আজকে আমরা কারাগারের কম্পাউন্ডার সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।
কারাগারের কম্পাউন্ডার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
বিধি-১৩৭। কারাগার সমূহের জন্যে নিয়োগকৃত কম্পাউন্ডাদেরকে যথাযথভাবে মান সম্মত হতে হবে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক বাছাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কারাগারের মেডিকেল অফিসারগণ কম্পাউন্ডার পদ শূণ্য হলে ঐ পদের জন্যে প্রার্থীদের নাম কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে পারেন।
বিধি-১৩৮। কারা মহাপরিদর্শকের আদেশ মোতাবেক কম্পাউন্ডারগণ যে কোন কারাগারে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য থাকবেন।
বিধি-১৩৯। বিধি ১০৯ ও ১১০ এবং অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যে এই অধ্যায়ে বর্ণিত বিধানাবলী কম্পাউন্ডারদের জন্যেও প্রযোজ্য হবে যদি বিধিগত কোন পার্থক্য না থাকে। কম্পাউন্ডার কোন সময় কারাগারে কাজ করবেন এবং কি কি কাজ করবেন মেডিকেল অফিসার তার মিনিট বইতে তা নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করবেন ।
বিধি-১৪০। কম্পাউন্ডার মেডিকেল সাব অর্ডিনেটের সকল আদেশ প্রতিপালন করবেন যদি তা মেডিকেল অফিসারের নির্দেশ এবং এই কোডের বিধি-বিধানের সাথে অসামঞ্জস না হয়।
নোট। কারা আইনের ৩(৮) ধারায় মেডিকেল সাব অর্ডিনেট বলতে সহকারী সার্জন, ঔষধ প্রস্তুতকারী বা উপ-সহকারী সার্জন বুঝানো হয়েছে।
বিধি-১০৬। কারাগারে সেবা প্রদানের জন্যে উপ-সহকারী সার্জন { মহা- পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর | কর্তৃক প্রণীত রোষ্টার অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে। যে সকল উপ-সহকারী সার্জনের । দুই বৎসর ধারবাহিকভাবে অস্থায়ী বা স্থায়ী } চাকরিকাল পূর্ণ হয়েছে তাদের নাম এই রোষ্টার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং তারা কারা বিভাগে তাদের চাকরির পর্ব শুরু করবেন। উপ-সহকারী সার্জনগণ কারা বিভাগে ছুটিসহ সর্বাধিক ৫ বছর প্রেষণে কাজ করবেন।
এ সময়ে তারা কারা মহাপরিদর্শকের অধীনে ন্যস্ত থাকবেন এবং তার সম্মতি ব্যতীত তাদেরকে প্রত্যাহার করা যাবে না। সাধারণত: কোন উপ-সহকারী সার্জনকে দ্বিতীয়বার কারা বিভাগে ন্যস্ত করা হবে না। এমন হতে পারে যে কোন উপ-সহকারী সার্জন চাকরির প্রাথমিক পর্যায়ে কারা বিভাগে চাকরি করার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। সে কারণে রোষ্টার করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা সম্পন্নদেরকে যেন মনোনীত করা হয়।
কারাগারে সংযুক্ত উপ-সহকারী সার্জনকে কারাগারের দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে কেবল মাত্র অনিবার্য জরুরী প্রয়োজনে কারাগার যে শহরে অবস্থিত সে শহরের সদর বা পুলিশ হাসপাতালে জেল সুপারের পূর্ব সম্মতিক্রমে সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রেষণে সাময়িকভাবে নিয়োজিত করা যাবে। কোন অবস্থাতেই তাকে কারাগার যে শহরে অবস্থিত সে শহরের সদর দপ্তরের বাহিরের কোন হাসপাতালে নিয়োজিত করা যাবে না।
অনুরূপভাবে জেল সুপারের পূর্ব সম্মতিক্রমে অনিবার্য জরুরী প্রয়োজনে শহরের সদর বা পুলিশ হাসপাতালে কর্মরত উপ-সহকারী সার্জনকে সিভিল সার্জন কর্তৃক কারাগারের হাসপাতালে প্রেষণে সাময়িকভাবে নিয়োজিত করা যাবে। নৈমত্তিক ছুটিসহ উপ-সহকারী সার্জনের যে কোন প্রকার ছুটির আবেদন জেল সুপারের মাধ্যমে দাখিল করতে হবে এবং এ সময় পূর্বেই জেল সুপারের সম্মতিক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
নং- ৩০৬৬ এইচ জে তারিখ ৩১-১২-১৯৪০ মূলে সংশোধিত।
নং- ৭২০ এইচ জে তারিখ ৩-৫-১৯৫৫ মূলে সংযোজিত।
নোট-১। উপ-সহকারী সার্জন পদ দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড পদ। পূর্বে এল এম এফ ডিপ্লোমাধারী উপ-সহকারী সার্জনগণকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হতে কারা হাসপাতালে প্রেষণে নিয়োগ করা হতো। বর্তমানে এল এম এফ কোর্স চালু না থাকায় উপ-সহকারী সার্জন নিয়োগ করা হয় না।
নোট-২। জেল কোডে উল্লেখ থাকলেও কারাগার সমূহে মেডিকেল অফিসারের কোন বাস্তব পদ নেই। বর্তমানে প্রত্যেক কারাগারে একজন প্রথম শ্রেণীর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রয়েছেন, তার পদবী সহকারী সার্জন সহকারী সার্জনের অধীনে ফার্মাস্টি ও ডিপ্লোমা নার্স রয়েছে।
কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট
বিধি-১০৭-১০৮। অকার্যকর।
বিধি-১০৯। (১) কারা হাসপাতালের রোগী এবং অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত লোকদের খাদ্য, পোশাক এবং চিকিৎসা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট মেডিকেল অফিসারের নির্দেশ মান্য করবেন এবং সময়ে সময়ে মেডিকেল অফিসার কর্তৃক তার উপর আইন সম্মতভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। কারাগারের শৃঙ্খলা এবং সাধারণ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি যথাক্রমে জেল সুপার এবং জেলারের আদেশ পালন করবেন।
(২) প্রত্যেক কারাগারে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট তার রিপোর্ট বইতে (রেজিষ্টার নম্বর-১) রেকর্ড লিপিবদ্ধ করবেন এবং জেল সুপার ও জেলার যে সকল আদেশ প্রদান করবেন তা মেডিকেল অফিসারকে দেখাবেন।
বিধি-১১০। যখন কোন কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন মেডিকেল সাব অর্ডিনেট এবং একজন কম্পাউন্ডার থাকেন, মেডিকেল অফিসার যে রকম নির্দেশ প্রদান করবেন তারা পালাক্রমে সে রকমভাবে ডিউটি করবেন ।
তবে শর্ত থাকে যে, তাদের যে কোন একজনকে দিনের যে কোন সময় কারাগারে উপস্থিত থাকতে হবে এবং অসুস্থ বা কাজের অযোগ্য না হলে অপরজন দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি কারাগার ত্যাগ করতে পারবেন না। তাদেরকে পালা ক্রমে রাত ১০-০০ টা থেকে সকালে আন-লক না হওয়া পর্যন্ত কারা হাসপাতালে ঘুমাতে হবে। মেডিকেল অফিসার যখন রোগী দেখবেন সে সময়ে এবং তিনি যেরূপ উচিত বিবেচনা করবেন সে সময়ে তাদেরকে কারাগারে উপস্থিত থাকতে হবে।
যখন কারাগারে একজন মাত্র মেডিকেল সাব অর্ডিনেট থাকেন এবং যদি কেবল কারাগারে রোগী দেখা তার একমাত্র কাজ হয় তা হলে তিনি খাবার গ্রহণের সময় ব্যতীত দিনের বেলায় অবশিষ্ট সকল সময়ের জন্যে কারাগারে উপস্থিত থাকবেন। যদি পার্শ্ববর্তী কোন প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট কারাগারে সংযুক্ত থাকেন তবে তিনি সকালে দিনের অন্য কাজ শুরু করার আগে একবার এবং বিকালে লক-আপের আগে আরেকবার কারাগারের রোগীদেরকে দেখবেন।
কোন রোগীর মারাত্মক অসুস্থতার সময়ে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট রাতের বেলায় ঘন ঘন হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন এবং যে সকল ঔষধ এবং পথ্য ব্যবস্থাপত্রে লিখা হয়েছে সেগুলো ঠিক মতো বরাদ্দ করা হয়েছে কিনা তা দেখবেন। তাকে আহবান করা মাত্র কাজে যাবার জন্যে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে ।
বিধি-১১১। ওয়ার্ড খোলার প্রাক্কালে তিনি দেখবেন বন্দীদের কেউ অসুস্থতার কথা বলছে কিনা। যদি প্রয়োজন হয় তিনি তাদেরকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে। পাঠাবেন, যদি তা প্রয়োজন মনে না করেন তবে তাদেরকে তিনি মেডিকেল অফিসার আসার পর তার সামনে উপস্থিত করবেন। তিনি রেজিষ্টারের ফরমে বা একটি তালিকায় দৈনিক মেডিকেল পর্যবেক্ষণে রাখা সকল বন্দীর হিসাব রাখবেন।
তিনি আরও দেখবেন বাহির কাজে যাওয়া গ্যাংয়ের বন্দীদের মধ্যে যাদের প্রয়োজন তাদেরকে ঔষধ বারদ্দ দেয়া হয়েছে কিনা। অতঃপর তিনি হাসপাতালে যাবেন এবং রোগীদেরকে ভিজিট করবেন এবং তাদের প্রয়োজন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, একই সঙ্গে তিনি মেডিকেল অফিসারের অবগতির জন্যে বেড হেড টিকেটে রোগীদের অবস্থা বা উন্নতির রেকর্ড লিপিবদ্ধ করবেন।
বিধি-১১২। তিনি প্রত্যেক দিন সকালে ‘কনভাল্যাসেন্ট’ ও ‘স্পেশাল’ গ্যাং এবং পর্যবেক্ষণে রাখা বন্দীদের ভিজিট করবেন। যাদের প্রয়োজন তাদেরকে ঔষধ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে কিনা এবং নির্দেশ মোতাবেক তারা খাদ্য, পোশাক বেডিং এবং অন্যান্য সকল জিনিস পাচ্ছে কিনা দেখবেন। যদি মেডিকেল অফিসারের অনুমতি ছাড়া কোন বন্দী কনভাল্যাসেন্ট বা স্পেশাল গ্যাং হতে বাহির হয়ে যায়, তা হলে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট বিষয়টি মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন।
বিধি-১১৩। তিনি সেলে আটক বন্দীদেরকে দৈনিক একবার ভিজিট করবেন এবং তাদের কোন অনুযোগ থাকলে তা মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন।
কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট
বিধি-১১৪। সকল ঔষধ ঠিকভাবে প্রস্তুতের জন্যে, ঔষধ আলমারীতে তালাবদ্ধ করে রাখার জন্যে এবং বিষাক্ত ঔষধ পৃথক ভাবে রাখার জন্যে তিনি দায়ী। থাকবেন। তিনি হাসপাতাল ডায়েট বই লিখবেন এবং যথোপযুক্ত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিকট চাহিদাপত্র পেশ করবেন। অসুস্থদের খাদ্য সঠিকভাবে প্রস্তুত এবং বিতরণ হচ্ছে কিনা তিনি দেখবেন।
বিধি-১১৫। তিনি সকল হাসপাতাল রেজিষ্টার ও রিটার্ন হালনাগাদ লিপিবন্ধ করবেন, নিয়মিত প্রস্তুত রাখবেন এবং মেডিকেল অফিসারের নিকট মাসে একবার পেশ করবেন ।
বিধি-১১৬। সার্জিকেল যন্ত্রপাতি ভাল ও নিরাপদে রাখার রাখার জন্যে এবং হাসপাতালের ব্যবহারের জন্যে বরাদ্দকৃত পোশাক, বেডিং, কম্বল প্রভৃতি পরিষ্কার রাখার জন্যে তিনি দায়ী থাকবেন। ষ্টকে কোন ঘাটতি থাকলে মেডিকেল অফিসারের নিকট রিপোর্ট করবেন।
বিধি-১১৭। তিনি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, নিয়ম-বিধি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যে দায়ী থাকবেন এবং লক্ষ্য রাখবেন সকল বিধি মানা হচ্ছে কিনা, কম্পাউন্ডার এবং হাসপাতাল এটেন্ডেন্টেরা ঠিক মতো তাদের দায়িত্ব পালন করছেন কিনা এবং হাসপাতাল এটেন্ডেন্টের সংখ্যা ঘাটতি বা অতিরিক্ত রয়েছে কিনা।
বিধি-১১৮। যখন কোন বন্দী মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে যে তার জন্যে বিশেষ অসুস্থতার এটেন্ডেন্ট প্রয়োজন হয় মেডিকেল সাব অর্ডিনেট তখন মেডিকেল অফিসারের নিকট থেকে এ বিষয়ে আদেশ গ্রহণ করবেন। মেডিকেল অফিসার এ কাজে একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে নিয়োগের জন্যে জেল সুপারের নিকট আবেদন করবেন।
যদি মেডিকেল অফিসার নিজেই জেল সুপার হন তবে তিনি এ কাজে একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে নিয়োগ করবেন এবং বিষয়টি সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করবেন। কোন অসুস্থ বন্দীর এটেন্ডেন্টকে জেল সুপারের লিখিত আদেশ ব্যতীত তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা যাবে না। যে সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে হাসপাতালে সাধারণ বা অসুস্থ
বন্দীর এটেন্ডেন্ট নিয়োগের জন্যে মনোনীত করা হবে তা রেকর্ড করতে হবে এবং অনুরূপ দায়িত্বের বিবরণ বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করত েহবে। জেল সুপারের লিখিত অনুমতি ব্যতীত এ তালিকা বাতিল করা যাবে না।
বিধি-১১৯। যে সকল বন্দীর অসুস্থ হবার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের প্রতি তিনি সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখবেন এবং এ ধরনের ঘটনা মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন। মানসিক অসুস্থ হিসেবে সন্দিগ্ধ বন্দীদেরকে তিনি দৈনিক পরীক্ষা করে দেখবেন এবং তাদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন।
বিধি-১২০। তিনি প্রায়শ: বিভিন্ন প্যারেডে উপস্থিত থাকবেন এবং যে সকল বন্দীকে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায় তাদেরকে চিকিৎসার জন্যে পৃথক করবেন।
বিধি-১২১। তিনি অস্ত্রের রোগে আক্রান্ত সকল বন্দীদেরকে পৃথক ওয়ার্ডে চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করবেন এবং এ সব অফিসারের মল মেডিকেল অফিসারের দ্বারা ভিজিটের ব্যবস্থা করবেন। মেডিকেল অফিসারের ভিজিটের পর মল যথানিয়মে জীবাণুমুক্ত করে সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করবেন। যখন মেডিকেল অফিসার কারাগার ভিজিট করবেন তখন মেডিকেল সাব-অর্ডিনেট তার সঙ্গে থাকবেন এবং রোগীদের চিকিৎসা ও স্যানিটেশন বিষয়ে তার আদেশ নোট করবেন।
বিধি-১২২। তিনি কারাগারে নুতন ভর্তিকৃত সকল বন্দীকে সতর্কতার সথে পরীক্ষা করবেন এবং মেডিকেল অফিসারের তত্ত্বাবধানে ভর্তি রেজিষ্টারে বন্দীদের শারীরিক অবস্থা, ওজন, সনাক্তকরণ চিহ্ন, জখমী চিহ্ন, প্রতিষেধক বা টীকা দেয়া আছে কিনা প্রভৃতি রেকর্ড করবেন। বিচারাধীন বন্দীদের জখমী বা পোড়া চিহ্ন বা এমন কোন জিনিস যা আদালতের জন্যে প্রয়োজন হতে পারে তা বিশেষ ভাবে পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষা যথাযথভাবে রেকর্ড করতে হবে এবং মেডিকেল অফিসারকে জানাতে হবে।
যখন কোন বন্দীকে পুলিশের নিকট হতে পাওয়া যায় এবং জখমী অবস্থায় থাকে কিন্তু পুলিশ রিপোর্টে ঐ জখমের কোন উল্লেখ না থাকে তখন মেডিকেল সাব অর্ডিনেট অতি সত্বর বিষয়টি জেল সুপারকে জানাবেন। জেল সুপার সঙ্গে সঙ্গে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট এ বিষয়ে রিপোর্ট করবেন।
তিনি দেখবেন যেন বিধি ৫৫৩ এবং ৫৫৪ এর চাহিদা মোতাবেক যে সকল রেকর্ড হিস্ট্রি টিকেটে লিপিবদ্ধ করার কথা সে গুলো ঠিকভাবে নোট করা হয়েছে কিনা। যদি নুতন ভর্তিকৃত বন্দীর পোশাক গুদামে রাখা প্রয়োজন হয়, তবে তিনি নিশ্চিত হবেন সেগুলো পরিষ্কার ও সংক্রামন মুক্ত রয়েছে।
বিধি-১২৩। মেডিকেল অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক মেডিকেল সাব অর্ডিনেট দেখবেন সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দী এবং শিশুকে কারাগারে ভর্তির পরে যথাশীঘ্র সম্ভব প্রতিষেধক টীকা দেয়া হয়েছে কিনা।
বিধি-১২৪। যদি কোন মহিলা বন্দী অন্তঃসত্ত্বা মর্মে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, তবে তিনি বিষয়টি মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন।
বিধি-১২৫। তিনি যে কোন সংক্রামক রোগের বিষয়ে অতি সত্ত্বর মেডিকেল অফিসার এবং জেল সুপারকে জানাবেন। দুর্ঘটনা জনিত মারাত্মক জখম হবার ক্ষেত্রে বা কোন বড় অপারেশনের প্রয়োজন হলে তিনি অতি সত্বর মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন। কারখানা দুর্ঘটনা বা অন্য কোন দুর্ঘটনার কারণে কোন বন্দী মারাত্মক আহত হলে তিনি বিষয়টি অতি সত্ত্বর জেল সুপারকে জানাবেন।
বিধি-১২৬। তিনি খাদ্যগুদাম এবং রান্নাঘর দৈনিক পরিদর্শন করবেন। এ সময় তিনি দেখবেন খাদ্য রাখা বা বিতরণের সকল পাত্র পরিষ্কার আছে কিনা, খাদ্য দ্রব্য, শাকসব্জি প্রভৃতির মান সম্মত কিনা, ঠিকভাবে ভাঙ্গা হয়েছে কিনা, ধোয়া হয়েছে কিনা এবং সঠিক পরিমাণে প্রস্তুত করা হয়েছে কিনা।
কোন দ্রব্যকে স্বাস্থ্যসম্মত নয় বলে তার কাছে মনে হলে তিনি মেডিকেল অফিসারের পরিদর্শনের জন্যে ঐ দ্রব্যের তার নমুনা সংগ্রহ করবেন। যদি খাদ্যের পরিমাণ এবং মান সন্তোষজনক নয় বলে তার কাছে মনে হয়, তবে তিনি এ বিষয়ে অবিলম্বে মেডিকেল অফিসারের নিকট রিপোর্ট করবেন। বন্দীদের জন্যে যে কোন উৎস হতে সরবরাহকৃত সকল মাংশ, মাছ এবং দুধ পরিদর্শন করবেন এবং যদি কোন কিছু খাওয়ার অনুপযোগী হয় তৎক্ষণাৎ তা বাদ দেয়ার জন্যে রিপোর্ট প্রদান করবেন।
বন্দীদেরকে দেয়ার আগে দুধ ঠিকমতো ফুটানো হয়েছে কিনা তিনি দেখবেন এবং সিভিল ও বিচারাধীন বন্দীদেরকে তাদের বন্ধুদের সরবরাহকৃত খাবারও তিনি পরিদর্শন করবেন ।
বিধি-১২৭। খাবার সরবরাহ করার পূর্বে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট তা পরীক্ষা করে দেখবেন। তা ছাড়া সে সব ঠিক মতো রান্না করা হয়েছে কিনা, সঠিক পরিমাপের তেল, লবন দেয়া হয়েছে কিনা দেখবেন। কোন বন্দী স্বাস্থ্য অনুপযোগী হবার কারণে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরের ওজন হ্রাস করার উদ্দেশ্যে কোন খাবারের নির্দিষ্ট অংশ বার বার খাওয়া থেকে বিরত থাকলে তিনি তা মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন ।
বিধি-১২৮। তিনি নলকূপ, ট্যাংক বা পানি সরবরাহের অন্যান্য উৎস সমূহ ত্রৈমাসিক পরিদর্শন করবেন। কোন প্রকার সরবরাহের ঘাটতি আছে কিনা বা পানি দূষিত হবার মতো কিছু ঘটেছে কিনা সে দিকে মনোযোগ দিবেন। যে সব ছাঁকনি এবং পাত্র পানি বহন বা রাখার কাজে ব্যবহৃত হয় তিনি দৈনিক সেগুলো পরিদর্শন করবেন এবং সেগুলো পরিষ্কার এবং ব্যবহার উপযোগী রয়েছে কিনা দেখবেন।
বিধি-১২৯। তিনি দৈনিক সকল লেট্রিন এবং প্রস্রাবখানা পরিদর্শন করবেন এবং সেগুলো পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন আছে কিনা দেখবেন। তিনি আরও দেখবেন হাসপাতাল ওয়ার্ড, স্লিপিং ব্যারাক এবং ওয়ার্কশপের বায়ু চলাচল ব্যবস্থা মৌসুম অনুযায়ী সঠিকভাবে রয়েছে কিনা। আরও দেখবেন বন্দীদের ঘুমানোর ব্যবস্থা যাতে এমনভাবে করা হয় যেন সরাসরি দমকা বাতাস বা বৃষ্টির ফোটা তাদেরকে স্পর্শ না করে এবং সকল দরজা দিনের বেলায় যাতে খোলা যায়।
বিধি-১৩০। যে সকল শেডে দুধের গাভী রাখা হয় সেগুলো তিনি দিনে একবার পরীক্ষা করবেন। এ সব স্থান পরিষ্কার এবং দুর্গন্ধমুক্ত রয়েছে কিনা তা দেখবেন। দুধ রাখার ও সিদ্ধ করার পাত্রগুলো পরিষ্কার ও ব্যবহারের উপযোগী রয়েছে কিনা দেখবেন। তিনি কারাগারের গাভীগুলো হতে কি পরিমাণ দুধ পাওয়া যায় এবং এ বাবদ খরচের দৈনিক হিসাব রাখবেন, যদি বন্দীদের উপকারে না আসে বা তাদের ডায়েট উন্নত না করার মতো কোন বিষয় থাকে তবে তিনি তা জেল সুপারকে জানাবেন ।
বিধি-১৩১। সকল বন্দীর পাক্ষিক ওজন এবং ওজন হ্রাস প্রাপ্তদের সাপ্তাহিক ওজন মেডিকেল সাব অর্ডিনেটের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে, তিনি বন্দীদের হিস্ট্রি টিকেটে ওজন নিজ হাতে রেকর্ড করবেন। কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি জুনিয়র সাব এ্যাসিস্টেন্ট সার্জন (যদি থাকে) বা কম্পাউন্ডার বা জেল সুপার কর্তৃক নিযুক্ত ডেপুটি জেলারের সাহায্য গ্রহণ করতে পারেন। যে সকল বন্দীর ক্রমান্বয়ে ওজন কমছে তাদের বিষয়ে ওজন গ্রহণের একদিনের মধ্যে মেডিকেল অফিসারের নিকট রিপোর্ট করবেন।
বিধি-১৩২। তিনি সকল মৃত্যুর খবর সঙ্গে সঙ্গে জেলার এবং মেডিকেল অফিসারকে জানাবেন। লক্ষ্য রাখবেন যেন মৃত দেহটি মৃত স্থান হতে সুন্দর ভাবে অপসারণ করা হয়, পোস্ট মর্টেম পরীক্ষার জন্যে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন, মেডিকেল অফিসারকে পোস্ট মর্টেম পরীক্ষার কাজে সাহায্য করবেন এবং পোস্ট মর্টেমের পর মৃতদেহ সঠিকভাবে সেলাই করা এবং ঢেকে দেয়ার জন্যে দায়ী থাকবেন।
বিধি-১৩৩। তিনি সকল কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী, কারারক্ষী, গ্রহরী এবং কারাগারের সীমানায় বসবাসকারী অন্যান্যদেরকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন। কোন সমস্যার ক্ষেত্রে তিনি মেডিকেল অফিসারের পরামর্শ গ্রহণ করবেন।
কারাগারের মেডিকেল সাব অর্ডিনেট
বিধি-১৩৪। তিনি উপরে বর্ণিত তার নির্ধারিত দায়িত্ব ছাড়াও মেডিকেল অফিসারের প্রয়োজন মাফিক কারাগারের বন্দীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং তিনি বন্দীদের স্বাস্থ্য বিধি লংঘিত হবার যে কোন বিষয় সম্পর্কে মেডিকেল অফিসারের নিকট রিপোর্ট প্রদান করবেন, যেমন :
(ক) ওয়ার্ড, ওয়ার্কশপ বা অন্যান্য স্থানে অতিরিক্ত বন্দীর অবস্থান,
(খ) অশুদ্ধ ওজন বা খাদ্য বিতরণ,
(গ) মৌসুমের অনুপযোগী, পরিধানের অনুপযুক্ত এবং নোংরা পোশাক,
(ঘ) ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি অবহেলা,
(ঙ) বন্দীদের বিনা কারণে আর্দ্র আবহাওয়ায় বা রোদে নেয়া,
(চ) খাদ্যে অনিয়মানুবর্তিতা কিংবা খাদ্য কম দেয়া,
(ছ) বায়ু চলাচল, শুষ্ক ও পরিষ্কার বিছানাপত্রের প্রতি অবহেলা,
(জ) অনুপযোগী কাজ বিশেষত দুর্বল লোকদের ক্ষেত্রে,
(ঝ) ওয়ার্কশপকে ডরমেটরী বা ডরমেটরীকে ওয়ার্কশপ হিসেবে ব্যবহার,
(ঞ) লবন, মসলা, তেল প্রভৃতি গুরুত্ব খাদ্য উপাদান ঘাটতি বা ঠিকভাবে ব্যবহৃত না হওয়া।
বিধি-১৩৫। কেন্দ্রীয় কারাগারসমূহে যেখানে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট জেলা কারাগারের চেয়ে নিয়মিত হাসপাতাল দায়িত্ব পালন করে থাকেন, সেখানে ওয়ার্ড, লেট্রিন, প্রস্রাবখানা, পানি ও দুধের পাত্র প্রভৃতি নিয়মিত পরিদর্শনের প্রয়োজন নেই; সেগুলো মেডিকেল অফিসার যে রকম নির্দেশ প্রদান করেন সে রকম বিরতিতে পরিদর্শন করতে হবে। মেডিকেল সাব অর্ডিনেটকে এ সকল বিষয়ে সব সময় মনোযোগ রাখতে হবে এবং কোন প্রকার নিয়মের জন্যে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
বিধি-১৩৬। মেডিকেল অফিসার যদি মনে করেন যে কোন ঔ করা আবশ্যক তা হলে তার লিখিত অনুমতিক্রমে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট বাজার হতে ঔষধ ক্রয় করতে পারবেন। মেডিকেল সাব অর্ডিনেট অসুস্থ রোগীদের পথ্য বাৰত কোন ক্রয় করবেন না, তা বন্দীদের খাদ্য সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সরবরাহ করা হবে। মেডিকেল অফিসার কর্তৃক স্বাক্ষরিত ভাউচার আনুষঙ্গিক বিলের সাথে দাখিল করতে হবে।
বিধি-৮৯। মেডিকেল অফিসার অসুস্থ বন্দীদের চিকিৎসা ব্যতীত অন্যান্য সকল কাজ জেল সুপারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে সম্পাদন করবেন এবং তিনি কারাগারের সেনিটরী প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবেন এবং এই কোড অনুযায়ী বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবেন। তার দায়িত্ব বন্দীদের স্বাস্থ্য এবং কারাগারের সাধারণ স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কীত তিনি কারা মহাপরিদর্শকের সাধারণ নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবেন।
বিধি-৯০। যদি কোন কারাগারের জেল সুপার নিজেই একজন মেডিকেল অফিসার হন, তবে তিনি কারাগারের মেডিকেল অফিসার হিসাবেও দায়িত্ব পালন করবেন। যদি তিনি মেডিকেল অফিসার না হন, তবে সিভিল সার্জন, সম্ভব হলে, অনুরূপ কারাগারের মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিধি-৯১। যখন কোন জেলা কারাগারের মেডিকেল অফিসার সাময়িকভাবে স্টেশনে অনুপস্থিত থাকেন, স্টেশনের সিনিয়র মেডিকেল সাব অর্ডিনেট তার দায়িত্ব পালন করবেন।
বিধি-৯২। মেডিকেল অফিসার ১ নম্বর রেজিষ্টারে একটি মিনিট বই সংরক্ষণ করবেন। মিনিট বইয়ের বাম পাশে তার পরিদর্শনের তারিখ, পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত তথ্যাদি, সুপারিশ, আদেশ লিপিবদ্ধ করবেন। ডান পাশে জেলার উক্ত আদেশ কিভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে তা লিখবেন। জেল সুপার তা অনুমোদন করবেন এবং কোন আপত্তি থাকলে তাও লিখবেন। যদি জেল সুপার মেডিকেল অফিসারের কোন সুপারিশ বাস্তবায়নে অসম্মত হন কিংবা তা বাস্তবায়ন করা সমীচীন মনে না করেন, তিনি মিনিটের একটি কপি কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন এবং সুপারিশ বাস্তবায়ন না করার কারণ উল্লেখ করবেন।
কারাগারের মেডিকেল অফিসার
বিধি-৯৩। মেডিকেল অফিসার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত (প্রয়োজনে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও) প্রত্যহ একবার কারাগার ভিজিট করবেন। ভিজিট কালে তিনি কারাগারের প্রতিটি স্থানে যাবেন; বন্দীদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর কিছু আছে কিনা, পয় ব্যবস্থা সন্তোষজনক কিনা, সরবরাহকৃত পানি বিশুদ্ধ কিনা প্রভৃতি দেখবেন । তিনি খাবার ঘরে যাবেন, রান্নার পরিবেশ এবং রান্নার আগে ও পরে খাবারের ওজন এবং মান পরীক্ষা করে দেখবেন।
বিধি-৯৪। প্রত্যহ সূর্যোদয়ের পর মেডিকেল অফিসার কারা হাসপাতালে রোগীদের ভিজিট করবেন। তিনি রোগীদের অসুস্থতার বিবরণ শুনবেন, পরীক্ষা করে দেখবেন এবং প্রয়োজনে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করবেন। কোন বন্দী অহেতুক অসুস্থতার ভান করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে তিনি জেল সুপারের নিকট রিপোর্ট করবেন ।
বিধি- ৯৫। মেডিকেল অফিসার প্রতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বন্দীদের প্যারেডে ভিজিট করবেন, সশ্রম বন্দীদের সময়ে সময়ে পরীক্ষা করবেন এবং তাদের হিস্ট্রি টিকেটে কমপক্ষে প্রতি পক্ষকালে একবার রেকর্ড লিখবেন। যদি মেডিকেল অফিসার দেখেন যে, কোন প্রকারের বা শ্রেণীর পরিশ্রমের কারণে কোন বন্দী শারীরিক অসুবিধা ভোগ করছে, তিনি তা বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে লিখবেন এবং অনুরূপ বন্দীকে ঐ কাজ হতে সরিয়ে আনা হবে, তবে মেডিকেল অফিসার যেরূপ মনে করেন সেরূপ উপযুক্ত কাজে তাকে নিয়োগ করা হবে।
বিধি-৯৬ ৷ যদি মেডিকেল অফিসার দেখেন যে শৃঙ্খলা বা অন্য কোন বিধিসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে কোন বন্দী দৈহিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা হলে তিনি বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ পূর্বক জেল সুপারকে লিখিত পরামর্শ প্রদান করবেন। জেল সুপার উক্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ঐ বন্দীর ব্যপারে চলমান ব্যবস্থা রহিত বা পরিবর্তনের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট সুপারিশ করবেন। অতঃপর কারা মহাপরিদর্শক প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করবেন। এরূপ প্রতিটি আদেশের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন সরকারের অবগতির জন্যে প্রেরণ করতে হবে।
বিধি-৯৭। মেডিকেল অফিসার বন্দীদের খাদ্য সরবরাহ ও প্রস্তুতি তদারকী করবেন এবং যে কোন খাদ্য দ্রব্য খাওয়ার জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করতে পারবেন । তিনি অসুস্থ বন্দী, বিশেষ গ্যাং, সদ্য আরোগ্য প্রাপ্ত বন্দী, বয়স্ক বন্দী এবং শিশুদের খাদ্য তালিকার যে কোন প্রকার সংযোজন বা পরিবর্তন করতে পারবেন।
বিধি-৯৮ । কোন বন্দী কারাগারের অভ্যন্তরে মৃত্যুবরণ করলে, যদি উক্ত মৃত্যু স্বাভাবিক কারণে নয় বলে সন্দেহ হয় বা মৃত্যুর কারণ অজ্ঞাত হয়, তা হলে মেডিকেল অফি-সার মৃত দেহের একটি পূর্ণাঙ্গ পোস্ট-মর্টেম করবেন। অন্যান্য ক্ষেত্রে তিনি মৃত দেহ দেখবেন এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন; যদি তিনি নিজেই জেল সুপার হন তবে মৃত দেহ হস্তান্তর বা অপসারণের জন্যে যথাবিহিত নির্দেশ প্রদান করবেন। যদি তিনি নিজে জেল সুপার না হন, তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জেল সুপারের নিকট রিপোর্ট প্রদান করবেন। অতঃপর জেল সুপার মৃত দেহ হস্তান্তর বা অপসারণের জন্যে যথাবিহিত নির্দেশ প্রদান করবেন।
বিধি-৯৯। কোন বন্দীর মৃত্যু হলে সে সম্পর্কে মেডিকেল অফি-সার হাসপাতাল রেজিষ্টারে (রেজিষ্টার নম্বর-২৭) নিম্নোক্ত তথ্যাদি লিপিবদ্ধ করবেনঃ
(১) প্রথম কোন দিন ঐ বন্দী অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছিল বা তাকে অসুস্থ হতে দেখা গিয়েছিল;
(২) যে দিন মারা গিয়েছিল, সেদিন তাকে কি কাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল;
(৩)সে দিন কি ধরনের খাদ্য খেয়েছিল;
(8) হাসপাতালে ভর্তি হবার তারিখ;
(৫) কোন দিন মেডিকেল অফিসারকে বন্দীর অসুস্থতা সম্পর্কে প্রথম জানানো হয়েছিল;
(৬) রোগের ধরন;
(৭) মৃত্যুর পূর্বে মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব অর্ডিনেট সর্বশেষ কখন তাকে দেখেছিলেন; (৮) বন্দী কখন মারা গিয়েছিল; এবং
(৯) পোস্ট মর্টেম করা হলে রিপোর্ট,
সে সঙ্গে মেডিকেল অফিসার প্রয়োজন মনে করলে যে কোন বিশেষ মন্তব্যও উল্লেখ করতে পারেন। বন্দীর হিস্ট্রি টিকেট ও হাসাপাতাল বেড-হেড টিকেট (তাপমাত্রার চার্ট সহ,যদি থাকে) দুই বৎসর সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।
কারাগারের মেডিকেল অফিসার
বিধি- ১০০। প্রয়োগ নেই।
বিধি- ১০১। প্রয়োগ বিরল।
বিধি-১০২। বন্দীকে এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের পূর্বে মেডিকেল অফিসার পরীক্ষা করে দেখবেন। কোন বন্দী অন্য কারাগারে স্থানান্তরের যোগ্য শারীরিক অসুস্থতা মুক্ত- এ মর্মে মেডিকেল অফিসার প্রত্যায়ন না করা পর্যন্ত তাকে স্থানান্তর করা যাবে না। কোন বন্দী মারাত্মক অসুস্থ থাকলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে কারাগার হতে খালাস দেয়া যাবে না। যদি মেডিকেল অফিসার মনে করেন যে, কোন বন্দী এমন কোন রোগে ভুগছে যে, তাকে খালাস প্রদান করা ঐ বন্দীর জন্যে ও সমাজের জন্যে নিরাপদ হবে না তা হলে তাকে খালাস দেয়া যাবে না।
বিধি-১০৩। মেডিকেল অফিসার কারাগার এলাকায় অবস্থিত সকল কারা কর্মকর্তা কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা করবেন। কারা কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ঔষধ কারা ষ্টোর থেকে দেয়া হবে
বিধি-১০৪। মেডিকেল অফিসার-
(ক)প্রত্যেক জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ঔষধ এবং মেডিকেল সরঞ্জামাদির চাহিদা (এম এস ডি ১৩৫ ) প্রেরণ করবেন;
(খ) ঔষধ ও সরঞ্জামাদির দৈনিক হিসাব রাখার ব্যবস্থা করবেন;
(গ) অন্যান্য ঔষধ থেকে বিষ পৃথক রাখা নিশ্চিত করবেন;
(ঙ) বিষ এবং প্রতিষেধকের তালিকা ডিসপেন্সারীতে ঝুলিয়ে রাখবেন
(চ) মাঝে মাঝে যাচাই করে দেখবেন যে ষ্টোরের ঔষধ ব্যবহারের উপযুক্ত রয়েছে কিনা,
(ছ) বাজার থেকে জন্য কৃত ঔষধের হিসাব পরীক্ষা করে দেখবেন;
(জ) অকার্যকর
(ঝ) মেডিকেল সাব অর্ডিনেট কর্তৃক রোগীদের রেকর্ড সঠিক ভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে কিনা নিশ্চিত করবেন।
কারাগারের মেডিকেল অফিসার
বিধি-১০৫। মেডি-কেল অফিসার জেল সুপারের মাধ্যমে কারা মহাপরিদর্শকের সাথে পত্রালাপ করবেন।
টীকা- বর্তমানে প্রত্যেক কারা হাসপাতালে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের একজন সহকারী সার্জন কর্মরত রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র নং ১ই-১/৯৭/জেল-১/৭২৪(৩) তারিখ ৮-১০-৯৭ মোতাবেক কারা হাসপাতালে নিয়োজিত সহকারী সার্জনদের চাকরি নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানের জন্যে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা বলবৎ করা হয়েছে.
(ক) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় হতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হবার পর সহকারী সার্জনগণ প্রথমে স্বরাষ্ট্র সচিবের নিকট যোগদান পত্র দাখিল করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদায়ন আদেশ প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্বীয় কর্মস্থলে যোগদান করবেন।
(খ) কারা হাসপাতাল সমূহে সহকারী সার্জনদের পারস্পরিক বদলির আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে জারী হবে ।
(ঘ) উক্ত চিকিৎসকগণের অর্জিত ছুটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। এরূপ ছুটির আবেদন কারা মহাপরিদর্শক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রেরিত হবে।
(ঙ) সংশ্লিষ্ট সহকারী সার্জনদের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন প্রদানকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট কারা উপ-মহা পরিদর্শক এবং তা প্রতিস্বাক্ষর করবেন কারা মহাপরিদর্শক।
(চ) এ সকল সহকারী সার্জনের সাময়িক অনুপস্থিতি, ছুটি ও বদলিজনিত শূন্যতার সময় সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন সাময়িকভাবে কাজ চালানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করবেন ।
আজকে আমরা জেল সুপার সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা জেল কোডের কারা কর্মকর্তা কর্মচারী অংশে অন্তর্গত।
জেল সুপার
জেল সুপার । কারা কর্মকর্তা কর্মচারী
বিধি-৭০। জেল সুপার নিয়োগ- বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী (কারা অধিদপ্তর) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৪ প্রযোজ্য।
বিধি-৭১। কারা বিভাগের চাকরির পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই এমন কোন কর্মকর্তাকে কোন জেলা কারাগারের সার্বক্ষণিক জেল সুপার পদের দায়িত্ব প্রদানের পূর্বে কোন কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্বাচিত জেল সুপারের অধীনে ৬ মাস প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্যে প্রেরণ করতে হবে। সেখানে তিনি সকল বিভাগের কাজ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন এবং সকল বিধি-বিধান সম্পর্কে অধ্যয়ন করবেন।
শর্ত থাকে যে, কারা মহাপরিদর্শকের সুপারিশ ক্রমে সরকার কোন বিশেষ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মেয়াদ কমিয়ে তিন মাস করতে পারেন। প্রশিক্ষণ শেষে সম্ভব হলে, পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে কারা মহাপরিদর্শককে নিশ্চিত হতে হবে যে প্রার্থী কারাগারের জেল সুপারের দায়িত্ব পালনের ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করছেন।
তাকে কৌশলী এবং ভাল স্বভাবের লোক হতে হবে। তা না হলে এবং কোন অসদাচরণ করলে কারা মহাপরিদর্শক তাকে অপসারণের জন্যে সুপারিশ করতে পারবেন। তাকে এ সকল বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে, সময়ে সময়ে কার্যকর আইন কানুনের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে এবং তার উপর ন্যস্ত সকল বন্দীর সাজা কার্যকর করতে হবে।
বিধি-৭২। (১) কারা মহাপরিদর্শকের আদেশ সাপেক্ষে জেল সুপার কারাগারের শৃঙ্খলা, শ্রম, ব্যয়, শাস্তি এবং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজের ব্যবস্থাপনা করবেন
(২) সরকারের সাধারণ বা বিশেষ নির্দেশ সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় কারাগার ব্যতীত অন্য কারাগারের জেল সুপার কারা আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ নয়, কারাগার সংক্রান্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের এমন সকল নির্দেশ প্রতিপালন করবেন এবং তা কারা মহাপরিদর্শককে জানাবেন।
বিধি-৭৩। জেল সুপার একটি মিনিট বই (রেজিষ্টার নম্বর ১) সংরক্ষণ করবেন যাতে বাম পৃষ্ঠায় তার সকল আদেশ এবং মিনিট লিপিবন্ধ হবে। ডান পাশে নির্দেশ পালনকারী কর্তৃক কিভাবে নির্দেশটি প্রতিপালিত হয়েছে তা লিপিবদ্ধ করবেন।
বিধি-৭৪। অকার্যকর।
বিধি-৭৫ । কারাগারের অভ্যন্তরে কোন বন্দীর কৃত অপরাধ সম্পর্কে জেল সুপার তদন্ত করবেন এবং ঊনবিংশ অধ্যায় অনুসারে শাস্তি প্রদান করবেন। তিনি নিজ হাতে সকল শাস্তি লিপিবদ্ধ করবেন এবং দেখবেন তা প্রতিপালিত হয়েছে কিনা; শর্ত থাকে যে, বন্দী শাস্তি গ্রহণের শারীরিক ভাবে সামর্থ্য আছে কিনা সে সম্পর্কে মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে।
বিধি-৭৬। আরোপিত শাস্তি রেজিষ্টারে (রেজিষ্টার ১৯) রেকর্ড করা হবে এবং কারা আইনের ৫১(১) ধারা মোতাবেক সকল তথ্যাদি উল্লেখ করতে হবে। বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটেও শাস্তি লিখা হবে। প্রত্যেক মারাত্মক কারা অপরাধের ক্ষেত্রে, যে সকল সাক্ষী অপরাধ প্রমাণ করেছে তাদের নাম রেকর্ড করতে হবে এবং জেল সুপার সাক্ষীদের সাক্ষ্যের সারবস্তু, বন্দীর জবাব এবং কারণ সম্বলিত প্রাপ্ত তথ্যাদি রেকর্ড করবেন। শাস্তি সংক্রান্ত প্রত্যেক অন্তর্ভুক্তির বিপরীতে উক্ত অন্তর্ভুক্তির সঠিকতা সম্পর্কে জেল সুপার এবং জেলার তাদের স্বাক্ষর প্রদান করবেন।
জেল সুপার
বিধি-৭৭। কারা মহাপরিদর্শক এবং পরিদর্শক বোর্ড কর্তৃক কারাগার পরিদর্শন কালে জেল সুপার তাদের সঙ্গে থাকবেন: জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট প্রয়োজন মনে করলে তার পরিদর্শন কালেও জেল সুপার তার সঙ্গে থাকবেন ।
বিধি-৭৮। জেল সুপার প্রত্যেক দিন সকালে যথাসম্ভব সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে কারাগার ভিজিট করবেন। তার প্রথম কাজ হবে, যে সকল বন্দীর সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে যথাযথ নিয়ম-বিধি অনুসরণ করে তাদেরকে মুক্তি প্রদান করা, তাদের কোন সম্পত্তি থাকলে ফেরত প্রদান করা এবং বাড়ী যাবার ভাতা প্রদান (বিধি ৫৭০-৫৮০ অনুযায়ী) করা। যদি অসুস্থতার কারণে তিনি কোন দিন উপস্থিত হতে না পারেন তা হলে তিনি মিনিট বইতে তা রেকর্ড করবেন। তিনি কমপক্ষে সপ্তাহে একবার সম্পূর্ণ কারাগার পরিদর্শন করবেন। তিনি দৈনিক একবার সেলে আটক বন্দীদেরকে দেখবেন।
বিধি-৭৯। ৬৪৬ বিধি অনুসরণে জেল সুপার প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একটি প্যারেড আয়োজন করবেন।
বিধি-৮০। জেল সুপার নিম্নোক্ত রেকর্ড সমূহ সংরক্ষণ করবেন-
(১) বন্দীদের ভর্তির একটি রেজিষ্টার:
(২) প্রত্যেক বন্দীর মুক্তির সময়ের বর্ণনা সম্বলিত একটি বই:
(৩) কারা অপরাধের দায়ে বন্দীদেরকে আরোপিত শাস্তি অন্তভূক্তির জন্য একটি শান্তি বই:
(৪) ভিজিট কালে কারাগারের প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভিজিটরের কোন মতামত অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি ভিজিটর বই
(৫) বন্দীদের থেকে গৃহীত টাকা এবং দ্রব্যাদির একটি রেকর্ড; এবং কারা আইনের ৫৯ ধারার অধীনে প্রণীত বিধান মোতাবেক অনুরূপ অন্যান্য রেকর্ড।
বিধি-৮১। জেল সুপার কারাগারের মধ্যে তার কার্যাবলী সম্পাদন করবেন এবং প্রয়োজন না হলে জেলার, ডেপুটি জেলার এবং কারা সহকারীকে কারাগারের বাহিরে কোথাও পাঠাবেন না।
বিধি-৮২। প্রত্যেক অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রদত্ত বিশেষত অফিসের কাজের দায়িত্ব জেল সুপার মিনিট বইতে রেকর্ড করবেন, ফলে কোন ভুল হলে তা সহজে নির্ধারণ করা যাবে। জেলা কারাগারে জেলার, ডেপুটি জেলার এবং কারা সহকারীদের মধ্যে কে কোন কাজ করবেন তার লিখিত বিবরণ থাকা প্রয়োজন।
বিধি-৮৩। জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের নিকট নির্দিষ্ট সময়ে সকল বার্ষিক এবং অন্যান্য রিটার্ন প্রতিবেদন, বিল এবং ভাউচার প্রেরণ করবেন। প্রত্যেক বছর শেষে পরবর্তী ৩১ শে জানুয়ারির মধ্যে তিনি কারাগার সম্পর্কে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন কারা মহাপরিদর্শকের নিকট পেশ করবেন। উক্ত প্রতিবেদনে বৎসরের কারা পরিসংখ্যান এবং প্রশাসন পরিচালনার কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি রেকর্ড এবং হিসাব সংক্রান্ত বিধি-বিধান যথাযথ পদ্ধতিতে প্রতিপালন করবেন।
বিধি-৮৪। কারাগারের শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি, পলায়ন, পুনঃধৃত, আত্ম- হত্যা, মৃত্যু বা দুর্ঘটনার কারণে কোন বন্দীর মারাত্মক ক্ষতি, কোন মহামারী বা অস্বাভাবিক রোগের প্রাদুর্ভাব এবং তার প্রতিকারের জন্যে গৃহীত ব্যবস্থা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন ।
জেল সুপার
বিধি-৮৫ ৷ জেল সুপার কারাগারের আয়-ব্যয়ের উপর সার্বক্ষণিক সজাগ দৃষ্টি রাখবেন। তিনি সকল বিভাগ যথাসম্ভব অর্থনৈতিক ভাবে পরিচালনা করবেন এবং তার কাছে পেশকৃত সকল দাবী এবং চাহিদা অনুমোদনের পূর্বে বা অনুমোদনের জন্যে পেশ করার পূর্বে সতর্কতার সাথে যাচাই করে দেখবেন। রেকর্ড ও রেজিষ্টার সমূহ নিয়মিত লিপিবন্ধ হচ্ছে কিনা তিনি তা নিশ্চিত করবেন। হাতে রাখা টাকা সংশ্লিষ্ট বইয়ের হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবেন; দৈনিক হিসাব সমূহ দৈনিক বইতে লিপিবন্ধ নিশ্চিত করবেন এবং পাওনা অনাদায় রাখবেন না ।
তিনি ক্যাশ বহিতে দৈনিক সমাপ্তি এবং ব্যালান্স মিলানো হয় কিনা তা দেখবেন এবং হাতে রাখা টাকা মাসের শেষে সকল কলামের সাথে যাচাই করে দেখবেন । { মাসের শেষ কার্য দিবসে হিসাব বন্ধ হবার পর কিংবা পরবর্তী মাসের প্রথম দিনে ব্যয় পরিশোধের আগে, তিনি নিজ হাতে নগদ টাকা গুণে দেখবেন এবং ক্যাশ বইতে তার পরিমাণ রেকর্ড করবেন এবং যাচাইয়ের প্রমাণ স্বরূপ স্বাক্ষর করবেন} । তিনি কারাগারের যে কোন প্রকার তহবিল অপচয়ের জন্যে দায়ী হবেন, যদি দেখা যায় যে এই বিধি বা প্রযোজ্য অন্য বিধি মোতাবেক তার অবহেলার জন্যে তা হয়েছে।
বিধি-৮৭। জেল সুপার প্রত্যেক ছয় মাস অন্তর ১৫ জুন এবং ১৫ ডিসেম্বরের অনতিবিলম্বে সকল ভান্ডার, মেশিনারী, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল তৈরী মালামাল প্রভৃতি বিস্তারিতভাবে যাচাই করবেন। ১ লা জুলাই ও ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন ৫ এবং রিটার্ন ৬ এর মাধ্যমে তিনি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন কারা মহাপরিদর্শকের নিকট পেশ করবেন।
যে কোন ধরনের নুতন সংগ্রহ আদেশ প্রদানের আগে তিনি বর্তমান মজুত যাচাই করবেন, সে সঙ্গে অতিরিক্ত মজুত রোধ করার উদ্দেশ্যে ভবিষ্যৎ চাহিদা নিরূপণ করবেন। অর্ধ-বাৎসরিক যাচাইকালে তিনি সুনির্দিষ্ট ভাবে তদন্ত করে দেখবেন কোন খাতে অতিরিক্ত মজুত রয়েছে কিনা, যদি থাকে তবে নষ্ট হয়ে যাবার আগেই বিনা বিলম্বে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।
তিনি কোন অকেজো জিনিস পত্র রয়েছে কিনা তা দেখবেন এবং সে সব নিষ্পত্তি বা অবলোপনের ব্যবস্থা করবেন। কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদনের জন্যে প্রেরণকালে এ ধরনের অতিরিক্ত বা অকেজো দ্রব্যের মূল্য সম্পর্কে একটি বিবরণী প্রেরণ করবেন এ ছাড়া তিনি কারাগারের অভ্যন্তরে সরকারী সম্পদ প্রতিনিয়ত পরিদর্শন করবেন।
বিধি-৮৮। জেল সুপার বদলি হলে, নুতন যোগদানকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণ কালে ক্যাশ ব্যালান্স, স্থায়ী অগ্রিম এবং হিসাব নির্ভুল কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। ষ্টোর, মেশিনারী, রেজিষ্টার হাল নাগাদ করা আছে কিনা তা দেখে নিবেন । সাধারণ এবং উৎপাদন উভয় বিভাগের মজুত, মেশিনারী প্লান্ট প্রভৃতি রেজিষ্টারের সাথে মিলিয়ে দেখবেন এবং কারা মহাপরিদর্শকের নিকট কোন প্রতিবেদন প্রেরণ বাকী রয়েছে কিনা তা দেখবেন। এ সব সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব প্রদানকারী কর্মকর্তার দায় অবসান হবে না ।
আজকে আমরা জেল কোডের পরিদর্শকগণ সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা জেল কোডের অন্তর্গত।
জেল কোডের পরিদর্শকগণ
জেল কোডের পরিদর্শকগণ
বিধি-৫৫। [নিম্নোক্ত কর্মকর্তাগণ এবং সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে নিয়োজিত অনুরূপ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ পদাধিকার বলে কারাগারের পরিদর্শক হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন –
(১) স্বাস্থ্য মহাপরিচালক
(২) বিভাগীয় কমিশনার
(৩) জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্টেট
(৪) জেলা জজ
(৫) সিভিল সার্জন, এবং অধ্যক্ষ মেডিকেল কলেজ চট্টগ্রাম পার্বত্য জেলার জন্য,
(৬) জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক।
নোট বিদ্যালয় সমূহের পরিদর্শক পদাধিকার বলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিদর্শক হবেন।
নং ৮১০ এইচ জে, তারিখ ১৮-৫-১৯৫৯ মূলে প্রতিস্থাপিত।
{ পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত সরকার জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট জেলার কারাগারের জন্যে পদাধিকার বলে পরিদর্শক নিয়োগ করেছেন। যে সকল জেলায় শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নেই সে সকল জেলায় উক্ত পদ সৃজন না হওয়া পর্যন্ত জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পরিদর্শক হিসেবে অন্তর্ভূক্ত থাকবেন।}
বিধি-৫৬। (১) দুই জন সংসদ সদস্যকে তাদের সংসদীয় আসনে বা তারা সাধারণত যে জেলায় বসবাস করেন সে জেলার প্রতিটি কেন্দ্রীয় বা জেলা কারাগারের বেসরকারী কারা পরিদর্শক নিয়োগ করা হবে। যদি সদস্য সংখ্যা অনুরূপ সংখ্যার চেয়ে বেশী হয় তবে সুবিধাজনক মেয়াদে পর্যায়ক্রমে তাদের নিয়োগ করা হবে। বিভাগীয় কমিশনারগণ উক্ত নিয়োগ প্রদান করবেন এবং তা গেজেটে প্রকাশিত হবে। যদি কোন সংসদ সদস্যের সদস্যপদ অবসান হয়ে যায় তবে বেসরকারী পরিদর্শক পদও অবসান হবে।
(২) ধনীদের কল্যাণ এবং বেসরকারী কারা পরিদর্শকের দায়িত্ব পালনে আগ্রহী এমন অন্যান্য ভদ্রলোক ও তন্ত্র মহিলাগণকেও বিভাগীয় কমিশনারগণ গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বেসরকারী কারা পরিদর্শক নিয়োগ করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, কেন্দ্রীয় কারাগারের জন্যে ভদ্রলোকের সংখ্যা |
আট জন এবং ভদ্র মহিলার সংখ্যা চারজন পর্যন্ত, জেলা কারাগারের জন্যে ভদ্র লোকের সংখ্যা ( পাঁচ) জন এবং ভদ্র মহিলার সংখ্যা দুইজন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। তাদেরকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ করা হবে এবং বিধি ৫৭ অনুযায়ী নিয়োগ বাতিল না হলে অনুরূপ মেয়াদ শেষে যতদিন তাদের সামর্থ্য থাকে এবং তারা উক্ত পদে কাজ করতে আগ্রহী থাকেন, ততদিন পর্যন্ত পুন:নিয়োগের যোগ্য হবেন।
বিধি-৫৭। একজন বেসরকারী কারা পরিদর্শকের নিয়োগ বাতিল হয়ে যাবে যদি তিনি অবিরাম তিন মাস কারাগার পরিদর্শন না করেন কিংবা পরিদর্শক বোর্ডের পর পর দুইটি ত্রৈমাসিক বৈঠকে অনুপস্থিত থাকেন কিংবা অন্য কোন যুক্তি সঙ্গত কারণ থাকে।
বিধি-৫৮। স্থানীয় কর্মস্থলে বসবাসকারী সরকারী পরিদর্শকগণ এবং বেসরকারী পরিদর্শকগণ সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠিত হবে, জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট পদাধিকার বলে উক্ত বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান সরকারী এবং বেসরকারী পরিদর্শকগণের সাপ্তাহিক পরিদর্শন রোষ্টার তৈরী করবেন এবং পরবর্তী সপ্তাহে যে পরিদর্শকের পরিদর্শন নির্ধারিত রয়েছে তা তাকে পত্রের মাধ্যমে জানাবেন।
বোর্ড প্রতি তিন মাসে একটি বৈঠকে মিলিত হবেন। বোর্ড কারাগারে মিলিত হবেন, সকল ভবন এবং বন্দীদেরকে পরিদর্শন করবেন, বন্দীদের অভিযোগ এবং আবেদন শুনবেন, খাবার পরিদর্শন করবেন, সেগুলো মান সম্মত কিনা যাচাই করবেন এবং শাস্তি বই দেখবেন এবং তা হালনাগাদ করা আছে কিনা নিশ্চিত হবেন।
পরিদর্শন শেষ হলে কারাগার ত্যাগ করার পূর্বে বোর্ড পরিদর্শকদের মিনিট বইতে ত্রৈমাসিক সভার কার্য বিবরণী লিপিবদ্ধ করবেন। জেল সুপার বোর্ডের কার্য বিবরণীর উপর তার মন্তব্য লিপিবদ্ধ করে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। কারা মহাপরিদর্শক উক্ত কার্য বিবরণী তার মন্তব্যসহ, যদি থাকে সরকারের নিকট প্রেরণ করবেন।
জেল কোডের পরিদর্শকগণ
বিধি-৫৯। পরিদর্শকগণকে কারাগারে প্রবেশ এবং কারাগার হতে বাহির হবার সময় গেইট রেজিষ্টারে (রেজিষ্টার নম্বর ৪৬) স্বাক্ষর করতে হবে। পরিদর্শকগণের একটি তালিকা প্রত্যেক কারা ফটকের প্রবেশ পথের ভিতরে টাঙ্গিয়ে রাখতে হবে।
বিধি-৬০। পরিদর্শকগণ কারাগারের সকল বিভাগের বই. কাগজ এবং রেকর্ড দেখতে পারবেন। তবে জেল সুপার যদি মনে করেন যে কোন বেসরকারী পরিদর্শককে কোন রেকর্ড দেখানো উচিত হবে না, তা হলে তার কারণ লিপিবদ্ধকরণ পূর্বক তা দেখাতে তিনি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করতে পারেন। পরিদর্শকগণ যদি সম্ভব হয় তা হলে তাদের পরিদর্শন কালে সকল আঙিনা, ওয়ার্ড, কারখানা এবং ডিটেন্যু ও ডিভিশন।
প্রাপ্ত বন্দী আটক আছে এমন সেল ব্যতীত, সকল সেল ভিজিট করবেন, এবং ডিটেন্যু ও ডিভিশন। প্রাপ্ত বন্দী ব্যতীত সকল বন্দীকে দেখবেন। প্রাপ্ত প্রতিটি অভিযোগ সম্পর্কে বিদ্যমান নিয়ম বিধি অনুসন্ধান করে দেখবেন এবং সে সব প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা দেখবেন। কারাগারে আগমনকালে তারা রিজার্ভ গার্ড সমাবেশ পরিদর্শন করবেন এবং রিজার্ভ গার্ড যথাযথ সংখ্যায় এবং অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সজ্জিত আছে কিনা দেখবেন।
বিধি-৬১। প্রত্যেক কারাগারে পরিদর্শকদের একটি মিনিট বই (রেজিষ্টার নম্বর ১) রাখতে হবে এবং প্রত্যেক সরকারী এবং বেসরকারী পরিদর্শক কর্তৃক পরিদর্শন শেষে তার সামনে তা উপস্থাপন করতে হবে। প্রত্যেক পরিদর্শক মিনিট বইতে তার পরিদর্শনের তারিখ এবং সময় উল্লেখ করবেন এবং মন্তব্য লিখবেন। মন্তব্য বাস্তব ঘটনা ভিত্তিক হবে এবং জেল সুপার বা কারা মহাপরিদর্শকের জন্যে কোন পরামর্শ থাকলে তা লিখবেন।
মন্তব্য পরিদর্শক বইয়ের বাম পৃষ্ঠায় লিখতে হবে। জেল সুপার পরিদর্শকের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তার গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে নোট লিপিবদ্ধ করবেন এবং কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। যখন কোন পরিদর্শক কোন বিচারাধীন বন্দীর দীর্ঘদিন আটক থাকার বিষয়ে কোন মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন, তার মন্ত বোর এই অংশটুকু জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট কিংবা দায়রা আদালতে বিচারাধীন হলে জেলা জজের নিকট প্রেরণ করতে হবে। কারা মহাপরিদর্শক প্রয়োজন মনে করলে কোন পরিদর্শকের মন্তব্য সরকারের নিকট প্রেরণ করতে পারেন।
বিধি-৬২। মহিলা পরিদর্শকগণের কার্যক্রম শুধু মাত্র মহিলা বন্দী এবং মহিলা আস্তিনা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। কেবল মহিলা অংশে পৌঁছানোর পথ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ব্যতীত তারা পুরুষদের অংশে যেতে পারবেন না।
বিধি-৬৩। পূর্ত, কৃষি, কল-কারখানা, শিক্ষা প্রভৃতি বিভাগের কর্মকর্তাগণ শুধুমাত্র তাদের দাপ্তরিক দায়িত্ব সম্পাদনের প্রয়োজনে কারাগারের নির্দিষ্ট এলাকায় যেতে পারবেন ।
বিধি-৬৪। পুলিশ অফিসার কর্তৃক কারাগারে রুটিন ভিজিট সংক্রান্ত বিধান ৬২৪ বিধিতে বর্ণিত আছে। উক্ত বিধির বাহিরে কারা মহাপরিদর্শক কিংবা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের বিশেষ অনুমতি ব্যতীত কোন পুলিশ অফিসার বা অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন বন্দীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেয়া হবে না। অনুমতি জেল সুপার বা জেলারের উদ্দেশ্যে লিখিত ভাবে প্রদান করতে হবে। কোন বন্দীকে বিধি মোতাবেক জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে সাব-ইনস্পেক্টরের নিম্ন মর্যাদার কোন অফিসারকে অনুমতি দেয়া যাবে না।
সাক্ষাৎকার জেলার বা কারাগারের অন্য কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে। তবে তিনি এমন দূরত্বে থাকবেন যাতে সাক্ষাৎকারের কোন আলোচনা তার শ্রুতিগোচর না হয়। শুল্ক এবং | মাদক | সংক্রান্ত বিষয়ে কোন বন্দীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যে উক্ত বিভাগের অনুমতি প্রাপ্ত সাব-ইনস্পেক্টরের নিম্নে নয় এমন কর্মকর্তাকে অনুমতি দেয়া যেতে পারে ।
নোট-শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের ইনস্পেক্টর এবং তার নিয়ন্ত্রণাধীন একজন সহকারীকে মাদক আইনে আটক বন্দীর ছবি তোলা এবং জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যে কারাগারে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনারের অনুমতিক্রমে শুল্ক এবং মাদক বিষয়ক অপরাধে আটক বন্দীদের ছবি তোলার জন্যে অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফটোগ্রাফারকে কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয়া যেতে পারে।} নং- ৪৪৮২ এইচ জে তারিখ ৯-১২-১৯৩৮ মূলে সংশোধিত।
বিধি-৬৫। এই বিধি সমূহে উল্লেখিত নিয়মের বাহিরে, সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তিকে কারাগারে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না, যদি জেল সুপার তার সঙ্গে না থাকেন, কিংবা তাকে জেল সুপার বা কারা মহাপরিদর্শক বা জেলা কারাগারের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট অনুমতি প্রদান না করেন।
বিধি-৬৬। সাময়িক পরিদর্শকগণের সঙ্গে কোন বন্দীর আলাপ-আলোচনা নিষেধ, এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক কোন বন্দীকে তাদের সামনে উপস্থিত করানো বা তার অপরাধ সম্পর্কে তাদের কাছে বর্ণনা করা নিষেধ।
জেল কোডের পরিদর্শকগণ
বিধি-৬৭। পরিদর্শকগণের স্কট রিজার্ভ গার্ড থেকে দেয়া হবে। কেন্দ্রীয় কারাগারে ৪ জন রক্ষী স্কট প্রদান করবে এবং অন্য ক্ষেত্রে ২ জন রক্ষী স্কট প্রদান করবে। পরিদর্শনকারী কর্তৃক কোন বন্দীকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্কট এবং উপস্থিত কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শ্রবণ সীমার বাহিরে সরিয়ে রাখা যেতে পারে। কিন্তু কোন সরকারী বা বেসরকারী পরিদর্শককে কারাগারে স্কট ছাড়া যেতে দেয়া হবে না ।
বিধি-৬৮। জেল সুপার পরিদর্শক বোর্ডের ত্রৈমাসিক সভায় উপস্থিত থাকবেন এবং বোর্ড সদস্য কর্তৃক কারাগার পরিদর্শনের সময় তাদের সঙ্গে থাকবেন । অন্য সকল ভিজিটরের সঙ্গে যদি সম্ভব হয় জেলার এবং তা না হলে ডেপুটি জেলার উপস্থিত থাকবেন এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে সহায়তা করবেন।
বিধি-৬৯। এই অধ্যায়ের বিধি সমূহ ছাপিয়ে প্রত্যেক সরকারী এবং বেসরকারী পরিদর্শকগণের নিকট সরবরাহ করতে হবে। এর একটি কপি সরকারী এবং বেসরকারী পরিদর্শকগণের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্যে কারাগারের গেইটে প্রস্তুত রাখতে হবে।
আজকে আমরা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা জেল কোডের অন্তর্গত।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট । জেল কোড
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
বিধি-৪৪। কেন্দ্রীয় কারাগার নয় এমন জেলা কারাগারের উপর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকবে। তিনি যে কোন সময় প্রয়োজন মনে করলে কারাগারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজ দায়িত্বে নিতে পারবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার কারণ কারা মহাপরিদর্শককে জানাবেন। জেল সুপার কারাগারের সার্বিক ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ করবেন; তবে কারা আইন, ১৮৯৪ বা তার অধীনে প্রণীত বিধির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ নয়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এমন সকল নির্দেশ তিনি প্রতিপালন করবেন।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যম ব্যতীতই জেল সুপার কারা মহাপরিদর্শকের সঙ্গে সরাসরি পত্রালাপ করবেন এবং কারা মহাপরিদর্শক সরাসরি জেল সুপারকে তার নির্দেশ প্রদান করবেন। কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে তার জেলার সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন বন্দীদের বিষয়ে জেলা কারাগারের মতই জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের সার্বিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকবে।
বিধি-৪৫। জরুরী ক্ষেত্র ব্যতীত, কারা আইনের ১১(২) ধারা মোতাবেক জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কোন নির্দেশ প্রতিপালনের পূর্বে জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে কারা মহাপরিদর্শকের মতামত গ্রহণ করতে পারেন ।
বিধি-৪৬। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জেল সুপার ব্যতীত কারাগারের অন্য কোন কর্মকর্তার উপর সরাসরি নির্দেশ প্রদান করবেন না। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের সকল নির্দেশ লিখিত আকারে হবে।
বিধি-৪৭। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কারাগারের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার সার্বিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না। তিনি এমন কার্যক্রম গ্রহণ পরিহার করবেন যার ফলে অধস্তনদের উপর জেল সুপারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
বিধি-৪৮ ৷ কেন্দ্রীয় কারাগার নয় এমন জেলা কারাগার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সপ্তাহে একবার ভিজিট করবেন, যদি কোন কারণে তিনি তা না পারেন, তবে তার অধস্তন কোন কর্মকর্তাকে উক্ত দায়িত্ব প্রদান করবেন। অনুরূপ ভিজিট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্ধারিত ভিজিটের অতিরিক্ত হবে।
বিধি-৪৯। যদি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ভ্রমণ জনিত কারণে সদর দপ্তরের বাহিরে থাকেন, তবে তার পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা অনুরূপ দায়িত্ব পালন করবেন।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট । জেল কোড
বিধি-৫০। অকার্যকর।
বিধি-৫১। যদি কাজের উদ্দেশ্যে জেল সুপার সাময়িকভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় বা অসুস্থতার জন্যে বা অন্য কোন কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তা হলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নিজেই জেল সুপারের সাময়িক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন কিংবা সিভিল সার্জন বা ষ্টেশনের সিনিয়র সহকারী সার্জনকে দায়িত্ব প্রদান করবেন বা, যদি কোন সিভিল সার্জন বা সহকারী সার্জন না থাকেন, তা হলে নিজের অধস্তনদের মধ্য হতে একজনকে দায়িত্ব প্রদান করবেন এবং কারা মহাপরিদর্শককে তা জানাবেন। অনুরূপ দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল সুপারের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন, তবে ১৫ দিনের বেশী না হলে বিশেষ ভাতা প্রাপ্য হবেন না । }
বিধি-৫২। যদি কোন কারাগারের জেল সুপারের পদ শূন্য থাকে বা জেল সুপার অনুপস্থিত থাকেন, বা অসুস্থতার জন্যে বা অন্য কোন কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তা হলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নিজেই জেল সুপারের সাময়িক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন কিংবা ষ্টেশনের সিনিয়র সহকারী সার্জনকে দায়িত্ব প্রদান করবেন বা, যদি কোন সহকারী সার্জন না থাকেন, তা হলে নিজের অধস্তনদের মধ্য হতে একজনকে দায়িত্ব প্রদান করবেন এবং কারা মহাপরিদর্শককে তা জানাবেন । অনুরূপ দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল সুপারের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন, তবে বিশেষ ভাতা প্রাপ্য হবেন না।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট । জেল কোড
বিধি-৫৩। অকার্যকর।
বিধি-৫৪। যখন সিভিল সহকারী সার্জন উপর্যুক্ত বিধি সমূহ মোতাবেক অনুরূপ সাময়িক দায়িত্ব প্রাপ্ত হন, তিনি তা নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসাবে পালন করবেন।
আজকে আমরা কারা মহাপরিদর্শক সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা জেল কোডের অন্তর্গত।
কারা উপ মহাপরিদর্শক
কারা উপ মহাপরিদর্শক
কারাগার পরিচালনার দায়িত্ব হলো জিম্মাদারীর দায়িত্ব। আদালতের আদেশে কোন ব্যক্তিকে আটক রাখা কিংবা ছেড়ে দেয়া কারাগার প্রশাসনের কাজ। যতক্ষণ কোন ব্যক্তি কারাগারে আটক থাকবে ততক্ষণ তার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষ তথা সরকারের। তাই কারাগার পরিচালনার কাজ প্রধান তিনটি অংশে বিভক্ত- প্রথমত আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, দ্বিতীয়ত কারাগারের নিরাপত্তা বিধান, তৃতীয়ত বন্দীদের স্বাস্থ্য রক্ষা।
কারাগারের নিরাপত্তার প্রধান দিক হলো বন্দী পলায়ন ও কারা বিদ্রোহ রোধ করা। ১৯৭৪ সাল হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত সারাদেশে ১৫৩ জন বন্দী পলায়ন করেছে, যার মধ্যে ৬৭ জন কয়েদী, ৮১ জন হাজতী এবং ৫ জন ডিটেন্যু। আমাদের কারাগারের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, সর্বপ্রথম ১৯৫০ সালে রাজশাহী কারাগারে বিদ্রোহ হয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এ পর্যন্ত ছোট বড় ২৫ টি কারা বিদ্রোহ হয়েছে।
কারা উপ মহাপরিদর্শক
আইনের স্বাভাবিক নীতি এই যে, অভিযুক্তকে যতক্ষণ দোষী প্রমাণ না করা যায় ততক্ষণ সে নির্দোষ। কিন্তু একজন ব্যক্তি গ্রেফতার হবার সঙ্গে সঙ্গে তার স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার রহিত হয়ে যায়। জামিন না পেলে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিচারাধীনকে হাজতবাস করতে হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে যদি অভিযুক্ত নির্দোষ প্রমাণে খালাস পায়, তবুও হাজত বাসের ধ জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যাবার অপূরণীয় ক্ষতি প্রভৃতি তার মনে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। অধিকন্ত তার সামাজিক মর্যাদা, অর্থনৈতিক ক্ষতি এমন কি পারিবারিক বন্ধনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনুরূপভাবে কারাদণ্ডে দণ্ডিতকেও একই দুর্বিপাক ভোগ করতে হয়।
কারা উপ মহাপরিদর্শক
বিধি-৩৯। কারা উপ মহাপরিদর্শক ।
টীকা-১। পূর্বে কেবল কেন্দ্রীয় কারাগারের জন্যে ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল পদ ছিল। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কারাগারে সিনিয়র জেল সুপারের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং প্রত্যেক প্রশাসনিক বিভাগে একটি ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল বা কারা উপ মহাপরিদর্শকের পদ রয়েছে।
টীকা-২। কারা প্রশাসনে আরো উন্নতি ও গতি সঞ্চার করণের উদ্দেশ্যে কারা উপ মহা পরিদর্শকগণ অন্তত: বৎসরে একবার তাদের অধিক্ষেত্রাধীন জেলা ও উপ কারাগার সমূহ পরিদর্শন করবেন। (নং বিধি-১২৯/৯৩-কারা-২/১৩৫ (১৫০), তারিখ ১৫-২-৯৫ ।
আজকে আমরা কারা মহাপরিদর্শক সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা জেল কোডের অন্তর্গত।
কারা মহাপরিদর্শক
বিধি ২১। সরকার একজন মহাপরিদর্শক নিয়োগ করবেন। সরকারের নির্দেশাবলী সাপেক্ষে তিনি দেশের কারাগার সমূহের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান করবেন।
টীকা- ১৮৫৫ সালে ইনস্পেক্টর জেনারেল অব প্রিজন্স বা কারা মহাপরিদর্শক পদ সৃষ্টি হয় ।
বিধি-২২। কারাগারের সার্বিক প্রশাসনের দায়িত্ব কারা মহাপরিদর্শকের উপর ন্যস্ত থাকবে । সকল কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কারাগারের অভ্যন্তরীণ অর্থ ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তার সকল নির্দেশ প্রতিপালন করবেন। কারাগার সমূহে সকল বিধি বিধান কঠোরভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা তা তিনি নিশ্চিত করবেন। জেল সুপার কর্তৃক কোন বিধি বা কারা মহাপরিদর্শকের কোন আদেশ লংঘন করা হলে এবং সতর্ক করার পরও অব্যাহত রাখলে, কারা মহাপরিদর্শক তা সরকারের নিকট উপস্থাপন করবেন ।
বিধি-২৩। কারা মহাপরিদর্শক কারাগার সমূহের সার্বিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করবেন, সে সম্পর্কে সরকারের কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করবেন ও প্রযোজ্য নিয়মানুসারে কারাগার সমূহ পরিচালনার ব্যয় নির্বাহের জন্যে চাহিদা মোতাবেক বাজেট বরাদ্দের জন্যে অনুরোধ জানাবেন।
বিধি-২৪ ৷ নিম্নোক্ত ব্যয় সমূহ ব্যতীত কারাগারের ব্যয় সংক্রান্ত সকল মাসিক ও অন্যান্য বিল কারা মহাপরিদর্শকের নিকট পেশ করতে হবে এবং তার দ্বারা নিরীক্ষিত হবে –
(ক) গণপূর্ত বিভাগের নিয়ন্ত্রিত পূর্ত কাজের ব্যয়
(খ) ফরম বিভাগ কর্তৃক সরবরাহকৃত রেজিষ্টার এবং ফরমের ব্যয়।
(গ) মেডিকেল স্টোর বিভাগ কর্তৃক সরবরাহকৃত ঔষধের বায়।
বিধি ২৫। নিম্নোক্ত সীমাবদ্ধতায় বাজেট বরাদ্দের মধ্যে সাধারণ এবং উৎপাদন বিভাগের কাজের সকল ব্যয় অনুমোদনের জন্য কারা মহাপরিদর্শক ক্ষমতাবান-
(ক) খাদ্য বা উৎপাদন কাজের প্রয়োজনে কোন দ্রব্য সরকারের অনুমতি ছাড়া পনর মাসের অধিক সময়ের জন্যে মজুত রাখার উদ্দেশ্যে ক্রয় করা যাবে না:
(খ) কোন একটি দ্রব্যের মূল্য ২৫০০) টাকার অধিক হলে সরকারের অনুমতি ছাড়া ক্রয় করা যাবে না। কারা বিভাগের নিয়মের অন্তর্গত কোন দ্রব্য ক্রয়ের তিনি অনুমতি প্রদান করতে পারবেন, তবে তার মুল্য ২৫০০ টাকার অধিক হবে না। সিভিল কোড এবং সরকারের বিশেষ আদেশ সাপেক্ষে তিনি আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হিসাব সমূহ নিয়ন্ত্রণ করবেন। তিনি কোটেশন আহবান এবং নমুনা যাচাই করে বার্ষিক চুক্তির মাধ্যমে একই দরে দ্রব্যাদি সরবরাহের জন্যে এবং (৫০.০০০/ টাকার অধিক মূল্যের ক্রয়ের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রদান করে অনুমোদিত ঠিকাদার, প্রতিষ্ঠান, কারখানা, প্রভৃতি নিয়োগ করতে পারবেন। ভাণ্ডার নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমেও ক্রয় করা যাবে।
টীকা-পারচেজ ম্যানুয়েল মোতাবেক সংশোধিত ।
বিধি-২৬। সরকারের নিকট প্রেরণ ছাড়াই কারা মহাপরিদর্শক নষ্ট বা অকেজো হয়ে যাওয়া বা হারিয়ে বা চুরি হয়ে যাওয়া সম্পদ অবলোপন করতে পারবেন-
(১) ক্ষতির পরিমাণ প্রতিক্ষেত্রে অনধিক | ৫০,০০০) টাকা হলে
(২) নিয়মের ত্রুটির জন্যে ক্ষতি না হয়ে থাকলে, সে ক্ষেত্রে নিয়ম সংশোধনের জন্যে সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হবে
(৩) কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, এমন কোন মারাত্মক অবহেলা না ঘটে থাকলে।
টীকা, আর্থিক ক্ষমতা পূন: অর্পণ সংক্রান্ত অর্থ বিভাগের স্মারক নং অম/অবি/বানি:- ১/ডিপি- ১/২০০০/৬৩ তারিখ ৭-৩-২০০০ এবং তদানুযায়ী জারীকৃত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর মমঃ(প্র: ১) বিধি-১৬/৯৮-৭০ তারিখ ২৫-১-২০০০ মোতাবেক।
বিধি-২৭। কারা মহাপরিদর্শকের পূর্ব অনুমতি ব্যতীত কোন কর্মকর্তা পেটি চুক্তি ছাড়া অন্য কোন চুক্তি করতে পারবেন না।
বিধি-২৮। বাজেট বরাদ্দ থাকা সাপেক্ষে কারা মহাপরিদর্শক অনধিক ১১০ টাকা বেতনে অনধিক ছয় মাসের জন্যে অস্থায়ী নিয়োগ প্রদান করতে পারবেন। তবে তিনি নিজের অফিসে অস্থায়ী পদ সৃষ্টি করতে পারবেন না, বা এমন কোন অস্থায়ী পদ সৃষ্টি করতে পারবেন না যে পদের বেতন অনুরূপ স্থায়ী পদের মূল বেতনের চেয়ে বেশী। বাজেট বরাদ্দ থাকা সাপেক্ষে কষ্ট সাধ্য ও বিশেষ প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি কারা বিভাগের কোন কর্মকর্তা- কর্মচারীকে অনুরূপ প্রতি কাজের জন্যে ৫০০ টাকা পর্যন্ত সম্মানী প্রদান করতে পারবেন।
নোট- বাজেট সাপেক্ষে কোন সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন মহিলা বন্দীর স্কট বা সঙ্গে থাকার প্রয়োজনে অনধিক ৭৫ টাকা বেতনে একাধিক্রমে এক মাসের জন্যে অস্থায়ী মহিলা কারারক্ষী নিয়োগ প্রদানের জন্যে কারা মহাপরিদর্শক সাধারণ বা বিশেষ আদেশে জেল সুপারকে ক্ষমতা প্রদান করতে পারবেন।। নং- ৩৫৯ এইচ কে তারিখ ১৮-৩-১৯৫৯ এবং নং ১৯৪ এইচ জে তারিখ ৬-৪৭০ মোতাবেক প্রতিস্থাপিত ও সংশোধিত।
বিধি-২৯। কর্মচারী নিয়োগ বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী (কারা অধিদপ্তর) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৪ প্রযোজ্য।
বিধি-৩০। কারা আইনের ২৯(২) ধারা মোতাবেক কারা মহাপরিদর্শক এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে বন্দী স্থানান্তরের নির্দেশ প্রদানের জন্যে ক্ষমতা প্রাপ্ত। মহামারীর প্রাদুর্ভাব হলে তিনি সরকারের অনুমোদন ব্যতীতই স্থায়ী আবাস হতে বন্দীদেরকে অস্থায়ী আবাসে স্থানান্তর করার অনুমোদন প্রদানে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ।
বিধি-৩১। কারা মহাপরিদর্শক প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগার বছরে একবার এবং প্রত্যেক জেলা কারাগার কমপক্ষে দুই বছরে একবার পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোন সময় পরিদর্শন করবেন। প্রত্যেক পরিদর্শনের সময় তিনি আঙিনা, ওয়ার্ড, সেল এবং অন্যান্য বেষ্টনী দেখবেন। পরিদর্শনকালে তিনি সকল বন্দীকে দেখবেন এবং তাদের আবেদন বা অভিযোগ শ্রবনের সুযোগ দিবেন এবং সে সংক্রান্ত শৃঙ্খলার বিষয়াদি তদন্ত করবেন এবং নিষ্পত্তি করবেন। সকল হিসাব, রেকর্ড, রেজিষ্টার নিয়ম মত সংরক্ষণ করা হচ্ছে কিনা এবং রেকর্ড নিরাপদে রাখা হয় কিনা সে সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত হবেন।
বিধি-৩২। পরিদর্শন শেষে তিনি পরিলক্ষিত বিষয়ের উপর পরিদর্শন বইতে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করবেন এবং জেল সুপারের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী রেকর্ড করবেন। যদি কারাগারের পরিস্থিতি অসন্তোষজনক হয়, তবে তিনি জেল সুপারের মতামতসহ তার মন্তব্য সরকারের নিকট প্রেরণ করবেন।
বিধি-৩৩। কারা মহাপরিদর্শক প্রত্যেক বছর শেষ হবার পর যথাসম্ভব অবিলম্বে, তবে ৩০শে এপ্রিলের পরে নয়, সরকারের কাছে কারাগার সমূহের পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের কার্যক্রম সম্পর্কে একটি বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করবেন। প্রতিবেদনে তিনি বন্দীদের পরিসংখ্যান উল্লেখ করবেন এবং কারাগারের প্রশাসন বিষয়ে প্রয়োজনীয় মতামত এবং মন্তব্য প্রদান করবেন। তিনি ঐ সময়ের মধ্যে কোন কোন কারাগার পরিদর্শন করেছেন এবং সে সকল পরিদর্শনের সাধারণ ফলাফল কি তা উল্লেখ করবেন।
বিধি-৩৪। কারা মহাপরিদর্শক কারাগারের সীমানার মধ্যে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
বিধি-৩৫। তিনি পদাধিকার বলে সকল মানসিক হাসপাতালের পরিদর্শক হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিধি-৩৬। পাগল আইন, ১৯১২ এর ৩০(১) ধারা মতে কারা মহাপরিদর্শক কমপক্ষে প্রতি ৬ মাসে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৬ এবং ৪৭১ ধারা মোতাবেক কারাগারে আটক পাগল ব্যক্তিদের পরিদর্শন করবেন এবং প্রতিবেদন প্রদান করবেন: ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৩ এবং ৪৭৪ ধারা অনুরূপ ক্ষেত্রে কারা মহাপরিদর্শককে সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করেছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭১ (২) ধারা এবং পাগল আইন, ১৯১২ এর ৩০(২) ধারা মোতাবেক সরকার জেল সুপারকে অনুরূপ দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন।
বিধি-৩৭। কতিপয় বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া সরকারের সঙ্গে বিভাগীয় সকল পত্র যোগাযোগ কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে করতে হবে। সরকারের উদ্দেশ্যে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পত্র তার মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে।
বিধি-৩৮। অকার্যকর
টীকা- কারা অধিদপ্তরে বর্তমানে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শকের একটি পদ রয়েছে।
অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক
অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক পদের দায়িত্ব নিম্নরূপ-
(১) ভ্রমণ, ছুটি, অসুস্থতা জনিত কারণে কারা মহাপরিদর্শকের অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী কারা মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব পালন;
(২) সদর দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের কার্যাবলীর তত্ত্বাবধান ও কর্মকর্তাদের নৈমত্তিক ছুটি মঞ্জুর করণ;
(৩) কারা বিভাগের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বদলি করণ,
(৪) কারা মহাপরিদর্শকের প্রতিনিধি হিসাবে বিভিন্ন সভায় যোগদান:
(৫) বৎসরে অন্তত ৪টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৮টি জেলা কারাগার পরিদর্শন;
(৬) জেল কোডের ৩০ বিধি অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে এক বিভাগ হতে অন্য বিভাগে বদলি করণ,
(৭) জেল কোডের ৫৬৯ বিধি অনুযায়ী রেয়াতসহ যে সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর ২০ বৎসর সাজা খাটা হয়েছে, তাদের মুক্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণের কার্যক্রম গ্রহণ;
(৮) প্রধান কারারক্ষী, কারারক্ষী মহিলা কারারক্ষীদের শৃঙ্খলা জনিত কারণে দেয় শাস্তির বিরুদ্ধে দাখিলকৃত আপীলের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে কারা মহাপরিদর্শককে সহায়তা প্রদান;
(৯) কারা বিভাগের দরপত্র কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন এবং দরপত্র সংক্রান্ত কাজে কারা মহাপরিদর্শককে সহায়তা প্রদান;
(১০) প্রধান কারারক্ষী, কারারক্ষী, মহিলা কারারক্ষীদের এক বিভাগ হতে অন্য বিভাগে বদলি করণ:
(১১) প্রধান কারারক্ষী, কারারক্ষী, মহিলা কারারক্ষী ব্যতীত সকল তৃতীয় শ্রেণীর পদের কর্মচারীদের এক মাস পর্যন্ত অর্জিত ছুটি (চিত্ত বিনোদন ছুটিসহ) মঞ্জুর করণ
আজকে আমরা কারাগারের শ্রেণী বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা জেল কোডের অন্তর্গত।
কারাগারের শ্রেণী বিভাগ
কারাগারের শ্রেণী বিভাগ
বিধি-২ কারাগারের শ্রেণী বিভাগ নিম্নরূপ হবে-
(১) কেন্দ্রীয় কারাগার : ৬ মাস বা ততোধিক মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত বন্দীদের আটক রাখার জন্য;
(২) জেলা কারাগার : জেলা সদরে স্থাপিত ফৌজদারি ও দেওয়ানী বন্দীদের আটক রাখার জন্য;
(৩) সাবসিডিয়ারি কারাগার : মহকুমা সদরে স্থাপিত কেবল মাত্র ফৌজদারি বন্দীদের আটক রাখার জন্য; এবং
(৪) বিশেষ কারাগার : বিশেষ শ্রেণীর বন্দীদের আটক রাখার জন্য ।
টীকা-১। বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৫৫ টি জেলা কারাগার রয়েছে। মহকুমা বিলুপ্ত হবার ফলে বাংলাদেশে এখন কোন সাবসিডিয়ারি কারাগার (সাব-জেল) নেই। সকল মহকুমা কারাগার জেলা কারাগারে রূপান্তরিত হয়েছে।
টীকা-২। বাংলাদেশে বর্তমানে কোন বিশেষ কারাগার নেই।
টীকা-৩। কারা আইনের ৩(১) ধারা মোতাবেক কোন স্থান কারাগার হিসেবে গণ্য হবার জনে ঐ স্থানকে সরকার কর্তৃক গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
টীকা-৪। থানা হাজত, জিজ্ঞাসা (ইন্টোরোগেশন) সেল, কোর্ট হাজত, সামরিক হাজত, কিশোর অপরাধ সংশোধনী কেন্দ্র, নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার জন্যে গঠিত আশ্রয় কেন্দ্র বা ‘সেফ কাষ্টডী’, উম্মাদ আশ্রয় কেন্দ্র, মানসিক হাসপাতাল প্রভৃতি কারাগার নয় বিধায় ঐ সব ক্ষেত্রে জেল কোড প্রযোজ্য নয়।
টীকা-৫। বাংলাদেশে ১৬ টি থানা কারাগার রয়েছে, বর্তমানে এসব কারাগারে কোন বন্দী রাখা হয় না।
বিধি ৩-৬। প্রয়োগ নেই।
বিধি-৭। আইনের শর্ত এই যে, সিভিল বন্দীদেরকে ফৌজদারি বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে ৷ সিভিল বন্দীদের জন্যে কারাগারের যে কোন একটি অংশকে পৃথকভাবে স্থাপন করা যেতে পারে যাতে সেখানে কেবল মাত্র সিভিল বন্দীদেরকে রাখা যায়।
বিধি-৮। প্রয়োগ নেই।
বিধি-৯। প্রত্যেক কারাগারে একজন সুপারিনটেন্ডেন্ট, একজন মেডিকেল অফিসার (যিনি সুপারিনটেন্ডেন্টও হতে পারবেন), একজন মেডিকেল সাব- অর্ডিনেট, একজন জেলার এবং সরকার যে রূপ প্রয়োজন মনে করে সেরূপ সংখ্যক অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন।
কারাগারের শ্রেণী বিভাগ
টীকা-১। বর্তমানে কারাগারসমূহে নিম্নোক্ত পদবীর কমকর্তা-কর্মচারী রয়েছে –
সাধারণ বিভাগ
১। সিনিয়র জেল সুপার ( শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কারাগারে)
২। জেল সুপার (জেলা কারাগারে)
৩। ডেপুটি জেল সুপার (শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কারাগারে)
৪। জেলার
৫। ডেপুটি জেলার
৬। সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টর (শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কারাগারে)
৭। সর্বপ্রধান কারারক্ষী
৮। প্রধান কারারক্ষী
৯। কারারক্ষী
১০। মেট্রন / মহিলা কারারক্ষী
১১। মহিলা কারারক্ষী
১২। উচ্চমান সহকারী (শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কারাগারে)
১৩। কারা সহকারী-কাম- মুদ্রাক্ষরিক
১৪ । কারা শিক্ষক (শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কারাগারে )
১৫। সহকারী-কাম-বিক্রেতা (রেশন দোকান)
কারাগারের শ্রেণী বিভাগ
স্বাস্থ্য বিভাগ
১৬। সহকারী সার্জন
১৭। উপ-সহকারী সার্জন
১৮। ফার্মাসিস্ট
১৯। ডিপ্লোমা নার্স
২০। পুরুষ সেবক
উৎপাদন বিভাগ
২১। হিসাব রক্ষক
২২। সহকারী হিসাব রক্ষক
২৩। ফ্যাক্টরী ওভারশিয়ার
২৪। টাস্ক টেকার
২৫। ব্লাক স্মিথ
২৬। ষ্টোর কিপার
২৭। বুক বাইন্ডিং ইনস্টাক্টর
২৮। নিম্নমান সহকারী-কাম- মুদ্রাক্ষরিক
২৯। দর্জি মাষ্টার
৩০। দর্জি
৩১। সহকারী-কাম-বিক্রেতা শো রুম
টীকা-২। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে যক্ষা রোগীদের চিকিৎসার জন্যে একটি জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ রয়েছে।
টীকা-৩। এ ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত সম্ভ্রম বন্দীদের মধ্যে হতে ওভারশিয়ার, প্রহরী, নাইট ওয়াচম্যান, রাইটার, বাবুর্চী, সুইপার, ধোপা নাপিত, মালী প্রভৃতি নিয়োগ করা হয়।
বিধি-১০। কারা মহাপরিদর্শক নিয়োগ- বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী (কারা অধিদপ্তর) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৪ অনুযায়ী কারা মহাপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়।
বিধি ১১-১৬। অকার্যকর।
বিধি-১৭। সরকারের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া কোন স্থায়ী পদ গ্রহণ যোগ্য হবে না। কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত অস্থায়ী নিয়োগ যোগ্য কোন পদে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
আজকে আমরা কারাগার পরিচালনার আইন ও বিধি সমূহ সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা জেল কোডের অন্তর্গত।
কারাগারের শ্রেণী বিভাগ
কারাগার পরিচালনার আইন ও বিধি সমূহ
বিধি-১। নিম্নোক্ত আইন এবং বিধিসমূহ কারাগার সমূহের সংস্থাপন এবং ব্যবস্থাপনা, কারাগারে বন্দী আটক রাখা এবং তাদের পরিচালনা এবং শৃঙ্খলার বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ করে ঃ-
প্রিজন্স এ্যাক্ট, ১৮৯৪ ( ১৮৯৪ সালের IX নম্বর আইন)
প্রিজনার্স এ্যাক্ট, ১৯০০ ( ১৯০০ সালের ।।। নম্বর আইন)
বেত্রাঘাত আইন,১৯০৯ ( ১৯০৯ সালের IV নম্বর আইন)
উম্মাদ আইন, ১৯১২ (১৯১২ সালের IV নম্বর আইন)
কারখানা আইন, ১৯৬৫ (১৯৬৫ সালের IV নম্বর আইন)
শিশু আইন, ১৯৭৪ ( ১৯৭৪ সালের XXXIX নম্বর আইন)
দেওয়ানী কার্যবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং দণ্ড বিধিতে বন্দী আটক রাখা, দণ্ডাদেশ বাস্তবায়ন, আপীল, উম্মাদ এবং এ ধরনের অন্যান্য বিষয়ে যে সব বিধান রয়েছে, কারা প্রশাসন পরিচালনার জন্যে সে সব বিধানও প্ৰতিপালন করতে হবে।
কারাগারের শ্রেণী বিভাগ
নোট দেওয়ানী কার্যবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং দণ্ড বিধি ব্যতীত উপরে বর্ণিত আইন সমূহ জেল কোড দ্বিতীয় খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
টীকা-১। জেল কোড, ৭ম সংস্করণে আরো কতিপয় আইনের উল্লেখ রয়েছে, বর্তমানে সে সকল আইনের কার্যকারীতা নেই। আইন সমূহ
প্রিজনার্স এ্যাক্ট, ১৮৭১ (১৮৭১ সালের / নম্বর আইন)
স্টেট প্রিজনার্স রেগুলেশন, ১৯১৮ (১৯১৮ সালের III নম্বর রেগুলেশন)
পেনাল সার্ভিট্যড এ্যাক্ট, ১৮৫৫(১৮৫৫ সালের XXIV নম্বর আইন)
রিফরমেটরী স্কুলস এ্যাক্ট, ১৮৯৭ (১৮৯৭ সালের VIII নম্বর আইন)
বেঙ্গল বোরস্ট্যাল স্কুল এ্যাক্ট, ১৯২৮(১৯২৮ সালের। নম্বর আইন)
টীকা-২। কারাখানা আইন, ১৯৩৪ এর পরিবর্তে ১৯৬৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর কারখানা আইন, ১৯৬৫ বলবৎ হয়েছে।
টাকা ৩। শিশু আইন, ১৯৭৪ ঢাকায় ১৯৭৬ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর এবং সারা বাংলাদেশে ১৯৮০ সালের ১লা জুন বলবৎ হয়েছে। উক্ত আইনের ৭৮ ধারায় চিলড্রেন এ্যাক্ট ১৯২২ এবং রিফরমেটরী স্কুলস আইন, ১৮৯৭ রহিত করা হয়েছে।
Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class