গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ক চুক্তি আইন | চুক্তি আইন

গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ক চুক্তি আইন ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ক চুক্তি আইন

চুক্তি আইন  একাধিক পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি সম্পর্কিত আইন। এর উদ্দেশ্য হলো একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা। প্রধানত দুটি উপাদানের সমন্বয়ে একটি চুক্তির জন্ম হয়, প্রথমত একটি ঐকমত্য, দ্বিতীয়ত একটি আইনগত দায়িত্ব যা আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য।

 

গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ক

 

এদেশে ব্রিটিশ শাসনের পূর্বে মুসলিম আইনে চুক্তির নীতিগুলো জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সব সদস্যের উপর প্রযোজ্য ছিল। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির বিশেষ বিধিবিধান বিঘ্নিত করা হতো না। সyুপ্রম কোর্ট কর্তৃক প্রেসিডেন্সি টাউন কোলকাতায় ইংলিশ আইনের যত্রতত্র ব্যবহারের কারণে দেশীয় লোকের অসুবিধার সৃষ্টি হয় এবং তাদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।

এ সমস্যা নিরসনকল্পে ১৭৮১ সালে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা এক আইন পাশ করে যা মুসলমানদের নিজেদের মধ্যে চুক্তি করার জন্য মুসলিম চুক্তি আইন এবং হিন্দুদের নিজেদের মধ্যে চুক্তি করার ব্যাপারে হিন্দু চুক্তি আইন প্রয়োগের সুযোগ করে দেয়।

কিন্তু ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী প্রসিডেন্সি শহরে বসবাসরত ইংরেজ নরনারীসহ সকল বিদেশী এবং যারা প্রেসিডেন্সি শহরের বাইরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত ছিলেন তাদের সবার ক্ষেত্রে সাধারণ ইংলিশ আইনের নীতি প্রয়োগ অব্যাহত রাখে। ব্রিটিশরা ক্রমান্বয়ে তাদের নীতি পরিবর্তন করা শুরু করে এবং বিধিমালা জারীর মাধ্যমে ইংলিশ কমন ল’য়ের কিছু কিছু নীতি চালু করে। বিধিগুলো প্রণয়ন করেন গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত তারা দেশের আইনকে বিধিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।

এভাবেই ১৮৭২ সালে ইন্ডিয়ান কন্ট্রাক্ট অ্যাক্টের প্রবর্তন হয় যা অল্পবিস্তর পরিবর্তন সহ এখনও বাংলাদেশে কার্যকর। এ আইনে চুক্তির সাধারণ নীতিগুলো বিধৃত আছে। গোড়াতে এ আইনে ৭২-১২৩ নং ধারায় পণ্য বিক্রি সংক্রান্ত বিধান সন্নিবেশিত ছিল যা পণ্য বিক্রি আইন, ১৯৩০  বিধিবদ্ধ হওয়ার পর বাতিল হয়ে যায়। এছাড়া ২৩৯-২৬৬ নং ধারায় ছিল অংশীদারিত্ব সম্পর্কিত বিধান যা অংশীদারিত্ব আইন, ১৯৩২ বিধিবদ্ধ হওয়ার পর বাতিল হয়ে যায়।

উপরোক্ত তিনটি আইন বিধিবদ্ধ হওয়া ছাড়াও পণ্য পরিবহন আইন, ১৮৬৫, রেলওয়েজ আইন, ১৮৯০, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন আইন, ১৯২৫, বিমান পরিবহন আইন, ১৯৩৪ চুক্তির বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উপরিউক্ত ধারাগুলোর পরিবর্তনের পর চুক্তি আইনে চুক্তির সাধারণ নীতিমালা সন্নিবেশিত আছে (ধারা ১-৭৫) এবং সুনির্দিষ্ট ধরনের চুক্তির বিধান আছে। যেমন, ক্ষতিপূরণ ও জামানত চুক্তি (ধারা ১২৪-১৪৭), জিম্মা ও অস্থাবর বন্ধক চুক্তি (ধারা ১৪৮-১৮১) এবং প্রতিনিধিত্ব চুক্তি (ধারা ১৮২-২৩৮)

 

প্রস্তাব বিষয়ক চুক্তি

 

গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ক চুক্তি আইন নিয়ে বিস্তারিত ঃ

প্রস্তাব বিষয়ক চুক্তি আইন | চুক্তি আইন

প্রস্তাব বিষয়ক চুক্তি আইন আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “প্রস্তাব বিষয়ক চুক্তি আইন [ Law of Contracts on Proposals ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

প্রস্তাব বিষয়ক চুক্তি আইন

প্রস্তাব উপস্থাপনের বিধানাবলী (Rules regarding offer)

একটি পক্ষ অপর পক্ষের কাছ থেকে সম্মতি/ স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় প্রস্তাব পেশ করা হয়। তাই একটি প্রস্তাব নিয়ম অনুযায়ী পেশ করতে হয়। চুক্তি আইন অনুযায়ী প্রস্তাব পেশ বা উপস্থাপনের বিধান বা নিয়মাবলী নিচে আলোচনা করা হলোঃ

১। ব্যক্ত বা অব্যক্ত উভয় প্রকারের প্রস্তাব হতে পারে ((Proposal can be both expressed or implied)

চুক্তি আইন অনুযায়ী চুক্তি সম্পাদনের জন্য প্রস্তাব ব্যক্ত অব্যক্ত দুই রকম ভাবেই পেশ করা যায়ঃ যেমন-

ক) ব্যক্ত প্রস্তাব (expressed Proposal) যখন কোন প্রস্তাব লিখিত কিংবা মৌখিক কথা/ ভাষা সাহায্যে পেশ করা হয় তখন সেই প্রস্তাব কে ব্যক্ত প্রস্তাব বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি সাক্ষাৎকার/ টেলিফোন/ চিঠি/ বিজ্ঞাপন প্রভৃতির মাধ্যমে প্রস্তাব ব্যক্ত করা যেতে পারে।

খ) অব্যক্ত বা ধারণামূলক প্রস্তাব ((implied Proposal) অনেক সময় দেখা যায় যে কোন ব্যক্তি তার আচার-আচরণ কিংবা হাবভাব এর মাধ্যমে প্রস্তাব রেখে থাকেন, এ ধরনের প্রস্তাবকে অব্যক্ত বা ধারণাগত প্রস্তাব বলা হয়।

 

চুক্তি আইন পরিচিতি

 

২. কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি/শ্রেণী/জনসাধারণের উদ্দেশ্যে প্রস্তাব রাখা যায় (Offer can be made for particular person, class or people at large)

চুক্তি আইন অনুযায়ী একটি প্রস্তাব নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা নির্দিষ্ট শ্রেণী অথবা জনগণের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেমন –

ক. নির্দিষ্ট ব্যক্তিঃ ইহান আয়ানকে বললো আমার গাড়িটি তুমি দশ লক্ষ টাকায় কিনবে? তবে এটি হবে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নিকট প্রস্তাব।

খ. নির্দিষ্ট শ্রেণীঃ একটি ক্লাসে বই হারানো গিয়েছে। এ অবস্থায় ক্লাসে সকলের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দেয়া হলো যে বইটি পাওয়া গেলে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

গ. সর্বসাধারণঃ জনগণ কে উদ্দেশ্য করে এমন প্রস্তাব করা হলো যে অমুক ব্যক্তি কে ধরিয়ে দিন কিংবা একটি চলচ্চিত্রের জন্য নতুন মুখের সন্ধানে করা হচ্ছে, ইচ্ছুক আগ্রহীগণ অতিসত্বর যোগাযোগ করুন। এরূপ প্রস্তাব হল জনগণ বা সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে পেশকৃত প্রস্তাব।

৩. প্রস্তাব শর্তাধীন হতে পারে(Offer can be conditional)

চুক্তি আইন অনুযায়ী একটি চুক্তির প্রস্তাব শর্তাধীনও হতে পারে। এক বা একাধিক শর্ত জুড়ে দিতে পারে। এক্ষেত্রে জুড়ে দেওয়া শর্ত যুক্তিহীন বা অন্যায় বলে বিবেচিত হবে না।তবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো আমলে নিতে হবে-

ক. চুক্তির প্রস্তাবের শর্ত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এমন ক্ষেত্রে অপর পক্ষ দেখে নাই কিংবা বুঝে নাই এরূপ কথা বলে চুক্তি প্রত্যাখ্যান করার কোন সুযোগ নেই।
খ. শর্ত অবশ্যই যুক্তি সঙ্গতভাবে পেশ করা লাগবে। যাতে অন্য পক্ষটি সহজেই সব জানতে ও বুঝতে পারে। অন্যথায় এই ধরনের শর্ত কার্যকর ও প্রযোজ্য হবে না।
গ. চুক্তির প্রস্তাবের ক্ষেত্রে যুক্তিহীন কিংবা অন্যায়মূলক শর্ত কখনোই জুড়ে দেওয়া যাবে না। তাই প্রস্তাবের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্য শর্ত বা শর্তসমূহ অবশ্যই থাকতে হবে। অন্যথায় শর্ত বা শর্তসমূহ বলবৎযোগ্য করা যাবে না।

৪. প্রস্তাবের শর্ত সুনির্দিষ্ট রাখা উচিত (Terms of offer must be defined):

প্রস্তাবের শর্ত বা শর্তাবলী সব সময়ই সুনির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত হওয়া উচিত। অনির্দিষ্ট কিংবা অস্পষ্ট প্রস্তাব কখনোই প্রস্তাব বলে গণ্য হয় না। যেমন- কোন চিত্রকরকে বলা হলো যে আমার একটি ছবি এঁকে দিন, আপনাকে কিছু টাকা দেবো। এখানে টাকার পরিমাণ অস্পষ্ট, তাই এটি প্রস্তাব নয়।

৫. শুধুমাত্র ইচ্ছা প্রকাশ বা বিবৃতি দিলেই প্রস্তাব হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না (An intention or statement alone cannot be accepted as offer)

সম্মতি লাভের উদ্দেশ্য ব্যতিত কোন ইচ্ছা, বক্তব্য বা বিবৃতি আইনত প্রস্তাব বলে গণ্য হয় না। যেমন – বাবা তার মেয়ের হবু জামাইকে বললো, আমার মৃত্যুর পর সকল সম্পত্তিই মেয়ে পাবে। এটা তার শুধুই ইচ্ছে প্রকাশ। এটিকে প্রস্তাব হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

 

 

৬. প্রস্তাব ও প্রস্তাবের আমন্ত্রণ পাওয়া এক বিষয় নয় (Offer & invitation to an offer isn’t be same thing)

একটি প্রস্তাব ও কোন প্রস্তাবের আমন্ত্রণ এক বিষয় নয়। যদি দোকানি কোন মূল্য তালিকা বিলি করে থাকে তবে এটি এক্ষেত্রে প্রস্তাবের আমন্ত্রণ হিসেবে গন্য হবে, প্রস্তাব হিসেবে নয়। যেমন- ঘোষণা করা হলো একটি কুকুর হারিয়ে গিয়েছে, কেউ পেলে তাকে ৫০০০ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে, এমন হলে এটা একটা প্রস্তাব।

৭. প্রস্তাবগ্রহীতাকে অবশ্য প্রস্তাব সম্পর্কে জানাতে হবে (Offer must be communicated to be offeree):

যার উদ্দেশ্যে প্রস্তাব করা হয়েছে তাকে অবশ্যই তা জানাতে হবে অন্যথায় তিনি তাতে স্বীকৃতি দিতে পারবেন না। কেউ যদি প্রস্তাব না জেনে প্রস্তাবিত কাজ করে দিলেও চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে না এবং পারিশ্রামিকও পাবেন না। এক্ষেত্রে Lalmon Vs Gouri Dutt 11 A.L.J. 489 মামলার বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে। গৌরী দত্তের ভ্রাতুস্পুত্র হারিয়ে গেলে ৫০১ টাকা পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

এদিকে বাচ্চা হারিয়ে গেছে বলে কাজের ছেলে-লালমনের খারাপ লাগলো। তাই সে খুঁজতে বের হলো। কিন্তু সে এই পুরস্কারের ঘোষণা জানতো না। তাই যখন বাচ্চাটি খুঁজে নিয়ে এসে লালমন টাকা দাবি করলেও আদালত বললো- যেহেতু পুরস্কারের ঘোষণা সম্পর্কে লালমন কিছুই জানেন না; তাই লালমন পুরস্কারও পাবেন না।

৮. প্রস্তাবে আইনগত সম্পর্ক স্থাপনের অভিপ্রায় থাকা উচিত (Proposal should have the intention of establishing a legal relationship)

একটি প্রস্তাবকে আইনগত ভিত্তির উপর ধার করাতে হলে প্রস্তাবের দ্বারা আইনগত সম্পর্ক স্থাপনের অভিপ্রায় বা ইচ্ছা অবশ্যই থাকতে হবে। উদাহারন হিসেবে বলা যায়, কোন বাসায় খাবার নিমন্ত্রণ করা হলো। এখানে একে অপর পক্ষ রাজী হয়ে নিমন্ত্রণে এসেছে তার পরও এটি চুক্তি হিসেবে গণ্য করা যাবে না। কারণ এরূপ নিমন্ত্রণে চুক্তির ইচ্ছা থাকে না।

৯. গৃহীত হওয়ার পূর্বে প্রস্তাব প্রত্যাহার করা যায় (The proposal can be revoked before it is accepted)

চুক্তি আইন-১৮৭২ এর ৫ ধারার বিধানানুসারে প্রস্তাব স্বীকৃত হওয়ার এবং প্রস্তাবকের বিপক্ষে স্বীকৃতির স্থাপন কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বে প্রস্তাব প্রত্যাহার করন্দ্র সুযোগ থাকে, কিন্তু এর পরে আর সে সুযুগ থাকে না। প্রস্তাব প্রত্যাহার ব্যতিত বিশেষ ক্ষেত্রে তামাদি কিংবা বাতিলের মাধ্যমে প্রস্তাব প্রত্যাহার করা যেতে পারে।

১০. কোন প্রস্তাব চিরদিন বজায় থাকে না (Any offer isn’t stand for ever)

প্রস্তাবে স্বীকৃতির একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকতে হবে, সময়সীমা না থাকলে যুক্তিসঙ্গত সময়ের পর এমনিতেই প্রস্তাবের বিলুপ্ত ঘটে যেতে পারে। তাই যুক্তিসঙ্গত সময়, পরিবেশ- পরিস্থিতির অবস্থা বিবেচনা এনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তাব রাখা উচিত।

উপরের আলোচনা থেকে এটা পরিষ্কার যে, কিছু নিয়মের মধ্য দিয়েই প্রস্তাব উপস্থাপন করতে হয়। তা না হলে চুক্তি আইন-১৮৭২ অনুযায়ী প্রস্তাব আলোর মুখ দেখে না, আইনগত চুক্তি হিসেবেও পরিগণিত হয় না।

 

প্রস্তাব বিষয়ক চুক্তি

 

প্রস্তাব বিষয়ক চুক্তি আইন নিয়ে বিস্তারিত ঃ

বাংলাদেশের চুক্তি আইনের পরিচিতি

চুক্তি আইন আধুনিক দেওয়ানী আইনের ভিত্তি। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে রাষ্ট্র—সকল আর্থিক ও সামাজিক লেনদেনের মূলভিত্তি হলো চুক্তি। বাংলাদেশে চুক্তিসংক্রান্ত সকল আইনি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে চুক্তি আইন, ১৮৭২।

এই আইনের মৌলিক ধারণা সহজভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে “আইন শিক্ষা গুরুকুল” প্রণয়ন করেছে “চুক্তি আইন (Contract Law)” সিরিজ, যেখানে ধাপে ধাপে চুক্তি আইনের প্রতিটি অধ্যায় আলোচনা করা হয়।

 

চুক্তি আইন পরিচিতি

 

১. চুক্তি আইন, ১৮৭২ : ঐতিহাসিক পটভূমি

চুক্তি আইন, ১৮৭২ মূলত ইংরেজি কমন ল ও ব্রিটিশ ভারতীয় চুক্তি আইনের ভিত্তিতে প্রণীত।
উনিশ শতকে ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতবর্ষে এটি প্রবর্তিত হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পুনরায় জাতীয় সংসদের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।

বর্তমানে এটি বাংলাদেশের প্রধান চুক্তি আইন হিসেবে বলবৎ রয়েছে।

 

চুক্তি আইন পরিচিতি

 

২. চুক্তি আইনের পরিসর

চুক্তি আইন, ১৮৭২–এ নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—

  • প্রস্তাব ও গ্রহণযোগ্যতা
  • বৈধ ও অবৈধ চুক্তি
  • বাতিলযোগ্য ও বাতিল চুক্তি
  • কন্টিনজেন্ট চুক্তি
  • চুক্তির বাস্তবায়ন
  • চুক্তি ভঙ্গ ও ক্ষতিপূরণ
  • জামিন (Guarantee)
  • সংস্থা (Agency)
  • অংশীদারিত্ব (Partnership)
  • বিবেচনা (Consideration)
  • ভুল উপস্থাপনা ও প্রতারণা

 

৩. চুক্তি আইনের প্রয়োজনীয়তা

চুক্তি আইন একটি মৌলিক দেওয়ানী আইন। অন্যান্য দেওয়ানী আইন যেমন—পণ্য বিক্রয় আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন—সবগুলোর ভিত্তি হিসেবে চুক্তি আইন কাজ করে।

চুক্তি আইনের প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ—

  • অধিকার ও দায় নিশ্চিতকরণ
    চুক্তির মাধ্যমে পক্ষগণের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারিত হয়।
  • লেনদেনের নিরাপত্তা
    পণ্য, সেবা, সম্পত্তি ও অর্থ লেনদেনে আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
  • বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সহায়তা
    ব্যবসা পরিচালনা, অফিস ভাড়া, মাল ক্রয়, পরিবহন, ব্যাংক লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই চুক্তির প্রয়োগ রয়েছে।
  • বিবাদ নিষ্পত্তির পথ
    চুক্তি ভঙ্গ হলে আইনগত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

 

৪. চুক্তি আইনের উদ্দেশ্য

চুক্তি আইনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো—

  • পক্ষগণ যেন তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে
  • অপর পক্ষের অধিকার সংরক্ষণ করা
  • চুক্তি ভঙ্গ হলে ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করা

চুক্তি আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে চুক্তিসংক্রান্ত মৌলিক বিষয়ের সংজ্ঞা, নীতিমালা ও আইনি কাঠামো নির্ধারণের জন্য। যেমন—
প্রস্তাব, প্রতিদান, অঙ্গীকার, বাতিল চুক্তি, কন্টিনজেন্ট চুক্তি ইত্যাদি।

৫. চুক্তি আইনের সীমাবদ্ধতা

চুক্তি আইন, ১৮৭২ একটি মৌলিক আইন হলেও এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্যান্য আইনে নিয়ন্ত্রিত হয়—

বিষয় প্রযোজ্য আইন
সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন, চুক্তি বাতিল সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭
পণ্য ক্রয়-বিক্রয় পণ্য বিক্রয় আইন, ১৯৩০
স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২

অতএব, চুক্তি আইন একা সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে না; বরং এটি অন্যান্য দেওয়ানী আইনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

 

 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতে চুক্তি আইন একটি অপরিহার্য ভিত্তি। এটি পক্ষগণের স্বাধীনতাকে সীমার মধ্যে এনে আইনি সুরক্ষা প্রদান করে। চুক্তির মাধ্যমে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্ক আইনসম্মত ও সুসংহত হয়।

চুক্তি আইন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা একজন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও আইনজীবীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি চাইলে আমি এই লেখাটি নোট, লেকচার স্ক্রিপ্ট বা প্রশ্নোত্তর আকারেও সাজিয়ে দিতে পারি।

চুক্তি আইন পরিচিতি নিয়ে বিস্তারিত ঃ

মানুষ বিচার চায় না কেন? – জায়েদুল আহসান পিন্টু

মানুষ বিচার চায় না কেন? শিরনামে বিশিষ্ট সাংবাদিক জায়েদুল আহসান পিন্টু তার ফেসবুক স্টাটাসে লিখেছেন:

মানুষ বিচার চায় না কেন? - জায়েদুল আহসান পিন্টু
জায়েদুল আহসান পিন্টু

১. বেশ ক’বছর ধরে শুনছি বিচারহীনতার সংস্কৃতির কথা। শুনতে শুনতে ক্লিশে হয়ে গেছে শব্দটা। সুশীল সমাজ আর বিরোধী পক্ষ অনেকদিন ধরেই একথা বলছে। আর আজকাল সাধারণ নাগরিকদের কেউ কেউ বিচারই চাইছেন না। তারা বলছেন বিচার চেয়ে কী হবে। সাধারণ নাগরকিদের মনের এই ভাবনা উদ্বেগেরই না। রীতিমত ভয়ানক ভবিষ্যতের ঈঙ্গিত দেয়।

২. তার মানে কি দেশে বিচার হচ্ছে না? বিচার চেয়ে পাওয়া যাচ্ছে না? বিষয়টা কি সত্যি তাই? আমরাতো দেখছি গড়ে প্র্রতিদিন একজন করে মানুষের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হচ্ছে। এখনো কারাগারের কনডেমড সেলে দুই হাজারেরও বেশি আসামী মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে বন্দি আছে। প্রতিদিন সারাদেশে বিচারকরা শত শত রায় দিচ্ছেন। তাহলে বিচারটা হচ্ছে না বা পাচ্ছি না বলছি কেন? উত্তরটা খোঁজার চেষ্টা করা যাক।

[ মানুষ বিচার চায় না কেন? – জায়েদুল আহসান পিন্টু ]

৩. বিচার বিভাগ যে বছর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয় সেবছর অর্থাৎ ২০০৭ সালে দেশে বিচারাধীন মামলা ছিল ১৫ লাখের একটু বেশি। আর বর্তমানে দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০ লাখের কাছাকাছি। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২ লাখ অনিষ্পন্ন মামলা যুক্ত হচ্ছে। বিষয়টা অনেকটা বানরের পিচ্ছিল বাশ বেয়ে ওপরে উঠার মতো। ১০টা নতুন মামলা হলে ৮টার নিষ্পত্তি হয়। ২টা জমে যায়। পরের বার ১১টা মামলা হলে ৮ নিস্পত্তি হয় জমে যায় আরো ৩টা। সাথে পুরানো ২টাতো আছেই। এভাবে জমতে জমতে ১৫ বছরে ২৫ লাখ মামলা যুক্ত হয়ে এখন ৪০ লাখ হয়েছে।

৪. দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য বিচারক একজন। তার মাথায় ২০০০ মামলা। এসব তথ্য আমরা সবাই জানি। সংসদে প্রায় প্রতি অধিবেশনেই কোন না সাংসদ এই প্রশ্নটি করেন। আর আইনমন্ত্রী মামলা জটের হিসাব দেন। পাশাপাশি এটাও বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার নানামুখী কার্যক্রম নিয়েছে। বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন আদালত গঠন, আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিচারকদের প্রশিক্ষণসহ মামলা নিষ্পত্তিতে তদারকি বাড়াতে সরকারের নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। আইনমন্ত্রীদেরও এসব প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ হয়ে গেছে।

৫. সরকারগুলো কী যে পদক্ষেপ নিয়েছে/নিচ্ছে তাতো দেশবাসী দেখতেই পাচ্ছে। আমারতো মনে হয় স্বাধীনতার ৫০ বছরে এই একটি মন্ত্রণালয় তেমন কোন কাজই করেনি। দেশের ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমে যে আমূল পরিবর্তন আনা দরকার সেটা কেউই করেননি। সবাই শুধু বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছেন। আর এ কারণেই দেশের নাগরিকদের বিশাল একটা অংশ ক্রসফায়ারের পক্ষে কথা বলেন। কিছুদিন আগ পর্যন্ত সরকারগুলোও ক্রসফায়ারের পক্ষে ছিল। যার অর্থ হলো বিচারে আস্থা নেই। এই আস্থাহীনতা একটা সময় অরাজকর পরিস্থিতির জন্ম দিবে কোন সন্দেহ নেই।

৬. গত বছর এক ভার্চুয়াল শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে বলতে হয়েছিল, ‘বিচার বিভাগ পৃথককরণ হয়েছে ২০০৭ সালে, আজ ২০২১ সালেও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ভবনের জন্য সব জায়গা অধিগ্রহণ হয়নি, তারপর বিল্ডিং করতে হবে। আমি আর কত বলবো?’ তাইতো প্রধান বিচারপতি আর কত বলবেন?

৭. তবে আমি বলি ভিন্ন কথা। শুধু অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ালেই বিচারের জট কমবে না। পাশাপাশি কমাতে হবে মামলার উৎপত্তিস্থল। মামলা সৃষ্টির কারণ বন্ধ করতে হবে। আর সেজন্য দরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন।

৮. হ্যা, এটা ঠিক বিচারকের সঙ্কট তাৎক্ষণিকভাবে মিটানো সম্ভব না। তাই বলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকবে না? কিছুই যদি না পারেন অবসরপ্রাপ্ত জজদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগতো দিতে পারতেন। আমলাদেরতো চুক্তিতে নিয়োগ দিতে কার্পণ্য করতে দেখি না।

৯. শুরুতে বলেছিলাম, বিচারের রায় হতে দেখি প্রতিদিন। কিন্তু যেটা দেখি না সেটা হলো রায় কার্যকর হওয়া। আবার যেটা ভাইরাল হয় না সেটার খবর রাখি না। আর বলছিলাম ফাঁসির আদেশ নিয়ে বন্দি আছে দুই হাজারেরও বেশি। হিসেব করে দেখা গেছে ২০-২৫ বছর লাগে একটি খুনের মামলার চুড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে। রায় পেতে যদি দুই যুগ লেগে যায় বিচারের কী দরকার। বিচার হয় কেন? সমাজে যেন অপরাধ না বাড়ে। কিন্তু বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় বিচারের রায়ের কোন প্রভাবই নেই সমাজে। যে কারণে আজ দেশের মানুষ মূখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। নীতি নির্ধারকরা এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছেন না তাতো নয়। কিন্তু কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই কেন?

১০. এবার একটি পুরানো গল্প নতুন করে বলি। বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়ানো এক বৃদ্ধ আসামীকে তিরস্কার করে বলছেন, আপনার মতো সিনিয়র সিটিজেন এক তরুনীর দিকে কুদৃষ্টি দিলেন কী করে? সমাজ আপনাদের কাছ থেকে কী শিখবে? তরুণ বয়স হলেও বুঝতাম বয়সের দোষ! জবাবে ওই বৃদ্ধ বলছেন, মাই লর্ড, ঘটনাটা তিন যুগ আগের, তখন আমার কাঁচা বয়সই ছিল, ওই যে দেখছেন না মামলার বাদিনী তার নাতি নাতনি নিয়ে শুনানিতে অংশ নিতে আসছেন।

১১. উপরের গল্পটা রুপক হলেও এবার একটা আসল খবর দেই। একটা সংবাদ দেখেছিলাম মাস দুয়েক আগে। চ্যানেল ২৪ এ। খবরটা এরকম: ২০১০ সালে বগুড়ায় আড়াই হাজার টাকা ঘুষসহ হাতেনাতে ধরা পড়েন সরকারি এক প্রকৌশলী। দুদক মামলা করলো তার নামে। ২০১৩ সালে আদালত তাকে দুই বছরের সাজা দেয়। তিন বছর পর তাকে খালাস দেয় হাইকোর্ট। মামলা যায় আপিল বিভাগে। সেই আপিল নিষ্পত্তি হয় চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে। দণ্ডাদেশ বহাল থাকে। ২৫০০ টাকার এই দুর্নীতি মামলা নিষ্পত্তিতে দুদকের খরচ হয়েছে ৬ লাখ টাকা। সময় লেগেছে এক যুগ। আসামি কিন্তু লাপাত্তা।

চুক্তি আইন অনুযায়ী চুক্তির বাস্তবায়ন

চুক্তি আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো চুক্তির বাস্তবায়ন। একটি চুক্তি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার প্রতিশ্রুতিসমূহ বাস্তবে পালন করা হয়। শুধুমাত্র চুক্তি সম্পাদনই যথেষ্ট নয়; বরং চুক্তির মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয় তখনই, যখন উভয় পক্ষ তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে।

চুক্তি আইন সম্পর্কিত জ্ঞান সহজভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে চুক্তি আইন (Contract Law) সিরিজ। এই সিরিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো— চুক্তির বাস্তবায়ন।

 

চুক্তির বাস্তবায়ন

 

১. চুক্তির বাস্তবায়ন কী?

চুক্তি পালনের অর্থ হলো, চুক্তির পক্ষসমূহের উপর আরোপিত দায় ও প্রতিশ্রুতিসমূহ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা।

চুক্তি আইনের ধারা ৩৭ অনুসারে:

“The parties to a contract must either perform or offer to perform their respective promises, unless such performance is dispensed with or excused under the provisions of this Act or of any other law.”

অর্থাৎ—
চুক্তির প্রত্যেক পক্ষকে অবশ্যই তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে অথবা পালনের প্রস্তাব দিতে হবে, যদি না কোনো আইনগত বিধান তাদেরকে সেই দায় থেকে অব্যাহতি দেয়।

এই সংজ্ঞা থেকে চুক্তি বাস্তবায়নের দুটি মৌলিক উপাদান পাওয়া যায়—

  1. প্রতিশ্রুতি পালন

  2. প্রতিশ্রুতি পালনের প্রস্তাব

২. চুক্তি পালনের প্রস্তাব (Tender)

চুক্তি পালনের প্রস্তাবকে দাখিল (Tender) বলা হয়।
দাখিল মানে চুক্তি বাস্তবে পালন নয়; বরং চুক্তি পালনের জন্য আন্তরিক ও বৈধ প্রয়াস।

চুক্তি আইনের ধারা ৩৮ অনুসারে, নিম্নোক্ত শর্তসমূহ পূরণ হলে একটি দাখিল আইনসম্মত বলে গণ্য হবে—

(ক) প্রস্তাব অবশ্যই শর্তহীন হতে হবে

যদি প্রস্তাবের সঙ্গে কোনো অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত থাকে, তবে তা চুক্তি পালনের বৈধ প্রস্তাব হিসেবে গণ্য হবে না।

(খ) সঠিক সময় ও সঠিক স্থানে প্রস্তাব

চুক্তিতে নির্ধারিত সময় ও স্থানে দাখিল করতে হবে।
এই বিষয় নির্ধারণে ধারা ৪৬–৫০ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

(গ) যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান

প্রতিশ্রুতি গ্রহীতাকে অবশ্যই যুক্তিসংগত সময় ও সুযোগ দিতে হবে, যেন তিনি প্রস্তাব গ্রহণ বা যাচাই করতে পারেন।

(ঘ) পরীক্ষার সুযোগ

যদি দ্রব্য সরবরাহের বিষয় থাকে, তবে প্রতিশ্রুতি গ্রহীতাকে তা পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে হবে।

৩. কে চুক্তি পালন করবে?

চুক্তি কে পালন করবে—এ বিষয়ে চুক্তি আইনে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

১. ব্যক্তিগতভাবে পালন (ধারা ৪০)

যদি চুক্তি প্রতিশ্রুতিদাতার দক্ষতা, সুনাম, নৈপূণ্য বা রুচি–র সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তবে সেই ব্যক্তি নিজেই চুক্তি পালন করতে বাধ্য।

২. প্রতিনিধি দ্বারা পালন

যেসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দক্ষতা আবশ্যক নয়, সেসব ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিদাতা তার প্রতিনিধি দ্বারা চুক্তি পালন করাতে পারেন।

৩. তৃতীয় পক্ষ দ্বারা পালন

প্রতিশ্রুতি গ্রহীতা যদি তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছ থেকে চুক্তি পালনের বিষয় গ্রহণ করেন, তবে তিনি মূল প্রতিশ্রুতিদাতার বিরুদ্ধে আর দাবি তুলতে পারবেন না।

৪. প্রতিশ্রুতিদাতার মৃত্যু

  • যদি চুক্তি ব্যক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই চুক্তির দায় শেষ হয়।
  • অন্য ক্ষেত্রে, প্রতিশ্রুতিদাতার আইনগত প্রতিনিধি বা উত্তরাধিকারী তার সম্পত্তির সীমার মধ্যে চুক্তি পালনে বাধ্য থাকবেন।

 

৫. যৌথ প্রতিশ্রুতি

যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি যৌথভাবে প্রতিশ্রুতি দেন, তবে তারা যৌথভাবে বা পৃথকভাবে চুক্তি পালনে দায়বদ্ধ থাকবেন।

 

চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত ঃ

 

চুক্তির বাস্তবায়ন চুক্তি আইনের প্রাণভিত্তি। প্রতিশ্রুতি পালনের মাধ্যমেই চুক্তির উদ্দেশ্য পূরণ হয় এবং আইনগত সম্পর্ক কার্যকর রূপ পায়। ধারা ৩৭ থেকে ৪৫ পর্যন্ত বিধানসমূহ চুক্তির বাস্তবায়নের কাঠামো নির্ধারণ করে এবং পক্ষসমূহকে আইনের আলোকে তাদের দায় পালনে পথনির্দেশ দেয়।

আপনি চাইলে আমি পরবর্তী অংশে চুক্তি বাস্তবায়নের অব্যাহতি, অসম্ভবতা, ভঙ্গ ও ক্ষতিপূরণ বিষয়গুলোও সংযোজন করে সম্পূর্ণ অধ্যায় তৈরি করে দিতে পারি।

ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য

ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য নিয়ে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই। সেই ধারণা স্পষ্ট করতে আজকের আয়োজন। খুব সাধারণ ভাবে বললে – যে মামলায় ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিচার চাওয়া হয়, সেটা দেওয়ানী মামলা। আর যেসব অপরাধ কে সাধারণত রাষ্ট্রবিরোধী ধরে নেয়া হয় যার, বা যার সংজ্ঞা দণ্ডবিধিতে অপরাধ হিসেবে দেওয়া আছে, সেসবের বিচার চাইতে হলে ফৌজদারি মামলা করতে হবে।

 

ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য

ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য

 

দেওয়ানী মামলা:

দেওয়ানী মামলার উদাহরণ হল পারিবারিক বিষয়, অফিসিয়াল পদ সংক্রান্ত, চুক্তি সংক্রান্ত ইত্যাদি। অন্যদিকে ফৌজদারি মামলার উদাহরণ হল অপহরণ, চুরি, খুন। দেওয়ানী মামলা ব্যক্তি নিজে করে, ফৌজদারি মামলা দায়ের করে রাষ্ট্র পক্ষ। দেওয়ানী মামলার পক্ষদের নাম হল বাদী-বিবাদী, ফৌজদারি মামলায় বলা হয় রাষ্ট্র পক্ষ বনাম আসামী।

Suits of Civil Nature —মোটামুটিভাবে কোন অধিকার বা দায়বদ্ধতা নিয়ে। চুক্তি বা দলিল দ্বারা, পদ বা অধিকার। বৈধ ঘোষণা। নিষেধাজ্ঞা। নিরোধক প্রতিকার। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার। সরকারি দলিল। রেকর্ড অফ রাইটস। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব।

দেওয়ানী মামলার সচরাচর কারাদণ্ড ৬ মাসের বেশি হয়না। দেওয়ানী মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ করতে হতে পারে ৬০%।

তবে দেওয়ানি মামলায় বাদী বা বিবাদী যদি কোন তথ্য উপাত্ত মিথ্যা/ভুল/ জালিয়াতির মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করেন এবং সেটা যদি আদালত কর্তৃক মিথ্যা/ভুল/জালিয়াতি প্রমাণিত হয়, তখন ঐ মিথ্যা/ভুল/জালিয়াতি একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। যিনি এ অপরাধ করেছেন তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে মামলা করা যাবে। এধরনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবার জন্য আদালতের রায় রয়েছে।

 

দেওয়ানি মামলার ধরন:

দেওয়ানি মামলার অনেক ধরন রয়েছে। আর্থিক ক্ষতিপূরণের মামলা, সব ধরনের স্বত্ব, মানবিক সম্পর্ক (পিতা-পুত্র, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক) নিয়ে বিরোধ, মসজিদ, মন্দির, গীর্জায় প্রার্থনা করার অধিকার, ভোটাধিকার ইত্যাদি।

আর্থিক ক্ষতিপূরনের মামলা:

কোনো ব্যক্তি অন্য কারো দ্বারা শারীরিকভাবে বা অন্য কোনো ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। এ ছাড়া মানহানিকর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেও মামলা দায়ের করা যায়।

সম্পত্তির অধিকারের মামলা:

নিজের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হলে তিনি সম্পত্তির অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ার অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হবে।

স্বত্ব মামলা:

কোনো ব্যক্তি ব্যবসা-বাণিজ্য বা ট্রেড লাইসেন্স এবং বইয়ের স্বত্ব কাউকে দেওয়ার পর যদি ওই ব্যক্তি এসব স্বত্বাধিকার থেকে বঞ্চিত হোন তাহলে তিনি এ অধিকার ফিরে পেতে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।

ভরণপোষণের অধিকার বিষয়ক মামলা:

মা-বাবা বৃদ্ধ হলে ছেলে যদি তাঁদের জন্য কোনো ভরণপোষণ না দেয় তাহলে আদালতে ভরণপোষণ চেয়ে মামলা দায়ের করা যায়। এ ছাড়া স্ত্রীর ভরণপোষণ না দিলে স্ত্রী ভরণপোষণ চেয়ে মামলা দায়ের করতে পারেন।

প্রার্থনার অধিকার মামলা:

কোনো ব্যক্তি মসজিদে নামাজ পড়তে না পারলে এবং মন্দিরে পূজা করতে না পারলে এবং গীর্জায় প্রার্থনা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে সে অধিকার চেয়ে তিনি মামলা দায়ের করতে পারেন।

ভোটাধিকারের মামলা:

দেশের নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়ার অধিকার সবারই রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে তিনি সে অধিকার ফিরে পেতে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। যা দেওয়ানি আদালতের মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।

 

যেসব আদালতে দেওয়ানি মামলায় করা যায়:

দেওয়ানী প্রকৃতির মামলাসমূহ (জায়গা জমি, অর্থসংক্রান্ত, পদের অধিকার সংক্রান্ত) যে আদালতে উপস্থাপন করা হয় তাকে দেওয়ানী আদালত বলা হয়। এই আদালতের বিচারককে জেলা জজ বলা হয়। দেওয়ানী প্রকৃতির মামলা করার জন্য প্রথমেই বিচারকের নিকট পিটিশন দাখিল করতে হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে ও দেওয়ানি মামলা পরিচালিত হয়। তবে নিম্ন আদালতে মামলার রায়ের পর কেবল উচ্চ আদালতে আপিল অথবা রিভিশনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা পরিচালিত হয়।

 

ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলার পার্থক্য

 

 

ফৌজদারী মামলা:

ফৌজদারী অপরাধের ক্ষেত্রে ‘রাষ্ট্র’ সংঘটিত অপরাধটির প্রতিকার/বিচার চায়। এখানে মুল পক্ষ হলো ‘রাষ্ট্র’ বনাম ‘অভিযুক্ত’। যেমন, আপনি হয়তো এমন অনেক ঘটনার কথা শুনে থাকবেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ বলে, “আমরা মামলা করতে চাই না”। এমন অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ এফআইআর দাখিল করে মামলাটির তদন্ত শুরু করে থাকে। সুতরাং, বাদী বা এফআইআর দাখিলকারী পরিবর্তন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। এমন অনেক মামলার নজীর আছে যে, তথাকথিত ‘বাদী’র বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

এমন ক্ষেত্রে প্রসিডিউরটা হলো, তদন্তকারী ‘বাদী যেখানে অভিযুক্ত হিসেবে’ তদন্তকালে স্বাক্ষ্য প্রমান পান, তবে মামলাটি চুড়ান্ত রিপোর্ট (Final Report) দাখিল করেন। একইসাথে, নতুন ‘সংবাদদাতা’ বা ‘বাদী’ নির্বাচন করে নতুন করে FIR দাখিল করে তদন্তকার্য শুরু করেন। আর বাদী যদি অভিযুক্ত না হয়, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ তাকে পরিবর্তন করতে চান; সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কগনিজেন্ট কোর্টে আবেদন দাখিল করবেন। বিজ্ঞ আদালত এক্ষেত্রে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত (Competent Authority).

ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে সেই কারাদণ্ড ৩০ বছর ও হতে পারে। ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হতে হবে সন্দেহাতীতভাবে, অর্থাৎ সাজা দেবার জন্য ১০০% সাক্ষ্য আসামীর বিপক্ষে প্রমাণিত হতে হবে।

ফৌজদারী মামলাতে বাদী হাজিরা না দিলে ওই মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য আইনগত বিধান রয়েছে। ৩ মাস অর্থাৎ ৯০ দিন – যদি বাদী এক তিন মাস ধরে হাজিরা না দেয় তবে মামলা নিষ্পত্তি করা যাবে। ১ বছর – যদি বাদী এক বছর ধরে হাজিরা না দেয় তবেও মামলা নিষ্পত্তি করা যাবে। ৩ বছর – সর্বোচ্চ মামলা তিন বছর ধরে বহাল থাকতে পারে যদি বাদী একটি কারণ দেখায় যে তিনি কোনো কারণে হাজিরা দিতে পারেননি। সুতরাং, ফৌজদারী মামলায় বাদী হাজিরা না দিলে ৯০ দিন থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করা যায়। তবে যতক্ষণ না নিষ্পত্তি হয়, সে মামলা বহাল থাকে।

ফৌজদারি মামলার ধরণ:

ফৌজদারি অপরাধ বলতে সেসব অপরাধ বোঝায় যেগুলো দেশে প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী বিচারযোগ্য এবং শাস্তিযোগ্য। এই অপরাধের বিচার হয় ফৌজদারি আদালত।

অপরাধের আমলযোগ্যতা:

যে অপরাধ সমূহ সংগঠিত হলে পরে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারে, ১৫৪ ধারায় এজাহার রুজুর মাধ্যমে মামলা করতে পারে, ১৫৬ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই তদন্ত পরিচালনা করতে পারে সেই সকল অপরাধ সমূহকে আমলযোগ্য অপরাধ বলে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের ৩য় কলামে আমলযোগ্য অপরাধের তালিকা প্রদত্ত হয়েছে। আমলযোগ্য অপরাধকে সাধারণত জামিন-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জামিন-যোগ্য অপরাধ:

ফৌজদারি কার্যবিধি ৪(খ) ধারায় জামিন-যোগ্য অপরাধের বা “Bailable Offence’ কথা বলা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, ‘জামিন-যোগ্য অপরাধ’ হচ্ছে সে সকল অপরাধ যা ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে জামিন-যোগ্য বলে দেখানো হয়েছে, অথবা যা বর্তমানে বলবত কোন আইন দ্বারা জামিন যোগ্য করা হয়েছে।

 

মামলা গ্রহণে আদালত ও থানার এখতিয়ার:

আদালতের দুই ধরনের মামলা ও মোকদ্দমা গ্রহণের এখতিয়ার আছে। আরজি ও পিটিশন অফ কম্পলেইন্ট। থানা দেওয়ানী মোকদ্দমা দূরের কথা, সালিসি কার্যক্রমও করতে পারে না। এজাহার আর এফআইআর ছাড়া। আর তদন্ত কার্যক্রমে মুচলেকা দিয়ে অভিযুক্তদের মুক্তি দিতে পারে অপর্যাপ্ত সাক্ষের উপস্থিতিতে।

অপরাধ সম্পর্কিত মামলাসমূহ যে আদালতে উপস্থাপন করা হয় তাকে আমরা ফৌজদারি আদালত ক্রিমিনাল কোর্ট বলে থাকি। আর এই আদালতের বিচারকে দায়রা জজ নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করার পরে প্রথমে তাদের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

জেলা জজ আদালতের এখতিয়ার:

জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলা পরিচালিত হয়। এ আদালতে দেওয়ানি মামলা পরিচালিত হলে তাকে দেওয়ানি আদালত এবং ফৌজদারি মামলা পরিচালিত হলে তাকে ফৌজদারি আদালত বলে। সাধারণত এক লাখ টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যমানের মামলার আপিল জেলা জজ আদালতে দায়ের করতে হয়। জেলা জজ আদালত তাঁর নিম্ন আদালতের মোকদ্দমা স্থানান্তর সম্পর্কিত দরখাস্ত, রিভিশন শুনানি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করতে পারেন। পারিবারিক আদালতের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আপিল গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করে থাকেন।

অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত:

অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের বিচারিক ক্ষমতা জেলা জজের সমান। তবে কোনো মোকদ্দমা বা আপিল এ আদালতে সরাসরি দায়ের করা যায় না। জেলা জজ আদালতে দাখিল করলে জেলা জজ আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য এ আদালতে প্রেরণ করেন। অতিরিক্ত জেলা জজের কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই।

যুগ্ম জেলা জজ আদালত:

প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক যুগ্ম জেলা জজ থাকেন। তিনি দেওয়ানি মোকদ্দমার সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিচারক। এ আদালত চার লাখ এক টাকা থেকে অসীম মূল্যমানের বিষয় বস্তুর মূল মোকদ্দমা গ্রহণ ও বিচার নিষ্পত্তি করতে পারেন।

সিনিয়র সহকারী জজ আদালত:

দেশের প্রতিটি জেলায় এক বা একাধিক সিনিয়র সহকারী জজ আদালত রয়েছে। সম্পত্তি, অফিস, ব্যক্তিগত অপকার, ক্ষতিপূরণ ও ধর্মীয় অধিকারসংক্রান্ত যাবতীয় মোকদ্দমা সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ আদালতে দায়ের করা হয়। এ আদালত দুই লাখ এক টাকা থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের মূল মোকদ্দমা গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করতে পারেন।

সহকারী জজ আদালত:

এ আদালতে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা মূল্যমানের বিষয় বস্তুর ওপর মামলা দায়ের করা যায়। এ আদালতের নিজস্ব কোনো আপিল এখতিয়ার নেই। সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব ঘোষণা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চুক্তি কার্যকর, দলিল, চুক্তিপত্র, লিখিত অঙ্গীকারপত্র ইত্যাদি রদ ও রহিত, যেকোনো কর্তৃপক্ষের অবৈধ আদেশ রদ ও রহিত, দখল পাওয়া, সম্পত্তি বা অফিস সংক্রান্ত কোনো অধিকার সম্পর্কে ঘোষণা পাওয়া, টাকা আদায়, সম্পত্তি অগ্রক্রয়, নির্বাচন সংক্রান্ত মোকদ্দমা দায়ের করা যায়।

 

ফৌজদারি মামলা দায়ের:

বর্তমান বলবৎযোগ্য ফৌজদারি কার্যবিধি তে বলা আছে কোন ধারার মামলা আমলযোগ্য কোন ধারার মামলা আমলযোগ্য নয়। আমলযোগ্য মামলার ক্ষেত্রে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে অফিসার ইনচার্জ সেই অভিযোগ টি এজাহার হিসেবে গণ্য করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে প্রেরণ করবে আর আমল যোগ্য মামলায় পুলিশ আপনাকে মামলা দায়ের এর সাথে সাথে গ্রেফতার করতে পারবে আর আমল অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে থানা আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মামলা দায়ের করতে পারবে। আপনার নামে মামলা হতে পারে ২ ভাবে প্রথমত থানায় সরাসরি এজাহার দায়ের এর মাধ্যমে দ্বিতীয়ত আদালতে আর্জি দাখিলের মাধ্যমে।

থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আপনাকে গ্রেফতার করতে পারে বা গ্রেফতার না করেও আপনার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করতে পারে এর পর আদালত আপনার নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু করবে। এছাড়াও আদালতে মামলা দায়ের হলে আদালত আপনাকে সমনের মাধ্যমে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারে বা ওয়ারেন্ট বলে আটক করার জন্য নির্দেশ দিতে পারে। এখন এমন কোনও সম্ভাবনা তৈরি হয় যে আপনার নামে মামলা হতে পারে তাহলে আপনি সংশ্লিষ্ট থানায় এবং সংশ্লিষ্ট আমলী আদালতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারবেন মামলা হয়েছে কি না।

থানায় অভিযোগ দায়ের করলেই মামলা হয়ে যায় না। যদি তা এজাহার হিসেবে গণ্য করে মামলা দায়ের করা না হয়। আর অভিযোগ প্রত্যাহার করার কোনও সুযোগ নেই। যদি থানার ওসি বিষয় টি নিয়ে সন্দেহ আছে মনে করেন তাহলে একজন এস আই কে উক্ত বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। যদি অপরাধ টি আমলযোগ্য হয় তাহলে এজাহার দায়ের হবে , আমল অযোগ্য হলে আদালতে অনুমতি নিয়ে মামলা দায়ের হবে যদি মিথ্যা হয় তাহলে আর কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। আর মামলা দায়ের হয়ে গেলে ফৌজদারি কার্যবিধি র দ্বিতীয় তফসিলে উল্লেখ আছে কোন টি আপোষ যোগ্য কোনটি আপোষ যোগ্য নয় কোনটি আদালতে অনুমতি সাপেক্ষে আপোষ যোগ্য সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

 

ফৌজদারি মামলার ধাপ:

১. থানায় এজাহার এর মাধ্যমে অথবা ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট নালিশ দায়ের মাধ্যমে।

২. জি আর মামলা / সি আর মামলা।

৩. ওয়ারেন্ট, আসামী জামিন প্রাপ্ত অথবা জেলে হাজতে প্রেরণ।

৪. পুলিশ কর্তৃক চার্জশীট দাখিল অথবা ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল

৫. আদালত কর্তৃক আসামীদের বিরুদ্ধে মামলার চার্জ ঘটন অথবা আসামীদের অব্যাহতি।

৬. বাদী পক্ষে সাক্ষীর জবান বন্দি। আসামী কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা।

৭. যুক্তিতর্ক

৮. রায়

৯. রায়ের বিরুদ্ধে আপীল অথবা রিভিশন।

১০. উচ্চ আদালতে আপীল অথবা রিভিশন মুঞ্জর অথবা না মুঞ্জর।

 

 

অন্যান্য মামলা:

সাধারণত যেকোনো বিষয়ে হোক সেটা দেওয়ানী অথবা ফৌজদারি মামলা হাইকোর্টের অধীনস্থ দেওয়ানী/ফৌজদারি আদালতে করা হয় শুধু মাত্র কিছু মামলা আছে যেগুলোতে সরাসরি হাইকোর্টে যেতে হয়। যেমন, কোম্পানি সংক্রান্ত মামলা, খ্রিস্টান বিবাহ সংক্রান্ত মামলা, কপি রাইট মামলা, এডমিরালটি বা সমুদ্রগামী জাহাজ সংক্রান্ত মামলা।

 

রিট মামলা:

রিট সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে যেকোনো নাগরিক রিট আবেদন করতে পারেন। রিটের বিষয়টি মামলার মত হলেও মৌলিক একটি পার্থক্য আছে। আমরা মামলা করি প্রচলিত আইনের অধীনে হাইকোর্টের অধীনস্থ কোর্টে কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোন আইনের অধীনে উক্ত সমস্যার কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর অন্যায় করা হচ্ছে। তখন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ জনস্বার্থে এর প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করতে পারে যাকে রিট বলা হয়। বিষয়টি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।

আবার কেউ যদি মনে করেন সরকারের প্রণীত কোন আইন প্রচলিত অন্য আইনের পরিপন্থী বা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক, সে ক্ষেত্রেও আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করা যায়।যিনি মামলা করার যোগ্যতা রাখেন তিনি রিট ও করতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে বিষয়ে রিট করতে চান সে বিষয়ের প্রতিকার সরাসরি অন্য আইনে উল্লেখ নেই।

উল্লেখ্য, কিছু কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে রিট এবং সাধারণ মামলা দু’টিই করা চলে। রিটে খরচ কিছুটা বেশি হলেও সাধারণত দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।

উকিল নোটিশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

উকিল নোটিশ (Legal Notice) এক ধরনের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি। কোনো ব্যক্তি দ্বারা মৌখিক, লেখালেখি বা আর্থিক অথবা অন্য যেযকোন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেবার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সংক্ষুব্ধ ব্যাক্তি উকিল নোটিশ (Legal Notice) দিতে পারেন। কারো বিরুদ্ধে মামলা করার আগে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে এ নোটিশ দিতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব না এলে, বা জবাব সন্তুষ্টিজনক না হলে মামলা দায়ের করতে হয়।

 

উকিল নোটিশ

উকিল নোটিশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

 

Notice শব্দের অর্থ সতর্কীকরণ এবং সংবাদজ্ঞাপন। তাহলে, সাধারণত উকিল নোটিশ (Legal Notice) বলতে বোঝায়, যখন নোটিশ-দাতা একজন বিজ্ঞ উকিল বা আইনজীবীর মাধ্যমে কোন নোটিশ গ্রহীতাকে অর্থাৎ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোন অভিযোগ জানায়, বা, দায়িত্ব পালনের জন্য আহবান জানায়, বা, কোন অধিকার খর্ব হয়েছে কিংবা হবার উপক্রম হয়েছে সেটা জানায়, এবং সেটা করতে ব্যর্থ হলে তর্কিত বিষয় নিয়ে মোকদ্দমা দাখিল করার আগাম বার্তাও জানায়। উকিল নোটিশকে Legal Notice, এডভোকেট নোটিশ, আইনী নোটিশ ও আইনী বিজ্ঞপ্তি-ও বলা হয়।

মনে রাখবেন উকিল নোটিশ বা Legal Notice কোন মামলা নয়। উকিল নোটিশ (Legal Notice)-কে মামলা বা কোন আইনী প্রক্রিয়ার পূর্ব পদক্ষেপ বলা যেতে পারে।

উকিল নোটিশ কি ?

কতিপয় মামলার কার্যক্রম শুরুর আগে প্রতিপক্ষকে উকিল নোটিশ দিতে হয়। সাধারণত মামলার বাদীপক্ষ নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে এই নোটিশ প্রেরণ করে। আপনি যার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেছেন সে ব্যক্তি যদি লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখিত বিষয়বস্তুর সমাধান উল্লেখিত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে না করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোন আইনে এবং কোন ধারায় মামলা করা হবে, সবকিছু সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে৷

লিগ্যাল নোটিশ বা উকিল নোটিশ হলো কোন সংস্থা বা ব্যাক্তিকে এমন কোন বিষয়ে আইনগত ভাবে আইনজীবীর মাধ্যমে অবহিত করা যা পালন না করলে নোটিশদাতা নোটিশ গ্রহিতার বিরূদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মর্মে ঘোষনা দেন। এই রূপ লিগ্যাল নোটিশ মূলত কারো বিরূদ্ধে কোন আইনী পদক্ষেপ গ্রহনের চুড়ান্ত সংকেত। এবং এর উদ্দেশ্য হলো নোটিশ গ্রহিতাকে নোটিশে উল্লিখিত বিষয় সর্ম্পকে অবহিত করা। এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে উৎসাহিত করা

উকিল নোটিশের সময়:

উকিল নোটিশে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে বলা হয়, নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোটিশে কত দিন সময় দিতে হবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে সরকার প্রতিপক্ষ হলে এক মাস সময় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অন্যদের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা থেকে এক মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এর পর সরকারি ডাকযোগে প্রতিপক্ষকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা বরাবর পাঠাতে হয়।

সবসময় মনে রাখবেন আপনি যে বিষয়ে বিরোধ উত্থাপন করছেন এবং ওই বিরোধের প্রতিকার যে আইনের অধীনে দাবি করছেন বা যে আইনে মামলা করবেন বলে ভাবছেন, সে আইনে যদি নির্দিষ্টভাবে বলা থাকে লিগ্যাল নোটিশে কতদিন সময়সীমা প্রদান করতে হবে? তাহলে আইনে উল্লেখিত ওই নির্দিষ্ট সময় অবশ্যই দিতে হবে প্রতিপক্ষকে৷

ধরুন – আপনি যদি চেক ডিজঅনারের মামলা করতে চান, তাহলে নেগোসিয়েটেবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট অনুযায়ী আপনাকে অবশ্যই মামলা করার আগে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাতে হবে এবং লিগ্যাল নোটিশে প্রতিপক্ষকে বা যার বিরুদ্ধে মামলা করতে চান তাকে ৩০ দিন সময় প্রদান করতে হবে৷ লিগ্যাল নোটিশে এই সময় প্রদানের মাধ্যমে যার বিরুদ্ধে মামলা করতে চান তাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে, যাতে সে লিগ্যাল নোটিশের উল্লেখিত বিরোধের নিষ্পত্তি করতে পারে৷ আর যদি সে এই ৩০ দিনের মধ্যে টাকা প্রদান না করে বা বিরোধটি নিষ্পত্তি না করে, তাহলে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আপনি মামলা করতে পারবেন৷

 

 

উকিল নোটিশ (Legal Notice) কাকে দেওয়া যায়:

Legal Notice যে কোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া যায়। এখানে কোন সীমাবদ্ধতা রাখা হয় নি। এর একটি উদাহরণ দিচ্ছি। বিগত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে গ্রামীণফোনের অধিকাংশ শেয়ারের মালিক টেলিনর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বরাবর লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করে।

 

উকিল নোটিশ (Legal Notice) দিতে কত টাকা লাগে:

Legal Notice লিখতে কত লাগবে সেটা নির্ভর করবে বিজ্ঞ আইনজীবীর ওপর। সাধারণত ঘটনার জটিলতা, গুরুত্ব ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে একজন বিজ্ঞ আইনজীবী তার ফি নির্ধারণ করেন।

 

উকিল নোটিশ (Legal Notice) দেবার জন্য কি লাগে:

উকিল নোটিশ দিতে হলে নিম্নোক্ত তথ্য সংগ্রহ করুন –

  • আপনার পূর্ণ নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা
  • যার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাবেন তার পূর্ণ নাম, বাবার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর
  • ঘটনার পূর্ণ বিবরণ
  • ঘটনার সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

এই তথ্যগুলো নিয়ে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন। তার সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

উকিল নোটিশ পেলে করণীয়:

আপনার নামে কেউ উকিল নোটিশ পাঠালে আপনার তাৎক্ষণাত করণীয় হচ্ছে সে নোটিশের জবাব দেয়া। কেননা, নোটিশের জবাব না দিলে পরবর্তীতে মামলার বিচারকালে অনুমান সৃষ্টি হয় যে আপনি নোটিশের বিষয় স্বীকার করে নিয়েছে। আমাদের কাছে ওয়েব সাইট এবং ফেইসবুকে মাধ্যমে আসা বিভিন্ন কাজের মধ্যে উকিল নোটিশ এর কাজ সবচেয়ে বেশী পরিমানে আসে।

 

উকিল নোটিশের পরে মামলা দায়ের:

উকিল নোটিশ পাঠানোর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উকিল নোটিশের সঠিক জবাব বা প্রতিকার না পেলে নোটিশ প্রেরণকারী আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে মামলা করতে পারবেন। নোটিশে উল্লেখ করা সুনির্দিষ্ট মেয়াদের আগে মামলা করা যায় না।

উকিল নোটিশ ও মামলার জন্য আইনজীবী:

দক্ষ আইনজীবীকে দিয়ে উকিল নোটিশ দেয়া উচিৎ। উকিল নোটিশ প্রেরণের ক্ষেত্রে আইনজীবীকে ফি দিতে হয়। অধিকাংশ আইনজীবী দায়মুক্তির জন্য উকিল নোটিশ দেওয়ার আগে ওকালতনামায় স্বাক্ষর নেন। তবে উকিল নোটিশের সঙ্গে আদালতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলা পরিচালনার জন্য যেকোনো আইনজীবীর কাছেই যাওয়া যেতে পারে।আইনজীবীরা বিভিন্ন ধরনের মামলা পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করেন। কাজেই কোন আইনজীবী কোন বিষয়ে দক্ষ, সেটি জেনে আইনজীবী বাছাই করা ভালো।

মামলার খরচ

মামলায় খরচ হয় সাধারণত দুই ভাবে। একটি আইনজীবীর ফি বাবদ, অন্যটি দাপ্তরিক খরচ বাবদ। আইনজীবীর ফির অঙ্ক নির্দিষ্ট নয়। বিভিন্ন আইনজীবী নানা ধরনের মামলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অঙ্কের ফি নেন। স্বাভাবিকভাবেই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের ফির অঙ্কটা বেশি হয়। মামলার ধরণ বুঝে দাপ্তরিক খরচ নির্ধারিত হয়।

মামলা শুরু করা

এ কাজটি আইনজীবী বা তার সহকারী করে থাকেন। কোর্ট অফিসে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করলে সেখানে একটি নম্বর দেওয়া হয়। এর পর কোর্টের একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করাতে হয়। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর কার্যতালিকা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে শুনানি সম্পন্ন করা হয়। মামলার একাধিক দিন শুনানি হতে পারে। প্রতিপক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সময় দেওয়া হতে পারে। তবে এর মাঝে বেঞ্চ ভেঙে দেওয়া হলে পুনরায় অন্য একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এ কার্যতালিকাকে কজলিস্ট বলা হয়।

 

উকিল নোটিশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

 

উকিল নেটিশ বা লিগ্যাল নোটিশ লেখার নমুনা ১-

“আইনগত বিজ্ঞপ্তি”
প্রাপকঃ মোঃ নুরুল আলম
পিতা-মোঃ মাহফুজ আলম
গ্রামঃ দরবারপুর, দিনাজপুর

প্রেরকঃ মোঃ মোখলেসুর রহমান
পিতাঃ সামসুর রহমান
গ্রামঃ মিঠাপুকুর, দিনাজপুর

এর পক্ষেঃ
মোঃ গোলাম মোস্তফা ফারুকী
এডভোকেট
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, দিনাজপুর

জনাব,
আমার মক্কেল যিনি নোটিশ দিচ্ছেন তার অনুরোধে আমি দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে আপনার অবগতির জন্যে জানাচ্ছি যে,আপনি আমার মক্কেলের নিকট দিনাজপুরের বাড়ববাজার সংলগ্ন এলাকায় ৫০,০০,০০০ টাকার বিনিময়ে ৩০ শতক জমি বিক্রয় করিতে ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছেন। এরই ধারাবাহিকতায়, আপনি চুক্তিবদ্ধ টাকার ২০% অগ্রীম হিসেবে দাবী করেছিলেন এবং আমার মক্কেল জমির রেজিস্ট্রেশনের সময় আপনাকে সেই টাকা দিয়ে দেয় এবং বাকি টাকা দেয়ার জন্য কয়েকসপ্তাহ সময় চেয়ে নেয়। কিন্তু এর তিনদিন পরেই কাগজপত্রের জালিয়াতিসহ জমির বিষয়ে নানান ধরনের জটিলতা শুরু হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় আপনার আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার করার নিমিত্তে আমি আমার মক্কেলের তরফ হইতে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করছি। উক্ত বিষয়ে আপনি যদি ১০ কর্মদিবসের মধ্যে টাকা ফেরত দেয়া সংক্রান্ত কোন পদক্ষেপ এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন, তবে আপনার বিরুদ্ধে এন. আই এক্টের ১৩৮ ধারা মোতাবেগ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে আমার মক্কেল বাধ্য হবেন।

বিঃদ্রঃ ভবিষ্যৎ কার্যার্থে লিগ্যাল নোটিশটির এক কপি আমার নিকট সংরক্ষিত থাকবে।

ধন্যবাদান্তে-
মোঃ…………
এডভোকেট
মোঃ গোলাম মোস্তফা ফারুকী
জেলা ও দায়রা জজ,দিনাজপুর

 

উকিল নেটিশ বা লিগ্যাল নোটিশ লেখার নমুনা ২-

হইতে,
মোঃ ক
এডভোকেট
গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন
হল রুম নং -৬
জর্জ কোট,গাজীপুর।

প্রেরক
মোঃ আতর আলী , পিতা- রুস্তম আলী, মাতা মোসাঃ হোসনা আক্তার,স্থায়ী ঠিকানা-গ্রাম- রহমতগঞ্জ, ডাকঘর-উস্থি, থানা-গফরগাঁও,জেলা- গাজীপুর, বর্তমান ঠিাকানা-উত্তর ছায়াবিথী, জয়দেবপুর, গাজীপুর। ———— লিগ্যাল নোটিশ দাতা।

প্রাপক,
মোসাঃ কল্পনা বেগম, পিতা- হোসেন, মাতা- নূরআক্তার, সাং- লাখোঘাট, ডাকঘর- ভাঙ্গাটিয়া, থানা- হোসেনপুর, জেলা- কিশোরগঞ্জ। ———— লিগ্যাল নোটিশ গ্রহিত্রী।

বিষয়ঃ স্ত্রীকে স্বামী গৃহে ফিরে আশার জন্য লিগ্যাল নোটিশ্।

জনাব,
আমি আমার উপরোক্ত মোয়াক্কেল মোঃ মোশারফ হোসেন কর্তৃক আদৃষ্ট ও ক্ষমতা প্রাপ্ত হইয়া মোসাঃ কল্পনা বেগম আপনাকে এই মর্মে অভিহিত করিতেছি যে,
১। যেহেতু আমার মোয়াক্কেলের সাথে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আপনার সহিত বিবাহ হয় বটে। বিবাহের পর হইতে আপনি নোটিশ গ্রহিত্রী নোটিশ দাতার সংসারে সুখে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করিয়া আসিতেছেন এবং আমার মোয়াক্কেল ও আপনার সংসারে দুইজন পুত্র সন্তান রয়েছে। বিগত ১৫/০২/২০১৫ তারিখে আমার মোয়াক্কেল কাজের প্রয়োজনে ঘরের বাহিরে গেলে এবং তার পুত্র স্কুলে চলিয়া গেলে আপনার বাপের বাড়ীর লোকজনের কু পরামর্শ মতে আপনি এই সুযোগে আমার মোয়াক্কেলের ঘরে রাখা নগদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণে চেইন,একটি আঙটি ও প্রয়োজনীয় মালামাল সহ মোয়াক্কেলের কোলের সন্তানকে রাখিয়া আপনার বাপের বাড়ী আসিয়া পড়েন।

আপনার সহিত আমার মোয়াক্কেলের কোন ঝগড়া বিবাদ, মারা মারি ও কথা কাটা কাটি পর্যন্ত হয় নাই। পরবর্তীতে আমার মোয়াক্কেল আপনার পরিবারের লোকজনকে ও আপনি নোটিশ গ্রহীতাকে আমার মোয়াক্কেলের সাথে জঘন্য খারাপ ব্যহার করেন এবং উপরোল্লেখিত টাকা ও সোনা গহনা দাবী করলে আমার ও আমার সন্তানের জানের ক্ষতি করবেন বলে হুমকি দেন।

২। যেহেত আপনি আমার মোয়াক্কেলেল বিবাহিতা স্ত্রী বটে। মুসলিম শরিয়াতের বিধান মোতাবেক প্রত্যেক স্ত্রী তাহার স্বামীর নির্দেশে পরিচালিত হইবেন এবং তাহার আদেশ নির্দেশ পরিচালিত হইবেন এবং তাহার আদেশ নির্দেশ মানিয়া মুসলিম শরিয়াতের বিধান মোতাবেক জীবন যাপন করিবেন ইহাই কাম্য। কিন্তÍ আপনি আমার মোয়াক্কেলের কোন কথারই কর্ণপাত করিতেছেনা। তাহার কথাকে অমান্য করিয়া তাহাকে স্বামীর অধিকার হইতে বঞ্চিত করিয়া নিজের ইচ্ছায় চলাফেরা করিতেছেন।

৩। অত্র নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে স্বামী গৃহে ফিরিয়া আসিবেন অন্যথায় নোটিশ দাতা আপনার বিরদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হইবেন। এরূপ ক্ষেত্রে সকল পরিনতি জন্য আপনি নিজেই দায়ী থাকিবেন।

(বিঃদ্রঃ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহনের জন্য অত্র নোটিশের ১ কপি আমার সেরেস্তায় জমা রহিল)।

ধন্যবাদান্তে

মোঃ ক
এডভোকেট
গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন
হল রোম নং -১২,জর্জ কোট,গাজীপুর।

খসড়া টেমপ্লেট: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৮ আদেশের অধীনে লিখিত জবাব (Jawab)

নিচে বাংলাদেশের অধস্তন দেওয়ানি আদালতসমূহে ব্যবহারের উপযোগী লিখিত জবাব (Written Statement)-এর পূর্ণাঙ্গ বাংলা খসড়া টেমপ্লেট প্রদান করা হলো।

আইনগত চেকলিস্ট

১. দাখিলের সময়সীমা: দেওয়ানি কার্যবিধির ৮ আদেশের ১ নিয়ম অনুযায়ী, সমন জারির তারিখ হতে ২ মাসের (৬০ দিন) মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে হয়। আদালতের অনুমতিক্রমে উপযুক্ত কারণ দর্শানো সাপেক্ষে তা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে।

২. সুনির্দিষ্ট অস্বীকার (Specific Denial): ৮ আদেশের ৩ ও ৫ নিয়ম অনুযায়ী, আরজির প্রতিটি তথ্যাগত দাবি সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করতে হয়। অস্পষ্ট বা সাধারণ অস্বীকারকে স্বীকারোক্তি হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।

৩. নতুন আইনি আপত্তি উত্থাপন: ৮ আদেশের ২ নিয়ম অনুসারে, মামলাটির আইনি বাধা (যেমন: তামাদি, রেস জুডিকাটা, মোকদ্দমার কারণের অভাব, পক্ষদোষ) লিখিত জবাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

লিখিত জবাবের খসড়া টেমপ্লেট

বিজ্ঞ [আদালতের নাম, যেমন: ১ম যুগ্ম জেলা জজ / সহকারী জজ] আদালত, [জেলা]

অন্য / স্বত্ব / বন্টন দেওয়ানি মোকদ্দমা নং: ________ / ২০____ ইং

মামলার পক্ষগণ:

[বাদীর নাম]

…… বাদী

—বনাম—

[বিবাদীর নাম]

…… বিবাদী

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৮ আদেশের ১ নিয়মের বিধানমতে [১/২/৩ নং] বিবাদী কর্তৃক দাখিলকৃত লিখিত জবাব।

সম্মানপূর্বক বিনীত আরজি এই যে:

১. প্রাথমিক আপত্তি (PRELIMINARY OBJECTIONS):

ক) বাদীর মোকদ্দমাটি বর্তমান আকার ও প্রার্থনায় বিদ্যমান আইনি বিধান অনুসারে আইনত রক্ষণীয় নয় (Not Maintainable)।

খ) বাদীর আরজিতে [১ নং] বিবাদীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমার কোনো বৈধ কারণ (No Cause of Action) প্রকাশ পায়নি; সুতরাং আরজিটি দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ আদেশের ১১ নিয়ম অনুযায়ী খারিজযোগ্য।

গ) মোকদ্দমাটি তামাদি আইন, ১৯০৮ (Limitation Act, 1908)-এর বিধান দ্বারা বারিত/বর্জিত।

ঘ) মোকদ্দমাটি প্রয়োজনীয় পক্ষ অন্তর্ভুক্ত না করা এবং অপ্রয়োজনীয় পক্ষ যুক্ত করার কারণে পক্ষদোষে (Misjoinder & Non-Joinder of Necessary Parties) দুষ্ট।

ঙ) মোকদ্দমাটি দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারার (Res Judicata) নীতি অনুযায়ী পূর্ব-সংক্রান্ত আদেশের দ্বারা বারিত।

চ) বাদীর মোকদ্দমার সঠিক মূল্যমান নির্ধারিত হয়নি এবং কোর্ট ফি অপর্যাপ্ত।

২. আরজির অনুচ্ছেদওয়ারী জবাব (PARAGRAPH-BY-PARAGRAPH DENIAL):

১. আরজির ১ নম্বর অনুচ্ছেদের বক্তব্য যে পর্যন্ত আদালতের এখতিয়ার ও পক্ষগণের নাম-ঠিকানার সাথে সম্পর্কিত, তা আনুষ্ঠানিক। তা ব্যতীত অপরাপর সকল দাবি বা বক্তব্য অসত্য ও ভিত্তিহীন বিধায় অত্র বিবাদী তা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করছে।

২. আরজির ২ নম্বর অনুচ্ছেদের বক্তব্য বিবাদী কর্তৃক কঠোরভাবে অস্বীকার করা হলো। বাদী কর্তৃক উত্থাপিত দাবি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। [নির্দিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে তা অস্বীকারের ভিত্তি সংক্ষেপে উল্লেখ করুন]।

৩. আরজির ৩ নম্বর অনুচ্ছেদের সত্যতা বিবাদী সর্বাংশে অস্বীকার করছে। বাদী প্রকৃত ঘটনা বিকৃত করে উপস্থাপন করেছেন।

৪. আরজির ৪ ও ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের দাবিকৃত ঘটনা বা লেনদেনের বক্তব্য সর্বাংশ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বেআইনি। বাদী যে দলিলের ওপর ভিত্তি করে দাবি উত্থাপন করেছেন তা ভুয়া, জাল এবং আইনের দৃষ্টিতে কার্যকর নয়।

৩. বিবাদীপক্ষের নিজস্ব ঘটনা ও বক্তব্য (STATEMENT OF DEFENSE):

ক) নালিশী সম্পত্তি/বিষয়বস্তু সংক্রান্ত প্রকৃত ঘটনা হলো এই যে, [বিবাদীপক্ষের নিজস্ব স্বত্ব, বৈধ মালিকানা ও নিরবচ্ছিন্ন দখলের বিবরণ ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করুন]।

খ) [১ নং] বিবাদী [তারিখ/বছর] হতে নালিশী সম্পত্তিতে বৈধ মালিক ও স্বত্বাধিকারী হিসেবে নিজস্ব স্বত্বে ও নিরবচ্ছিন্ন দখলে অবস্থান করছেন।

গ) বাদী সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে এবং বিবাদীকে হয়রানি করার জন্য নালিশী সম্পত্তির মালিকানার ওপর মিথ্যা দাবি তুলে অত্র ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক মামলাটি দায়ের করেছেন।

প্রার্থনা

অতএব, বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, মহামান্য আদালত মেহেরবানি করে:

ক) দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৩৫এ ধারা অনুযায়ী [১ নং] বিবাদীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণমূলক খরচ (Compensatory Costs) প্রদানপূর্বক বাদীর আনীত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মোকদ্দমাটি খারিজ (Dismiss) করার আদেশ দান করবেন;

খ) বিবাদীপক্ষের অনুকূলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে অন্য যে আদেশ বা আদেশসমূহ উপযুক্ত মনে করেন তা প্রদান করতে মর্জি হয়।

এবং এই দয়াপূর্ণ কাজের জন্য [১ নং] বিবাদী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

সত্যপাঠ (VERIFICATION)

আমি, [বিবাদীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], বয়স: প্রায় [বয়স] বছর, ধর্ম: [ধর্ম], পেশা: [পেশা], সাং: [ঠিকানা], সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষণা করছি যে:

অত্র লিখিত জবাবের ১ থেকে ৩ অনুচ্ছেদের যাবতীয় বক্তব্য আমার জ্ঞান, বিশ্বাস ও নথিপত্র অনুযায়ী সত্য ও সঠিক। আজ [তারিখ] দিন, [মাস], ২০____ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত প্রাঙ্গণে, [জেলা]-এ আমি এই সত্যপাঠে নিজ স্বাক্ষর প্রদান করলাম।

[১ নং] বিবাদীর স্বাক্ষর

হলফনামা (AFFIDAVIT)

বিজ্ঞ [আদালতের নাম] আদালত, [জেলা]

দেওয়ানি মোকদ্দমা নং: ________ / ২০____ ইং

আমি, [হলফকারীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], বয়স: প্রায় [বয়স] বছর, ধর্ম: [ধর্ম], পেশা: [পেশা], সাং: [ঠিকানা], জাতীয় পরিচয়পত্র নং: [এনআইডি নম্বর], সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষণা করছি যে:

১. আমি অত্র মামলার [১ নং] বিবাদী এবং মামলার ঘটনা ও পারিপার্শ্বিকতার সাথে পূর্ণ পরিচিত।

২. অত্র লিখিত জবাবের বক্তব্যসমূহ আমার জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে সত্য ও সঠিক।

আজ [তারিখ] দিন, [মাস], ২০____ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত প্রাঙ্গণে আমি এই সত্যপাঠে নিজ স্বাক্ষর প্রদান করলাম।

হলফকারীর স্বাক্ষর

বিবাদী আমার দ্বারা শনাক্তকৃত।

অ্যাডভোকেট

খসড়া টেমপ্লেট: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৫৬১এ ধারার অধীনে কোয়াশমেন্ট (বাতিলকরণ) আবেদন এবং ৪৩৯ ধারার অধীনে ফৌজদারি রিভিশন পিটিশন

নিচে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরযোগ্য ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল/কোয়াশমেন্ট (ধারা ৫৬১এ) এবং ফৌজদারি রিভিশন (ধারা ৪৩৯)-এর জন্য ব্যবহারের উপযোগী পূর্ণাঙ্গ খসড়া টেমপ্লেট প্রদান করা হলো, যা law.gurukul.edu.bd-এ প্রকাশের জন্য তৈরি।

আইনি পর্যালোচনা ও চেকলিস্ট

১. ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারা (রদকরণ বা কোয়াশমেন্টের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা):

  • আদালত: এটি বিশেষভাবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা হয়।
  • ভিত্তি: আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধ করা অথবা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (যেমন: দেওয়ানি বিরোধকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফৌজদারি মামলায় রূপান্তর করা, এফআইআর বা চার্জশিটে প্রথম দর্শনে কোনো অপরাধের উপাদান না থাকা, কিংবা আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা)।
  • পর্যায়: এফআইআর দায়ের, অভিযোগ গঠন (Charge Framing) বা সি.আর. নালিশী আবেদন দায়েরের পরপরই এই দরখাস্ত দায়ের করা যায়।

২. ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ ধারার সহিত পঠিতব্য ৪৩৯ ধারা (ফৌজদারি রিভিশন):

  • আদালত: হাইকোর্ট বিভাগ (অথবা অধস্তন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে ৪৩৯এ ধারা অনুযায়ী দায়রা জজ আদালত)।
  • ভিত্তি: অধস্তন ফৌজদারি আদালতের যেকোনো আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশের বৈধতা, সঠিকতা বা যৌক্তিকতা পরীক্ষা করা।
  • সময়সীমা: সাধারণত সংক্ষুব্ধ আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হয়।

টেমপ্লেট ১: ধারা ৫৬১এ-এর অধীনে কোয়াশমেন্ট/বাতিলের দরখাস্ত

মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ

হাইকোর্ট বিভাগ

(ফৌজদারি বিবিধ এখতিয়ার)

ফৌজদারি বিবিধ মামলা নং ________ / ২০____ ইং

বিষয়:

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৫৬১এ ধারার অধীনে অত্র মামলার যাবতীয় কার্যক্রম বাতিল/রদকরণের আবেদন।

এবং

মামলার পক্ষগণ:

[পিটিশনার/আসামির পূর্ণ নাম]

পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]

ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা]

…… পিটিশনার / আবেদনকারী (অধস্তন আদালতের আসামি)

—বনাম—

১. রাষ্ট্র, পক্ষে: ডেপুটি কমিশনার, [জেলার নাম]।

…… ১ নং রেসপনডেন্ট / বিপরীত পক্ষ

২. [নালিশকারী/সংবাদদাতার পূর্ণ নাম]

পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]

ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ঠিকানা]

…… ২ নং রেসপনডেন্ট / নালিশকারী

প্রাপক:

মহামান্য বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর অন্যান্য সঙ্গী মহামান্য বিচারপতিগণের প্রতি সদয় অবগতির জন্য—

আবেদনকারীর পক্ষে বিনীত নিবেদন এই যে—

যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক জানানো যাচ্ছে যে:

১. আবেদনকারী বাংলাদেশের একজন স্থায়ী বাসিন্দা ও আইনমান্যকারী নাগরিক। বিজ্ঞ [অধস্তন বিচারিক আদালতের নাম, যেমন: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা]-এ বিচারাধীন [জি.আর. মামলা নং _____ / সি.আর. মামলা নং _____]-এ আবেদনকারীকে অসৎ উদ্দেশ্যে জড়িত করা হয়েছে।

২. [মামলার বিবরণ]:

২ নং রেসপনডেন্ট গত [তারিখ] তারিখে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির [যেমন: ৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারা]-এর অধীনে একটি মিথ্যা এফআইআর/নালিশী মামলা দায়ের করেন, যেখানে মূল অভিযোগ ছিল [মিথ্যা অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ]।

৩. [কার্যধারার বিবরণ]:

পুলিশ তদন্ত শেষে গত [তারিখ] তারিখে [নম্বর] নম্বর চার্জশিট দাখিল করে (অথবা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট গত [তারিখ] তারিখে অপরাধ আমলে নেন) এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ বিচারিক আদালত গত [অভিযোগ গঠনের তারিখ] তারিখে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

৪. এফআইআর/নালিশী আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ যদি পুরোপুরি সত্য বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও আবেদনকারীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির আওতায় কোনো অপরাধ বা প্রথম দর্শনে গ্রহণযোগ্য মামলা (Prima Facie Case) গঠিত হয় না।

৫. আবেদনকারী এবং ২ নং রেসপনডেন্টের মধ্যকার বিরোধটি সম্পূর্ণভাবে দেওয়ানি ও চুক্তিভিত্তিক প্রকৃতির, যা [লেনদেন/ব্যবসার বিবরণ] থেকে উদ্ভূত। কিন্তু ২ নং রেসপনডেন্ট আবেদনকারীকে হয়রানি, অপমান ও বেআইনি সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে দেওয়ানি বিষয়টিকে অসৎ উদ্দেশ্যে ফৌজদারি রূপ দিয়েছেন।

৬. আবেদনকারীর বিরুদ্ধে এই ফৌজদারি কার্যক্রম পরিচালনা আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহারের শামিল। অতএব, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৫৬১এ ধারার অধীনে উক্ত মামলার যাবতীয় কার্যক্রম বাতিল করা আবশ্যক।

৭. বিজ্ঞ [অধস্তন আদালতের নাম]-এ বিচারাধীন [মামলা নম্বর]-এর কার্যধারা অব্যাহত থাকায় সংক্ষুব্ধ হয়ে আবেদনকারী নিম্নে বর্ণিত গ্রাউন্ডস বা যুক্তিসমূহের ওপর ভিত্তি করে মহামান্য আদালতের নিকট প্রার্থনা জানাচ্ছেন:

গ্রাউন্ডস (আইনি যুক্তি)

১. যেহেতু এফআইআর/নালিশী দরখাস্তের বক্তব্য দণ্ডবিধির [যেমন: ৪০৬/৪২০] ধারার মূল উপাদানসমূহ পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, তাই এর ওপর ভিত্তি করে অপরাধ আমলে নেওয়া আইনি দৃষ্টিতে অচল।

২. যেহেতু আক্ষেপিত এই মামলাটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও অসদ্ব্যবহারের ফল এবং একটি বিশুদ্ধ দেওয়ানি/আর্থিক বিরোধকে জোরপূর্বক ফৌজদারি মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে।

৩. যেহেতু এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে বিচারপ্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া আবেদনকারীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে এবং এটি আদালতের প্রক্রিয়ার একটি স্পষ্ট অপব্যবহার।

৪. যেহেতু নথিপত্রে বিদ্যমান সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আবেদনকারীর দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার কোনো দূরবর্তী সম্ভাবনাও নেই, তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে অত্র মামলাটি বাতিল বা কোয়াশমেন্ট করা অপরিহার্য।

৮. একই তথ্য ও মামলার কারণের ওপর ভিত্তি করে পূর্বে মহামান্য আদালতে ৫৬১এ ধারায় অন্য কোনো আবেদন দায়ের করা হয়নি।

৯. এই আবেদনটি সরল বিশ্বাসে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে পেশ করা হলো।

প্রার্থনা

অতএব, বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, মহামান্য আদালত মেহেরবানি করে:

ক) রেসপনডেন্টগণের প্রতি একটি ‘রুল নিসি’ (Rule Nisi) জারি করবেন যে, বিজ্ঞ [অধস্তন আদালতের নাম]-এ বিচারাধীন [জি.আর. মামলা নং _____ / সি.আর. মামলা নং _____]-এর কার্যক্রম কেন বাতিল করা হবে না;

খ) রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় [জি.আর. মামলা নং _____ / সি.আর. মামলা নং _____]-এর যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিতের (Stay) আদেশ প্রদান করবেন;

গ) পক্ষগণের শুনানি শেষে রুলটি চূড়ান্ত (Absolute) ঘোষণা করবেন;

ঘ) ন্যায়বিচারের স্বার্থে মহামান্য আদালত অন্য যে আদেশ বা নির্দেশ উপযুক্ত মনে করেন তা প্রদান করতে মর্জি হয়।

এবং এই দয়াপূর্ণ কাজের জন্য আবেদনকারী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

হলফনামা (AFFIDAVIT)

আমি, [হলফকারীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], বয়স: প্রায় [বয়স] বছর, ধর্ম: [ধর্ম], পেশা: [পেশা], সাং: [ঠিকানা], জাতীয় পরিচয়পত্র নং: [এনআইডি নম্বর], সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষণা করছি যে:

১. আমি এই মামলার পিটিশনার / পিটিশনারের মনোনীত তাদবীরকারক এবং মামলার ঘটনা ও পারিপার্শ্বিকতার সাথে পূর্ণ পরিচিত।

২. ওপরে বর্ণিত ১ থেকে ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের তথ্যাদি আমার জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে সত্য ও সঠিক।

আজ [তারিখ] দিন, [মাস], ২০____ ইং তারিখে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ, ঢাকায় আমি এই সত্যপাঠে নিজ স্বাক্ষর প্রদান করলাম।

হলফকারীর স্বাক্ষর

আজকে আমার সম্মুখে সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষিত হলো।

কমিশনার অব অ্যাফিডেভিট

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ

টেমপ্লেট ২: ধারা ৪৩৯-এর অধীনে ফৌজদারি রিভিশন পিটিশন

মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ

হাইকোর্ট বিভাগ

(ফৌজিদারি রিভিশন এখতিয়ার)

ফৌজদারি রিভিশন নং ________ / ২০____ ইং

বিষয়:

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৮১-এর ৪৩৫ ধারার সহিত পঠিতব্য ৪৩৯ ধারার অধীন আবেদন।

এবং

বিষয়বস্তু:

বিজ্ঞ [দায়রা জজ / ম্যাজিস্ট্রেট আদালত] কর্তৃক [ফৌজদারি আপিল নং _____ / ফৌজদারি রিভিশন নং _____ / মামলা নং _____]-এ প্রদত্ত [আক্ষেপিত আদেশের তারিখ] তারিখের আদেশের/রায়ের বৈধতা, যৌক্তিকতা ও শুদ্ধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত আবেদন।

এবং

মামলার পক্ষগণ:

[পিটিশনারের পূর্ণ নাম]

…… পিটিশনার (আসামি/দণ্ডপ্রাপ্ত)

—বনাম—

১. রাষ্ট্র

…… ১ নং রেসপনডেন্ট

২. [নালিশকারীর নাম]

…… ২ নং রেসপনডেন্ট

প্রাপক:

মহামান্য বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর অন্যান্য সঙ্গী মহামান্য বিচারপতিগণের প্রতি সদয় অবগতির জন্য—

আবেদনকারীর পক্ষে বিনীত নিবেদন এই যে—

যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক জানানো যাচ্ছে যে:

১. বিজ্ঞ [দায়রা জজ, জেলা]-এর আদালত কর্তৃক প্রদত্ত [তারিখ] তারিখের আক্ষেপিত রায়/আদেশের বিরুদ্ধে এই আবেদনটি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অধস্তন আদালতের দণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়েছে / অব্যাহতির (Discharge) আবেদন নাকচ করা হয়েছে।

২. [মামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য]:

[বিচারপ্রক্রিয়া, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অধস্তন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের সংক্ষিপ্ত বিবরণ]।

৩. বিজ্ঞ অধস্তন আদালত রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যের গুরুতর অসংগতি ও অসঙ্গতিসমূহ বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়ে আইন ও তথ্যের মারাত্মক ভুল করেছেন, যার ফলে চরম বিচারহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।

৪. আক্ষেপিত আদেশ/রায়টি বেআইনি, অযৌক্তিক এবং পদ্ধতিগত অনিয়মে ভরা, যা মহামান্য আদালতের রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগের মাধ্যমে বাতিলযোগ্য।

গ্রাউন্ডস (আইনি যুক্তি)

১. যেহেতু বিজ্ঞ অধস্তন আদালত সংবিধিবদ্ধ আইন ব্যাখ্যায় ভুল করেছেন এবং নথিতে থাকা প্রমাণাদিতে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

২. যেহেতু নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তসমূহ স্বেচ্ছাচারী এবং বিচারিক সাক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত নয়।

৩. যেহেতু আক্ষেপিত আদেশের ফলে আবেদনকারী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং আইনের দৃষ্টিতে তা টেকসই নয়।

প্রার্থনা

অতএব, বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, মহামান্য আদালত মেহেরবানি করে:

ক) বিজ্ঞ অধস্তন আদালত হতে [মামলা নম্বর]-এর নথি (LCR) তলব করবেন;

খ) রেসপনডেন্টগণের প্রতি একটি ‘রুল নিসি’ जारी করবেন যে, [তারিখ]-এর আক্ষেপিত আদেশ/রায় কেন বাতিল করা হবে না;

গ) রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় আক্ষেপিত আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করবেন এবং আবেদনকারীকে জামিন (Ad-Interim Bail) প্রদান করবেন;

ঘ) শুনানি শেষে রুলটি চূড়ান্ত ঘোষণা করে আক্ষেপিত আদেশ/রায় বাতিল করবেন।

এবং এই দয়াপূর্ণ কাজের জন্য আবেদনকারী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত ফৌজদারি রিভিশন পিটিশনের সাথেও টেমপ্লেট ১-এ দেখানো বিন্যাস অনুযায়ী একটি শপথকৃত ‘হলফনামা’ সংযুক্ত করতে হবে।)

খসড়া টেমপ্লেট: দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ এবং নালিশী দরখাস্ত (চেক ডিজঅনার মামলা)

নিচে দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার জন্য পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারযোগ্য খসড়া টেমপ্লেটসমূহ দেওয়া হলো, যা বাংলাদেশের আইনি অনুশীলনের উপযোগী এবং law.gurukul.edu.bd-এ প্রকাশের উপযুক্ত।

আইনি প্রক্রিয়া ও সময়সীমার চেকলিস্ট

  1. চেক উপস্থাপন: চেকটি ইস্যুর মেয়াদ বা কার্যকর থাকার সময়সীমার মধ্যে (সাধারণত ইস্যুর তারিখ হতে ৩–৬ মাস) ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
  2. সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ: ব্যাংক থেকে চেক ডিজঅনার মেমো (Bank Dishonour Memo) প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে অবশ্যই আইনি নোটিশ পাঠাতে হবে [ধারা ১৩৮(১)(খ)]।
  3. নোটিশের সময়সীমা: অভিযুক্ত ড্রয়ারকে (চেক প্রদানকারী) নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে অর্থ পরিশোধের জন্য ৩০ দিন সময় দিতে হবে [ধারা ১৩৮(১)(গ)]।
  4. নালিশী মামলা (সি.আর. মামলা) দায়ের: ৩০ দিনের নোটিশের সময়সীমা পার হওয়ার পর পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সিএমএম/সিজেএম আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে [ধারা ১৪১]।

টেমপ্লেট ১: সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ

(অ্যাডভোকেটের অফিশিয়াল লেটারহেডে প্রিন্ট করতে হবে)

রেফ নং: [চেম্বার/রেফ/২০২৬/০০১]

তারিখ: [ইস্যুর তারিখ, যেমন: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬]

এ/ডি সহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে / হাতে হাতে প্রেরিত

প্রাপক:

[অভিযুক্ত/ড্রয়ারের পূর্ণ নাম]

পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]

স্থায়ী ঠিকানা: [গ্রাম/বাসা, সড়ক, থানা/উপজেলা, জেলা]

বর্তমান ঠিকানা: [গ্রাম/বাসা, সড়ক, থানা/উপজেলা, জেলা]

বিষয়: [চেক নম্বর] নম্বর চেকে উল্লিখিত [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ]) টাকা ডিজঅনার হওয়ায় দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ।

জনাব/জনাবে,

আমার মক্কেল, [নালিশকারী/প্রাপকের পূর্ণ নাম], পিতা: [পিতার নাম], ঠিকানা: [নালিশকারীর ঠিকানা]-এর প্রাপ্ত নির্দেশনা ও পক্ষে আমি এতদ্বারা আপনাকে নিম্নবর্ণিত সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ প্রদান করছি:

১. আমার মক্কেলের সঙ্গে আপনার দীর্ঘদিনের [ব্যবসায়িক/ব্যক্তিগত/চুক্তিভিত্তিক] সম্পর্ক রয়েছে। [লেনদেনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, যেমন: পণ্য সরবরাহ / ব্যক্তিগত ঋণ / [তারিখ] তারিখের চুক্তি]-এর মাধ্যমে সৃষ্ট একটি আইনানুগ বিদ্যমান ঋণ/দায় পরিশোধের লক্ষ্যে আপনি আমার মক্কেলের অনুকূলে [ব্যাংকের নাম], [শাখার নাম]-এর [চেক নম্বর] নম্বরযুক্ত, [চেকের তারিখ] তারিখের [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ]) টাকার একটি চেক প্রদান করেন।

২. চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন করলে ক্যাশ হবে—আপনার এমন সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমার মক্কেল উক্ত চেকটি ক্যাশ করার জন্য তাঁর ব্যাংক, [নালিশকারীর ব্যাংকের নাম], [শাখার নাম]-এ [উপস্থাপনের তারিখ] তারিখে জমা দেন।

৩. কিন্তু উক্ত চেকটি আপনার ব্যাংক কর্তৃক [মেমোর তারিখ] তারিখের রিটার্ন মেমোসহ অনাদায়ী/ডিজঅনার হয়ে ফেরত আসে, যাতে কারণ উল্লেখ করা ছিল: “[যেমন: অপর্যাপ্ত তহবিল / হিসাব বন্ধ / স্বাক্ষরের অমিল]”। আমার মক্কেল উক্ত ডিজঅনার মেমোটি [মেমো প্রাপ্তির তারিখ] তারিখে গ্রহণ করেন।

৪. আপনার ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত তহবিল না রেখে চেক প্রদান করে আপনি দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ (অধাবধি সংশোধিত)-এর ১৩৮ ধারার অধীনে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেছেন।

অতএব, এই আইনি নোটিশের মাধ্যমে আপনাকে আহ্বান জানানো যাচ্ছে যে, এই নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চেকে উল্লিখিত [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ]) টাকা আমার মক্কেলকে পূর্ণ পরিশোধ করবেন।

বিশেষভাবে অবহিত থাকুন যে, যদি আপনি উল্লিখিত ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে উক্ত দায় পরিশোধে ব্যর্থ হন, তবে আমার মক্কেল আইনানুগ এখতিয়ারসম্পন্ন জুডিশিয়াল/মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপনার বিরুদ্ধে দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে বাধ্য হবেন, যেখানে আপনার ১ (এক) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা চেকে উল্লিখিত টাকার তিনগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়ার যাবতীয় খরচের দায়ও আপনাকে বহন করতে হবে।

ভবিষ্যৎ আইনি রেফারেন্সের জন্য এই নোটিশের একটি অনুলিপি আমার চেম্বারে সংরক্ষণ করা হলো।

ইতি,

[অ্যাডভোকেটের পূর্ণ নাম]

অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট / জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন

[চেম্বার ঠিকানা]

মোবাইল: [ফোন নম্বর] | ইমেইল: [ইমেইল ঠিকানা]

টেমপ্লেট ২: নালিশী দরখাস্ত (সি.আর. মামলা)

বিজ্ঞ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট / চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, [জেলার নাম]

সি.আর. (কমপ্লেট রেজিস্টার) মামলা নং: ________ / ২০____ ইং

বিষয়:

দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ (১৮৮১ সালের ২৬ নং আইন)-এর ১৪০/১৪১ ধারার সহিত পঠিতব্য ১৩৮ ধারার অধীন দরখাস্ত।

এবং

মামলার পক্ষগণ:

[নালিশকারীর পূর্ণ নাম]

পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]

ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ঠিকানা]

জাতীয় পরিচয়পত্র নং: [এনআইডি নম্বর]

…… নালিশকারী / ফরিয়াদী

—বনাম—

[অভিযুক্ত/ড্রয়ারের পূর্ণ নাম]

পিতা/স্বামী: [পিতা/স্বামীর নাম]

ঠিকানা: [পূর্ণ বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা]

…… অভিযুক্ত / আসামি

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: ড্রয়ার যদি কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান হয়, তবে ১৪০ ধারা অনুযায়ী কোম্পানিকে ১ নং আসামি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক/পরিচালককে ২ নং আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে হবে)

সম্মানপূর্বক বিনীত আরজি এই যে:

১. নালিশকারী বাংলাদেশের একজন আইনমান্যকারী নাগরিক এবং [পেশা/ব্যবসার বিবরণ]। আসামি নালিশকারীর পরিচিত/ব্যবসায়িক অংশীদার এবং [পেশা/ব্যবসার বিবরণ]।

২. [চুক্তি/ঋণ/লেনদেনের বিবরণ]-এর মাধ্যমে সৃষ্ট একটি আইনানুগ বিদ্যমান ঋণ বা দায় পরিশোধের উদ্দেশ্যে আসামি নালিশকারীর অনুকূলে একটি চেক ইস্যু করেন, যার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

  • চেক নম্বর: [চেক নং]
  • তারিখ: [চেকের তারিখ]
  • টাকার পরিমাণ: [অংকে টাকার পরিমাণ]/- ([কথায় টাকার পরিমাণ])
  • ব্যাংকের নাম: [আসামির ব্যাংকের নাম ও শাখার নাম]

৩. নালিশকারী উক্ত চেকটি ভাঙানোর জন্য [উপস্থাপনের তারিখ] তারিখে তাঁর ব্যাংক, [নালিশকারীর ব্যাংক ও শাখা]-এ জমা দেন। কিন্তু আসামির ব্যাংক কর্তৃক [মেমোর তারিখ] তারিখের রিটার্ন মেমোর মাধ্যমে “[ডিজঅনারের কারণ, যেমন: অপর্যাপ্ত তহবিল]” মন্তব্যে চেকটি অনাদায়ী/ডিজঅনার অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়। নালিশকারী [মেমো প্রাপ্তির তারিখ] তারিখে উক্ত মেমো গ্রহণ করেন।

৪. চেক ডিজঅনার হওয়ার পর, নালিশকারী তাঁর নিয়োজিত অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে [আইনি নোটিশের তারিখ] তারিখে এ/ডি সহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে আসামির ওপর সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ জারি করেন, যাতে নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চেকের সমপরিমাণ টাকা পরিশোধের দাবি জানানো হয়।

৫. উক্ত আইনি নোটিশটি আসামির ওপর [নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ] তারিখে যথাযথভাবে জারি/গৃহীত হয় (অথবা [তারিখ] তারিখে “প্রত্যাখ্যান/দাবিহীন” মন্তব্যে অনাদায়ী অবস্থায় ফেরত আসে)।

৬. সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশ যথাযথভাবে জারি হওয়া সত্ত্বেও আসামি বাধ্যতামূলক ৩০ (ত্রিশ) দিন সময়সীমার মধ্যে চেকের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন ও অবহেলা প্রদর্শন করেন, যা [৩০ দিনের মেয়াদ শেষের তারিখ] তারিখে অতিক্রান্ত হয়েছে।

৭. নালিশকারীর পাওনা টাকা পরিশোধে আসামির ব্যর্থতার কারণে ৩০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর [মামলার কারণ উদ্ভব হওয়ার তারিখ, অর্থাৎ নোটিশ প্রাপ্তির ৩১ তম দিন]-এ মামলার কারণ (Cause of Action) উদ্ভূত হয়। দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৪১ ধারায় নির্ধারিত ১ (এক) মাসের আইনি তামাদি মেয়াদের মধ্যেই এই নালিশী দরখাস্তটি দায়ের করা হলো।

৮. যেহেতু এই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, চেক জমা দেওয়া হয়েছে এবং অত্র বিজ্ঞ আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ারের মধ্যে চেকটি ডিজঅনার হয়েছে, সেহেতু বিজ্ঞ আদালত অত্র মামলার বিচার ও নিষ্পত্তির পূর্ণ এখতিয়ার রাখেন।

৯. অত্র নালিশী দরখাস্তের সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি ‘ক’ থেকে ‘ঙ’ অনুচ্ছেদ হিসেবে সংলগ্ন করা হলো।

প্রার্থনা

অতএব, বিজ্ঞ আদালতের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, হুজুর মেহেরবানি করে:

ক) দ্য নিগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে গ্রহণ করবেন;

খ) আদালতে আসামির উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আসামির বিরুদ্ধে সমন / গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন;

গ) উক্ত আইনের ১৩৮ ধারায় আসামির বিচার করে উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করবেন এবং ১৩৮(১) ধারা অনুযায়ী চেকে বর্ণিত টাকার তিনগুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ/অর্থদণ্ড নালিশকারীকে প্রদানের আদেশ দান করবেন;

ঘ) ন্যায়বিচারের স্বার্থে অন্য যে আদেশ বা আদেশসমূহ উপযুক্ত মনে করেন তা প্রদান করতে মর্জি হয়।

এবং হুজুরের এই সুবিচারের জন্য নালিশকারী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

কাগজপত্রের তালিকা (সংযুক্তি)

১. সংযুক্তি – ক: [তারিখ] তারিখের [চেক নম্বর] নম্বর মূল চেক।

২. সংযুক্তি – খ: [তারিখ] তারিখের মূল ব্যাংক রিটার্ন মেমো।

৩. সংযুক্তি – গ: [তারিখ] তারিখের সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিশের অনুলিপি।

৪. সংযুক্তি – ঘ: মূল ডাক রসিদ ও এ/ডি কার্ড (বা ডাক বিতরণের রিপোর্ট)।

৫. সংযুক্তি – ঙ: নালিশকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্টের অনুলিপি।

সাক্ষীদের তালিকা

১. নালিশকারী (স্বয়ং)

২. ব্যবস্থাপক / অনুমোদিত প্রতিনিধি, [নালিশকারীর ব্যাংক ও শাখার নাম]।

৩. ব্যবস্থাপক / অনুমোদিত প্রতিনিধি, [আসামির ব্যাংক ও শাখার নাম]।

৪. [লেনদেনের কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী থাকলে তাঁর নাম ও ঠিকানা]।

সত্যপাঠ / যাচাইকরণ

আমি, [নালিশকারীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], বয়স: প্রায় [বয়স] বছর, ধর্ম: [ধর্ম], পেশা: [পেশা], সাং: [ঠিকানা], সজ্ঞানে ও সত্য বাক্যে ঘোষণা করছি যে:

অত্র নালিশী দরখাস্তের ১ থেকে ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত তথ্যাদি আমার জ্ঞান, বিশ্বাস ও আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী সত্য ও সঠিক। আজ [তারিখ] দিন, [মাস], ২০____ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত প্রাঙ্গণে, [জেলার নাম]-এ আমি এই সত্যপাঠে নিজ স্বাক্ষর প্রদান করলাম।

নালিশকারীর স্বাক্ষর

Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class