কোন ব্যক্তি, কোন বন্দীর নিকট কোন দ্রব্য বিক্রয় বা ভাড়া প্রদান করবেন না, বা কোন বন্দীর কোন দ্রব্য বিক্রয় বা ভাড়া প্রদান হতে অর্জিত সুবিধা বা কোন টাকা গ্রহণ করবেন না বা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন বন্দীর সঙ্গে অন্যান্য ব্যবসায়িক কারবার করবেন না।

বিধি-১৮১। কোন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোন বন্দীর বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে মেলামেশা করবেন না বা কারাগার সংক্রান্ত কোন তথ্য আদান প্রদান করবেন না এবং কোন বন্দীর বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয় স্বজনকে বা মুক্তি প্রাপ্ত বন্দীকে জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত নিজের বাসায় থাকতে দিবেন না। 

বিধি-১৮২। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কারাগারের শৃঙ্খলার বিষয়ে বিনা প্রয়োজনে কোন বন্দীর সঙ্গে আলোচনা করবেন না এবং তার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থাপন করবেন না।

বিধি-১৮৩। কোন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী কারাগার বা সরকারের স্বার্থে ব্যতীত তার ব্যক্তিগত কাজে বা ব্যক্তিগত লাভের জন্যে বা সুবিধার জন্যে কোন বন্দীকে নিয়োজিত করবেন না ।

বিধি-১৮৪। প্রত্যেক কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী বন্দীদের সঙ্গে মানবিক, দয়াশীল এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ আচরণ করবেন, তাদের অভিযোগ ও আবেদন মনোযোগের সঙ্গে শুনবেন। একই সঙ্গে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন এবং বিধি-বিধান কার্যকর করবেন।

বিধি-১৮৫। জেল সুপারের আদেশ ব্যতীত কোন বন্দীকে অন্য কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন শাস্তি প্রদান করবেন না কিংবা শাস্তি প্রদানের ভয় দেখাবেন না, বা রুঢ় দুর্ব্যবহার, অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করবেন না । 

বিধি-১৮৬। আত্মরক্ষার প্রয়োজন ব্যতীত কিংবা উপদ্রব দমনের ন্যূনতম প্রয়োজন ব্যতীত কোন বন্দীকে আঘাত করা যাবে না। 

বিধি-১৮৭। কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোন বন্দী বা অন্য কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক কোন বিধি ভঙ্গের বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে জেল সুপার বা অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাতে ব্যর্থ হবেন না।

বিধি-১৮৮। অকার্যকর

বিধি-১৮৯। কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী তার নিকট রক্ষিত চাবি দায়িত্ব শেষে অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যতীত অন্য কারো নিকট অর্পণ করবেন না; এবং অনুরূপভাবে তার দায়িত্ব স্থলও পরিত্যাগ করবেন না। কোন সেল, ওয়ার্ড বা গেইটের চাবি কারাগারের বাহিরে নেয়া যাবে না এবং কোন বন্দীর নিকট দেয়া। যাবে না। যদি কোন তালার চাবি কোন কারণে হারিয়ে যায়, ঐ তালা বাদ দিতে হবে এবং এর জন্যে দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট হতে এর মূল্য আদায় করা হবে।

বিধি- ১৯০ ৷ কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোন কারণেই রাতের বেলা একাকী কোন ওয়ার্ডে বা বন্দী সেলে যাবেন না। অসুস্থতা বা অন্য কোন জরুরী প্রয়োজনে যেতে হলে আরও একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সঙ্গে নিতে হবে। 

বিধি-১৯১। সকল কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী বাধ্য থাকবেন- 

(১) বন্দী পলায়ন রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক প্রহরা নিশ্চিত করতেঃ বন্দীরা পলায়নের কাজে ব্যবহারের সুযোগ নিতে পারে এমন ভাবে যেন কোন মই, দড়ি,বাঁশ,পয়:নিষ্কাশন পাইপ এবং অন্যান্য বস্তু কারাগারের অভ্যন্তরে না থাকে জেলার ও তার অধস্তনদের তা দেখতে হবে;

(২) কারাবন্দীদের নিকট || আফিম, গাঁজা, বা অন্য কোন নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ রোধ করতে;

(৩) বিধি সম্মত অনুমতি ব্যতীত বাহিরের লোকজনের সঙ্গে বন্দীদের যোগাযোগের চেষ্টা রোধ করতে; এবং কোন সন্দেহ জনক গতিবিধির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট রিপোর্ট করতে । 

বিধি-১৯২। সকল অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বাধ্য থাকবেন-

(১) কারাগার পরিচালনায় সাহায্য করতে এবং কারাগারের শৃংখলা বজায় রাখতে এবং কারাগারের প্রহরা বজায় রাখতে এবং কোন বেআইনী বল প্রয়োগের বিরুদ্ধে কাজ করতে;

(২) উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সকল আইন সম্মত আদেশ কঠোরভাবে পালন করতে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পরিদর্শকগণকে সম্মান করতে, 

(৩) সকল আইন, বিধি, বিধান, আদেশ এবং নির্দেশ যথাযথ ভাবে প্রতিপালন করতে:

(৪) তাদের দায়িত্বে অর্পিত সম্পত্তির যত্ন নিতে।

বিধি-১৯৩। প্রত্যেক জেলার বা তার অধস্তন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন দায়িত্ব বরখেলাপ বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন নিয়ম বা বিধি বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আইন সম্মত আদেশ ভঙ্গ বা অবহেলার জন্য, বা অনুমতি ছাড়া বা দুই মাস পূর্বে তার অভিপ্রায় সম্পর্কে লিখিত নোটিশ প্রদান না করে দপ্তরের কাজ পরিত্যাগ করার জন্যে, বা অনুমোদিত ছুটির অতিরিক্ত অবস্থান করার জন্য, বা অনুমতি ছাড়া কারাগারের কাজ ছাড়া অন্য কাজে নিয়োজিত হবার জন্য, বা কাপুরুষতার জন্য দোষী সাব্যস্ত হবেন।

 

অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি

 

বিধি-১৯৪ । প্রত্যেক অধস্তন কর্মচারী কোন অপরাধের জন্যে দোষী সাব্যস্ত হলে নিম্নোক্ত এক বা একাধিক বিভাগীয় শাস্তি প্রাপ্ত হবেন-

(১) আনুষ্ঠানিক কঠোর তিরস্কার বা ভর্ৎসনা

(২) মাসিক বেতনের অনধিক অর্ধেক জরিমানা করা:

(করণিক বা করণিক সংস্থাপনের সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না) } 

(৩)পাওনা ছুটি বাতিল করে দেয়া; 

(8) পাওনা ছুটি প্রদান বিলম্ব করা;

(৫) দৈনিক এক ঘন্টা করে অনধিক ৭ দিন অতিরিক্ত ড্রিল করানো;

(কারারক্ষী সংস্থাপনের রক্ষীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)

(৬) অনধিক ৬ মাস পর্যন্ত সাময়িক বরখাস্তকরণ;

(৭)পদবী বা বেতন-ভাতাদি বা উভয়ই হ্রাস করণ;

(৮) {প্রদত্ত জামানত বাতিল করণ:

(৯) বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করণ, }

(১০) অফিস এবং বেতন-ভাতাদি হতে বাদ দেয়া;

(১১) চাকরি হতে বরখাস্তকরণ, 

(১২) উপরের যে কোন গুলোর সমন্বয়ে প্রদত্ত শাস্তি । 

নোট। বিভাগীয় শাস্তি ফৌজদারি আইনে প্রদত্ত সাজা হতে ভিন্ন হিসেবে গণ্য হবে, তবে কাউকে একই অপরাধের জন্যে দু’বার শাস্তি দেয়া হবে না। বিধি-২০১ এর আওতায় বরখাস্ত এ বিধিতে দ্বিতীয় শাস্তি বলে গণ্য হবে না।

নং- ১৩৯৮ এইচ জে তারিখ ৪-৪-১৯৩৮ এবং ১৬৯ এইচ জে তারিখ ২৫-১-১৯৫৮ মূলে সংশোধিত ।

টীকা- সরকারী কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল বিধিমালা), ১৯৮৫ জেলারের নিম্নতম পদের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কাজেই বিভাগীয় শাস্তি প্রদানের জন্যে জেলার এবং তদু কর্মকর্তাদের জন্যে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল বিধিমালা), ১৯৮৫ প্রযোজ্য হবে এবং জেলারের নিম্নতম পদের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে জেল কোড প্রযোজ্য হবে। যে সকল কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল বিধিমালা), ১৯৮৫ প্রযোজ্য তাদেরকে জেল কোডে বর্ণিত ধারায় শাস্তি আরোপ করা যাবে না।

বিধি-১৯৫। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদাবনতি, অপসারণ বা বরখাস্তে র শান্তি তার নিয়োগ এবং বরখাস্ত করার ক্ষমতা প্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কার্যকর করা যাবে না ।

বিধি ১৯৬-১৯৯ ৷ অকার্যকর।

বিধি-২০০। কোন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত যে কোন অপরাধের জন্যে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে, শর্ত থাকে যে, সম্ভাব্য শাস্তি প্রদানের জন্যে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি থাকতে হবে; যদি যথেষ্ট প্রমাণাদি না থাকে কিন্তু অপরাধী অপরাধ সংঘটন করেছে মর্মে জেল সুপারের নিকট যুক্তি সংগত ভাবে প্রতীয়মান হলে তিনি ২০৪ বিধি মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।

(১) ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলা মূলক বন্দী পলায়ন করতে দেয়া; 

(২) কারাভ্যন্তরে নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ করানো, বা বন্দীদের কাছে সে সব সরবরাহ করা, বা বন্দীদের সঙ্গে অবৈধ যোগাযোগ রাখা এবং এ সব কাজে সহায়তা করা;

(৩) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারাগারে সরবরাহের ঠিকাদারীর সঙ্গে যুক্ত হওয়া বা কোন সরবরাহকারীর কাছ থেকে কোন উপহার গ্রহণ করা: 

(৪) দণ্ড বিধি বা অন্যান্য ফৌজদারি আইনের আওতায় দণ্ডনীয় উপর্যুপরি কোন অপরাধ করা।

এ ধরনের কোন অপরাধকে তুচ্ছ জ্ঞান বা মার্জনা করা যাবে না, শান্তির মাধ্যমে নাম মাত্র জরিমানা বা শাস্তি দেয়া যাবে না। এ ধরনের কোন বা বিভাগীয় বিষয়ে কোন ফৌজদারি কার্যক্রম গৃহীত না হলে তা কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে।

বিধি-২০১। গুরুতর অপরাধের জন্যে ফৌজদারি আদালতে সাজাপ্রাপ্ত অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে তার কৃত অপরাধের দায়ে অন্য কোন বিভাগীয় শান্তির বিবেচনা না করে চাকরি হতে সরাসরি বরখাস্ত করা হবে এবং কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা যাবে না।

বিধি-২০২। যে সকল অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিম্নোক্ত অপরাধ করবে সাধাণরত তাদেরকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হবে কিংবা আরও গুরুতর অপরাধের প্রমাণ থাকলে কারা আইনের ৫৪(১) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করতে হবে-

(১) যদি মদ্যপ অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে উপস্থিত হয়,

(২) যদি প্রহরা কালে ঘুমায়,

(৩) যদি আত্মরক্ষার প্রয়োজন বা গোলযোগ দমনের প্রয়োজন ব্যতীত কোন বন্দীকে আঘাত করে বা বেআইনী সাজা প্রদান করে, 

(৪) যদি মহিলা বন্দীদের বেষ্টনীতে অবৈধ ভাবে প্রবেশ করে বা অন্য কাউকে প্রবেশ করতে অনুমতি প্রদান করে বা কোন মহিলা বন্দীর সাথে বিধি বহির্ভূতভাবে যোগাযোগ করে, 

(৫) যদি খাদ্য সরবরাহ বা বরাদ্দকালে অনিয়ম করে বা অনিয়মের সময় তা না দেখার ভান করে,

(৬) যদি বিধি ১৮৩ ভঙ্গ করে কোন বন্দীকে ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত করে, 

(৭) যদি জেলার বা অন্য কোন উর্ধতন কর্মকর্তাকে অবজ্ঞা বা অপমান করে।

বিধি-২০৩। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে লঘু দণ্ডের আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে জেল সুপার কর্তৃক কেবলমাত্র উক্ত কর্মচারীর সার্ভিস বইতে তার উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে

বিধি-২০৪ । (১) যখন কোন অধস্তন কর্মচারী এমন কোন অপরাধ করে যে যার জন্য সে চাকরি হত বরখাস্ত বা অপসারিত বা পদাবনতি হতে পারে, তখন জেল সুপার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় তদন্ত করবেন।

(২) এ সমস্ত বিভাগীয় তদন্তের রেকর্ড ২০৫ বিধিতে বর্ণিত উপায়ে হবে এবং অন্তর্ভুক্ত থাকবে-

(ক) অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে গঠিত সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগসমূহ, যার একটি কপি অভিযুক্তকে প্রদান পূর্বক ব্যাখ্যা তলব করতে হবে;

(খ) সাক্ষীদের (যদি থাকে) প্রদত্ত সাক্ষ্য বিবরণী, কোন অসুবিধা না থাকলে অভিযুক্তের উপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ করতে হবে এবং সাক্ষীদের জেরা করার জন্যে অভিযুক্তকে সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ কোন পরিস্থিতি ব্যতীত অভিযুক্তের পক্ষে বা সরকারের পক্ষে নিযুক্ত কোন আইনজীবিকে তদন্ত পরিচালনাকারী কর্মকর্তা বা আপীল কর্মকর্তার সামনে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেয়া যাবে না। 

(গ) অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি সংগত সুযোগ দিতে হবে এবং তা লিখিত আকারে হবে। তা ছাড়া তাকে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য প্রমাণের রেকর্ড দেখার সুযোগ দিতে হবে।

(ঘ) অভিযুক্তের চাকরি বহিতে বা অফিস রেকর্ডে পূর্ব চরিত্র সংক্রান্ত তথ্যাদির বিবরণী:

(ঙ) গঠিত প্রতিটি অভিযোগের বিষয়ে প্রাপ্ত সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ;

(চ) যে শাস্তি আরোপ করা হবে তার সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট উল্লেখ: অথবা তদন্ত পরিচালনাকারী কর্মকর্তার শাস্তি আরোপের ক্ষমতা না থাকলে কি ধরনের শাস্তি আরোপ করা উচিত হবে মর্মে তিনি মনে করেন সে সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট বিবরণী।

(৩) অকার্যকর ।

(৪) সাব্যস্ত শাস্তির রেকর্ড প্রস্তুত করতে হবে: সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে কোন করণিক যারা রেকর্ড তৈরী করা যাবে না।

(৫) যখন শাস্তি প্রদানের আদেশ হবে তখন শাস্তি প্রাপ্ত কর্মচারী উক্ত আদেশের একটি কপি বিনা মূল্যে পাবেন।

(৬) অকার্যকর।

 

অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি

 

বিধি-২০৫। বিভাগীয় মামলার কার্য বিবরণীতে নিম্নোক্ত বিষয়াদি ধারাবাহিক ভাবে থাকবে-

(১) অভিযুক্ত কর্মচারীর নাম, পদবী এবং গ্রেড; 

(২) অভিযোগ সমূহ-(অভিযোগ সমূহ সুনির্দিষ্ট হবে, প্রতিটি অভিযোগ পৃথক ভাবে লিখতে হবে এবং পৃথক ক্রমিক নম্বর প্রদান করতে হবে এবং অপরাধ সংঘটনের তারিখ, বর্ণনা এবং ধরন উল্লেখ করতে হবে)। 

(৩) সাক্ষ্য প্রমাণাদি- সাক্ষ্য গৃহীত হলে তার কপি কার্য বিবরণীর সংগে সংযুক্ত করতে হবে।

(৪) অভিযুক্তের জবার বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থন । 

(৫) মন্তব্য (সাক্ষ্য প্রমাণ এবং অভিযুক্তের জবাবের উপর মন্তব্য) ।

(৬) চরিত্র- (অভিযুক্তের চাকরিতে নিয়োগের তারিখ পূর্ব শাস্তি সমূহ এবং পুরস্কার প্রভৃতি)।

(৭) আদেশ।

(৮) আদেশসমূহ-যদি খোৱাকী ভাতা, পেনশন প্রভৃতি সম্পর্কে কোন আদেশ থাকে। 

বিধি-২০৬। তদন্ত কার্যের সকল বিবরণী আদেশের জন্যে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করতে হবে, তবে যে ক্ষেত্রে জেল সুপার নিজেই নিয়োগকারী সে ক্ষেত্রে তিনি নিজেই আদেশ প্রদান করবেন।

বিধি-২০৭। কোন অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বরখাস্ত বা অপসারণ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারের বাসা ছেড়ে দিতে হবে এবং তাদেরকে কারাগার আস্তিনায় পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। কোন সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মচারীর বিভাগীয় মামলা অনিষ্পন্ন থাকলে এবং তার পরিবর্তে অন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান না করা হলে তিনি সরকারী বাসায় থাকতে পারবেন। সাময়িক বরখাস্তকৃত কোন কর্মচারীকে কারাগারে বা কারাগার অফিসে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না এবং কোন বন্দীর সাথে যোগাযোগ করতে দেয়া হবে না।

বিধি-২০৮। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে অধস্তন কর্মচারীগণের দাবীকৃত ভাতা ফান্ডামেন্টাল রুলস ৪২,৪৩ এবং ৫৩ দ্বারা নির্ধারিত হবে ।

টীকা-১। ফান্ডামেন্টাল রুল ৪১ ও ৪৩ বর্তমানে কার্যকর নেই। একজন অধস্তন কর্মচারী সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তার বেতনের এক-তৃতীয়াংশ পরিমান ভাতা প্রাপ্য হবেন (ফান্ডামেন্টাল রুলস ৫৩)।

বিধি-২০৯। কারা মহাপরিদর্শক স্বেচ্ছায় কিংবা কোন সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির আপীলের পরিপ্রেক্ষিতে জেল সুপার কর্তৃক ২০৪ ধারায় গৃহীত কোন কার্যক্রমের রেকর্ড তলব করতে পারবেন এবং পুনর্বিবেচনা পূর্বক প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করতে পারবেন ।

বিধি-২১০। জেল সুপারে আদেশের বিরুদ্ধে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট আপীল করতে হবে। চাকরিরত কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে তাদের আবেদন লিখিতভাবে করতে হবে এবং জেল সুপারের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে। প্রত্যেক আবেদনের সঙ্গে জেল সুপারের আদেশের কপি সংযুক্ত করতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-২১১। আদেশ প্রাপ্তির দুই মাসের মধ্যে ২১২ বিধি মোতাবেক আপীল করতে হবে। আপীলকারীর অপ্রয়োজনীয় এবং বিরক্তিকর বক্তব্য কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক অবাধ্যতা বলে গণ্য করা হবে।

বিধি-২১২ । অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আপীলের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিধান অনুসরণ করতে হবে-

(১) বিভাগীয় শান্তি হিসেবে (ক) বরখাস্ত (খ) অপসারণ (গ) সাময়িক বরখাস্ত (ঘ)পদাবনতি (ঙ) পদোন্নতি বা বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত (চ) জরিমানা করা হলে আপীল করা যাবে

(২) যে কর্তৃপক্ষ শাস্তি প্রদান করছেন তার এক ধাপ উপরের কর্তৃপক্ষের নিকট শাস্তি প্রাপ্ত কর্মচারীর একবার আপীল পেশ করার অধিকার রয়েছে।

(৩) দ্বিতীয় বার আপীল করা যাবে না।

(৪) কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক নিয়োগকৃত কোন কর্মকর্তা- কর্মচারী কর্তৃক স্বরাষ্ট্র সচিব বরাবরে আপীল করতে হবে। কারা মহাপরিদর্শক যে ক্ষেত্রে আপীল কর্তৃপক্ষ, সে ক্ষেত্রে আপীল আবেদনের উপর তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

 

অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি
অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংক্রান্ত বিধি

 

বিধি-২১৩ । নিয়োগ লাভের পর প্রত্যেক নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ও কর্মচারী তার নিজ খরচে একটি সার্ভিস বই সংরক্ষণ করবেন। এতে সে সব সকল বিষয় রেকর্ড করতে হবে যার উপর তার পেনশন নির্ভর করে এবং তার চাকরির সকল পর্যায় তাতে লিপিবদ্ধ করতে হবে। এতে নিয়োগের সকল তথ্যাদি এবং বদলি, ছুটি, বেতন প্রভৃতির পরিবর্তন, অপরাধ এবং শাস্তি (ধারাবাহিক ক্রমিকে) শাস্তির সক্ষিপ্ত কারণসহ লিপিবদ্ধ করতে হবে।

কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চরিত্র বা তার সম্পর্কে ভাল মন্দ বিষয় কিংবা তার কাজের ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন সার্ভিস বইতে লিপিবদ্ধ করা হবে না। তবে কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক বা তার মাধ্যমে প্রদত্ত অফিসিয়াল কোন প্রশংসা বা পুরস্কার প্রদানের বিষয় তাতে লিপিবদ্ধ করা হবে।

(২) সার্ভিস বইতে সকল রেকর্ড জেল সুপারের পূর্ণ স্বাক্ষরে লিপিবদ্ধ হবে এবং কারারক্ষী সংস্থাপনের জন্যে সার্ভিস রেজিষ্টার সংরক্ষণ করতে হবে।

(৩) সার্ভিস বই জেলারের এবং উৎপাদন বিভাগের ক্ষেত্রে ডেপুটি জেল সুপারের হেফাজতে অফিসে রাখতে হবে। কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বদলি হলে সকল প্রয়োজনীয় অর্ন্তভুক্তি শেষে এবং যাচাইতে তার সার্ভিস বই সাত দিনের মধ্যে বদলিকৃত কারাগারের জেল সুপারের নিকট রেজিষ্টার্ড খামে প্রেরণ করতে হবে।

নোট- নিম্ন শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্যে সার্ভিস বইয়ের পরিবর্তে সার্ভিস রোল সংরক্ষণ করতে হবে।

নং-২৯৫৬ এইচ জে, তারিখ ৩-৯-১৯৪১ মূলে প্রতিস্থাপিত। 

বিধি-২১৪ । এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, প্রত্যেক সার্ভিস বই বা সার্ভিস রোল যত্নের সাথে এবং নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রত্যেক পরিবর্তন যথাযথভাবে সত্যায়ন করে রাখতে হবে, না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পেনশনের আবেদন যাচাই কালে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিধি-২১৫ ৷ প্রত্যেক নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে একটি সার্ভিস রেকর্ড (জেল ফরম নং-৯৬) সংরক্ষণ করতে হবে যা সার্ভিস বইয়ের সাথে সংযুক্ত করে রাখতে হবে। এ বইতে থাকবে-

(১) “ডিক্লারেশন ফরম”-জেল ফরম নং-৮৯

(২) “ভেরিফিকেশন রোল”-জেল ফরম নং-৯৫

(৩) “ ইউনিফর্ম ইস্যুর রেকর্ড”

(৪) “সার্ভিস ভেরিফিকেশন”

(৫) “পরীক্ষার ফলাফল”

(৬) “পেনাল্টি বন্ড”–জেল ফরম নং-৯০ ।

কভারের উপরের নির্দেশাবলীর প্রতি জেলারকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

বিধি-২১৬। জেল সুপার সকল অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সার্ভিস রেকর্ড লিপি বদ্ধ করবেন এবং পে লিস্ট ও একুইটেন্স রোল হতে সকল প্রয়োজনীয় তথ্য স্বাক্ষর প্রদান পূর্বক তাতে রেকর্ড করবেন। জেলার লক্ষ্য রাখবেন কোন কারারক্ষী বদলি হলে যেন তার সার্ভিস রোল এবং সার্ভিস রেকর্ড যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করার পর প্রেরণ করা হয়।

বিধি-২১৭। {কারারক্ষীর উপরের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্যে কারা মহা পরিদর্শকের দপ্তরে ব্যক্তিগত নথির আকারে একটি চারিত্রিক রোল সংরক্ষণ করতে হবে যার মধ্যে জেল সুপার প্রেরিত ত্রৈমাসিক গোপনীয় প্রতিবেদন হতে কারা মহাপরিদর্শক মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন। এতে পুরস্কার, শাস্তি, বদলি, ছুটি এবং পদোন্নতি প্রভৃতি বিষয়ের রেকর্ড লিপিবদ্ধ করতে হবে। 

(২) চারিত্রিক রোলে রেকর্ড সন্নিবেশ করার জন্যে প্রধান কারারক্ষীর ঊর্ধ্বতন সকল নির্বাহী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর গোপনীয় প্রতিবেদন ১২১ নম্বর জেল ফরমে এবং সকল প্রধান করণিক, করণিক, প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক, কম্পাউন্ডার, সাধারণ এবং উৎপাদন উভয় বিভাগের টেকনিক্যাল স্টাফ প্রভৃতির গোপনীয় প্রতিবেদন ১২২ নম্বর জেল ফরমে জেল সুপার কর্তৃক কারা মহাপরিদর্শকের অফিসে প্রেরণ করতে হবে।

(৩) জেল সুপার গোপনীয় প্রতিবেদন প্রদান করবেন- (ক) বৎসরান্তে জানুয়ারি মাসে এবং (খ) জেল সুপার কিংবা যার প্রতিবেদন প্রদান করা হবে তিনি বদলি হলে সে সময়।

(৪) জেল সুপার যথাযথ সতর্ক বিবেচনাপূর্বক গোপনীয় প্রতিবেদনে তার মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন যাতে কারা মহাপরিদর্শকের অফিসে রক্ষিত চারিত্রিক রোলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রতিবেদনকালীন সময়ের কাজ সম্পর্কে সঠিক চিত্র ফুটে উঠে।

(৫) কারা মহাপরিদর্শক বার্ষিক পরিদর্শনের সময় গোপনীয় প্রতিবেদনে তার মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন।

(৬) সকল বিরূপ মন্তব্য এবং ত্রুটি সম্পর্কে প্রতিবেদন অধীন কর্মকর্তা- কর্মচারীকে লিখিতভাবে সরাসরি জানাতে হবে। এ সময় তাকে বিরূপ মন্তব্য বা ত্রুটি উল্লেখিত প্রতিবেদনের কপি প্রেরণ করতে হবে।

(৭) সকল সর্ব প্রধান কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী এবং সার্কেল রক্ষী (মেট্রন এবং মহিলা কারারক্ষীসহ) এর সার্ভিস রেজিষ্টার (জেল রেজিষ্টার নম্বর-৪) সার্কেল কারাগারের অফিসে রক্ষিত হবে।।

নং-২১৫৬ এইচ জে, তারিখ ৩-৯-১৯৪১ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি -২১৮। প্রত্যেক বছর ১লা অক্টোবর তারিখে জেলার, ডেপুটি জেলার, প্রধান করণিক, জেল করণিক, প্রধান কারারক্ষী ও কারারক্ষী প্রভৃতি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর একটি বার্ষিক তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

বিধি-২১৯। বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির জন্যে ফান্ডামেন্টাল রুলসের ২৪ এবং ২৫ বিধি অনুসরণ করতে হবে।

টীকা-১ স্থগিত না করা হলে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই উত্তোলন যোগ্য হবে। একজন সরকারী কর্মচারীর বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি কেবলমাত্র সরকার কিংবা সরকার কর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত কর্তৃপক্ষ স্থগিত করতে পারে, যদি তার আচরণ ভাল না হয় কিংবা তার কাজ সন্তে াষজনক না হয়। বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের আদেশ প্রদানকালে কত মেয়াদের জন্য তা স্থগিত থাকবে এবং এই স্থগিতাদেশের ফলে ভবিষ্যতে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির উপর কোন প্রভাব পড়বে কিনা তার উল্লেখ করতে হবে (বিধি-২৪, ফান্ডামেন্টাল রুলস)।

টীকা-২। যখন কোন টাইম স্কেলে দক্ষতা সীমা বিদ্যমান থাকে তখন দক্ষতা সীমা অতিক্রম করে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি করা যাবে না, যতক্ষণ বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার ক্ষমতা সম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তা অনুমোদন দেয়া না হয় (বিধি-২৫. ফাণ্ডামেন্টাল রুলস)।

বিধি-২২০। কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশনের ক্ষেত্রে বেসামরিক চাকরি বিধির নিয়মাবলী প্রযোজ্য হবে। কারারক্ষীদের পেনশনের জন্যে উচ্চতর স্কেল গণনা করা হবে। অবসর গ্রহণের পর পেনশন বা গ্রাচ্যুইটির জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট সার্ভিস বই বা সার্ভিস রোলসহ আবেদন পত্র দাখিল করতে হবে। পেশকৃত সার্ভিস বই জেল সুপার কর্তৃক প্রতিপাদন করা থাকতে হবে। এ উদ্দেশ্যে অবসর গ্রহণকারী যে কারাগারে হতে অবসর গ্রহণ করবেন সে কারাগারের জেল সুপারের নিকট অবসর গ্রহণের অনধিক ছয় মাস পূর্বে সার্ভিস বই প্রতিপাদনের জন্যে পেশ করবেন যাতে চাকরি পরিত্যাগের পূর্বেই সকল কিছু যাচাই করা যায়।

বিধি-২২১। কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক ফান্ডামেন্টাল রুলস মোতাবেক অধস্তন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি (নৈমত্তিক ছুটি ব্যতীত) মঞ্জুর করা হবে। মেডিকেল অফিসার ব্যতীত অন্য যে যে কান অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জেল সুপার নৈমত্তিক ছুটি মঞ্জুর করতে পারেন, তবে শর্ত থাকে যে এক বছরে মোট মঞ্জুরীকৃত নৈমত্তিক ছুটির পরিমাণ {বিশ} দিনের বেশী হবে না।

এক সঙ্গে কত দিন নৈমত্তিক ছুটি দেয়া হবে তা জেল সুপারের বিবেচনাধীন থাকবে। মঞ্জুরীকৃত নৈমত্তিক ছুটির হিসাব নৈমত্তিক ছুটি রেজিষ্টারে ( ১০৭ নম্বর ফরমে) সংরক্ষণ করতে হবে। কারা মহাপরিদর্শক জেল সুপারগণকে এক পঞ্জিকা বছরে অনধিক {বিশ } দিন নৈমত্তিক ছুটি প্রদানে ক্ষমতাবান।

বিধি-২২২। নৈমত্তিক ছুটি ব্যতীত অপরাপর ছুটির জন্যে জেলার, ডেপুটি জেলার বা জেল করণিক কর্তৃক ছুটি ভোগ শুরু হবার তিনমাস পূর্বে ৪০ নম্বর ফরমে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট আবেদন পেশ করতে হবে। অসুস্থতা এবং জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত, ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাসে যখন বার্ষিক পরিসংখ্যান এবং রিপোর্ট প্রনয়নের কাজ চলে তখন তা দাখিল না হওয়া পর্যন্ত কোন ছুটি মঞ্জুর করা যাবে না।

বিধি-২২৩। বিধিতে অনুমোদন থাকলে জেলা কারাগারের জেল সুপার তার কারাগারের কারারক্ষীকে অনুরূপ ছুটি মঞ্জুর করতে পারেন, তবে শর্ত থাকে যে, (১) মঞ্জুরীকৃত ছুটির পরিমাণ চার মাসের বেশী হবে না এবং (২) ছুটিকালীন কাজের দায়িত্ব প্রয়োজনে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় চালিয়ে নিতে হবে।

যদি স্থানীয় ব্যস্থাপনায় চালিয়ে নেয়া সম্ভব না হয় কিংবা প্রার্থীত ছুটির পরিমাণ চার মাসের অধিক হয় তখন বিষয়টি সার্কেল জেল সুপারের নিকট প্রেরণ করতে হবে যিনি প্রয়োজনে ছুটিকালে প্রতিস্থাপক প্রদান করতে পারেন। সার্কেল জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত কোন প্রধান কারা রক্ষীর নৈমত্তিক ছুটি ব্যতীত অন্য কোন ছুটি প্রদান করা যাবে না ৷ জেল সুপার কোন ছুটির আবেদন অগ্রগামী করার সময় তিনি তাতে সুপারিশ করেছেন কিনা তার উল্লেখ করবেন। অসুস্থতা জনিত ছুটির ক্ষেত্রে মেডিকেল অফিসারের মতামত প্রয়োজন হবে।

বিধি-২২৪। অকার্যকর

বিধি-২২৫। কারাগারে কোন অস্বাভাবিক অসুস্থতার প্রাদুর্ভাব ঘটলে বা সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপস্থিত থাকা আবশ্যক এমন অবস্থার উদ্ভব হলে সকল প্রকার ছুটি বন্ধ করার এবং যারা ছুটি ভোগরত রয়েছে তাদেরকে ডেকে নেয়ার জন্যে জেল সুপারের ক্ষমতা থাকবে।

জেল কোড অনুযায়ী ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকে আমরা ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের  কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।

 

ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট
ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট

 

ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী

বিধি ১৫১ । প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগারে যেখানে বিশেষ ধরনের শিল্প কারাখানা রয়েছে সেখানে উৎপাদন বিভাগের সকল শাখার কাজ তত্ত্বাবধানে পারদর্শী একজন উৎপাদনকারী থাকবেন। এ ধরনের নিয়োগ সরকারের বিশেষ অনুমোদনক্রমে বিশেষ চুক্তি অনুযায়ী হবে।

বিধি-১৫২। এই কর্মকর্তাকে ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট হিসেবে অভিহিত করা হবে। পদ মর্যদায় তিনি জেলারের ঊর্ধ্বতন হবেন। কারাগারের বিধি-বিধান এবং জেল সুপারের নির্দেশনাবলী সাপেক্ষে নিজের বিভাগ সম্পর্কিত তার প্রদত্ত সকল আদেশ জেলার প্রতিপালন করতে বাধ্য থাকবেন।

বিধি-১৫৩। কারাগারের একজন কর্মকর্তা হিসেবে কারাগারের সকল বিধি বিধান সম্পর্কে তিনি সমাক জ্ঞান লাভ করবেন এবং তিনি তা যথাযথভাবে প্রতিপালন করবেন এবং জেল সুপার এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করবেন। জরুরী প্রয়োজনে যে কোন সময়ে তিনি সহযোগিতা প্রদান করবেন।

 

ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট
ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট

 

বিধি-১৫৪। জেল সুপারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে এবং তার আদেশ প্রতিপালন সাপেক্ষে কারাগারের সুবিধাজনক উৎপাদন কাজে নিজের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিয়োজিত করতে তিনি বাধ্য থাকবেন ।

বিধি-১৫৫। উৎপাদন বিভাগের কাঁচামাল এবং উৎপাদিত দ্রব্য উভয় প্রকারের সকল ষ্টোর, হিসাব প্রভৃতি তার তত্ত্বাবধানাধীন থাকবে এবং তিনি সে সবের নির্ভুল হিসাব সংরক্ষনের জন্যে দায়ী থাকবেন।

বিধি-১৫৬। তার কাছে একটি রিপোর্ট বা আদেশের বই (রেজিষ্টার নং-১) থাকবে যাতে তিনি জেল সুপারের আদেশ প্রয়োজন এমন বিষয়সমূহ লিপিবদ্ধ করবেন, যেমন-বন্দীর চাহিদাপত্র, দ্রব্যাদি, যন্ত্রপাতি বা প্ল্যান্ট, স্কেল এবং মালামাল বাহিরে পাঠানো এবং তার বিভাগ সংক্রান্ত যে কোন প্রকারের সুপারিশ। তিনি তার বিভাগ সংক্রান্ত কোন বিষয়ে জেলার বা অন্য কোন অধস্ত নকে প্রদত্ত যে কোন গুরুত্বপূর্ণ আদেশও তাতে লিপিবদ্ধ করবেন।

ডান দিকের পৃষ্ঠায় জেল সুপার তার আদেশসমূহ রেকর্ড করবেন কিংবা সংশ্লিষ্ট অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে প্রদত্ত আদেশের উপর তিনি যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তা নোট করবেন। উৎপাদন সম্পর্কে জেল সুপারের যে কোন আদেশও এই বইতে লিপিবন্ধ করা হবে।

বিধি-১৫৭। তিনি তার অধীনে কাজ করা প্রত্যেক বন্দীর চরিত্র এবং শ্রম সম্পর্কে নিজেকে যথাসম্ভব অভিজ্ঞজ্ঞ করবেন এবং বন্দীর রেয়াত প্রদান ও ভাল কাজের জন্যে বিশেষ পুরস্কার প্রদানের জন্যে জেল সুপারকে সাহায্য করবেন। তিনি কোন বন্দীর কাজের অলসতা করার জন্যে কিংবা কারাগারের নিয়ম ভঙ্গের অপরাধে শাস্তি প্রদানের জন্যেও জেল সুপারের নিকট রিপোর্ট করবেন।

 

ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট
ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট

 

 

বিধি-১৫৮। কারাগারের সীমানায় তার জন্যে বিনা ভাড়ায় বাসার ব্যবস্থা করা হবে এবং তিনি সেখানে বসবাস করবেন। জেল সুপারের অনুমতি ব্যতীত তিনি তার কাজ হতে অনুপস্থিত থাকবেন না, যদি তিনি অসুস্থ না থাকেন, সে ক্ষেত্রে তাকে মেডিকেল অফিসার প্রদত্ত অসুস্থতার সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে।

বিধি-১৫৯। চুক্তিতে অন্যরূপ উল্লেখ না থাকলে ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্টের ছুটি, ভ্রমণভাতা প্রভৃতি ফান্ডামেন্টাল ও সাবসিডিয়ারি রুলস দ্বারা হবে এবং পেনশন বেসামরিক কর্মচারীদের বিধানের অধীনে নিয়ন্ত্রিত হবে।

Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class