ভূমির সিকস্তি ও পয়স্তি

সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের ফেসবুক পাতায় অনেকেই সিকস্তি ও পয়স্তি বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন। এই দুটি বিষয় মূলত নদীভাঙন ও চর জেগে ওঠার সাথে সম্পর্কিত।

শব্দার্থ

  • সিকস্তি (Diluvion)
    ফার্সি শব্দ। অর্থ— নদীর ভাঙনে জমি বিলীন হওয়া।

  • পয়স্তি (Alluvion)
    এটিও ফার্সি শব্দ। অর্থ— ভেঙে যাওয়া জমি আবার চর হিসেবে নতুন করে উত্থিত হওয়া।

ভূমির সিকস্তি ও পয়স্তি
নদী ভাঙ্গন

ভূমির সিকস্তি ও পয়স্তি

নদী ভাঙন ও ভূমির সিকস্তি–পয়স্তি বিষয়ে আইনসমূহ

বাংলাদেশে সিকস্তি ও পয়স্তি সংক্রান্ত আইনগুলো সময়ের সঙ্গে একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। নিচে ধারাবাহিকভাবে তা তুলে ধরা হলো—

১. ১৮২৫ সাল

Alluvion & Diluvion Regulation
এই আইনের মাধ্যমেই প্রথমবার নদীভাঙন ও চরজমির বিষয়ে আইন করা হয়। বর্তমানে এটি কার্যকর নেই।

২. ১৯২৩ সাল

The Bengal Alluvion Lands Act
এই আইনটিও বর্তমানে বলবৎ নেই।

৩. ১৯৫০ সাল

প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ – ধারা ৮৬
এখানে বলা হয়—

সিকস্তি জমি যদি ২০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়স্তি হয়, তবে পূর্ব মালিক ৪ বছরের বকেয়া খাজনা পরিশোধ করে জমির মালিকানা ফিরে পাবেন।

৪. ১৯৭২ সাল

পি. ও. ১৩৫/১৯৭২
এই আদেশে বলা হয়—

সিকস্তি জমিতে পূর্ব মালিকের স্বত্ব চিরদিনের জন্য বিলোপ হবে।

৫. ১৯৯১ সাল

অধ্যাদেশ নং ৩/১৯৯১
এতে বলা হয়—

যদি সিকস্তি জমি ২০ বছরের মধ্যে পয়স্তি হয়, তবে পূর্ব মালিকের মালিকানা বহাল থাকবে।

কিন্তু একই বছর—

অধ্যাদেশ নং ২৫/১৯৯১
দ্বারা ৩/১৯৯১ বাতিল করে আবার পি. ও. ১৩৫/১৯৭২ পুনর্বহাল করা হয়।

৬. ১৯৯৪ সাল

আইন নং ১৫/১৯৯৪
এটি প্রজাস্বত্ব আইনের ৮৬ ধারার সর্বশেষ সংশোধনী।

১৯৯৪ সালের ১৫ নং আইনের মূল রূপরেখা

সিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে পয়স্তি হয়, তবে পূর্ব মালিক বা তাঁর ওয়ারিশরা নিম্নোক্ত শর্তে মালিকানা ফিরে পাবেন—

  • পয়স্তি অবশ্যই স্বস্থানে হতে হবে (Reformation in situ)
  • পূর্ব মালিক বা তাঁর ওয়ারিশদের মোট জমি ৬০ বিঘার বেশি হলে তারা সুবিধা পাবেন না।
  • জেলা প্রশাসক বাস্তব অবস্থা যাচাই করে জমি বরাদ্দ দেবেন।
  • বরাদ্দের পরেও মোট জমি ৬০ বিঘার বেশি হতে পারবে না।
  • এই আইন ১৩ জুলাই ১৯৯৪-এর পর সিকস্তি/পয়স্তিকৃত জমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
    এর আগের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আইন কার্যকর থাকবে।

স্বস্থানে পয়স্তি (Reformation in situ) কী?

নদীভাঙনের ফলে যদি এক পাড়ের জমি ভেঙে—

  • নদীর অপর পাড়ে, বা
  • ডানে বা বামে
  • সর্বোচ্চ ১ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে
  • চর হিসেবে আবার জেগে ওঠে, তবে সেটিকে স্বস্থানে পয়স্তি বলা হয়।

নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য সিকস্তি ও পয়স্তি বিষয়ক আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আইনগুলো জানা থাকলে ভূমি হারানোর ভয় অনেকটাই কমে আসে এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।

আপনার ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো জটিলতা বা প্রশ্ন থাকলে জানালে যথাসাধ্য দিকনির্দেশনা দিতে পারলে আমি আনন্দিত হব।

 

নতুন চর
নতুন চর

 

পয়স্তি ও শিকস্তির ইতিহাস:

বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম নদীগঠিত বদ্বীপ অঞ্চলগুলোর একটি। দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বের কিছু পার্বত্য এলাকা বাদ দিলে দেশের প্রায় পুরো ভূখণ্ডই নদী দ্বারা গঠিত। তিনটি প্রধান নদী—গঙ্গা/পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র/যমুনা ও মেঘনা—হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বিপুল পরিমাণ বালি ও পলি বহন করে আনে।

প্রতিবছর এই নদীগুলো কোটি কোটি টন পলি জমা করে নদীর তলদেশ উঁচু করে তোলে। কোথাও নদীর পাড় ভেঙে যায়, আবার কোথাও নতুন চর জেগে ওঠে। এভাবেই একদিকে ভূমিক্ষয় (শিকস্তি বা Diluvion) ঘটে, অন্যদিকে নতুন ভূমিগঠন (পয়স্তি বা Alluvion) হয়। এই প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলেই সৃষ্টি হয়েছে চরজমি ও নদীভাঙন কবলিত অঞ্চল।

নদীভাঙন ও চরজাগার এই চক্র প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবন, সম্পত্তি ও অধিকার। ফলে এই পরিবর্তিত জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আইনি ও সামাজিক প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এই বাস্তবতা থেকেই ধীরে ধীরে পয়স্তি ও শিকস্তি সংক্রান্ত আইন ও প্রথা গড়ে ওঠে।

১৮২৫ সালের প্রবিধান: প্রথম আইনগত স্বীকৃতি

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে, বিশেষ করে বিচার-আদালত প্রতিষ্ঠার পর চরজমির মালিকানা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা বাড়তে থাকে। তখন সুস্পষ্ট আইন না থাকায় আদালতগুলো বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে ১৮২৫ সালে “Bengal Alluvion and Diluvion Regulation” জারি করা হয়।

এই প্রবিধানের উদ্দেশ্য নতুন আইন তৈরি করা নয়, বরং তখনকার প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতিকে আইনের স্বীকৃতি দেওয়া। যেখানে স্পষ্ট প্রথা ছিল, সেগুলোকেই বৈধতা দেওয়া হয়। আর যেখানে প্রথা স্পষ্ট ছিল না, সেখানে এই প্রবিধানের মূলনীতিকে আদালতের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে রাখা হয়।

এই আইনে দুই ধরনের জমির কথা বলা হয়—

  • স্বস্থানে পুনর্গঠিত জমি (Reformation in situ)
    অর্থাৎ, যেই জমি নদীতে ভেঙে গেছে, সেটি আবার সেই একই স্থানে জেগে উঠলে পূর্ব মালিক তার অধিকার ফিরে পাবেন।
  • নতুন ভূমিগঠন বা চরজমি
    অর্থাৎ, যেই জমি নতুনভাবে গঠিত হয়েছে এবং আগে কোনো মালিকানার আওতায় ছিল না।

এই দুই ধরনের জমির মালিকানা আলাদা নীতির অধীনে নির্ধারিত হবে।

শিকস্তি জমির মালিকানার ধারণা

১৮২৫ সালের প্রবিধানের একটি মৌলিক ধারণা হলো—
জমি পানির নিচে গেলেও মালিকের অধিকার নষ্ট হয় না।

অর্থাৎ, শিকস্তি হওয়ার পর যতদিন জমি পানির নিচে থাকে, আইনগতভাবে ধরা হয় যে মালিক এখনও তার জমির দখলেই আছেন। যখন সেই জমি আবার দৃশ্যমান হয়, তখন তিনি তার মালিকানা দাবি করতে পারেন।

এই নীতিটি প্রিভি কাউন্সিলের বিচারব্যবস্থায়ও স্বীকৃত হয়েছে এবং পরে বিভিন্ন আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

১৮৫৯ ও ১৮৮৫ সালের আইন

১৮৫৯ সালের বঙ্গীয় খাজনা আইন এবং
১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন—
এই দুই আইনে শিকস্তি ও পয়স্তি বিষয়ক নীতিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এখানে বলা হয়—

  • যদি কোনো প্রজার জমি পয়স্তির কারণে বৃদ্ধি পায়, তবে তাকে অতিরিক্ত খাজনা দিতে হবে।

  • আর যদি শিকস্তির কারণে জমি কমে যায়, তবে তার খাজনাও অনুপাতে কমবে।

১৮৮৫ সালের আইনে পরবর্তীতে ৮৬-ক ধারা যুক্ত হয়, যেখানে বলা হয়—
যদি কোনো প্রজা শিকস্তির কারণে খাজনা কমানোর সুবিধা গ্রহণ করে, তবে তা এই অর্থে ধরা হবে যে তিনি ঐ শিকস্তি জমির অধিকার পরিত্যাগ করেছেন। তবে ১৯৩৮ সালের সংশোধনীতে বলা হয়—
২০ বছরের মধ্যে জমি পুনরায় জেগে উঠলে প্রজা তার অধিকার ফিরে পাবেন।

 

নদীভাঙনের কবলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পদ্মা নদীসংলগ্ন মনপুরা চর
নদীভাঙনের কবলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পদ্মা নদীসংলগ্ন মনপুরা চর

 

১৯৫০ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত আইনগত পরিবর্তন

১. ১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইন

১৯৫০ সালে প্রণীত হয় “জমিদারি তালুক হুকুমদখল ও প্রজাস্বত্ব আইন”। এই আইনে প্রথমবারের মতো পয়স্তি ও শিকস্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ও পৃথক বিধান যুক্ত করা হয়।

ধারা ৮৬ – শিকস্তি জমি

এখানে বলা হয়—

  • শিকস্তির কারণে যদি জমি নষ্ট হয়, তবে প্রজা খাজনা হ্রাসের সুবিধা পাবে।
  • জমি পুনরায় জেগে উঠলে (স্বস্থানে) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রজা তার অধিকার ফিরে পেতে পারে।

ধারা ৮৭ – পয়স্তি জমি

এখানে বলা হয়—

  • নদী বা সমুদ্র থেকে ধীরে ধীরে যে জমি গঠিত হয়, সেটি পয়স্তি জমি।
  • এই জমি তখনকার আইনে মূলত নদীতীরবর্তী মালিকের জমির সম্প্রসারণ বলে ধরা হতো।

এই দুটি ধারা ১৮২৫ সালের প্রবিধানের মূল নীতিকে আধুনিক আইনি কাঠামোতে যুক্ত করে।

২. ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ (পি. ও. ১৩৫/১৯৭২)

১৯৭২ সালের ৪ আগস্ট জারি হয় রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১৩৫/১৯৭২।
এটি ছিল একটি বড় মোড়।

এতে বলা হয়—

শিকস্তি জমিতে প্রজার মালিকানা বিলুপ্ত হবে।
জমি যদি পরে পুনরায় গঠিত হয়, তবে তা সরকারি খাসজমি হিসেবে গণ্য হবে।

অর্থাৎ, আগে যেখানে প্রজার অধিকার বজায় থাকতো, সেখানে এখন সরকার মালিক হবে—এই নীতিই কার্যকর হয়।

তবে একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়—
যদি ১৮২৫ সালের প্রবিধানের আলোকে পূর্বে আদালত বা কর্তৃপক্ষ কোনো প্রজাকে মালিক বলে চূড়ান্তভাবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে, তাহলে সে অধিকার বাতিল হবে না।

৩. ১৯৯৪ সালের সংশোধনী (আইন নং ১৫/১৯৯৪)

দীর্ঘ সামাজিক আন্দোলন ও বাস্তব সংকটের প্রেক্ষিতে সরকার আবার আইন সংশোধন করে।

১৯৯৪ সালের ১৫ নং আইন দ্বারা বলা হয়—

  • শিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পুনর্গঠিত হয়,
  • এবং প্রজার মোট জমি ৬০ বিঘার কম হয়,
  • তবে প্রজা বা তার ওয়ারিশ মালিকানা ফিরে পাবেন।

তবে—

  • ৩০ বছর পার হলে জমি পুনর্গঠিত হলে তা সরকারের সম্পত্তি হবে।
  • প্রজাকে খাজনা হ্রাসের প্রত্যয়নপত্র দেখাতে হবে।

এই আইনই বর্তমানে মূল অবস্থানে পুনর্গঠিত জমির মালিকানা নির্ধারণে প্রযোজ্য।

৪. ১৯৫৬ সালের পর নদীতলের মালিকানা

জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পর (১৯৫৬)—

  • ছোট ও অগভীর নদী যেগুলোর জলকর (মাছ ধরার) অধিকার ছিল,
  • সেগুলোও সরকার অধিগ্রহণ করে।

ফলে এরপর থেকে এসব নদীতে জেগে ওঠা চরও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়।

 

নদী ভাঙ্গন
নদী ভাঙ্গন

 

চর দখল, সহিংসতা ও বর্তমান বাস্তবতা:

১. বড় নাব্য নদীর চর ও মালিকানা

বড় নাব্য নদী (যেমন পদ্মা, যমুনা, মেঘনা) এবং সমুদ্রে গঠিত চরগুলোর ক্ষেত্রে নদীতল বা সমুদ্রতল রাষ্ট্রীয় ও জনসাধারণের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত। তাই এসব নদীতে গঠিত চরকে কোনো ব্যক্তির মূল জমির সম্প্রসারণ বলা যায় না।

তবে ১৮২৫ সালের প্রবিধানে তিনটি ভিন্ন পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে—

ক) ধীরে ধীরে গঠিত চর

যদি অলক্ষ্যে ও ধীরগতিতে চর গঠিত হয়, তবে সেটিকে নদীতীরবর্তী জমির সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

খ) প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন চর

যদি চরটি মূল ভূখণ্ড থেকে একটি নাব্য প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন থাকে এবং সেটি সারা বছর নৌচলাচলযোগ্য হয়, তবে চরটি রাষ্ট্রের সম্পত্তি হবে।
কিন্তু যদি প্রণালীটি পায়ে হেঁটে পার হওয়া যায়, তবে চরটি মূল ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

গ) এভালশান (Avulsion)

যদি নদীর আকস্মিক প্রবাহে একটি জমিখণ্ড হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য জমির সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে চিহ্নিত করা গেলে সেই জমি মূল মালিকেরই থাকবে।

২. চর দখল ও সহিংসতা

নতুন চর অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় এগুলো দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়। বলপ্রয়োগে চর দখলকে সাধারণভাবে “চর দখল” বলা হয়।

এতে দেখা যায়—

  • ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষকে প্রভাবশালী মহল ব্যবহার করে
  • বিনিময়ে তাদের জমি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দেয়
  • ফলে সহিংসতা, দাঙ্গা ও হত্যাকাণ্ড ঘটে

 

৩. ১৯২০ সালের বঙ্গীয় পলিগঠিত ভূমি আইন

এই সমস্যা সমাধানে সরকার ১৯২০ সালে একটি আইন প্রণয়ন করে।

এই আইনে বলা হয়—

  • যদি কোনো চর নিয়ে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকে,
  • তবে কালেক্টর লিখিত আদেশে সেই জমি ক্রোক করতে পারবেন
  • রিসিভার নিয়োগ করে জমি ব্যবস্থাপনা করবেন
  • দাবিদারদের আবেদন নিয়ে জেলা জজ স্বত্ব নির্ধারণ করবেন

কিন্তু বাস্তবে এই আইন খুব কম প্রয়োগ হয়েছে।

৪. বর্তমান বাস্তবতা

আজকের আইন অনুযায়ী—

শিকস্তির ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পুনর্গঠিত জমি ছাড়া সকল চরভূমি রাষ্ট্রের সম্পত্তি।

এই জমিগুলো সরকার বিধি অনুযায়ী বন্দোবস্ত দিতে পারে।

পয়স্তি ও শিকস্তির ইতিহাস শুধু আইনের গল্প নয়, এটি লাখো মানুষের জীবনের গল্প। নদী যেমন ভূমি গড়ে, তেমনি ভূমি ভেঙে জীবনও ভেঙে দেয়। সঠিক আইন প্রয়োগ ও স্বচ্ছ জরিপই পারে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে।

বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থা

একটি রাষ্ট্রের সকল আইন, শাসনব্যবস্থা ও নাগরিক অধিকারের মূল ভিত্তি হলো সংবিধান। সংবিধানকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন বলা হয়। রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, ক্ষমতার উৎস কোথায়, নাগরিকদের অধিকার কী—এসব প্রশ্নের উত্তরই সংবিধানে নির্ধারিত থাকে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে উঠেছে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ভিত্তিতে।

বাংলাদেশের সংবিধান

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয় ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে এবং কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২। এটি প্রণয়ন করেন গণপরিষদের সদস্যরা, যার নেতৃত্ব দেন ড. কামাল হোসেন। সংবিধানটি চারটি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত—

  1. জাতীয়তাবাদ

  2. সমাজতন্ত্র

  3. গণতন্ত্র

  4. ধর্মনিরপেক্ষতা

এই চার মূলনীতি রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা ও আদর্শ নির্ধারণ করে।

সংবিধানের বৈশিষ্ট্য

বাংলাদেশের সংবিধানের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—

  • এটি একটি লিখিত সংবিধান
  • এটি কঠোর ও সুপ্রিম সংবিধান, অর্থাৎ সব আইনের ঊর্ধ্বে
  • গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করে
  • সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করেছে
  • ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি (বিধান, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ)
  • মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা
  • রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালার সংযোজন
  • স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা

 

মৌলিক অধিকার

সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬–৪৭) নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এগুলো লঙ্ঘিত হলে নাগরিক আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। উল্লেখযোগ্য অধিকারসমূহ—

  • আইনের দৃষ্টিতে সমতা
  • জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার
  • মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
  • ধর্ম পালনের স্বাধীনতা
  • চলাচলের স্বাধীনতা
  • সংগঠন গঠনের অধিকার
  • সম্পত্তির অধিকার
  • ন্যায়বিচার লাভের অধিকার

এই অধিকারগুলো রাষ্ট্রের স্বেচ্ছাচার রোধ করে এবং নাগরিককে নিরাপত্তা দেয়।

রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা

সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিসমূহ উল্লেখ আছে। এগুলো সরাসরি আদালতে প্রয়োগযোগ্য নয়, তবে রাষ্ট্রের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে। যেমন—

  • সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
  • শ্রমিকের অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা
  • নারীর অধিকার ও সমতা নিশ্চিতকরণ
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রসার
  • গ্রামীণ উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন

 

সংবিধান সংশোধনীসমূহ

এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধানে ১৭টি সংশোধনী হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ—

  • চতুর্থ সংশোধনী (১৯৭৫): একদলীয় শাসন ব্যবস্থা
  • পঞ্চম সংশোধনী: সামরিক শাসন বৈধকরণ (পরে বাতিল)
  • অষ্টম সংশোধনী: ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা
  • ত্রয়োদশ সংশোধনী: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
  • পঞ্চদশ সংশোধনী: তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল

এসব সংশোধনী রাষ্ট্রব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে।

গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলা

বাংলাদেশের সংবিধান রক্ষায় বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মামলা—

  • পঞ্চম সংশোধনী মামলা: সামরিক শাসন অবৈধ ঘোষণা
  • ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলা: তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল
  • মাসদার হোসেন মামলা: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত
  • ইলিয়াস আলী বনাম রাষ্ট্র: মৌলিক অধিকার রক্ষা

এই মামলাগুলো সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে।

সংবিধান শুধু একটি আইনি দলিল নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয় ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংবিধানের আলোকে পরিচালিত হয়। তাই সংবিধান সম্পর্কে সচেতনতা নাগরিক দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

দলিল ও খতিয়ান ছক

আজকে আমরা আলোচনা করবো দলিল ও খতিয়ান ছক।

 

 

দলিল ও খতিয়ান ছক
দলিল ও খতিয়ান ছক

 

ব্রিটিশ আমলের অনেক দলিলে আগেকার কাঠার নিয়মে জমির কাত দেখিয়েছেন। যেমন ২১ কাঠা বলতে কত কাঠা বুঝায় ১ কাঠা বলতে কত কাঠা বুঝায় । হয়ত এমনও লেখা থাকতে পারে ॥ ৪ কাঠার কাত ।।২ কাঠা। আগের দিনে সের যেভাবে লেখার নিয়ম ছিল কাঠাও একই প্রণালীতে লেখার নিয়ম ছিল । শুধু দশ সেরে ১ চৌক হতে ৪ চৌকে ১ মণ হত কিন্তু কাঠার বেলায় ৫ কাঠায় ১ চৌক হত এভাবে ৪ চৌকে বা ২০ কাঠায় ১ বিঘা হত ।

 

দলিল ও খতিয়ান ছক

ছকের খতিয়ানে ক = ২ আনা, খ = ৩ আনা, গ = ৪ আনা, ১ আনা = ৫ আনা, চ= ১ আনা ।

মালিকের অংশের কলামটি যোগ করে দেখা যাক— ২ আনা + ৩ আনা +8 আনা + ১ আনা + ৫ আনা + ১ আনা মোট ১৬ আনা বা ১ টাকা’।

এই খতিয়ানে মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ এর মধ্যে কে কতটুকু পায় তা কিভাবে হিসাব করতে হবে তা বুঝানো হল। 

মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ ১ টাকা অর্থাৎ ১৬ আনার উপর ভাগ করে

ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের জমির পরিমাণ পাওয়া যাবে।

জমির উপর খাজনার হিসাব পূর্বে খাজনার হিসাব ছিল এভাবে—

৫ গন্ডা বা ৩ পাই এ ১ পয়সা = ৫২ পয়সা (১০

৪ পয়সা বা ১২ পাই এ ১ আনা =) ৩ পয়সা ১৫

পাই এর অংকের পর ‘পাই’ কথাটি লিখতে হয়। নতুবা গণ্ডা বলে ধরা হয়। কে কত টাকা রাজস্ব বা খাজনা দিবে তার হিসাব করছি মোট খাজনাকে ১৬ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে অংশ দ্বারা গুণ করলে উহা বের হবে। (বর্তমান হিসাবে)।

 

খতিয়ান  নং ৩০

এই খতিয়ানে মোট জমি ৩ একর ৫২ শতাংশ এর মধ্যে কে কতটুকু পায় তা কিভাবে হিসাব করতে হবে তা দেখান হল।

৩ একর ৫২ শতাংশ = ৩00 + 2 = ৩৫২ শতাংশ। এখন মোট জমি অর্থাৎ ৩৫২ শতাংশকে ১০০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলেই মালিকের সম্পত্তির পরিমাণ জানা যাবে।

সুতরাং (ক) ০.১২ ভাগে পায় (৩৫২x.১২) = ৪২.২৪ শতাংশ বা সোয়া ৪২ শতাংশ (খ) ০.১৭ ভাগে পায় (৩৫২.১৭) = ৫৯.৮৪ শতাংশ বা ৬০ শতাংশ

(গ) ০.১৯ ভাগে পায় (৩৫২.১৯) = ৬৬.৮৮ শতাংশ বা ৬৭ শতাংশ

(ঘ) ০.২৫ ভাগে পায় (৩৫২.২৫) = ৮৮ শতাংশ

(ঙ) ০.০৭ ভাগে পায় (৩৫২.০৭) = 24.64 শতাংশ বা ২৫ শতাংশ

(চ) ০.০৬ ভাগে পায় (৩৫২.০৬) = ২১.১২ শতাংশ বা ২১ শতাংশ

(ছ) ০.০৪ ভাগে পায় (৩৫২×.০৪) = ১৪.০৮ শতাংশ বা ১৪ শতাংশ

(জ) ০.০২ ভাগে পায় (৩৫২.০২) = ০৭.০৪ শতাংশ বা ৭ শতাংশ (ঝ) ০.০৮ ভাগে পায় (৩৫২.০৮) = ২৮.১৬ শতাংশ বা ২৮ শতাংশ

খতিয়ানে ক, খ, গ, ঘ, ঙ ইত্যাদি দেয়া আছে। ধরে নিতে হবে যে, অক্ষরগুলোই কোন ব্যক্তি বা মালিকের নাম বুঝানোর জন্য দেয়া হয়েছে ।

খতিয়ান  নং ৪০

মালিকের অংশের ঘরটা যোগ করি :

১০ গণ্ডা + ১৭ গণ্ডা + ১৩ গণ্ডা + ৮ গণ্ডা +১২ গণ্ডা + ২ গন্ডা + ১৩ গণ্ডা + ৬ পা + ১২ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা মোট ১০০ গণ্ডা ১০০ গণ্ডায় ৫ আনা (যেহেতু ২০ গণ্ডায় এক আনা) হওয়ার দরুন কিছুই বসে নাই। (হাতে ৫ আনা এখন আনা যোগ করি = ১ আনা + ১ আনা + ২ আনা + ৩ আনা + ১ আনা + ২ আনা + ১ আনা = হাতের ৫ আনা মোট = ১৬ আনা বা ১.০০ টাকা।

এখন মোট জমিকে ১ টাকার উপর ভাগ করে ভাগফলকে অংশীদারের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের অংশ বের হবে। হিসাবের সুবিধার জন্য মোট জমিকে শতাংশ করি এবং মালিকের অংশের ঘরকেও গন্ডায় পরিণত করি। মোট জমি ২ একর ৪০ শতাংশকে সব শতাংশ করলে হয় (১০০ শতাংশে ১ একর)। সুতরাং, ১০০ x ২ +৪০ = ২০০+৪০ = ২৪০ শতাংশ।

মালিকের অংশগুলো গণ্ডায় পরিণত করলে মোট গন্ডার পরিমাণ হয় ১ টাকা =১৬ আনা ।

আবার ২০ গন্ডায় ১ আনা। সুতরাং ১ টাকা = মোট গণ্ডা হয় ১৬×২০ = ৩২০ গণ্ডা। মোট জমিকে ৩২০ দ্বারা ভাগ করে দেখি প্রতি গণ্ডায় কি পরিমাণ জমি হয়। হিসাবের সুবিধার্থে মালিকের অংশগুলো সর্বনিম্ন এককে পরিণত করি (এখানেগণ্ডা হচ্ছে সর্বনিম্ন একক)।

খুব ভাল করে মনে রাখবেন, আনার ডানে বসে গন্ডা, গন্ডার ডানে বসে কড়া, কড়ার ডানে বসে কাপ অথবা ক্রান্তি। এক এক খতিয়ানে এক এক রকম থাকে অর্থ কাগে থাকলে সে খতিয়ান কাগের সূত্রে হিসাব হয়। ক্রান্তি থাকলে সে খতিয়ান ক্রান্তি সূত্রে হিসাব হয়। কাগ ক্রান্তির ডানে যথাক্রমে তিল/দন্তি সেই অনুসারে হিসাব। তিলের ডানে রেনু, রেনুর ডানে ঘুন বসে। এদের মধ্যে গণ্ডা, দণ্ডি, তিল এই সংকেতগুলো বাংলায় পাওয়া যায়।

খতিয়ান  নং ৫০

৫০নং খতিয়ানের মোট জমি ৯ একর ৭৫ শতাংশ। মালিকের অংকের ঘরটা যোগ করি

(.১২+.১০+.১৩+.১৩+.১৪+.১৬+.১২+.০৫ +.০৩ +.০২) =১.০০

মোট জমি ১০০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে কে কতটুকু পায় তা বের হবে।

ক, ১২ অংশ পায় ১৭৫× ১২ = ১১৭ শতাংশ বা ১ একর ১৭ শতাংশ

খ, ১০ অংশ পায় ৯৭৫x১০ = ৯৭.৫ শতাংশ বা ৯৭ শতাংশ

গ, ১৩ অংশ পায় ৯৭৫X ১৩ = ১২৬.৭৫ শতাংশ বা ১ একর ২৭ শতাংশ

ঘ, ১৩ অংশ পায় ১৭৫X ১৩ = ১৬.৫ বা ১ একর ২৭ শতাংশ

ঙ, ১৪ অংশ পায় ৯৭৫x১৪ = ১৩৬.৫ বা ১ একর ৩৬ শতাংশ

চ, ১৬ অংশ পায় ৯৭৫x১৬ = ১৫৬ শতাংশ বা ১ একর ৫৬ শতাংশ

ছ, ১২ অংশ পায় ৯৭৫× ১২ = ১১৭ শতাংশ বা ১ একর ১৭ শতাংশ

জ, ০৫ অংশ পায় ৯৭৫.০৫ = ৪৮.৭৫ শতাংশ ঝ, ০৩ অংশ পায় ৯৭৫.০৩ = ২৯.২৫ শতাংশ

ঞ. .০২ অংশ পায় ৯৭৫×.০২ = ১৯.৫ শতাংশ

[বিঃ দ্রঃ দশমিকের ডানে ৩ অংকের পর যদি ৫ হতে উপরে সংখ্যা থাকে তা হলে ঐ সংখ্যা উঠিয়ে ০.০১ যোগের নিয়ম রয়েছে।]

খতিয়ান  নং ৬০

 

৬০নং খতিয়ানে মালিকের অংশ

ক = ) ৮। (১ আনা সোয়া ৮ গন্ডা)

খ)১০।। (২ আনা সাড়ে ১০ গন্ডা)

গ =) ১২।। (১ আনা সাড়ে ১২ গন্ডা) ঘ = ) ১৭(১ আনা পৌনে ১৮ গন্ডা)

ঙ = / ১১। (১ আনা সোয়া ১১ গন্ডা) fe

চ = /১৩।। (১ আনা সাড়ে ১৩ গন্ডা)

ছ =) ১২।। (১ আনা সাড়ে ১২ গন্ডা)

জ = ) ১৩। (১ আনা সোয়া ১৩ গন্ডা)

ঝ =)। (২ আনা ১ কড়া

ঞ = (! (১ কড়া)

 

এই খতিয়ানে মোট জমির পরিমাণ ১২ একর ৮০ শতাংশ; তার মধ্যে এই খতিয়ানে পায় (আট আনা) ১২.৮০ / ১৬ = ০.৮X৮=৬.৪

আর সব অন্যান্য খতিয়ানে আছে।

আট আনায় জমির পরিমাণ হয় ৬ একর ৪০ শতাংশ।

এখন এই ৬ একর ৪০ শতাংশ জমিকে ১ টাকার উপর ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে, কোন মালিক কটটুকু পায় তা জানা যাবে। হিসাবের সুবিধার জন্য মালিকের অংশ নিম্নদিকে কড়ায় পরিণত করি (যেহেতু সর্বনিম্ন একক কড়া)।

মনে করা যাক, আমি ৬নং এই খতিয়ান বর্তমান দশমিকের হিসাবে দেখতে চাই এবং সবাইকে বুঝাতে চাই।

কারণ দশমিক সব শিক্ষিত লোকের জানা আছে ।

বইয়ের ৬নং খতিয়ানে সর্বনিম্ন একক রয়েছে কড়া। এখন এই খতিয়ানে ক হতে আরম্ভ করে ঞ পর্যন্ত মোট ১ টাকা হিসাবে বণ্টন করা আছে।

সেই অনুসারে ১ টাকাতে মোট ১২৮০ কড়া (কড়া, ক্রান্তি বিশ্লেষণ এর সূত্র দেওয়া আছে।)

সুতরাং ৭ নং কলামে দাগের মধ্যে অত্র খতিয়ানের অংশ লিখতে হবে ০.৫০। এখন মালিকের অংশ অর্থাৎ ক হতে আরম্ভ করে ঞ পর্যন্ত এর হিসাব করি । আমাদের জানা আছে যে, ১২৮০ কড়াকে ১.০০ টাকা বা ১ এর উপর বন্টিত

আছে।

বিঃ দ্রঃ ০.০০০৭৮ সংখ্যাটি ভাগ হওয়ার দরুন ০.০০০৭৮ কে উঠাইয়া .00 ধরা হয়েছে সূক্ষভাবে।

 

ধরতে গেলে এতে ০.০০০২২ যোগ করা হয়েছে।

 

সুতরাং ৬নং খতিয়ানে সকলের বুঝার জন্য এখন বর্তমান দশমিক অংশ হবে

ক = ০.০৮৮

খ = ০.১৫৮

গ=০.১০২

ঘ = ০.১১৮

৫ = ০.০৯৮

চ = 0.১০৪

ছ = ০.১০১

জ = .১০৪

ঝ = 0.১২৫

ঞ = ০.00১

[পূর্বকার এবং বর্তমান উভয়টি ঠিক আছে কিনা বা কারও কম বেশি হয়েছে কিনা

তা জানার জন্য এই হিসাব জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ ।]

বিঃ দ্রঃ- দশমিক উঠানোর সহজ পদ্ধতি হচ্ছে দশমিকের জন্য ১ ধরা এবং দশমিকের ডানে যত সংখ্যা থাকে ততটি শূন্য ১ এর ডানে বসাতে হবে। অংকের নিয়মমত কাজ করতে হবে।

 

খতিয়ান  নং ৭০

৭০নং খতিয়ানে মোট জমি ২ একর, (২ একর = ২X১০০=২০০ শতাংশ) মধ্যে ৮৯০ অংশ এই খতিয়ানে প্রায় (২০০/১০০০=২০০x.৮৯০) = ১৭৮ শতাংশ বা ১ একর ৭৮ শতাংশ। এখন এই ১ একর ৭৮ শতাংশকে ১.০০০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে প্রত্যেক মালিকের অংশ পাওয়া যাবে।

খতিয়ান  নং ৮০

এই খতিয়ানে মোট জমির পরিমাণ ৩৯ একর, ১ শতাংশ তার মধ্যে ( ।।৯১০) সাড়ে ১০ আনা এই খতিয়ানের দাবী। { ১টাকা= ৩২০ গন্ডা) ৩৯০১/ ৩২০= ১২.১৯ প্রতি গন্ডায় পায় (সাড়ে দশ আনা = ২১০ গন্ডা)। সুতরাং সাড়ে দশ আনায় পায় = ১২.১৯×210 = ২৫.৬০ শতাংশ}

এতে এ খতিয়ান পেয়েছে ২৫ একর ৬০ শতাংশ। হিসাবের সুবিধার্থে এ খতিয়ানের মোট জমিকে শতাংশে পরিণত করি। ২৫ একর ৬০ শতাংশ = (২৫×১০০+৬০) = (২৫০০+৬০) = ২৫৬০ শতাংশ হিসাবের সুবিধার জন্য মালিকের অংশ সব একই জাতীয় রাশি বা কাগে পরিণত করি, যেহেতু সর্বনিম্ন একক কাগ।

২০ গণ্ডায় ১ আনা, ৪ কড়ায় ১ গণ্ডা, ৪ কাগে ১ কড়া

ক এর মোট কাগ= ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ১ গণ্ডা = ২১ গণ্ডা। ২১ গণ্ডা × ৪ = ৮৪ কড়া + ২ কড়া = ৮৬কড়া। ৮৬ কড়া x 8 = ৩৪৪ কাগ + ২ কাগ = ৩৪৬ কাগ ।

খ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ১২ গণ্ডা = ৩২ গণ্ডা। ৩২ গণ্ডা ×৪ = ১২৮ কড়া। ১২৮ কড়া + ১ কড়া = ১২৯ কড়া। ১২৯ কড়া × ৪ = ৫১৬ কাগ। ৫১৬ কাগ + ১ কাগ = ৫১৭ কাগ ।

গ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৩ গণ্ডা = ২৩ গণ্ডা। ২৩ গণ্ডা × ৪ = ৯২ কড়া + ২ কড়া = ৯৪ কড়া। ৯৪ কড়া ×৪ = ৩৭৬ কাগ। ৩৭৬ কাগ + ৩ কাগ = ৩৭৯ কাগ।

ঘ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা = ৪ গণ্ডা = ২৪ গণ্ডা। ২৪ গণ্ডা × ৪ =৯৬ কড়া। ৯৬ কড়া + ২ কড়া = ৯৮ কড়া। ৯৮ কড়া x ৪ = ৩৯২ কাগ। ৩৯২ কাগ + ১ কাগ = ৩৯৩ কাগ ।

ঞ এর মোট কাগ = ২০×১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৫ গণ্ডা = ২৫ গণ্ডা। ২৫ গণ্ডা x 8 = ১০০ কড়া। ১০০ কড়া + ১ কড়া = ১০১ কড়া। ১০১ কড়া x ৪ = ৪০৪ দাগ। ৪০৪ কাগ + ২=৪০৬ কাদ।

চ এর মোট কাগ = ২০ x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৫ গণ্ডা = ২৫ গণ্ডা । ২৫ গণ্ডা X ৪ = ১০০ কড়া। ১০০ কড়া + ২ কড়া = ১০২ কড়া। ১০২ কড়া x 4 = ৪০৮ কাগ। ৪০৮ কাগ + ৩ কাগ = ৪১১ কাগ।

ছ = এর মোট কাগ = ২০ x ৩ = ৬০ গণ্ডা। ৬০ গণ্ডা + ৬ গণ্ডা = ৬৬ গণ্ডা ।

৬৬ গণ্ডা × ৪ কড়া = ২৬৪ কড়া। ২৬৪ কড়া + ২ কড়া। ২৬৬ কড়া ×৪ = ১০৬৪ কাগ। ১০৬৪ কাগ + ১ কাগ = ১০৬৫ কাগ ।

জ এর মোট কাগ= ২০x২ = ৪০ গণ্ডা ৪০ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা = ৪৭ গণ্ডা। ৪৭ গণ্ডা × ৪ = ১৮৮ কড়া। ১৮৮ কড়া + ১ কড়া = ১৮৯ কড়া। ১৮৯ কড়া x ৪ = ৭৫৬ কাগ। ৭৫৬ কাগ + ২ কাগ = ৭৫৮ কাগ।

ঝ এর মোট কাগ = ২০x১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা + ৮ গণ্ডা + = ২৮ গণ্ডা। ২৮ গণ্ডা X ৪ = ১১২ কড়া। ১১২ কড়া + ১ কড়া = ১১৩ কড়া। ১১৩ কড়া x 4 = ৪৫২ কাগ ৪৫২ কাগ + ৩ কাগ = ৪৫৫ কাগ।

ঞ এর মোট কাগ = ২০ x ১ = ২০ গণ্ডা। ২০ গণ্ডা = ৪ গণ্ডা = ২৪ গণ্ডা। ২৪ গণ্ডা × ৪ = ৯৬ কড়া। ৯৬ কড়া + ১ কড়া = ৯৭ কড়া। ৯৭ ×৪ = ৩৮৮ কাগ। ৩৮৮ কাগ + ২ কাগ = ৩৯০ কাগ ।

১ টাকা = ১৬ আনা x ২০ = ৩২০ গন্ডা। ৩২০ গণ্ডা X ৪ = ১২৮০ কড়া।

১২৮০x৪ = ৫১২০ কাগ । এই খতিয়ানে আসা মোট জমিকে ৫১২০ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের অংশ জানা যাবে।

মনে করা যাক এই বইয়ের ৮০নং খতিয়ানকে সকালে বুঝার জন্য দশমিক জানতে চাইল।

৮নং খতিয়ানে সর্বনিম্ন একক রয়েছে কাগ। সুতরাং ক হতে আরম্ভ করে ঞ পর্যন্ত (১নং কলামের) কে, কত কাগ করে পেয়েছে তা প্রথমে বের কারতে হবে।

আর খতিয়ানের ৭নং কলামে কাগের খতিয়ানের অংশটাকে সর্বনিম্ন একক গভা

থাকার দরুন গন্ডার উপর হিসাব করতে হবে। নিম্নে তা দেখানো হল ।

এই বইয়ের ৮০নং খতিয়ানের মালিকদের মোট যে কাগের হিসাব করা আছে তা হতে আমাদের এটা জানা আছে যে,

কড়া ক্রান্তি বিশ্লেষণ হতে আমাদের জানা আছে যে, ৫১২০ কাগ = ১.০০ টাকা বা ১ অংশ হয়েছে। এবং এর মধ্যেই এই খতিয়ানে বন্টিত আছে।

সুতরাং ৭নং কলামে বসবে ০.৬৫৬

৮নং খতিয়ানে দেখতে পাচ্ছি এই খতিয়ানের দাগে জমির পরিমাণ ৩৯ একর ১ শতাংশ তার মধ্যে এই খতিয়ানে এসেছে ০.৬৫৬ অংশ আর সব অন্যান্য খতিয়ানে আছে। এখন এই মোট জমি ৩৯ একর ১ শতাংশকে ১,০০০ দ্বারা ভাগ করলে বুঝা যাবে এই খতিয়ানে কত জমি এসেছে তা দেখান হল হিসাব সুবিধার জন্য একরকে শতাংশ করে ।

 

সুতরাং খতিয়ানের ৭নং কলামের অংশে পায় জমির পরিমাণ (৩৯০১ x ০.৬৫৬) = ২৫৫৯ শতাংশ অর্থাৎ ২৫ একর ৫৯ শতাংশ যেহেতু ১০০ শতাংশে ১ একর) এখন এই ২৫৫৯ শতাংশকে আবার মালিকের মোট অংশ অর্থাৎ ১০০০ দ্বারা ভাগ ঘরে মালিকের স্ব স্ব অংশ দ্বারা গুণ করলে তা জানা যাবে। যেহেতু এখানে হাজারের রে বন্টন রয়েছে ।

মালিকের অংশের ভাগ

২৫৫৯ = ১০০০ = ২৫৫৯ শতাংশ

সুতরাং

ক পায় ২৫৫৯ × ০.০৬৮ = ১৭৪.০১ শতাংশ

খ পায় ২৫৫৯ × 0. 101 = 258.4৫ শতাংশ

গ পায় ২৫৫৯ × ০.০৭৪ = ১৮৯.৩৬ শতাংশ

ঘ পায় ২৫৫৯ × 0.079 = ১৯৭.০৪ শতাংশ 

ঙ পায় ২৫৫৯ × 0.079 = 202.১৬ শতাংশ

চ পায় ২৫৫৯ × ০.০৮০ = ২০৪.৭২ শতাংশ

ছু পায় ২৫৫৯ × ০.২০৮ = ৫৩২.২৭ শতাংশ 

জ পায় ২৫৫৯ × ০.১৪৮ = ৩৭৮.৭৩ শতাংশ

ঝ পায় ২৫৫৯ × 0.089 = 22৭.৭৫ শতাংশ 

ঞ পায় ২৫৫৯ × 0.0१৬ = ১৯৪.৪৮ শতাংশ

 

এভাবে পূর্বকার এবং বর্তমান তুলনা করলে কোন ভুল আছে কিনা রেকর্ডে তা বুঝা সম্ভব । তবে তুলনার ক্ষেত্রে দশমিকের সংখ্যাতে সামান্য গড়মিল থাকতে পারে।”

সাধারণত দশমিকের ৩ ঘর পরে ৫ এর উপরে সংখ্যা থাকলে ঐ সংখ্যাটি উঠিয়ে ১ যোগের নিয়ম রয়েছে যেমন কোন হিসাবে দেখা গেছে যে .২৫৬৭ শতাংশ বা ২৫৬৭ কাঠা বা যাই হোক না কেন শতাংশটার অর্থ হচ্ছে ১ শতাংশ জমিকে ১০,০০০ ভাগে ভাগ করে তার .২৫৬৭ ভাগ। এ ক্ষেত্রে এই সংখ্যার ৭ কে উঠিয়ে যদি ১ যোগ করে ৬কে ৭ করি তবে যোগ করা হয়।

০.০০১ – .০০০৭ = .০০০৩ অর্থাৎ ১ শতাংশ বা কাঠা এর দশ হাজার ভাগের ৩ ভাগ মাত্র। ইহা এ জন্যই নগন্য হিসাবে ধরে হিসাবের সুবিধার জন্য যোগ বা বিয়োগ করা হয় ।

আবার এমনও হতে পারে যে এই ৮০নং নতুন খতিয়ানেরই ছ নামক ব্যক্তি ৭২ শতাংশ জমি প নামক ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করেছে। সে এই খতিয়ানের কত অংশের অংশীদার হবে জানতে চাওয়া হলে। তার হিসাব নিম্নরূপ হবে ।

আমরা ৮০নং নতুন খতিয়ানে দশমিকের হিসাবে দেখতে পাই ছ ব্যক্তি মোট জমি পায় ৫৩২.২৭ শতাংশ। তা হতে ৭২ শতাংশ বিক্রয় করলে থাকে (৫৩২.২৭ – ৭২) = ৪৬০.২৭ শতাংশ ।

ছ এই খতিয়ানের অংশ পেয়েছে ০.২০৮ এবং তাতে মোট জমি পেয়েছে ৫৩২.২৭ শতাংশ। সুতরাং দেখা যায়। (প এর খতিয়ানের অংশ বের করবার জন্য)

নতুন ক্রেতা ব্যক্তি প এই ৮০নং নতুন খতিয়ানের বর্তমান অংশীদার হবে ০.০২৮ আর ছ ব্যক্তির থাকবে (০.২০৮ – ০.০২৮) = ০.১৮ অংশ ।

খতিয়ান  নং ৯০

                  ৯০নং খতিয়ান

এই খতিয়ানে মালিকের অংশের ঘরটা যোগ করি।

 ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি+ ১ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি মোট ১৫ ক্রান্তি। ১৫ ক্রান্তিতে (৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া বিধায়) = ৫ কড়া হয় (হাতে থাকে) এখন কড়া যোগ করি । ২ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ১ কড়া + ৫ কড়া (হাতের) মোট ২০ কড়া (৪ কড়া = ১ গন্ডা বিধায়) ৫ গন্ডা হল (হাতে)।

এখন গন্ডা যোগ করি ১০ গন্ডা + ১২ গন্ডা + ৩ গন্ডা + ১৪ গন্ডা + ৬ গন্ডা + ৮ গন্ডা + ২ গন্ডা + ৪ গন্ডা + ৭ গন্ডা + ৯ গন্ডা এবং হাতের ৫ গন্ডা মোট ৮০ গন্ডা (২০ গন্ডায় ১ আনা বিধায়) ৪ আনা হাতে রইল। এখন আনা যোগ করি ১ আনা + ১ আনা + ১ আনা +১ আনা + ২ আনা + ২ আনা + ১ আনা +১ আনা +১ আনা + ১ আনা এবং হাতের ৪ আনা মোট ১৬ আনা ১৬ আনা= ১ টাকা।

হিসাবের সুবিধার জন্য মালিকের অংশকে ক্রান্তিতে পরিণত করি। (যেহেতু সর্বনিম্ন

একক ক্রান্তি)।

১ আনা = ২০ গন্ডা

৪ কড়া = ১ গন্ডা

৩ ক্রান্তি = ১ কড়া

এভাবে ১ গণ্ডা = ০.০০৩১২৫ টাকা

           ১ কড়া = ০.০০০৭৮১২ টাকা

           ১ কাগ = ০.০০০১৯৫৩ টাকা

           ১ তিল = ০.০০০০০৯৭ টাকা

           ১ রেনু = ০.০০০০০২৪ টাকা

           ১ ঘুন = ০.০০০০০০৬ টাকা

           ১ ক্রান্তি – = ০.০০০২৬০৪ টাকা 

           ১ দন্তি = ০.০০০০৮৬৮ টাকা

           ১ যব = ০.০০০০২৮৯ টাকা

এ খতিয়ানে মোট জমি ৪৬ একর ০৮ শতাংশ। হিসাবের সুবিধার জন্য একরকে

শতাংশে পরিণত করি :

খতিয়ান  নং ১০০

১০০ নং খতিয়ানের মালিকের অংশের ঘর যোগ করি । ২তিল + ১০তিল + ৮তিল + ১৬তিল + ৪তিল মোট ৪০ তিল ।

(২০ তিলে ১ কাগ বিধায়) কিছু বসে নাই (হাতে ২ কাগ)। এখন কাগ যোগ করি। ১ কাগ+ ১ কাগ+ ১ কাগ+ ১ কাগ + ১ কাগ + ১ কাগ এবং হাতের ২ কাগ মোট ৮ কাগ (৪ কাগে ১ কড়া বিধায়) কিছু বসে নাই। (হাতে ২ কড়া) এখন কড়া যোগ করি ১ কড়া + ২ কড়া +১ কড়া + ২ কড়া + ১ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া+ ২ কড়া+ ২ কড়া এবং হাতের ২ কড়া মোট ১৬ কড়া (৪ কড়ায় ১ গন্ডা হওয়ার দরুন) কিছু বসে নাই (হাতে ৪ গণ্ডা) এখন গণ্ডা যোগ করি।

৪ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা + ৬ গণ্ডা + ১০ গণ্ডা + ৮গণ্ডা + ২ গণ্ডা + ৪ গণ্ডা + ৬ গণ্ডা + ৭ গণ্ডা + ২ গণ্ডা+ হাতের ৪ গণ্ডা মোট = ৬০ গণ্ডা (২০ গণ্ডায় ১ আনা বিধায়) কিছু বসে নাই। (হাতে ৩ আনা) এখন আনা যোগ করি। ১ আনা + ২ আনা + ১ আনা + ১ আনা + ১আনা + ১ আনা + ২ আনা + ১ আনা + ১ আনা + ২ আনা এবং হাতে ৩ আনা মোট ১৬ আনা বা ১ টাকা।

মনে করা যাক, এই খতিয়ান থেকে চ-এর অংশ বের করব। এক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভাল হয়।

মোট জমিকে ১৬ আনার উপর ভাগ করে দেখি প্রতি আনায় কি পরিমাণ হয় ।

 

খতিয়ান  নং ১১০

এই খতিয়ানে দুটি দাগ রয়েছে। ১ম দাগ নং ৭৬। এতে মোট জমি ১৫ একর ৩৬ শতাংশ। তার মধ্যে ।)(ছয় আনা) (১৫৩৬ =১৬ = ৯৬ শতাংশ ×৬ = = ৫৭৬) অংশে ৫ একর ৭৬ শতাংশ এসেছে। আর অবশিষ্ট জমি অন্যান্য খতিয়ানে রয়েছে।

দ্বিতীয় দাগ নং ১৮ এতে মোট জমি ৭২ শতাংশ এর মধ্যে ০(১২ আনা) অংশে ৫৪ শতাংশ এই খতিয়ানে পেয়েছে। অবশিষ্ট অন্যান্য খতিয়ানে রয়েছে।

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

আজকে আমরা আলোচনা করবো দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা
দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

দলিল বলতে যে কোন চুক্তির লিখিত ও আইনগ্রাহ্য রূপ বোঝায়। তবে বাংলা ভাষায় সম্পত্তি, বিশেষ করে জমি-জমা ক্রয়-বিক্রয়, বণ্টন এবং হস্তান্তরের জন্য ‘দলিল’ শব্দটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। দলিলের পাঁচটি মৌলিক তথ্য হলো: (ক) সম্পত্তির বর্ণনা, (খ) দাতার পরিচয়, (গ) গ্রহীতার পরিচয়, (ঘ) সাক্ষীদের পরিচয় এবং (ঙ) দলিল সম্পাদনের তারিখ। দলিল সম্পাদনের পর সরকারের মনোনীত কর্মকর্তা কর্তৃক নিবন্ধনের বিধান রয়েছে। এতে দলিলের আইনি বৈধতা দৃঢ়তর হয়। দলিল সম্পাদনের জন্য সরকারকে রাজস্ব দিতে হয়।

খতিয়ান হচ্ছে একটি হিসাবনিকাশের পাকা বইতে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় লেনদেনগুলোর বিভন্ন প্রকার পক্ষসমূহকে পৃথক পৃথক শিরোনামের আওতায় শ্রেনীবদ্ধভাবে এবং সংক্ষিপ্তকারে লিপিবদ্ধ করা। এক কথায় খতিয়ান হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠানের সকল হিসাবের সমষ্টিগত রুপ।

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

(দশ কাঠা বা দুই চৌক)

১/ বিঘা 

এখন ১/১=১ বিঘা ১ কাঠা

১ বিঘা ২ কাঠা = ১/২

১ বিঘা ৩ কাঠা = ১/৩

১ বিঘা ৪ কাঠা = ১/৪

১ বিঘা ৫ কাঠা = ১ । এভাবে লেখা হইত ।

 

আগের কড়া বিভাগ এর সূত্র বিশ্লেষণ করে

১ টাকা= ১৬ আনা= ৩২০ গন্ডা = ১২৮০ কড়া = ৫১২০ কাগ = ১০২৪০০ তিল = ৪০৯৬০০ রেনু= ১৬৩৮৪০০ ঘুর্ন= ৩২৭৬৮০০০ বিন্দু । 

১ টাকা= ১৬ আনা= ৩২০ গন্ডা= ১২৮০ কড়া= ৩৮৪০ ক্রান্তি= ১১৫২০ দপ্তি= ৩৪৫৬০ যব ।

একটি খতিয়ান

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

 

ছকের খতিয়ানে ক = ২ আনা, খ = ৩ আনা, প = ৪ আনা, ঘ = ১ আনা, ঙ = ৫ আনা, চ= ১ আনা ।

মালিকের অংশের কলামটি যোগ করে দেখা যাক ২ আনা + ৩ আনা + 8 আনা + ১ আনা + ৫ আনা + ১ আনা মোট ১৬ আনা বা ১ টাকা। 

এই খতিয়ানে মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ এর মধ্যে কে কতটুকু পায় তা কিভাবে হিসাব করতে হবে তা বুঝানো হল ।

মোট জমি ১ একর ৫৬ শতাংশ ১ টাকা অর্থাৎ ১৬ আনার উপর ভাগ করে ভাগফলকে মালিকের অংশ দ্বারা গুণ করলে মালিকের জমির পরিমাণ পাওয়া যাবে।

১ একর ৫৬ শতাংশ = ১০০ শতাংশ + ৫৬ = ১৫৬ শতাংশ

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

 

জমির উপর খাজনার হিসাব পূর্বে খাজনার হিসাব ছিল 

 

দলিল ও খতিয়ান বিষয়ে কিছুকথা

 

পাই এর অংকের পর ‘পাই’ কথাটি লিখতে হয়। নতুবা গণ্ডা বলে ধরা হয়। কে কত টাকা রাজস্ব বা খাজনা দিবে তার হিসাব করছি মোট খাজনাকে ১৬ দ্বারা ভাগ করে ভাগফলকে অংশ দ্বারা গুণ করলে উহা বের হবে। (বর্তমান হিসাবে)।

 

 

 

আবার অংশ ধরে শতাংশ বের করেও শতাংশের উপর খাজনার হিসাব করা যায়।

অর্থাৎ

৫.১২ / (১৫৬ X ১০০) = ৫১২ / ১৫৬০০ = ০.০৩২৮ (প্রতি শতাংশে)

ক) ১৯.৫০ শতাংশে খাজনা দিবে (১৯.৫০x০.০৩২৮) = ০.৬৩৯৬ বা ০.৬৪ টাকা।

খ) ২৯.২৫ শতাংশে খাজনা দিবে (২৯.২৫×০.০৩২৮) = ০.৯৫৯৪ বা ০.৯৬ টাকা ।

গ) ৩৯.০০ শতাংশে খাজনা দিবে (৩৯.০০x০.0৩২৮) = ১.২৭৯২ বা ১.২৮ টাকা।

ঘ) ১.৭৫ শতাংশে খাজনা দিবে (৯.৭৫x০.০৩২৮) = ০.৩১৯৮ বা ০.৩২ টাকা।

ঙ) ৪৮ ৭৫ শতাংশে খাজনা দিবে (৪৮ ৭৫×০.০৩২৮) = ১.৫৯৯ বা ১.৬০ টাকা।

চ) ৯.৭৫ শতাংশে খাজনা দিবে (৯, ৭৫×০.০৩২৮) = ০.৩১৯৮ বা ০.৩২ টাকা ।

ভূমি সংক্রান্ত দশমিকের হিসাব

ভূমি সংক্রান্ত খতিয়ান, জমির পরিমাণ নির্ণয়, বণ্টন কিংবা লেনদেনের হিসাব—সবক্ষেত্রেই আজ দশমিক পদ্ধতির ব্যবহার অপরিহার্য। অতীতে কড়া–ক্রান্তি বা বিঘা–কাঠার মতো এককে হিসাব করা হলেও বর্তমানে অধিকাংশ রেকর্ড ও গণনা দশমিকেই করা হয়। তাই দশমিক সংখ্যায় যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ জানাটা শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, ভূমি অফিসের কর্মচারী, জরিপকারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্যও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এই লেখায় আমরা দশমিক অংকের চারটি মৌলিক নিয়ম—যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ—সহজ ভাষায়, ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করেছি এবং বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে দেখিয়েছি কীভাবে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দশমিকের হিসাব করা যায়।

 

দশমিকের হিসাব

 

দশমিকের হিসাব

পূর্বেই বলা হয়েছে খতিয়ানে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ কিজন্য প্রয়োজন । এখন দশমিকের যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কারণ দশমিকেও খতিয়ান হিসাব করা হয়েছে পরবর্তীতে। নিচের সংখ্যাগুলোর যোগফল নির্ণয় কর

(১) ১.০২৪+১.২৫৩+১০.২৭+.২৫+১৮০০২৪ = কত?

(২) ১.২০৫+১০.১৪২+ .১৮+২.৭+১.২ = কত?

উত্তরঃ

(১) ১.০২৪+১.২৫৩+১০.২৭+.২৫+১৮০০২৪ =৩০.৮২১

(২) ১.২০৫+১০.১৪২+ .১৮+২.৭+১.২ = ১৫.৪২৭

ব্যাখ্যাঃ এখানে যোগ অংকগুলো লক্ষ্য করলে বুঝা যাবে যে, দশমিককে একই সারিতে বসানো হয়েছে তাতে দশমিকের সদৃশের মতো হয়েছে। এভাবে ঠিক করে বসিয়ে স্বাভাবিক যোগের নিয়মে যোগ করে দশমিকের সারিতে দশমিক বসালেই হবে।

 

দশমিকের হিসাব

 

 

বিয়োগ করঃ

(১) ১.২০৫ – ০.৯৯০৮ = কত? 

(২) ২৫.০২৪ – ১.৯৭৯ = কত?

উত্তর : 

(১) ১.২০৫ – ০.৯৯০৮ = .২১৪২

(২) ২৫.০২৪ – ১.৯৭৯ = ২৩.০৪৫

ব্যাখ্যা : প্রথমে দশমিকগুলো একই সারিতে বসানো হয়েছে। ১ নং এ ৮ এর উপরে কোন সংখ্যা না থাকায় স্বাভাবিক বিয়োগের ন্যায় ১০ ধরে ৮ বাদ দেয়া হয়েছে, হাতের ১ শূন্য এর সংগে যোগ করে ৫ হতে ১ বাদ দিয়া ৪ বসানো হয়েছে। ৯ এর উপরে • থাকার দরুন স্বাভাবিক বিয়োগের নিয়মে ১০ ধরে ৯ বাদ দেয়া হয়েছে। হাতের ১, ৯ এর সংগে যোগ করে ১০ হয়েছে উপরের সংখ্যা ছোট হওয়ার দরুন ১২ ধরে তা হতে ১০ বাদ দিয়া বসানো হয়েছে। হাতে ১ থাকে দশমিকের সোজাসুজি দশমিক বসানো হয়েছে। ১ হাতে থাকে তা নিচে ধরে বাদ দিলে কিছুই থাকে না।

 

দশমিক সংখ্যাকে পূর্ণ সংখ্যা দিয়ে গুণ :

১। ৬.৪৮ কে ৫ দিয়ে গুণ কর । 

এখানে ৬.৪৮ হচ্ছে শুণ্য এবং ৫ হচ্ছে গুণক ।

২। ৬.৪৫ কে ৮ দ্বারা গুণ কর ।

এখানে ৬.৪৫ হচ্ছে গুণ্য এবং ৮ হচ্ছে গুণক ।

(১) ৬.৪৮ x ৫ = ৩২.৪০  

(২) ৬.৪৫ x ৮ = ৫১.৬০ 

ব্যাখ্যাঃ এখানে দশমিকবিহীন অংক যেভাবে গুণ করতে হয় সেই একইভাবে গুণ করা হয়েছে। শুধু (দশমিকের ডানদিকে অংক গণনা করে) দশমিক বিন্দুর ডানপাশে দুটি অংক থাকায় উত্তরে ডানদিক হতে ২টি অংকের পূর্বে দশমিক বিন্দু বসেছে। এখানে ডানের শূন্য না বসালেও অংকে মানের কোন পরিবর্তন হবে না। (দশমিকের পর ডানে কোন সংখ্যা না থাকলে শূন্য বসে না। )

 

দশমিকের হিসাব

 

 

ব্যাখ্যাঃ এখানে দশমিক ছাড়া অংক যেভাবে করতে হয় সেভাবে গুণ করা হয়েছে। শুধু গণনা দশমিক বিন্দুর ডানপাশে দুটি অংক থাকায় গুণফলের ডানদিক হইতে ২টি অংকের পূর্ব দশমিক বিন্দু বসেছে। 

দশমিক সংখ্যাকে দশমিক দিয়ে গুণ :

(১) ০.৬ কে ০.৭ দ্বারা গুণ কর। 

(২) ০.৮ কে ০.৯ দ্বারা গুণ কর।

উত্তর :

(১) ০.৬ x ০.৭  = ০.৪২

(২) ০.৮ x ০.৯ = ০.৭২

ব্যাখ্যাঃ এখানে সাধারণ গুণের মত গুণ করা হয়েছে। তারপর গুণ্যে ও গুণকের দশমিক বিন্দুর ডানপাশের অংকের সংখ্যা গণনা করা হয়েছে। যেমন- 

{১ নং ( .৬ এর জন্য) ১ সংখ্যা + এবং (.৭ এর জন্য) ১ সংখ্যা মোট ২ সংখ্যা }

গুণফলে ঐ ২ সংখ্যা অর্থাৎ ০.৪২ এর আগে দশমিক বসানো হয়েছে।

(১) ৪.৬৮৯ কে .১৪ দ্বারা গুণ কর।

(২) ০.৬৫১ কে .১৭ দ্বারা গুণ কর।

উত্তর :

 

দশমিকের হিসাব

 

ব্যাখ্যাঃ এখানে সাধারণত গুণের মত গুণ করে বসানো হয়েছে। গুণ্যে ডানদিক থেকে ৩ সংখ্যা আগে এবং গুণক এ ডানদিক থেকে ২ সংখ্যা মোট ৫ সংখ্যা পূর্বে দশমিক বিন্দু বসেছে।

দশমিক সংখ্যাকে পূর্ণ সংখ্যা দিয়ে ভাগ

(১) ৪৫.৫ কে ৫ দ্বারা ভাগ কর। 

(২) ৪৯.৭ কে ৭ দ্বারা ভাগ কর।

উত্তর :

 

দশমিকের হিসাব

 

ব্যাখ্যা : সাধারণ ভাগের মত ভাগ করা হয়েছে। শুধু যখনই দশমিক বিন্দুর পরের সংখ্যা ভাগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তখন ভাগফলে দশমিক বিন্দু বসেছে। 

দশমিক সংখ্যাকে দশমিক সংখ্যা দ্বারা ভাগ :

(১) ৬.৬৫ কে ৩.৫ দ্বারা ভাগ কর।

(২) ১৫.২৫৫ কে ১.৫ দ্বারা ভাগ কর ।

 

দশমিকের হিসাব

 

 

ব্যাখ্যা: ভাজককে পূর্ণ সংখ্যা করার জন্য দশমিক বিন্দুকে ডানে যত অংক পর্যন্ত সরানো হবে ভাজ্যেও দশমিক বিন্দুকে ডানে তত অংক পর্যন্ত সরাতে হবে; যেমন আগের অংকে উপরে ৬.৬৫ এবং নিচে ৩.৫ ছিল। পরবর্তীতে ৬৬.৫ উপরে এবং নিচে ৩৫ লেখা হয়েছে। (এতে হর পূর্ণ সংখ্যায় প্রকাশ হয়েছে) তারপর লবকে হর দ্বারা ভাগ করলে ভাগফল পাওয়া যাবে। ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যার নাম লব এবং নিচের সংখ্যার নাম হর।

(এই লব ও হর আরও উদাহরণ দিয়ে অন্যভাবে বুঝাবার চেষ্টা করছি)। 

মনে করি ২২.৬৮৮ সংখ্যাটিকে ১.৬ দ্বারা ভাগ করতে হবে। 

(২২.৬৮৮×১০) / ১.৬ = ২২৬.৮৮/১৬

 

দশমিকের হিসাব

 

আবার মনে করি, ১৭.৪৩৭২ সংখ্যাটিকে ১৩.২১ দ্বারা ভাগ করতে হবে।

(১৭.৪৩৭২*১০০) / ১৩০২১

= ১৭৪৩.৭২ / ১৩২১

 

দশমিকের হিসাব

 

এই দুটি উদাহরণে লবকে অর্থাৎ উপরে প্রথমে ১০ দ্বারা এবং পরে ১০০ দ্বারা গুণ করা হয়েছে এজন্য যেন নিচের হর পূর্ণ সংখ্যায় প্রকাশ পায়। যেমন— অংকে ১৭.৪৩৭২ ছিল ১০০ দ্বারা গুণের ফলে ১৭৪৩,৭২ হয়েছে লবে। আর হরে দশমিক কেটে ১৩২১ বা পূর্ণ সংখ্যা হয়েছে। ইহা দশমিকের ভাগের সুবিধার জন্য ।

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

আজকে আমরা আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম সম্পর্কে জানবো। বাংলাদেশ আমলের পূর্বে প্রস্তুতকৃত খতিয়ানসমূহ যথা- CS ও SA খতিয়ানে একাধিক ভূমি মালিকের নাম থাকলে খতিয়ানে মোট জমিতে কোন মালিকের কতটুকু হিস্যা বা অংশ আছে তা “আনা, গন্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিল” চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করা হতো। বাংলাদেশ হবার পরে আনা, গন্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিল এর পরিবর্তে খতিয়ানে জমির অংশ লেখা হয়। অর্থাৎ মোট জমিতে কার কত অংশ জমি আছে তা বুঝাতে সংখ্যা ব্যবহার করা হয়, যেমন- ১.০০, ১.০০০, ১.০০০০ ইত্যাদি।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি কাগ একসাথে লিখার নিয়ম

 

CS খতিয়ানে “অত্র স্বত্বের বিবরণ ও দখলকার” ঘরে ব্যক্তির নাম এবং নামের ডানদিকে “অংশ” ঘরে ব্যক্তির মালিকানাধীন মোট জমির পরিমাণ আনা, গন্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিল চিহ্ন দ্বারা লেখা থাকে। জমি ঠিকমতো ভাগ করতে গেলে চিহ্নসমূহ একসাথে লেখা ও তার যোগ, বিয়োগ, গুন ভাগের কৌশল সম্পর্কে জানা আবশ্যক।

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম

আনার ডানে গন্ডা এবং গন্ডার ডানে কড়া, কড়ার ডানে কড়ার অংশ যেমন কাগ, ক্রান্তি, তিল, দন্ডি ইত্যাদি লিখতে হয় ৷

 

যোগঃ

দুই, তিনজন অংশীদার মোট কত পেয়েছে তা বুঝার জন্য যোগের প্রয়াজন-

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

২ তিল এবং ১৮ তিল মোট ২০ তিল। ২০ তিলে ১ কাগ বিধায় কিছু বসে নাই। (হাতে ১ কাগ রইল) উপরে ১ কাগ + নিচে ৩ কাগ + হাতের ১ কাগ মোট ৫ কাগ। ৪ কাগে ১ কড়া বিধায় এক কাগ বসেছে (হাতে ১ কড়া রইল) উপরে ১ কড়া + নিচে ১ কড়া এবং হাতের ১ কড়া মোট ৩ কড়া বসেছে। এখন উপরে ১৫ গন্ডা এবং নিচে ৫ গন্ডা মোট ২০ গন্ডা। ২০ গন্ডায় ১ আনা, সুতরাং কিছুই বসল না। (হাতে ১ আনা) এখন আনা যোগ করি। উপরে ২ আনা + নিচে ১ আনা + হাতের ১ আনা মোট ৪ আনা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

৫ তিল + ১০ তিল = ১৫ তিল বসেছে। ১ কাগ + ১ কাগ মোট ২ কাগ বসেছে। ১ কড়া + ২ কড়া মোট ৩ কড়া বয়েছে। ৯ গন্ডা + ১০ গণ্ডা মোট ১৯ গন্ডা বসেছে। ৬ আনা + ৪ আনা মোট ১০ আনা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

১২ তিল + ১৪ তিল মোট ২৬ তিল। ২০ তিলে ১ কাপ হওয়ার দরুন ৬ তিল বসেছে (হাতে ১ কাগ) ২ কাপ + হাতের ১ কাপ মোট ৩ কাগ বসেছে। ৩ কড়া + ১ কড়া মোট ৪ কড়া। ৪ কড়ায় ১ গন্ডা হওয়ার সরুন কিছুই বসে নাই। (হাতে ১ গন্ডা) ৩ গণ্ডা + ১৩ গণ্ডা + হাতের ১ গন্ডা = ১৭ গণ্ডা বসেছে। ৯ আনা + ১২ আনা মোট ২১ আনা, ১৬ আনায় ১ টাকা হওয়ার দরুন ১ টাকা ৫ আনা বসেছে (চোখ ধরেও যোগ করা যায় তবে এটাই প্রথমত সহজ) যেমন আনায় ১ আনা উপরে। সেই ১ আনা বসেছে।

(উপরে দুই চোখ এবং নিচে তিন চোখ মোট ৫ চোখ-৪ চোখে ১ টাকা তাই এক টাকা এবং ১ চোখ বসেছে) যদি টাকারও উপরে যায় তবে এভাবে যোগ করতে হবে। তবে খতিয়ানে টাকার উপরের হিসাব নাই। টাকার পর আনা গন্ডা না থাকলে টাকার ডানে একটু নিচে এরূপ চিহ্ন দিতে হয়।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

২ দন্তি + ১ দন্তি মোট ৩ দন্তি। ৩ দন্তিতে ১ ক্রান্তি হয় সুতরাং কিছু বসে নাই। (হাতে ১ ক্রান্তি) ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + হাতের ১ ক্রান্তি মোট ৪ ক্রান্তি।  ৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া হওয়ায় ১ ক্রান্তি বসেছে (হাতে ১ কড়া) ১ কড়া + ১ কড়া + হাতের ১ কড়া মোট ৩ কড়া বসেছে। ৩ গন্ডা + ১২ গন্ডা মোট ১৫ গণ্ডা বসেছে। ১৫ আনা + ১০ আনা মোট ২৫ আনা। ১৬ আনায় ১ টাকা হওয়ার দরুন ১ টাকা ৯ আনা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

২ দস্তি + ২ দস্তি + ১ দন্তি মোট ৫ দন্তি। ৩ দস্তিতে ১ ক্রান্তি হওয়ার দরুন ২ দন্তি বসেছে । (হাতের ১ ক্রান্তি) ২ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি + ২ ক্রান্তি এবং হাতের ১ ক্রান্তি মোট ৬ ক্রান্তি। ৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া হওয়ার দরুন কিছুই বসল না (হাতের ২ কড়া রইল) ১ কড়া + ১ কড়া + ২ কড়া হাতের ২ কড়া মোট ৬ কড়া। ৪ কড়ায় ১ গণ্ডা হওয়ার দরুন ২ কড়া বসেছে (হাতের ১ গন্ডা) ১৫ গণ্ডা + ১২ গন্ডা + হাতের ১ গন্ডা মোট ২৮ গন্ডা। ২০ গন্ডায় ১ আনা হওয়ার দরুন ৮ গন্ডা বসেছে (হাতে ১ আনা) ৭ আনা +১০ আনা + ৮ আনা এবং হাতের ১ আনা মোট ২৬ আনা বা ১ টাকা ১০ আনা।

 

বিয়োগ:

ভিন্ন অংশে একজন অংশীদার হতে আরেকজন অংশীদার কত বেশী রেকর্ড করেছে তা বুঝার জন্য বিয়োগের দরকার।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

১১ তিল হতে ৯ তিল বাদ দিলে থাকে ২ তিল তা বসেছে। ২ কাগ থেকে ১ কাগ বাদ দিলে থাকে ১ কাগ তা বসেছে। ১ কড়া হলে ১ কড়া বাদ দিলে কিছুই বসে না শুধু চিহ্ন বসেছে। ২ গণ্ডা হতে ১ গন্ডা বাদ দিলে ১ গন্ডা থাকে তা বসেছে। ১৪ আনা হতে ৮ আনা বাদ দিলে ৬ আনা থাকে তা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

১৯ তিল হতে ১২ তিল বাদ দিলে থাকে ৭ তিল তা বসেছে। ২ কাপ হতে ১ কাগ বাদ দিলে থাকে ১ কাগ তা বসেছে। ২ কড়া হতে ১ কড়া বাদ দিলে থাকে ১ কড়া তা বসেছে। ১০ গন্ডা হতে ৭ গণ্ডা বাদ দিলে থাকে ৩ গণ্ডা তা বসেছে। ৭ আনা হতে ৪ আনা বাদ দিলে ৩ আনা থাকে তা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা:

দেখা যাচ্ছে নিচে আনা বাদে, নিচের সব সংখ্যা উপরে সব সংখ্যা হতে বড়। এ ক্ষেত্রে উপরের সংখ্যা বড় করার জন্য পাশের ১ অংক বেশী নিতে হবে যেমন ২ তিল আছে তা হতে ১৪ তিল বাদ দেয়া যায় না, সুতরাং ১ কাগ বেশী নিতে হবে (২০ তিলে ১ কাগ বিধায়) ২০ তিল এবং আরও ২ তিল মোট ২২ তিল। তা হতে ১৪ তিল বাদ দিলে থাকে ৮ তিল তা বসেছে। (হাতে কিন্তু ১ কাগ রয়েছে) হাতের ১ কাগ + ২ কাগের সাথে দিলে হবে ও কাগ নিচের।

এ ক্ষেত্রেও নিচেরটা উপরেরটার চেয়ে বড় হয়ে যায়। সুতরাং পাশ হতে ১ অংক (১ কড়া) নিলে উপরে হয় (৪ কাগে ১ কড়া বিধায়) ৪ কাগ + ১ কাগ মোট ৫ কাগ। এখন ৫ কাগ হতে ৩ কাগ বাদ দিলে বসে ২ কাগ । (পাশের অংক হতে নেয়া ১ কড়া অর্থাৎ হাতের) ১ কড়া + হাতের ১ কড়া মোট ২ কড়া এ ক্ষেত্রেও নিচের সংখ্যা উপর হতে বড় হয়ে গেল। সুতরাং আগের মত পাশ হতে ১ অংক নিতে হবে। পাশের অংক হতে ১ অংক নিলে উপরের কড়ার পরিমাণ হবে ( ৪ কড়ায় ১ গণ্ডা হেতু) ৪ কড়া + ১ কড়া মোট ৫ কড়া।

এখন ৫ কড়া হতে ২ কড়া বাদ দিলে থাকে ও কড়া তা বসেছে। (হাতে কিন্তু ১ গণ্ডা থাকল) হাতের ১ গন্ডা + ১২ গণ্ডা মোট ১৩ গণ্ডা। এ ক্ষেত্রেও নিচেরটা উপরেরটা হতে বড় হল। সুতরাং পূর্বের মত পাশের অংক থেকে ১ অংক নিলে ( ১ আনা = ২০ গণ্ডা বিধায় ) উপরে ৩ গতা + ২০ গণ্ডা মোট ২৩ গণ্ডা। এখন ২৩ গণ্ডা হতে ১৩ গণ্ডা বাদ নিয়ে ১০ গণ্ডা বসানো হয়েছে। (হাতে কিন্তু ১ আনা রইল) হাতের ১ আনা + ১ আনা মোট ১০ আনা। ১৪ আনা হতে ১০ আনা বাদ দিলে থাকে ৪ আনা তা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখাঃ

এখানে ২ দন্তি হতে ১ দন্তি বাদ দিলে থাকে ১ দস্তি তা বসেছে। ২ ক্রান্তি থেকে ১ ক্রান্তি বাদ দিলে থাকে ১ ক্রান্তি তা বসেছে। ২ কড়া হতে ১ কড়া বাদ। দিলে থাকে ১ কড়া তা বসেছে। ১৫ গণ্ডা হতে ১০ গন্ডা বাদ দিলে থাকে ৫ গল্প তাহা বসেছে। ১৩ আনা হতে ৯ আনা বাদ দিলে থাকে ৪ আনা তা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখাঃ

২ দস্তি হতে ১ দন্তি বাদ দিলে থাকে ১ দস্তি তা বসেছে। ২ ক্রান্তি হতে ১ ক্রান্তি বাদ দিলে ১ক্রান্তি থাকে তা বসেছে। ৩ কড়া হতে ২ কড়া বাদ দিলে থাকে ১ কড়া তা বসেছে। ১৭ গন্ডা হতে ১২ গন্ডা বাদ দিলে থাকে ৫ গণ্ডা তা বসেছে। ১২ আনা হতে ১০ আনা বাদ দিলে থাকে ২ আনা তা বসেছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যাঃ

এখানে দেখা যাচ্ছে আনা বাদে নিচের সব সংখ্যা উপরের সব সংখ্যা হতে বড় সুতরাং পাশ হতে ১ অংক নিতে হবে। পাশ হতে ১ অংক নিলে হবে (৩ দণ্ডিতে ১ ক্রান্তি বিধায়) ৩ দস্তি + ১ দন্তি মোট ৪ দস্তি । এখন ৪ দন্তি হতে ৩ দন্তি বাদ দিলে বসে ১ দন্তি। (হাতে কিন্তু ১ ক্রান্তি) হাতে ১ ক্রান্তি নিচের ২ ক্রান্তির সঙ্গে যোগ করলে নিচে হবে ৩ ক্রান্তি এ ক্ষেত্রেও নিচের সংখ্যা উপরের সংখ্যা হতে বড় হল।

সুতরাং পাশের অংক নিতে হবে। পার্শ্বের ১ কড়া নিলে (৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া বিধায়) উপরে মোট ক্রান্তি হবে ৩ ক্রান্তি + ১ ক্রান্তি মোট ৪ ক্রান্তি। এখন ৪ ক্রান্তি হতে ৩ ক্রান্তি বাদ দিলে থাকে ১ ক্রান্তি তা বসেছে। (হাতে ১ কড়া রইল) হাতের ১ কড়া এবং নিচের ২ কড়া মোট ৩ কড়া হবে, (১ কড়া + ২ কড়া = ৩ কড়া)। এক্ষেত্রেও নিচের অংক উপরের অংক হতে বড়। সুতরাং পূর্বের মত পাশের অংক আনতে হবে।

পাশ হতে ১ গন্ডা নিলে (৪ কড়ায় ১ গন্ডা বিধায়) মোট উপরে কড়া হবে ৪ কড়া + ১ কড়া = ৫ কড়া। এখন ৫ কড়া হতে ৩ কড়া বাদ দিলে ২ কড়া থাকে, তা বসেছে। (হাতে ১ গন্ডা রইল) হাতের ১ গন্ডা এবং নিচের ১৫ গন্ডা মোট হবে ১৬ গন্ডা। এক্ষেত্রেও নিচের সংখ্যা উপরের সংখ্যা হতে বড়।

সুতরাং পাশের অংক আনতে হবে । পাশের অংক হতে ১ আনা এনে উপরে ধরলে (২০ গন্ডায় ১ আনা বিধায়) মোট হয় ২০ গন্ডা + ৩ গণ্ডা = ২৩ গন্ডা। এখন এই ২৩ গণ্ডা হতে ১৬ গন্ডা বাদ দিলে থাকবে ৭ গন্ডা তা বসেছে। (হাতে কিন্তু ১ আনা) এখন হাতে ১ আনা + নিচের ৪ আনা মোট ৫ আনা উপরের ১০ আনা হতে ৫ আনা বাদ দিয়ে ৫ আনা বসানো হয়েছে।

 

গুণ

খতিয়ানে সমান অংশে কিছু অংশীদার মিলে মোট কতটুকু পেয়েছে তা জানার জন্য গুণের দরকার হয়। ধরা যাক ৫ জন লোক প্রত্যেকে খতিয়ানের সমান অংশীদার তারা মোট কতটুকু পেয়েছে। মনে করা যাক, একজন অংশীদার ১৫ গণ্ডা ২ কড়া ২ ক্রান্তি) পেয়েছে। ৫ জনের অংশীদার কত পাবে?

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যাঃ

২ ক্রান্তি x ৫ = ১০ ক্রান্তি (৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া বিধায়) ১০ ক্রান্তিতে হয় ৩ কড়া ১ ক্রান্তি। সেজন্য ১ ক্রান্তি বসেছে। (হাতে ৩ কড়া) এখন ২ কড়া x ৫ = ১০ কড়া এবং হাতের ও কড়া মোট ১৩ কড়া (৪ কড়ায় ১ গন্ডা বিধায়)। (১৩ কড়া = ৪ গণ্ডা ১ কড়া) এই ১ কড়া বসেছে। (হাতে ৩ গন্ডা) এখন ১৫ গন্ডা x ৫ = ৭৫ গন্ডা + হাতের ৩ গন্ডা মোট ৭৮ গন্ডা। ৭৮ গন্ডাতে হয় (২০ গন্ডায় ১ আনা বিধায়) ৩ আনা ১৮ গন্ডা। ১৮ গণ্ডা বসেছে ( হাতের ও আনা) এখন আনার গুণ করলে ১ আনা x ৫ = ৫ আনা + হাতের ৩ আনা মোট ৮ আনা ।

আবার ধরা যাক, ১৫ গন্ডা ২ কড়া ১ ক্রান্তি ২ দস্তি করে প্রত্যেক অংশীদার। এরূপ দশজন অংশীদার মোট কতটুকু পায় তা হিসাব করতে হবে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যাঃ

২ দপ্তি x ১০ = ২০ দপ্তি (৩ দস্তিতে ১ ক্রান্তি বিধায়) ২০ দণ্ডিতে হয় ৬ ক্রান্তি এবং ২ দত্ত, সুতরাং ২ দস্তি বসেছে (হাতের ৬ ক্রান্তি) এখন ১ ক্রান্তি X ১০ = ১০ ক্রান্তি + হাতের ৬ ক্রান্তি মোট ১৬ ক্রান্তি। (৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া হওয়ার দরুন) ১৬ ক্রান্তি = ৫ কড়া ১ ক্রান্তি।

এই ১ ক্রান্তি বসেছে। (হাতে ৫ কড়া) এখন ২ কড়া x ১০ = ২০ কড়া + হাতের ৫ কড়া মোট ২৫ কড়া (৪ কড়ায় ১ ক্রান্তি বিধায়) ২৫ কড়া = ৬ গণ্ডা ১ কড়া। এই ১ কড়া বসেছে (হাতে ৬ গণ্ডা)। এখন ১৫ গণ্ডা x ১০ = ১৫০ গণ্ডা + হাতের ৬ গণ্ডা = ১৫৬ গণ্ডা (২০ গন্ডায় ১ আনা) বিধায় ১৫৬ গেণ্ডায় হয় ৭ আনা ১৬ গণ্ডা। এই ৭ আনা ১৬ গণ্ডা বসানো হয়েছে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা :

১৫ তিল x ৩ = ৪৫ তিল (২০ তিলে ১ কাগ বিধায় ) ৪৫ তিলে হয় ২ কাগ ৫ তিল। এই ৫ তিল বসেছে (হাতে ২ কাগ) এখন ১ কাপ x ৩ = ৩ কাগ + হাতের ২ কাগ মোট ৫ কাগ (৪ কাগে ১ কড়া বিধায়) ৫ কাগ = ১ কড়া ১ কাগ। এই ১ কাগ বসেছে। (হাতে ১ কড়া) এখন ২ কড়া x ৩ = ৬ কড়া + হাতের ১ কড়া মোট ৭ কড়া (৪ কড়ায় ১ গণ্ডা বিধায় ৭ কড়ায় হয় ১ গণ্ডা ৩ কড়া।

এই ৩ কড়া বসেছে। (হাতে ১ গন্ডা) এখন ১৯ গণ্ডা x ৩ = ৫৭ গন্ডা + হাতের ১ গণ্ডা মোট ৫৮ গণ্ডা (২০ গণ্ডায় ১ আনা বিধায়) ৫৮ গন্ডা = ২ আনা ১৮ গন্ডা। এই ১৮ গণ্ডা বসেছে। (হাতে ২ আনা) এখন ৩ আনা x ৩ = ৯ আনা + হাতের ২ আনা মোট ১১ আনা।

 

ভাগ :

ভাগের মাধ্যমে জানতে পারা যায় সমভাগে কোন খতিয়ানের কে কতটুকু অংশ পেয়েছে। মনে করা যাক ক কোন খতিয়ানের ১০ (৩ আনা ১০ গন্ডার অংশীদার) ক এর ৬ টি পুত্র আর কেউ নাই। ক এর মৃত্যুর পর কোন এক পুত্র তার ভাই ভাগা অংশের জমি বিক্রয় করতে গেল। এখন এই ভাই ভাগা অংশে কতটুকু পেল তা হিসাব করতে হবে।

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা নং (১) :

৩ আনা ১০ গন্ডাকে ৬ ভাগ করার সুবিধার্থে ৩ আনা ১০ গভাকে গুণ এবং যোগ করে সব গণ্ডায় পরিণত করি। মোট হল ৭০ গন্ডা। এখন এই ৭০ গণ্ডার মধ্যে ৬ এগার বার আছে তাই ১১ বসেছে। তারপরও ৪ অবশিষ্ট থাকে। এখন এই ৪ কে আবার কড়ায় পরিণত করি। কড়ায় পরিণত করলে মোট ১৬ কড়া হবে। এবার ৬, ১৬ এর মধ্যে দুবার আছে। সুতরাং ২ কড়া বসল। তবুও ৪ কড়া অবশিষ্ট থাকে।

এখন এই ৪ কড়াকে ক্রান্তি করলে মোট ক্রান্তি হবে ১২, এখন ১২ এর মধ্যে ৬ দুবার আছে। সুতরাং ২ ক্রান্তি বসল। তা হলে দেখা যাচ্ছে প্রত্যেক ভাই ১১। //(১১ গন্ডা ২ কড়া ২ ক্রান্তি) পেয়েছে।

 

২ নং অংক :

মনে করা যাক কোন একটি খতিয়ানে ১৪ আনার মালিক চ চ এর ৮ জন পুত্র আর কেউ নাই। চ এর মৃত্যুর পর তার পুত্ররা প্রত্যেকে কত পেল?

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা নং (২):

১৪ আনার মধ্যে ৮ একবার আছে। সুতরাং ১ আনা বসেছে। ৮ আনা ১৪ আনা হতে বাদ দিলে থাকে ৬ আনা। ৬ আনাকে ৮ দ্বারা ভাগ করা যায় না বিধায় ৬ আনাকে গণ্ডায় পরিণত করতে হবে। ৬ আনাকে গণ্ডায় পরিণত করলে হয় (৬ আনা × ২০) = ১২০ গণ্ডা। এখন ৮, ১২০ এর মধ্যে ১৫ বার আছে; সুতরাং ১৫ গন্ডা নামল। সুতরাং প্রত্যেক পুত্র পেল ১ আনা ১৫ গণ্ডা।

 

৩ নং অংক :

কোন খতিয়ানে আছে। ৯১৫।। (১০ আনা ১৫ গন্ডা ২ কড়ার) খ মালিক তার মৃত্যুর পর ৫ ছেলে ছাড়া কোন ওয়ারিশ না থাকলে ঐ ছেলেরা প্রত্যেকে ঐ খতিয়ানের কত অংশের অংশীদার হবে?

 

আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি/কাগ একসাথে লিখার নিয়ম 

 

ব্যাখ্যা :

৫, ১০ আনার মধ্যে দুবার আছে বিধায় ২ আনা বসেছে। ৫ এখন ১৫ গন্ডার মধ্যে ৩ বার আছে বিধায় ৩ গণ্ডা বসেছে। এখন ২ কড়াকে ৫ ভাগ করা যায় না বিধায় ২ কড়াকে কাগ করলে হয় (৪ কাগে ১ কড়া বিধায়) ৮ কাগ। ৮ কাগের মধ্যে ৫ একবার আছে সেজন্য ১ কাগ বসেছে।

৮ কাগ হতে ৫ কাগ বাদ দিলে তবুও ত কাগ অবশিষ্ট থাকে, উহাকে তিল করি। (২০ তিলে ১ কাগ বিধায় ৩ কাগ = (৩x ২০) = ৬০ তিল । এখন ৬০ তিলের মধ্যে ৫, ১২ বার আছে, সুতরাং প্রত্যেক ওয়ারিশ পাবে ২ আনা ৩ গণ্ডা ১ কাগ ১২ তিল।

কড়া বিভাগ – জমির হিসাব (সম্পূর্ণ গাইড)

বাংলাদেশে জমির হিসাব ও পরিমাপের ইতিহাস বহু প্রাচীন। আজ আমরা একর–শতক, হেক্টর ইত্যাদি আন্তর্জাতিক এককে জমির মাপ করি। কিন্তু এই আধুনিক ব্যবস্থার আগে গ্রামবাংলা ও উপমহাদেশে ভূমির হিসাব হতো বিঘা–কাঠা, কানি–গণ্ডা, আনা–কড়া প্রভৃতি দেশীয় ও প্রথাগত পদ্ধতিতে।
এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিগুলোর অন্যতম একটি হলো কড়া বিভাগ।

আজও বহু মৌজায়, জরিপ নকশা, পুরোনো খতিয়ান ও আমিনদের মুখে আমরা এই শব্দগুলো শুনে থাকি—

“দুই কড়া”, “সাড়ে তিন গণ্ডা”, “পৌনে এক আনা” ইত্যাদি।

এই প্রাচীন হিসাব-পদ্ধতিটি বোঝা গেলে জমির হিসাব অনেক সহজ ও স্বচ্ছ হয়ে ওঠে।

কড়া বিভাগ

 

গান্টার শিকল (কড়া) এর ইতিহাস

ইংল্যান্ডের গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী Edmund Gunter (১৫৮১–১৬২৬) ভূমি পরিমাপ সহজ করার জন্য একটি ধাতব শিকল তৈরি করেন। এটি পরিচিত হয়—

Gunter’s Chain
বাংলায়: গান্টার শিকল / কড়া / চেইন

ব্রিটিশ আমলে ভারতীয় উপমহাদেশে জরিপ চালানোর সময় এই শিকল ব্যবহৃত হয়। সেই সময় জমিদারি প্রথা, নীলচাষ ও রাজস্ব ব্যবস্থার জন্য জমির নির্ভুল মাপ অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তখন থেকেই বাংলায় এই চেইন পদ্ধতি জনপ্রিয় হয় এবং গ্রামাঞ্চলে এটি “কড়া” নামে পরিচিত হয়।

গান্টার শিকলের পরিমাপ

বিষয় পরিমাণ
দৈর্ঘ্য ৬৬ ফুট
মিটার ২০.১২ মিটার (প্রায়)
ভাগ ১০০ লিংক
১০ চেইন × ১ চেইন = ১ একর

অর্থাৎ—

১০ বর্গ চেইন = ১ একর

কড়া বিভাগের মূল ধাপ

সূক্ষ্ম স্তর

ধাপ রূপান্তর
২০ বিন্দু = ১ ধূলা
৪ ধূলা = ১ রেণু
৪ রেণু = ১ তিল
২০ তিল = ১ কাগ
৪ কাগ = ১ কড়া
৪ কড়া = ১ গণ্ডা
২০ গণ্ডা = ১ আনা
১৬ আনা = ১ কাঠা
২০ কাঠা = ১ বিঘা

 

 

কড়া → গণ্ডা  গজ রূপান্তর

কড়া গণ্ডা
১ কড়া = ৫ পৌনে এক গণ্ডা
২ কড়া = ৫½ এক গণ্ডা
৩ কড়া = ৫¾ পৌনে দুই
৪ কড়া = ৬ দুই
৫ কড়া = ৬½ সোয়া দুই
৬ কড়া = ৬¾ আড়াই
৭ কড়া = ৭ সাড়ে দুই
৮ কড়া = ৭½ তিন
৯ কড়া = ৮ সোয়া তিন
১০ কড়া = ৮½ সাড়ে তিন
১১ কড়া = ৯ চার
১২ কড়া = ৯½ সোয়া চার
১৩ কড়া = ১০ সাড়ে চার
১৪ কড়া = ১০½ পাঁচ
১৫ কড়া = ১১ সোয়া পাঁচ
১৬ কড়া = ১১½ সাড়ে পাঁচ
১৭ কড়া = ১২ ছয়
১৮ কড়া = ১২½ সোয়া ছয়
১৯ কড়া = ১৩ সাড়ে ছয়
২০ কড়া = ১৩½ সাত
২১ কড়া = ১৪ সোয়া সাত
২২ কড়া = ১৪½ সাড়ে সাত
২৩ কড়া = ১৫ আট
২৪ কড়া = ১৫½ সোয়া আট
২৫ কড়া = ১৬ সাড়ে আট
২৬ কড়া = ১৬½ নয়
২৭ কড়া = ১৭ সোয়া নয়
২৮ কড়া = ১৭½ সাড়ে নয়
২৯ কড়া = ১৮ দশ
৩০ কড়া = ১৮½ সোয়া দশ
৩১ কড়া = ১৯ সাড়ে দশ
৩২ কড়া = ১৯½ এগারো
৩৩ কড়া = ২০ সোয়া এগারো
৩৪ কড়া = ২০½ সাড়ে এগারো
৩৫ কড়া = ২১ বারো
৩৬ কড়া = ২১½ সোয়া বারো
৩৭ কড়া = ২২ সাড়ে বারো
৩৮ কড়া = ২২½ তের
৩৯ কড়া = ২৩ সোয়া তের
৪০ কড়া = ২৩½ সাড়ে তের
৮০ কড়া = ১ আনা

আনা পর্যন্ত কড়া বিভাগ

কড়া গজ প্রচলিত নাম
১ কড়া ৫ পৌনে এক গণ্ডা
৪ কড়া ৬ দুই গণ্ডা
৮ কড়া ৭½ তিন গণ্ডা
১৬ কড়া ১১½ সাড়ে পাঁচ
২০ কড়া ১৩½ সাত
৪০ কড়া ২৩½ সাড়ে তের
৮০ কড়া — ১ আনা

 

কেন কড়া বিভাগ জানা জরুরি?

১. পুরোনো দলিল ও খতিয়ান বুঝতে
২. আমিন/সার্ভেয়ারদের হিসাব বুঝতে
৩. জমির প্রকৃত পরিমাণ যাচাই করতে
৪. প্রতারণা থেকে বাঁচতে
৫. জমি কেনাবেচায় দরদাম বুঝতে

আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক

আজ আমরা ব্যবহার করি—

  • একর
  • শতক
  • বর্গমিটার
  • হেক্টর

কিন্তু এই সবের ভিত্তিতেই রয়েছে গান্টারের কড়া পদ্ধতি।
অতএব, আধুনিক ভূমি ব্যবস্থার শিকড় এই প্রাচীন কড়া বিভাগেই নিহিত।

 

 

কড়া বিভাগ

কড়া বিভাগ

কড়া বিভাগ

কড়া বিভাগ

 

কড়া বিভাগ

 

কড়া বিভাগ কেবল একটি গণনাপদ্ধতি নয়, এটি বাংলার ভূমি সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজকের ডিজিটাল যুগেও এই প্রাচীন সূত্র আমাদের শেখায় কীভাবে জমিকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মাপা যায়।

যদি আপনি জমির প্রকৃত মালিকানা বুঝতে চান, প্রতারণা থেকে বাঁচতে চান— তাহলে কড়া বিভাগ জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

ভূমি জরিপ হলো জমির সীমানা নির্ধারণ, পরিমাণ নির্ণয় এবং নকশা তৈরির একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। জমি ক্রয়-বিক্রয়, উত্তরাধিকার বণ্টন, খতিয়ান সংশোধন, নামজারি, দখল সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি—সবক্ষেত্রেই সঠিক জরিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভুল জরিপের কারণে জমি নিয়ে বিবাদ, মামলা ও আর্থিক ক্ষতি হয়। তাই মাঠে কাজ করার আগে কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে, কীভাবে পরিমাপ করতে হবে এবং কীভাবে নকশা তৈরি করতে হবে—তা জানা অত্যাবশ্যক।

এই লেখায় ভূমি জরিপের ধাপে ধাপে করণীয়, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং খতিয়ান পাঠের কৌশল সহজভাবে আলোচনা করা হলো।

 

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়
ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

 

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

ধাপ–১ : প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ (Reconnaissance)

জরিপ শুরুর আগে প্রথম কাজ হলো পুরো জমিটি ঘুরে দেখা। একে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বলা হয়।

কেন এটি জরুরি?

কারণ মাঠে কী কী বাধা আছে, কোথা দিয়ে চেইন বা ফিতা টানা সহজ হবে, কোথায় গাছ, পুকুর, ঘর, নালা, খাল বা রাস্তা রয়েছে—এসব না জানলে পরিমাপে ভুল হবে।

কী কী দেখবেন?

  • জমির চারপাশে কোন প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট বাধা আছে কি না
  • জমির আকৃতি (আয়তাকার, ত্রিভুজ, অনিয়মিত)
  • কোথায় ভাঙা বা বাঁকা সীমানা
  • কীভাবে জমিটিকে ২, ৩ বা ৪ ভাগে ভাগ করলে সহজে পরিমাপ করা যাবে

এই ধাপে আপনি ঠিক করবেন—জমিটিকে কতগুলো ত্রিভুজ বা চতুর্ভুজে ভাগ করবেন।

 

ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়
ভূমি জরিপে অত্যাবশ্যকীয় করণীয়

 

 

ধাপ–২ : স্টেশন ও স্টেশন লাইন নির্বাচন

জরিপে স্টেশন মানে হলো এমন একটি নির্দিষ্ট বিন্দু, যেখান থেকে মাপ নেওয়া শুরু হবে।

কীভাবে করবেন?

  • সুবিধাজনক ও খোলা জায়গা নির্বাচন করুন
  • সেখানে একটি খুঁটি পুঁতে দিন
  • এটিই হবে আপনার প্রথম স্টেশন
  • এরপর অপর একটি পয়েন্ট বেছে নিয়ে তার সঙ্গে একটি স্টেশন লাইন তৈরি করুন

এইভাবে পুরো জমিটিকে কয়েকটি ছোট প্লটে ভাগ করুন, যেন প্রতিটি অংশ সহজে মাপা যায়।

ধাপ–৩ : কাগজে নকশা (Field Sketch)

মাঠে মাপ নেওয়ার আগে কাগজে একটি খসড়া নকশা আঁকুন।

কী করবেন?

  • প্রতিটি স্টেশন চিহ্নিত করুন
  • প্রতিটি অংশকে A, B, C, D নামে চিহ্ন দিন
  • ফিতা বা চেইন দিয়ে মাপ নিয়ে কাগজে লিখুন
  • সব অংশের ক্ষেত্রফল বের করে যোগ করুন
  • এভাবেই পুরো জমির মোট ক্ষেত্রফল পাবেন

 

জরিপ কাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি

যন্ত্র ব্যবহার
গান্টার চেইন / ফিতা দৈর্ঘ্য মাপার জন্য
তিন পায়া টেবিল নকশা রাখার জন্য
লগি দূরত্ব মাপতে
থ্রি-থার্টি স্কেল স্কেল তৈরিতে
খুঁটি স্টেশন চিহ্নিত করতে
রুলার দাগ টানতে
চাঁদা চিহ্ন দিতে
ওলন দিক নির্ণয়ে
পেন্সিল লিখতে
আলামত তালিকা সীমানা চিহ্নের বিবরণ
শিট ও কাগজ নকশা আঁকতে

খতিয়ানে কড়া–ক্রান্তি হিসাব বোঝা

বাংলাদেশে খতিয়ান সাধারণত দুইভাবে লেখা হয়:

  • দশমিক পদ্ধতি
  • কড়া–ক্রান্তি পদ্ধতি

অনেকে দশমিক বোঝেন, কিন্তু কড়া–ক্রান্তি বুঝতে পারেন না।

কড়া–ক্রান্তির সম্পর্ক:

  • ১ কানি = ২০ গণ্ডা
  • ১ গণ্ডা = ৪ কড়া
  • ১ কড়া = ৩ ক্রান্তি

খতিয়ানের মালিকানা যোগ করার সময় প্রথমে যোগ করে দেখবেন — বিন্দু সূত্রে মিলছে, না যব সূত্রে মিলছে। যে কোনো একটি সূত্রে মিললেই হিসাব সঠিক ধরা হবে।

ভূমি জরিপ একটি দায়িত্বপূর্ণ কাজ। সামান্য ভুল বড় আইনি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। তাই পর্যবেক্ষণ, পরিকল্পনা, সঠিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও হিসাব যাচাই—এই চারটি ধাপ মেনে চললেই একটি নির্ভুল জরিপ সম্ভব।

এয়র হেক্টরের সূত্রাবলী 

জমির পরিমাপে আজ বিশ্বব্যাপী যে এককগুলো সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়, তার মধ্যে হেক্টর (Hectare) ও এয়র (Are) অন্যতম। এই এককগুলো আন্তর্জাতিক মেট্রিক পদ্ধতির অংশ, যা মিটার ভিত্তিক। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এখন জমির হিসাব সরকারিভাবে একর–শতক ও হেক্টর–এয়র উভয় পদ্ধতিতেই করা হয়। তাই জমি কেনা-বেচা, রেকর্ড, ম্যাপিং ও সার্ভেতে এই এককগুলোর রূপান্তর জানা অত্যন্ত জরুরি।

এয়র হেক্টরের সূত্রাবলী

 

এয়র ও হেক্টরের উৎপত্তি

এয়র ও হেক্টর উভয়ই মেট্রিক সিস্টেম থেকে উদ্ভূত।

  • Are (এয়র) = ১০০ বর্গমিটার
  • Hectare (হেক্টর) = ১০,০০০ বর্গমিটার
    অর্থাৎ,

১ হেক্টর = ১০০ এয়র

মৌলিক দৈর্ঘ্য রূপান্তর

একক রূপান্তর
১ মিটার ৩৯.৩৭ ইঞ্চি
১ মিটার ৩.২৮ ফুট
১ মিটার ১.০৯ গজ

 

বর্গমিটার হিসাবে

একক মান
১ হেক্টর ১০,০০০ বর্গমিটার
১ এয়র ১০০ বর্গমিটার

 

শতক হিসাবে

জানা আছে:

১ হেক্টর = ২.৪৭১০৫ একর = ২৪৭.১০৫ শতক

সুতরাং,

একক মান
১ হেক্টর ২৪৭.১০৫ শতক
১ এয়র ২.৪৭১০৫ শতক

 

বর্গহাত হিসাবে

১ হেক্টর = ৪৭,৮৩৯.৫৩ বর্গহাত

একক মান
১ হেক্টর ৪৭,৮৩৯.৫৩ বর্গহাত
১ এয়র ৪৭৮.৩৯ বর্গহাত

 

বর্গফুট হিসাবে

১ হেক্টর = ১০৭,৬৩৯ বর্গফুট

একক মান
১ হেক্টর ১০৭,৬৩৯ বর্গফুট
১ এয়র ১,০৭৬.৩৯ বর্গফুট

 

বর্গগজ হিসাবে

১ হেক্টর = ১১,৯৫১.৮৮ বর্গগজ

একক মান
১ হেক্টর ১১,৯৫১.৮৮ বর্গগজ
১ এয়র ১১৯.৫১৯ বর্গগজ

 

বর্গলিংক হিসাবে

১ হেক্টর = ২৪৭,১০৫ বর্গলিংক

একক মান
১ হেক্টর ২৪৭,১০৫ বর্গলিংক
১ এয়র ২,৪৭১.০৫ বর্গলিংক

 

বিঘা–কাঠা হিসাবে

বাংলাদেশের মান অনুযায়ী:

১ বিঘা ≈ ১৩৩৮ বর্গমিটার

সুতরাং,

একক মান
১ হেক্টর ≈ ৭.৪৭ বিঘা
১ এয়র ≈ ০.০৭৪৭ বিঘা

 

এক নজরে এয়র–হেক্টর

একক মান
১ হেক্টর ১০,০০০ বর্গমিটার
১ হেক্টর ১০০ এয়র
১ হেক্টর ২.৪৭ একর
১ হেক্টর ২৪৭.১০৫ শতক
১ হেক্টর ৭.৪৭ বিঘা
১ এয়র ১০০ বর্গমিটার
১ এয়র ২.৪৭ শতক
১ এয়র ০.০৭৪৭ বিঘা

 

এয়র ও হেক্টর হলো আধুনিক ভূমি পরিমাপের আন্তর্জাতিক মান। এই সূত্রগুলো জানা থাকলে—

  • জমির প্রকৃত আয়তন নির্ণয়
  • দলিল যাচাই
  • জরিপ বোঝা
  • এবং প্রতারণা থেকে বাঁচা
    অনেক সহজ হয়ে যায়।

লিংক কে ফুট বা ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি 

আজকে আমরা জানবো লিংক কে ফুট বা ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি

 

লিংক কে ফুট বা ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি 

 

লিংক কে ফুট বা ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি

লিংক বা কড়ির হিসাবকে ফুট/ইঞ্চিতে নিতে হলে মোটামুটি হিসাবের জন্যে ১ লিংক/কড়ি = ৮ ইঞ্চি এবং ১.৫ লিংক = ১ ফুট ধরে যত লিংক হয়, তার তিন ভাগের দুই ভাগের যোগফল হলো ফুট। যেমন ১২ লিংকে কত ফুট তা বের করতে হবে । ১২ কে ৩ ভাগ করলে পাওয়া যায় ৪। এবার ৪ কে ২ দিয়ে গুণ করলেই ফুট পাওয়া যাবে। অর্থাৎ ৮ ফুট।

১ লিংক = .৬৬ ফুট।

১৪০ লিংক = ১২ ফুট।

৫০০ লিংক = ৩৩০ ফুট । 

৫৭০ লিংক = ৩৭৬ ফুট ।

 

লিংক কে ফুট বা ইঞ্চিতে পরিবর্তন করার সহজ পদ্ধতি 

 

ফুট-কে লিংক/কড়ি-তে পরিবর্তনের পদ্ধতি:

যত ফুট. তার ঠিক অর্ধেক নিয়ে ঐ ফুটের সাথে যোগ করলে লিংক বা কড়িতে পরিণত হবে। ধরা যাক ৬ লিংককে ফুটে পরিবর্তন করতে হবে। ৬ ফুটের অর্ধেক হলো ৩ । এই ৩-কে ৬ ফুটের সাথে যোগ করলেই লিংক হবে। অর্থাৎ ৬ + ৩ = ৯। ২০ ফুটের লিংক হলো ২০ + ২ = ১০ + 20 = ৩০।

 

লিংক এর সাথে ফুট বা ইঞ্চির সমতা

লিংক

ফুট

ইঞ্চি

১ ০ ৭.৯
২ ১ ৩.৮
৩ ১ ১১.৮
৪ ২ ৭.৭
৫ ৩ ৩.৬
৬ ৩ ১১.৫
৭ ৪ ৭.৪
৮ ৫ ৩.৪
৯ ৫ ১১.৩
১০ ৬ ৭.২
১১ ৭ ৩.১
১২ ৭ ১১.১
১৩ ৮ ৭.০
১৪ ৯ ২.৯
১৫ ৯ ১০.৮
১৬ ১০ ৬.৭
১৭ ১১ ২.৬
১৮ ১১ ১০.৬
১৯ ১২ ৬.৫
২০ ১৩ ২.৪
২১ ১৩ ১০.৩
২২ ১৪ ৬.২
২৩ ১৫ ২.২
২৪ ১৫ ১০.১
২৫ ১৬ ৬.০
২৬ ১৭ ১.৯
২৭ ১৭ ৯.৮
২৮ ১৮ ৫.৮
২৯ ১৯ ১.৭
৩০ ১৯ ৯.৬
৩১ ২০ ৫.৫
৩২ ২১ ১.৪
৩৩ ২১ ৯.৪
৩৪ ২২ ৫.৩
৩৫ ২৩ ১.২
৩৬ ২৩ ৯.১
৩৭ ২৪ ৫.০
৩৮ ২৫ ১.০
৩৯ ২৫ ৮.৯
৪০ ২৬ ৪.৮
৪১ ২৭ ০.৭
৪২ ২৭ ৮.৬
৪৩ ২৮ ৪.৬
৪৪ ২৯ ০.৫
৪৫ ২৯ ৮.৪
৪৬ ৩০ ৪.৩
৪৭ ৩১ ০.২
৪৮ ৩১ ৮.২
৪৯ ৩২ ৪.২
৫০ ৩৩ –
৫১ ৩৩ ৭.৯
৫২ ৩৪ ৩.৮
৫৩ ৩৪ ১১.৮
৫৪ ৩৫ ৭.৭
৫৫ ৩৬ ৩.৬
৫৬ ৩৬ ১১.৫
৫৭ ৩৭ ৭.৪
৫৮ ৩৮ ৩.৪
৫৯ ৩৮ ১১.৩
৬০ ৩৯ ৭.২
৬১ ৪০ ৩.১
৬২ ৪০ ১১
৬৩ ৪১ ৭.০
৬৪ ৪২ ২.৯
৬৫ ৪২ ১০.৮
৬৬ ৪৩ ৬.৭
৬৭ ৪৪ ২.৬
৬৮ ৪৪ ১০.৬
৬৯ ৪৫ ৬.৫
৭০ ৪৬ ২.৪
৭১ ৪৬ ১০.৩
৭২ ৪৭ ৬.২
৭৩ ৪৮ ২.২
৭৪ ৪৮ ১০.১
৭৫ ৪৯ ৬.০
৭৬ ৫০ ১.৯
৭৭ ৫০ ৯.৮
৭৮ ৫১ ৫.৮
৭৯ ৫২ ১.৭
৮০ ৫২ ৯.৬
৮১ ৫৩ ৫.৫
৮২ ৫৪ ১.৪
৮৩ ৫৪ ৯.৯
৮৪ ৫৫ ৫.৩
৮৫ ৫৬ ১.২
৮৬ ৫৬ ৯.১
৮৭ ৫৭ ৫.০
৮৮ ৫৮ ১.০
৮৯ ৫৮ ৮.৯
৯০ ৫৯ ৪.৮
৯১ ৬০ ০.৭
৯২ ৬০ ৮.৬
৯৩ ৬১ ৪.৬
৯৪ ৬২ ০.৫
৯৫ ৬২ ৮.৪
৯৬ ৬৩ ৪.৩
৯৭ ৬৪ ০.২
৯৮ ৬৪ ৮.২
৯৯ ৬৫ ৪.১

 

Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class